ছবি : সংগৃহীত
ভারতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে এল চমকের পর চমক। পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটানোর পাশাপাশি অন্য দুই রাজ্যও সাক্ষী থাকল পালাবদলের। আসামে বিজেপিই থাকল, তবে আরও শক্তিশালী হয়ে।
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে মসনদ টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আবার সফল হলো ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। চারটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত পদুচেরি নিয়ে পাঁচটি বিধানসভায় গত মাসে ভোট গ্রহণ করা হয়। গতকাল সোমবার সকালে সব রাজ্যে একসঙ্গে ভোট গণনা শুরু হয়। গতকাল রাত একটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ফল পাওয়া না গেলেও কে জয়ী হচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।
বহিরাগত জুজুই তুরুপের তাস হিমন্তের
আসাম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি এবার আঞ্চলিক জোটসঙ্গীদের ছাড়াই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের পথে। ১২৬টি আসনের মধ্যে একাই ৮২টিতে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে তারা। এই সাফল্যের প্রধান কারিগর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা; যিনি ‘উন্নয়ন’ ও ‘সাংস্কৃতিক সুরক্ষা’র এক মিশেল ঘটিয়ে নিজেকে রাজ্যের একমাত্র ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সফল হয়েছেন। একদিকে গত পাঁচ বছরের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প; অন্যদিকে ‘বহিরাগত’দের হাত থেকে অসমিয়া পরিচয় রক্ষার কৌশলী প্রচার—এই দুইয়ের সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে ‘হিমন্ত ম্যাজিক’।
আসামের এক শিক্ষক সুনিত ঠাকুরের কথায়, নির্বাচনের ঠিক আগে প্রদ্যুৎ বরদলৈ ও ভূপেন কুমার বরার মতো প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতাদের বিজেপিতে শামিল করা ছিল তাঁর রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক। তিনি আরও বলেন, প্রতিবারের মতোই বিজেপির প্রচারের একটি প্রধান অংশ ছিল তথাকথিত বহিরাগত ব্যক্তিদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া নিয়ে। এটিও বিজেপির পক্ষেই কাজ করেছে।
বিপরীতে আসামে কংগ্রেসের ভরাডুবির মূলে রয়েছে চরম সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্বের অভাব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈয়ের পরাজয় এবং বড় বড় নেতার দলত্যাগ কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছিল। পাশাপাশি ‘অসম সম্মিলিত মোর্চা’র অন্দরে আসন রফা নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং এআইইউডিএফের সঙ্গে জোটের ফলে হিন্দু ও অসমিয়া ভোটারদের একটি বড় অংশ কংগ্রেস থেকে মুখ ফিরিয়ে বিজেপির দিকে ঝোঁকে। প্রচারের ক্ষেত্রেও কংগ্রেস ভুল কৌশল অবলম্বন করে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় সমস্যাগুলোর পরিবর্তে পবন খেরা ও হিমন্তের স্ত্রীর সংঘাতের মতো অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে জড়িয়ে পড়ায় গ্রামীণ ভোটারদের সঙ্গে দলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
তামিল আকাশে নতুন তারা বিজয়
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ কয়েক দশকের দ্রাবিড়ীয় আধিপত্যে ইতি টেনে এক ঐতিহাসিক উত্থান ঘটল অভিনেতা সি জোসেফ বিজয়ের (থালাপতি বিজয়) দল ‘তামিলাগা ভেত্তরি কাঝাগম’ সংক্ষেপে ‘টিভিকে’–এর। পুরোনো দল ডিএমকে ও এআইএডিএমকের মতো প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে পেছনে ফেলে জয় প্রায় নিশ্চিত করেছে নতুন এই দল।
বিজয়ের এই সাফল্যের মূলে রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং ‘বিকল্প রাজনীতি’র প্রতিশ্রুতি। প্রচারের মাধ্যমে দ্রাবিড়ীয় ভাবাদর্শকে সরাসরি আক্রমণ না করে বরং তাঁকে আধুনিক ও কার্যকর করার কথা বলেছিলেন বিজয়। এই কৌশলী অবস্থান এবং তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী ফ্যান ক্লাবের সাংগঠনিক শক্তি তাঁর প্রচলিত প্রথা ভাঙার লড়াইয়ে গতি বাড়িয়েছে।
তামিলনাড়ুতে দীর্ঘ সময় ধরে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের পাল্টাপাল্টি শাসনে বীতশ্রদ্ধ তরুণ প্রজন্ম ও নারীরা চলচ্চিত্র তারকা বিজয়ের মধ্যে এক স্বচ্ছ ও নতুন দিশা খুঁজে পেয়েছেন। সোজা কথায়—সরাসরি তামিল জাতীয়তাবাদ এবং জনকল্যাণমূলক রাজনীতির কথা বলে সাধারণ মানুষের আবেগ ছুঁতে পেরেছে টিভিকে। পাশাপাশি ভোটের প্রচারে বারবার ঘোষিত দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং কর্মসংস্থানের আশ্বাসও ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা পায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সেই সূত্রে দুর্নীতি–সংক্রান্ত অসংখ্য মামলা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক স্থবিরতা; যা সাধারণের মনে ক্ষোভের দাবানল জ্বেলে দেয়। এ ছাড়া আদর্শগত পার্থক্য ছাপিয়ে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের ক্ষমতার লড়াই প্রাধান্য পাওয়ায় এক নতুন বিকল্পের প্রতি আগ্রহী করে তোলে জনমানসকে। এই সম্মিলিত সমস্যা থেকে রেহাই পেতেই তামিলভূমে নবাগত তৃতীয় শক্তি হিসেবে বিজয়ের টিভিকেকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাতে মুখিয়ে ওঠে জনতা জনার্দন।
তবে ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের ‘ম্যাজিক নম্বর’ ১১৮ বিজয়ের দলও পাচ্ছে না। ১০৭টি আসনে জয় পেয়েছে তারা। ফলে মুখ্যমন্ত্রী হতে অন্য কারও মুখাপেক্ষী হতে হবে বিজয়কে।
কেরালায় বাম দুর্গের পতন
কেরালার রাজনীতিতে ‘বিকল্প শাসন’–এর চিরাচরিত প্রথা মেনেই পালাবদল ঘটেছে। পিনারাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন বাম জোট এলডিএফ সরকারকে সরিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট। ১৪০টি আসনের মধ্যে ৮৯ আসনে জয়ী হয়েছে ইউডিএফ জোট, কংগ্রেস একাই পেয়েছে ৬৩ আসন।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ১০ বছরের বাম শাসনের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া প্রবল প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া এই পটপরিবর্তনের প্রধান কারণ। সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক দুর্নীতি, স্বজনপোষণ ও প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ ভোটারদের বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটের মেরুকরণ ইউডিএফের পাল্লা ভারী করেছে। সেই সঙ্গে সমাজের প্রতিটি স্তরকে নিশানা করে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর নিরন্তর প্রচার এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির মিশেল ইউডিএফের পালে হাওয়া দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন নিজের দুর্গ ধর্মদমে জয়ী হলেও তাঁর মন্ত্রিসভার প্রায় ১৩ জন মন্ত্রী ধরাশায়ী হয়েছেন। এই পরাজয় এলডিএফের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা, যা তাদের তৃতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি চাতানুরের মতো আসনে জয়লাভ করে কেরালায় আবার নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছে। এই ফলাফল আরও একবার প্রমাণ করল যে কেরালার ভোটাররা শাসনের ধারাবাহিকতার চেয়ে পরিবর্তনকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে পরিবর্তনের দমকা বাতাস স্পর্শ করেনি পদুচেরিকে। সেখানে ৩০টি আসনের সর্বশেষ ফল অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী এন রঙ্গস্বামীর নেতৃত্বাধীন এআইএনআরসি বিজেপির সঙ্গে জোট করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।
দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
ধর্মেন্দ্র প্রধান
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।
এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।
ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।
রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।
এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।
সূত্র: দ্য রিপাবলিক
রাভনীত সিং বিট্টু
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’
পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও দেখার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, তার বক্তব্যে যেভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, তাতে তিনি আনন্দিত।
ওই ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গতরাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।’
ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ। ‘
কড়া আইন আনার ঘোষণা
এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষায়
অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাস করার চেষ্টা করা হবে।
প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা বলেছিলেন মোদি
এর আগে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’
তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া