ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি সড়কে দেয়ালচিত্রের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। ছবি: রয়টার্স
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ ঘিরে দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। এই সমঝোতা স্মারকে সইয়ের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি চালু হবে। এরপর একটি চুক্তির জন্য আলোচনার টেবিলে বসবেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান। এই মধ্যস্থতার বিষয়ে জানাশোনা আছে—এমন একটি সূত্র গতকাল বুধবার প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত তথ্য রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে। এর আগে সূত্রের বরাতে একই তথ্য দেয় মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। এক পাতার ওই সমঝোতা স্মারকে থাকা ১৪ দফার কিছু অংশও প্রকাশ করেছে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় যে অগ্রগতি হচ্ছে, তার ইঙ্গিত আগেই পাওয়া যাচ্ছিল। অ্যাক্সিওসে খবর প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন, আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান স্থগিত করছেন তিনি। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে এ অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত যদি সত্যিই ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা হয়, তা হবে মধ্যপ্রাচ্যসহ পুরো বিশ্বের জন্য স্বস্তির খবর। যেমন সমঝোতার সম্ভাবনার খবরেই গতকাল জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল কমে ১০০ ডলারের নিচে নামে। যুদ্ধের জেরে এই তেলের দাম দ্বিগুণ বেড়ে ১২০ ডলারের ওপরে উঠেছিল। এ ছাড়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয় হাজারের বেশি প্রাণহানিসহ মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি তো হয়েছেই।
সমঝোতা স্মারক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, তাঁরা ওয়াশিংটনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছেন। দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান–প্রদান চলছে। তবে প্রস্তাবের জবাব এখনো দেওয়া হয়নি। আর সূত্রের বরাতে ইরানের তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবে অগ্রহণযোগ্য কিছু বিষয় রয়েছে।
সব মিলিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আবাস আসলানি। আল–জাজিরাকে তিনি বলেন, তিনি আশা করছেন গতকালের ঘটনাগুলো ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তির দিকে অগ্রগতির পথ তৈরি করেছে। আশা করা হচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইরান একটি জবাব দেবে।
৩০ দিনের আলোচনায় চূড়ান্ত চুক্তি
ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে পাকিস্তান। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে এক টেবিলে বসাতে সফলও হয়েছিল তারা। সেখান থেকে ইতিবাচক কোনো ফল আসেনি। এরপর চেষ্টা করেও দুই পক্ষকে আর একসঙ্গে বসানো যায়নি। যদিও পাকিস্তানের মাধ্যমে পর্দার আড়ালে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বার্তা আদান-প্রদানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।
আড়ালের ওই বার্তা আদান-প্রদানের ফলেই এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল পাকিস্তানি একটি সূত্র রয়টার্সকে বলে, ‘আমরা এটি খুব তাড়াতাড়ি শেষ করব। আমরা কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি।’ আর অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রও বিশ্বাস করে, এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ সম্ভব। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
সংবাদমাধ্যমটির খবর অনুযায়ী, ওই সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হলে চূড়ান্ত একটি চুক্তি করতে দুই পক্ষ ৩০ দিনের আলোচনায় বসবে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ বা সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে এ আলোচনা হতে পারে।
খসড়া স্মারকের দফা অনুযায়ী, আলোচনার ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ তুলে নেবে ইরান। আর ইরানের বন্দরে অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। এর ব্যত্যয় হলে আবার হামলা শুরু করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পও গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে বলেছেন, হরমুজ চালু করার চুক্তিতে ইরান রাজি না হলে, ‘আরও বড় পরিসরে ও তীব্রতার’ সঙ্গে দেশটিতে হামলা চালানো হবে।
আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশটির পরমাণু কর্মসূচিকে মূল কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইরানের কাছে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। এটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির মাত্রার খুব কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের দাবি, ইরান এই ইউরেনিয়াম দিয়ে পরমাণু অস্ত্র বানাতে চায়। যদিও তেহরান বরাবরই বলে এসেছে, তারা কখনোই এমন অস্ত্র বানাবে না।
যুদ্ধ শুরুর পরও দুই দেশের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে অগ্রগতির খবর সামনে আসেনি। এখন অ্যাক্সিওস বলছে, খসড়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত ও পরমাণু অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি দেবে ইরান। বিনিময়ে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। জব্দ থাকা ইরানের দুই হাজার কোটি ডলারও ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
ইরান কত সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখবে, তারও একটি ধারণা দিয়েছে অ্যাক্সিওস। সূত্রের বরাতে তারা বলেছে, এই সময়টা ১২ বা ১৫ বছর হতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক। আর তেহরানের দাবি, সময়সীমাটা পাঁচ বছরে সীমিত রাখা হোক। সময়সীমা শেষে ইরান ৩ দশমিক ৬৭ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৫ সালে একটি পরমাণু চুক্তি হয়েছিল। ২০১৯ সালে সেই চুক্তি থেকে ট্রাম্প সরে যান। তাই আবার দুই দেশের মধ্যে পরমাণু চুক্তি অতটা সহজ হবে না বলে মনে করেন যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৬-এর সাবেক প্রধান জন সয়ার্স। বিবিসিকে তিনি বলেন, কিন্তু পরমাণু কর্মসূচির মতো জটিল বিষয়গুলোর সমাধান এক বা দুই দিনের আলোচনায় হবে না। ২০১৫ সালের চুক্তির সময় প্রায় দুই বছর ধরে আলোচনা চলেছিল।
লেবাননে নৃশংসতা থামছে না
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। প্রায় ছয় সপ্তাহ ওই অভিযানের পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে যায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ২২ এপ্রিল ওই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করেন ট্রাম্প। এরপর গতকাল এপিক ফিউরি অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ পর্ব শেষ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র যে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইছে—রুবিওর বক্তব্য তারও একটি ইঙ্গিত। তবে থামছে না ইসরায়েল। ৮ এপ্রিল থেকে তারা ইরানে হামলা বন্ধ রাখলেও লেবাননে নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। লেবানন সরকারের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতিকে পাশ কাটিয়ে গতকালও টায়ার, খিরবেত সেলমসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।
লেবাননে এ নিয়ে ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ফলে ইসরায়েল দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নির্মূলের কথা বললেও দেখা যাচ্ছে বেসামরিক মানুষই বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। গতকালও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ১২টি শহর থেকে বেসামরিক লোকজনকে সরে যেতে বলেছে ইসরায়েল।
আসলে ইসরায়েলের জনগণই চায় না যুদ্ধ শেষ হোক। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট নামের একটি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে, ৬২ শতাংশ ইসরায়েলি চায়, ইরানের বিরুদ্ধে আবার পূর্ণ মাত্রার যুদ্ধে ফিরে আসুক ইসরায়েল। গতকাল ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও বলেছেন, ‘ইরানে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর আরও একটি তালিকা আমরা প্রস্তুত করেছি। আমরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছি, যেন ইরানে আবার একটি শক্তিশালী ও বিস্তৃত অভিযান শুরু করা যায়।’
হরমুজ চালু কতটা সহজ হবে
যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি দর-কষাকষিতে ইরানের মূল হাতিয়ার হলো হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ শুরুর পরই বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহের এই পথ বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এটি। যুক্তরাষ্ট্রেরও তেলের দাম বেড়ে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ইরানের এই পদক্ষেপ ট্রাম্পের জন্য মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে পাল্টা চাপে ফেলতে ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরে অবরোধ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। এর লক্ষ্য ছিল ইরানে পণ্য ও তেলবাহী জাহাজ যাওয়া-আসা বন্ধ করা। এরপর আবার গত সোমবার হরমুজে প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তাঁর এ ঘোষণার পর প্রণালিটিতে সামরিক-বেসামরিক জাহাজে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় আবার উত্তেজনা দেখা দেয়।
এ নিয়ে যুদ্ধের পর থেকে হরমুজ ও এর আশপাশের জলসীমায় ২৬টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। তবে ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করার পর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোর বলেছে, হরমুজ দিয়ে নিরাপদে জাহাজ পারাপার নিশ্চিত করা হবে। আর সমঝোতা স্মারকে ঐকমত্য হলে, দুই দেশই অবরোধ তুলে নিতে পারে।
হরমুজ পুরোপুরি চালু হলে হামলার শঙ্কা কমবে। এরপরও যুদ্ধের আগে যেমন দিনে প্রায় ১৪০টি জাহাজ প্রণালিটি পাড়ি দিত, সে পর্যায়ে পৌঁছানো অতটাও সহজ হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে। যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল সাইমন মেয়ল আল-জাজিরাকে বলেন, ইরান এখন কারা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রেরও পথ বদলের ইতিহাস রয়েছে। ফলে সমঝোতা স্মারকে দুই পক্ষ যদি সই করে, তারপরও হরমুজ পাড়ি দিতে বেসামরিক জাহাজগুলো খুবই সতর্ক থাকবে। অনেকে প্রণালিতে জাহাজ পাঠাতে চাইবে না। এমন অবস্থায় তাদের মধ্যে ধাপে ধাপে আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে।
পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।
দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
ধর্মেন্দ্র প্রধান
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।
এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।
ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।
রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।
এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।
সূত্র: দ্য রিপাবলিক
রাভনীত সিং বিট্টু
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’
পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও দেখার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, তার বক্তব্যে যেভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, তাতে তিনি আনন্দিত।
ওই ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গতরাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।’
ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ। ‘
কড়া আইন আনার ঘোষণা
এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষায়
অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাস করার চেষ্টা করা হবে।
প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা বলেছিলেন মোদি
এর আগে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’
তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া