ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি ইরানি দ্বীপ দখলের জন্য সেনা পাঠাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন মেরিন সেনা ও ছত্রীসেনারা (প্যারাট্রুপার) সেখানে একটি মরণফাঁদে পড়তে পারেন। কারণ, তাঁদের রসদ সরবরাহব্যবস্থা থাকবে অরক্ষিত আর কৌশলগত লক্ষ্যগুলোও অস্পষ্ট। মিডল ইস্ট আইকে এমনটাই বলেছেন সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা।


ওই এলাকায় মার্কিন সামরিক অভিযানটি শুরু হবে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও রাডার ব্যবস্থা অচল (জ্যাম) করার মধ্য দিয়ে। আর এর পরপরই চালানো হবে ব্যাপক বোমা হামলা।


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ সেথ ক্রুমরিক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে প্রস্তুতিমূলক এবং বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নিতে হবে।’

বর্তমানে গ্লোবাল গার্ডিয়ান নামের একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ক্রুমরিক। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের পর ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে ‘প্রস্তুতিমূলক’ হামলা চালানো হবে।


যুক্তরাষ্ট্র বেশ কয়েকটি দ্বীপ দখলের চেষ্টা করতে পারে। তবে তিনটি দ্বীপের ওপর বেশি নজর থাকবে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে খারগ দ্বীপ। কুয়েতের উল্টো দিকে অবস্থিত এই দ্বীপটিতে এমন সব স্থাপনা রয়েছে, যেখান থেকে ইরান তাদের মোট তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি করে।


আবু মুসা এবং এর কাছাকাছি আরও দুটি ছোট দ্বীপ উপসাগরীয় অঞ্চলের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত। ১৯৭১ সালে ইরানের সাবেক শাহ এগুলো দখল করেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত এই দ্বীপগুলোর মালিকানা দাবি করে আসছে।


অন্য একটি সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে কেশম দ্বীপ। এটি দখল করা সবচেয়ে কঠিন হবে। কারণ, এটি আয়তনে সবচেয়ে বড় এবং এখানে ইরানের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক রয়েছে। এসব সুড়ঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করে রাখা হয়।


প্রায় দেড় লাখ ইরানি এই দ্বীপে বসবাস করেন। দ্বীপটি বন্দর আব্বাস থেকে খুব সামান্য দূরত্বে অবস্থিত। ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে কেশম এবং এর পাশের দ্বীপ লারাকের মধ্যবর্তী পথ দিয়ে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।


আকাশপথে আগ্রাসনের আশঙ্কা বেশি


বিশ্লেষকেরা প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপ যুদ্ধের আলোচনায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মেরিন সেনাদের সমুদ্র থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ওকিনাওয়া এবং আইও জিমা দ্বীপের দিকে উঠে আসার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড্যানিয়েল ডেভিস বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ থাকায় মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীর প্রথম অংশটি সম্ভবত আকাশপথেই আসবে।


ডেভিস বলেন, ‘ইউএসএস বক্সার বা ইউএসএস ত্রিপোলিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার করে নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই আমি দেখছি না।’ তিনি মূলত দুটি উভচর যুদ্ধজাহাজের কথা বুঝিয়েছেন, যেগুলোতে করে কয়েক হাজার মার্কিন মেরিন সেনাকে এই অঞ্চলে আনা হচ্ছে। এই জাহাজগুলো ছোট আকারের ল্যান্ডিং ক্রাফট (উপকূলে সেনা ও রসদ পৌঁছানোর নৌযান) ও হোভারক্রাফট (উভচর যান) বহনে সক্ষম।


ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’-এর সিনিয়র ফেলো ডেভিস বলেন, ‘এখানে কেবল একটিই বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, আর তা হলো আকাশপথ।’

মার্কিন সেনাদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ভি-২২ অস্প্রে টিল্ট-রোটর বিমান, চিনুক এবং ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত শুক্রবার বলেছেন, স্থলসেনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। তবে এর মধ্যেও ওই অঞ্চলে স্থল অভিযানে পারদর্শী একটি বাহিনী পাঠাচ্ছে ওয়াশিংটন।


প্রায় ২ হাজার ৫০০ সেনার সমন্বয়ে গঠিত দুটি ‘মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের আরও ৩ হাজার ছত্রীসেনাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ইউএস নেভাল পোস্টগ্রাজুয়েট স্কুলের শিক্ষক কালেভ সেপ বলেন, মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীকে সম্ভবত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর ঘাঁটির ওপর নির্ভর করতে হবে। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দিলে, তারা (মার্কিন বাহিনী) এটি করতে পারবে না।’


এর আগে মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে সমর্থন দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। আমিরাত প্রকাশ্যে এমন যেকোনো যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে, যা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। সৌদি আরব জনসমক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে তুলনামূলক কম আক্রমণাত্মক হলেও, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।


‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’র সিনিয়র ফেলো ডেভিস বলেন, হেলিকপ্টারে করে আসা মার্কিন সেনারা কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন এবং এমনকি হালকা অস্ত্র ও আরপিজি (কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র) হামলার মুখে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন।


ডেভিস বলেন, ‘আমি বাজি ধরে বলতে পারি যে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সেনা নামানো হবে। তবে ইরানও মানচিত্র পড়তে জানে, তাই তারা এর জন্য প্রস্তুত থাকবে।’


‘ফকল্যান্ড আক্রমণের চেয়েও কঠিন’


মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি থাকা কোনো দ্বীপ দখল করার জন্য পশ্চিমা কোনো আক্রমণকারী বাহিনীর শেষ চেষ্টা ছিল ১৯৮২ সালে। ওই সময় ব্রিটেন আর্জেন্টিনার কাছ থেকে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ পুনরায় দখল করে নেয়। সেই সময় উভচর অবতরণের (দ্বীপের তীরে ওঠার) সময় আর্জেন্টিনার বিমানবাহিনী ব্রিটিশ জাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে ইরানের কাছে এখনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন রয়েছে। আর্জেন্টিনা থেকে ফকল্যান্ডের দূরত্বের তুলনায় ইরানের দ্বীপগুলো দেশটির মূল ভূখণ্ডের অনেক বেশি কাছাকাছি। এর ফলে এমনকি প্রথাগত কামানের সাহায্যেও মূল ভূখণ্ড থেকে এই দ্বীপগুলো রক্ষা করা অনেক সহজ।


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা সেপ বলেন, ‘ব্রিটিশদের জন্য ফকল্যান্ড জয় যতটা কঠিন ছিল, পারস্য উপসাগরের ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা এবং ড্রোন যুদ্ধের উন্নতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি এখন আরও বেশি কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘খুব কম বিশেষজ্ঞই বিশ্বাস করেন যে ইরান মার্কিন আক্রমণকারী বাহিনীর অবতরণ ঠেকাতে পারবে। কিন্তু একবার মার্কিন মেরিন সেনারা বা ছত্রীসেনারা সেখানে পৌঁছে গেলে, তারা প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়বে। খারগ এবং বিশেষ করে কেশম দ্বীপের ভূপ্রকৃতি ইরানি সেনাদের লুকিয়ে থেকে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর সুযোগ করে দেবে।’


‘মোজাইক ডিফেন্স’ প্রয়োগ করবে ইরান


ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) স্থলযুদ্ধবিষয়ক সিনিয়র ফেলো রুবেন স্টুয়ার্ট বলেন, ইরান তাদের ‘মোজাইক ডিফেন্স’ বা খণ্ড খণ্ড প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ওপর আরও বেশি জোর দেবে।


২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সাদ্দাম হোসেনের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সাজানো (টপ টু ডাউন) সামরিক বাহিনীকে দ্রুত পরাজিত করেছিল, তা দেখার পরই ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এই বিকেন্দ্রীভূত কমান্ড কাঠামো বা ‘ডিসেন্ট্রালাইজড কমান্ড স্ট্রাকচার’ প্রবর্তন করে।


চলমান যুদ্ধজুড়ে এই ‘মোজাইক ডিফেন্স’ ব্যবস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে। আইআরজিসির ৩১টি পৃথক কমান্ড রয়েছে—প্রতিটি প্রদেশের জন্য একটি করে। সেখানকার কর্মকর্তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণের স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতা রয়েছে। এমনকি আইআরজিসিকে আরও ছোট ছোট শাখায় বিভক্ত করা সম্ভব।


স্টুয়ার্ট বলেন, ‘তারা গেরিলাযুদ্ধের ওপরই বেশি নির্ভর করবে। আমেরিকানদের এমন কোনো সুযোগ দেবে না, যাতে তাদের খোলা ময়দানে টেনে এনে উন্মুক্ত লড়াইয়ে জড়াতে পারে।’


তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র আকাশপথে বিমান হামলার পাশাপাশি সমুদ্র ও স্থল থেকে ইরানের ওপর অনবরত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন মাটিতে থাকা মেরিন সেনা এবং ছত্রীসেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বা কৌশলে নতুন করে পরিবর্তন আনতে হবে।


আইআইএসএসের সিনিয়র ফেলো স্টুয়ার্ট বলেন, ‘আমরা এমন এক বিমান ও নৌবাহিনীর কথা বলছি, যারা কয়েক সপ্তাহ ধরে অত্যন্ত তীব্রগতিতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এখন মাটিতে থাকা সেনাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে তাদের শক্তিতে টান পড়বে।’


‘আ ব্রিজ টু ফার’


স্টুয়ার্ট বলেন, একবার মার্কিন সেনারা উপকূলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নিলে, তাদের জন্য নিয়মিত খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং গোলাবারুদ সরবরাহের প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত সেখানে রকেট লঞ্চার, সাঁজোয়া গাড়ি এবং এমনকি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও মোতায়েন করতে চাইবে। একই সঙ্গে আহত সেনাদের চিকিৎসার জন্য পুনরায় জাহাজে বা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে।


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা সেপ বলেন, ‘একবার সেনারা সেখানে অবস্থান নিলে তাদের রসদ সরবরাহের বিষয়টি সামনে আসবে। এটি একটি বড় সমস্যা। এই সেনাদের টিকে থাকার জন্য নিয়মিত খাদ্য, জ্বালানি, গোলাবারুদ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন হবে।’


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘লজিস্টিক বা রসদ সরবরাহের হিসাব অনুযায়ী, লড়াইয়ে থাকা প্রতি একজন সেনার বিপরীতে নয়জন সহায়ক কর্মীর প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে আবার জলসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং আকাশপথের সুরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনী অন্তর্ভুক্ত নয়।’ বলে রাখা ভালো, সেনাদের সহায়তার জন্য যুদ্ধজাহাজ ছাড়াও পারস্য উপসাগরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনেকগুলো সামরিক ঘাঁটির একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে।


কিন্তু পারস্য উপসাগর অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানি হামলার মুখে বেশ অরক্ষিতই প্রমাণিত হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত কিং ফাহাদ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে। অন্যদিকে স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি অনুযায়ী দেখা গেছে যে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিটি ইতিমধ্যে ইরানি হামলার শিকার হয়েছে।


নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই অঞ্চলে থাকা ১৩টি ঘাঁটির অধিকাংশ ইরানি হামলায় এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো এখন আর বসবাসের উপযোগী নেই।


মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য মেরিন সেনা এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন হলো ‘অগ্রগামী’ বা মূল আক্রমণকারী শক্তি। সাধারণত একটি বড় আক্রমণকারী বাহিনীর অবতরণের জন্য উপকূলে প্রাথমিক অবস্থা তৈরি করতে এদের ব্যবহার করা হয়। তবে এই ধরনের বাহিনীকে যখন তাদের সক্ষমতার অতিরিক্ত বিস্তৃত করা হয়, তখন তার পরিণতি কী হতে পারে—ইতিহাসে এমন অনেক সতর্কতামূলক উদাহরণ রয়েছে।


‘ডিফেন্স প্রায়োরিটিজ’-এর সিনিয়র ফেলো ডেভিস বলেন, ‘এই বাহিনীগুলো নিজেদের অবস্থান পোক্ত করতে অত্যন্ত দক্ষ, কারণ তারা খুব দ্রুত অগ্রসর হতে পারে। কিন্তু যে মুহূর্তে তারা এক জায়গায় স্থির হয়ে যায়, তখনই তারা শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তখন তাদের সুরক্ষা এবং নিয়মিত রসদ সরবরাহ করার প্রয়োজন পড়ে।’ তিনি বলেন, ‘এটি হবে অনেকটা শুটিং গ্যালারির (মরণফাঁদ) মতো।’


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘অপারেশন মার্কেট গার্ডেন’-এর ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেন আইআইএসএসের সিনিয়র ফেলো স্টুয়ার্ট। ওই অভিযানে ছত্রীসেনারা মূলত নেদারল্যান্ডসে নাৎসি জার্মানির প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।


স্টুয়ার্ট বলেন, ‘“আ ব্রিজ টু ফার” হলো আকাশপথে মোতায়েন করা এমন এক বাহিনীর ধ্রুপদি উদাহরণ, যারা কোথাও অবস্থান নিতে পারলেও তা ধরে রাখতে পারে না। পারস্য উপসাগরেও এমনটি ঘটতে পারে। কারণ, সেখানে তারা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আওতার মধ্যে থাকবে।’ তিনি এখানে ১৯৭৭ সালের শন কনারি এবং মাইকেল কেইন অভিনীত সিনেমার কথা উল্লেখ করেছেন, যা ওই সামরিক বিপর্যয়কে সামনে এনেছিল।


আক্রমণাত্মক অবস্থানে ইরান


ইরানও আক্রমণাত্মক অবস্থানে যেতে পারে। চলতি সপ্তাহে একজন ইরানি নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেছেন, তেহরান বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলীয় অঞ্চল দখলের জন্য প্রস্তুত। বিশ্লেষকেরা এই সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও তাঁরা বলেছেন, অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।


লন্ডনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস গ্রুপের বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টিফেনস বলেন, ‘হুতিরা এখনো এই সংঘাতে প্রবেশ করেনি (অবশ্য শনিবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে এই সংঘাতে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা)। আমার ধারণা, ইরান হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সংঘাত আরও বাড়লে তাদের কাজে লাগানোর জন্য অপেক্ষা করছে। আর স্থল আক্রমণ হবে তেমনই একটি বড় উসকানি।’


বাবেল মান্দেব প্রণালি বর্তমানে সৌদি আরবের লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে এসব তেল রপ্তানি করা হচ্ছে। হুতিরা যদি লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে জ্বালানি তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ ক্রুমরিক বলেন, ইরানও পারস্য উপসাগরজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি খারগ দ্বীপ দখল করতে যায়, তবে ইরান নিশ্চিতভাবেই আরও বেশি পানি শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং তেল উৎপাদনকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে।


ক্রুমরিক বলেন, ইরানের অধিকাংশ দ্বীপ দখল করে যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা লাভ হবে না, তবে খারগ দ্বীপ দখল করার পেছনে ‘প্রধানত অর্থনৈতিক কারণ’ থাকতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্পেশাল অপারেশনসের সাবেক চিফ অব স্টাফ আরও বলেন, ‘এটি দখল ইরানি শাসনব্যবস্থাকে এক কঠিন সমস্যার মুখে ফেলে দেবে। যেমন আপনি কি আপনার দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের ওপর অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং কামানের গোলা নিক্ষেপ করবেন। যেখানে কিছু মার্কিন সেনা বা ছত্রীসেনা মারা যেতে পারে; কিন্তু একই সঙ্গে আপনার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডও পঙ্গু হয়ে যাবে?’


তেল রপ্তানির কেন্দ্র হিসেবে এই দ্বীপটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানতে চায়, তবে তারা স্বেচ্ছায় এমনটি করতে পারে।


মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেসের সাবেক কর্মকর্তা সেপ বলেন, একই সময়ে কেশম বা আবু মুসার মতো দ্বীপগুলো দখল করলে হরমুজ প্রণালি আবার উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে খুব একটা কাজে আসবে না। তিনি বলেন, ‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো থেকে যে সুবিধা পাওয়া যায়, তার বাইরে এই দ্বীপগুলো তেমন নতুন কোনো বাড়তি সুবিধা দেবে না।’



সর্বশেষ সব খবর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৫৯ এএম

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে।


প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


ফেসবুকে মোদি জানান, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে দেওয়া ওই বার্তায় মোদি আরও লেখেন, ‘যারা আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চায়, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

সর্বশেষ সব খবর

৬ সপ্তাহে সর্বোচ্চ তেলের দাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন ১০০ ডলারের কাছাকাছি চলে গেছে।


আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮৮ ডলার অতিক্রম করেছে। 


আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪১ ডলার বা ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া। 


গতকাল তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। ফলে ব্রেন্টের দাম ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের দিকে বাজার সব সময় নজর রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতে ইরানে হামলা চালানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। 


হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যখনই কোনো জাহাজে হামলা করবে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। তাঁর এ মন্তব্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়বে, এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা আছে- এমন পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তাদের ভাষ্য, ওই ঘটনার পর আরও দুটি ট্যাংকার যাত্রাপথ থেকে ফিরে যায়।


আইআরজিসি আরও বলেছে, এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান চলাকালে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। এই প্রণালি এখন পুরোপুরি বন্ধ। ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো ট্যাংকার প্রণালিতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হবে না বলেও তারা সতর্ক করেছে। এদিকে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে অভিযান আরও জোরদার করায় সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে।


হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল বহনকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। তাদের দাবি, সামরিক অভিযানে তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা করেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি পতাকাবাহী ট্যাংকার এনসেলিয়া লোহিত সাগরে হামলার শিকার হয়েছে।


এ ছাড়া হুতিদের দাবি, সৌদি বন্দরের দিকে যেতে নিষেধ করে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর প্রায় ১০টি জাহাজ ফিরে গেছে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।


এসব ঘটনায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ-হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি-দিয়ে তেল পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসির এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে মাইন পাতা আছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অকার্যকর ঘোষণার পর এবার তেলের দাম এখনো ১০০ ডলারের নিচেই আছে। যদিও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত আছে। 


এর আগে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল, এখন দাম তার চেয়ে ৩০ ডলার কম।

সর্বশেষ সব খবর

শাহবাজ শরিফ, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আসিম মুনির

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা সুবিধা চেয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মেয়াদে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে।


আজ বুধবার (২২ জুলাই) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের এই অনুরোধ এমন সময় এসেছে, যখন দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান সহায়তা কর্মসূচির অধীনে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় ইসলামাবাদের কূটনৈতিক অবস্থানও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে দেশটি।


অনুমোদন মিললে এই তহবিল পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে, রুপির ওপর চাপ কমাতে এবং বহুপাক্ষিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসে সহায়ক হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।


পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে সহজ প্রবেশাধিকার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহযোগিতা চেয়েছেন আওরঙ্গজেব। পাশাপাশি দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


বর্তমানে পাকিস্তান ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করছে দেশটি। ২০২৩ সালে সার্বভৌম ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পাকিস্তান প্রথমে ৩ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ স্ট্যান্ডবাই ঋণ পায়। 


পরে আরও ৭ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি’ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদিত হয়।


তবুও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনো মূলত আইএমএফের অর্থছাড়, দ্বিপক্ষীয় সহায়তা এবং চীন ও সৌদি আরবের মতো অংশীদারদের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।


দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।


উল্লেখ্য, মুদ্রা স্থিতিশীলতা সহায়তা সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’-এর মাধ্যমে দেওয়া বিশেষ আর্থিক ব্যবস্থা। এর আওতায় ডলার সহায়তা, মুদ্রা বিনিময় চুক্তি বা গ্যারান্টির মাধ্যমে কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করা হয়।


রয়টার্স জানিয়েছে, এ ধরনের সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী ডলার সোয়াপ লাইনের বাইরে একটি পৃথক ব্যবস্থা। ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনাকে দেওয়া সহায়তার আগে সর্বশেষ বড় ধরনের এমন প্যাকেজ ২০০২ সালে উরুগুয়েকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে ১৯৪০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

জাপান প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিনটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। ফলে দেশটি প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরোনো বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন এই সতর্কতা চালু করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা।


গতকাল মঙ্গলবার জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিন শহর তাজিমি, গুজো এবং তয়োদায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই তীব্র তাপমাত্রা আগামী সপ্তাহেও অব্যাহত থাকবে- এমন ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাপানের আওহাওয়া সংস্থা।


তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেই দিনগুলোকে জাপানে ‘কোকুশোবি’ বলা হয়। তীব্র গরমের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এই পরিভাষাটি চালু করা হয়েছিল।


বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহওয়া ঘন ঘন দেখা দিতে থাকার মধ্যে জাপানে প্রথমবারের মতো ‘অসহনীয় গরমের দিন’ ঘোষণা করা হল। গত বছর জাপানের ইসেসাকি নগরীতে এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখা গিয়েছিল।


জাপানে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জন্য বিশেষ পরিভাষা আছে। যেমন: যেসব দিনে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায় তাকে বলে মোসোবি বা ‘চরম গরম দিন’।


কিন্তু ‘কোকু’ শব্দটি আরও প্রচণ্ড বা প্রখর তাপ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। কিয়োদো নিউজের খবরে বলা হয়েছে, দেশের ৯১৪ টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রর প্রায় ৩০০ টিতেই মঙ্গলবার মোসোবি রেকর্ড করা হয়েছে।


তাছাড়া, কর্তৃপক্ষ দেশের ৪০ টিরও বেশি প্রশাসনিক এলাকায় হিটস্ট্রোক অ্যালার্ট জারি করেছে। লোকজনকে এয়ারকন্ডিশন ব্যবহার করা, যথেষ্ট পানি পান, লবণ খাওয়া এবং বাইরে কম যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক মানুষদেরকে শীতল পরিবেশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


জাপানের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানায়, টোকিও দমকল বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সিটি হাসপাতালে ৩ থেকে ১০৩ বছর বয়সের মোট ২৮৭ জনকে হিটস্ট্রোকের কারণে ভর্তি করা হয়েছে। এবছর এটিই হিটস্ট্রোকে হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড।


দমকল বিভাগও অ্যালার্ট জারি করে লোকজনকে তাপ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।


মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং বেশি মাত্রায় ঘটছে। গত বছর জাপান ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

আন্দোলনের চাপের মুখে মোদি

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:০১ এএম

পরীক্ষাসংক্রান্ত কেলেঙ্কারির পর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ভারতের পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় এমপিদের সমর্থন পাওয়ার পর আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজধানী নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে আজ বুধবার (২২ জুলাই) অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে হাজার হাজার সমর্থকের বিশাল জমায়েত দেখা গেছে। 


শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। খবর এএফপির। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ভিত্তিক আন্দোলন সিজেপির নেতৃত্বে ভারতজুড়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তার সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা রাজধানী ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। 


উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা যন্তর মন্তর ছাড়ব না। যে দেশে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিল, সরকারের সমালোচনা করাকে দেশদ্রোহিতা বলা হতো, আমরা এখন সেই দেশকে জাগিয়ে তুলেছি।"


বেশিরভাগ তরুণ ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন মঙ্গলবার দেশটির বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার পর মোদি সরকারের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। 


কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গত সোমবার (২০ জুলাই) আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো পুলিশি দমনপীড়নের জন্য সরকারের ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাহুল গান্ধীকে প্রতিবাদস্থল থেকে তুলে নিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রাখে পুলিশ। আজ বুধবার কালো পোশাক পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন তিনি। 


অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, তরুণেরা যখন রাজপথে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব ভূমিকা পালন করছেন।


এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত মে মাসে, যখন দেশটির প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত আদালতে শুনানির সময় তরুণদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা এবং ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ককরোচ জনতা পার্টির, যা এখন বেকারত্ব ও সরকারি অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারগ্যাস প্রয়োগ করে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে।


মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনলাইন মূল্যায়নে অনিয়মের কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হলে এই অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির উত্তাপ বুঝে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সংস্কার এবং আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। 


তবে দিল্লি ছাড়িয়ে এখন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে চাপের মুখে থাকা সরকার কীভাবে এই অচলাবস্থা নিরসন করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:২৭ এএম

ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আইন পাস করেছে ফ্রান্স।


বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে আইনটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালুর পথ তৈরি হয়েছে।


শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের নীতিমালা নিয়ে কাজ করছে।


ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি ক্ষমতায় এক দশক পূর্তির আগে এই আইন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।


তবে আইনটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তাদের আশঙ্কা, বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে, ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সুরক্ষিত থাকবে এবং কিশোরেরা এই বিধিনিষেধ এড়িয়ে যেতে পারবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।


অন্যদিকে ফ্রান্স সরকার বলছে, বয়স যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রযুক্তি ইতোমধ্যে রয়েছে এবং তা নিরাপদ ও কার্যকর। কিছু বামপন্থি সদস্যের আপত্তি সত্ত্বেও মঙ্গলবার ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদ ও নেনেট—পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই বিলটি পাস হয়।


ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্স শিশুদের সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর এই কড়াকড়ি আরোপ করল।


আইনটি কার্যকর করা হবে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। নতুন সব অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক হবে।


দ্বিতীয় ধাপে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম বিদ্যমান সব অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ফ্রান্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হলে সবাইকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের বয়স ১৫ বছরের বেশি।


রয়টার্স জানিয়েছে, আইন কার্যকর হওয়ার পর সোশাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত বয়স যাচাই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।


পার্লামেন্টে ভোটাভুটির আগে ফ্রান্সের ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ বলেন, বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি আগে থেকেই বিদ্যমান থাকায় দ্রুত আইন কার্যকর করা সম্ভব।


অস্ট্রেলিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে এ ধরনের আইন চালু করল ফ্রান্স।


অস্ট্রেলিয়া গত বছরের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করলেও বাস্তবে অনেক কিশোর-কিশোরী এখনো বিভিন্নভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।


চলতি বছরের মার্চে অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশন জানায়, নিষেধাজ্ঞার আগে যেসব ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ছিল, তাদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে সাতজনেরই এখনো কোনো না কোনোভাবে এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।


অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট স্টাডিজের অধ্যাপক তামা লিভার বিবিসিকে বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।


তবে তার মতে, এই উদ্যোগ অন্তত দেখিয়েছে যে এমন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তিনি একে ‘একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন।


তার ভাষায়, অন্য দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল—এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনায় তরুণদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেওয়া হয়।


লিভারের মতে, ফ্রান্সের আইন সফল হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি, কারণ সেখানে সব ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে এতে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।


এ ছাড়া এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কিশোররা কম নিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে, সংবাদ পড়ার প্রবণতা কমতে পারে এবং রাজনৈতিক বিষয়ে তাদের অংশগ্রহণও হ্রাস পেতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।


সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ জোরালো হয়েছে।


জুনে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হবে।


পাশাপাশি ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য মধ্যরাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ‘কারফিউ’ চালুর পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।


এর আগে মে মাসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ইউরোপের শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তাব দেন এবং এ বিষয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন নিয়ম চালুর সম্ভাবনার কথা বলেন।



সর্বশেষ সব খবর