ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬, সময় : ৪:২১ এএম

বিশ্বের যেকোনো জায়গায় সামরিক হামলা চালানো, ক্ষতিকর শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আর মিত্রদের সঙ্গে মিলে নিজের সীমানার বাইরে পর্যন্ত প্রভাব খাটানো-এসব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এক বিশাল শক্তি আছে। 


শুধু রাষ্ট্র হিসেবে নয়, বেসরকারি কোম্পানি, বিদেশি সরকার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করেও তারা প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এমন ক্ষমতার সমাহার খুব কম দেশেরই আছে।


কিন্তু এই শক্তি ধরে রাখা সহজ নয়। কারণ, এই ক্ষমতা টিকে আছে একটি নির্দিষ্ট বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর। সামরিক শক্তি ব্যবহার মানে রক্তপাত, বিপুল অর্থ খরচ এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়া। শুল্ক ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা দিলে অন্য দেশগুলো বিকল্প বাণিজ্য ও লেনদেনের পথ খুঁজতে শুরু করে। 


আবার মিত্রদের সঙ্গে জোটও সব সময় মসৃণ থাকে না; দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। তাই যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের ওপর আরও চাপ বাড়াতে পারে। কিন্তু এতে সেই বৈশ্বিক ব্যবস্থাই দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা দাঁড়িয়ে আছে।


ইরানের অবস্থা একেবারে আলাদা। তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি সীমিত, মিত্রও কম। কিন্তু তাদের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে তারা অন্যদের ওপর খরচের বোঝা চাপিয়ে নিজে লাভ করতে পারে। 


ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি আগে থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল আদায়ের চেষ্টা করেছে, যেন এই পথই আয় করার উৎস হয়। এখন ইরানের কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম একই অঞ্চলের সমুদ্রতলের ডেটা কেব্‌ল বা সাবমেরিন কেব্‌লগুলোর ওপরও ফি বসানোর কথা বলছে।


এটা শুধু ডেটার প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি নয়, বরং প্রযুক্তি খাতের একটি বড় দুর্বল জায়গায় আঘাত। অ্যামাজন, গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট-এই বড় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাদের ক্লাউড ও ডেটা সেন্টার পুরোপুরি নির্ভর করে সাবমেরিন কেব্‌ল সংযোগের ওপর। 


ইরান এখন ভূগোলকে শুধু একটি সংকীর্ণ পথ হিসেবে নয়, বরং আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তাদের ভৌগোলিক অবস্থানকে ব্যবহার করে তেলবাহী জাহাজকে চাপে ফেলা যায়। একইভাবে এখন কেব্‌লের মালিক, ক্লাউড সেবাদাতা এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও চাপে ফেলতে চায় তারা।


সাবমেরিন কেব্‌লগুলোর মানচিত্র দেখলে বোঝা যায়, বিষয়টি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের কাছাকাছি থাকা ফ্যালকন, গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল-মধ্যপ্রাচ্য-উত্তর আফ্রিকা, কুয়েত-ইরান ও ইউএই-ইরান কেব্‌লগুলো পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে গেছে। ফলে এই ডিজিটাল অবকাঠামোও এখন সেই একই উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় রয়েছে, যেখানে জাহাজ চলাচল ও নৌ টহল হয়।


ডেটা যেখানে ব্যবহার করা হয়, সেখানে কর বসানো যায় না। কিন্তু যেখান দিয়ে ডেটা চলাচল করে, সেই পথ যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তখন সেখানেই চাপ তৈরি করা যায়।


যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় কোম্পানি ঝুঁকিতে থাকলেও তাদের অফিস বা শহর তাদের আসল দুর্বল জায়গা নয়। তাদের আসল দুর্বলতা হলো সমুদ্রের নিচের কেব্‌ল যেগুলো বিভিন্ন দেশের জলসীমা আর সরু সমুদ্রপথগুলোয় বিছানো আছে। এই জায়গাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই রাষ্ট্রগুলো অনুমতি দিয়ে বা আটকে রেখে প্রভাব খাটাতে পারে।


ইরান ঠিক এ জায়গাকেই কাজে লাগাতে চাইছে। সহজভাবে বললে-লাভটা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে, কিন্তু দুর্বল জায়গাটা নির্দিষ্ট কিছু স্থানে। আর সেই জায়গাগুলো ধরেই চাপ তৈরি করা সম্ভব।


এ ধরনের ক্ষমতা আগের যুগের থেকে আলাদা। আগে শক্তি মানে ছিল তেল, খনিজ, জমি বা বন্দর নিজের দখলে রাখা। এখন ইরান দেখাচ্ছে, এসবের মালিক না হয়েও সুবিধা নেওয়া যায়। এর জন্য শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ন্ত্রণ বা হুমকি তৈরি করতে পারলেই যথেষ্ট।


সমুদ্রতলের কেব্‌ল আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ডিজিটাল দুনিয়াও আসলে খুব বাস্তব অবকাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে। ‘ক্লাউড’ কোনো ভাসমান জিনিস নয়, এর ভিত্তি সমুদ্রের নিচে। ডেটা চলাচল নির্ভর করে নির্দিষ্ট ল্যান্ডিং স্টেশন, মেরামতের জাহাজ, লাইসেন্স, মালিকানা এবং নিরাপত্তার ওপর। এ কারণে কেব্‌লগুলো আধুনিক সংঘাতে সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। এর সামান্য ক্ষতিও বড় অর্থনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে।


হরমুজ প্রণালিকে এখন আর শুধু খোলা বা বন্ধ- এভাবে দেখা ঠিক হবে না। সেখানে কিছু জাহাজ চলাচল করছে। তবে অনেক সময় সেগুলো চলছে ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে। অর্থাৎ চলাচল এখন আর স্বাভাবিক অধিকার নয়, বরং শর্তসাপেক্ষ সুবিধা।


সাবমেরিন কেব্‌ল নিয়েও ইরান একই কৌশল প্রয়োগ করতে চাইছে। এর জন্য তাদের যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে হবে না বা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও ডেটার প্রবাহ বন্ধ করতে হবে না। শুধু এতটাই দরকার- এই প্রবাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করা, যাতে নিরাপত্তারও একটা মূল্য দাঁড়িয়ে যায়।


ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত শুরুতেই এই ফি আরোপের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করবে, যাতে এটি গ্রহণযোগ্যতা না পায়। তারা বিমা কোম্পানি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করে আগেই পরিস্থিতি সামলাতে চাইবে। একই সঙ্গে তারা নিশ্চিত করতে চাইবে, কেব্‌ল মেরামতের কাজ যেন কোনোভাবে আটকে না পড়ে।


ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কেব্‌ল রুট, নতুন ল্যান্ডিং পয়েন্ট এবং মেরামতব্যবস্থার উন্নতি করে এই ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করতে পারে। উদ্দেশ্য শুধু হরমুজ খোলা রাখা নয়, বরং অনিরাপত্তা থেকে লাভ করার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া।


সাবমেরিন কেব্‌লে ফি বসানোর কথা ইরান বলছে ঠিকই, কিন্তু এটা পুরোপুরি বাস্তবে হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে এতে বোঝা যায়, ইরান কী করতে চাইছে।


সাধারণভাবে যখন কোনো দেশ চাপ দেয়, তখন তারও খরচ হয়। কিন্তু ইরান এমন একটা উপায় খুঁজছে, যেখানে সে অন্যদের ওপর চাপ দেবে, আবার সেখান থেকেই টাকা আয়ও করবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় শক্তি না হয়েও নিজের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ইরান চাইছে, বিশ্ব যেন ঝামেলা এড়াতে বাধ্য হয়ে তার জন্য একটা ‘মূল্য’ দেয়।




পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ এএম

গত আগস্টের শেষের দিকে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট একটি নতুন আইন পাস করেছে। তড়িঘড়ি করে পাসকৃত এই আইনের মাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পদের ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর কমান্ড কাঠামো পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এই আইনের মাধ্যমে তা আরও এক ধাপ এগোল।


গত ২০ আগস্ট দেশটির জাতীয় পরিষদ ‘ডিফেন্স ফোর্সেস অব পাকিস্তান অ্যাক্ট, ২০২৪’ এবং ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১০’-এর একটি সংশোধনী অনুমোদন করে। এই দুটি আইন যৌথভাবে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) পদের আইনি কাঠামো নিশ্চিত করেছে। গত বছরের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই পদ তৈরি করা হয়।


বিল দুটি জাতীয় পরিষদের মূল কার্যসূচিতে ছিল না। তবু সেদিন সকালে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়ার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা পাস হয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বরে ২৭তম সংবিধান সংশোধনীও একইভাবে সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় পাস করা হয়েছিল।


২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের চার দিনের সংঘাতের ঠিক এক বছর পর এই আইনি পরিবর্তনগুলো আনা হলো। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৬ সালে তিন বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) মধ্যে সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে ‘চেয়ারম্যান অব দ্য জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ (সিজেসিএসসি) পদ তৈরির পর এটিই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর উচ্চতর কমান্ড কাঠামোর সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন।


পুরোনো সিজেসিএসসি পদটি এখন বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে ‘ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স’ (ডিএফএইচকিউ), যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিডিএফ। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, একই সঙ্গে সেনাপ্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।


এই পরিবর্তনের পেছনে মূল যুক্তি কী এবং নতুন সদর দপ্তরে নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এ বিষয়ে সামরিক বাহিনীর তথ্য শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) কাছে লিখিত প্রশ্ন পাঠালেও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা কোনও জবাব পায়নি।


পাকিস্তানের সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই কাঠামোতে দেশটির সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধান ও সিডিএফ আসিম মুনিরের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানের গুরুত্ব অনেকাংশে কমে গেছে। এ ছাড়া সামরিক বাহিনী সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সিভিল প্রশাসনের ভূমিকাও বহুলাংশে খর্ব হবে।


বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাওয়ালপিন্ডিভিত্তিক একজন অবসরপ্রাপ্ত থ্রি-স্টার জেনারেল এই ব্যবস্থাকে একটি বিধিবদ্ধ ‘চেইন অব কমান্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এখন থেকে চেইন অব কমান্ড হবে—প্রধানমন্ত্রী, তারপর সিডিএফ ও তার নতুন সদরদপ্তর, এরপর সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রধানগণ এবং সবশেষে মাঠপর্যায়ের ফরমেশনগুলো।


তবে অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতে, আদেশ প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকলে কেবল প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিশেষ অর্থ থাকে না। অবসরপ্রাপ্ত থ্রি-স্টার জেনারেল ও সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব নাঈম খালিদ লোধি বলেন, ‘কমান্ডার যদি পুরস্কার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারেন, তবে সেই কমান্ড কার্যকর হয় না। ডিফেন্স ফোর্সেসের কমান্ডার এখন একজন প্রকৃত কমান্ডার এবং এই আইনের মাধ্যমে তা যথাযথভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ পেয়েছে।’


লোধি আল জাজিরাকে জানান, আগের ব্যবস্থায় ‘নৌ বা বিমানবাহিনীর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আইনি সুযোগ প্রধান কর্মকর্তার ছিল না। তিনি কেবল সেনাবাহিনীর ভেতরে ব্যবস্থা নিতে পারতেন, কিন্তু এখন এটি সর্বাত্মক রূপ নিয়েছে।’


সিডিএফ ও তার দপ্তরকে দেয়া নতুন এই ক্ষমতা তিন বাহিনীর মধ্যকার ভারসাম্য নষ্ট করছে কি না—তা নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।


নতুন আইনের অধীনে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের’ (এনএসসি) প্রধান পদের কর্মকর্তাকে অবশ্যই সেনাবাহিনী থেকে আসতে হবে। সিডিএফ-এর সুপারিশেই নিযুক্ত হবেন তিনি।


২০২৬ সালের জুলাইয়ে জেনারেল সৈয়দ আমের রেজাকে প্রথম সিএনএসসি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। পূর্বে চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্বরত এই কর্মকর্তাকে লেফট্যানেন্ট জেনারেল থেকে পদোন্নতি দিয়ে এ পদে বসানো হয়। নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা আর এই পদে বসতে পারবেন না।


সামরিক বাহিনীর সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই পরিবর্তন নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে। ইসলামাবাদভিত্তিক এই কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ‘যেহেতু তিন বাহিনীর সব জ্যেষ্ঠ পদের পদোন্নতি ও নিয়োগ এখন সিডিএফ অনুমোদন করবেন, তাই এটি কালক্রমে অন্য দুটি বাহিনীর স্বতন্ত্র সত্তাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।’ অন্য বাহিনীর কারও মাধ্যমে নিজস্ব পদোন্নতি নির্ধারিত হলে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


অবসরপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল আহমেদ সাঈদের মতে, এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি নৌবাহিনীর জন্য।


এই আইনি পরিবর্তনের ফলে সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পাচ্ছে কি না—তা নিয়েই সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমান আইনজীবী কর্নেল ইনাম রহিম বলেন, নতুন আইনটি নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তা সামরিক বাহিনীর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


তিনি জানান, আগে কোনও কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা অবসর দিতে হলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার কাছে সামারি পাঠাতে হতো। এখন সেই ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে সিডিএফ-এর একক এখতিয়ারে।


রহিম আল জাজিরাকে বলেন, ‘তাকে আর কোথাও কোনো ফাইল পাঠাতে হবে না। তিনি কেবল একটি চিঠি ইস্যু করবেন, আর সেই কর্মকর্তা বরখাস্ত বা অবসরে চলে যাবেন।’


ইসলামাবাদভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক যুক্তি দেন, নতুন এই আইনটি সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে’—যা গত বছরের সংবিধান সংশোধনীতেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।


তিনি বলেন, ‘সিডিএফ-কে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ প্রদান করে রাজনৈতিক সরকার মূলত ২৪৩ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে।’


আসিম মুনির সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি নিজের ক্ষমতাকে সুসংহত করার চেষ্টায় লেগেছিলেন। এই আইনের মাধ্যমে তার সেই মিশন পূর্ণতা পেল বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানে এখন প্রধানমন্ত্রীর পরেই সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয় তাকে।


এমনকি ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যখন দৌড়ঝাঁপ করছিলেন–তখন তার পাশে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার নন, বরং বেশিরভাগ সময়ই সেখানে দেখা গেছে আসিম মুনিরকে। কূটনৈতিক সার্কেলে তার এমন উপস্থিতি প্রমাণ করে, সিডিএফ-এর হাত আসলে কতদূর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।


আর তিন বাহিনীর ওপর এক অর্থে তার সর্বময় ক্ষমতা পেয়ে যাওয়ার পর নৌ ও বিমানবাহিনীতে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে বলেও ধারণা বিশ্লেষকদের। সামরিক ক্ষমতাকে এভাবে কেন্দ্রীভূত করা হলে ভবিষ্যতে তা তিন বাহিনীর স্বতন্ত্র সক্ষমতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অতি সিডিএফ নির্ভরতা বাহিনীগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্বশূন্য করতে পারে, যা হবে ধ্বংসেরই নামান্তর।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ এএম

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত ও বড় আকারে কমে যাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালন ৩ ডলারে নেমে আসবে। শেষ পর্যন্ত তা ২ ডলারের নিচেও নামতে পারে। এক গ্যালনে প্রায় ৩ দশমিক ৮ লিটার।


ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তেলের দাম দ্রুত কমবে।’ একই সঙ্গে তিনি পুনরায় সতর্ক করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।


তবে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ১৫ ডলার বা ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। এতে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৬৩ ডলার।


মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ড বা সম্পদে নতুন করে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।


এ পরিস্থিতিতে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় তেলের দামে ঝুঁকিমূল্য যুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে ব্রেন্ট তেলের দাম ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


বিশ্বের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়ে এই নৌপথে তেল পরিবহন ব্যাহত হলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


সূত্র: আল-জাজিরা


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম আরও বড় ব্যবধানে এগিয়েছে। ভলিউম ও পোশাকের ইউনিটপ্রতি মূল্য দুই দিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম। কয়েক বছর ধরেই ক্রমে এ ব্যবধানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি এখন বাংলাদেশের প্রায় দ্বিগুণ। তৈরি পোশাক দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে এ পণ্য থেকে।


চলতি পঞ্জিকা বছরের প্রথম সাত মাস, অর্থাৎ গত জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে সাড়ে ৬ শতাংশ। ভিয়েতনামের কমেছে মাত্র ১ শতাংশ। বাংলাদেশের রপ্তানি কমে ৪৬৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৯৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ, সাত মাসের ব্যবধানে প্রধান বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৩২ কোটি ডলার। 


অন্যদিকে জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি কম হয়েছে মাত্র ১১ কোটি ডলার। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ৯৩৭ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে দেশটি। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯৪৬ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 


অটেক্সার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনের অবস্থান তৃতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশের। গত আলোচ্য সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪৫৬ কোটি ডলারের, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৬৯২ কোটি ডলার। 


যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। আলোচ্য সময়ে দেশটির রপ্তানি বেড়েছে ৩ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ২৭৪ কোটি ডলারের পোশাক, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৬৭ কোটি ডলার। পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কম্বোডিয়া। রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ১০ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ২৬২ কোটি ডলারের পোশাক, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৩৭ কোটি ডলার। 


বছরের প্রথম সাত মাসে সারাবিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ৯ শতাংশের মতো। মোট চার হাজার ১৮৩ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে দেশটি। গত বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল চার হাজার ৫৮০ কোটি ডলার। অটেক্সার তথ্য উপাত্ত বলছে, সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাকের দর ইউনিটপ্রতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। তবে বাংলাদেশের পোশাকের দর কমেছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ভিয়েতনামের পোশাকের কমেছে ১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। চীনা পোশাকের কমেছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। কেবল মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের পোশাকের ইউনিটপ্রতি দর বেড়েছে ১৪ ও ৬ শতাংশ। 


যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ। সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৬ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ২৪৫ কোটি ডলারের পোশাক। গত বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৩০ কোটি ডলার।


শেখ হাসিনা ও শেখ সেলিম

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪১ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।


তার মতে, শেখ সেলিম এখন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য। তাই শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে শেখ সেলিমই দলীয় সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।


ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।


দ্য ওয়ালের এক্সিকিউটিভ এডিটর অমল সরকারের সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনে নিজের দেশে ফেরা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, বাংলাদেশের পরিস্থিতি, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।


এ সময় দেশে ফেরার আগ্রহ রয়েছে বলে জানান ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তবে দেশে ফিরলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে তার। শেখ হাসিনার দাবি, দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেও তাকে হত্যা করা হতে পারে।


তার দেশে ফেরার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তার দাবি, প্রত্যেকেরই জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই তিনি দেশে ফেরার নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চান না।


সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের নির্বাচনকে ভারতের সমর্থন এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা।


তার মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে আঞ্চলিক বোঝাপড়া গড়ে তোলাই ভবিষ্যতের জন্য জরুরি। কোনো সামরিক জোটের পরিবর্তে আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


ভিডিওবার্তায় কথা বলছেন মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ এএম

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বৈধ কাজের ভিসাহীন কর্মীদের দ্রুত দেশে ফিরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশটিতে ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানের মধ্যেই হাইকমিশন বলেছে, সরকারি সুযোগ কাজে লাগিয়ে গ্রেপ্তার এড়িয়ে বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফিরে যেতে হবে। স্থানীয় সময় রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অনিয়মিত বা বৈধ নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের নিজ দেশে ফেরার এ আহ্বান জানানো হয়।


ভিডিও বার্তায় কথা বলেন বাংলাদেশ হাইকমিশন মালয়েশিয়ার প্রথম সচিব (প্রেস) মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো জানেন, অনিয়মিত বা ডকুমেন্টবিহীন বিদেশি অভিবাসীদের জন্য বর্তমানে মালয়েশিয়ার সরকারের মাইগ্রেশন বিভাগের একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু রয়েছে, যার নাম- মাইগ্র্যান্ট REPATRIATION PROGRAMME 2 তথা BRM 2.0।


এই কর্মসূচির আওতায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অনিয়মিত বা ডকুমেন্টহীন বিদেশি নাগরিক বা কর্মীরা আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা এই কর্মসূচির আওতায় দেশে ফিরতে চান তাদের সহজ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে।


তিনি বলেন, প্রথমত বৈধ ও মেয়াদযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকতে হবে। যাদের বৈধ পাসপোর্ট নেই বা পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে তারা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে একটি ট্রাভেল পারমিট বা টিপি নেবেন।


এরপর দেশে ফেরার জন্য বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট সংগ্রহ করতে হবে। মালয়েশিয়ার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, টিকিটের যাত্রার তারিখ ইমিগ্রেশনে অ্যাপয়েন্টমেন্টের কমপক্ষে পাঁচ দিন পর এবং ১৪ দিনের মধ্যে হতে হবে।


আবেদনকারীকে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন অফিসে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। কোনো প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে না।


আবেদনের সময় সঙ্গে রাখতে হবে মূল পাসপোর্ট অথবা ট্রাভেল পারমিট, পাসপোর্টের বায়োডাটা পৃষ্ঠার কপি, সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন পাসের কপি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুরোনো ও নতুন উভয় পাসপোর্ট, বাংলাদেশে ফেরার বৈধ ও নিশ্চিত বিমান টিকিট।


সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি ও প্রযোজ্য জরিমানা ইমিগ্রেশন বিভাগের অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে পরিশোধ করতে হবে। আবেদন করার আগে সর্বশেষ ফি ও শর্তাবলি ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নিতে হবে।


তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মনে রাখবেন, BRM 2.0-এর আবেদন করতে কোনো দালাল, প্রতিনিধি বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। নিজের আবেদন নিজেই করুন এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন।’


প্রেস সচিব আরও বলেন, ভাই ও বোনেরা, আপনারা যদি এই কর্মসূচির আওতায় আইনসম্মতভাবে ও নিরাপদে দেশে ফিরতে চান, তাহলে শেষ মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিস ও বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নিন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৫ এএম

ভারতের রাজধানী দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় শিক্ষার্থীদের একটি হোস্টেল ভবন ধসে পড়ে অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন আরও ১৫ থেকে ২০ জন। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত ছয়তলা ওই ভবনটি ধসে পড়ে। বেসমেন্ট ও ওপরের দিকে পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবনটি মূলত শিক্ষার্থীদের পেয়িং গেস্ট (পিজি) হিসেবে ব্যবহৃত হতো। 


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (এইমস)-এ নিয়ে আসার পর চারজনকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং গুরুতর আহত অপর এক শিক্ষার্থী পরে মারা যান।


চিকিৎসার জন্য আরও তিন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনের হাত ও পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, আর অন্যজন সামান্য আঘাত পেয়েছেন যাকে পর্যবেক্ষণের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আনুমানিক ১৫-২০ জনের সন্ধানে কর্তৃপক্ষের একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধার অভিযান রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।


একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেসমেন্ট এবং ওপরের দিকে পাঁচটি তলা বিশিষ্ট ওই ভবনটি পেয়িং গেস্ট (পিজি) থাকার জায়গা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে ভবনটি ধসে পড়ার সময় বেসমেন্টে মেরামতের কাজ চলছিল।


এনডিআরএফ-এর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জীবিতদের সন্ধানে ৭০ জন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) দুটি দল এবং একটি ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। আটকে পড়া ব্যক্তিদের শ্বাস নিতে সাহায্য করার জন্য ধ্বংসস্তূপের নিচে অক্সিজেন সিলিন্ডারও নামানো হয়েছিল।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হোস্টেলে থাকা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই কেরালা, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা এবং তারা কাছের কলেজগুলোতে পড়াশোনা করতেন।


প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং ভবন ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান করছে।