ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৩ এএম

মিসরের বন্দরে ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন দুটি গ্যাস ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কাছের সুয়েজ খাল এবং এর সঙ্গে যুক্ত একটি পাইপলাইনের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পাইপলাইন সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানিতে অতিগুরুত্বপূর্ণ এক বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পাইপলাইনটি লোহিত সাগর থেকে শুরু হয়ে মিসরের বুক চিরে ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দরে গিয়ে শেষ হয়েছে।


ইরান ও তাদের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাংকার লক্ষ্য করে অনবরত হামলা চালিয়ে আসছিল। এমন পরিস্থিতিতেও লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানি পণ্য উত্তর দিকে রপ্তানির জন্য মিসরের সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইন এত দিন নিরাপদ রুট হিসেবে ভরসা জুগিয়েছে।


ভূমধ্যসাগরের কাছাকাছি নীল নদের অববাহিকায় অবস্থিত মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে গত বুধবার ট্যাংকার দুটিতে ওই হামলা চালানো হয়। এ পর্যন্ত কোনো পক্ষ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং সুয়েজ খালে সরাসরি হামলার কোনো হুমকিও দেওয়া হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটির সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি জ্বালানি বাজারে বড় উদ্বেগ যোগ করেছে।


পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এমএসটি মারকুই’-এর জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ ও ভূমধ্যসাগরের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করেও তেল পরিবহন এখন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ হুমকির মুখে পড়বে।’


বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ হতো পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। তবে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এ রুট দিয়ে বলতে গেলে কোনো ট্যাংকারই চলাচল করছে না। এ যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরব তাদের বেশির ভাগ তেল লোহিত সাগর এবং দেশটির ইয়ানবু বন্দরে পাঠাতে শুরু করে। হুতিদের নতুন হুমকি ও হামলার কারণে ট্যাংকারগুলো এখন এই বাব আল-মানদেব তথা লোহিত সাগরের রুটটি ব্যবহার করা বন্ধ করে দিয়েছে।


বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল ও সুমেদ পাইপলাইনের দিকে উত্তরমুখী চলাচলকারী সৌদি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তবে এশিয়ার গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ হলো, এডেন উপসাগর হয়ে দক্ষিণ দিকের সংক্ষিপ্ত পথ ছেড়ে এখন পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে জাহাজগুলোকে।


২০ জুলাই লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন হুতি বিদ্রোহীরা। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ওই পাইপলাইন দিয়ে ১ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছিল। হুতিদের হুমকির পর জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে।


জাহাজ চলাচলের গতিবিধি নজরদারি প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর গতকাল বৃহস্পতিবারের তথ্য, সুয়েজের ভূমধ্যসাগর প্রান্তের পোর্ট সাইড নোঙরখানায় প্রায় ৩০টি জাহাজ জড়ো হয়েছে। অথচ চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেও এ সংখ্যা ছিল ২০টির কাছাকাছি।


জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভোর্টেক্সা’-এর জর্জ মরিস বলেন, লোহিত সাগরে তেলবোঝাই করার পর ট্যাংকারগুলোর উত্তর দিকে; অর্থাৎ সুয়েজ খালের দিকে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্টত বেড়েছে। আর এর মূল কারণ হুতিদের নতুন হুমকি (বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকি)।


কেপলারের তথ্য বলছে, বাব আল-মানদেব দিয়ে দক্ষিণমুখী রুটে (এশিয়ার দিকে) তেলের প্রবাহ এখনো সচল থাকলেও তা চলতি মাসের শুরুর তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। জুনে সৌদির ইয়ানবু বন্দর থেকে বোঝাই করা তেলের ৮১ শতাংশ যেখানে দক্ষিণে গিয়েছিল, সেখানে জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৩ শতাংশে। অনেক ট্যাংকার বাব আল-মানদেব সম্পূর্ণ এড়িয়ে চললেও চীনের মালিকানাধীন জাহাজসহ কিছু ট্যাংকার হুতিদের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে যাতায়াত করছে।


জর্জ মরিস জানান, হুতিদের হামলা আর নজরদারি এড়াতে এ দক্ষিণমুখী ঝুঁকিপূর্ণ পথে নিজেদের অবস্থান লুকানোর চেষ্টাও বাড়ছে। ফলে ‘ট্র্যাকার’ বা অবস্থান শনাক্তকরণ যন্ত্র বন্ধ করে চলাচলকারী ট্যাংকারের সংখ্যা এখন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।


তবে মিসরে দামিয়েত্তা বন্দরে হামলার ঘটনার মানে এ নয় যে সুয়েজ খাল এখনই কোনো তাৎক্ষণিক হুমকিতে পড়েছে, এমনটাই মনে করেন ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জি’-এর আটলান্টিক এলএনজি বিভাগের প্রধান অ্যালি ব্লেকওয়ে। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বাজার এখন পর্যন্ত সুয়েজ খালের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার মতো কোনো ঝুঁকি বা আশঙ্কা তৈরি করেনি।’


এ ড্রোন হামলার পরও গতকাল বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। মূলত পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার খবরের দিকেই ব্যবসায়ীদের মূল নজর ছিল, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। সামগ্রিক এ পরিস্থিতি নিয়ে সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


বাজারে তেল পৌঁছানোর পথ আরও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল হচ্ছে


ইরান হুমকি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি ট্যাংকার অবরুদ্ধ করে রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো জ্বালানি রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।


অন্যদিকে হুতিরা সৌদি আরবের সব ধরনের জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করেছেন। এর আওতায় ইয়ানবু থেকে তেল বোঝাই করে ভূমধ্যসাগরের দিকে যাওয়া জাহাজও পড়তে পারে।


হুতিরা এরই মধ্যে দেখিয়েছেন, তাঁদের ড্রোন ও রকেটের পাল্লার মধ্যে সুয়েজ খাল অঞ্চলও রয়েছে। তাঁরা একাধিকবার ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও রকেট ছুড়েছেন। যদিও দীর্ঘ দূরত্বের কারণে সেগুলো ভূপাতিত করার সুযোগও বেশি।


জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক দর নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান ‘আর্গাস’-এর এলএনজি মূল্য নির্ধারণ বিভাগের প্রধান মার্টিন সিনিয়র বলেন, শুধু এ একটি কারণেই এখন জাহাজের বিমা খরচ বেড়ে যেতে পারে। মিসরে সাম্প্রতিক হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিমাকারীরা সুয়েজ খালের জন্য বাড়তি “যুদ্ধ ঝুঁকি প্রিমিয়াম” দাবি করতে পারেন।’ অবশ্য তিনি উল্লেখ করেন যে ইরান এখনো (সুয়েজ নিয়ে) সুনির্দিষ্ট কোনো হুমকি দেয়নি।


একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সুয়েজ খালের কাছাকাছি মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরগুলোয় চলাচলকারী জাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থা ইতিমধ্যে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করেছে শিপিং কোম্পানিগুলো।


যদিও মিসরের ভেতরে এ হামলাকে সুয়েজ খালের জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে না। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের সাবেক বোর্ড সদস্য ওয়ায়েল কাদ্দুর বলেন, ‘খালটি সার্বক্ষণিক কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়।’


এ হামলার আগেই মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে আগের তুলনায় আরও দীর্ঘ, জটিল ও ব্যয়বহুল পথ ব্যবহার করতে হচ্ছিল।


জর্জ মরিস বলেন, ‘জুনে এশিয়ায় সমুদ্রপথে আমদানি হওয়া অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেটের প্রায় ১৫ শতাংশই ইয়ানবু থেকে এসেছে। এ সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে এশিয়ার পরিশোধনাগারগুলো বড় প্রভাবের মুখে পড়বে। বাব আল-মানদেবের বদলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করলে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় পৌঁছাতে সময় দ্বিগুণেরও বেশি লাগে। ফলে জাহাজ পৌঁছাতে প্রায় এক মাস বাড়তি লাগছে।’


অন্যান্য কারণেও সুয়েজ খাল দিয়ে বিশাল পরিমাণ তেল পরিবহন করা বেশ জটিল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজগুলোর নিচের অংশ অনেক বেশি গভীর বা ভারী হওয়ায় তারা পুরোপুরি তেলবোঝাই অবস্থায় সুয়েজ খাল পার হতে পারে না। ফলে এ জাহাজগুলোকে প্রথমে সুমেদ পাইপলাইনের মাধ্যমে কিছু তেল খালাস করতে হয়। এরপর ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর পর সেই তেল আবার জাহাজে তুলতে হয়।


হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বর্তমান সংকটে সুয়েজের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে এর কার্যক্রমে যেকোনো বিঘ্নের প্রভাবও হবে ব্যাপক।


সামুদ্রিক নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান ড্রায়াড গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী কোরি র‍্যান্সলেম বলেন, ‘সুয়েজ খাল অঞ্চলের যেকোনো স্থানে হামলা হলে যুদ্ধঝুঁকির বিমার প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সেই সঙ্গে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়নও বদলে যাবে।’


ক্লেপলারের প্রধান ফ্রেইট বিশ্লেষক ম্যাথিউ রাইট বলেন, ‘সুয়েজ খালের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দামে পড়বে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হবে, তার প্রভাব খুব দ্রুত ভোক্তাদের ওপর পড়বে।’



সর্বশেষ সব খবর

তিক্ততা ভুলে মামদানির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের আগে প্রার্থী জোহরান মামদানির নামে কত কী-ই না বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ‘কমিউনিস্ট উন্মাদ’সহ আরও অনেক কড়া ভাষায় মামদানির সমালোচনা করেছিলেন তিনি ।


পাল্টা মামদানিও কড়া ভাষায় ট্রাম্পের সমালোচনা করতে ছাড়েননি। তিনি ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে স্বৈরাচারী এবং ফ্যাসিস্ট বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই তিক্ত বাগযুদ্ধ ভুলে এবার বন্ধুত্বই দেখা গেল দুইজনের মধ্যে। নিউ ইয়র্কের মেয়র পদে মামদানির জয়ের পরই কিছুটা সুর নরম করেছিলেন ট্রাম্প। 


এবার তিনি মামদানির প্রশংসায় হয়েছেন পঞ্চমুখ। গতকাল সোমবার মামদানির সঙ্গে সাক্ষাতের পর ট্রাম্প বলেছেন, “তিনি নিউ ইয়র্কের দারুণ মেয়র হবেন।”


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে গেছেন ট্রাম্প। উঠেছেন ম্যানহাটনে মেয়র মামদানির সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে। গতকাল সোমবার সেখানেই ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন মামদানি। দুইজন রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছেন। এর আগে হোয়াইট হাউজে দু’বার তাদের মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল। 


তবে নিউ ইয়র্কে এটাই প্রথম। প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে মূলত অভিবাসন এবং স্বল্প মূল্যে বাড়ি তৈরির প্রকল্প নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।


বৈঠকের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মামদানির আচরণকে বন্ধুত্বপূর্ণ বলেই মনে হয়েছে। আর ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মামদানিকে নিয়ে যে উষ্ণ মন্তব্য ট্রাম্প করেছেন তা অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক শোনাবে।


কারণ, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী মার্কিন প্রসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান মিত্ররা কয়েক মাস ধরে মামদানিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির ‘কমিউনিজম’ গ্রহণের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে নিউ ইয়র্কের বৈঠকে ফুরফুরে মেজাজেই ছিলেন ট্রাম্প আর মামদানি। দু’জনেই একে অন্যের প্রশংসা করেছেন। 


ট্রাম্প এও বলেছেন যে, “মামদানিকে একজন সফল মেয়র হিসেবে দেখতে চাই। এটাই আমার ইচ্ছা।” তবে কেবল তাই নয়, “মামদানির মধ্যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে” বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।


ওদিকে, মামদানি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সদিচ্ছার প্রশংসা করেছেন। নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পের কোম্পানির একাধিক আবাসন নির্মাণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ট্রাম্প এমন একজন ব্যক্তি, যার হাউজিয়ে বিপুল অভিজ্ঞতা রয়েছে।”


নিউ ইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের আগে কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ড এলাকায় ১২ হাজার বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মামদানি। যাতে নাম মাত্র দামে মাথা গোঁজার ঠাঁই পান নিম্নবিত্তরা। গতকাল সোমবার বৈঠকের পরে ট্রাম্প বলেন, ওই এলাকা নিয়ে বহুবছর ধরে আলোচনা চলছে। এবার হয়ত কাজ হবে।


নিউ ইয়র্কের অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামদানি। তিনি বলেন, “কোন কোন ক্ষেত্রে নগর প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় সরকার একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়েই মূলত কথা হয়েছে।”


আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে গ্রেসি ম্যানশনে গিয়ে নিউ ইয়র্কের ৩৪ বছর বয়সী প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানিকে যেন সম্মানই প্রদর্শন করলেন ট্রাম্প।


নিউ ইয়র্কের এই বাসভবনে ৪৫ বছর আগে সর্বশেষ কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট পা রেখেছিলেন। ১৯৮১ সালে সেই সময়কার প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান সেখানকার মেয়র এড কোচের সঙ্গে বৈঠক করেন। 


তারপর গ্রেসি ম্যানসনে ট্রাম্পের এই পদার্পণটাই সেখানে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর।


ট্রাম্পকে কেন নিউ ইয়র্কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, জানতে চাইলে মামদানি বলেন, নিউ ইয়র্কবাসীর জন্য ‘কিছু করতে পারেন’ এমন যে কারও সঙ্গে তিনি কাজ করতে প্রস্তুত। কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণে তারা দুজনই আগ্রহী বলে উল্লেখ করেন তিনি।


দুই নেতার শরীরী ভাষাতেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত মিলেছে। মামদানি বক্তৃতার মঞ্চে কথা বলার সময় ট্রাম্প এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি মামদানির বাহুতে সস্নেহে দুবার হাত রাখেন।

সর্বশেষ সব খবর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জ্বালানি শিল্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। আজ মঙ্গলবার তিনি বলেন, বিশ্বের বড় তেল কোম্পানিগুলো বায়ুমণ্ডলকে নর্দমার মতো ব্যবহার করছে।


গুতেরেস বলেন, ‘আমরা জানি, জীবাশ্ম জ্বালানির স্বার্থসংশ্লিষ্টরা নিজে থেকে সরে দাঁড়াবে না। কয়েক দশক ধরে বড় তেল কোম্পানিগুলো বায়ুমণ্ডলকে নর্দমা হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিপরীতে তারা বিপুল অর্থও আয় করেছে।’


জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব আরও বলেন, রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পশ্চিমা পাঁচটি বড় তেল কোম্পানি প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। বিপরীতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর খাপ খাইয়ে নেওয়ার তহবিলে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৩৪ বিলিয়ন ডলার।


জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পে ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে বড় তামাক কোম্পানির কর্মকাণ্ডেরও তুলনা করেন গুতেরেস। তিনি বলেন, যারা সবচেয়ে বেশি দূষণ ও মুনাফা অর্জন করছে তাদেরকেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে।


কিছুদিন আগে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ গ্রীষ্মকালে রেকর্ড তাপমাত্রার সাক্ষী হয়েছে। হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট বন্যায় নেপালে প্রাণ হারিয়েছে কয়েক’শ মানুষ। এমন সময়ে জাতিসংঘ মহাসচিব তেল কোম্পানিগুলোর দ্বারা বায়ুমণ্ডল দূষিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুললেন।


গুতেরেস বলেন, ‘ঝুঁকি যেমন আছে, তেমন আশাও আছে।’ 


তিনি বিশ্বজুড়ে সৌর ও বায়ু শক্তির ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলে বর্তমানে সবচেয়ে কম খরচে জ্বালানির উৎস হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

সর্বশেষ সব খবর

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতিসংঘের ওপর থেকে আস্থা উঠে গেছে


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৩ পিএম

বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থতার কারণে জাতিসংঘের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। 


আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে পৌঁছে নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই কথা জানান।


আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর চাপিয়ে দেওয়া এক যুদ্ধের চরম উত্তেজনার মধ্যেই তারা এই সফরে এসেছেন। এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে ইরানি জনগণের আইনি অধিকার, মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।


আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য ‘আস্থা পুনরুদ্ধার’ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, এতেই স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে আন্তর্জাতিক শান্তি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় জাতিসংঘের ওপর থেকে বিশ্ববাসীর আস্থা বিলুপ্ত হয়েছে।


তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দেশ নিজেদের আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক বিবেকের ঊর্ধ্বে মনে করে ইচ্ছামতো অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের স্বজনপ্রীতির কারণে ইসরায়েল ছাড় পাচ্ছে। অন্যদিকে মানবাধিকারের দাবিদার পশ্চিমা দেশগুলো এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করছে।

সর্বশেষ সব খবর

‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ পিএম

হোয়াইট হাউসে তিনটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ২৪ ঘণ্টার ভিডিও সম্প্রচার চ্যানেল চালু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চ্যানেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রাম্প টিভি’। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ নামে এটি পরিচালিত হচ্ছে।


হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চ্যানেলটিতে প্রশাসনের বিভিন্ন ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং অতীতের নির্বাচিত ভিডিও ২৪ ঘণ্টা সম্প্রচার করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৈরি ও বাছাই করা ভিডিওর মাধ্যমে সরকারি কর্মকাণ্ড সরাসরি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।


এর কয়েক দিন আগে ট্রাম্প সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেন। এসব সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসন নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


গত শনিবার ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। সিএনএনের প্রতিবেদক বেটসি ক্লেইনের পরিচয়পত্রও জব্দ করা হয় বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে।


নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাও। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের বিধিনিষেধ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সুরক্ষার পরিপন্থী।


এর মধ্যে সোমবার হোয়াইট হাউসের যৌথ টেলিভিশন সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা পাঁচটি বড় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান-এবিসি, সিবিএস, সিএনএন, ফক্স নিউজ ও এনবিসি-যৌথভাবে সংবাদ সংগ্রহ বন্ধ রাখে। হোয়াইট হাউস সিএনএনকে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ার পর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও সিএনএনের পরিবর্তে বিকল্প কোনো সংবাদদল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়।


হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ট্রাম্প টিভি’তে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য, প্রশাসনের ঘোষণা, সংবাদ সম্মেলন এবং অতীতের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নির্বাচিত অংশ দেখানো হবে।


তবে এই চ্যানেল স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের বিকল্প নয়। এর ভিডিও প্রশাসনের পক্ষ থেকেই তৈরি ও বাছাই করা হচ্ছে। ফলে এতে স্বাধীন সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, তথ্য যাচাই ও সম্পাদনার সুযোগ নেই।


হোয়াইট হাউস ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে চলমান বিরোধের মধ্যেই নতুন এই চ্যানেল চালু হলো। তিন সংবাদমাধ্যমের করা মামলার মাধ্যমে এখন হোয়াইট হাউসের সংবাদকর্মীদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আইনি বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ পিএম

শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ান সোমবার টোকিওতে আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড়টি আসার আগে ছয়টি প্রশাসনিক অঞ্চল থেকে ১৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে সেখানকার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। কানাগাওয়া প্রশাসনিক অঞ্চলে ভূমিধসে একটি বাড়ি ধসে পড়ার পর সেখানে এক নারী জীবন্ত চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করছেন দমকলকর্মীরা। অন্যদিকে, চিবা প্রশাসনিক অঞ্চলে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করার সময় এক ব্যক্তি আটকা পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। টাইফুনের কারণে ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিছু ট্রেন চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে।


বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুজুয়ানের বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। কখনও কখনও ঝোড়ো বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৯৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে।


প্রশান্ত মহাসাগরে একের পর এক আঘাত হানা ঝড়ের সর্বশেষটি হলো দুজুয়ান। এ বছরের ‘সুপার এল নিনো’ সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বাড়িয়ে ঝড় সৃষ্টির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করায় এসব ঝড় আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, মানুষের জীবনের জন্য ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি সবাইকে ‘অবিলম্বে’ নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায়।


জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টাইফুনের প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফর বিলম্বিত করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। টোকিওর দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বাসিন্দাদের বেসমেন্ট বা ভূগর্ভের তলায় না যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় ভারী বৃষ্টির তৃতীয় স্তরের সতর্কতা জারি রয়েছে।


সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত দুটি কার্টুনের মাধ্যমে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ‘বেসমেন্টে পানি দ্রুত ঢুকে পড়তে পারে এবং বাইরে কী ঘটছে তা দেখা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে সেখানে আটকা পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।’ সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, বাসিন্দাদের ‘অত্যন্ত সতর্ক’ থাকতে হবে।


দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাটি ম্যানহোলের ঢাকনার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে। বন্যার পানিতে এগুলো সরে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

গ্রিনল্যান্ডের মেস্টারসভিক-এ অবস্থিত সামরিক ঘাঁটির সামগ্রিক দৃশ্য

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম

গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি চালুর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের একটি সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু করা এবং পূর্ব উপকূলে আরেকটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মঙ্গলবার একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুজন জানিয়েছেন, পরিকল্পিত দুটি স্থান হলো দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াক এবং পূর্ব উপকূলের মেস্টারসভিগ। ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান সামরিক ঘাঁটি বন্ধ হওয়ার পর নারসারসুয়াকের জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মেস্টারসভিগ বর্তমানে ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর ইউনিট ‘সিরিয়াস ডগ স্লেড পেট্রোল’-এর ব্যবহৃত একটি সামরিক ফাঁড়ি।


মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মধ্যে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা (১৪:৩০ জিএমটি) চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নির্ধারিত হয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, স্বাক্ষরের আগে এর বিস্তারিত চূড়ান্ত নাও হতে পারে।


এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্রও চুক্তির বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি আগের একটি বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া চুক্তিটি ‘গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত ও সুরক্ষিত করবে’।


ডেনমার্ক জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সামরিক প্রতিরক্ষা জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)-এর তত্ত্বাবধানেও আসবে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেছেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা অনেকাংশে ন্যাটোর দায়িত্বে থাকবে।


চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের চাপের পর করা হচ্ছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছেন। তিনি ডেনমার্কের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তবে জনমত জরিপে গ্রিনল্যান্ডের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে।


জানুয়ারিতে ট্রাম্পের হুমকির মাত্রা চরমে পৌঁছালে তা ন্যাটোর মধ্যে কূটনৈতিক সংকট তৈরি করে। পরিস্থিতি প্রশমনের লক্ষ্যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসে। নতুন চুক্তিটি সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় করা হচ্ছে।


স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল এবং সেখানে ১০ হাজারের বেশি সেনা ও কর্মী মোতায়েন ছিল। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় সামরিক স্থাপনা পিটুফিক স্পেস বেস, যেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য অবস্থান করছেন। নতুন দুটি স্থাপনা চালু হলে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়বে।

সর্বশেষ সব খবর