• প্রকাশ : রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৯:০৫ এএম

ইসলামাবাদে প্রথম বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা আলোচনা রয়েছে অনিশ্চয়তায়। মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তেহরানের একের পর এক অপরিপক্ব ও অগোছালো বক্তব্য এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এর ধারাবাহিকতায় ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি দেশটি তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।


ঘটনার মোড় পরিবর্তনের সূত্রপাত গত শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার খোলার ঠিক পরপরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির একটি এক্স পোস্ট থেকে।


সেখানে আব্বাস আরাগচি লিখেছিলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ায় এখন থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার ঠিক করে দেওয়া পথ দিয়ে এই জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে। লেবাননে যুদ্ধবিরতি যত দিন থাকবে, এই সুযোগও তত দিন থাকবে।


আরাগচির এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১২ ডলার কমে যায়। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় পাকিস্তানও। শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেশটির কর্মকর্তারা তখন তেহরানেই ছিলেন।


তবে আরাগচির পোস্টটি হয়তো অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ ছিল, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। তেলের দাম হুট করে পড়ে যাওয়ায় এর প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এ খবরকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। 


ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব সিদ্ধান্তের জন্য তেহরানকে তিনি ধন্যবাদও জানান।


ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবিও করেছেন, বাজার প্রভাবিত করতেই আরাগচি ওই পোস্ট দিয়েছিলেন। ইরানি আইনপ্রণেতা মোর্তজা মাহমুদি বলেছেন, এখন যুদ্ধের পরিস্থিতি না থাকলে এক্সে এমন মন্তব্য করার জন্য আরাগচির অভিশংসন হওয়া উচিত ছিল। আরাগচির বিরুদ্ধে বারবার ‘ভুল সময়ে ভুল বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগও আনেন তিনি।


কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রভাবাধীন সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ আরাগচির পোস্টটিকে ‘ভুল অথবা অসম্পূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করে। সংস্থাটি জানায়, ‘প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা ছাড়াই পোস্টটি দেওয়া হয়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের শর্ত, বিস্তারিত তথ্য ও পদ্ধতি নিয়ে নানা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।’


কায়হানের মতো কট্টরপন্থী সংবাদপত্রগুলো আরাগচির কাছে তাঁর পোস্টটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছিল।


এমনকি ইরানের অভ্যন্তরে রাজনীতিতে মাহমুদ সাদেগির মতো আরাগচির প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিরাও মনে করেন, এই ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে হওয়া উচিত ছিল। তাঁদের মতে, এমন কোনো মাধ্যমে এটি দেওয়া ঠিক হয়নি, যা ভুল ব্যাখ্যার সুযোগ তৈরি করে।


হরমুজে নতুন করে অচলাবস্থা শুরু হওয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, আগামী বুধবার দুই পক্ষের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তী সপ্তাহ থেকেই তিনি আবারও বোমা হামলা শুরু করবেন। এ পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালিতে আরেকটি বিপজ্জনক সংঘাতের পথ তৈরি করেছে। যদিও সেখানে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নৌবাহিনীর মধ্যে সরাসরি কোনো যুদ্ধ হয়নি।


আগামীকাল সোমবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপক গুঞ্জন উঠেছিল। কিন্তু ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা আবার আলোচনায় বসতে রাজি নয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ‘অযৌক্তিক’ দাবিদাওয়া তুলেছে।


ইরানের এই কঠোর অবস্থান থেকে বোঝা যায়, দেশটির পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে এখন আইআরজিসির প্রভাবই সবচেয়ে বেশি। আইআরজিসি ভয় পাচ্ছিল যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি হয়তো ওয়াশিংটনকে সময়ের আগেই অপ্রয়োজনীয় কিছু ছাড় দিয়ে দিচ্ছেন।


ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে একের পর এক পোস্ট দেওয়ায় আইআরজিসির ক্ষোভ আরও বাড়ে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং শান্তি আলোচনা দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ট্রাম্পের ওই পোস্টগুলোর অনেক কথাই ছিল মিথ্যা।


পরে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয়, ইসলামাবাদে আলোচনায় গালিবাফের সঙ্গী আরাগচি আসলে বলতে চেয়েছিলেন- যেসব জাহাজ আইআরজিসি নৌবাহিনীর অনুমতি নেবে, নির্ধারিত রুট ব্যবহার করবে এবং নির্ধারিত টোল পরিশোধ করবে, শুধু সেগুলোই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে।


ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই এক সরকারি সাক্ষাৎকারে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনাই হয়নি।


ট্রাম্পের উদ্দেশে গালিবাফ সাফ জানিয়ে দেন, হরমুজ প্রণালি খোলা নাকি বন্ধ থাকবে, তা নির্ধারণ করবে ইরানি সামরিক বাহিনী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো পোস্ট নয়।


যুদ্ধ থামানোর জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প এতটাই মরিয়া যে তিনি সবকিছু খুব দ্রুত শেষ করতে চাইছেন। কিন্তু পরিস্থিতি আসলে পুরোপুরি তাঁর নিয়ন্ত্রণে নেই। কারণ, এর জন্য ইরানের রাজি হওয়া প্রয়োজন। 


অন্যদিকে ইরান এখনো বিশ্বাস করে, হরমুজ প্রণালি তাদের প্রধান শক্তির জায়গা। পরিস্থিতি তাদের পক্ষেই আছে। তাই আলোচনায় ফেরার জন্য ইরানের কোনো তাড়াহুড়ো নেই।


শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা অর্জনে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এর শুরুটা হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে লেবাননে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে চাপ দেন।


ধারণা করা হয়েছিল, এই যুদ্ধবিরতির ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং প্রথম ধাপে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফিরে পাওয়াসহ একের পর এক ঘটনা ঘটবে, যা যুদ্ধ বন্ধের পথে নিয়ে যাবে।


কিন্তু ট্রাম্প অধৈর্য হয়ে আগেভাগেই অনেক বেশি অনুমান করে ফেলেন এবং একের পর এক ঘোষণা দিতে শুরু করেন। এর মধ্যে একটি ছিল- ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে।


শনিবার সকালে ট্রাম্পের দেওয়া এই ঘোষণাই ইরানের আবার কঠোর হওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। শর্তসাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মাথায় তাঁরা আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়। ইরান দাবি করে, তারা ইতিমধ্যে ভারতীয় তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।


তেহরান থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় আবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। এর পাশাপাশি আরও গভীর সমস্যা সামনে এসেছে। ইরান মনে করে, হরমুজ প্রণালির ওপর স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আইনগত ও নৈতিক অধিকার তাদের রয়েছে।


ইরানের আইনজীবী রেজা নাসরি এ বিষয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, একটি সমুদ্রপথ বা প্রণালি তখনই সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে, যখন সেটি কেবল যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যখন সেই পথ ব্যবহার করে সেটির পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের ওপর অন্য দেশ হামলা চালায় বা সেখানে স্থায়ী সামরিক আস্তানা গড়ে তোলে, তখন সেটি আর সাধারণ পথ থাকে না। তখন ওই উপকূলীয় দেশ নিরাপত্তার খাতিরে সেই পথ বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার রাখে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৬ পিএম

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো লক্ষ্য করে রাতভর ৬১৩টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি। এর মধ্যে অধিকাংশ ড্রোনই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে জানান, শহরের দিকে এগিয়ে আসার সময় ২৩১টি চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি) ধ্বংস করেছে আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শহর থেকে দূরবর্তী এলাকাগুলোতে বাকি ড্রোনগুলোও প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


মস্কো অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো বড় ধরনের ড্রোন হামলাগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী রেকর্ডসংখ্যক হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে। সে সময় ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন ধ্বংসের কথা জানিয়েছিল তারা।


এদিকে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ইহর তেরেখভ। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৬ পিএম

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়া থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত রাখার মতো কোনো সমঝোতা খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই যোগাযোগের খবর প্রকাশ করে। মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে তারা জানায় যে, চিঠি এবং পরবর্তী আলোচনায় কোনো নির্দিষ্ট শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে কথা হয়নি। বরং আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


পরে নিউইয়র্ক টাইমসও এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এবং যোগাযোগ সম্পর্কে অবগত এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে একই তথ্য নিশ্চিত করে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চিঠিটি পাঠানো হয় এবং রোববার তা ইরানি পক্ষের কাছে পৌঁছায়। চিঠিতে ভ্যান্স সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রাখেন। একইসঙ্গে তিনি আলোচনার শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচ্যসূচিতে রাখার কথাও উল্লেখ করেন।


নিউইয়র্ক টাইমসকে এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির নেতৃত্ব এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আজকের মধ্যেই মোহসেন রেজাই আনুষ্ঠানিকভাবে এর জবাব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দুই পক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই কাতার বা তুরস্কে আলোচনা শুরু হতে পারে।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের কাছে একটি নতুন চুক্তির খসড়া উপস্থাপন করেছে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। তবে তেহরান ওই পরিকল্পনাকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে মানতে নারাজ; বরং একে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য ধারণা’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা।


সূত্র: আল জাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৮ এএম

স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এই রাষ্ট্রীয় শোক কার্যকর হয়েছে। খবর- বিবিসি। 


একই সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।


দুর্ঘটনার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের শুরুতে স্পেনের একই রেলপথে ঘটে যাওয়া অন্য আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, বর্তমান দুর্ঘটনার সঙ্গে পূর্বের ওই ঘটনার কোনো মিল নেই। তবুও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর জনসচেতনতা ও আস্থা ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে পেদ্রো সানচেজ আরও বলেন, স্পেনের মতো দেশে একই বছরে উচ্চগতির ট্রেনের দুটি দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই খাতে যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।


দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে ধাক্কা দেয় আরেক ট্রেন, ঝরল ৬৮ প্রাণ


বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে ঘটে এ দুর্ঘটনা। যে দুটি ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে; সেগুলোর দুটিই ছিল দ্রুতগতির ট্রেন। আর দুটি ট্রেন মাদ্রিদ থেকে সোয়েদাদে যাচ্ছিল। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্ত ৬৮ জন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেছেন, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই অঞ্চলটির রেললাইনের প্রধান এলজেডবি সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সেখানে থাকা সব ট্রেনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামার সংকেত দেওয়া হয়।


যারমধ্যে ছিল দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেন’ এবং ‘ইরো ট্রেন’। ওই সময় রেনফে ট্রেনটি পেছনে ছিল। আর ইরো ট্রেনটি ২৫ কিলোমিটার সামনে ছিল।


সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার স্পেনের সরকারি রেলঅবকাঠামো পরিচালনা সংস্থা (আদিফ) ট্রেন পরিচালনার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নেয়।


এরপর যিনি কমান্ডে ছিলেন তিনি ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ চলার অনুমতি দেন। যদিও সিগন্যালে লালবাতি ছিল।


কিন্তু ২৫ কিলোমিটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ইরো ট্রেনটি’ দাঁড়িয়েই ছিল।


লালবাতি সত্ত্বেও ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ শুধুমাত্র চলার অনুমতিই দেওয়া হয়নি, এটিকে কোনো গতির সীমাও বেধে দেওয়া হয়নি। ফলে ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটি’ ২০০ কিলোমিটার গতিতে গিয়ে ২৫ কিলোমিটার সামনে থাকা ‘ইরো ট্রেনকে’ সজোরে ধাক্কা মারে।

সর্বশেষ সব খবর

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ পিএম

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৮০ জন। আজ বুধবার দেশটির কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চল সরকারের বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। 


ওই অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্র এস্তের পাদিয়া এএফপিকে বলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় আজ সকাল ৯টার দিকে মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে উরদা পৌর এলাকায় সরকারি একটি ট্রেনের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে। 


ঘটনার পর থেকে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণ স্পেনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে একাধিক দমকলবাহিনী, তিনটি হেলিকপ্টার ও দুটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ইউনিট কাজ করছে।


স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, রেললাইনের ওপর এবং আশপাশে দুটি ট্রেনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।


দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদে একটি সম্মেলন বাতিল করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। একইসঙ্গে নির্বাচনী প্রচারের সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে তার দল।


এ বছর দেশটিতে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটল। এর আগে জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চলীয় আদামুজ গ্রামের কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হন।

সর্বশেষ সব খবর

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৩ পিএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কক্ষে বক্তৃতা চলাকালে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঞ্চের দিকে এগিয়ে এসে বাধা দিলে তাকে পিছিয়ে যেতে বলেছেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে।


কিউবার সরকার নিজেদের নেতাদের সম্পদশালী করেছে আর জনগণ ভুগছে এমন অভিযোগ করে ওয়াল্টজ বলেন, আমরা জানি। আমরা জানি, তা কোথায় গেছে। আর আজ আমরা তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে এখানে এসেছি।


কিউবার প্রতিনিধিদল তার বক্তব্যে বাধা দিতে চাইলে পাল্টা জবাব দেন ওয়াল্টজ। তিনি বলেন, আমি জানি, আপনারা এটা শুনতে পছন্দ করেন না। এটা আমেরিকা, বন্ধু। এটা জাতিসংঘ। এটা আপনাদের কমিউনিস্ট একনায়কতন্ত্র নয়। আপনারা আমাকে থামাতে পারবেন না।


সাধারণ পরিষদের সভাপতি শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করে প্রতিনিধিদের মনে করিয়ে দেন, জবাব দেওয়ার সুযোগ তারা পাবেন। তবু কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়া মঞ্চের দিকে এগোতে থাকেন।


পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওয়াল্টজ বলেন, এই ব্যক্তির এই মঞ্চ থেকে সরে যাওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তিনি আমাকে ভয় দেখাতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি। পিছিয়ে যান! পিছিয়ে যান, রাষ্ট্রদূত। সরে যান! এটা হাভানা নয়।


কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের পুরোনো অবরোধ নিয়ে সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বিতর্কের সময় এ বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। ওয়াল্টজ সদস্য দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করতে অনুরোধ করছিলেন। পরে কিউবাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াল্টজকে মিথ্যাবাদী বলে অভিযোগ করেন এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে তাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে বলেন।


রদ্রিগেজ বলেন, ‘মি. ওয়াল্টজ আবারও মিথ্যা বলছেন।’ 


তার যুক্তি, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য এ ফোরাম ও সদস্য দেশগুলোর মর্যাদার সঙ্গে বেমানান এবং কিউবার সরকার ও জনগণের প্রতি অবমাননাকর।


পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে ওয়াল্টজ দাবি করেন, কিউবার কমিউনিস্ট নেতারা তাঁদের বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট সম্পদের বিষয়টি গোপন রাখতে চান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি উপযুক্ত প্রমাণ নিয়েই উপস্থিত হয়েছিলেন, যা কিউবার প্রতিনিধিদলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব হয়নি।


সূত্র: ফক্স নিউজ

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৬ পিএম

সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছে এক কিশোর। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মধ্যরাতের পর এ ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষায় ওই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালালে হামলাকারী নিহত হন।


সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিৎসা দাচিচ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পুলিশি নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে।


ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে, সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার তদন্ত করছে।হামলার সময় দূতাবাসে কোনো কর্মী ছিলেন না। ফলে দূতাবাসের কেউ আহত হননি।


যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটেসার্বিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কালো পোশাক পরা ওই কিশোর দূতাবাসের বাইরে নিরাপত্তারক্ষীদের বুথের দরজা খুলে ভেতরে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। 


বেলগ্রেডের উচ্চতর সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় জানিয়েছে, হামলাকারী একটি ছুরি ছুড়ে মারলে তা ওই পুলিশ কর্মকর্তার বাম গালে লাগে।পরে পুলিশ কর্মকর্তা নিজের অস্ত্র বের করে কয়েকটি গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই হামলাকারীর মৃত্যু হয়। আহত পুলিশ কর্মকর্তার আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাচিচ বলেন, হামলাকারীর কাছে দুটি ছুরি ছিল।


আইএসের সমর্থক সন্দেহে তদন্ত


সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আগে থেকেই হামলাকারীর ওপর নজর রাখছিল। সে ইসলামিক স্টেট বা আইএসের সমর্থক ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।


দাচিচ বলেন, হামলাকারীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে আইএসের সমর্থনে কালো পতাকার ছবি ছিল।


হামলাকারী পশ্চিম সার্বিয়ার সাবাচ শহরের বাসিন্দা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার পরিচয় ও হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত চলছে।


ঘটনার পর দূতাবাসের আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। নিরাপত্তা জোরদার করা হয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও। সরকার পরিবর্তনের পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগসার্বিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পার্লামেন্ট নির্বাচনের কয়েকদিনের মাথায় এ হামলার ঘটনা ঘটল। রোববারের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচের দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিক্ষোভের পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন নির্বাচনে জয় পায়।


তবে নতুন সরকার গঠিত না হওয়ায় এখনো পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ভুসিচ ও তার মিত্রদের হাতে রয়েছে।অন্যদিকে, ইসরায়েলেও মঙ্গলবার পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছে। বুথফেরত জরিপে সেখানে কোনো পক্ষের স্পষ্ট জয়ের আভাস পাওয়া যায়নি।


তবে সার্বিয়ায় সরকার পরিবর্তন এবং ইসরায়েলে নির্বাচনের সঙ্গে বেলগ্রেডের দূতাবাসে হামলার সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।


আগেও হামলার শিকার হয়েছিল দূতাবাস


বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসে এর আগেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের জুনে ক্রসবো নিয়ে হামলা চালিয়ে এক ব্যক্তি দূতাবাসের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক সার্বীয় পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত করেন। পরে ওই হামলাকারীকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।


বেলগ্রেডের একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছেই যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে সজ্জিত বিশেষ পুলিশ ইউনিট নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।


সার্বিয়ার সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নতুন হামলার পর দূতাবাস ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।


সূত্র: এপি 

সর্বশেষ সব খবর