বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়া এবং চিকিৎসা নেওয়ার কথা এবার নিজেই জানিয়েছেন।
শুক্রবার নেতানিয়াহু নিজের বার্ষিক স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য প্রকাশ করে জানান, তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং প্রাথমিক পর্যায়েই তিনি এর চিকিৎসা নিয়েছেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তার প্রোস্টেট সার্জারি হয়। এরপর এক রুটিন চেকআপে ধরা পড়ে তার প্রোস্টেটে ছোট একটি ক্যানসারযুক্ত টিউমার রয়েছে। ছড়িয়ে পড়ার আগেই সেটি শনাক্ত হয়। এরপর জেরুজালেমের হাদাসাহ মেডিকেল সেন্টারে সফল চিকিৎসায় ক্যানসার টিউমারটি নির্মূল হয়েছে। এখন তিনি সুস্থ্য আছেন।
ইরানে যুদ্ধের কারণে এতদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর জনসম্মুখে আনা হয়নি বলে জানান নেতানিয়াহু।
তিনি বলেন, তাকে তার বার্ষিক স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য দেরি করে প্রকাশ করতে বলা হয়েছিল, যাতে ইরানে যুদ্ধ চলার মাঝে তার স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও উদ্বেগ ছড়িয়ে না পড়ে।
তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি চলছে আর নেতানিয়াহু নিজেও চিকিৎসা করে সেরে উঠেছেন।
নেতানিয়াহু জানান, তিনি এখন শারিরীকভাবে ‘দারুণ’ আছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “দেড়বছর আগে আমার বড় হয়ে যাওয়া প্রস্টেটের সফল অস্ত্রোপচার হয়। তখন থেকে আমি নিয়মিত মেডিকেল চেকআপে ছিলাম।
“শেষবারের চেকআপে ধরা পড়ে প্রোস্টেটে এক সেন্টিমিটারের চেয়েও ছোট একটি টিউমার রয়েছে। পরীক্ষা-নীরিক্ষায় বোঝা যায়, সেটি ছিল একটি ক্যান্সারযুক্ত টিউমার। তবে সেটি একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। কোথাও ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েনি।”
“তখন আমাকে এই টিউমার সরিয়ে ফেলার জন্য চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।” এরপর হাদাসা মেডিকেল সেন্টারে কোনও জটিলতা ছাড়াই চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান নেতানিয়াহু।
শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি
ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেননি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দীর্ঘ বিমানযাত্রা ও সময়ের পার্থক্যের কারণে ক্লান্ত থাকায় তিনি নৈশভোজে যাননি বলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
গতকাল শনিবার বিকেলে নয়াদিল্লিতে পৌঁছে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন শি জিনপিং। একই দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন তিনি। দিনভর বিভিন্ন কূটনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর সময়ের পার্থক্যের কারণে শি জিনপিং বেশ ক্লান্ত ছিলেন। এ কারণেই তিনি মোদির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেননি।
শি জিনপিং ছাড়াও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ নৈশভোজে অংশ নেননি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকসের অন্য কয়েকজন নেতা এতে অংশ নেন।
নৈশভোজে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ, নির্মলা সীতারামন, পীযূষ গোয়েল, অশ্বিনী বৈষ্ণব ও শিবরাজ সিং চৌহান উপস্থিত ছিলেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও নৈশভোজে অংশ নেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদ ভবন থেকে দুটি বাসে করে মধ্য দিল্লির ভারত মণ্ডপমে নৈশভোজের অনুষ্ঠানে যান। দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন আজ শেষ হবে। এতে ১১টি সদস্য দেশের নেতা ছাড়াও ১০টি অংশীদার দেশের নেতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে নরেন্দ্র মোদির সাতটি দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এর আগে শনিবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন মোদি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই নেতা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর জোর দিয়েছেন। তারা বলেন, ‘পার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়।’
বৈঠকে মোদি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থ-এই তিনটি বিষয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত করা উচিত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে তাদের সর্বশেষ বৈঠকের পর ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে অগ্রগতি হয়েছে, দুই নেতা তা স্বাগত জানিয়েছেন।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেছেন কাশ্মীরের তিন নেতা। তাঁরা হলেন হুরিয়াত কনফারেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান মীরওয়াইজ উমর ফারুক, আগা সৈয়দ হাসান মোসাভি আল সাফাভি ও ইমরান রেজা আনসারি। বৈঠকে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে।
বৈঠকের পর ভারতের সংবাদ সংস্থাকে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, কাশ্মীর থেকে একটি প্রতিনিধিদল দিল্লিতে এসেছে। তারা ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলা নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁরা সংহতি প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।
মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘এই অবিচার বন্ধ হওয়া উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের পাশাপাশি ফিলিস্তিন ও লেবাননে যা ঘটছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডকে তিনি অন্যায় বলে মন্তব্য করেন।
বৈঠকের মূল বার্তা সম্পর্কে মীরওয়াইজ উমর ফারুক বলেন, ‘সব ধর্মই সত্য ও ন্যায়কে সমর্থন করে। আর সেই কারণেই আমাদের দেখা উচিত কে সঠিক পথে আছে। এই মুহূর্তে ইরান সঠিক পক্ষে রয়েছে; তারা নিজেদের রক্ষা করছে এবং তাদের ওপর একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ইরানি দূতাবাসের অনুষ্ঠানে কাশ্মীরি নেতারা
মীরওয়াইজ উমর ফারুক ও ইমরান রেজা আনসারি দিল্লিতে ইরান দূতাবাস আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতেও অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের মিনাবে নিহত শিশুদের স্মরণে প্রদর্শনীটি আয়োজন করা হয়।
মীরওয়াইজ উমর ফারুকের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানান, ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতহালির আমন্ত্রণে কাশ্মীরের নেতারা প্রদর্শনীতে যোগ দেন।
কাশ্মীর নিয়ে ভারত-ইরানের সংবেদনশীলতা
২০১৯ সালে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে। এরপর কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে বড় পরিবর্তন আসে। একই সময়ে কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্যও দেখা দেয়।
ভারত বরাবরই বলে আসছে, পুরো কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান-সংক্রান্ত কাশ্মীরের বিষয়টি ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় কাঠামোর মধ্যেই সমাধানযোগ্য বলে দিল্লির অবস্থান।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালে বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কাশ্মীরের মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ভারত তখন এর প্রতিবাদ জানায়।
খামেনি ২০২০ সালের দিল্লির দাঙ্গা নিয়েও মন্তব্য করেন। ২০২৪ সালে গাজার পাশাপাশি ভারতের মুসলমানদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের মুসলিম বলতে পারি না যদি আমরা মিয়ানমার, গাজা, ভারত বা অন্য যেকোনো স্থানে একজন মুসলিমের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে উদাসীন থাকি।’
তবে এসব মতপার্থক্যের মধ্যেও ভারত ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
চলতি বছরের গোড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর কাশ্মীর ইস্যুতে তেহরানের অবস্থান নিয়ে ভারতে প্রতিক্রিয়া হয়। ইরানের দূতাবাসকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্ট মুছে ফেলতে হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কাশ্মীরি নেতাদের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সময়ে ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পেজেশকিয়ানের সাক্ষাৎও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
ভারত ও ইরানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগামী দিনে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, তা পর্যবেক্ষণের বিষয়।
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন পণ্য বর্জন করে কানাডীয় পণ্য কেনার প্রবণতা বাড়ছে কানাডায়। এর প্রভাব পড়ছে দেশটির সুপারমার্কেটগুলোতেও। ক্রেতাদের চাহিদার পরিবর্তনের কারণে পণ্যের উৎস স্পষ্টভাবে জানানোর পাশাপাশি নতুন নতুন দেশ ও অঞ্চল থেকে পণ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা।
কানাডীয় পণ্যের দিকে ক্রেতাদের ঝোঁক
অন্টারিওর স্বাধীন মুদি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ভিন্সেস মার্কেটের প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো ত্রিমার্কি জানান, মার্কিন পণ্য বিক্রি নিয়ে সম্প্রতি অনেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গ্রেটার টরন্টো এলাকায় তাদের চারটি দোকানে বিক্রি হওয়া সবজির প্রায় ৯০ শতাংশই কানাডায় উৎপাদিত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে এখন কুইবেক থেকে স্ট্রবেরি সংগ্রহ করছেন তারা। একই সঙ্গে ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিজ্ঞাপনের বাজেটও কমাতে হয়েছে।
ত্রিমার্কির ভাষায়, আগে ক্রেতাদের কাছে মূল বিষয় ছিল পণ্যের মান ও দাম। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি বিষয়—পণ্যটি কোন দেশের।
পণ্যের উৎস স্পষ্ট করছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো
কানাডার সবচেয়ে বড় খাদ্যপণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান লব্লও আগস্টে তাদের ফল ও তাজা খাবারের বিভাগে বড় আকারের কানাডীয় পতাকার চিহ্ন আবারও ব্যবহার শুরু করেছে। শুল্কের কারণে প্রভাবিত পণ্য চিহ্নিত করতে তারা ‘টি’ ট্যাগও ফিরিয়ে এনেছে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা সহজেই কানাডীয় পণ্য শনাক্ত করতে পারছেন।
দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম মুদি বিক্রেতা মেট্রোও জানিয়েছে, তারা স্থানীয় কানাডীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত রাখবে।
কানাডিয়ান ফেডারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রোসার্সের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্যারি স্যান্ডস মনে করেন, পণ্য কেনার ক্ষেত্রে দেশের উৎস নিয়ে কানাডীয়দের মানসিকতায় স্থায়ী পরিবর্তন আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র এখনো বড় সরবরাহকারী
তবে কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্যের গুরুত্ব এখনো অনেক বেশি। দেশটি মূল্যমানের হিসাবে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম তাজা সবজি আমদানিকারক। আমদানির অর্ধেকেরও বেশি এখনো আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এরপর রয়েছে মেক্সিকো।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে কানাডার সবজি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ ছিল ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে, এই হার ছিল প্রায় ৬৯ শতাংশ।
ফল আমদানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। জুলাই পর্যন্ত কানাডার অর্ধেকের বেশি ফল আমদানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
বাণিজ্য বিরোধের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে টানাপোড়েনও এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গত ২১ আগস্ট দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে শুল্ক ও পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়।
এর ফলে কানাডীয় ক্রেতাদের একটি অংশ মার্কিন পণ্য এড়িয়ে স্থানীয় বা অন্য দেশের পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকছেন।
টরন্টোর ২৭ বছর বয়সী সফটওয়্যার প্রকৌশলী জন অ্যামবার্ডও তাদের একজন। তিনি জানান, সম্ভব হলে তিনি মার্কিন পণ্য না কিনে কানাডীয় ব্র্যান্ড ও ব্যবসাকে সমর্থন করেন। পণ্য কেনার আগে তিনি লেবেল দেখেন এবং প্রয়োজন হলে অনলাইনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি সম্পর্কে তথ্য খোঁজেন।
বদলে যেতে পারে সরবরাহ ব্যবস্থা
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রেতাদের এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে কানাডার খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে। স্থানীয় উৎপাদকরা এতে লাভবান হওয়ার সুযোগ পেলেও ব্যবসায়ীদের জন্য মান, দাম এবং পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ফলে মার্কিন পণ্য বর্জনের এই প্রবণতা শুধু ক্রেতাদের কেনাকাটার ধরনই বদলাচ্ছে না, বরং কানাডার সুপারমার্কেটগুলোর পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনছে।
সূত্র: রয়র্টাস
নিখোঁজ জাহাজ ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’
ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ২৪০ জন আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী জাহাজ নিখোঁজ হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বরে) সকালে পূর্ব জাভার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়া থেকে বোর্নিও দ্বীপের দক্ষিণ কালিমন্তান প্রদেশের রাজধানী বানজারমাসিনের দিকে যাওয়ার পথে জাহাজটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ হারিয়ে ফেলে।
উদ্ধারকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটির নাম ‘ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮’। মাঝপথে বিরূপ আবহাওয়ার মুখে পড়ে জাহাজটির যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে।
বানজারমাসিনের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তা আরিয়ান্তো আরদি নিশ্চিত করেছেন যে, নৌযানটির সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরপরই বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন জাভা সাগরে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জাভা সাগরের বানজারমাসিন জেটি থেকে প্রায় ১৪৮ কিলোমিটার (৯২ মাইল) দূরে অবস্থানকালে জাহাজটির সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ সম্ভব হয়েছিল।
দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি কিংবা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। নৌযানটি শেষ পর্যন্ত কোনো চরে আটকে পড়েছে নাকি সাগরে ডুবে গেছে, তা নিশ্চিত করতে দ্রুতগতির উদ্ধারকারী ড্রেজার ও তল্লাশকারী দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যাতায়াতের জন্য ফেরি ও যাত্রীবাহী জাহাজই সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে সঠিক তদারকির অভাব ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে দেশটির নৌপথে প্রায়শই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই যোদ্ধা জাতি হয়ে থাকে, তাহলে ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি হোক—এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার অভিযোগ, সেনাবাহিনীকে এড়িয়ে মার্কিন বাহিনী এখন সরাসরি ইরানের বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তবে যা-ই ঘটুক, তেহরান ওয়াশিংটনের কাছে মাথা নত করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান লেখেন, "যদি মার্কিনিরা যোদ্ধা হয়, তাহলে আমাদের বীর সেনাদের মোকাবেলা করুক। কেন তারা আমাদের বেসামরিক অবকাঠামো, খাদ্য সরবরাহ আর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে? মানুষ হলে কেন সাধারণ মানুষকে খাবার আর ওষুধ থেকে বঞ্চিত করছে?"
তিনি আরও বলেন, ইরানি জনগণকে গুণ্ডামির কাছে নতিস্বীকার করানো যাবে না—ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
টানা ৪০ দিনের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও, সেই সময় থেকেই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে মার্কিন বাহিনী। এর ফলে খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ইরানে প্রবেশ করতে পারছে না। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সাম্প্রতিক বার্তায় মূলত এই অবরোধেরই কড়া সমালোচনা উঠে এসেছে।
পাল্টা জবাবে ইরানও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল করে রেখেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল করত সেই প্রণালি দিয়ে, এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
চাঁদের মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি
আর মনে হয়, আয় আয় চাঁদ মামা ছড়া বলা যাবে না। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার চাঁদের মালিকানা নিজেদের বলে দাবি করেছেন। চাঁদের মালিকানা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ ছবিও প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, চাঁদ তাঁদের দেশের সম্পত্তি। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে চাঁদের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘চাঁদ আমাদের’। ছবির পাশে তিনি একটি মার্কিন পতাকা যুক্ত করেন। এর কিছুক্ষণ আগে তিনি স্পেস ফোর্সের নতুন কালো পোশাকের ছবি শেয়ার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীরা এসব পোস্ট স্টার ওয়ার্স সাম্রাজ্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। স্টার ওয়ার্স ইম্পেরিয়াল মার্চ বাজানোর কথাও বলেন কেউ কেউ। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, মঙ্গলের পরে কি তবে সূর্য দখল করা হবে। আরেকজন প্রশ্ন করেন, মঙ্গলের বাসিন্দাদের কীভাবে সতর্ক করা যাবে।
ছবিতে ট্রাম্পকে ডিসি সুপারহিরো গ্রিন ল্যান্টার্ন হিসেবে দেখানো হয়েছে। ছবিতে ট্রাম্প ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এবং তাঁর হাতে রয়েছে একটি উজ্জ্বল সবুজ রঙের পাওয়ার রিং বা ক্ষমতা বলয়। পোস্টের সঙ্গে সুপারহিরোর বিখ্যাত শপথ বাক্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, উজ্জ্বল দিনে বা অন্ধকার রাতে কোনো মন্দই চোখের আড়ালে থাকবে না। মন্দের উপাসকেরা ক্ষমতার ভয় করবে, কারণ তাদের সামনে রয়েছে গ্রিন ল্যান্টার্নের আলো।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সালের মহাশূন্য চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশ চাঁদ দখল করতে পারে না। আমেরিকাসহ ১০০টির বেশি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় সার্বভৌমত্ব বা দখলের মাধ্যমে কোনো দেশ মহাশূন্যের কোনো বস্তুও দাবি করতে পারবে না। আর তাই চাঁদের মালিকানা দাবি ও স্পেস ফোর্সের পোস্ট নিয়ে অনলাইনে বেশ উদ্বেগ দেখা গেছে।
সূত্র: সিএনবিসি টিভি ১৮