ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট রয়েছে- সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। 


তবে এই হিসাবটি দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) এবং মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের পরিমাণকে একসঙ্গে ধরে করা হয়েছে। ফলে এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত তেল সরবরাহ পরিস্থিতি সঠিকভাবে উঠে আসে না।


মার্কিন জ্বালানি বিভাগের (ডিওই) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেলের মজুত। মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের চারটি ভূগর্ভস্থ লবণের গুহায় এই তেল সংরক্ষণ করা হয়। এসব স্থাপনার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল।


অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া হিসাব অনুযায়ী, এসপিআরে রয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ ও ব্যবহার হয়। এই দুটি সংখ্যা ভাগ করে প্রায় ১৪ দিনের হিসাব পাওয়া যায়। কিন্তু এই হিসাবের সমস্যা হলো, এসপিআরে থাকা অপরিশোধিত তেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। প্রতিদিনের ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেলের হিসাবের মধ্যে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রয়েছে। এগুলো সরাসরি এসপিআরের অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়।


যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ কেবল কৌশলগত মজুতের ওপর নির্ভর করে না। দেশটির নিজস্ব অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বাণিজ্যিক মজুত, আমদানি, শোধনাগার এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের মজুত-সব মিলিয়ে একটি বড় সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। দেশটির বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। 


একই সময়ে শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করে। অর্থাৎ দেশটির তেল সরবরাহ একটি চলমান ব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদন, আমদানি, বাণিজ্যিক মজুত, শোধন ও রপ্তানি—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করে।


এসপিআর যুক্তরাষ্ট্রের তেলের প্রধান ভাণ্ডার নয়; এটি জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য একটি ব্যাকআপ ব্যবস্থা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবরোধ বা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করতে এই মজুত ব্যবহার করা হয়।


১৯৭৩-৭৪ সালের আরব তেল নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ১৯৭৫ সালে কংগ্রেস এসপিআর প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। দেশের তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও পরিবহন অবকাঠামোর কাছাকাছি মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে লবণের গুহায় এই মজুত গড়ে তোলা হয়।


২০২০ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল জমা ছিল। তবে ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট নাগাদ এই পরিমাণ কমে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। বাইডেন ও ট্রাম্প—দুই প্রশাসনের সময়ই বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে এসপিআর থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে।


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এ সময় বাইডেন প্রশাসন এসপিআর থেকে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। প্রায় ছয় মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়।


পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই সমন্বিত তেল ছাড়ার ফলে গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ১৭ থেকে ৪২ সেন্ট পর্যন্ত কমতে সহায়তা করেছিল। তবে এর ফলে কৌশলগত মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এরপর মজুত পুনরায় পূরণের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে তেলের পরিমাণ প্রায় ৪১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল।


২০২৬ সালে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্নের আশঙ্কার মধ্যে আবারও কৌশলগত মজুত ব্যবহার করা হচ্ছে। গত মার্চে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) ৩২টি সদস্য দেশ জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়। আইইএর ইতিহাসে এটি ছিল এ ধরনের সবচেয়ে বড় সমন্বিত পদক্ষেপ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এসপিআর থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।


ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল ২০২৬ এসপিআরে ৪১ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। ২৮ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে। অর্থাৎ পাঁচ মাসেরও কম সময়ে এসপিআরের মজুত প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল কমেছে। তবে এই কমে যাওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তেল সরবরাহ থেকে একই পরিমাণ তেল শেষ হয়ে গেছে-এমন নয়। একই সময়ে দেশটিতে তেল উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বাণিজ্যিক মজুত ও শোধনাগারের কার্যক্রম চলমান ছিল।


যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশীয় উৎপাদন, আমদানি ও বাণিজ্যিক মজুত। দেশটির শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেলকে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যে রূপান্তর করে।


সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হচ্ছে। বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল। শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি এবং অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানিও করছে যুক্তরাষ্ট্র।


গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। অন্যদিকে এসপিআর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর অর্থ, এসপিআর থেকে তেল ছাড়ার বিষয়টি সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পেট্রোলিয়াম ব্যবস্থার বিকল্প নয়।


এসপিআরের মজুত কমে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। কারণ বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে সরকারের হাতে বাজারে দ্রুত তেল ছাড়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে গেছে।


তবে এর অর্থ এই নয় যে, দুই সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল বা অন্যান্য জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। বরং কোনো বড় আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিলে সরকার আগের মতো বড় পরিমাণে জরুরি তেল বাজারে ছাড়তে পারবে না-এটাই মূল ঝুঁকি।


বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে এর প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে পারে। তেলের আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়তে পারে। কারণ তেলের বাজার বৈশ্বিক। 


যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব উৎপাদন থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দেশটির জ্বালানি দামের ওপর তার প্রভাব পড়ে।


জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একপর্যায়ে এসপিআর থেকে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। তখন বাজারকে উৎপাদন ও আমদানি বাড়ানো, রপ্তানি কমানো, বাণিজ্যিক মজুত ব্যবহার, শোধনাগারের কার্যক্রম পরিবর্তন অথবা জ্বালানির চাহিদা কমানোর মাধ্যমে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।


এ ছাড়া বর্তমান এসপিআর কর্মসূচির একটি অংশ তেল বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো এসপিআর থেকে অপরিশোধিত তেল নেয় এবং পরে সমপরিমাণ তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু ব্যারেল ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ফলে বর্তমানে নেওয়া কিছু তেল ভবিষ্যতে সরকারি মজুতে ফেরত আসতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কত দিনের তেল রয়েছে- এর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বের করা সম্ভব নয়। কারণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য এক জিনিস নয়। এগুলোর উৎপাদন, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও ব্যবহারের হিসাবও আলাদা।


শুধু এসপিআরের ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহারের সঙ্গে ভাগ করে ১৪ দিনের হিসাব করা তাই বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক চিত্র দেয় না।


যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল এসপিআর মজুতের পাশাপাশি প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। প্রতিদিন দেশটি প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করছে এবং বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে।


তবে এসপিআরের মজুত ঐতিহাসিকভাবে কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলায় সরকারের হাতে জরুরি তেলের মজুত আগের তুলনায় কম থাকবে। 


তাই যুক্তরাষ্ট্রে ‘১৪ দিনের তেল’ অবশিষ্ট থাকার দাবিটি সঠিক না হলেও, এসপিআরের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি দেশটির জন্য বাস্তব উদ্বেগের কারণ।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:২১ পিএম

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় মাইনে আঘাত লেগে তিনটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।


আইআরজিসির নৌবাহিনী জানায়, জাহাজগুলো তাদের নির্ধারিত নয়- এমন একটি দক্ষিণের পথ ব্যবহার করছিল। আগুন লাগার পর সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ উপকূলে পড়ে থাকে।


ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিমের প্রতিবেদনে আইআরজিসির নৌবাহিনীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, জাহাজগুলো নিজেদের সব রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তারা হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত দক্ষিণের পথ ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। জাহাজগুলোতে আগুন লাগার ফলে পরিবেশেরও ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। 


তাদের বক্তব্য, হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত পথ দূষিত হয়েছে। ওই পথে চলাচলের জন্য জাহাজগুলোর মালিক ও নাবিকদের দায়ী করেছে ইরানের নৌবাহিনী।


একই সঙ্গে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের (সেন্টকম) সাইবার জগতের বক্তব্য বা দাবিতে গুরুত্ব না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসি। 


তাদের ভাষ্য, ‘যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের’ জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। 


তবে তিনটি জাহাজের নাম, সেগুলোর পতাকাবাহী দেশ, হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না এবং আগুন লাগার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যায়নি।


সূত্র: আল-জাজিরা


মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫০ পিএম

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। উদ্দেশ্য ছিল দেশটির ওপর নতুন করে হামলা ঠেকানো ও শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করা। সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এমন তথ্য জানিয়েছে।


গণমাধ্যমটির বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্যান্স সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান রেজাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ওই চিঠি পাঠানো হয়। এতে সম্ভাব্য আলোচনার কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে ‘স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সামরিক অভিযান’ চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশকে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে বলেছে ওয়াশিংটন। তবে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।


এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, নতুন করে হামলা হলে তারাও বিস্তৃত পরিসরে পাল্টা আঘাত হানবে। মোহসেন রেজাই বলেছেন, এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অন্যান্য স্থাপনা।


বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম

ইসরায়েলের নির্বাচনে স্পষ্ট ফল না আসায় দেশটির ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রায় ৮৬ শতাংশ (কোনো কোনো খবরে ৯০ শতাংশ) ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।


অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও আপাতত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে, এমনকি আগামী বছর আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্তও তিনি এ দায়িত্বে থাকতে পারেন।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ইহুদি ভোটারের সমর্থন পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। তবে তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। ফলে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা চলাকালে এবং সম্ভবত আগামী বছর আরেকটি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ইসরায়েলের তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি, কট্টর ডানপন্থি ও অতি-গোঁড়া ইহুদি দলগুলোর জোট সব মিলিয়ে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন।


ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। ফলে এসব দলের ব্যাপক সমর্থন ছাড়া আইজেনকটের ক্ষমতায় যাওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ইহুদি রাজনৈতিক নেতাদের অনেকেই আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিরোধিতা করছেন।


এদিকে ভোট গণনা এখনো চলতে থাকায় ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নেতানিয়াহুবিরোধী মধ্য-বামপন্থি থেকে কট্টর ডানপন্থি দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত আইজেনকটের জোট নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল, তার চেয়ে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।


রয়টার্স বলছে, নতুন সরকার গঠনের জন্য জোট গঠনের আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। আগামী বছর নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্তও তাকে এই দায়িত্বে থাকতে হতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর কিছু বিধিনিষেধ থাকলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিচালনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তাদের থাকে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


ইসরায়েল ডেমোক্র্যাসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গাই লুরি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতা নিয়মিত সরকারের মতোই। তবে তাদের ক্ষেত্রে ‘সংযম বজায় রাখার দায়িত্ব’ রয়েছে এবং কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা তুলনামূলকভাবে সীমিত।


রয়টার্স বলছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর রাত ৩টার পর (বাংলাদেশ সময় ৭টার পর) নিজের দল লিকুদ পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। এসময় তিনি ‘শক্তিশালী ডানপন্থি জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান।


বক্তব্যে ইসরায়েলের সামরিক সাফল্য তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেন। নেতানিয়াহুর ভাষায়, ইরানের যে হুমকির কথা তিনি বলছেন, তা ‘চিরতরে’ দূর করার ক্ষেত্রে দুই দেশের সামনে ‘ইতিহাসের এক অনন্য সুযোগ’ এসেছে।


ট্রাম্প এর আগে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রাখার জন্য ইসরায়েলি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে দুই নেতা মিলে ইরানে ‘কাজ শেষ করতে’ পারেন। নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহু ‘খুব ভালো করেছেন’। তার দাবি, নেতানিয়াহুর পক্ষে ট্রাম্পের সমর্থনই ‘তাকে অনেক সাহায্য করেছে’।


এদিকে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন বলে স্বীকার করেছেন আইজেনকটও। তবে রাজনৈতিক স্বার্থে নিরাপত্তার বিষয়টি ব্যবহার করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।


আইজেনকট বলেন, ‘আমি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রধান এবং সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—নেতানিয়াহু একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী। তার হাতে কোনো ম্যান্ডেট নেই, জনগণের আস্থাও নেই। আপনাদের চ্যালেঞ্জ করার যেকোনো প্রচেষ্টার মুখে দৃঢ় থাকুন।’


এর আগে নেতানিয়াহুর দপ্তর ইরান সংঘাতকে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিল। বুধবার এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও দপ্তরটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।


এদিকে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে নেতানিয়াহুর থাকার সম্ভাবনা ইসরায়েলের আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলেছে। দেশটির মুদ্রা শেকেলের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ১০ শেকেলে দাঁড়িয়েছে। তেল আবিবের প্রধান শেয়ারবাজার সূচকগুলোও ৩ শতাংশের বেশি কমেছে।


রয়টার্স বলছে, নির্বাচনের ফল ইসরায়েলের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী নেতানিয়াহুর শাসনামলে দেশটির ইহুদিদের মধ্যে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে। ইসরায়েলের ইতিহাসের প্রথমার্ধে রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী মধ্য-বামপন্থিরা এখন ছোট একটি গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।


বর্তমানে প্রায় সব ইহুদি দলই ভবিষ্যতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৯০-এর দশক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত শান্তি প্রচেষ্টার ভিত্তি ছিল এই স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা।


এছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম নির্বাচন। ওই দিন হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে আটক করা হয়। ওই হামলার পর গাজা, লেবানন ও ইরানে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে ইসরায়েল।


গাজায় যুদ্ধের কারণে ভূখণ্ডটির বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, সেখানে ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।


নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এসব অভিযোগকে তিনি ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেন। এ ছাড়া ইসরায়েলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাও চলছে। আর এই মামলাকে তিনি প্রভাবশালী মহলের ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৬ পিএম

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো লক্ষ্য করে রাতভর ৬১৩টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটি। এর মধ্যে অধিকাংশ ড্রোনই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে জানান, শহরের দিকে এগিয়ে আসার সময় ২৩১টি চালকবিহীন আকাশযান (ইউএভি) ধ্বংস করেছে আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত শহর থেকে দূরবর্তী এলাকাগুলোতে বাকি ড্রোনগুলোও প্রতিহত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


মস্কো অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে চালানো বড় ধরনের ড্রোন হামলাগুলোর মধ্যে এটি সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী রেকর্ডসংখ্যক হামলাকারী ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে। সে সময় ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন ধ্বংসের কথা জানিয়েছিল তারা।


এদিকে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ইহর তেরেখভ। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান।



  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৬ পিএম

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এই আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র সামরিক হামলার নির্দেশ দেওয়া থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিরত রাখার মতো কোনো সমঝোতা খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই যোগাযোগের খবর প্রকাশ করে। মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে তারা জানায় যে, চিঠি এবং পরবর্তী আলোচনায় কোনো নির্দিষ্ট শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে কথা হয়নি। বরং আলোচনার সম্ভাব্য কাঠামো তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


পরে নিউইয়র্ক টাইমসও এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা এবং যোগাযোগ সম্পর্কে অবগত এক ইরানি কর্মকর্তার বরাতে একই তথ্য নিশ্চিত করে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চিঠিটি পাঠানো হয় এবং রোববার তা ইরানি পক্ষের কাছে পৌঁছায়। চিঠিতে ভ্যান্স সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানান এবং মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রাখেন। একইসঙ্গে তিনি আলোচনার শুরু থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচ্যসূচিতে রাখার কথাও উল্লেখ করেন।


নিউইয়র্ক টাইমসকে এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির নেতৃত্ব এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আজকের মধ্যেই মোহসেন রেজাই আনুষ্ঠানিকভাবে এর জবাব দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দুই পক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই কাতার বা তুরস্কে আলোচনা শুরু হতে পারে।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে ইরানের কাছে একটি নতুন চুক্তির খসড়া উপস্থাপন করেছে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। তবে তেহরান ওই পরিকল্পনাকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে মানতে নারাজ; বরং একে একটি ‘অগ্রহণযোগ্য ধারণা’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা।


সূত্র: আল জাজিরা


স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৮ এএম

স্পেনে মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এই রাষ্ট্রীয় শোক কার্যকর হয়েছে। খবর- বিবিসি। 


একই সঙ্গে রেলওয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেলে তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।


দুর্ঘটনার বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের শুরুতে স্পেনের একই রেলপথে ঘটে যাওয়া অন্য আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছিল। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় মনে হচ্ছে, বর্তমান দুর্ঘটনার সঙ্গে পূর্বের ওই ঘটনার কোনো মিল নেই। তবুও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর জনসচেতনতা ও আস্থা ফেরানোর ওপর জোর দিয়ে পেদ্রো সানচেজ আরও বলেন, স্পেনের মতো দেশে একই বছরে উচ্চগতির ট্রেনের দুটি দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই খাতে যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে।


দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে ধাক্কা দেয় আরেক ট্রেন, ঝরল ৬৮ প্রাণ


বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে ঘটে এ দুর্ঘটনা। যে দুটি ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে; সেগুলোর দুটিই ছিল দ্রুতগতির ট্রেন। আর দুটি ট্রেন মাদ্রিদ থেকে সোয়েদাদে যাচ্ছিল। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্ত ৬৮ জন। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেছেন, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই অঞ্চলটির রেললাইনের প্রধান এলজেডবি সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সেখানে থাকা সব ট্রেনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামার সংকেত দেওয়া হয়।


যারমধ্যে ছিল দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেন’ এবং ‘ইরো ট্রেন’। ওই সময় রেনফে ট্রেনটি পেছনে ছিল। আর ইরো ট্রেনটি ২৫ কিলোমিটার সামনে ছিল।


সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেওয়ার স্পেনের সরকারি রেলঅবকাঠামো পরিচালনা সংস্থা (আদিফ) ট্রেন পরিচালনার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নেয়।


এরপর যিনি কমান্ডে ছিলেন তিনি ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ চলার অনুমতি দেন। যদিও সিগন্যালে লালবাতি ছিল।


কিন্তু ২৫ কিলোমিটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ‘ইরো ট্রেনটি’ দাঁড়িয়েই ছিল।


লালবাতি সত্ত্বেও ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ শুধুমাত্র চলার অনুমতিই দেওয়া হয়নি, এটিকে কোনো গতির সীমাও বেধে দেওয়া হয়নি। ফলে ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটি’ ২০০ কিলোমিটার গতিতে গিয়ে ২৫ কিলোমিটার সামনে থাকা ‘ইরো ট্রেনকে’ সজোরে ধাক্কা মারে।