মক্কা চুক্তির মাধ্যমে গঠিত প্রতিরক্ষা জোট থেকে পরোক্ষভাবে লাভবান হতে পারে রাশিয়া। ছবি: এএফপি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৬ পিএম

ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়া নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে বিভিন্ন কৌশল নিয়েছে। এর একটি হলো সীমান্তবর্তী ‘বাফার স্টেট’ বা নিরপেক্ষ অঞ্চলের প্রতি সমর্থন বজায় রাখা। এই অঞ্চলগুলো সাধারণত রাশিয়া ও তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের মাঝখানে ছিল। ফলে সেগুলো প্রায়ই মস্কোর চেয়ে বরং তাদের প্রতিপক্ষের জন্য বেশি সমস্যা তৈরি করতো। ইউরোপে দীর্ঘদিন এমন বাফার স্টেটের ভূমিকায় ছিল ক্রিমিয়ান খানাত (বর্তমান ক্রিমিয়া)। সতোরো থেকে ১৮ শতকে চীন সীমান্তে এমন ভূমিকায় ছিল জুঙ্গার খানাত (বর্তমানে জিনজিয়াং প্রদেশ)। এ ধরনের বাফার স্টেট বজায় রাখাটা মস্কোর কৌশলগত নীতির একটি কার্যকর দিক হিসেবে আজও বহাল।


এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো- আত্মরক্ষা ও বিবাদমান অঞ্চল দিয়ে প্রতিপক্ষকে বিপাকে ফেলা। অর্থাৎ, মস্কো যখন নিজের সীমান্তের কোনো অংশে পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে, তখন বাফার স্টেটগুলো প্রতিপক্ষের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারবে। এ থেকে রাশিয়া পরোক্ষভাবে লাভবান হবে।  


বিশ্বে চলমান সংঘাতের প্রথম ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্রটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ১২ বছর আগে। তখন ক্রিমিয়াকে ঘিরে রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতে জড়ায়। এটি পরে ২০২২ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়। প্রথম ফ্রন্ট তৈরির পর পশ্চিমারা তাদের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আক্রমণ শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ফ্রন্ট তৈরি হয়েছে। প্রায় কাছাকাছি সময়ে পূর্ব এশিয়ায় তৃতীয় ফ্রন্ট তৈরির নমুনা দেখা যাচ্ছে। সেখানে মূল লক্ষ্য হতে পারে চীন।


একপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রবাহিনী এবং অন্যপক্ষে ইরান ও পরোক্ষ সমর্থকদের মধ্যকার শত্রুতা এখন এক দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে প্রবেশ করেছে। রাশিয়া এই ঘটনাপ্রবাহ খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কারণ, ইউক্রেনীয় ফ্রন্টে তাদের বিপুল সামরিক বাহিনী মোতায়েন থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা আপাতত সীমিত।


এই অঞ্চলে মস্কোর অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে কেমন হবে তা যখন অনিশ্চিত, তখনই বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে একটি জোট গড়ে তুলেছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা জোট এরই মধ্যে ‘মুসলিম ন্যাটো’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।


এই জোট মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি উল্টে দেবে না। কিন্তু তারপরও উদ্যোগটিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এর সদস্যরা রাশিয়ার বন্ধুরাষ্ট্র ইরানের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তেমনি মস্কোর পশ্চিমা প্রতিপক্ষের জন্য আরও বেশি জটিলতা সৃষ্টিতে সক্ষম।


অঞ্চলটিতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ওয়াশিংটন ১৯৯১ সাল থেকে যে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা তৈরি করেছে, তা ‘মুসলিম ন্যাটোর’ কারণে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কারণ, আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভরসা না করে নিজেরাই নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। 


এখানকার আঞ্চলিক অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত আছে। বলা হয়, ইউরোপ ও চীনে জ্বালানি সরবরাহকারী অঞ্চলে অস্থিরতা বজায় থাকলে তা পরোক্ষভাবে ওয়াশিংটনের পক্ষে কাজ করে। কিন্তু ওয়াশিংটন এখন নিজেই তাদের তৈরি ‘উন্মুক্ত বিশ্ব ব্যবস্থা’র কিছু অংশ পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলছে। এর কারণ হলো, অবাধ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে চীন ওয়াশিংটনের চেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা তুলে নিচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন মুক্ত বাণিজ্যের বৈশ্বিক কাঠামো বজায় রাখার চেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি শক্তিগুলোকে (বিশেষ করে চীনকে) নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর বেশি অগ্রাধিকার দিতে শুরু করেছে।


এ অবস্থায় মার্কিন বলয় থেকে বেরিয়ে মক্কা চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক জোট গঠনের সম্ভাবনা বেশ কম। কারণ এই জোটের সদস্যদের অভিন্ন স্বার্থ মূলত রাজনৈতিক। তারা একে অপরের প্রভাব ও আঞ্চলিক কর্তৃত্বকে কাজে লাগিয়ে নিজ অবস্থান শক্ত করতে রাজি হলেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করার সম্ভাবনা কম। 


ইরান যুদ্ধ থেকেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি আছে। কিন্তু গত মার্চ মাসে ইরান যখন সৌদির ভূখণ্ডে হামলা চালায় তখন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া আসেনি। অন্যদিকে তুরস্ক প্রতিনিয়ত ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বললেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া থেকে দূরে থাকছে। 


কেবল সংহতি প্রকাশ বা ঘোষণা দিয়ে একটি টেকসই সামরিক জোট গড়ে তোলা যায় না। ইতিহাস বলছে, যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা পরিচালনার জন্য জোটে অন্তত একটি প্রধান বা প্রভাবশালী পরাশক্তির উপস্থিতি আবশ্যক। বর্তমানে কেবল একটি জোট এখানে সফল। সেটি হলো- ন্যাটো। এই জোট গঠনের চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র লন্ডন কিংবা প্যারিসের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কোনো হস্তক্ষেপ করে না। এর বিনিময়ে তারা ইউরোপীয়দের কাছে থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেতৃত্ব দেওয়ার মর্যাদা পেয়েছে।


পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে এ ধরনের কোনো ঐক্য নেই। দুই দেশের সরকারের অগ্রাধিকার ভিন্ন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্দেশ্য এবং ইরানের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতেও সুস্পষ্ট পার্থক্য আছে। সবচেয়ে বড় কথা এই দেশগুলোর কোনোটিই নিজেদের পররাষ্ট্রনীতিকে অন্য দেশের নেতৃত্বের অধীনে সঁপে দিতে রাজি নয়।


রাশিয়ার জন্য এই বিষয়টি স্বস্তিদায়ক। নতুন জোটের সদস্যরা চাইলে এককভাবে দক্ষিণ ককেশাস, মধ্য এশিয়া ও সামগ্রিক মুসলিম বিশ্বে মস্কোর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারত। কিন্তু মস্কোর স্বার্থের বিরুদ্ধে তাদের সমন্বিত হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুবই কম।


এছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠনের সম্ভাবনাও কম। নিজেদের মধ্যকার মতবিরোধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং একে অপরের সঙ্গে থাকা প্রতিযোগিতামূলক অংশীদারত্বও এখানে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ফলে মক্কা চুক্তিটি রাশিয়া ও ইরানের স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করার চেয়ে বরং আমেরিকার কৌশলগত হিসাব-নিকাশকে আরও জটিল করে তুলবে। 


জোটটি যখন আঞ্চলিক স্বাধীন নীতি গ্রহণ করতে শুরু করবে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে একক রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে। তাই জোটের সদস্যদের বন্ধু বানানোর প্রয়োজন নেই রাশিয়ার। মস্কো ইউক্রেন ফ্রন্টে মনোযোগ দেওয়ার সময় নতুন জোটের সদস্যরা পশ্চিমাদের ব্যস্ত রাখতে পারলেই রাশিয়ার উদ্দেশ্য সফল হবে।


লেখক: তিমোফেই বোরদাচেভ, রাশিয়াভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ভালদাই ক্লাবের কর্মসূচি পরিচালক



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:১৩ পিএম

বুধবার পারস্য উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে ‘অবৈধভাবে’ তেল স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত চারটি জাহাজের ওপর একই সময়ে আঘাত হেনেছে ইরান। যার ফলে সেগুলোতে আগুন ধরে যায়। এছাড়া হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে আরও তিনটি জাহাজ মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে। 


আইআরজিসি বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সতর্ক করে বলেছে, উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে তাদের আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের আক্রমণ হতে পারে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটিতে নিয়মিত হামলার ঘটনা ঘটছে। 


যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ খুলে দিতে গত জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। এর আওতায় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু কিছুদিন পর ওই সমঝোতা ভেঙে যায়। এরপর দুই দেশ হরমুজ প্রণালি ঘিরে পুনরায় সংঘাতে জড়ায়। 

সর্বশেষ সব খবর

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৫ পিএম

এক গ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও ইরান থেকে সরানো হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি একথা বলেন।


মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে কূটনৈতিক সমঝোতার আশায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। এরই অংশ হিসেবে যুদ্ধ ও ইয়েমেনের চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করেছেন। অঞ্চলটিতে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি অনুষ্ঠিত হলো।


তা সত্ত্বেও, তেহরান তার অবস্থানে অনড় রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত যুদ্ধের অবসান হবে না এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না।


ইরান তার বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পেছনে এই কর্মসূচিও একটি কারণ ছিল।


তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তত্ত্বাবধানে দেশের ভেতরেই উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমিয়ে আনার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করেননি। এর আগে ইরান এমন প্রস্তাব দিয়েছিল।


ইরানের কর্তৃপক্ষ কয়েক দশক ধরে চলে আসা পারমাণবিক কর্মসূচিকে দেশটির সার্বভৌম অধিকার এবং হামলা, অন্তর্ঘাত ও হত্যাকাণ্ড সত্ত্বেও অর্জিত একটি সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে আসছে। মঙ্গলবার রেজায়ি এটিকে “জাতীয় সম্পদ” বলে বর্ণনা করেন।


ইরান কমমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বেসামরিক কাজেও ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস উৎপাদন এবং রাশিয়ার সহযোগিতায় বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন।


ইরানের কর্তৃপক্ষের যুক্তি, সামরিক চাপের মুখে পারমাণবিক কর্মসূচি সমর্পণ করা আত্মসমর্পণের শামিল হবে-বিশেষ করে যদি এর ফলে ইরান ভবিষ্যতে আরও হামলার ঝুঁকির মুখে পড়বে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়া যায়।

সর্বশেষ সব খবর

সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাস

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবে অবস্থানরত কিছু মার্কিন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন মিশন থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করছে ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মার্কিন কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।


সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলায় হতাহতের ঘটনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। দেশটির দাম্মাম শহরের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া সৌদি আরামকোর একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবে হামলার প্রেক্ষাপটে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন—এমন মার্কিন সরকারি কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


তিনি বলেন, ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে। এর মধ্যে বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও রয়েছে। এসব হামলায় হতাহতের পাশাপাশি যাতায়াতব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।


রয়টার্সকে চারজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও মার্কিন মিশনগুলো কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। তবে সৌদি আরবের বাইরে অন্য মিশনগুলোর বিষয়ে কোনো পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করেননি পিগট।


আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা


ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত এল। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, হুতিদের হামলা তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিস্তৃত এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের পর সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।


এর আগে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, শাইবাহ তেলক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করা ড্রোন ভূপাতিত করে সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুজন নিহত হন।


এদিকে, হুথিদের আরও হামলার আশঙ্কায় বুধবার সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে। এর আগে রিয়াদ বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে।


মার্চের শুরুতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে হামলা শুরু করার পর রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস ও সেখানে অবস্থিত সিআইএর কার্যালয়ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল।


সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৩ এএম

সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনায় বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার পর এই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। এসব ত্রুটিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলাকারীরা কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই সার্ভারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।


গত বুধবার পিএইচপি প্রকল্পের ডেভেলপাররা ত্রুটি সংশোধনের আপডেট প্রকাশ করেছেন। ব্যবহারকারীদের দ্রুত সেই আপডেট ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনেক জনপ্রিয় ওয়েবডিজাইন প্ল্যাটফর্মে পিএইচপি ব্যবহার করা হয়। ফলে এই নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে অনলাইন মার্কেটপ্লেস, সংবাদমাধ্যম, সরকারি সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।


সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজও এসব ত্রুটি শনাক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। উইজের ভাষ্য, পিএইচপিতে এ যাবৎ শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার ঘটনাগুলোর অন্যতম এটি। এমনকি সফটওয়্যারের ইতিহাসেও একে অন্যতম দুর্বলতা বলা যেতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট করার পরামর্শ দিয়েছে। অবিলম্বে আপডেট করা সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেমে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছে তারা।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে এনএসএ জানিয়েছে, এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হামলাকারীরা সরাসরি সার্ভারের ফাইল বা ডেটাবেজে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তা ছাড়া হামলাকারীরা কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই এসব দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সার্ভারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে।


পিএইচপি ফাউন্ডেশনের নিরাপত্তা প্রকৌশলী ভলকার ডুশ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছেন, গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে পিএইচপি এবারই সবচেয়ে গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যার মুখে পড়েছে। তিনি এর সঙ্গে ২০১৪ সালের আলোচিত ‘হার্টব্লিড’ ত্রুটির তুলনা করেছেন। সে সময়ও বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যার আপডেট করার হিড়িক পড়েছিল।


সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ক্যালিফ’ গত আগস্টে ওপেনএআইয়ের তৈরি ‘জিপিটি-৫.৬ সল মডেল ব্যবহার করে এসব ত্রুটি খুঁজে পায়। ওপেনএআইয়ের অর্থায়নে পিএইচপির কোড পর্যালোচনার সময় তারা এটি শনাক্ত করেছিল।


গুগলের মালিকানাধীন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘উইজ’ বলেছে, কয়েক সপ্তাহ পর তারাও নিজস্ব উদ্যোগে এসব ত্রুটি শনাক্ত করে। এ কাজে তারা গুগলের ‘জেমিনি ৪ আর্গন’ ও ‘জিপিটি-৫.৬ সল’ মডেলের সাহায্য নিয়েছিল।


ওপেনএআই এক্সে লিখেছে, তারা এটিকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এর মধ্য দিয়ে প্রযুক্তিতে নতুন এক ধাপ উন্মোচিত হলো। এখন পুরো ইন্টারনেটে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন বড় ত্রুটিও এআই নিজে খুঁজে বের করতে পারছে।


এ ত্রুটি সংশোধনের উদ্দেশ্যে পিএইচপি প্রকল্পের ডেভেলপাররা বুধবার একটি আপডেট প্রকাশ করেছেন। পিএইচপি ডেভেলপারদের তহবিল দেওয়া প্রতিষ্ঠান পিএইচপি ফাউন্ডেশন এক ব্লগ পোস্টে বলেছে, ‘আপনারা পিএইচপি ব্যবহার করলে এখনই আপডেট করা জরুরি।’


ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার অনুরোধে স্থানীয় প্রশাসনের ওয়েবসাইটগুলো বুধবার বিকেল থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্যারিস পুলিশের ওয়েবসাইটও রয়েছে।


নেদারল্যান্ডসের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনওএস জানিয়েছে, দেশটির ডিজিটাল পরিচয় যাচাই সেবা ‘ডিজিডি’, প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েবসাইট এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের ওয়েবসাইট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অফলাইনে রাখা হয়েছে।


বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্কতার অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার কথা এক্সে জানিয়েছে। তবে দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র জানিয়েছে, তখন পর্যন্ত বেলজিয়ামের কোনো ওয়েবসাইটে হামলার তথ্য নথিভুক্ত হয়নি।


অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি জানিয়েছে, পিএইচপির ত্রুটি যেসব ওয়েবসাইট আক্রান্ত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেটের নিজস্ব ওয়েবসাইট সাইবার ডট গভ ডট এইউ রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ পিএম

ফ্রান্সজুড়ে গত সপ্তাহে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সমর্থনে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। অনেকেই তাঁদের কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে অদ্ভুত একটি স্লোগান নিয়ে রাজপথে নেমেছেন। স্লোগানটি এমন-‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রার্থনাবাক্য ‘আল্লাহর নামে শুরু’ এবং ফরাসি বাক্যাংশ ‘এ তো অন্ধকার’-এর মিশ্রণে তৈরি এই বাক্যের বাহ্যিক কোনো অর্থ হয়তো তেমন পাওয়া যাবে না।


তবে গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষা সরঞ্জামের অভাবে তরুণদের প্রতিবাদ শুরু হওয়ার পর থেকে এই স্লোগান একটি প্রজন্মগত ব্যবধানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। ওই বিক্ষোভ পরে ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল।


বাক্যটি কীভাবে এল


ধারণা করা হয়, বাক্যটি প্রথম যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত অ্যাপ স্ন্যাপচ্যাটে ব্যবহার করেছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি প্রাইভেট চ্যাটরুমে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।


বার্তাপ্রেরক স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারীদের উদ্দেশ করে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ সম্ভাষণ জানান। বাক্যটি শুনতে অদ্ভুত। ফ্রান্সে তরুণদের ব্যবহৃত আরবি ও ফরাসি ভাষার সংমিশ্রণকে অনুকরণ করে বাক্যটি লেখা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। এরপর সেই লেখক যোগ করেন, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব’।


লেখক মামাদৌ ও আবদুল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রোফাইল থেকে কয়েকবার বার্তাটি পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।


অন্যান্য স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারী এই বাক্যকে হাস্যকর মনে করে বার্তার স্ক্রিনশট নেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। নিউইয়র্ক টাইমস বার্তাগুলোর মূল উৎস যাচাই করতে পারেনি।


এরপর কী ঘটল


অনেক তরুণের সন্দেহ, বার্তাগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এসেছে। তাঁরা আনাড়িভাবে শিক্ষার্থী প্রতিবাদ আন্দোলনে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।


বিক্ষোভকারীরা দ্রুত ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ বাক্যটিকে একটি ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। তাদের আন্দোলনকে দমন করতে কর্তৃপক্ষ যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তাকে উপহাস করা–ই ছিল এই স্লোগানের উদ্দেশ্য।


এই স্লোগানকে এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং আন্দোলনকারীদের বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার একটি রূপক হিসেবে অভিব্যক্তি দেখা হচ্ছে। ফরাসি উপনিবেশগুলোর সাবেক বাসিন্দাদের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ এবং আরব ফরাসিরা দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষের বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। বার্তাগুলোর মাধ্যমে তাদের ভুলভাবে তুলে ধরার পুলিশের চেষ্টা হিসেবে অভিযোগ করে আসছেন তাঁরা।


জানতে চাইলে ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এজেন্টরা এ ধরনের বাক্যটি ব্যবহার করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা স্বীকার করেছে, আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে অনলাইনে ছদ্মবেশ ধারণ করেন, যাতে বিক্ষোভে বেআইনি কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকারীদের ওপর নজরদারি রাখা যায়।


মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, এই প্রেক্ষাপটে, তদন্তকারী এজেন্টের একটি ছদ্মনাম তৈরি করার সুবিধা রয়েছে, যাতে ‘অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের যোগাযোগ বের করে সংরক্ষণ করা যায় এবং আইনি প্রক্রিয়ায় এসব কিছু প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।’


কেন এই বাক্য এতটা সাড়া ফেলল


শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের কাছে এই অদ্ভুত বাক্যটি তাদের আন্দোলন এবং সরকারের মধ্যকার প্রজন্মগত ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। সরকার তাদের দাবি মানতে অনেকটা অস্বীকৃতি জানিয়েছে বলে তাদের কাছে মনে হচ্ছে।


ফ্রান্সের প্রভাবশালী শিক্ষার্থী ইউনিয়নের মুখপাত্র সাবরিন খারবাচ বলেন, কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না। তরুণেরা এই বাক্যটিকে তাদের নিজস্ব করে নিয়েছে এটা বোঝাতে, তাদের আন্দোলনে নজরদারি বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চোখ এড়িয়ে যায় না। তারা সেগুলোর তোয়াক্কা না করেই নিজেদের গুছিয়ে নিতে সক্ষম।


বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদানি সাবাদি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, স্ন্যাপচ্যাট বার্তাগুলো কর্তৃপক্ষের একধরনের ‘পূর্বসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাস’-কে তুলে ধরেছে। কারা ব্যারিকেড তৈরি করছে বা ‘সবকিছু ভেঙে ফেলার’ চেষ্টা করছে, সেটা যেন তারা অনুমান করে ফেলেছে।


প্যারিসের উচ্চবিদ্যালয়ের ফেদ্রে কেমেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ জাতীয় কৌতুকে পরিণত হয়েছে। কারণ, ‘এটি একজন তরুণের অত্যন্ত বাজে এক নকল রূপ’।


ফেদ্রে আরও যোগ করেন, বাক্যটি বর্ণবাদের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এই বাক্যের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, যারা সম্পত্তি ভাঙচুর করতে যাচ্ছে, তারা সবাই আরব।


ফ্রান্সের বাইরে এই স্লোগান কীভাবে ছড়াল


‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ স্লোগানটি বেলজিয়াম ও জার্মানির অনুরূপ বিক্ষোভেও ব্যবহার করা হয়েছে।


সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ শিক্ষার্থী আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিওতে এই বাক্যটি উচ্চারণ করেছেন। ভিডিওতে থুনবার্গ ‘জেন-জি’ প্রজন্মের তরুণদের অন্যান্য অঙ্গভঙ্গিও দেখান। এর মধ্যে ‘সিক্স-সেভেন’ সম্পর্কিত একটি অঙ্গভঙ্গিও ছিল, যা মিম হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।


নতুন এই স্লোগানের ব্যবহার ভারতের ‘ককরোচ আন্দোলন’-এর হাস্যরসের সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে এক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল। ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণ ও বেকার ভারতীয়দের ‘পরজীবী’ এবং ‘রুই-কাতলা/কাকরোচ’ (তেলাপোকা) বলে ব্যঙ্গ করার পর প্রতিবাদকারীরা তাদের আন্দোলনের নামকরণ করেছিলেন সেই ব্যঙ্গাত্মক শব্দের নামে।


বিক্ষোভ কীভাবে শুরু হয়েছিল


গত মাসে ফরাসি স্কুলগুলোতে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থী বিক্ষোভের মূল দাবি ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ ভবনের উন্নয়ন, শিক্ষক বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং কঠিন সময়সূচি শিথিল করা।


অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। অন্তত ২৪টি স্কুলে আগুন দেওয়া হয় বা ভাঙচুর করা হয়। এসব সহিংসতায় জড়িত সন্দেহে সরকার প্রায় ৮ হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। 


ধীরে ধীরে বিক্ষোভটি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং অন্যান্য দলের জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে একাত্ম যায়। ওই আন্দোলন গত সপ্তাহান্তে দেশব্যাপী বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং এতে ব্যাপক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।


পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ আন্দোলনকারীদের আরও বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে।


গত মাস থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগের অন্তত ৩৪টি অভিযোগ তদন্ত করছে ফরাসি অফিশিয়াল ওয়াচডগ। ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। কাছ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গ্রেনেড ছোড়ায় ওই কিশোর পঙ্গু হয়ে গেছে।

সর্বশেষ সব খবর

লানা নুসাইবেহ

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ পিএম

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক লানা নুসাইবেহর নাম আলোচনায় এসেছে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা। তবে নতুন মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় প্রতিযোগিতা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের।


কূটনীতিকদের বরাতে জানা গেছে, নুসাইবেহর সমর্থকরা জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সমর্থন যাচাই করছেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে আমিরাতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।


এদিকে মহাসচিব পদের আনুষ্ঠানিক প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থার প্রধান রেবেকা গ্রিনস্প্যান। নিরাপত্তা পরিষদের সর্বশেষ অনানুষ্ঠানিক ভোটে তিনি নয়টি সমর্থনসূচক ভোট পেয়েছেন। তবে ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি স্থায়ী সদস্য তার বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও দুটি বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।


নুসাইবেহর সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে আঞ্চলিক রাজনীতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সুদানের গৃহযুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে আমিরাত সমালোচনার মুখে রয়েছে। আবুধাবি অবশ্য সংঘাতে জড়িত কোনো পক্ষকে অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


এ ছাড়া সৌদি আরব তার প্রার্থিতাকে কীভাবে দেখবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই উপসাগরীয় দেশের মধ্যে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা রয়েছে।


জাতিসংঘে এবার লাতিন আমেরিকার কাউকে মহাসচিব করার অনানুষ্ঠানিক প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পুরুষ মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পর একজন নারীকে এ পদে বসানোর দাবিও আলোচনায় রয়েছে।


তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রার্থী নির্বাচনে অঞ্চল বা লিঙ্গের চেয়ে যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।


এদিকে জাতিসংঘের বাজেট সংকট, বৈশ্বিক সংঘাত এবং সংস্থাটির সংস্কারের চাপের মধ্যে নতুন মহাসচিবকে দায়িত্ব নিতে হবে।


সূত্র: ফিনান্সিয়াল টাইমস

সর্বশেষ সব খবর