যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৩৪ এএম

বিশ্বের বহু দেশে এখন চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হয় বলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় উঠে এসেছে।


বিবিসি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অরাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির এবারই প্রথম এমন ফল পেয়েছে।


জরিপের ফল বলছে, অনেক দেশেই চীনের প্রতি ইতিবাচক বা ভালো ধারণা পোষণের হার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের ধারণা আগের চেয়ে আরও খারাপ হয়েছে। সামগ্রিকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা কমেছে। তবে দুজনের মধ্যে তুলনা করলে, ট্রাম্পের চেয়ে শি জিনপিংয়ের ওপর মানুষের আস্থা কিছুটা বেশি।


মানুষ মনে করে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চীনের চাইতে বেশি সম্মান দেখায়; আবার অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর ক্ষেত্রেও চীনের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আছে। পিউ গত ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৬টি দেশে ৪২ হাজার মানুষের ওপর এ জরিপ পরিচালনা করে।


জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এই দুই পরাশক্তি দেশের প্রতি তাদের মনোভাব কেমন? খুব ইতিবাচক, কিছুটা ইতিবাচক, কিছুটা নেতিবাচক, নাকি খুব নেতিবাচক?


গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি দেখতে পেয়েছে, যে ৩৬টি দেশে জরিপ করা হয়েছে, তার মধ্যে ২৫টি দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রতি বেশি মানুষের ইতিবাচক বা ভালো ধারণা রয়েছে।


এ গবেষণার অন্যতম গবেষক জোনাথন শুলম্যান বলেন, পরাশক্তিদের প্রতি মানুষের মনোভাব ২০০২ সাল থেকে পর্যবেক্ষণ করে আসছে পিউ। তবে এবারই প্রথম এত বেশি দেশে চীনের পক্ষে এমন ফল দেখা গেল।


বিবিসি লিখেছে, পিউ রিসার্চ সেন্টার এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মানুষের ইতিবাচক ধারণা প্রশ্নে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখেছিল। যেমন ২০০৮ সালে জর্জ বুশের প্রশাসনের শেষ সময়ে এবং ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে।


তবে সেই সময়েও চীন নিয়ে ইতিবাচক ধারণা পোষণকারীর হার যুক্তরাষ্ট্রের সমান কিংবা কিছুটা নিচেই ছিল বলে জানিয়েছেন গবেষক শুলম্যান।


চীনকে বেশি পছন্দ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস ও কানাডায়।


মাত্র ছয়টি দেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে বেশি পছন্দ করে, যার বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র— পোল্যান্ড, ফিলিপিন্স, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েল।


গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি আলাদাভাবে দেখতে পেয়েছে, গড় হিসাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ২০টি দেশে—যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ধারাবাহিকভাবে কমেছে; অন্যদিকে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দিন দিন বাড়ছে।


যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জরিপ করা এক-তৃতীয়াংশের বেশি দেশে চীনের প্রতি ইতিবাচক ধারণা পোষণকারীর সংখ্যা বেড়েছে।


বিবিসি লিখেছে, এ বছর জরিপ করা বেশ কিছু দেশে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে; যার মধ্যে ইতালি, স্পেন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্ক অন্যতম।


গবেষকরা সার্বিকভাবে দেখতে পেয়েছেন, চীনের প্রতি যেখানে মধ্য আয়ের দেশগুলোর মানুষের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে, সেখানে ধনী দেশগুলোর মানুষের মধ্যে রয়েছে নেতিবাচক মনোভাব।


এর মধ্যে ব্যতিক্রম দেখা গেছে সিঙ্গাপুরে, জরিপ করা দেশগুলোর মধ্যে সেখানে মাথপিছু জিডিপি সর্বোচ্চ হলেও দেশটির মানুষের মধ্যে চীনের প্রতি উচ্চমাত্রার ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেছে।


বিবিসি লিখেছে, জরিপে চীনের প্রতি সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক এবং সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক—উভয় ধরনের মতামতই এসেছে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে। যেমন পাকিস্তানের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চীনকে পছন্দ করে, আর জাপানিদের ক্ষেত্রে এই হার মোটে ১১ শতাংশ।


শি ও ট্রাম্প


জরিপে অংশ নেওয়া মানুষদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বৈশ্বিক রাজনীতির ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্নে শি জিনপিং ও ডনাল্ড ট্রাম্পের ওপর তাদের আস্থা আছে কি না। সার্বিকভাবে দুই নেতার প্রতিই মানুষের আস্থার হার বেশ কম দেখা গেছে; বেশিরভাগ দেশেই এ হার ৫০ শতাংশের নিচে। তবে জরিপ করা অনেক দেশেই ট্রাম্পের চেয়ে শি জিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা বেশি দেখা গেছে।


জরিপে শি জিনপিংয়ের সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে কম রেটিং এসেছে পাকিস্তান ও জাপান থেকে; পাকিস্তানে এ হার যেখানে ৮৩ শতাংশ, সেখানে জাপানে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ শির ওপর আস্থা রাখেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সর্বোচ্চ রেটিং পেয়েছেন ফিলিপিন্সে, ৬৮ শতাংশ; সবচেয়ে কম রেটিং পেয়েছেন পূর্ব জেরুজালেমে, মাত্র ৪ শতাংশ।


গবেষক শুলম্যান বলেন, তাদের জরিপে দেখা গেছে, সাধারণত অন্য নেতাদের মত শি জিনপিংয়ের ব্যাপারে মানুষের প্রতিক্রিয়া অতটা তীব্র (ইতিবাচক বা নেতিবাচক) নয়।


অন্যদিকে ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মানুষ মতামত দিতে বেশ আগ্রহী ছিল এবং তাদের মতামতগুলো ছিল চরম পর্যায়ের অর্থাৎ, হয় তাকে খুব বেশি পছন্দ করেন অথবা তীব্র ঘৃণা করেন।


জরিপে উঠে এসেছে, চীনের তুলনায় মার্কিন সরকার মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে বেশি শ্রদ্ধা করে বলেএখনো বিশ্বাস করে বেশিরভাগ মানুষ। তবে আগের তুলনায় ব্যবধান কমে এসেছে।


পরাশক্তিগুলোর পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে মনোভাব জানতে পিউ মধ্য আয়ের কয়েকটি দেশে অতিরিক্ত প্রশ্ন রেখেছিল।


গড়ে ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘প্রচণ্ড’ বা ‘বেশ ভালো রকমের’ হস্তক্ষেপ করে; যেখানে চীনের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫ শতাংশ।


‘যুক্তরাষ্ট্রের খামখেয়ালি নীতিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ’


বিবিসি লিখেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোও একই ধরনের গবেষণা করেছে। জরিপকারী প্রতিষ্ঠান গ্যালপ দেখেছে, গত বছর বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার রেটিংয়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ২০ বছরের মধ্যে চীনের পক্ষে সবচেয়ে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।


তবে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়া সোসাইটির বার্ষিক জরিপ বলছে, কোভিডের সময়ে চীনের ভাবমূর্তি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, মহামারী শেষে তা খুব সামান্যই পুনরুদ্ধার হয়েছে।


গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কার্নেগি চায়না’র অনাবাসিক স্কলার চং জা ইয়ান বলেন, পিউ রিসার্চের এই সাম্প্রতিক ফল ‘মোটেও আশ্চর্যজনক নয়’।


তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বা সিদ্ধান্তের যে হুটহাট পরিবর্তন, যার মধ্যে সামরিক শক্তি প্রয়োগ এবং এর কারণে হওয়া অর্থনৈতিক ক্ষতি বিশ্বের বহু দেশের মানুষকে চরম দুশ্চিন্তা ও আশঙ্কার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।”


বিবিসি লিখেছে, পিউ রিসার্চের এ জরিপটি এমন এক সময়ে শুরু হয়েছিল, যার কিছুদিন আগেই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে কড়া বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করেছিল। জরিপ চলাকালেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র।


ড. চং বলেন, “চীন সামগ্রিকভাবে কতটা জনপ্রিয় তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে, তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনকে অনেক বেশি স্থিতিশীল মনে হচ্ছে। তাছাড়া বেইজিং বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য কাজ করছে।”


চীনের প্রতি উচ্চ ইতিবাচক মনোভাব থাকার পরও শি জিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা কেন কম—এর ব্যাখ্যায় ড. চং বলেন, চীনকে হয়ত কিছুটা স্থিতিশীল মনে হওয়ায় মানুষ স্বস্তি পাচ্ছে, কিন্তু এই সত্য তো আর মুছে ফেলা যাবে না যে শি জিনপিং একজন বড় স্বৈরশাসক।


‘কার্নেগি চায়না’র এ গবেষক বলেন, শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীন এখন আরও বেশি আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী। এর অন্যতম নমুনা হল—বাকি বিশ্বকেও চীনের বিশ্বভাবনার সঙ্গে একমত হতে বাধ্য করা। তাছাড়া সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর প্রতি তাদের আচরণ নিয়ে এখনো বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।


ড. চং বলেন, “আমার মনে হয়, চীনের সবধরনের জোরজুলুম এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর নীতিগুলোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে শি জিনপিংকে দায়ী করে মানুষ; আর চীনের যত ইতিবাচক দিক রয়েছে, যেমন তাদের প্রযুক্তিগত উন্নতি—সেগুলোকে সামগ্রিকভাবে দেশটির সাফল্য হিসেবে দেখে।”



সর্বশেষ সব খবর

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৫৯ এএম

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে হওয়া এই আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে বলেছে।


প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


ফেসবুকে মোদি জানান, যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এ বিষয়ে দেওয়া ওই বার্তায় মোদি আরও লেখেন, ‘যারা আমাদের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চায়, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

সর্বশেষ সব খবর

৬ সপ্তাহে সর্বোচ্চ তেলের দাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৪ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন ১০০ ডলারের কাছাকাছি চলে গেছে।


আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৮৮ ডলার অতিক্রম করেছে। 


আজ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৯৩ ডলার বা ২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪১ ডলার বা ১ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়েছে। খবর রয়টার্স ও টাইমস অব ইন্ডিয়া। 


গতকাল তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। ফলে ব্রেন্টের দাম ৮ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের দিকে বাজার সব সময় নজর রাখছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ১২তম রাতে ইরানে হামলা চালানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। 


হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান যখনই কোনো জাহাজে হামলা করবে, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনো সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করবে। তাঁর এ মন্তব্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়বে, এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইন পাতা আছে- এমন পথ দিয়ে যাওয়ার সময় বিস্ফোরণে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তাদের ভাষ্য, ওই ঘটনার পর আরও দুটি ট্যাংকার যাত্রাপথ থেকে ফিরে যায়।


আইআরজিসি আরও বলেছে, এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান চলাকালে হরমুজ প্রণালি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। এই প্রণালি এখন পুরোপুরি বন্ধ। ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কোনো ট্যাংকার প্রণালিতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হবে না বলেও তারা সতর্ক করেছে। এদিকে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে অভিযান আরও জোরদার করায় সরবরাহ-সংকটের আশঙ্কা বেড়েছে।


হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল বহনকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। তাদের দাবি, সামরিক অভিযানে তারা সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা করেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি পতাকাবাহী ট্যাংকার এনসেলিয়া লোহিত সাগরে হামলার শিকার হয়েছে।


এ ছাড়া হুতিদের দাবি, সৌদি বন্দরের দিকে যেতে নিষেধ করে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর প্রায় ১০টি জাহাজ ফিরে গেছে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।


এসব ঘটনায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ-হরমুজ ও বাব আল-মানদেব প্রণালি-দিয়ে তেল পরিবহন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসির এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শিপিং কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলে মাইন পাতা আছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি অকার্যকর ঘোষণার পর এবার তেলের দাম এখনো ১০০ ডলারের নিচেই আছে। যদিও প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত অব্যাহত আছে। 


এর আগে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল, এখন দাম তার চেয়ে ৩০ ডলার কম।

সর্বশেষ সব খবর

শাহবাজ শরিফ, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আসিম মুনির

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৯ পিএম

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা সুবিধা চেয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা করতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মেয়াদে এই সহায়তা চাওয়া হয়েছে।


আজ বুধবার (২২ জুলাই) রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের এই অনুরোধ এমন সময় এসেছে, যখন দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান সহায়তা কর্মসূচির অধীনে অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় ইসলামাবাদের কূটনৈতিক অবস্থানও কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ওয়াশিংটনের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে দেশটি।


অনুমোদন মিললে এই তহবিল পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে, রুপির ওপর চাপ কমাতে এবং বহুপাক্ষিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসে সহায়ক হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব জানান, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।


পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে সহজ প্রবেশাধিকার, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং দেশের সার্বভৌম ঋণমান উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সহযোগিতা চেয়েছেন আওরঙ্গজেব। পাশাপাশি দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৌশলগত প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


বর্তমানে পাকিস্তান ৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এই কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী কর বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং বিভিন্ন কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করছে দেশটি। ২০২৩ সালে সার্বভৌম ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে পাকিস্তান প্রথমে ৩ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ স্ট্যান্ডবাই ঋণ পায়। 


পরে আরও ৭ বিলিয়ন ডলারের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি’ এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অতিরিক্ত ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদিত হয়।


তবুও পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখনো মূলত আইএমএফের অর্থছাড়, দ্বিপক্ষীয় সহায়তা এবং চীন ও সৌদি আরবের মতো অংশীদারদের আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছে রয়টার্স।


দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছরের জানুয়ারিতে জানিয়েছিল, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।


উল্লেখ্য, মুদ্রা স্থিতিশীলতা সহায়তা সুবিধা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সচেঞ্জ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’-এর মাধ্যমে দেওয়া বিশেষ আর্থিক ব্যবস্থা। এর আওতায় ডলার সহায়তা, মুদ্রা বিনিময় চুক্তি বা গ্যারান্টির মাধ্যমে কোনো দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করা হয়।


রয়টার্স জানিয়েছে, এ ধরনের সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্থায়ী ডলার সোয়াপ লাইনের বাইরে একটি পৃথক ব্যবস্থা। ২০২৫ সালে আর্জেন্টিনাকে দেওয়া সহায়তার আগে সর্বশেষ বড় ধরনের এমন প্যাকেজ ২০০২ সালে উরুগুয়েকে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া মেক্সিকোর সঙ্গে ১৯৪০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

জাপান প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিনটি শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। ফলে দেশটি প্রথমবারের মতো 'কোকুশোবি' বা 'প্রচণ্ড গরম দিন' ঘোষণা করেছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পেরোনো বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে চলতি বছরের এপ্রিলে নতুন এই সতর্কতা চালু করেছে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা।


গতকাল মঙ্গলবার জাপানের মধ্যাঞ্চলের তিন শহর তাজিমি, গুজো এবং তয়োদায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। এই তীব্র তাপমাত্রা আগামী সপ্তাহেও অব্যাহত থাকবে- এমন ধারণা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাপানের আওহাওয়া সংস্থা।


তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে সেই দিনগুলোকে জাপানে ‘কোকুশোবি’ বলা হয়। তীব্র গরমের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এই পরিভাষাটি চালু করা হয়েছিল।


বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহওয়া ঘন ঘন দেখা দিতে থাকার মধ্যে জাপানে প্রথমবারের মতো ‘অসহনীয় গরমের দিন’ ঘোষণা করা হল। গত বছর জাপানের ইসেসাকি নগরীতে এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস দেখা গিয়েছিল।


জাপানে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জন্য বিশেষ পরিভাষা আছে। যেমন: যেসব দিনে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়ে যায় তাকে বলে মোসোবি বা ‘চরম গরম দিন’।


কিন্তু ‘কোকু’ শব্দটি আরও প্রচণ্ড বা প্রখর তাপ বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। কিয়োদো নিউজের খবরে বলা হয়েছে, দেশের ৯১৪ টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রর প্রায় ৩০০ টিতেই মঙ্গলবার মোসোবি রেকর্ড করা হয়েছে।


তাছাড়া, কর্তৃপক্ষ দেশের ৪০ টিরও বেশি প্রশাসনিক এলাকায় হিটস্ট্রোক অ্যালার্ট জারি করেছে। লোকজনকে এয়ারকন্ডিশন ব্যবহার করা, যথেষ্ট পানি পান, লবণ খাওয়া এবং বাইরে কম যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বয়স্ক মানুষদেরকে শীতল পরিবেশে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


জাপানের জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানায়, টোকিও দমকল বিভাগ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সিটি হাসপাতালে ৩ থেকে ১০৩ বছর বয়সের মোট ২৮৭ জনকে হিটস্ট্রোকের কারণে ভর্তি করা হয়েছে। এবছর এটিই হিটস্ট্রোকে হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ রেকর্ড।


দমকল বিভাগও অ্যালার্ট জারি করে লোকজনকে তাপ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।


মানুষের সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং বেশি মাত্রায় ঘটছে। গত বছর জাপান ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম পার করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

আন্দোলনের চাপের মুখে মোদি

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:০১ এএম

পরীক্ষাসংক্রান্ত কেলেঙ্কারির পর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ভারতের পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় এমপিদের সমর্থন পাওয়ার পর আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজধানী নয়াদিল্লির প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে আজ বুধবার (২২ জুলাই) অনলাইনভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনে হাজার হাজার সমর্থকের বিশাল জমায়েত দেখা গেছে। 


শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। খবর এএফপির। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ভিত্তিক আন্দোলন সিজেপির নেতৃত্বে ভারতজুড়ে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তার সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা রাজধানী ছাড়তে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। 


উপস্থিত সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের মাঝে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, "ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা যন্তর মন্তর ছাড়ব না। যে দেশে মানুষ প্রশ্ন করতে ভুলে গিয়েছিল, সরকারের সমালোচনা করাকে দেশদ্রোহিতা বলা হতো, আমরা এখন সেই দেশকে জাগিয়ে তুলেছি।"


বেশিরভাগ তরুণ ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন মঙ্গলবার দেশটির বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার পর মোদি সরকারের জন্য বড় সংকট তৈরি করে। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। 


কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী গত সোমবার (২০ জুলাই) আন্দোলনকারীদের ওপর চালানো পুলিশি দমনপীড়নের জন্য সরকারের ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাহুল গান্ধীকে প্রতিবাদস্থল থেকে তুলে নিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রাখে পুলিশ। আজ বুধবার কালো পোশাক পরে পার্লামেন্টে উপস্থিত হয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন তিনি। 


অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, তরুণেরা যখন রাজপথে, তখন প্রধানমন্ত্রী নীরব ভূমিকা পালন করছেন।


এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত মে মাসে, যখন দেশটির প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত আদালতে শুনানির সময় তরুণদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা এবং ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ককরোচ জনতা পার্টির, যা এখন বেকারত্ব ও সরকারি অনিয়মের বিরুদ্ধে তরুণদের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ারগ্যাস প্রয়োগ করে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে।


মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনলাইন মূল্যায়নে অনিয়মের কারণে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হলে এই অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির উত্তাপ বুঝে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সংস্কার এবং আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন। 


তবে দিল্লি ছাড়িয়ে এখন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও গোয়াতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে চাপের মুখে থাকা সরকার কীভাবে এই অচলাবস্থা নিরসন করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:২৭ এএম

ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আইন পাস করেছে ফ্রান্স।


বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে আইনটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশের জন্য বাধ্যতামূলক বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালুর পথ তৈরি হয়েছে।


শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই ধরনের নীতিমালা নিয়ে কাজ করছে।


ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি ক্ষমতায় এক দশক পূর্তির আগে এই আইন কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।


তবে আইনটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তাদের আশঙ্কা, বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হবে, ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সুরক্ষিত থাকবে এবং কিশোরেরা এই বিধিনিষেধ এড়িয়ে যেতে পারবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।


অন্যদিকে ফ্রান্স সরকার বলছে, বয়স যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রযুক্তি ইতোমধ্যে রয়েছে এবং তা নিরাপদ ও কার্যকর। কিছু বামপন্থি সদস্যের আপত্তি সত্ত্বেও মঙ্গলবার ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদ ও নেনেট—পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই বিলটি পাস হয়।


ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ফ্রান্স শিশুদের সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের ওপর এই কড়াকড়ি আরোপ করল।


আইনটি কার্যকর করা হবে দুই ধাপে। প্রথম ধাপে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। নতুন সব অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক হবে।


দ্বিতীয় ধাপে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে এই নিয়ম বিদ্যমান সব অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ফ্রান্সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে হলে সবাইকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের বয়স ১৫ বছরের বেশি।


রয়টার্স জানিয়েছে, আইন কার্যকর হওয়ার পর সোশাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত বয়স যাচাই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে।


পার্লামেন্টে ভোটাভুটির আগে ফ্রান্সের ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ বলেন, বয়স যাচাইয়ের প্রযুক্তি আগে থেকেই বিদ্যমান থাকায় দ্রুত আইন কার্যকর করা সম্ভব।


অস্ট্রেলিয়ার পর বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে এ ধরনের আইন চালু করল ফ্রান্স।


অস্ট্রেলিয়া গত বছরের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করলেও বাস্তবে অনেক কিশোর-কিশোরী এখনো বিভিন্নভাবে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।


চলতি বছরের মার্চে অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশন জানায়, নিষেধাজ্ঞার আগে যেসব ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ছিল, তাদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে সাতজনেরই এখনো কোনো না কোনোভাবে এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।


অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনেট স্টাডিজের অধ্যাপক তামা লিভার বিবিসিকে বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।


তবে তার মতে, এই উদ্যোগ অন্তত দেখিয়েছে যে এমন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তিনি একে ‘একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছেন।


তার ভাষায়, অন্য দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল—এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনায় তরুণদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে সিদ্ধান্ত তাদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেওয়া হয়।


লিভারের মতে, ফ্রান্সের আইন সফল হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি, কারণ সেখানে সব ব্যবহারকারীর বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে এতে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।


এ ছাড়া এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কিশোররা কম নিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে, সংবাদ পড়ার প্রবণতা কমতে পারে এবং রাজনৈতিক বিষয়ে তাদের অংশগ্রহণও হ্রাস পেতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।


সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ জোরালো হয়েছে।


জুনে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঘোষণা দেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হবে।


পাশাপাশি ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের জন্য মধ্যরাতের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ‘কারফিউ’ চালুর পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।


এর আগে মে মাসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ইউরোপের শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তাব দেন এবং এ বিষয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নতুন নিয়ম চালুর সম্ভাবনার কথা বলেন।



সর্বশেষ সব খবর