ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ এএম

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) ২৭ সেনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সামরিক আদালত। আদালতের নথির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় সম্মুখসারির অবস্থান ছেড়ে পিছু হটার দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উভিরার সামরিক আদালতে ২১তম সিম্বা ব্যাটালিয়নের অন্তত ১১২ সেনার বিচার শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর।


আগস্টে পূর্ব কঙ্গোতে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় সামরিক নির্দেশ অমান্য ও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে।


আদালত জানিয়েছে, নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ৫৪ সেনাকে শুক্রবার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ সেনাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে, পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় অন্তত ২১ সেনাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস পাওয়া সেনাদের মধ্যে পাঁচজন নারী রয়েছেন।


কৌঁসুলিরা জানান, উভিরাকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকাগুলো নিরাপদ রাখতে এসব সেনাকে মোতায়েন করা হয়েছিল।


এর আগে মে মাসে একই ধরনের ঘটনায় ডিআর কঙ্গোর একটি সামরিক আদালত ৫৮ সেনাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন। এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় সম্মুখসারি থেকে সরে যাওয়ায় ‘নির্দেশ অমান্যের’ অভিযোগে তাদের সাজা দেওয়া হয়।


স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সর্বশেষ এই বিচার চলার মধ্যেও উভিরা এলাকায় এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।


পূর্ব কঙ্গোর চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান পক্ষ এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। ২০২৫ সালের শুরুতে গোমা ও বুকাভু শহর দখলের পর গোষ্ঠীটি পূর্ব কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।


কঙ্গো সরকার, জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো এম২৩-কে সমর্থনের জন্য প্রতিবেশী রুয়ান্ডাকে দায়ী করে আসছে। তবে রুয়ান্ডা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৯ পিএম

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পক্ষ থেকে ঠিকাদারদের একটি পারমাণবিক চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর) তৈরির প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশনা দেওয়া হয় গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে। চুল্লিটি মহাকাশ যাত্রায় টিকে থাকার পাশাপাশি চাঁদের দক্ষিণ মেরু এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই চলতে পারবে। নাসা ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করতে চাচ্ছে। সংস্থাটির এই তাড়াহুড়োর পেছনে একটি কারণ আছে। চীনের সঙ্গে গোপন চুক্তির ভিত্তিতে ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক চুল্লি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাশিয়া। আর তাই প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে যেতে নাসা তাদের সময়সূচি এগিয়ে এনেছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও চীন– উভয়ই সবার আগে চাঁদে নিজেদের ঘাঁটি স্থাপন করতে চায়। তাদের লক্ষ্য উপগ্রহটিতে জমে থাকা বরফ বা পানির মতো সম্পদের সন্ধান করা এবং সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান চালানো। এই অভিযানের জন্য চাঁদের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। দুই পরাশক্তির বিশ্বাস, উচ্চাকাঙ্ক্ষাটি পূরণের মূল হাতিয়ার হলো একটি পারমাণবিক চুল্লি।


দেশগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুল্লিগুলো চাঁদে পৌঁছানোর পরই কেবল সেগুলো চালু করা হবে। তবে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন বিজ্ঞানী এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, কয়েকটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের পরও দেশগুলো মহাকাশ গবেষণায় অনেক বেশি তাড়াহুড়ো করছে।


গত ছয় বছরে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার একাধিক রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ ও বিস্ফোরিত হয়েছে। চুল্লি স্থাপনে কোনো ব্যর্থতার কারণে মারাত্মক পরিণতিসহ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টসের পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক এডউইন লিম্যান বলেন, মহাকাশ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যদি পারমাণবিক শক্তি যুক্ত হয়, তবে তা সম্ভাব্য আরও বিপদের দিকে মোড় নিতে পারে।


এদিকে, উপগ্রহটিতে যে কোনো স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। পারমাণবিক চুল্লিগুলো চালানোর জন্য সূর্যের আলো দরকার হয় না। এগুলো আকারেও বেশ ছোট হতে পারে। নাসা ও কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের মতে, সঠিকভাবে নকশা করা গেলে এগুলো পরিচালনায় মানুষের হস্তক্ষেপেরও তেমন প্রয়োজন হবে না।


প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নাসা ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে মঙ্গলগ্রহে একটি মহাকাশযান পাঠাতে চায়, যেটিতে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এমন ঘটনা আগে ঘটেনি। এর আগে প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত সময়সূচি কয়েক দফায় পেছানো হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশগুলো তাদের কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশা করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া চাঁদের অমসৃণ পৃষ্ঠে ভারী এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ নামাতে সক্ষম ল্যান্ডারও কারও কাছে নেই।


যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জানিয়েছে, চাঁদে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাদের চুল্লিগুলো নিষ্ক্রিয় থাকবে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এটিকে ‘আন-ইরেডিয়েটেড’ বা তেজস্ক্রিয়তামুক্ত বলা হয়। এর ফলে ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রকেট উৎক্ষেপণের সময়। মহাকাশে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিওপোল্ড সুমারার বলেন, উৎক্ষেপণের মুহূর্তটিতে প্রচুর ঝুঁকি থাকে। অতীতে রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে।


বেশির ভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রই (লঞ্চপ্যাড) কোনো না কোনো জলাশয়ের কাছাকাছি অবস্থিত। কোনো চুল্লি পানিতে আছড়ে পড়লে নিউট্রনের গতি কমে যায়। ফলে পরমাণু বিভাজনের শঙ্কা বাড়ে। এটি একটি চুল্লিকে ‘ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে।


পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৯ সালে রাশিয়ায় সম্ভবত এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় চুল্লিচালিত একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যর্থ হয়ে শ্বেত সাগরে (হোয়াইট সি) আছড়ে পড়ে। তবে রাশিয়া এই দাবি অস্বীকার করে বলেছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি চুল্লিচালিত ছিল না।


নাসা বলেছে, তারা বিপদ এড়াতে সক্ষম এমন নকশা তৈরি করছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি কোম্পানি রোসাটম মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

বিষয় :


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২২ এএম

ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে সব বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই ঘাঁটিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঘটনার পর ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তের কথা জানা গেল। খবর বিবিসির।

 

রবিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রে তাদের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে কেন এসব বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো কারণ জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র।


তবে ব্রিটিশ সরকারের সূত্রগুলো ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তটি ফেয়ারফোর্ডের সাম্প্রতিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত—এমন বিষয় অস্বীকার করেনি। বিবিসি জানিয়েছে, এটি কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল পর্যায়ে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের ব্রিটিশ সমপদস্থ কর্মকর্তাদের-কে বিষয়টি জানিয়েছে। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

 

ফেয়ারফোর্ডে সন্দেহজনক গাড়ি, গ্রেপ্তার ৬

 

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের গ্লুচেস্টারশায়ারে মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি ‘সন্দেহজনক গাড়ি’ চলাচলের খবর পেয়ে পুলিশকে সতর্ক করা হয়। এর পর ঘাঁটির আশপাশ থেকে পাঁচজনকে সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের পুলিশি জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের বয়স ২৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তারা সবাই লন্ডনের বাসিন্দা ব্রিটিশ নাগরিক। প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগ আনা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও কৌশলগত বিবেচনায় ওই পাঁচজনকে জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


পরে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককেও লন্ডন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহের অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। শনিবার পুলিশ জানায়, তাকেও জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


ইরানের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত


ঘটনার কয়েক দিন পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে তিনি এর পক্ষে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি। ইরান অবশ্য এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে।


এর আগে, ষষ্ঠ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কয়েক দিন আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, এই ঘটনায় ‘স্পষ্টতই কোনো বিদেশি পক্ষের হাত’ রয়েছে। তবে টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এর বেশি কিছু জানাতে পারেননি।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাঁচ সন্দেহভাজনকে জামিনে ছেড়ে দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, 'আমরা তাদের সম্পর্কে সবকিছু জানি। আমরা তাদের ছেড়ে দিতাম না।'


তবে ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে 'খুব ঘনিষ্ঠভাবে' কাজ করেছে।


ইরানের হামলার আশঙ্কা


আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বহু দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর (ইউএসএএফ) একটি অগ্রবর্তী অপারেটিং ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে অভিযান পরিচালনার জন্য মার্কিন বোমারু বিমানগুলো এই ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছে।


ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ফেয়ারফোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল ব্রিটেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জুলাইয়ে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, 'ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি আমাদের বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।'


ফেয়ারফোর্ডের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সব বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নতুন করে ওই ঘাঁটির নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৮ এএম

ইরানের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি। ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন। 


আলী ফাদাভি বলেন, ‘আমেরিকানরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে। এটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল না। ইসলামিক রিপাবলিক ও আইআরজিসির স্থলবাহিনীর শক্তির কারণেই তারা এমনটা করতে বাধ্য হয়েছে।’


ফাদাভি আরও দাবি করেন, প্রথমবারের মতো পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন নৌযান নেই।


মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আইআরজিসির হামলার ক্ষেত্রে ‘১০০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


তবে ফাদাভি এমন দাবি করলেও ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত সপ্তাহে জানিয়েছে, জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত কঠোরভাবে অবরোধ কার্যকর নিশ্চিত করতে তারা ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।


হরমুজ প্রণালি টহল দিচ্ছে আইআরজিসির নৌবাহিনীর সদস্যরা। ছবি : গেটি ইমেজেস

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৩ এএম

জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না বলে জানিয়েছে ইরান। রোববার (০৪ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ কথা বলেছেন।


ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট ও দৃঢ়। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে নির্ধারিত আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না।’


জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে বলা হয়, নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব। গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওই প্রস্তাবের জবাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র।


ইরানের প্রধান আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটনকে বুঝতে হবে, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে।


রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের বিষয়ে ইরান তার মৌলিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কিছু বিষয় জানানো বাকি রয়েছে।


বাঘাই বলেন, ‘পারমাণবিক ইস্যুসহ বেশির ভাগ বিষয়ে আমেরিকানদের প্রস্তাব আগের অবস্থানের কাছাকাছি। আমরা তাদের জানিয়েছি, এই পর্যায়ে আমাদের মূল মনোযোগ হরমুজ প্রণালির ওপর। এই নৌপথে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।’


ইরান তার পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থার পরিদর্শনের বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে; এমন খবরও নাকচ করেছেন বাঘাই। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা শুরু করেনি তেহরান।


আলোচনার বিষয়ে অবহিত এক কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, প্রচারিত নথিতে সাত দিনের আস্থাবর্ধক একটি প্রক্রিয়ার কথা রয়েছে। এর লক্ষ্য জুনে হওয়া সমঝোতা স্মারকের আরও বিস্তৃত সংস্করণে দুই দেশকে ফিরিয়ে আনা। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপও রয়েছে। তবে পরিকল্পনার বিষয়বস্তু নিয়ে নয়, কোন পদক্ষেপ আগে বাস্তবায়িত হবে এ নিয়েই মূল মতবিরোধ রয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।


সূত্র : রয়টার্স


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এএফপি

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪০ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসানে সামরিক কোনো সমাধান নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও এই যুদ্ধ তারা থামাতে পারবে না। খবর আইআরএনএর।


রোববার (০৪ অক্টোবর) তেহরানে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি বলেন, তেহরান আশা করে ওয়াশিংটন কূটনীতির পথ বেছে নেবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরান পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। মনে রাখতে হবে, কোনো সামরিক আগ্রাসনে এই যুদ্ধ থামবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এই যুদ্ধ থামাতেও পারবে না।


তিনি বলেন, শুধু আলোচনা, ন্যায়বিচার ও কূটনৈতিক মর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সমাধানই বর্তমান পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে এবং এই যুদ্ধ ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে চালানো বেআইনি আগ্রাসন বন্ধে চূড়ান্ত সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে।


এর আগে বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করলে ইরান আরও ব্যাপক ও শক্তিশালী জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।



এদিকে রোববার ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়াবে।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। এর জবাবে তেহরান অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং কার্যত কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে।


যুদ্ধের অবসানে গত ১৮ জুন একটি কাঠামোগত চুক্তি হওয়ার পর থেকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথ তৈরি করা, যেখানে কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি; দুই বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি


ইতালি। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ পিএম

বিদেশি কর্মীদের জন্য বড় পরিসরে শ্রমবাজার খুলছে ইতালি। দেশটির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ‘ডিক্রেতো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ সালে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়া হবে। এর মধ্যে মৌসুমি, অমৌসুমি ও স্বনিয়োজিত-তিন ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে।


ইতালির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০ জনকে অমৌসুমি চাকরিতে, ৮৯ হাজার জনকে কৃষি ও পর্যটন খাতের মৌসুমি কাজে এবং ৬৫০ জনকে স্বনিয়োজিত কাজের জন্য নেওয়া হবে। পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা বা কেয়ারগিভিং খাতের জন্য অমৌসুমি কোটার মধ্যে ১৪ হাজার স্থান রাখা হয়েছে।


এই কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশও যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে। ইতালির সরকারি তালিকায় বাংলাদেশসহ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, নেপাল-সংলগ্ন বিভিন্ন শ্রমবাজারের দেশ এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য কোটা রাখা হয়েছে।


২০২৭ সালের কোটার জন্য আবেদনপত্র প্রাক-পূরণ বা ‘প্রিকম্পাইলেশন’ শুরু হবে ২৩ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের Portale Servizi ALI প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।


তবে সাধারণভাবে বিদেশি কর্মী নিজে সরাসরি এই কোটার আবেদন করেন না। ইতালিতে থাকা নিয়োগকর্তা বা অনুমোদিত প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট কর্মীর জন্য চাকরির অনুমোদন বা nulla osta চেয়ে আবেদন করেন। এরপর অনুমোদন পেলে কর্মী নিজ দেশে ইতালীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে কাজের ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।


২০২৭ সালের ‘ক্লিক ডে’ নির্ধারণ করা হয়েছে খাতভেদে আলাদা দিনে। কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মীদের আবেদন জমা শুরু হবে ১২ জানুয়ারি ২০২৭, পর্যটন খাতে ৯ ফেব্রুয়ারি, অমৌসুমি কাজের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি এবং পরিবারভিত্তিক পরিচর্যা খাতের জন্য ১৮ ফেব্রুয়ারি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আবেদন শুরু হবে ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়। কোটা অবশিষ্ট থাকা সাপেক্ষে আবেদন জমা দেওয়া যাবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত।


ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮- এই তিন বছরে মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জনের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।


কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেবল বৈধ নিয়োগকর্তা ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আবেদন এগোয়। তাই চাকরি বা ভিসার নামে কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অর্থ দেওয়ার আগে নিয়োগপত্র, নিয়োগকর্তা এবং nulla osta–র সত্যতা যাচাই করা জরুরি।