ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৫ মে, ২০২৬, সময় : ১:১২ এএম

চীনের বেইজিংয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক জমকালো রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিন পিং। এই ভোজের খাদ্যতালিকা যেন কূটনীতিরই এক দারুণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। 


চীনের রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজনে ঐতিহ্যগতভাবে হুয়াইয়াং রন্ধনশৈলীর ওপর জোর দেওয়া হয়। সাংহাইয়ের আশপাশের অঞ্চল থেকে এই রান্নার উৎপত্তি। হালকা ও স্নিগ্ধ স্বাদের জন্য এই খাবার বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। রান্নার দারুণ কারুকাজ এবং মৌসুমি উপাদানের ব্যবহার এই খাবারকে বিশেষত্ব দিয়েছে।


উভয় পক্ষই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে শুরুর আগ্রহ দেখিয়েছে। এই আলোচনার সমাপ্তি টানতে আয়োজকেরা মেনুতে কিছুটা নমনীয়তা এনেছেন। খাদ্যতালিকায় তাঁরা চীনের জাতীয় খাবার ‘বেইজিং হাঁসের রোস্ট’ রেখেছেন। 


এর পাশাপাশি যুক্ত করেছেন গরুর পাঁজরের মাংস, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুসিদ্ধ (ওয়েল-ডান) স্টেক খাওয়ার পছন্দের প্রতি সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।


মার্কিন অতিথিদের জন্য খাবারের তালিকায় ডেজার্ট বা মিষ্টির আইটেমগুলো রাখা হয়েছে বেশ গুরুত্ব দিয়ে। পরিবেশন করা হয়েছে তিরামিসু, ফল ও আইসক্রিম। এর সঙ্গে ছিল ‘ট্রাম্পেট-শেল’ বা শঙ্খ আকৃতির বিশেষ এক পেস্ট্রি।


কয়েক দশক ধরে চীন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে খাবারকে কূটনীতির শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছে। বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিদের আপ্যায়নেও তারা এই রীতি অনুসরণ করে। 


চীনের আধুনিক ইতিহাসে দুর্ভিক্ষ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘ সময় খাবার নিয়ে টানাটানি ছিল। সেই অভাবের দিনগুলো খাবারকে চীনা সংস্কৃতিতে আভিজাত্যের প্রতীকে রূপান্তর করেছে।


কূটনীতির প্রতীক হিসেবে খাবার


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশি কর্মকর্তাদের চীন সফরের সময় খাবার নিয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ ঘটনা ভাইরাল হয়েছে। ২০২৩ সালে বেইজিংয়ের একটি ইউনানি রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার সময় মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন ‘ম্যাজিক মাশরুম’ খাওয়া নিয়ে মজার মন্তব্য করেছিলেন। 


এ ছাড়া ২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বেইজিংয়ের একটি সাধারণ রেস্তোরাঁয় বসে ফ্রায়েড লিভার বা ভাজা কলিজার স্বাদ নিয়েছিলেন, যা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।


চীন অনেক সময় বিদেশি অতিথিদের সম্মানে খাবারের নাম রেখেছে। ১৯৭১ সালে হেনরি কিসিঞ্জারের গোপন সফরের সময় তাঁর জন্য বিশেষ এক মুরগির পদ তৈরি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় ভোজের এসব মেনু পরে স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোও হুবহু অনুকরণ করে।


সাংহাইয়ের অভিজাত রেস্তোরাঁ ‘গুই হুয়া লো’র নির্বাহী শেফ শি ছিয়াং হুয়াইয়াং রান্নার বিশেষত্ব নিয়ে কথা বলেন। 


তিনি জানান, এই রান্নার প্রধান শক্তি হলো এর ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। এর স্বাদ ও ঘ্রাণ বিদেশি অতিথিসহ প্রায় সব মানুষের কাছেই বেশ প্রিয়। এই খাবার তাই যে কারও রুচির সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়।


চীনের আটটি প্রধান আঞ্চলিক রন্ধনশৈলীর একটি হলো হুয়াইয়াং রন্ধনশৈলী। দীর্ঘ সময় ধরেই গুরুত্বপূর্ণ সব কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে এই রান্নার পদগুলো প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। তাই কূটনৈতিক আয়োজনে হুয়াইয়াং খাবার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।


১৯৪৯ সালে চীন প্রতিষ্ঠার সময় ‘ফাউন্ডিং ব্যাংকুয়েট’ বা প্রতিষ্ঠাকালীন ভোজে এই খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে চীনের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ভোজসভায়ও ছিল এই রান্নার পদ। 


এ ছাড়া ২০০২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াং জেমিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সম্মানে যে ভোজসভার আয়োজন করেছিলেন, সেখানেও হুয়াইয়াং খাবার রাখা হয়েছিল।


এই রান্নার প্রধান পদগুলোর মধ্যে রয়েছে সিংহের মাথা আকৃতির নরম মাংসের মিটবল। এ ছাড়া ইয়াংঝু ফ্রায়েড রাইস এবং মিষ্টি-টক সসে ডুবো তেলে ভাজা ‘স্কুইরেল ফিশ’ বেশ জনপ্রিয়। এই রন্ধনশৈলীর আরেকটি চমৎকার পদ হলো ‘ওয়েনসি তোফু’। এতে তোফুর একটি খণ্ডকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কয়েক হাজার সরু সুতার মতো করে কাটা হয়।


ইয়াংসি নদী অববাহিকায় উৎপন্ন বিভিন্ন উপকরণ এই রান্নার মূল বৈশিষ্ট্য। শেফরা সাধারণত মিঠাপানির মাছ, ইল মাছ এবং বাঁশের কোঁড়ল ব্যবহার করেন। খাবারের প্রাকৃতিক সতেজতা বজায় রাখতে তাঁরা খুব অল্প মসলা ব্যবহার করেন। এতে উপকরণের নিজস্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ ফুটে ওঠে।


সাংহাইভিত্তিক খাদ্য লেখক ক্রিস্টোফার সেন্ট ক্যাভিশ বলেন, ভোজসভার জন্য এই খাবারগুলো দারুণ। উত্তরের শানডংয়ের খাবারের তুলনায় এগুলো অনেক হালকা। আবার দক্ষিণ-পশ্চিমের সিচুয়ান অঞ্চলের খাবারের মতো ঝালও নয়। দক্ষিণের বিখ্যাত ক্যান্টনিজ খাবারের তুলনায় এগুলো সহজলভ্য এবং এতে জটিল বা দুর্লভ উপকরণের ব্যবহার কম। তাই সব ধরনের অতিথির জন্য এই খাবারগুলো বেশ মানানসই।


খাদ্য লেখক ক্রিস্টোফার সেন্ট ক্যাভিশ বলেন, সহজ কথায় বলতে গেলে এই খাবারগুলো বেশ ‘নিরাপদ’। ওয়াশিংটন ডিসির কোনো ভোজসভায় যেমন মুরগির মাংস পরিবেশন করা হয়, এটি অনেকটা তেমনই। এই খাবার নিয়ে কারও বিরক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, এগুলো খুব বেশি ঝাল নয়, আবার খুব অদ্ভুত বা অপরিচিতও নয়। ফলে সব ধরনের অতিথির কাছেই এটি গ্রহণযোগ্য।




পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৪ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। 


দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।


আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।


দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।


ধর্মেন্দ্র প্রধান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪৭ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।


এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।


নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।


ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। 


মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।


ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক। 


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে। 


গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।


মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।


রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।


এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।


এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।


অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।  


সূত্র: দ্য রিপাবলিক



রাভনীত সিং বিট্টু

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’


পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও দেখার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।  শুক্রবার (২৪ জুলাই) মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, তার বক্তব্যে যেভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, তাতে তিনি আনন্দিত।


ওই ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গতরাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।’


ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ। ‘


কড়া আইন আনার ঘোষণা


এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষায়


অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।


বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাস করার চেষ্টা করা হবে।


প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা বলেছিলেন মোদি


এর আগে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’


তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।


এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া