ছবি : সংগৃহীত
শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এই খবরে তাৎক্ষণিকভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এরই মধ্যে কমতে শুরু করেছে তেলের দাম। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে সূচকেরও উত্থান হয়েছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এ খবরে তেলের দাম অন্তত ১৫ শতাংশ কমেছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে আজ বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ৩০ সেন্টে নেমে গেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ কমে ৯৩ ডলার ৮০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে দাম কমলেও তা যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির তুলনায় এখনও অনেক বেশি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে জ্বালানি তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের মতো। যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তা ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে উঠে যায়।
যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বেড়ে যায় জ্বালানি ব্যয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করা জাহাজগুলোর ওপর ইরান হামলার হুমকি দিলে সংকট আরও তীব্র হয়।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে’ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে। শাহবাজ শরিফের দেওয়া ১১ ঘণ্টার বিশেষ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া ১০ দফার একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, এই প্রস্তাব আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে।
একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে শত্রুপক্ষ: ইরান
ইরান সরকার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যুদ্ধবিরতিকে দেশটির শাসকগোষ্ঠীর একটি বড় বিজয় হিসেবে তুলে ধরছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসিআই) থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান এই যুদ্ধে তার ‘প্রায় সব লক্ষ্যেই অর্জন করেছে। শত্রুপক্ষ একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে।’ যুদ্ধবিরতির খবরে ইরানে সাধারণ নাগরিকদেরকে সড়কে আনন্দ মিছিল করতে দেখা গেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় ইসলামাবাদে শুক্রবার বৈঠক
যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ঘোষণা করছি, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় শাহবাজ শরীফ বলেন, উভয় দেশ যে বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছে, আমি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। এই উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষই অত্যন্ত গঠনমূলকভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করেছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও আলোচনার জন্য’ ১০ এপ্রিল শুক্রবার ইসলামাবাদে একটি বৈঠক ডেকেছে পাকিস্তান। সেখানে উভয়পক্ষের প্রতিনিধি দলকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শাহবাজ শরীফ। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি, ‘ইসলামাবাদ আলোচনা’ টেকসই শান্তি অর্জনে সফল হবে। আগামী দিনগুলোতে আরও সুসংবাদ জানাতে ইচ্ছুক আমি।’
কাস্পিয়ান সাগর
কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় বিস্ফোরণে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে হামলার বিষয়ে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, শনিবার সংঘটিত এ হামলাকে ইরান ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনের নেতৃত্ব হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তেহরানের ভাষ্য, এটি ইরানের বিরুদ্ধে কিয়েভের ‘অযৌক্তিক ও বৈরী নীতির’ ধারাবাহিকতা। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ ঘটনার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হামলায় জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। আরাগচির ভাষ্য, এ হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন এবং এর ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন আরাগচি। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তার দপ্তর জানায়, কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে তেহরান।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলায় ইউক্রেন ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ অর্জন করেছে। হামলায় একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত একটি জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে। তবে ইরান যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলেছে, সেটির নাম তিনি উল্লেখ করেননি।
জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, রাশিয়া উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার স্যাটেলাইট চিত্র ইরানকে সরবরাহ করছে, যা হামলার পরিকল্পনা ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার দাবি, ১৯ ও ২০ জুলাই বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতের কয়েকটি বিমানঘাঁটির ওপর রাশিয়ার স্যাটেলাইট নজরদারি চালানো হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় ইরানের হামলার মুখে পড়া কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতকে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেন। এ লক্ষ্যে দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞ পাঠানো হয়েছে বলে কিয়েভ জানিয়েছে।
২০২২ সালে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করার পর থেকেই কিয়েভ ও তেহরানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ইরানি প্রযুক্তির এসব ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানি নকশার ৪৪ হাজারের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে হামলা চালানোর পর গত দুই দিন ধরে সব ধরনের হামলা বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার কাজে ব্যবহৃত ‘ইন্টারসেপ্টর ’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
রোববার (২৬ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের মধ্যে মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত কমে যাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। ওই আলোচনার পরই সপ্তাহের শেষ দিকে নির্ধারিত বড় ধরনের বিমান হামলার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসে ওয়াশিংটন।
এর আগে গত শুক্রবার(২৪ জুলাই) ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরানের ওপর বিমান হামলা আরও জোরদার করা হবে। তবে শীর্ষ সামরিক পরামর্শকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর তিনি তার সেই অবস্থান পরিবর্তন করেন।
সংবাদমাধ্যমটিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুটি পৃথক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ডেন কেইন ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানে বড় ধরনের আক্রমণ চালাতে পারে, তবে এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনাদের সুরক্ষায় নিয়োজিত ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত সংকটজনক হারে কমে যেতে পারে।
এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লাগাতার তীব্র হামলা চালিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করা যাবে কি না, তা নিয়েও হোয়াইট হাউসের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার ফলে ইরানিদের মধ্যে উল্টো জাতীয়তাবাদী ঐক্য জোরদার হয়েছে এবং তারা বিদেশি হুমকি মোকাবিলায় একাট্টা হয়েছেন।
উল্লেখ্য, এমন কৌশলগত সংশয়ের মাঝেই গত শুক্রবার ও শনিবার(২৫ জুলাই) রাতে ইরানি ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি মার্কিন বাহিনী।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা। ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনের ফলে বিজেপি সরকার তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে বিশ্বাস তাদের। শিক্ষার্থী ও যুবকদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মনে করছে সিজেপি।
এই সফল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি নেতারা রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, এ নিয়ে সব স্তরে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, এমন প্রশ্নে তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, “ভারতে কখনোই কোনো কিছুকে না বলবেন না।”
তবে সিজেপি এখনই পূর্ণকালীন রাজনীতিতে নামার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যুব নেতৃত্বাধীন তৃণমূল আন্দোলনকে শক্তিশালী করাই তাদের অগ্রাধিকার।
রানকা এনডিটিভিকে বলেছেন, “আমার মনে একমাত্র যে বিষয়টি কাজ করছে তা হল, বাড়িতে ফেরা ও ঘুমানো, বিশ্রাম নেবো আর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবো। গত কয়েক মাস ধরে আমি বাড়ি থেকে দূরে আছি আর আমি সত্যিই আরাম করতে চাই। গত দুই মাসে যা যা ঘটেছে তা আমাদের সবাইকেই কাবু করে ফেলেছে বলে আমার ধারণা।
“এটা গর্বের মুহূর্ত। এটা সত্যি খুশি হওয়ার, স্বস্তি পাওয়ার মুহূর্ত। এরপর কী হয় দেখবো আমরা।”
তিনি রাজনৈতিক জীবনের কথা নাকচ করে দিচ্ছে কি না, সরাসরি এমন প্রশ্নে তিন বলেন, “আমি যা অনুভব করি ভারতে কখনোই কোনো কিছুকে না বলতে নেই।”
সৌরভ দাস জোর দিয়ে জানিয়েছেন, রাজনীতি তাদের দলের তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য নয়।
তিনি বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট। এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, কারণ ইতোমধ্যে (দেশে) ৭৫০ থেকে ৮০০ মতো রাজনৈতিক দল আছে। এগুলোর কোনোটিই তরুণদের ইচ্ছাকে পূর্ণতা দিতে সক্ষম না।
“আর আমরা এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই যেন ক্ষমতায় থাকা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা তরুণদের জন্য কাজ করতে সমর্থ হয় আর তাদের দাবি পূরণ করে। এই মুহূর্তে এটাই আমাদের কর্মসূচী।”
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, আন্দোলনের পথ থেকে এখনই সরছেন না তারা। লিখিতভাবে সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা না জানালে অবস্থান মঞ্চ ছাড়বেন না তার
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ১৫ দিনের সংঘাতে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে থাকা ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি অত্যাধুনিক নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন ধ্বংসের দাবিও করেছে বাহিনীটি। শনিবার আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ও মেহের নিউজ এজেন্সি।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেন, ৮ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চলা ১৫ দিনের লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার দাবি, ওই সময়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হামলায় ১১টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, ধ্বংস হওয়া ১৭টি ড্রোনের মধ্যে আটটি ছিল সংযোজনের অপেক্ষায় থাকা (আনপ্যাকড) ড্রোন।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, যা একটি হ্যাঙ্গারের ভেতরে ছিল, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (ট্যাংকার) বিমান রয়েছে।
তবে আইআরজিসির এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলতি মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক আর কার্যকর নেই।
এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানে ৫৯ জন নিহত এবং ৫৯২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্যকেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কারমানপুরের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।
এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পূর্ববর্তী দফার মার্কিন হামলায় ইরানে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন বলে ইরানের দাবি। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী ছিলেন। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হন।
নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তিনি তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে চার দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি। চলমান পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ যেন অপব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৫ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি। তার পদত্যাগের পর আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগের দিন তিনি বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘অসামাজিক শক্তি’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলন যাতে অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা উচিত।
পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।
দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।