জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়িনি নিহত হয়েছেন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২০ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:২৩ পিএম

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়িনি নিহত হয়েছেন। 


ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি মারা যান। আজ শুক্রবার আইআরজিসির পক্ষ থেকে নায়িনি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে জানানো হয়, আজ ভোরে এ হামলা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি নায়িনি নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ করে।


এদিকে ইরানের মেহর নিউজের বরাতে একই খবর জানিয়ে ‘তুর্কি টুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত হওয়ার আগে এক বিবৃতিতে জেনারেল নায়িনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছিলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত হামলা সত্ত্বেও তেহরান এখনো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সক্ষম।


যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করে নায়িনি বলেছিলেন, এ লড়াই চলবে। 


সূত্র: আল–জাজিরা 

 




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ পিএম

শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ান সোমবার টোকিওতে আঘাত হেনেছে। ঘূর্ণিঝড়টি আসার আগে ছয়টি প্রশাসনিক অঞ্চল থেকে ১৯ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে সেখানকার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার। কানাগাওয়া প্রশাসনিক অঞ্চলে ভূমিধসে একটি বাড়ি ধসে পড়ার পর সেখানে এক নারী জীবন্ত চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করছেন দমকলকর্মীরা। অন্যদিকে, চিবা প্রশাসনিক অঞ্চলে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করার সময় এক ব্যক্তি আটকা পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। টাইফুনের কারণে ৩০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কিছু ট্রেন চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে।


বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুজুয়ানের বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার। কখনও কখনও ঝোড়ো বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৯৪ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে।


প্রশান্ত মহাসাগরে একের পর এক আঘাত হানা ঝড়ের সর্বশেষটি হলো দুজুয়ান। এ বছরের ‘সুপার এল নিনো’ সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বাড়িয়ে ঝড় সৃষ্টির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করায় এসব ঝড় আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, মানুষের জীবনের জন্য ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ তৈরি হয়েছে। সংস্থাটি সবাইকে ‘অবিলম্বে’ নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানায়।


জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টাইফুনের প্রভাব পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফর বিলম্বিত করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। টোকিওর দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বাসিন্দাদের বেসমেন্ট বা ভূগর্ভের তলায় না যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় ভারী বৃষ্টির তৃতীয় স্তরের সতর্কতা জারি রয়েছে।


সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত দুটি কার্টুনের মাধ্যমে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ‘বেসমেন্টে পানি দ্রুত ঢুকে পড়তে পারে এবং বাইরে কী ঘটছে তা দেখা সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে সেখানে আটকা পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।’ সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, বাসিন্দাদের ‘অত্যন্ত সতর্ক’ থাকতে হবে।


দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাটি ম্যানহোলের ঢাকনার ব্যাপারেও সতর্ক করেছে। বন্যার পানিতে এগুলো সরে গিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।


গ্রিনল্যান্ডের মেস্টারসভিক-এ অবস্থিত সামরিক ঘাঁটির সামগ্রিক দৃশ্য

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৫ পিএম

গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি চালুর পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের একটি সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু করা এবং পূর্ব উপকূলে আরেকটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মঙ্গলবার একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দুজন জানিয়েছেন, পরিকল্পিত দুটি স্থান হলো দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াক এবং পূর্ব উপকূলের মেস্টারসভিগ। ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান সামরিক ঘাঁটি বন্ধ হওয়ার পর নারসারসুয়াকের জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে নেমে এসেছে। অন্যদিকে মেস্টারসভিগ বর্তমানে ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর ইউনিট ‘সিরিয়াস ডগ স্লেড পেট্রোল’-এর ব্যবহৃত একটি সামরিক ফাঁড়ি।


মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মধ্যে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন চুক্তিটি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা (১৪:৩০ জিএমটি) চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নির্ধারিত হয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, স্বাক্ষরের আগে এর বিস্তারিত চূড়ান্ত নাও হতে পারে।


এ বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্রও চুক্তির বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি আগের একটি বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, মঙ্গলবার স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া চুক্তিটি ‘গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত ও সুরক্ষিত করবে’।


ডেনমার্ক জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সামরিক প্রতিরক্ষা জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন (ন্যাটো)-এর তত্ত্বাবধানেও আসবে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন বলেছেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা অনেকাংশে ন্যাটোর দায়িত্বে থাকবে।


চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের চাপের পর করা হচ্ছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে আসছেন। তিনি ডেনমার্কের এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তবে জনমত জরিপে গ্রিনল্যান্ডের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে।


জানুয়ারিতে ট্রাম্পের হুমকির মাত্রা চরমে পৌঁছালে তা ন্যাটোর মধ্যে কূটনৈতিক সংকট তৈরি করে। পরিস্থিতি প্রশমনের লক্ষ্যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসে। নতুন চুক্তিটি সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় করা হচ্ছে।


স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল এবং সেখানে ১০ হাজারের বেশি সেনা ও কর্মী মোতায়েন ছিল। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় সামরিক স্থাপনা পিটুফিক স্পেস বেস, যেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য অবস্থান করছেন। নতুন দুটি স্থাপনা চালু হলে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়বে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৫ পিএম

গত ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলংকার উত্তরাঞ্চলে যখন একটি গণকবরের সন্ধান মেলে, সেটি পরিকল্পিতভাবে খুঁড়ে তোলা কোনও কবরস্থান ছিল না। সে সময় জাফনার চেম্মানি এলাকায় একটি শ্মশানের পরিধি বাড়াতে খননকাজ করছিলেন শ্রমিকরা, আর তখনই তারা সেখানে হঠাৎ মানব দেহাবশেষ খুঁজে পেতে শুরু করেন। এরপর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।


অগাস্টের মধ্যে প্রত্নতত্ত্ববিদরা সেখানে খননের তৃতীয় ধাপ শেষ করেন। এ সময় তারা শিশু ও নবজাতকসহ মোট ৫৭২ জন মানুষের হাড়গোড় খুঁজে পান। সেখানে মৃতদের সঙ্গে তাদের নানা ব্যবহার্য জিনিসও পাওয়া যায়; যেমন: চুড়ি, স্কুলব্যাগ, দুধের বোতল।


এটি শ্রীলংকায় এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে বড় গণকবর বলে মনে করা হচ্ছে। এই গণকবরের অস্তিত্ব নিয়ে আগে কিছু গুঞ্জন ছিল।


শ্রীলংকায় কয়েক দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সময় একজন তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে বিচারের মুখে পড়া এক সেনাসদস্য এমন একটি গণকবরের কথা বলেছিলেন, যেখানে শত শত মরদেহ ছিল।


মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, সেখানকার মরদেহগুলো নিখোঁজ হওয়া বেসামরিক মানুষদের। তবে এতদিন পর্যন্ত এর কোনও প্রমাণ ছিল না।


গণকবরের এই স্ন্ধান বিপর্যয়কর হলেও এটি জেয়ারুবি জেয়াবালানের মতো মানুষের মনে নিখোঁজদের খোঁজ পাওয়ার ব্যাপারে আশার সঞ্চার করেছে। জেয়াবালানের বাবা ছিলেন সেই হাজার হাজার মানুষের একজন, যারা কয়েক দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন।


জেয়াবালান এবং তার মতো স্বজন হারানো পরিবারগুলো আশা করছে, তাদের প্রিয়জনদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল তার জবাব হয়ত এই মৃতদেহগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে।


বহু তামিলের বিশ্বাস, এই গণকবরে রয়েছে গৃহযুদ্ধ চলাকালীন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার মানুষদের দেহাবশেষ। তারা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে।


তবে চেম্মানিতে খনন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগিয়েছে, যেন এই পরিবারগুলোর ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে,যারা নিখোঁজ স্বজনের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল তার উত্তর খুঁজে ফিরছেন।


ওদিকে, আগে শনাক্ত করা একটি গণকবরের কাছে শত শত দেহাবশেষের সন্ধান পাওয়ায় তামিলদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাগুলোর পূর্ণ তদন্ত দাবি করে আসছিলেন।


অনেকের আশঙ্কা, সত্য উদঘাটনে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে শেষ পর্যন্ত সন্ধান পাওয়া গণকবরটি জনসাধারণের দৃষ্টির আড়ালে চলে যাবে। ফলে গণকবরটি শ্রীলংকার উত্তরাঞ্চলে নতুন করে প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে জবাবের অপেক্ষা


শ্রীলংকায় বিশেষ করে তামিল অধ্যুষিত উত্তর ও পূর্বাঞ্চল কয়েক দশক ধরে সংঘাত জর্জরিত ছিল। ওই অঞ্চলে ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চলা গৃহযুদ্ধ দেশটিকে জাতিগত বিভাজনের রেখায় ভাগ করেছে।


তামিল টাইগার বিদ্রোহীরা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে লড়াই করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, বছরের পর বছর ধরে সিংহলী-প্রধান সরকারের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে তারা।


২৬ বছর ধরে চলা সংঘাতে আনুমানিক এক লাখ মানুষ নিহত হয়। নিখোঁজ হয় প্রায় ২৩ হাজার মানুষ, যাদের বেশিরভাগই তামিল। নিরাপত্তা বাহিনী এবং তামিল টাইগার দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই নৃশংসতা ও অপরাধের অভিযোগ আছে।


১৯৯৫ সালে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর শ্রীলংকার সেনাবাহিনী লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম (এলটিটিই)-এর কাছ থেকে জাফনা উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ পুনর্দখল করে। আর সেটিই যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ২০০৯ সালে টাইগারদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।


৯০ এর দশকের শেষদিকে সেনাবাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ালে পুরো চেম্মানি এলাকাজুড়ে একটি কঠোর নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে ওঠে। সেখানে সেনা শিবির, তল্লাশি চৌকি ও নিরাপত্তা ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়।


চেম্মানিতে কবরস্থানের কাছেও একটি সেনা শিবির ছিল। তখন কেউ কেউ জাফনাকে একটি উন্মুক্ত কারাগার হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। সেইসঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধেও হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে গুম করার অভিযোগ ওঠে, যদিও শ্রীলংকা সরকার সবসময় তা অস্বীকার করে এসেছে।


জাফনার বাসিন্দা জেয়ারুবি জয়পালান বিবিসি-কে বলেন, "১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমি ১২ বছর বয়সী ছিলাম। সে সময় আমার বাবাকে চেম্মানি এলাকার কাছে একটি তল্লাশি চৌকি থেকে শ্রীলংকার সেনাবাহিনী আটক করে নিয়ে যায়। এরপর তার কী হয়েছিল, আমরা আজও জানি না।"


তিনি সেই সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, তার বাবা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল এবং মরিয়া হয়ে তার খোঁজে জাফনার বিভিন্ন সেনা শিবির ও পুলিশ স্টেশনে ঘুরে বেড়িয়েছিল।কিন্তু বাবা আর কখনও ফিরে আসেননি।


জেয়ারুবির বাবা কান্দাইয়া জয়পালান ছিলেন সরকারি কর্মচারী। পাশাপাশি তিনি চেম্মানির কাছেই একটি সড়কের পাশে ক্যাফে চালাতেন।


জেয়ারুবি বলেন, "আমি অনেকের সঙ্গে চেম্মানির গণকবর দেখতে গেছি, এ আশায় যে কোনও উত্তর পাব। কিন্তু আমরা কোনও বস্তুগত প্রমাণ পাইনি। আমরা মানবদেহের অবশিষ্টাংশের বিস্তারিত ফরেনসিক বিশ্লেষণ চাই।"


কান্দাইয়া জয়পালান নিখোঁজ হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে একই এলাকায় ১৮ বছর বয়সী তামিল স্কুলছাত্রী কৃষান্তি কুমারস্বামী নিখোঁজ হয়েছিলেন।


১৯৯৮ সালে কলম্বোর এক আদালত কুমারস্বামীকে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে এবং তার পরিবারের আরও তিন সদস্যকে হত্যার অভিযোগে পাঁচ সেনাসদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।


সেসময় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ কেড়েছিল। পরে তাদের মরদেহ চেম্মানি এলাকায় সমাহিত করা অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমানে যে গণকবর নিয়ে তদন্ত চলছে তা কুমারস্বামী ও অন্যদের দেহাবশেষ পাওয়া স্থানটির ১০০ মিটারের মধ্যেই অবস্থিত।


আদালতে দেওয়া এক সাক্ষ্যে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক সেনাসদস্য সোমারাত্নে রাজাপাক্ষে অভিযোগ করেন, ৯০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিহত ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষকে চেম্মানিতে কবর দেওয়া হয়েছিল।


তার এই কথার সূত্র ধরেই এক বছর পর চেম্মানিতে প্রথম খননকাজ শুরু হয়। তখন তদন্তকারীরা ১০টিরও বেশি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেন। মানবাধিকারকর্মীদের ধারণা, এসব দেহাবশেষ গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়াদের হতে পারে। তবে বিচারিক ব্যবস্থায় এ ধারণাকে তেমন আমল দেওয়া হয়নি।


অধিকারকর্মীরা বলছেন, তামিল বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ চলমান থাকায় তৎকালীন সরকার তদন্ত এগিয়ে নেয়নি এবং কেন নেয়নি তাও ব্যাখ্যা করেনি। একই এলাকাতেই আরেকটি গণকবরের সন্ধান পাওয়ায় এখন জবাবদিহিতার দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে।


অতীতের তদন্ত কোনটিই বিচার পর্যন্ত পৌঁছায়নি


সংঘাতের সময় নিখোঁজ হওয়াদের পরিবারগুলো নতুন গণকবরের সন্ধান মেলার পর প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মরণানুষ্ঠান আয়োজন করেছে।


তাদের একজন ৬৫ বছর বয়সী সুসিলা। তিনি তার ছেলে জ্ঞানাসীলান রবির সন্ধান করছেন, যাকে ২০০৭ সালে ২৪ বছর বয়সে শ্রীলংকার সামরিক বাহিনী তুলে নিয়ে গিয়েছিল।


তিনি বিবিসি-কে বলেন, "সে ছিল আমার একমাত্র ছেলে। তার কথা মনে করে আমি রোজ ঘুমের মধ্যে কেঁদে উঠি। তাকে ছাড়া আমার জীবন শূন্য।"


তিনি চেম্মানির কবরস্থল পরিদর্শন করলেও তার ছেলে সেখানে আছে এমন কোনও প্রমাণ, অর্থাৎ পোশাক বা ব্যক্তিগত কোন ব্যবহার্য সামগ্রী, খুঁজে পাননি।


উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা এখনও করা হয়নি। চেম্মানি থেকে উদ্ধার হওয়া সব দেহাবশেষ আদালতের হেফাজতে জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে।


গণকবরের প্রধান প্রত্নতত্ত্ববিদ অধ্যাপক রাজ সোমদেব বিবিসি-কে বলেন, "আমরা একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন তৈরি করছি। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সেটি আদালতে জমা দেওয়া হবে।"


সম্প্রতি কয়েক দশকে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন স্থানে ২০টিরও বেশি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে জোর করে গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টির কোনও যোগসূত্র নিশ্চিত হওয়া যায়নি, এবং কোনও ক্ষেত্রেই বিচার হয়নি।


আগের গণকবরগুলোর তদন্তে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কারণে নতুন গণকবর নিয়ে তদন্ত কী ফল বয়ে আনবে সে বিষয়ে অনেক তামিলেরই সংশয় আছে।


তারা ২০১৮ সালে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মান্নারে সন্ধান মেলা আরেক গণকবরের তদন্তের ফলের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ৩৫০টিরও বেশি কঙ্কালাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু তদন্ত চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বহু পরিবারকে হতাশ হতে হয়েছিল।


আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান


অতীতের অপরাধ তদন্তে শ্রীলংকার সরকারি সংস্থাগুলোর দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে অধিকার গোষ্ঠীগুলো কঠোর সমালোচনা করেছে।


বহু বছরের আন্তর্জাতিক চাপের পর ২০১৮ সালে সরকার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা তদন্তে স্বাধীন সংস্থা অফিস অব দ্য মিসিং পারসন্স (ওএমপি) গঠন করে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, তাদের নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে সংস্থাটি খুব বেশি এগুতে পারেনি।


এ মাসের শুরুতে এক প্রতিবেদনে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, "জোর করে গুম, নির্যাতন ও হত্যার বহু মামলা স্থবির হয়ে আছে। আর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মীরা হুমকি ও ভয়ভীতির মুখোমুখি হচ্ছেন।"


জাতিসংঘ শ্রীলংকাকে আহ্বান জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের মৃত্যুর কারণ জানতে এবং কারা দায়ী তা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সহায়তা নিতে।


জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রধান রোরি মাঙ্গোভেন বিবিসি-কে বলেন, "পরিস্থিতিটা এমন যেখানে ভুক্তভোগীরা খুবই হতাশ, কয়েক দশক ধরে বেদনা নিয়ে বেঁচে আছেন এবং অতীতের তদন্তের ওপর আস্থা হারিয়েছেন।”


তিনি বলেন, "আমি মনে করি আন্তর্জাতিক সহায়তা যোগ হলে এসব তদন্তে আস্থা জোরদার হবে।"


তবে শ্রীলংকার সব সরকারই যুদ্ধকালে সংঘটিত নৃশংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ এএম

লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় সৌদি বিমান হামলায় ছয়জন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাবা নিউজ এজেন্সি মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার রাতে মোখায় বোমা হামলা চালায় সৌদি বিমান বাহিনী। নিহত ও আহত সবাই বেসামরিক নাগরিক। আহতদের মধ্যে দুই শিশু ও একজন নারী রয়েছেন।


হুথি নেতারা দাবি করেছেন, গত কয়েক দিনে গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকা ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সৌদি বিমান হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।


তাদের দাবি, ১১ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর-এই সাত দিনে প্রায় ৩০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বাহিনী। এদিকে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সৌদি বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুথি বাহিনী।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিধ্বস্ত বিমানটির ভিডিওও প্রকাশ করেছে গোষ্ঠীটি। সম্প্রতি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাতেও কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে হুথি বাহিনী। এর মধ্যে গত ১১ সেপ্টেম্বর বাব আল-মান্দাব প্রণালি দখলের দাবিও করেছে তারা। 


তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


সূত্র: এএফপি


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আজ সোমবার চীন সরকার এই সফরের তথ্য নিশ্চিত করেছে।


চীন জানিয়েছে, শি জিনপিং বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ‘চীন-মার্কিন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়ন নিয়ে তারা মতবিনিময় করবেন। এর আগে, ওয়াশিংটন জানিয়েছিল এই দুই নেতা এই সপ্তাহেই বৈঠকে বসবেন। 


একজন মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার অ্যান্ড্রুস এয়ার ফোর্স বেসে শি জিনপিংকে স্বাগত জানাবেন। পরের দিন তারা বৈঠক করবেন।


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যখন মে মাসে বেইজিং সফর করেছিলেন তখন তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন চীনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট।


ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ‘আমি তার সঙ্গে প্রায় সব বিষয়েই কথা বলবো।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৫ পিএম

ডেঙ্গু মোকাবেলায় ভারত শিগগিরই নতুন একটি টিকা পেতে যাচ্ছে। ভারতের ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ ও তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যাল এ বিষয়ে একটি চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায় ভারতে কিউডেঙ্গা টিকার প্রচার ও বিতরণ করা হবে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে। 


নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে ভারতে কিউডেঙ্গা টিকা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


ভারতে ডেঙ্গু এখনো জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ 


ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। ভারতে বিশেষ করে বর্ষাকাল ও বর্ষার পর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। ভারতে ডেঙ্গু এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। এডিস মশার মাধ্যমে মূলত ডেঙ্গু ছড়ায়। জমে থাকা পানিতে এই মশা বংশবিস্তার করে।


বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।


কিউডেঙ্গা কী?


কিউডেঙ্গা হলো জাপানের ওষুধ কম্পানি তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালের তৈরি একটি ডেঙ্গু টিকা। এই টিকা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন থেকেই সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি। টিকাটি ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।


কিউডেঙ্গা টিকা দুই ডোজে দেওয়া হয়। প্রতিটি ডোজের পরিমাণ ০.৫ মিলিলিটার। প্রথম ডোজ দেওয়ার তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়। এই টিকার একটি বিশেষ দিক হলো, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকলেও বা ডেঙ্গু ভাইরাসের সংস্পর্শে না এলেও টিকা দেওয়া যায়। তাই টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না।


ভারতে কবে পাওয়া যাবে কিউডেঙ্গা টিকা?


ভারতে কিউডেঙ্গা ডেঙ্গু টিকা ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।


সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিউডেঙ্গা টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে। এদিকে ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ ও তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালের চুক্তির ফলে ভারতে কিউডেঙ্গা টিকার প্রচার ও বিতরণ করা হবে।


টিকাটি কতটা কার্যকর?


টিকাটি নিশ্চিত ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদানে সক্ষম বলে প্রমাণিত হয়েছে। সূত্রটিতে বলা হয়েছে, একটি শেষ পর্যায়ের পরীক্ষায় দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার এক বছর পর কিউডেঙ্গা নিশ্চিত ডেঙ্গু রোগীদের বিরুদ্ধে ৮০.২ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে।


টিকাটি ১৮ মাস পর ডেঙ্গু-জনিত হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রেও ৯০.৪ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে, যা গবেষণাটির একটি গৌণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। এই পরিসংখ্যানগুলো সূত্রে উল্লিখিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য থেকে নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো গবেষণায় অংশগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর ওপর টিকার কার্যকারিতা বর্ণনা করে।


তবে এই ফলাফল নির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাওয়া গেছে। তাই সবার ক্ষেত্রে টিকাটি একই মাত্রায় কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা এই তথ্য থেকে দেওয়া যায় না।


ভারতের ডেঙ্গু টিকা কেন প্রয়োজন?


ভারতসহ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ডেঙ্গু এখনও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সাধারণত বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। এ সময় জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেক্টর বোর্ন ডিজিজেস কন্ট্রোলের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৯৫ জন মারা যান।


এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ভারতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনও একটি বড় সমস্যা। তাই মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার মতো কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাই মশা নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের পাশাপাশি ডেঙ্গুর টিকা রোগ প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে। তবে শুধু টিকা নিলেই হবে না। জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা এবং মশার বংশবিস্তার কমানোর মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও চালিয়ে যেতে হবে।


কিউডেঙ্গা টিকার ভারতে আসা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। টিকাটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন থেকেই সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি দুই ডোজে দেওয়া হয় এবং দুই ডোজের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধান থাকে। 


তাকেদা জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা বিশ্বব্যাপী বছরে ১০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করতে চায়। কম্পানিটি আরো জানিয়েছে, গত ২০ বছরে ভারতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণ ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার মতো পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ।


২০২৭ সালে কিউডেঙ্গা ভারতের বাজারে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত হতে পারে। তবে টিকা বাজারে আসার আগ পর্যন্ত মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা, মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর প্রধান উপায়।