ছবি : সংগৃহীত
তুরস্ক ও সিঙ্গাপুর পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের তারিখ ঘোষণা করেছে। গতানুগতিক চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর না করে জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনার ভিত্তিতে দেশ দুটি পৃথক দুই দিনে ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তুরস্কের কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, দেশটিতে আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) ঈদুল ফিতর পালিত হবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার তুরস্ক ও এর আশপাশের অঞ্চল থেকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ভিত্তিতেই শুক্রবার ঈদের দিন ধার্য করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর নিশ্চিত করেছে যে দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার)। জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর থেকে চাঁদ দেখা সম্ভব হবে না।
উভয় দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার দেশ দুটিতে রমজান মাসের ২৮তম দিন অতিবাহিত হচ্ছে। লুনার ভিজিবিলিটি মডেল অনুসরণ করে এই ঈদের তারিখগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে।
চাঁদের মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি
আর মনে হয়, আয় আয় চাঁদ মামা ছড়া বলা যাবে না। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার চাঁদের মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করেছেন। চাঁদের মালিকানা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ ছবিও প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, চাঁদ তাঁদের দেশের সম্পত্তি। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে চাঁদের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘চাঁদ আমাদের’। ছবির পাশে তিনি একটি মার্কিন পতাকা যুক্ত করেন। এর কিছুক্ষণ আগে তিনি স্পেস ফোর্সের নতুন কালো পোশাকের ছবি শেয়ার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা এসব পোস্ট স্টার ওয়ার্স সাম্রাজ্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। স্টার ওয়ার্স ইম্পেরিয়াল মার্চ বাজানোর কথাও বলেন কেউ কেউ। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, মঙ্গলের পরে কি তবে সূর্য দখল করা হবে। আরেকজন প্রশ্ন করেন, মঙ্গলের বাসিন্দাদের কীভাবে সতর্ক করা যাবে।
ছবিতে ট্রাম্পকে ডিসি সুপারহিরো গ্রিন ল্যান্টার্ন হিসেবে দেখানো হয়েছে। ছবিতে ট্রাম্প ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এবং তাঁর হাতে রয়েছে একটি উজ্জ্বল সবুজ রঙের পাওয়ার রিং বা ক্ষমতা বলয়। পোস্টের সঙ্গে সুপারহিরোর বিখ্যাত শপথ বাক্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, উজ্জ্বল দিনে বা অন্ধকার রাতে কোনো মন্দই চোখের আড়ালে থাকবে না। মন্দের উপাসকেরা ক্ষমতার ভয় করবে, কারণ তাদের সামনে রয়েছে গ্রিন ল্যান্টার্নের আলো।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সালের মহাশূন্য চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদ দখল করতে পারে না। আমেরিকাসহ ১০০টির বেশি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় সার্বভৌমত্ব বা দখলের মাধ্যমে কোনো দেশ মহাশূন্যের কোনো বস্তুও দাবি করতে পারবে না। আর তাই চাঁদের মালিকানা দাবি ও স্পেস ফোর্সের পোস্ট নিয়ে অনলাইনে বেশ উদ্বেগ দেখা গেছে।
সূত্র: সিএনবিসি টিভি ১৮
ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থ রক্ষা করে না। শান্তি স্থাপনে চীন ব্রিকসের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে একত্রে কাজ করবে।’ ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত নিয়ে এক মন্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রিকস জোটের দেশগুলোকে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোকে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরোধিতা করারও আহ্বান শি জিনপিং।
আজ শনিবার ব্রিকস সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনে যথাযথ ভূমিকা পালনের জন্য ব্রিকস-এর অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক চীন। এই যুদ্ধ ওই অঞ্চলজুড়ে জনগণের গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাধারণ স্বার্থের পক্ষে না।
তিনি বলেন, ব্রিকস দেশগুলোর উচিত সব ধরনের ‘সুরক্ষাবাদ’ প্রত্যাখ্যান করা। আমাদের উচিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বহুমুখী বাণিজ্য ব্যবস্থাকে সমর্থন করা এবং সব ধরনের সুরক্ষাবাদ প্রত্যাখ্যান করা। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্কের বিরোধিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।
শি জিনপিং ব্রিকস জোটকে ‘গ্লোবাল সাউথের’ নেতৃত্বস্থানীয় এবং উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর আত্মনির্ভরশীলতার মডেল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই জোটের উচিত উদ্ভাবন-ভিত্তিক উন্নয়নকে উৎসাহিত করা।
ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে নজিরবিহীন ও জটিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। বিদেশি নেতাদের নিজস্ব নিরাপত্তা দলের সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হচ্ছে।
সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিং জানান যে চীন আগামী বছর ব্রিকসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং ১৯তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে।
এদিকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগে জোটের সদস্যদেশগুলো একটি যৌথ ঘোষণার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এতে কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানোর কথা বলা হয়। সংঘাত নিরসনে ‘সংলাপ ও কূটনীতিকে’ সামনে রাখার কথাও বলে জোটের সদস্যরা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যৌথ ঘোষণায় কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এবারের সম্মেলনের আগে ব্রিকসের কূটনীতিকেরা কয়েক দিন ধরে যৌথ ঘোষণার ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন। শেষ পর্যন্ত এমন একটি ভাষায় ঐকমত্য হয়েছে, যা ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-দুই দেশই মেনে নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
চলমান যুদ্ধের কারণে আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুদ্ধের সময় আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইরান ও আমিরাতের মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে এবার সদস্যদেশগুলোকে একটি অভিন্ন অবস্থানে আনতে পারাকে ভারতের কূটনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারত এবার ব্রিকসের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট মোকাবিলায় ‘সংলাপ ও কূটনীতিকে’ সমাধানের পথ হিসেবে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সরবরাহ বহনকারী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ওপরও জোর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে ব্রিকস। জোটের কয়েকটি দেশ বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।
তাদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব বেশি। এবারের সম্মেলনে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
নয়াদিল্লির এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ জোটের নেতারা অংশ নিচ্ছেন।
ব্রিকসের সদস্যদেশগুলোর সম্মিলিত জনসংখ্যা বিশ্বের ৪০ শতাংশের বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও তাদের অংশ প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
খবর- রয়টার্স
লেমুর চুরির ঘটনা
গাজীপুরের শ্রীপুরে সাফারি পার্ক থেকে দুটি রিং-টেইলড লেমুর চুরির ঘটনায় ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানির প্রতিষ্ঠিত বনতারা কর্তৃপক্ষের নাম আসার পর নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বনতারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনায় প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে তারা অবগত। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে তারা এখন পর্যন্ত কোনো নোটিশ বা অনুরোধ পায়নি।
বনতারা আরও বলেছে, বিভিন্ন প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদের কারও সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ বা লেনদেন হয়নি। তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিটি প্রাণী ভারতের আইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান অনুযায়ী রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের কাছে থাকা রিং-টেইলড লেমুরগুলোর সম্পূর্ণ নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনে তারা প্রস্তুত। একই সঙ্গে লেমুরগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিকভাবে ডিএনএ যাচাইয়ের উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছে তারা। আইনসম্মত যেকোনো অনুরোধে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে বনতারা কর্তৃপক্ষ।
এদিকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানিয়েছে, গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি লেমুর ভারতে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। তদন্তে প্রাণী দুটির অবস্থান বনতারা এলাকায় শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো বাংলাদেশ থেকে চুরি যাওয়া লেমুর কি না, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ জন্য ডিএনএ প্রোফাইলের বিষয়টি সামনে এলেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ, গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা ওই দুটি লেমুরের ডিএনএ প্রোফাইল আগে থেকে সংরক্ষণ করা হয়নি।
বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী জানিয়েছেন, তাদের ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে। বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের ফরেনসিক ল্যাবও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে (ডিএফও) বলা হয়েছে।
বন্য প্রাণী চোরাচালান শনাক্ত এবং পাচার হওয়া প্রাণী দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ডিএনএ প্রোফাইল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। একই প্রজাতির একাধিক প্রাণীর মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণী কোথা থেকে এসেছে, তা শনাক্ত করতেও এটি কার্যকর।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান বলেন, সব প্রাণীর না হলেও মূল্যবান প্রাণীগুলোর অন্তত ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণ করা উচিত। লেমুর দুটির ডিএনএ প্রোফাইল আগে থেকে সংরক্ষিত থাকলে বর্তমানে প্রাণী দুটির পরিচয় নিশ্চিত করে সেগুলো বাংলাদেশের বলে দাবি প্রতিষ্ঠা করা সহজ হতো।
গাজীপুর সাফারি পার্কের লেমুরগুলো ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে জব্দ করা হয়েছিল। পরে বন বিভাগের নির্দেশে সেগুলো সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। সেখানে লেমুরের ছানাও জন্ম নেয়।
২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি লেমুর মারা যায়। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে দুটি লেমুর চুরি হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় জল ও কাদায় ডুবে যাওয়া একটি সুড়ঙ্গে টানা নয় দিন আটকে ছিলেন সঞ্জয় সাহা। খাবার ছিল না। চারপাশে ছিল অন্ধকার, ভাঙা যন্ত্রপাতি ও ধ্বংসস্তূপ।
বেঁচে থাকতে তিনি পাহাড়ের শিলা চুইয়ে পড়া পানি ও বন্যার পানি পান করেছেন। উদ্ধার হওয়ার পর শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই নেপালি।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সঞ্জয় বলেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে ধ্বংসস্তূপের আঘাতে চোখে চোট লাগার ভয়েই দিনের পর দিন চোখ বন্ধ করে রাখতেন। এত বেশি সময় চোখ বন্ধ রাখার পর একসময় চোখ মেলাও কঠিন হয়ে গিয়েছিল।
সঞ্জয় সাহা নেপালের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির আওতাধীন আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে তিন বছরের বেশি সময় ধরে যন্ত্রকৌশল বিভাগের ফোরম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন। জলবিদ্যুৎকেন্দ্রটির বহুতল পাওয়ারহাউসটি পাহাড়ের ভেতরে নির্মিত।
গত আগস্টের শেষ দিকে হিমবাহ ধসে নেপালের বিভিন্ন উপত্যকায় ভয়াবহ বন্যা ও ধসের সৃষ্টি হয়। এতে নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে অন্তত ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি।
‘হাল ছেড়ে দেওয়ার কী দরকার’
সঞ্জয় জানান, হতাশা তাকে গ্রাস করতে চাইলে তিনি ভগবান কৃষ্ণের ভক্তদের মধ্যে প্রচলিত মহামন্ত্র জপ করতেন-‘হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে’। এতে তার মনে একধরনের আধ্যাত্মিক অনুভূতি তৈরি হতো এবং ভয় অনেকটা কেটে যেত।
সঞ্জয় বলেন, ‘আমার যদি মরতেই হয়, তাহলে এত তাড়াতাড়ি হাল ছেড়ে দেওয়ার কী দরকার? তাই আমি ঈশ্বরের নাম জপ করতে থাকি।’
তিনি জানান, সুড়ঙ্গের ভেতর খাবার ছিল না। পাহাড়ের শিলা চুইয়ে পড়া পানি ও বন্যার পানি পান করেই বেঁচে ছিলেন।
সুড়ঙ্গের ষষ্ঠ তলার একটি অংশে এমন একটি জায়গা ছিল, যেখান থেকে নিচের দিকে তাকানো যেত। সেখান থেকে তিনি চিৎকার করে জানতে চাইতেন, আর কেউ বেঁচে আছেন কিনা। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি।
সঞ্জয় বলেন, শুরুতে তার বিশ্বাস ছিল উদ্ধারকারী দল আসবে। দিন যত গড়িয়েছে, সেই বিশ্বাসও ধরে রেখেছিলেন। বাইরে তার পরিবার অপেক্ষা করছে- এই চিন্তাই তাকে শক্তি দিয়েছে। তার দুই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছিলেন
সুড়ঙ্গে আটকে থাকার সময়ের হিসাব একেবারেই হারিয়ে ফেলেছিলেন সঞ্জয়। তার ধারণা ছিল, হয়তো দুই বা তিন দিন কেটেছে। কিন্তু উদ্ধার হওয়ার পর জানতে পারেন, তিনি প্রায় ১০ দিন সেখানে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমি যেন অন্য একটি জগতে বাস করছি।’
বন্যার পানিতে সুড়ঙ্গটি কাদা ও ধ্বংসাবশেষে পুরোপুরি বদলে যায়। আগে যে সুড়ঙ্গের প্রতিটি অংশ তার পরিচিত ছিল, পরে সেখানে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা যন্ত্রপাতি ও বাক্স, ভেঙে পড়া দেয়াল এবং জমে থাকা ধ্বংসাবশেষে তৈরি হয় গর্ত ও উঁচু ঢিবি।
সঞ্জয় জানান, প্রথম দিকে তিনি সুড়ঙ্গের ভেতরে চলাচলের চেষ্টা করেছিলেন। পরে বুঝতে পারেন, অন্য জায়গায় গেলে আরও বিপজ্জনকভাবে আটকে পড়তে পারেন। তাই তুলনামূলক নিরাপদ মনে হওয়া একটি জায়গায় ফিরে গিয়ে সেখানেই অবস্থান করেন। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা তাকে সেখান থেকেই উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে বুঝতে পেরেছিলেন
উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা আগে বাইরে থেকে বিভিন্ন শব্দ শুনতে পান সঞ্জয়। খননযন্ত্রের শব্দ, মইয়ের ধাতব শব্দ- এসব শুনে তার মনে আশা জাগে। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়ার প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা আগে বাইরের মানুষের কাজ করার শব্দ স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলেন। তখন তার মনে হয়েছিল, উদ্ধারকারী দল তার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
সঞ্জয়ের সঙ্গে একই সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছিলেন ৪৫ বছর বয়সী কবির মহার্জন। বন্যার সময় দুজনই সুড়ঙ্গের ওপরের দিকে উঠেছিলেন। তারা মনে করেছিলেন, বড় ধরনের বন্যা হলেও এত ওপরে পানি পৌঁছাবে না।
কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই নিচ থেকে পানি ঢুকতে শুরু করে। প্রথমে বাতাসের চাপ অনুভূত হয়, পরে পানি ঢুকে পড়ে। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে দুজন আলাদা হয়ে যান। সঞ্জয়ের মোবাইল ফোনও পানিতে ভেসে যায়। কবির কোথায় গেছেন, তিনি জানেন না।
কবির পরে উদ্ধার হন এবং সঞ্জয়ের চেয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
সঞ্জয় জানান, তিনি নিজে বেঁচে ফিরলেও সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে আসার পর কয়েকজনকে বন্যার পানি ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ওই ব্যক্তিদের তিনি সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটাই সবচেয়ে কষ্টের বিষয়।’
সূত্র: রয়টার্স
ছবি : সংগৃহীত
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দিল্লির পথে রওনা হওয়ার মধ্যে গুয়াংজু-নয়াদিল্লি রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে ‘চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স’।
কোম্পানিটির বরাতে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস লিখেছে, দীর্ঘ ছয় বছর বাদে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তারা নিয়মিত ফ্লাইট চালু করবে।
ফ্লাইট পুনরায় চালুর পর দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের আটটি যাওয়া-আসার রুটে প্রতি সপ্তাহে ১০০টির বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে এয়ারলাইন্সটি।
এনডিটিভি লিখেছে, কোভিড মহামারী এবং সীমান্ত এলাকা ডোকলাম ও গালওয়ান উপত্যকায় সংঘাতের পর ভারত ও চীনের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
চলতি বছর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার মধ্যে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। প্রায় ছয় বছর পর গত ফেব্রুয়ারিতে চীন ও ভারতের মধ্যে পুনরায় ফ্লাইট চালু করে ভারতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা ‘এয়ার ইন্ডিয়া’।
এরপর এপ্রিলে বেইজিং-দিল্লি রুটে সরাসরি ফ্লাইট শুরু করে ‘এয়ার চায়না’। এর আগে কুনমিং থেকে কলকাতার মধ্যে ফের ফ্লাইট চালু করে ‘চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স’। অন্যদিকে ভারতের উড়োজাহাজ সংস্থা ‘ইন্ডিগো’ গত ৩০ মার্চ কলকাতা ও সাংহাইয়ের মধ্যে তাদের প্রথম সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে, যা দুই দেশের আকাশ যোগাযোগ জোরদারে বড় ভূমিকা রাখছে।
এনডিটিভি লিখেছে, চীনে ইন্ডিগোর কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর আগে কোম্পানিটি কলকাতা থেকে গুয়াংজু রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করে, পরে দিল্লি থেকেও কার্যক্রম শুরু করে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। শনিবার বিকালে তাদের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত পারাপার কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে ইরাক
সৌদি আরবে সর্বশেষ ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শালামচেহ সীমান্তপথ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইরাক। আজ শনিবার দেশটির দুটি নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ধরতে ইরাকে ব্যাপক অভিযান চলছে। এর মধ্যেই শালামচেহ সীমান্তপথ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরাক ও ইরানের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলসীমান্তপথ শালামচেহ। ইরান থেকে ইরাকে যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে এই সীমান্তপথটি গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। ইরাকের সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্তকে তাই সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বাগদাদের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার সৌদি আরব জানায়, ইরাক থেকে উৎক্ষেপিত ড্রোন দিয়ে তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে’ হামলা চালানো হয়। এরপরই সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন।
হরমুজ প্রণালিতে তেল বাণিজ্যের জট কমাতে এই পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। যুদ্ধ প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে থাকার এমন সময়ে পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উপসাগরীয় তেল সরবরাহের ওপর আরও চাপ তৈরি হলো।
খবর: রয়টার্স