ধ্রুব রাঠি
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ করেন ধ্রুব রাঠি। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতার সম্পূর্ণ অভাব রয়েছে। কমিশনের কোনো জবাবদিহিও নেই। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমি এখানে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে আসিনি।"
ধ্রুব রাঠির সশরীরে এ আন্দোলনে অংশগ্রহণ ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা বিষয়ে তথ্যনির্ভর ভিডিও তৈরি করে পরিচিতি পাওয়া এই ইউটিউবারের অনুসারী রয়েছেন লাখো মানুষ।
প্রশ্ন হলো, কে এই ধ্রুব রাঠি? কীভাবে একজন প্রকৌশলের শিক্ষার্থী থেকে ভারতের অন্যতম পরিচিত ইউটিউবার হয়ে উঠলেন তিনি?
ধ্রুব রাঠির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তার জন্ম ১৯৯৪ সালের ৮ অক্টোবর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোহতকে। তিনি একটি হিন্দু জাট পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার বাবা মহাবীর রাঠি এবং মা উর্মিলা রাঠি।
ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, পারিবারিক পরিবেশ থেকে ধ্রুব রাঠি কঠোর পরিশ্রম, শ্রদ্ধাবোধ ও জানার আগ্রহের মতো মূল্যবোধ অর্জন করেন। সুশিক্ষিত পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে বিজ্ঞান, ইতিহাস ও সমসাময়িক ঘটনাবলির প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। হরিয়ানায় কাটানো শৈশব তাঁর ব্যক্তিত্ব ও পরবর্তী শিক্ষাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১৭ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমান ধ্রুব রাঠি। সেখানে কার্লসরুহে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (কেআইটি) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে একই প্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা তার জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখে।
নিজের ওয়েবসাইটে ধ্রুব রাঠি লিখেছেন, "বর্তমানে আমি জার্মানিতে বসবাস করলেও ভারত সব সময়ই আমার হৃদয়ের খুব কাছের একটি দেশ হয়ে থাকবে। আমি নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করি। আমার কনটেন্টের মাধ্যমে দেশটির অগ্রগতি ও উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকার চেষ্টা করি।"
২০১৩ সালে জার্মানিতে কলেজজীবনে থাকাকালে ইউটিউবে যাত্রা শুরু করেন ধ্রুব রাঠি। শুরুতে প্রযুক্তি ও পরিবেশবিষয়ক নানা বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করতেন তিনি। তাঁর প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রতি আগ্রহ এসব কনটেন্ট তৈরিতে প্রভাব ফেলে।
তার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ইউটিউব চ্যানেল চালু করার পেছনে শুরুতে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা ছিল না। জ্ঞান ভাগাভাগি করার আগ্রহ থেকেই এর সূচনা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
২০১৪ সালে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের কার্যক্রম ও পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে তৈরি একটি ভিডিও প্রথমবারের মতো ভাইরাল হয়।
ধ্রুব রাঠির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ভিডিও তার ক্যারিয়ারে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষণমূলক কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে তার ভিডিওতে রাজনীতি ও সামাজিক সমস্যা ছাড়াও ইতিহাস, বিজ্ঞান এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় উঠে আসতে থাকে। জটিল বিষয় সহজভাবে ব্যাখ্যা এবং তথ্যনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পৌঁছানো তার কনটেন্টের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে।
২০১৩ সালে ইউটিউব চ্যানেল চালুর পর ধীরে ধীরে নিজের দর্শকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন ধ্রুব রাঠি। ২০১৪ সালে বিজেপি সরকারের কার্যক্রম নিয়ে তৈরি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষণমূলক কনটেন্টে তার পরিচিতি বাড়ে।
২০১৮ সালে ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে ‘ধ্রুব রাঠি ব্লগস’ নামে দ্বিতীয় ইউটিউব চ্যানেল চালু করেন তিনি। ২০২২ সালে তার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সাবস্ক্রাইবার ও অনুসারীর সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবারদের একজন হিসেবে তার পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়।
২০২৩ সালে নাস একাডেমির সঙ্গে যৌথভাবে ‘ধ্রুব রাঠি একাডেমি’ চালু করেন তিনি। সেখানে সময় ব্যবস্থাপনাবিষয়ক কোর্স নিয়ে আসেন।
ধ্রুব রাঠির অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ইউটিউব চ্যানেল ‘@DhruvRathee’-তে সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ৩ কোটি ৩০ লাখ। ভ্রমণবিষয়ক চ্যানেল ‘@DhruvRatheeVlogs’-এ সাবস্ক্রাইবার ৩৫ লাখ ৩০ হাজার।
ইনস্টাগ্রামে ‘@dhruvrathee’ অ্যাকাউন্টে তার অনুসারী ১ কোটি ৯১ লাখ। ফেসবুকে ‘@DhruvRathee’ পেজে অনুসারী ৭৬ লাখ এবং এক্সে ‘@dhruv_rathee’ অ্যাকাউন্টে অনুসারী ৩৩ লাখ।
এসব প্ল্যাটফর্মে তার জনপ্রিয়তা রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে তৈরি কনটেন্টের প্রভাব ও বিস্তারের পরিচয় দেয়।
ধ্রুব রাঠি দীর্ঘদিন ধরে ভারতের রাজনীতি, সরকার, সামাজিক পরিস্থিতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করছেন। তবে বেঙ্গালুরুতে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে সরাসরি অংশ নেওয়া তার উপস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নে তার বক্তব্য কর্মসূচির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি বলে তার মন্তব্যও গুরুত্ব পেয়েছে।
জার্মানিতে বসবাস করেও ভারতের রাজনীতি ও সামাজিক বিষয়ে নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করা ধ্রুব রাঠি এখন দেশটির পরিচিত ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের একজন। অনলাইনে বিশ্লেষণধর্মী ভিডিওর মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই ইউটিউবারের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরাসরি অংশগ্রহণ তার ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাওয়ালপিন্ডি জেলায় ৩০ দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার নাদিম নাসির সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে এ ঘোষণা দেন। আগামী ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো স্থানে পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ। পাশাপাশি প্রকাশ্যে অস্ত্র, হাতে তৈরি বিস্ফোরক, পেরেকযুক্ত বস্তু, ভারী লাঠি, গুলতি, বল–বিয়ারিং, পেট্রলবোমা কিংবা শারীরিক ক্ষতি করতে পারে—এমন কোনো সরঞ্জাম বহন বা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। এ ছাড়া ড্রোন ব্যবহার এবং সমাবেশ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী লংমার্চের মধ্যেই রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হলো; যদিও দলটির লংমার্চ এখনো খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বাইরে আসতে পারেনি। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী গতকালও বলেছেন, তাঁর নেতৃত্বে লংমার্চ ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হবে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল জেলা গোয়েন্দা কমিটির (ডিআইসি) এক বৈঠকে ডেপুটি কমিশনারকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর ‘আসন্ন হুমকি’ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়। এসব হুমকি মানুষের জীবন, সরকারি-বেসরকারি সম্পদ এবং জেলার সার্বিক শান্তি–শৃঙ্খলার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিপুল জনসমাগম, বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খল জমায়েতের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হতে পারে। এ লক্ষ্যে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী লোকজনকে সংগঠিত করছেন। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা কমিটি।
পাকিস্তানের আরও কয়েকটি এলাকায় ইতিমধ্যে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে দুই মাসের জন্য এ ধারা কার্যকর করা হয়।
একইভাবে লাহোরেও ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪৪ ধারা কার্যকর রয়েছে। সেখানে জনশান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকির কথা উল্লেখ করে এ ধারা কার্যকর করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
হুথি হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র রোববার (১১ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে।
হুথি হামলার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সকাল পর্যন্ত মোট ৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
অভিজিৎ দীপকের অনুপস্থিতিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে
ভারতে শনিবার দিনভর উত্তাল পরিস্থিতি আর হাজারো বিক্ষোভকারীকে ধরপাকড়ের মধ্যেই দিল্লির যন্তর মন্তরে উদ্দেশ্যে লং মার্চ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও আন্দোলনকারী অন্যান্য যুব সংগঠন। এনডিটিভি লিখেছে, আন্দোলনকারীরা বলছেন তারা ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনায় বিন্দুমাত্র বিচলিত নয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না করা অথবা বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন যন্তর মন্তরের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখবেন।
নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে সিজেপি। শনিবার ওই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আটক হন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারায়ি বিজয়ন। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তার আগে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও অল ইনডিয়া স্টুডেন্ট’স অ্যাসোসিয়েশনের নেহা বোরাকেও আটক করা হয়। ধরপাকড়ের ঘটনাকে তারা ‘নিরপরাধ আন্দোলনকারীদের ওপর নৃশংস নির্যাতন’ বলছে আন্দোলন করা সংগঠনগুলো।
দীপকে এখনো ছেড়ে দেওয়া হয়নি। তার অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিজেপি নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে। জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত না করা পর্যন্ত প্রতিদিন যন্তর মন্তরের অভিমুখে লং মার্চ করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই) এর সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য ‘সম্ভাব্য সর্বাত্মক ঐক্যের’ আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে। তারা সব জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবে। আর যেখানেই তাদের পুলিশের বেরিকেড দিয়ে আটকানো হবে, সেই স্থানটিই এক একটি ‘যন্তর মন্তরে’ পরিণত হবে।”
লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইনডিয়া জোট আগামী সোমবার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছে। সেদিন জোটের নেতারা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে একটি স্মারকলিপি দেবেন। সেজন্য সুপ্রিম কোর্টে তার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
দিল্লিতে শনিবার সকালে সিজেপির অভিজিৎ দীপকে ও অন্যান্য নেতাসহ ১ হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়। দিল্লিজুড়ে বিপুল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে আন্দোলনকারীদের যন্তর মন্তরে যেতে বাধা দেওয়া হয়।
এনডিটিভি দেড় হাজার জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করার খবর দিলেও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলেছে, দিল্লিতে আটক হয়েছেন অন্তত ৬ হাজার জন। শিক্ষার্থীদের একটি মতবিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নিতে চেন্নাইয়ে থাকা রাহুল গান্ধী এদিন এক্সে লেখেন, “সব নেতাকে গ্রেপ্তার করুন। সব তরুণকে গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন। “আমরা আপনাদের ঘিরে ফেলছি, আর পেছনে ফিরব না। আমার কথা মিলিয়ে নেবেন, আমাদের প্রয়োজনীয় তথ্য আগেই আমরা পেয়ে গেছি...। ভারতের তরুণ সমাজ, আমি তোমাদের জন্য গর্বিত। প্রতিবাদ চালিয়ে যাও। আমরা তোমাদের পাশে আছি।”
সিজেপির ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচি পণ্ড করতে দিল্লি ও আশেপাশের এলাকায় চালানো পুলিশের ব্যাপক অভিযানকে ‘জনগণের জয়’ বলছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কর্মসূচি ঘিরে ধরপাকড়ের মধ্যে বিজেপির মুখপাত্র রবি শঙ্কর প্রসাদ বিরোধীদের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন, যার বড় অংশই লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইনডিয়া জোটের সাম্প্রতিক আন্দোলন নিয়ে। রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেন, “ভারত কোনো ‘ব্যানানা রিপাবলিক’ নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এই দেশ কখনো মাথা নত করেনি, করবেও না।”
ক্রিস্টা পাইক
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ১০ দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তাকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
শনিবার আইনজীবীদের দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। ৫০ বছর বয়সী পাইক গত ৩০ সেপ্টেম্বর পেন্টোবারবিটাল নামের ওষুধ প্রয়োগ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দুবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়া হলেও তিনি বেঁচে যান।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তার জ্ঞান ফেরে এবং তিনি কথা বলতে শুরু করেন। এতে চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ ও তার আইনজীবীরা বিস্মিত হন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য জরুরি সেবাকর্মী ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পাইক।
তবে কারাগারে ফেরার পর তাকে কী ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এর আগে তার আইনজীবীরা বলেছিলেন, সুস্থ হয়ে উঠতে তাকে দীর্ঘ সময়ের কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো জানায়নি, কেন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা পরিকল্পনামতো সম্পন্ন হয়নি। তবে ব্যবহৃত পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে তারা।
গত বুধবার আদালতে এক শুনানিতে টেনেসির সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল উইল আয়রস বলেন, পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আরেকটি চেষ্টা করা হবে কি না, তা তিনি জানেন না। শুনানিতে বিচারক ব্যর্থ ইনজেকশন প্রয়োগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। ভবিষ্যতে অঙ্গরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলার ক্ষেত্রে এসব প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
ক্রিস্টা পাইকের বয়স যখন ১৮ বছর, তখন তিনি তার তৎকালীন প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে মিলে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে নির্যাতন ও হত্যা করেন। স্বল্প আয়ের তরুণদের জন্য আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের সঙ্গে স্লেমারের পরিচয় হয়েছিল।
অপরাধের সময় আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় শিপ মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পান। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন।
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক আছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ হামলায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। হামলার পর সাময়িকভাবে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
শনিবারের এ হামলার বিষয়ে জানেন, এমন তিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। সৌদি আরব ও হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে এ হামলার ঘটনা ঘটল। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো আরব দেশে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রিয়াদকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে চান তিনি। এসব হামলার কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনও ব্যাহত হতে পারে।
এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমা হামলা চালাচ্ছে সৌদি যুদ্ধবিমান। হুতিদের দাবি, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এসব হামলায় শিশুসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে গোষ্ঠীটি।
রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি দাবি করেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার জবাব দিতেই এ আক্রমণ চালানো হয়েছে। তার অভিযোগ, সৌদি বাহিনী বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে।
আল-বুখাইতি বলেন, হুতিরা এই হামলা চালিয়েছে, যাতে বিশ্ব বুঝতে পারে—ইয়েমেনের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, বিয়ের অনুষ্ঠান ও শোকসভার হল, হাসপাতাল এবং বাজারের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো বা সেগুলোর ক্ষতি করা উচিত নয়। ইয়েমেনের এসব স্থাপনার ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, বিশ্বের অন্য জায়গায় একই ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম কার্যকর হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হামলার বিষয়ে সৌদি আরবের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর একজন প্রতিবেদক বিমানবন্দরের দিকে অন্তত ছয়টি অ্যাম্বুলেন্স যেতে দেখেছেন। এ সময় পুলিশ বিমানবন্দরে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন দূতাবাস নিজ নিজ নাগরিকদের বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
হামলার বিষয়ে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমরা এইমাত্র সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে জানতে পেরেছি।’
সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে ‘একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’। তবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এর আগে গত বছর হুতিদের বিরুদ্ধে বোমা হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ট্রাম্প দ্রুত বিজয়ের ঘোষণা দিলেও প্রথম মাসেই মার্কিন বাহিনী প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছিল।
সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আভার বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছিল হুতিরা। ওই হামলাগুলোতে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হন। খবর- নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স ও এএফপি
পবিত্র রমজানের সম্ভাব্য তারিখ
২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র ১২১ দিন বাকি। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সোমবার রমজান মাস শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী ১২ অক্টোবর জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু হওয়ার মাধ্যমে রমজান মাস আসতে আর চার চন্দ্রমাস বাকি থাকবে। খবর গালফ নিউজের।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) আমিরাত অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এবং আরব ইউনিয়ন ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস সায়েন্সেসের সদস্য ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, শনিবার সূর্যাস্তের পর আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে (ইউএই সময়) নতুন চাঁদের জন্ম হবে।
আল জারওয়ান আরও জানান, আগামী ১১ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় খালি চোখে চাঁদের নতুন কলা দৃশ্যমান হতে পারে। এর ফলে ১২ অক্টোবর সোমবার থেকে ১৪৪৮ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন এই হিজরি মাস শুরুর অর্থ হলো, পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র চার চন্দ্রমাস বাকি রইল। সরকারিভাবে চাঁদ দেখার সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, রমজান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হতে পারে, যার ফলে আগামী ৯ মার্চ মঙ্গলবার কিংবা ১০ মার্চ বুধবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।
আল জারওয়ান ব্যাখ্যা করে বলেন, ইসলামিক চন্দ্রবর্ষের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি বা জটিল জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাব-নিকাশ ছাড়াই এর গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। চাঁদের অবয়বের পরিবর্তন লক্ষ্য করে মানুষ চাঁদের প্রথম কোলা, প্রথম চতুর্থাংশ এবং পূর্ণিমাসহ চন্দ্র মাসের বিভিন্ন পর্যায়গুলো চিহ্নিত করতে পারে। পরবর্তীতে চাঁদ ধীরে ধীরে ক্ষীয়মান হয়ে একপর্যায়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।
দৃশ্যমান এই পর্যায়গুলো চন্দ্র মাসগুলোর হিসাব রাখার একটি প্রাকৃতিক উপায় সরবরাহ করে, যা ইসলামী ক্যালেন্ডারের ভিত্তি তৈরি করে।