হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেহরানের হাসান আবাদ স্কয়ার

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার দ্বিতীয় দিন ছিল রোববার। হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই, দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২০০র বেশি নিহত ও অন্তত ৭০০ জন আহত হয়েছে।



এই হামলার জবাবে, ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের ইস্পাহানে সামরিক স্থাপনায় হামলার সর্তকতা জারি করেছে। সেখান থেকে সব বেসামরিক ব্যক্তিদের সরে যেতে বলা হয়েছে। জবাবে, দক্ষিণে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝখানে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বন্ধের সর্তকতা জারি করেছে ইরান। 



নওরোজের পাঠকদের জন্য যুদ্ধ পরিস্থিতির উল্লেখযাগ্য ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলো-



ইরানে এক দিনে ১২০০টির বেশি বোমা হামলা: ইসরায়েল

ইসরায়েলের বিমানবাহিনী দাবি করেছে, গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে তারা (ইসরায়েল) ইরানে ১ হাজার ২০০টির বেশি বোমা ফেলেছে। খবর আল–জাজিরার। ইরানের যেসব স্থানে গতকাল হামলা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়। এই হামলায় অন্তত ১৪৮ জন নিহত হয়েছে। আহত বহু মানুষ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, স্কুলে হামলায় ডজনখানেক নিরীহ শিশু নিহত হয়েছে। এই হামলা জবাব দেওয়া হবে।



মধ্যপ্রাচ্যের সব বিমানবন্দর বন্ধ, বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বিঘ্নিত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং তেহরানের প্রতিশোধমূলক পাল্টা হামলার পর এয়ার লাইন্সগুলো এখনও মধ্যপ্রাচ্যে ও আশেপাশের ফ্লাইট বাতিল এবং ডাইভার্ট বা অন্যমুখী করে দিচ্ছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এবং দুবাই আল মাকতুমের সকল ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়েছে। দ্য এমিরেটস এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা সোমবার স্থানীয় সময় তিনটা পর্যন্ত দুবাই থেকে সকল কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকার জন্য তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, একই কারণে সোমবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত আবুধাবি থেকে ফ্লাইট স্থগিত করেছে ইতিহাদ এয়ারলাইন্স।



তেলের দাম বেড়েছে এক লাফে ১০%

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পড়ায় তেলের দামে হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সোমবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।



ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের নিহতের খবর

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ নিহত হয়েছেন বলে খবর দিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে টার্কি টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, আহমাদিনেজাদ তার নিজের বাড়িতে হামলার শিকার হন। ইরানের জ্যেষ্ঠ নেতাদের লক্ষ্য করে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়।



যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জবাব দেওয়ার ঘোষণা লেবাননের হেজবুল্লাহর

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান সমর্থিত লেবাননের হেজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে লেবানন হেজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলেছেন, এই গোষ্ঠি "সম্মান ও প্রতিরোধের ক্ষেত্র ত্যাগ করবে না।" ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে "অপরাধের সর্বোচ্চ" হিসেবে অভিহিত করেছেন মি. কাসেম। তিনি বলেন, "বিধাতার নির্দেশনা ও সমর্থনের ওপর আস্থা রেখে আমরা এই আগ্রাসন মোকাবেলায় আমাদের কর্তব্য পালন করবো।" হেজবুল্লাহ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি শিয়া মুসলিম সংগঠন, যেটি লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটিকে ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে ইসরায়েলের বিরোধিতা করার জন্য এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিয়া শক্তি ইরান প্রতিষ্ঠিত করেছিল। তখন দেশটির গৃহযুদ্ধের সময় ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন দখল করেছিল। হেজবুল্লাহ ১৯৯২ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সংগঠনটির উপস্থিতি দেখা যায়।



তেহরানের ওপর হামলার মাত্রা 'আরো বাড়বে': নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে "অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।" প্রতিরক্ষামন্ত্রী, চিফ অব স্টাফ এবং মোসাদ সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রধানের সাথে এক বৈঠকের সময় এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তেল আবিবের কিরিয়ার ছাদ থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেছেন, "আমাদের বাহিনী এখন সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে তেহরানের কেন্দ্রে হামলা করছে এবং আগামী দিনগুলোতে এই হামলার মাত্রা আরো বাড়বে।" "যদিও এই দিনগুলো দুঃখের দিন। গতকাল তেলআবিবে এবং আজকে বেইত সেমেশে আমরা আমাদের প্রিয় মানুষদের হারিয়েছি। এই পরিবারগুলোর প্রতি আমার হৃদয়ের গভীর থেকে সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশাপ্রকাশ করছি।" তিনি বলেছেন, "আমাদের অস্তিত্ব এবং আমাদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করার জন্য" ইসরায়েল এই অভিযানে "আইডিএফের পূর্ণ শক্তি" নিয়ে আসছে।




মধ্যপ্রাচ্যে ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা’, ইরানের নাম নেয়নি ঢাকা

ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাতটি দেশের নামোল্লেখ করা হলেও সে তালিকায় ইরানকে রাখা হয়নি। শনিবার ইরানজুড়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মী নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, তার কন্যা, জামাতা ও নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, সেখানে দুইশর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন নেতাও রয়েছেন।



তেহরানে হামলা বাড়ানোর ঘোষণা নেতানিয়াহুর

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামনের দিনগুলোতে তেহরানে বিমান হামলা আরো জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখনো ‘পূর্ণ শক্তি’ প্রয়োগ করেনি। আল জাজিরা লিখেছে, এক ভিডিওতে নেতানিয়াহু বলেন, “আমি অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ জারি করেছি। আমাদের বাহিনী এখন প্রচণ্ড শক্তি নিয়ে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে আঘাত করছে। সামনের দিনগুলোতে হামলা কেবল বৃদ্ধিই পাবে।”



নতুন ‘সুপ্রিম লিডারের’ নাম ঘোষণা দুয়েক দিনের মধ্যেই

সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর নতুন নেতা বেছে নিচ্ছে ইরান। আল জাজিরাকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যেই নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হতে পারে।

আলি খামেনির মৃত্যুতে ইতোমধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরই নতুন নেতা নির্বাচন নিয়ে এমন তথ্য সামনে এলো। আরাগচি বলেন, অন্তর্বর্তী কমিটি ‘নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত’ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে। “ইরানের বর্তমান আক্রমণ আত্মরক্ষা ও ইরানের ওপর মার্কিন আগ্রাসনের একটি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ”, যোগ করেন তিনি।

 

শত্রু ঘাঁটি গুড়িয়ে দিচ্ছে ইরান: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

ইরানের  প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, ইরানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল তাদের কাজ শুরু করেছে। খামেনির পরবর্তী নেতা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাতে শূন্যতা তৈরি না হয়, সেজন্য তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির অন্যতম সদস্য হলেন পেজেশকিয়ান নিজেই। তার সঙ্গে কমিটিতে রয়েছেন বিচার বিভাগের প্রধান মোহসেনি এজেহেই ও আয়াতুল্লাহ আলৈ রেজা আরাফি। বিবিসি লিখেছে, রাষ্ট্রীয় টিভিতে পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুদের ‘বিপর্যস্ত’ করবে। বর্তমানে তারা শত্রু ঘাঁটি গুড়িয়ে দিচ্ছে।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খামেনির গায়েবানা জানাজা

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে তার গায়েবানা জানাযা হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রোববার তারাবির নামাজের পর রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে জানাযা হবে বলে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম জানিয়েছেন। 



খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ বলেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, “খামেনির শাহাদাতে শোক ও দুঃখের এ মুহূর্তে পাকিস্তানের জনগণ ইরানের জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে এবং গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।” তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক আইনের নীতি লঙ্ঘনের ঘটনায় পাকিস্তান উদ্বেগ প্রকাশ করছে।”



ইরানের পাল্টা হামলায় আমিরাতে এক বাংলাদেশি নিহত

ইরানের পাল্টা হামলায় তিনজন নিহতের যে তথ্য দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সেখানে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন। রোববার মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইরানের হামলার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, ইরান থেকে আসা ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টিকে বাধাগ্রস্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। আর ৩৫টি দেশের মধ্যে পড়ে ক্ষতি করেছে। “এসব ঘটনায় পাকিস্তানি, নেপালি ও বাংলাদেশি তিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আর যে ৫৮ জন আহত হয়েছেন, তারা আমিরাত, মিশর, ইথিয়োপিয়া, ফিলিপিন্স, পাকিস্তান, ইরান, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আজারবাইজান, ইয়েমেন, উগান্ডা, ইরিত্রিয়া, লেবানন, এবং আফগানিস্তানের নাগরিক।”



‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে নিশানা করছে, প্রতিবেশীদের নয়’

ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রতিবেশীদের নিশানা করছে না বলে মন্তব্য করে নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি বলেছেন, তারা আমেরিকান ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করছেন। এক্সে তিনি বলেছেন, “যখন আপনাদের দেশে থাকা ঘাঁটিগুলো আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সেই বাহিনীকে ব্যবহার করে এ অঞ্চলে অভিযান চালায়, তখন আমরা সেই ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করব।” তিনি বলেন, “ঘাঁটিগুলো (মার্কিন) এই অঞ্চলের দেশগুলোর অংশ নয়; বরং সেগুলো আমেরিকান ভূখণ্ড।”



'আমাদের সেনারা শত্রুদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে': ইরানের প্রেসিডেন্ট

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের "শত্রুদের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে" বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় তিনি এমন দাবি করেন। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ওই ভাষণের আধা ঘন্টা আগে মি. পেজেশকিয়ান তার এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা ইরানে 'ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সংকল্পকে বাধাগ্রস্থ করতে পারবে না"।



ইরানে হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৪০ কর্মকর্তা

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ঊর্ধ্বতন প্রায় ৪০ কর্মকর্তা  প্রাণ হারিয়েছেন।



মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কনে’ ইরানের হামলা

মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে' ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও মার্কিন এক কর্মকর্তা আলজাজিরা বলেছেন, ওই হামলায় রণতরীটির কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। সেটি এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে 'ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে’ চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথা বলে ইরান।



ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। দেশটির সরকারের একজন মুখপাত্র, মুদ বোজো বলেছেন, তার দেশ “শুধুমাত্র সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারে”। ফ্রান্সের আরটিএল টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে তিনি বলেছেন, “খামেনি ছিলেন একজন নিপীড়ক ও দমনমূলক একনায়ক, যিনি তার নিজ দেশের জনগণকে দমন করেছিলেন। নারী, যুব ও সংখ্যালঘুদের অধিকার লঙ্ঘন করেছিলেন এবং সম্প্রতি দেশটিতে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর জন্য দায়ী। তাই তার মৃত্যুতে আমরা শুধু উৎফুল্ল হতে পারি”।



ইরান যুদ্ধে ৩ মার্কিন সেনা নিহত, গুরুতর আহত ৫

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে এই প্রথম মার্কিন সেনার প্রাণহানির খবর জানাল যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা জানায়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে তাদের তিন সেনা নিহত এবং ৫ জন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। নিহত সেনাদের নাম জানায়নি সেন্টকম। নিহত সেনাদের পরিবারকে তাদের মৃত্যুর খবর দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নাম প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে তারা। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমেরিকান বীরদের প্রাণহানি হতে পারে। আমাদের পক্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে। যুদ্ধে প্রায়ই এমন হয়।”



যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড তিন সেনার মৃত্যুর খবর জানালেও বলেছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে আঘাত হানেনি। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী এর আগে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল ইরানের গণমাধ্যমে।  তবে সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এমনকি রণতরীর ধারেকাছেও পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে সেন্টকম। বরং উল্টো ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে রোববার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরও কয়েকজন আঘাতে সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের পুনরায় কাজে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চলছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলমান পরিস্থিতির নিয়মিত পরিবর্তন হচ্ছে। আপাতত নিহতদের পরিচয় বা এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য তাদের স্বজনদের জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত গোপন রাখা হবে।



তেহরানে নতুন হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী

ইরানের রাজধানী তেহরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে,‘ বিমানবাহিনী এখন তেহরানের কেন্দ্রে নতুন দফায় হামলা শুরু করেছে।’



মার্কিন বিমানবাহী রণতরিতে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, দাবি ইরানের

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে হামলা চালিয়েছে। চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ওই রণতরিতে আঘাত হেনেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।’ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন জানুয়ারির শেষদিক থেকে আরব সাগরে অবস্থান করছে। ইরানে হামলা চালতে এই অঞ্চলে সামরিক শক্তি জোরদার করার পরিকল্পনা থেকে এই রণতরী মোতায়েন করে ওয়াশিংটন।



প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া, ইরানের ওপর নয়: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া, ইরানের ওপর নয়। তিনি বলেন, ইরানের আত্মরক্ষা করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। আল জাজিরাকে এসব কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশী ভাইদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করছি না। আমরা হামলা করছি ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে।’ ইরান প্রতিবেশী সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করছে বলে উল্লেখ করেন আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, তেহরানের আশা প্রতিবেশী দেশগুলো এটা বুঝতে পারবে যে, এই পরিস্থিতি ইরানের সৃষ্টি নয়। এর জন্য ইরানের দায়ও নেই। কিন্তু ইরানের আর করার কিছু নেই।



হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার পরিকল্পনা তেহরানের নেই: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই। এমনকি এই পর্যায়ে ‘নৌচলাচল ব্যাহত হয়, এমন কিছু করারও’ কোনো পরিকল্পনা নেই।

আল-জাজিরাকে তেহরানের এই অবস্থানের কথা জানান আব্বাস আরাগচি। হরমুজ প্রণালির কাছে আজ দুটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও। ওই প্রণালির দুই পাশে বহু জাহাজ নোঙর করে আছে।



ইরানের প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি, শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর হামলা চলবে 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ইরানের কঠোর হমলা চলবে। আজ রোববার টেলিভশনে দেওয়া বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট এই হুঁশিয়ারি দেন।প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চ নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যাবো।’ তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কঠোর আঘাত হানতে থাকবে, শত্রুদের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করতে থাকবে। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বিপ্লবের নেতার (আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি) শাহাদাত বরণ ছিল বছরের পর বছর ত্যাগের চূড়ান্ত পরিণতি।’



ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে ৮ জন নিহত

ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ২৭ জন আহত হয়েছে, তাদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলের জরুরী সেবা বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। এই হামলার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

ইসরায়েলের মাজেন ডেভিড আডোম অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার জেরুজালেমের ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে ইসরায়েলের বেইত শেমেশ এলাকায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকারীরা হতাহতদের সরিয়ে নিতে তৎপরতা চালাচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে চিকিৎসক দল রয়েছে, হতাহতদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য একটি হেলিকপ্টার তৎপর রয়েছে। মাজেন ডেভিড আডোম-এর মুখপাত্র জাকি হেলার এক বিবৃতিতে বলেছেন, বেইত শেমেশে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, বেইত শেমেশ শহরে আবাসিক এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।



হরমুজ প্রণালির উভয় পাশে বহু জাহাজ আটকা পড়েছে

জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য–উপাত্ত দেওয়া সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে যে, অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি বহনকারী অন্তত ১৫০টি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালির বাইরে উপসাগরীয় উন্মুক্ত জলরাশিতে নোঙর ফেলেছে। প্রণালির অপর পাশেও আরও কয়েক ডজন জাহাজ স্থির অবস্থায় রয়েছে। ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর এই অঞ্চলটি যুদ্ধের কবলে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং মেরিন ট্রাফিক প্ল্যাটফর্মের শিপ-ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, ইরাক ও সৌদি আরবের মতো প্রধান উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী এবং এলএনজি উৎপাদনকারী বড় দেশ কাতারের উপকূল সংলগ্ন এলাকায় এই ট্যাঙ্কারগুলো রয়েছে।



খামেনি হত্যাকাণ্ড নিন্দনীয়, এটা মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পুতিন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ড মানবিক নৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সব মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস এ কথা জানিয়েছে। তাস জানায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডের পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে শোক প্রকাশ করেছেন।



মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে হামলার দাবি আইআরজিসি'র

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর বা আইআরজিসি। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়েছে"। এতে আরো বলা হয়েছে, "শত্রুদের ওপর হামলার এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে" তারা। তবে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি এবং অন্যান্য সূত্রগুলোও এখনো এই তথ্য নিশ্চিত করেনি। এই রণতরী, আব্রাহাম লিংকন, বর্তমানে পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরের কাছে অবস্থানরত দুইটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর একটি।



ইরানের পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান নিহত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান গোলামরেজা রেজাইয়ান নিহত হয়েছেন। ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গতকাল শত্রুপক্ষের হামলায় জাতীয় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জেনারেল গোলামরেজা রেজাইয়ান নিহত হয়েছেন।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুল রহিম মুসাভি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার তাঁরা নিহত হন। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা আজ রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর আল–জাজিরার। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তাঁর নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হওয়ার খবরও নিশ্চিত করেছে ইরান।  ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আরও কয়েকজন কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তাঁদের নাম পরে প্রকাশ করা হবে।



যুক্তরাষ্ট্রে হামলা হলে এমন আঘাত করব, যা আগে দেখা যায়নি : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালানো নিয়ে ইরানকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলে হামলা চালানো হলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন শক্তি ব্যবহার করবেন। খবর বিবিসির। ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘ইরান মাত্রই বলেছে যে তারা আজ অত্যন্ত কঠোরভাবে আক্রমণ চালাবে, তারা এত জোরালো হামলা চালাবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে তাদের এমনটা না করাই ভালো। কারণ, যদি তারা এটা করে, তাহলে আমরা এমন শক্তি ব্যবহার করে তাদের আঘাত করব, যা আগে কখনো দেখা যায়নি!’ ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারির পর ট্রাম্প এমন হুমকি দিয়েছেন।



এক থেকে দুই দিনের মধ্যে নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হতে পারেন, জানালেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হতে যাচ্ছেন, সেটির দিকেই নজর সবার। সর্বোচ্চ নেতা খুঁজতে ইতোমধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছে দেশটির লিডারশিপ কাউন্সিল।এমন পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানালেন, সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হতে পারেন। রোববার আল-জাজিরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা জানান।



ইরানে মেয়েদের স্কুলে হামলায় নিহত বেড়ে ১৪৮ 

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪৮ এ দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৯৫ জন আহত হয়েছেন। খবর আল–জাজিরার। গতকাল শনিবার এ হামলা চালানো হয়। এরপর থেকেই নিহতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। হামলার সময় ওই বিদ্যালয়ে ১৭০ জন শিক্ষার্থী ছিল।



সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ: তাসনিম নিউজ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। গতকাল শনিবার রাতে ইরানের আধাসরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে এই তথ্য জানানো হয়। খবরে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা জাহাজগুলো বারবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) একটি বার্তা পাচ্ছে। বার্তায় বলা হচ্ছে, কৌশলগত এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে তেহরান। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এমন প্রেক্ষাপটে সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হলো। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ এই হরমুজ প্রণালি। এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের পদক্ষেপ তেলের দামের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকেরা।



ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব দেবে তিন সদস্যের পর্ষদ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সময়ে দেশটিকে নেতৃত্ব দেবে তিন সদস্যের একটি পর্ষদ। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদন থেকে এমনটা জানা গেছে। খবর আল–জাজিরার। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি তিন সদস্যের পর্ষদ অস্থায়ীভাবে দেশের সবকিছুর নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে। এ তিন সদস্যের পর্ষদে থাকছেন, দেশের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরি।



কার্যালয়ে বসে কাজ করার সময় নিহত হন খামেনি: ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বলেছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল শনিবার ভোরে তাঁর কার্যালয়ে কাজ করার সময় নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ঘোষিত কাউন্সিলের এক বিবৃতি থেকে এমনটা জানা গেছে। খামেনির মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। এর আগে উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে বিবিসি ভেরিফাই নিশ্চিত করেছে যে, তেহরানে লিডারশিপ হাউস কমপাউন্ডের কিছু অংশে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এ লিডারশিপ হাউস কমপাউন্ডই খামেনির কার্যালয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, নিজ কার্যালয়ে খামেনির মৃত্যুতে এটাই প্রমাণ হয় যে তাঁর লুকিয়ে থাকার খবরগুলো ছিল ‘শত্রুপক্ষের মানসিক যুদ্ধের’ অংশ।



খামেনির পথ অব্যাহত থাকবে:ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রী

ইরানের পারমানবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলায় নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানিয়েছে দেশটি। সাম্প্রতিক হামলাগুলো এমন সময়ে হয়েছে যখন ওমান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতা করছিল। ২৬শে ফেব্রুয়ারি জেনেভায় সবশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই বিবৃতিতে বলেন, খামেনির পথ “চলবে।”



খামেনি নিহত, এখন ইরানের নেতৃত্ব কে দেবেন

দেশের বাইরের বিষয়েও নিয়মিতভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। নিজ দেশের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র ইসরায়েলসহ অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে তিনি কখনো মাথানত করেননি। আলী খামেনির সময় ইরানের সাতজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর ছয় সন্তান রয়েছে।



হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত

ইরানে হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আল–জাজিরা ও রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে যে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজেও নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ দাবির সত্যতা স্বীকার কিংবা অস্বীকার কোনোটাই করা হয়নি। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও মেহের জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা ‘অবিচল রয়েছেন ও রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন’।



সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে গত জুলাইয়ের পর এই প্রথম অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আজ বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যায়। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় তেলের দাম এই মাইলফলক পেরিয়ে গেল। পরে অবশ্য তেলের দাম কিছুটা কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। খবর দ্য গার্ডিয়ান


ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক নৌযানে হামলার চেষ্টা করার পর দেশটির একাধিক তেলবাহী জাহাজ ‘ধ্বংস’ করার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর আগে ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের চারটি শহরে হামলা চালায়। এতে ৭০ জনের বেশি আহত হন। সেই সঙ্গে কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।


আগস্টের শুরু থেকে তেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে থামবে—এমন সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ছয় মাস ধরে তেলের দাম ওঠানামা করেছে। ওই প্রণালিতে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ–সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল।


ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন প্রথম দফায় হামলা শুরু করল, তখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে দাম বেড়ে ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।


সংঘাতের মধ্যে এপ্রিলে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল। পরবর্তীকালে ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলে দাম কমে আসে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর আবার সংঘাত শুরু হয়। এতে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করে।


সংঘাতের প্রভাব পড়েছে গ্যাসের বাজারেও। চলতি মাসে যুক্তরাজ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।


জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছর সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদেরা আশা করছেন, বছরের শেষ নাগাদ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ অন্তত একবার সুদের হার বাড়াতে পারে।


বিষয়টি হলো, ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধির সঙ্গে তেলের বাজারের পরোক্ষ সম্পর্ক আছে। সুদহার বাড়লে ঋণের খরচ বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগ ও ভোগ কমে যায়; প্রভাব পড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় দামে প্রভাব পড়ে।


আবার সুদহার বাড়লে ডলার শক্তিশালী হতে পারে। ফলে আমদানিকারকেরা তেল কিনতে গিয়ে চাপে পড়েন। তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে ফেড আবার সুদহার বাড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে চাহিদা কমে যেতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

এলিজা আজাদ রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১২ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হলেন আরেক বাংলাদেশি এলিজা আজাদ রহমান। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম কোনো বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হলেন।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলকক্ষে আয়োজিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।


এলিজা আজাদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও কাজের পরিধি আরও বাড়ল।


অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এলিজা আজাদের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলামের মেয়ে।


দুই দশকের বেশি সময় আগে এলিজা আজাদ শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।


এলিজা আজাদ বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না। তিনি চান, নারীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও এগিয়ে আসুক।


এই যাত্রায় স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানালেন এলিজা আজাদ। তিনি বলেন, তা ছাড়া বাংলাদেশি ও স্থানীয় বহু সাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থন তিনি পেয়েছেন। তারা তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।


এলিজা আজাদ ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটি। সিডনির ডেনহ্যাম কোর্টের বাসিন্দা বোরহান খান লিমন বলেন, এলিজা আজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকারে তার এই অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে, সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন।


এর আগে, বাংলাদেশি সুমন সাহা সিডনির কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল ও মাসুদ খলিল ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। আরেক বাংলাদেশি মাসুদ চৌধুরী বর্তমানে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৬ পিএম

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্যজুড়ে আকাশপথে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের হিথ্রোসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে ১ হাজারের বেশি ফ্লাইট। একই সঙ্গে বিলম্বিত হয়েছে আরও শত শত ফ্লাইট। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।


সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ব্রিটেনের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (ন্যাটস) জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। সমস্যা সমাধানে প্রকৌশলীরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের হিথ্রোসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়া করা অন্তত এক হাজার ফ্লাইট ইতোমধ্যেই বাতিল হয়েছে।


ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইজিজেট, কেএলএম ও লুফথানসাসহ বেশ কয়েকটি বড় বিমান সংস্থার ফ্লাইটও এ সমস্যায় পড়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে একাধিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়। এতে যুক্তরাজ্যজুড়ে যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন।


যদিও ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং ব্রিটেনের আকাশসীমাও খোলা রয়েছে, তবু বহু ফ্লাইট বিলম্বেরও মুখে পড়েছে। পরে ন্যাটস জানায়, তারা সমস্যার সমাধান করেছে এবং তাদের সিস্টেম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।


মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে ন্যাটস জানায়, ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমের সমস্যা ঠিক করা হয়েছে। তবে তারপরও ১৫টি ব্রিটিশ বিমানবন্দরসহ আরও বিভিন্ন জায়গায় ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ব অব্যাহত ছিল। বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের বড় জট কাটাতে বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলো কাজ করছে।


এর আগে শুরুতে ন্যাটস জানিয়েছিল, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমেই সমস্যার সূত্র পাওয়া গেছে। স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।


রয়টার্সের উদ্ধৃত ন্যাটসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সমস্যাটি আমাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমেই ছিল। আমাদের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে আছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন’। এতে আরও বলা হয়, ‘ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত আছে এবং আকাশসীমা খোলা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।’


ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর হিথ্রো জানিয়েছে, তারা সমস্যা সমাধানে ন্যাটসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইটের অবতরণ ও উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। এর ফলে দ্রুতই বড় ধরনের বিলম্ব ও ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে।


ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, হিথ্রোতে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং ৩৬৭টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। গ্যাটউইক বিমানবন্দরে প্রায় ২৫০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়, যা বিমানবন্দরটির মোট ফ্লাইটের প্রায় ৩১ শতাংশ। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সমস্যায় পড়া বিমানবন্দরগুলোতে প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যেই ন্যাটসের সিস্টেম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।


একপর্যায়ে লন্ডনের বাইরের বিমানবন্দরগুলোও এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়। এডিনবার্গ বিমানবন্দর যাত্রীদের সতর্ক করে জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তাদের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডাবলিন বিমানবন্দর জানায়, ব্রিটেন থেকে আসা ও ব্রিটেনে যাওয়ার ফ্লাইটও বিঘ্নিত হচ্ছে। লুটন, বার্মিংহাম, অ্যাবারডিন ও গ্লাসগো বিমানবন্দরেও বিলম্ব বা ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যায়।


বিমান সংস্থাগুলোকেও তাদের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হয়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানায়, ন্যাটসের সমস্যার কারণে তাদের ফ্লাইট চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। রয়টার্সের উদ্ধৃত এক বিবৃতিতে বিমান সংস্থাটি বলেছে, ‘এটি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমাদের কর্মীরা যত দ্রুত সম্ভব যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠানোর চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’


এয়ার ইন্ডিয়াও জানায়, ন্যাটসের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্যগামী ও যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে যাওয়া তাদের ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে বিমান সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী একাধিক ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন, বিলম্ব বা বাতিল করতে হয়েছে। বিমান ও ক্রুদের অবস্থান নির্ধারিত জায়গায় না থাকায় তাদের অন্য কিছু ফ্লাইটেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানায় এয়ার ইন্ডিয়া।


ইজিজেট জানিয়েছে, এ সমস্যার কারণে ইউরোপজুড়ে ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ব হচ্ছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ৯৬টি, ইজিজেটের ৯২টি, কেএলএমের ২০টি, লুফথানসার ১২টি এবং সুইসের ১১টি ফ্লাইট ছিল।


ব্রিটেনের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় এর আগেও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ২০২৪ সালে দেশটির বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছিল, আগের বছর ফ্লাইট পরিকল্পনা প্রক্রিয়াকরণে ত্রুটির পর ন্যাটসকে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। ওই ঘটনায় ব্রিটেনজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।


বিমান সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আগের ওই সমস্যায় অর্থ ফেরত ও ক্ষতিপূরণ দিতে তাদের ১০ কোটি পাউন্ডের বেশি খরচ হয়েছিল। গত বছরের জুলাইয়েও রাডার-সংক্রান্ত একটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হিথ্রোসহ লন্ডনের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে চার ঘণ্টার বেশি সময় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।


বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর এর জবাবে এসব জাহাজে হামলা চালায় আইআরজিসির নৌবাহিনী।


এসময় আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক (ডিডিজি-১১৯) এবং ইউএসএস জন পল জোন্স (ডিডিজি-৫৩)-কে লক্ষ্যবস্তু করে।


আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মার্কিন সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীর আগ্রাসন ও শত্রুতার জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।


এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির একটি নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা আরও ১০টি নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে আইআরজিসি। এসব জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি ও সহযোগিতায় ওই এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছে তারা।


আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ নজরদারি এবং ব্যবস্থাপনার অধীনে রয়েছে।


এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। বুধবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে উঠেছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত এক সপ্তাহে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে সর্বশেষ ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।


সূত্র : আলজাজিরা


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৬ এএম

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক মানুষবিহীন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের যে আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি বিকল হয়েছিল, সেটি পুরোনো মডেলের এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন সরঞ্জাম ছিল না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আইআরজিসির বরাতে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোরে গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানুষবিহীন ও ‘স্মার্ট’ সাবমেরিন আটক করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, আটক করা ডুবোজাহাজটি পানির নিচে ব্যবহারের জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এটি ২০২৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে ইরান। শিগগির আটক করা সাবমেরিনটির ছবি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষবিহীন এই ডুবোজাহাজের সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে পানির নিচে অনুসন্ধান ও নজরদারি, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্তকরণ এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন পরিদর্শন।

তবে ইরানের দাবির পরপরই আল-জাজিরার কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এক দিনেরও বেশি সময় আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে।

মার্কিন ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ড্রোনটি চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য আঞ্চলিক জলসীমায় জরিপ চালাচ্ছিল। এটি ছিল পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা ছিল না এবং কোনো গোপন সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রেখেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ এএম

গত আগস্টের শেষের দিকে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট একটি নতুন আইন পাস করেছে। তড়িঘড়ি করে পাসকৃত এই আইনের মাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পদের ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর কমান্ড কাঠামো পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এই আইনের মাধ্যমে তা আরও এক ধাপ এগোল।


গত ২০ আগস্ট দেশটির জাতীয় পরিষদ ‘ডিফেন্স ফোর্সেস অব পাকিস্তান অ্যাক্ট, ২০২৪’ এবং ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১০’-এর একটি সংশোধনী অনুমোদন করে। এই দুটি আইন যৌথভাবে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) পদের আইনি কাঠামো নিশ্চিত করেছে। গত বছরের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই পদ তৈরি করা হয়।


বিল দুটি জাতীয় পরিষদের মূল কার্যসূচিতে ছিল না। তবু সেদিন সকালে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়ার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা পাস হয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বরে ২৭তম সংবিধান সংশোধনীও একইভাবে সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় পাস করা হয়েছিল।


২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের চার দিনের সংঘাতের ঠিক এক বছর পর এই আইনি পরিবর্তনগুলো আনা হলো। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৬ সালে তিন বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) মধ্যে সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে ‘চেয়ারম্যান অব দ্য জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ (সিজেসিএসসি) পদ তৈরির পর এটিই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর উচ্চতর কমান্ড কাঠামোর সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন।


পুরোনো সিজেসিএসসি পদটি এখন বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে ‘ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স’ (ডিএফএইচকিউ), যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিডিএফ। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, একই সঙ্গে সেনাপ্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।


এই পরিবর্তনের পেছনে মূল যুক্তি কী এবং নতুন সদর দপ্তরে নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এ বিষয়ে সামরিক বাহিনীর তথ্য শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) কাছে লিখিত প্রশ্ন পাঠালেও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা কোনও জবাব পায়নি।


পাকিস্তানের সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই কাঠামোতে দেশটির সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধান ও সিডিএফ আসিম মুনিরের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানের গুরুত্ব অনেকাংশে কমে গেছে। এ ছাড়া সামরিক বাহিনী সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সিভিল প্রশাসনের ভূমিকাও বহুলাংশে খর্ব হবে।


বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাওয়ালপিন্ডিভিত্তিক একজন অবসরপ্রাপ্ত থ্রি-স্টার জেনারেল এই ব্যবস্থাকে একটি বিধিবদ্ধ ‘চেইন অব কমান্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এখন থেকে চেইন অব কমান্ড হবে—প্রধানমন্ত্রী, তারপর সিডিএফ ও তার নতুন সদরদপ্তর, এরপর সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রধানগণ এবং সবশেষে মাঠপর্যায়ের ফরমেশনগুলো।


তবে অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতে, আদেশ প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকলে কেবল প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিশেষ অর্থ থাকে না। অবসরপ্রাপ্ত থ্রি-স্টার জেনারেল ও সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব নাঈম খালিদ লোধি বলেন, ‘কমান্ডার যদি পুরস্কার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারেন, তবে সেই কমান্ড কার্যকর হয় না। ডিফেন্স ফোর্সেসের কমান্ডার এখন একজন প্রকৃত কমান্ডার এবং এই আইনের মাধ্যমে তা যথাযথভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ পেয়েছে।’


লোধি আল জাজিরাকে জানান, আগের ব্যবস্থায় ‘নৌ বা বিমানবাহিনীর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আইনি সুযোগ প্রধান কর্মকর্তার ছিল না। তিনি কেবল সেনাবাহিনীর ভেতরে ব্যবস্থা নিতে পারতেন, কিন্তু এখন এটি সর্বাত্মক রূপ নিয়েছে।’


সিডিএফ ও তার দপ্তরকে দেয়া নতুন এই ক্ষমতা তিন বাহিনীর মধ্যকার ভারসাম্য নষ্ট করছে কি না—তা নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।


নতুন আইনের অধীনে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের’ (এনএসসি) প্রধান পদের কর্মকর্তাকে অবশ্যই সেনাবাহিনী থেকে আসতে হবে। সিডিএফ-এর সুপারিশেই নিযুক্ত হবেন তিনি।


২০২৬ সালের জুলাইয়ে জেনারেল সৈয়দ আমের রেজাকে প্রথম সিএনএসসি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। পূর্বে চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্বরত এই কর্মকর্তাকে লেফট্যানেন্ট জেনারেল থেকে পদোন্নতি দিয়ে এ পদে বসানো হয়। নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা আর এই পদে বসতে পারবেন না।


সামরিক বাহিনীর সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই পরিবর্তন নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে। ইসলামাবাদভিত্তিক এই কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ‘যেহেতু তিন বাহিনীর সব জ্যেষ্ঠ পদের পদোন্নতি ও নিয়োগ এখন সিডিএফ অনুমোদন করবেন, তাই এটি কালক্রমে অন্য দুটি বাহিনীর স্বতন্ত্র সত্তাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।’ অন্য বাহিনীর কারও মাধ্যমে নিজস্ব পদোন্নতি নির্ধারিত হলে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


অবসরপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল আহমেদ সাঈদের মতে, এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি নৌবাহিনীর জন্য।


এই আইনি পরিবর্তনের ফলে সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পাচ্ছে কি না—তা নিয়েই সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমান আইনজীবী কর্নেল ইনাম রহিম বলেন, নতুন আইনটি নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তা সামরিক বাহিনীর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


তিনি জানান, আগে কোনও কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা অবসর দিতে হলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার কাছে সামারি পাঠাতে হতো। এখন সেই ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে সিডিএফ-এর একক এখতিয়ারে।


রহিম আল জাজিরাকে বলেন, ‘তাকে আর কোথাও কোনো ফাইল পাঠাতে হবে না। তিনি কেবল একটি চিঠি ইস্যু করবেন, আর সেই কর্মকর্তা বরখাস্ত বা অবসরে চলে যাবেন।’


ইসলামাবাদভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক যুক্তি দেন, নতুন এই আইনটি সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে’—যা গত বছরের সংবিধান সংশোধনীতেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।


তিনি বলেন, ‘সিডিএফ-কে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ প্রদান করে রাজনৈতিক সরকার মূলত ২৪৩ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে।’


আসিম মুনির সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি নিজের ক্ষমতাকে সুসংহত করার চেষ্টায় লেগেছিলেন। এই আইনের মাধ্যমে তার সেই মিশন পূর্ণতা পেল বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানে এখন প্রধানমন্ত্রীর পরেই সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয় তাকে।


এমনকি ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যখন দৌড়ঝাঁপ করছিলেন–তখন তার পাশে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার নন, বরং বেশিরভাগ সময়ই সেখানে দেখা গেছে আসিম মুনিরকে। কূটনৈতিক সার্কেলে তার এমন উপস্থিতি প্রমাণ করে, সিডিএফ-এর হাত আসলে কতদূর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।


আর তিন বাহিনীর ওপর এক অর্থে তার সর্বময় ক্ষমতা পেয়ে যাওয়ার পর নৌ ও বিমানবাহিনীতে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে বলেও ধারণা বিশ্লেষকদের। সামরিক ক্ষমতাকে এভাবে কেন্দ্রীভূত করা হলে ভবিষ্যতে তা তিন বাহিনীর স্বতন্ত্র সক্ষমতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অতি সিডিএফ নির্ভরতা বাহিনীগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্বশূন্য করতে পারে, যা হবে ধ্বংসেরই নামান্তর।

সর্বশেষ সব খবর