তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা, ক্ষোভ। তাদের অনেকে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দল পরিচালনার জন্য সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির বিরুদ্ধে। তাদের কেউ যেমন অভিযোগ করছেন, অভিষেক ব্যানার্জি তাদের দলটিকে "শেষ করে দিলেন", কেউ সামাজিক মাধ্যমে তার উদ্ধত আচরণের কথা লিখছেন, তেমনই তারই উদ্যোগে যে পরামর্শদাতা সংস্থা নিযুক্ত হয়েছিল, সেই 'আইপ্যাক'-এর বিরুদ্ধেও ক্ষুব্ধ অনেকে।আইপ্যাক কর্মীদের 'মাতব্বরি'র কথাও বলেছেন এক নেতা।
আবার সিনেমা জগৎ বা ক্রীড়া জগৎ থেকে যারা তৃণমূল কংগ্রেসে এসেছিলেন, এমন একাধিক পরাজিত প্রার্থী ও টিকিট না পাওয়া অভিনেতাও রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। একাধিক নেতা- মন্ত্রী স্থানীয় গণমাধ্যমে এমন অভিযোগও তুলেছেন যে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা নিয়মিত জেলা ও স্থানীয় স্তরের নেতাদের কাছে অর্থ দাবি করতেন।
ভোটের ফলাফল বেরোনোর পর থেকেই যেভাবে দলের নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন, তার প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, ওই সব বক্তব্যের সঙ্গে দল সহমত পোষণ করে না। বরং চারজন নেতা ও মুখপাত্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছে দলটি।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-সহ দলের একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী নিজেদের কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
মালদা জেলার প্রবীণ নেতা ও সাবেক পর্যটনমন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী এর জন্য সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির দিকে আঙুল তুলেছেন।
নির্বাচনের ফলাফলের পর তিনি সংবাদমাধ্যমে দলের 'বিপর্যয়ের' জন্য অভিষেক ব্যানার্জিকে দায়ী করে বলেছেন, "একজনই ব্যক্তি আছে যিনি দলটিকে তিলে তিলে শেষ করে দিলেন। তিনি অভিষেক ব্যানার্জি। … দলটাকে যেভাবে নিয়ে গিয়েছিল কর্পোরেট হাউসের মতো, এখানে বাংলাতে কর্পোরেট হাউসে (রাজনীতি) চলে না।"
তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী এবং দলের বর্ষীয়ান নেতা অতীন ঘোষ সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একজন আধুনিক নেতা। তিনি পার্টিটাকে একটি সংগঠিত আকার দিতে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছিলেন। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে মানুষের পালস বোঝা যায় না।" তিনি মনে করেন, তৃণমূল স্তরে এমন নেতৃত্বের প্রয়োজন যারা সরাসরি "মানুষের সঙ্গে মিশে মানুষের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করবেন।"
'দলবিরোধী মন্তব্যের' জেরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে নারায়ন চৌধুরী ছাড়াও ঋজু দত্ত, পাপিয়া ঘোষ, কোহিনুর মজুমদার এবং কার্তিক ঘোষের মতো নেতানেত্রী ও মুখপাত্রদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।
'কর্পোরেট স্টাইলে দল চালানো যায়না'
তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ সরাসরি পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের 'মাতব্বরি'র কথা বলছেন। প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রবীণ নেতা খগেশ্বর রায় বলেন, "এই ফলাফলের জন্য আমি ৯৮ শতাংশ আইপ্যাক-কেই দায়ী করব। আমি ১৯৯৮ সাল থেকে দলের হয়ে কাজ করছি। পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা, অনেক নির্বাচন দেখেছি। কিন্তু ২০২১ সাল থেকে আইপ্যাক আমাদের ওপর মাতব্বরি শুরু করল।" তার অভিযোগ, আইপ্যাকের কর্মীরা তৃণমূল স্তরের মানুষের পালস বুঝতে ব্যর্থ।
তার কথায়, "ওরা আসতেন রাজকীয় মেজাজে, এসি গাড়িতে ঘুরে বেড়াতেন। এভাবে দল চালানো যায় না, মানুষের সঙ্গেও মেলামেশা করা যায় না।"
খগেশ্বর রায়ের দাবি, "আইপ্যাক ঠিক করে দিত প্রার্থী কে হবেন বা দলের কর্মসূচি কী হবে। আমরা পুরনো কর্মী হলেও আমাদের কোনো গুরুত্ব ছিল না। দলের অনেক অনুষ্ঠানে আমাদের ডাকা হতো না। এই দলটা কি ওরা গড়েছে, না আমরা? আসল তৃণমূল কংগ্রেসের আদর্শ বা আবেগ, কোনোটাই ওরা বুঝতে পারেনি।"
আরজিকর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক কর্মরত চিকিৎসকের নির্যাতন ও খুনের ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন প্রাক্তন আমলা জহর সরকার। এ বছরের নির্বাচনের আগে, ১৯শে এপ্রিল সমাজিক মাধ্যমে তিনি দাবি করেন, আইপ্যাকের প্রভাবে দলে একটি 'কর্পোরেট-স্টাইল' রাজনীতির সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। "এটা অত্যন্ত দূঃখজনক। গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলির নিজস্ব সদস্য থাকা উচিত। অথচ রাজ্য সরকার ও দলের বাইরে আইপ্যাক নামের একটি তৃতীয় শক্তি সবস্তরে প্রভাব ফেলত," লিখেছিলেন তিনি।
অর্থের বিনিময়ে টিকিট বিলির অভিযোগ
এর আগে, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা অভিযোগ তুলেছিলেন যে, পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক 'টাকার বিনিময়ে' নির্বাচনের টিকিট দেয়। প্রাক্তন বিধায়ক খগেশ্বর রায় সংবাদমাধ্যমে আগে বলেছিলেন, প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে উনি 'টাকার কাছে হেরে গেছেন।' বিবিসি সেই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলে উনি বলেন, "আমি আইপ্যাকের কার্যকলাপ নিয়ে অনেক কিছু বলেছি। টাকার ব্যাপারটা যার বোঝার তিনি বুঝে যাবেন।"
নির্বাচনের আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৭৪ বিধায়ককে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের যুক্তি ছিল, পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা তৈরী করা হয়েছে। কিন্তু টিকিট না পেয়ে নেতাদের একাংশ তখন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। পূর্বস্থলী উত্তর আসনের প্রাক্তন বিধায়ক সেই সময়ে সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন, তিনি আইপ্যাককে টাকা দিতে পারেননি বলে তাকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এইসব অভিযোগ ভোটের আগে থেকেই উঠছিল। কখনোই আইপ্যাক-এর তরফে এ নিয়ে কোনো বিবৃতি আসেনি।
'ভালো কাজ করার জায়গা দিত না'
অন্যদিকে, ক্রীড়া দফতরের প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, দলের পক্ষ থেকে একটি 'ললিপপের' মতো তাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, এবং দফতরে 'চা-বিস্কুট' খাওয়া ছাড়া তার কোনো কাজ ছিল না।
সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "যখন আমাকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল জয়যুক্ত হওয়ার পর, তখন আমি ভেবেছিলাম যে, অনেক কিছু উন্নয়ন উন্নতি করতে পারব এই দফতরে এসে। কিন্তু যা দেখলাম, এখানে ভালো কাজ করার জায়গা দিত না অরূপ বিশ্বাস।" অরূপ বিশ্বাস ছিলেন বিদায়ী মন্ত্রিসভায় রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মনোজ তিওয়ারি বলেন, লিওনেল মেসির অনুষ্ঠানে অব্যবস্থা এবং বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী তিনি। এছাড়া, ক্রীড়া পরিকাঠামো আরও মজবুত করার তার স্বপ্নও 'নষ্ট' করে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন মি. তিওয়ারি।
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর কাছে পরাজিত হয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক এবং ব্যারাকপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, "২০২১-এ আমার রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ। মানুষ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কাজ করার। পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে সেভাবেই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে গেছি। সে অধ্যায় শেষ হলো ২০২৬-এ। সঙ্গে শেষ হলো আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা।" "বাংলার মানুষের মতামতে বাংলায় নতুন সরকার এসেছে। … আশা করব আপনাদের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে যাবে উন্নতির পথে।"
রাজ চক্রবর্তী ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। বিধায়ক থাকাকালীন তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমোদিত কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন।
অন্যদিকে, শিলিগুড়ি কেন্দ্রে পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেব বলেন, "নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে দলের স্ট্র্যাটেজিতে কী ত্রুটি ছিল, তা নিয়ে আমি দলের সঙ্গে আলোচনা করব। আমি মনে করি, নির্বাচনে অনেক অনিয়ম হয়েছে। আমার চোখের সামনে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কারচুপি হয়েছে। আমি দলের খুব পুরোনো কর্মী, সবার সামনে দলের নিন্দা করতে চাই না।"
নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তিনি তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে চার দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি। চলমান পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ যেন অপব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৫ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি। তার পদত্যাগের পর আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগের দিন তিনি বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘অসামাজিক শক্তি’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলন যাতে অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা উচিত।
পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।
দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
ধর্মেন্দ্র প্রধান
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।
এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।
ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।
রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।
এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।
সূত্র: দ্য রিপাবলিক
রাভনীত সিং বিট্টু
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’
পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।