হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেহরানের হাসান আবাদ স্কয়ার

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার দ্বিতীয় দিন ছিল রোববার। হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২০০র বেশি নিহত ও অন্তত ৭০০ জন আহত হয়েছে।



এই হামলার জবাবে, ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের ইস্পাহানে সামরিক স্থাপনায় হামলার সর্তকতা জারি করেছে। সেখান থেকে সব বেসামরিক ব্যক্তিদের সরে যেতে বলা হয়েছে। জবাবে, দক্ষিণে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বন্ধের সর্তকতা জারি করেছে ইরান। 



নওরোজের পাঠকদের জন্য যুদ্ধ পরিস্থিতির উল্লেখযাগ্য ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলো-



ইরানে এক দিনে ১২০০টির বেশি বোমা হামলা: ইসরায়েল

ইসরায়েলের বিমানবাহিনী দাবি করেছে, গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তারা (ইসরায়েল) ইরানে ১ হাজার ২০০টির বেশি বোমা ফেলেছে। খবর আল–জাজিরার। ইরানের যেসব স্থানে গতকাল হামলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়। এই হামলায় অন্তত ১৪৮ জন নিহত হয়েছে। আহত বহু মানুষ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, স্কুলে হামলায় ডজনখানেক নিরীহ শিশু নিহত হয়েছে। এই হামলা জবাব দেওয়া হবে।



মধ্যপ্রাচ্যের সব বিমানবন্দর বন্ধ, বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বিঘ্নিত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং তেহরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলার পর এয়ার লাইন্সগুলো এখনও মধ্যপ্রাচ্যে ও আশেপাশের ফ্লাইট বাতিল এবং ডাইভার্ট বা অন্যমুখী করে দিচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এবং দুবাই আল মাকতুমের সকল ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। দ্য এমিরেটস এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা সোমবার স্থানীয় সময় তিনটা পর্যন্ত দুবাই থেকে সকল কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকার জন্য তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, একই কারণে সোমবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত আবুধাবি থেকে ফ্লাইট স্থগিত করেছে ইতিহাদ এয়ারলাইন্স।



তেলের দাম বেড়েছে এক লাফে ১০%

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পড়ায় তেলের দামে হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সোমবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।



ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের নিহতের খবর

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ নিহত হয়েছেন বলে খবর দিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে টার্কি টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, আহমাদিনেজাদ তার নিজের বাড়িতে হামলার শিকার হন। ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়।



যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জবাব দেওয়ার ঘোষণা লেবাননের হেজবুল্লাহর

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান সমর্থিত লেবাননের হেজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে লেবানন হেজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলেছেন, এই গোষ্ঠি "সম্মান ও প্রতিরোধের ক্ষেত্র ত্যাগ করবে না।" ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে "অপরাধের সর্বোচ্চ" হিসেবে অভিহিত করেছেন মি. কাসেম। তিনি বলেন, "বিধাতার নির্দেশনা ও সমর্থনের ওপর আস্থা রেখে আমরা এই আগ্রাসন মোকাবেলায় আমাদের কর্তব্য পালন করবো।" হেজবুল্লাহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি শিয়া মুসলিম সংগঠন, যেটি লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটিকে ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে ইসরায়েলের বিরোধিতা করার জন্য এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিয়া শক্তি ইরান প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তখন দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন দখল করেছিল। হেজবুল্লাহ ১৯৯২ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সংগঠনটির উপস্থিতি দেখা যায়।



তেহরানের ওপর হামলার মাত্রা 'আরো বাড়বে': নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে "অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।" প্রতিরক্ষামন্ত্রী, চিফ অব স্টাফ এবং মোসাদ সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রধানের সাথে এক বৈঠকের সময় এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তেল আবিবের কিরিয়ার ছাদ থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেছেন, "আমাদের বাহিনী এখন সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে তেহরানের কেন্দ্রে হামলা করছে এবং আগামী দিনগুলোতে এই হামলার মাত্রা আরো বাড়বে।" "যদিও এই দিনগুলো দুঃখের দিন। গতকাল তেলআবিবে এবং আজকে বেইত সেমেশে আমরা আমাদের প্রিয় মানুষদের হারিয়েছি। এই পরিবারগুলোর প্রতি আমার হৃদয়ের গভীর থেকে সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশাপ্রকাশ করছি।" তিনি বলেছেন, "আমাদের অস্তিত্ব এবং আমাদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করার জন্য" ইসরায়েল এই অভিযানে "আইডিএফের পূর্ণ শক্তি" নিয়ে আসছে।




মধ্যপ্রাচ্যে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা’, ইরানের নাম নেয়নি ঢাকা

ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাতটি দেশের নামোল্লেখ করা হলেও সে তালিকায় ইরানকে রাখা হয়নি। শনিবার ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মী নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার কন্যা, জামাতা ও নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, সেখানে দুইশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন নেতাও রয়েছেন।



তেহরানে হামলা বাড়ানোর ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামনের দিনগুলোতে তেহরানে বিমান হামলা আরো জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখনো ‘পূর্ণ শক্তি’ প্রয়োগ করেনি। আল জাজিরা লিখেছে, এক ভিডিওতে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ জারি করেছি। আমাদের বাহিনী এখন প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত করছে। সামনের দিনগুলোতে হামলা কেবল বৃদ্ধিই পাবে।”



নতুন ‘সুপ্রিম লিডারের’ নাম ঘোষণা দুয়েক দিনের মধ্যেই

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর নতুন নেতা বেছে নিচ্ছে ইরান। আল জাজিরাকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হতে পারে।

আলি খামেনির মৃত্যুতে ইতোমধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরই নতুন নেতা নির্বাচন নিয়ে এমন তথ্য সামনে এলো। আরাগচি বলেন, অন্তর্বর্তী কমিটি ‘নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত’ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে। “ইরানের বর্তমান আক্রমণ আত্মরক্ষা ও ইরানের ওপর মার্কিন আগ্রাসনের একটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ”, যোগ করেন তিনি।

 

শত্রু ঘাঁটি গুড়িয়ে দিচ্ছে ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

ইরানের  প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ইরানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল তাদের কাজ শুরু করেছে। খামেনির পরবর্তী নেতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাতে শূন্যতা তৈরি না হয়, সেজন্য তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির অন্যতম সদস্য হলেন পেজেশকিয়ান নিজেই। তার সঙ্গে কমিটিতে রয়েছেন বিচার বিভাগের প্রধান মোহসেনি এজেহেই ও আয়াতুল্লাহ আলৈ রেজা আরাফি। বিবিসি লিখেছে, রাষ্ট্রীয় টিভিতে পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের ‘বিপর্যস্ত’ করবে। বর্তমানে তারা শত্রু ঘাঁটি গুড়িয়ে দিচ্ছে।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খামেনির গায়েবানা জানাজা

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে তার গায়েবানা জানাযা হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রোববার তারাবির নামাজের পর রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে জানাযা হবে বলে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন। 



খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “খামেনির শাহাদাতে শোক ও দুঃখের এ মুহূর্তে পাকিস্তানের জনগণ ইরানের জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে এবং গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।” তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের নীতি লঙ্ঘনের ঘটনায় পাকিস্তান উদ্বেগ প্রকাশ করছে।”



ইরানের পাল্টা হামলায় আমিরাতে এক বাংলাদেশি নিহত

ইরানের পাল্টা হামলায় তিনজন নিহতের যে তথ্য দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সেখানে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন। রোববার মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ইরান থেকে আসা ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টিকে বাধাগ্রস্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। আর ৩৫টি দেশের মধ্যে পড়ে ক্ষতি করেছে। “এসব ঘটনায় পাকিস্তানি, নেপালি ও বাংলাদেশি তিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আর যে ৫৮ জন আহত হয়েছেন, তারা আমিরাত, মিশর, ইথিয়োপিয়া, ফিলিপিন্স, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন, এবং আফগানিস্তানের নাগরিক।”



‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে নিশানা করছে, প্রতিবেশীদের নয়’

ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রতিবেশীদের নিশানা করছে না বলে মন্তব্য করে নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি বলেছেন, তারা আমেরিকান ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করছেন। এক্সে তিনি বলেছেন, “যখন আপনাদের দেশে থাকা ঘাঁটিগুলো আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই বাহিনীকে ব্যবহার করে এ অঞ্চলে অভিযান চালায়, তখন আমরা সেই ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করব।” তিনি বলেন, “ঘাঁটিগুলো (মার্কিন) এই অঞ্চলের দেশগুলোর অংশ নয়; বরং সেগুলো আমেরিকান ভূখণ্ড।”



'আমাদের সেনারা শত্রুদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে': ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের "শত্রুদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে" বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় তিনি এমন দাবি করেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ওই ভাষণের আধা ঘন্টা আগে মি. পেজেশকিয়ান তার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা ইরানে 'ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সংকল্পকে বাধাগ্রস্থ করতে পারবে না"।



ইরানে হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৪০ কর্মকর্তা

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ঊর্ধ্বতন প্রায় ৪০ কর্মকর্তা  প্রাণ হারিয়েছেন।



মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কনে’ ইরানের হামলা

মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে' ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও মার্কিন এক কর্মকর্তা আলজাজিরা বলেছেন, ওই হামলায় রণতরীটির কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। সেটি এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে’ চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা বলে ইরান।



ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। দেশটির সরকারের একজন মুখপাত্র, মুদ বোজো বলেছেন, তার দেশ “শুধুমাত্র সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারে”। ফ্রান্সের আরটিএল টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে তিনি বলেছেন, “খামেনি ছিলেন একজন নিপীড়ক ও দমনমূলক একনায়ক, যিনি তার নিজ দেশের জনগণকে দমন করেছিলেন। নারী, যুব ও সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘন করেছিলেন এবং সম্প্রতি দেশটিতে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী। তাই তার মৃত্যুতে আমরা শুধু উৎফুল্ল হতে পারি”।



ইরান যুদ্ধে ৩ মার্কিন সেনা নিহত, গুরুতর আহত ৫

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে এই প্রথম মার্কিন সেনার প্রাণহানির খবর জানাল যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা জানায়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে তাদের তিন সেনা নিহত এবং ৫ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। নিহত সেনাদের নাম জানায়নি সেন্টকম। নিহত সেনাদের পরিবারকে তাদের মৃত্যুর খবর দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নাম প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে তারা। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমেরিকান বীরদের প্রাণহানি হতে পারে। আমাদের পক্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। যুদ্ধে প্রায়ই এমন হয়।”



যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড তিন সেনার মৃত্যুর খবর জানালেও বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে আঘাত হানেনি। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী এর আগে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল ইরানের গণমাধ্যমে।  তবে সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এমনকি রণতরীর ধারেকাছেও পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে সেন্টকম। বরং উল্টো ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে রোববার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরও কয়েকজন আঘাতে সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের পুনরায় কাজে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চলছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলমান পরিস্থিতির নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে। আপাতত নিহতদের পরিচয় বা এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য তাদের স্বজনদের জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত গোপন রাখা হবে।



তেহরানে নতুন হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী

ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে,‘ বিমানবাহিনী এখন তেহরানের কেন্দ্রে নতুন দফায় হামলা শুরু করেছে।’



মার্কিন বিমানবাহী রণতরিতে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, দাবি ইরানের

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে হামলা চালিয়েছে। চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ওই রণতরিতে আঘাত হেনেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।’ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন জানুয়ারির শেষদিক থেকে আরব সাগরে অবস্থান করছে। ইরানে হামলা চালতে এই অঞ্চলে সামরিক শক্তি জোরদার করার পরিকল্পনা থেকে এই রণতরী মোতায়েন করে ওয়াশিংটন।



প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া, ইরানের ওপর নয়: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া, ইরানের ওপর নয়। তিনি বলেন, ইরানের আত্মরক্ষা করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আল জাজিরাকে এসব কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী ভাইদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করছি না। আমরা হামলা করছি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে।’ ইরান প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করছে বলে উল্লেখ করেন আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, তেহরানের আশা প্রতিবেশী দেশগুলো এটা বুঝতে পারবে যে, এই পরিস্থিতি ইরানের সৃষ্টি নয়। এর জন্য ইরানের দায়ও নেই। কিন্তু ইরানের আর করার কিছু নেই।



হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার পরিকল্পনা তেহরানের নেই: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই। এমনকি এই পর্যায়ে ‘নৌচলাচল ব্যাহত হয়, এমন কিছু করারও’ কোনো পরিকল্পনা নেই।

আল-জাজিরাকে তেহরানের এই অবস্থানের কথা জানান আব্বাস আরাগচি। হরমুজ প্রণালির কাছে আজ দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও। ওই প্রণালির দুই পাশে বহু জাহাজ নোঙর করে আছে।



ইরানের প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর হামলা চলবে 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইরানের কঠোর হমলা চলবে। আজ রোববার টেলিভশনে দেওয়া বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট এই হুঁশিয়ারি দেন।প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যাবো।’ তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর আঘাত হানতে থাকবে, শত্রুদের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করতে থাকবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বিপ্লবের নেতার (আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি) শাহাদাত বরণ ছিল বছরের পর বছর ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি।’



ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ৮ জন নিহত

ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ২৭ জন আহত হয়েছে, তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের জরুরী সেবা বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এই হামলার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

ইসরায়েলের মাজেন ডেভিড আডোম অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার জেরুজালেমের ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকারীরা হতাহতদের সরিয়ে নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে চিকিৎসক দল রয়েছে, হতাহতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি হেলিকপ্টার তৎপর রয়েছে। মাজেন ডেভিড আডোম-এর মুখপাত্র জাকি হেলার এক বিবৃতিতে বলেছেন, বেইত শেমেশে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, বেইত শেমেশ শহরে আবাসিক এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।



হরমুজ প্রণালির উভয় পাশে বহু জাহাজ আটকা পড়েছে

জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য–উপাত্ত দেওয়া সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে যে, অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি বহনকারী অন্তত ১৫০টি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালির বাইরে উপসাগরীয় উন্মুক্ত জলরাশিতে নোঙর ফেলেছে। প্রণালির অপর পাশেও আরও কয়েক ডজন জাহাজ স্থির অবস্থায় রয়েছে। ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর এই অঞ্চলটি যুদ্ধের কবলে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্মের শিপ-ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, ইরাক ও সৌদি আরবের মতো প্রধান উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী এবং এলএনজি উৎপাদনকারী বড় দেশ কাতারের উপকূল সংলগ্ন এলাকায় এই ট্যাঙ্কারগুলো রয়েছে।



খামেনি হত্যাকাণ্ড নিন্দনীয়, এটা মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পুতিন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড মানবিক নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সব মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস এ কথা জানিয়েছে। তাস জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে শোক প্রকাশ করেছেন।



মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে হামলার দাবি আইআরজিসি'র

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর বা আইআরজিসি। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছে"। এতে আরো বলা হয়েছে, "শত্রুদের ওপর হামলার এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে" তারা। তবে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি এবং অন্যান্য সূত্রগুলোও এখনো এই তথ্য নিশ্চিত করেনি। এই রণতরী, আব্রাহাম লিংকন, বর্তমানে পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরের কাছে অবস্থানরত দুইটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর একটি।



ইরানের পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান নিহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ান নিহত হয়েছেন। ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গতকাল শত্রুপক্ষের হামলায় জাতীয় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জেনারেল গোলামরেজা রেজাইয়ান নিহত হয়েছেন।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুল রহিম মুসাভি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার তাঁরা নিহত হন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা আজ রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আল–জাজিরার। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার খবরও নিশ্চিত করেছে ইরান।  ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আরও কয়েকজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তাঁদের নাম পরে প্রকাশ করা হবে।



যুক্তরাষ্ট্রে হামলা হলে এমন আঘাত করব, যা আগে দেখা যায়নি : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালানো নিয়ে ইরানকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলে হামলা চালানো হলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শক্তি ব্যবহার করবেন। খবর বিবিসির। ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘ইরান মাত্রই বলেছে যে তারা আজ অত্যন্ত কঠোরভাবে আক্রমণ চালাবে, তারা এত জোরালো হামলা চালাবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে তাদের এমনটা না করাই ভালো। কারণ, যদি তারা এটা করে, তাহলে আমরা এমন শক্তি ব্যবহার করে তাদের আঘাত করব, যা আগে কখনো দেখা যায়নি!’ ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারির পর ট্রাম্প এমন হুমকি দিয়েছেন।



এক থেকে দুই দিনের মধ্যে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হতে পারেন, জানালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হতে যাচ্ছেন, সেটির দিকেই নজর সবার। সর্বোচ্চ নেতা খুঁজতে ইতোমধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে দেশটির লিডারশিপ কাউন্সিল।এমন পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানালেন, সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হতে পারেন। রোববার আল-জাজিরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা জানান।



ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলায় নিহত বেড়ে ১৪৮ 

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪৮ এ দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৯৫ জন আহত হয়েছেন। খবর আল–জাজিরার। গতকাল শনিবার এ হামলা চালানো হয়। এরপর থেকেই নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। হামলার সময় ওই বিদ্যালয়ে ১৭০ জন শিক্ষার্থী ছিল।



সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ: তাসনিম নিউজ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। গতকাল শনিবার রাতে ইরানের আধাসরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে এই তথ্য জানানো হয়। খবরে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা জাহাজগুলো বারবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) একটি বার্তা পাচ্ছে। বার্তায় বলা হচ্ছে, কৌশলগত এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরান। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হলো। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ এই হরমুজ প্রণালি। এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের পদক্ষেপ তেলের দামের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা।



ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব দেবে তিন সদস্যের পর্ষদ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সময়ে দেশটিকে নেতৃত্ব দেবে তিন সদস্যের একটি পর্ষদ। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন থেকে এমনটা জানা গেছে। খবর আল–জাজিরার। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি তিন সদস্যের পর্ষদ অস্থায়ীভাবে দেশের সবকিছুর নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে। এ তিন সদস্যের পর্ষদে থাকছেন, দেশের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরি।



কার্যালয়ে বসে কাজ করার সময় নিহত হন খামেনি: ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বলেছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল শনিবার ভোরে তাঁর কার্যালয়ে কাজ করার সময় নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ঘোষিত কাউন্সিলের এক বিবৃতি থেকে এমনটা জানা গেছে। খামেনির মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। এর আগে উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানে লিডারশিপ হাউস কমপাউন্ডের কিছু অংশে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এ লিডারশিপ হাউস কমপাউন্ডই খামেনির কার্যালয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, নিজ কার্যালয়ে খামেনির মৃত্যুতে এটাই প্রমাণ হয় যে তাঁর লুকিয়ে থাকার খবরগুলো ছিল ‘শত্রুপক্ষের মানসিক যুদ্ধের’ অংশ।



খামেনির পথ অব্যাহত থাকবে:ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রী

ইরানের পারমানবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানিয়েছে দেশটি। সাম্প্রতিক হামলাগুলো এমন সময়ে হয়েছে যখন ওমান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতা করছিল। ২৬শে ফেব্রুয়ারি জেনেভায় সবশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই বিবৃতিতে বলেন, খামেনির পথ “চলবে।”



খামেনি নিহত, এখন ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন

দেশের বাইরের বিষয়েও নিয়মিতভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। নিজ দেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র ইসরায়েলসহ অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে তিনি কখনো মাথানত করেননি। আলী খামেনির সময় ইরানের সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর ছয় সন্তান রয়েছে।



হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত

ইরানে হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আল–জাজিরা ও রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে যে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজেও নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ দাবির সত্যতা স্বীকার কিংবা অস্বীকার কোনোটাই করা হয়নি। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও মেহের জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা ‘অবিচল রয়েছেন ও রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন’।




ইসরায়েলি হামলার পরে গাজার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১১ এএম

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১০ জন, যাদের মধ্যে পাঁচজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রোববার (২৫ অক্টোবর) উপত্যকাটির বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু।


সূত্র জানায়, গাজা নগরীর ইসলামিক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ইসরায়েলি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।


বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এর কিছুক্ষণ আগে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার পর গাজা নগরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষাক্রম-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানে বাড়িঘর ধ্বংস হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত অনেক ফিলিস্তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।


 উত্তর গাজায় উপত্যকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে বেসামরিক মানুষের একটি জমায়েত লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় কয়েকজন আহত হন। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানায়নি চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র।


এ ছাড়া জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের পশ্চিমে আল-ফালুজা এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে পায়ে আঘাত পাওয়া এক ফিলিস্তিনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট সূত্র। খান ইউনিসে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এক নারীও মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা আনাদোলুকে জানান, খান ইউনিস শহরের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি কামান থেকে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলের দিকে গুলি ও গোলা ছুড়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধজাহাজ।


মধ্য গাজায় দেইর আল বালাহ শহরের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় ৩৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।


স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ভোরে গাজা নগরীর পূর্বাঞ্চলীয় আল তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানে দুটি দফায় বাড়িঘর ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে দুটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।


২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১ হাজার ৫৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন।


২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এ ছাড়া উপত্যকাটির বেসামরিক অবকাঠামোর প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। 


শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণের পর ফ্রান্সে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪০ এএম

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খারাপ পরিবেশের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন লাখো মানুষ। শনিবারের (২৪ অক্টোবর) এসব বিক্ষোভে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দিনের শুরুতে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।


বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


প্যারিসে শান্তিপূর্ণ মিছিল শেষে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। কিছু বিক্ষোভকারী অস্থায়ী ব্যারিকেড তৈরি করে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। কয়েকজন মুখোশধারী তরুণ গাড়ির শোরুমের জানালাও ভাঙচুর করেন। রাজধানীতে শনিবার ১৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দক্ষিণের বন্দরনগরী মার্সেইয়ে ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়া হয় এবং সড়কে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। বোর্দো শহরেও সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরির জন্য ভবনের কাঠের পাটাতন খুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। লিওঁ শহরে নিষিদ্ধ এলাকায় জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ।


ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ৫৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তুলুজ ও ক্লেরমঁ-ফেরাঁ শহরে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি। তুলুজে ২০ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারীর হাতে বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েকটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। এর আগে গত সপ্তাহের বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। ওই বিক্ষোভের পর সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন। দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে ফ্রান্সের বাণিজ্য ও শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠন।


জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের মধ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ পরিস্থিতিতে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা বাড়ছে। 


সৌদি আরবের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৩ এএম

আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এক সপ্তাহে ৭ হাজার ৯৩৪ জনকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। একই সময়ে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে ১৩ হাজার ৯০৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খবর গালফ নিউজের।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গত ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে এসব আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫৪ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন, ৩ হাজার ৮৬৫ জনের বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৪৮৬ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।


এ ছাড়া অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগে ১ হাজার ৮৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনুমোদনহীন সীমান্তপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টায় আটক হয়েছেন আরও ২২ জন। আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয়, কর্মসংস্থান বা অন্য কোনোভাবে সহায়তার অভিযোগে আরও ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে অভিবাসন ও শ্রম আইন লঙ্ঘনসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন ৩৭ হাজার ৬১৮ জন প্রবাসী। তাদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৪৪৯ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ১৬৯ জন নারী। বিবৃতিতে বলা হয়, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি সংগ্রহের জন্য ২০ হাজার ২৫২ জনকে নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আরও ৬ হাজার ৫৫৫ জনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনভুক্ত সময়ে মোট ৭ হাজার ৯৩৪ জনকে সৌদি থেকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।


তবে বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা কোন কোন দেশের নাগরিক, তা বিবৃতিতে উল্লেখ করেনি মন্ত্রণালয়।


সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশে সহায়তা করা, দেশের ভেতরে পরিবহন করা, আশ্রয় দেওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে সহযোগিতা করার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।


এ ধরনের অপরাধে দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। অপরাধীদের পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন এবং তাদের আশ্রয় দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি অপরাধীদের পরিচয় প্রকাশ করার বিধান রয়েছে।


মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের অপরাধ গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত, যার জন্য গ্রেপ্তার করা যায় এবং যা সম্মান ও বিশ্বাসের পরিপন্থী কাজের অন্তর্ভুক্ত।


সন্দেহজনক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা জানাতে বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মক্কা, মদিনা, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ৯১১ নম্বরে এবং সৌদি আরবের অন্যান্য এলাকায় ৯৯৯ অথবা ৯৯৬ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে।


সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পক্ষে প্রচারে নেমে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইরান যুদ্ধ এবং চড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন।


গতকাল শনিবার ওহাইওতে সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে ওবামা বলেন, “এই প্রশাসনের কিছু বোকামি অন্তত কিছুটা হলেও লাগাম টেনে ধরার জন্য এই নির্বাচনই আমাদের শেষ সেরা সুযোগ।"


যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ক্ষমতা দখলের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক ১০ দিন আগে বারাক ওবামা নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন। এই প্রচারে তিনি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দুর্নীতির নিন্দা করেছেন, ইরান নিয়ে তার কৌশলের সমালোচনা করেছেন এবং হোয়াইট হাউজ সংস্কারে ট্রাম্পের জাঁকজমক নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন।


ওবামা ক্লিভল্যান্ড ও ডেট্রয়েটের সমাবেশে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে তীব্রভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন।


মিশিগানে মার্কিন সেনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের পক্ষে প্রচার চালানোর সময় ওবামা আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির কিছু বোকামিকে অন্তত কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার একটি 'সার্কিট ব্রেকার' বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এই অচলাবস্থা বা চলমান ধারা ভাঙতে হবে এবং এই সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।


ওদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে জর্জিয়ার এক সমাবেশে তার প্রশাসনের অভিবাসন এবং শুল্ক নীতির প্রশংসা করে সমর্থকদের বলেছেন, “আমরা আমেরিকার সুবর্ণ যুগে আছি।”


আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য কংগ্রেস কোন দল নিয়ন্ত্রণ করবে তা ঠিক করবে, আর তাই প্রেসিডেন্টের জন্য তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা কতটা সহজ হবে সেটিও এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারণ হয়ে যাবে।


আগাম ভোটগ্রহণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে এবং ট্রাম্প শনিবার ফ্লোরিডায় তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে একসঙ্গে নিজের ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যেই ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচারে নেমে শনিবার ওহাইও এবং মিশিগানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ওবামা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিশানা করে সমালোচনা করেছেন। এক পর্যায়ে তিনি হোয়াইট হাউজ পুনর্সজ্জা করার জন্য ট্রাম্পের চেষ্টা নিয়ে উপহাসও করেন।


ক্লিভল্যান্ডের প্রচার সমাবেশে ওবামা বলেন, “আধুনিক যুগে আমরা দেখিনি এমন বিশৃঙ্খলা, নিষ্ঠুরতা, দুর্নীতি এবং অযোগ্যতার দীর্ঘ দুই বছর পার করার পর, আপনার কাছে 'যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়' বলার সুযোগ এসেছে।”


ওবামা বলেছেন, তিনি সেইসব ভোটারদের প্রতি সহানুভূতিশীল যারা কোভিড মহামারীর পর অর্থনৈতিক এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে ২০২৪ সালে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে তিনি বলেন, অর্থনীতির বর্তমান অবস্থার জন্য ট্রাম্পের কেবল নিজেকেই দোষ দেওয়া উচিত।


“আপনি যদি ভেবে থাকেন যে 'আপনি কার কথা বলছেন' (নাম উল্লেখ না করে ট্রাম্পকে নির্দেশ করে) তার আসার আগে সবকিছু খুব ব্যয়বহুল ছিল, তবে এখন সবকিছু আরও বেশি ব্যয়বহুল।”


ওবামা মিশিগানের প্রচারসমাবেশে জনতার মনের মতো কথা বলে তাদের খুশি করেন। তিনি ডেমোক্র্যাটদের সেইসব সমালোচনার পুনরাবৃত্তি করেন, যা ট্রাম্প এবং তার সব কথায় রিপাবলিকানদের অন্ধ সমর্থন দেওয়াকে নিয়ে করা হয়।


ওবামা বলেন, “জনগণের করের অর্থ ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ফায়দা লোটার ক্ষেত্রে বর্তমান প্রেসিডেন্টের মতো এমন চতুর ও পারদর্শী কাউকে আগে কখনও দেখা যায়নি। এই প্রেসিডেন্টের মতো ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যকে বেশি বেশি সুবিধা দিতে কাউকে কখনও দেখিনি। এখন মনে হচ্ছে, দলটি হয় দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার, না হয় অযোগ্য সরকার, অথবা কোনও সরকার না থাকার পক্ষে অবস্থান করছে।”


এই সমালোচনার বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়ার অনুরোধে হোয়াইট হাউজ তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।


তবে রোববার সকালে ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে চরম অযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন এবং আল-সায়েদকে মুসলিম ব্রাদারহুডের একজন জিহাদি আখ্যা দিয়েছেন; যিনি ইহুদি, কৃষ্ণাঙ্গ, আমেরিকান এবং ট্রাম্পকে ঘৃণা করেন।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৬ পিএম

বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে নিম্নচাপ। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় ভারতের পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূলীয় রাজ্যগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালের মধ্যে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আগামী ২৮ অক্টোবর সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে।সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি শুরু করেছে ওড়িশা সরকার। রাজ্যের পাঁচটি জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুই দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় আগামী ২৮ ও ২৯ অক্টোবর স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। অন্যান্য জেলায় আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকেরা।


ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি প্রশাসনকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। উদ্ধারকাজের জন্য প্রায় ৬০টি ওড়িশা দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দল, ১৭টি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দল এবং দমকলের ২২৫টি দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।আবহাওয়া দপ্তর ২৮ অক্টোবর গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, কোরাপুট ও মালকানগিরি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করেছে। এসব এলাকার কোথাও কোথাও ২০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টি হতে পারে। বজ্রপাতের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।


অন্যদিকে, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির কয়েকটি এলাকায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। পুদুচেরির কোস্ট রোড, কৃষ্ণনগর ও লাসপেট এলাকায় পানি জমে দুর্ভোগ বেড়েছে। চেন্নাই, নাগাপট্টিনম, কুড্ডালোর, কারাইকাল, পাম্বান ও তুতিকোরিনসহ একাধিক বন্দরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে ঝড়টির নাম হবে ‘অর্ণব’। নামটি প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। তবে ঝড়টির গতিপথ, শক্তি ও স্থলভাগে আঘাত হানার স্থান সম্পর্কে পরবর্তী পূর্বাভাসের ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৪ পিএম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যটিতে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতার এই ঘটনা ঘটে। 


বিক্ষোভের সময় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কার্যালয়, একটি পুলিশ স্টেশন ও পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। এ ছাড়া স্থানীয় দুই বিধায়ক ও রাজ্য বিজেপি সভাপতির বাসভবনেও ভাঙচুর চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার এবং তিনটি শহরে মিছিল-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট টুডে বলছে, অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের (এসইউএমপি) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে এবং এরপরই পূর্ব সিয়াং জেলার তিন শহরে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। 


গত শুক্রবার জারি করা আদেশে শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টা থেকে জেলার পাসিঘাট, মেবো ও রুকসিনে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা কার্যকর করা হয়।


চলমান আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় পূর্ব সিয়াং জেলা প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর আগে পূর্ব সিয়াংয়ের পুলিশ সুপার পাসিঘাটে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের সম্ভাব্য পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে।


জেলা প্রশাসকের আদেশে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতি থেকে আরও ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে’। শান্তি ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।


নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, সব ধরনের জনসভা, মিছিল, সমাবেশ এবং পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। এ ছাড়া আগ্নেয়াস্ত্র, দা, ধনুক-তীর, ছোরা, ছুরি, কুঠার ও লাঠিসহ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে- এমন কোনো বস্তু বহন করা যাবে না। তবে দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তাকর্মীরা এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন।


এছাড়া ভাঙচুর, সম্পত্তি ধ্বংস, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সহিংসতায় উসকানি দেয়ার মতো কাজ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো মিছিল বা বিক্ষোভও করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


নির্দেশনায় নির্ধারিত এলাকার সব বাসিন্দাকে পুলিশ ও প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।


অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম অরুণাচল২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রস্তাবিত সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রকল্পের বিরুদ্ধে গত শুক্রবার রাতে পাসিঘাটে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। এ সময় জাতীয় জলবিদ্যুৎ নিগমের (এনএইচপিসি) একটি কার্যালয়, একটি পুলিশ স্টেশন এবং পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়। এ ছাড়া দুই স্থানীয় বিধায়ক ও রাজ্য বিজেপি সভাপতির বাসভবনে ভাঙচুর চালানো হয়।


অবশ্য প্রকল্পটি এখনো প্রাথমিক তদন্ত ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একাংশের উদ্বেগ, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মানুষকে বাস্তুচ্যুত করা হতে পারে, পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে এবং পূর্বপুরুষের জমি ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।


অন্যদিকে রাজ্য সরকার পানি ব্যবস্থাপনা এবং তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর উজানে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটির বৃহত্তর গুরুত্ব তুলে ধরেছে। অরুণাচল প্রদেশে এই নদী সিয়াং নামে পরিচিত।


পূর্ব সিয়াংয়ের ডেপুটি কমিশনার জয়ন্তী পার্টিনের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিনের বেলায় পাসিঘাটে বন্‌ধ মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে বিকেল ৫টায় আনুষ্ঠানিক বন্‌ধ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক শ বিক্ষোভকারী আন্দোলন চালিয়ে যান, মহাসড়ক অবরোধ করেন এবং স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপত্তাকর্মীদের অনুরোধ সত্ত্বেও সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান।


প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আলোচনা করেও পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়নি। এরপর জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ ও অন্য কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকেন। এতে কয়েকজন আহত হন।


রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়। শুরু হয় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর। আর শনিবার ভোর পর্যন্ত এই সহিংসতা চলে।


পাসিঘাটের ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ টনি তাতাক নিজেও সহিংসতায় আহত হন। তিনি জানান, হাই রিজিয়ন এলাকায় এনএইচপিসির কার্যালয় এবং একই এলাকার একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের সাত থেকে আটটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।


সহিংসতার সময় পাসিঘাট ওয়েস্টের বিধায়ক নিনং এরিং, মারিয়াং-গেকুর বিধায়ক ওনি পানিয়াং এবং অরুণাচল প্রদেশ বিজেপির সভাপতি কালিং ময়ংয়ের বাসভবনেও ভাঙচুর চালানো হয়। আদি জনগোষ্ঠীর সর্বোচ্চ সংগঠন আদি বানে কেবাংয়ের কার্যালয়ও তছনছ করা হয়েছে।


এমন অবস্থায় শনিবার সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের দাবি তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। 


তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সহিংস বিক্ষোভের আমি তীব্র নিন্দা জানাই। এসইউএমপি প্রকল্প নিয়ে যাদের উদ্বেগ রয়েছে, তাদের এমন পথ বেছে না নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানাচ্ছি।’