• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ১১:০৫ এএম

ইউক্রেনের বিশাল এলাকা দখলের দাবি করেছে রাশিয়ার। দেশটির দাবি, ২০২৫ সালে ইউক্রেনের ৫,১০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা দখল করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলের সিভেরস্ক এবং উত্তরাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের ভোভচানস্ক শহর দখল করেছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দোনেৎস্কের লিমান ও কোস্তিয়ান্তিনিভকার অন্তত অর্ধেক এলাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের হুলিয়াইপোলও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।


তবে এই দাবির সঙ্গে একমত নন ইউক্রেন যুদ্ধ পর্যবেক্ষকরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) জানিয়েছে, স্যাটেলাইট চিত্র ও উন্মুক্ত সূত্রের তথ্য পুতিনের বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে না।


আইএসডব্লিউর মতে, হুলিয়াইপোলের মাত্র ৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং লিমানের ২ দশমিক ৯ শতাংশ এলাকায় রুশ বাহিনীর সীমিত উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাও মূলত অনুপ্রবেশ বা আক্রমণমূলক অভিযানের মাধ্যমে। কোস্তিয়ান্তিনিভকায় রাশিয়ার অগ্রগতি ৫ শতাংশের বেশি নয় বলেও দাবি করেছে তারা।


এমনকি রাশিয়াপন্থি সামরিক ব্লগারদের তথ্যও পুতিনের দাবিকে পুরোপুরি সমর্থন করে না। আইএসডব্লিউ জানায়, এসব ব্লগারের মতে লিমানের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ এবং কোস্তিয়ান্তিনিভকার প্রায় ১১ শতাংশ এলাকায় রুশ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।


এর আগে ক্রেমলিন খারকিভের কুপিয়ানস্ক এবং দোনেৎস্কের পোকরভস্ক সম্পূর্ণ দখলের দাবিও করেছিল। তবে আইএসডব্লিউর হিসাব অনুযায়ী, খারকিভ অঞ্চলের সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ২ শতাংশ এলাকায় রাশিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের সেনাপ্রধান জানিয়েছেন, পোকরভস্কে ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ সেনাদের কাছ থেকে ১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে।


১৮ ডিসেম্বর রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ভ্যালেরি গেরাসিমভ বিদেশি সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে বছরের শেষ প্রতিবেদন উপস্থাপন করে দাবি করেন, চলতি বছরে রাশিয়া ৬,৩০০ বর্গকিলোমিটার ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দখল করেছে। এর এক সপ্তাহ আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলাউসভ ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার দখলের কথা বলেছিলেন।


তবে আইএসডব্লিউর হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়া সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৯৮৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা এবং ১৯৬টি বসতি দখল করেছে—যা রুশ কর্মকর্তাদের দাবি করা ৩০০ বসতির তুলনায় অনেক কম।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিমান হামলা বন্ধ রাখলে তেহরানও পাল্টা হামলা চালাবে না বলে জানিয়েছে ইরান। 


দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ হামলা স্থগিত রাখবে, ততক্ষণ ইরানও সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা ১৩ রাত ধরে চলা মার্কিন বিমান হামলার পর গত শুক্রবার রাতে অভিযান স্থগিত করে পেন্টাগন। এরপর শনিবার ও রোববার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে কোনো পাল্টা হামলা চালায়নি।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অবস্থান একই আছে-হামলার জবাব হামলা। হামলা বন্ধ হলে ইরানও অভিযান বন্ধ রাখবে। এ বার্তা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে।’


এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির জন্য আরও সময় দিতে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য, আলোচনার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের অভিযানে পূর্বনির্ধারিত বেশির ভাগ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শেষ হয়ে এসেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। এ কারণে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধের সিদ্ধান্তকে তেহরান এখনো স্থায়ী নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না। ওই সূত্রের দাবি, ইরানে ‘আশার চেয়ে সংশয়ই বেশি’ এবং অনেকের ধারণা, এই বিরতি কৌশলগত, প্রকৃত অর্থে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত নয়।


এর আগে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নিয়মিত হামলা চালানোর কথা জানায়। পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনায় হামলা চালায়। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় অঞ্চলটির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।


তবে হামলা আপাতত বন্ধ থাকলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, সেটি স্পষ্ট। তেহরানের একজন ব্যবসায়ী রয়টার্সকে বলেন, ‘দেশের সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। যুদ্ধ শেষও হচ্ছে না, আবার পুরোপুরি এগোচ্ছেও না। এই পরিস্থিতি খুবই ক্লান্তিকর।’

সর্বশেষ সব খবর

ধর্মেন্দ্র প্রধান। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৪ এএম

একসময় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিতি পেয়েছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রায় তিন দশক পর সেই প্রশ্নফাঁস ইস্যুকেই ঘিরে সৃষ্ট আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছে তাকে।




ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস-শাসিত ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জানকী বল্লভ পট্টনায়েক। সে সময় একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ভুবনেশ্বরে রাজ্য সচিবালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। সেই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর ছাত্রনেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান।




ধর্মেন্দ্র প্রধানের ঘনিষ্ঠদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর ছাত্রসংগঠন এবিভিপির সক্রিয় সংগঠক হিসেবে দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন। উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করা ধর্মেন্দ্র ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সালের মধ্যে দুই দফা এবিভিপির জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।






ওই সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওড়িশাজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের মুখেও পড়তে হয়েছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানকে।




বর্তমানে ভুবনেশ্বরের আরএমডি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের সাবেক জুনিয়র প্রশান্ত রাউত সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, সচিবালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে প্রায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুতর আহত হন এবং তার শরীরের কয়েকটি হাড়ও ভেঙে যায়।




প্রশান্ত রাউত আরও দাবি করেন, ছাত্ররাজনীতির সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলারও শিকার হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এক পর্যায়ে তার প্রাণহানির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।




ছাত্রজীবনের সেই আন্দোলনই পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে তার রাজনৈতিক উত্থানের ভিত্তি তৈরি করে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা উন্নয়নমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২১ সালে তিনি ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।




রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওড়িশায় বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে প্রথমবার সরকার গঠন করে বিজেপি এবং দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের শাসনের অবসান ঘটে।




তবে সাম্প্রতিক সময়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি (NEET-UG)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।



আন্দোলন দমনে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং বিরোধী দলগুলোও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জোরালো করে।




ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফলে যে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, প্রায় তিন দশক পর সেই একই ইস্যুই তার মন্ত্রিত্বের ইতি টানল।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:২৬ এএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি রিল ভিডিও বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। পোস্ট করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটি ৩০ কোটিরও বেশি ভিউ অর্জন করে ইনস্টাগ্রামের একক ভিডিওর সর্বোচ্চ ভিউয়ের আগের রেকর্ড ভেঙেছে।



সম্প্রতি দেশজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের মধ্যে তরুণদের লক্ষ্য করে মোদী পরপর দুটি রিল ভিডিও প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ও শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে ধারণ করা ভিডিও দুটিতে তিনি তুলনামূলক অনানুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে কথা বলেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।



এর আগে ইনস্টাগ্রাম রিলে সর্বোচ্চ ভিউয়ের রেকর্ড ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিডের দখলে। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সদস্যদের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও সেই রেকর্ড গড়েছিল।




ভারতে চলমান আন্দোলনের সূত্রপাত হয় নিট মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১২ মে তা বাতিল করা হয়। পরে আন্দোলনের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি), যা অল্প সময়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে কর্মসূচি পালন করে।



ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


১০ কোটিরও বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা সত্ত্বেও মোদির এমন সেলফি-ধাঁচের রিল ভিডিও প্রকাশের ঘটনা খুবই বিরল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করতেই তিনি এই কৌশল নিয়েছেন। তবে সমালোচকদের একাংশের দাবি, শিক্ষার্থী আন্দোলনের চাপ সামলাতেই এই নতুন প্রচার কৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, ভিডিওটির রেকর্ডসংখ্যক ভিউ ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রভাব এবং রাজনৈতিক যোগাযোগে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই সামনে এনেছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:২২ এএম

ভারতের বেঙ্গালুরুতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে এক মুসলিম দম্পতিকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


অভিযোগ, ওই চিকিৎসক দম্পতিকে ভারত থেকে একবার বিতাড়িত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন। তবে দম্পতির জাতীয়তা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য এখনো যাচাই করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. নগেন্দ্রাপ্পাকে গ্রেপ্তার করা হয়।



পুলিশ জানায়, বেঙ্গালুরুতে নিজস্ব ক্লিনিক পরিচালনা করেন ডা. নগেন্দ্রাপ্পা। বুধবার সকালে তিনি ২৩ বছর বয়সী নাসরিনা ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের পথরোধ করেন।



নাসরিনার অভিযোগ, প্রথমে তাদের জাতীয়তা নিয়ে হিন্দি ভাষায় গালিগালাজ করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। পরে তাকে টেনে-হিঁচড়ে মারধর করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর তার স্বামী বিলালের ওপরও হামলা চালানো হয়। বিলালের মাথা ও পিঠে একাধিকবার আঘাত করা হয় এবং একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয়। এছাড়া ঘটনাটি পুলিশকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।



এ ঘটনায় বেঙ্গালুরুর বেলান্দুর থানায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মারধর, নারীর শ্লীলতাহানি, বেআইনিভাবে পথরোধ এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।


তদন্তসংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


গ্রেপ্তারের আগে ডা. নগেন্দ্রাপ্পা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাকে ওই দম্পতিকে ‘বাংলাদেশি’ বলে উল্লেখ করতে এবং তারা একবার ভারত থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর আবার ফিরে এসেছে বলে দাবি করতে শোনা যায়।


অন্যদিকে, ভিডিওতে মোহাম্মদ বিলালকে কন্নড় ভাষায় বলতে শোনা যায়, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছেন। একই ভিডিওতে চিকিৎসককে বিলালের গায়ে হাত তুলতেও দেখা যায়।


সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন অভিযুক্ত ডা. নগেন্দ্রাপ্পা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:১৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলিদের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সহযোগীদের সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। যারাই যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে তারাই ইরানের বৈধ ও নিশ্চিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। 


এই সতর্কবার্তায় সুনির্দিষ্টভাবে যুক্তরাজ্য এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দেশের ওপর বিশেষ নজর রাখছে ইরান- এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। 


ইরানের ইসলামী রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে  জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে যদি কোনো দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য বা সমর্থন করে, তবে সেই দেশকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে।


মোহেব্বি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি মার্কিন B-1 বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি ব্যবহার করেছে। এই ধরনের সহযোগিতা বজায় থাকলে তারা ইরানের 'নিশ্চিত এবং বৈধ লক্ষ্যবস্তু' হয়ে উঠবে বলে তিনি সতর্ক করেন।


আইআরজিসি দাবি করেছে যে, যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বা উত্তেজনা মোকাবিলা করার জন্য তারা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং কৌশলগত প্রস্তুতি তৈরি করে রেখেছে। 


এই বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, অঞ্চলটিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কতটা তীব্র এবং ইরান মূলত এই অঞ্চলে পশ্চিমা ও প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বা লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া থেকে বিরত রাখতে এই প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিয়েছে।


হোসেইন মোহেব্বি আরও বলেন, ‘প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য আমাদের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে।’


তবে আইআরজিসির এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩৯ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, ‘এবার এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে।’ 


দেশটির সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।


শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পথে একটি বড় পদক্ষেপ।’ একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।



তিনি আরও লিখেছেন, ‘এখনও দুটি দাবি রয়েছে, যা পূরণ হয়নি। আর তা হলো- শিক্ষার্থী এবং ভারতের ভবিষ্যৎকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।



তিনি আরও যোগ করেন, ‘সমাজের অন্যান্য অংশ, যাদের এই সরকার দমন ও নিষ্পেষণ করেছে (কৃষক, শ্রমিক, দরিদ্র) তাদের এখন সংবিধানসম্মত উপায়ে সাহস নিয়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সময়। এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। ভয় পাবেন না!’


পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের ঐক্য অটুট রাখা, শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


এর আগে শুক্রবার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সংগঠনটি জানায়, সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে একদিন সময় চেয়েছে।


অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যন্তর-মন্তরের সমাবেশে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে ধন্যবাদ জানান সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি বলেন, ‘তিনি আমাদের ‘তেলাপোকা’ না বললে এই আন্দোলনের জন্মই হতো না।’


গত মে মাসে এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দেন, মন্তব্যটি বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়, ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে করা হয়েছিল। তবে ততদিনে মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং তা আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়।

সর্বশেষ সব খবর