• প্রকাশ : বুধবার ০৪ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৬:১৯ এএম

ইরানে লক্ষ্য অর্জনে যা যা প্রয়োজন, সবই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানে হামলায় যোগ দিয়ে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট কী লক্ষ্য অর্জন করতে চান?


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনও ‘শাসন পরিবর্তন’কে যুদ্ধের লক্ষ্য বলে বর্ণনা করছেন। কখনও বলছেন, ইরান যেন পারমাণনিবক অস্ত্র বানাতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি।


তিনি কখনো বলেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে, আবার কখনো বলছেন, তা অনেক দীর্ঘ হতে পারে। ইরানে হামলার পর এ কয়েক দিনে গোটা মধ্যপ্রাচ্যই যুদ্ধের মঞ্চে পরিণত হয়েছে, এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে? এই আলোচনা এখন সামনে এসেছে।


প্রায় দুই দশক আগে ইরাকে যে অজুহাতে হামলা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, এবারও প্রায় একই অজুহাত সামনে আনা হয়েছে, যার কোনো গোয়েন্দাভিত্তি নেই। বরং এরকম এক যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।


আরেকটি ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন, আর তা হল- একটি সন্দেহজনক যুক্তির উপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিতে পারে। যা শেষ পর্যন্ত হাজার হাজার সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু ঘটাতে পারে। এছাড়া এই যুদ্ধ আগামী বছরগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে নতুন ‘সন্ত্রাসী হামলার ভিত্তিও’ তৈরি করতে পারে।


আরেকটি বিকল্প পরিস্থিতির কথাও বলেছে সিএনএন। সেটি হল-এই হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প যদি এ অঞ্চলে ৫০ বছরের জন্য ইরানের হুমকি কমিয়ে আনতে পারেন এবং সে দেশে স্বাধীনতার সূচনাকে ত্বরান্বিত করতে পারেন।


গত শনিবার সকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু করে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামরিক শীর্ষ পর্যায়েরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন হামলায়।


গত সোমবার হোয়াইট হাউজে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানে হামলা চালানোর এটিই ছিল ‘শেষ সেরা সুযোগ’। এ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “একটি অসুস্থ ও পাপিষ্ঠ শাসনব্যবস্থা থেকে আসা অসহনীয় হুমকি দূর করতেই আমরা বর্তমানে এই পদক্ষেপ নিচ্ছি।”


গত গ্রীষ্মে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “সেই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার পর আমরা তাদের সতর্ক করেছিলাম অন্য কোথাও নতুন করে পারমাণবিক কেন্দ্র না গড়তে। কিন্তু তারা সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছোটা অব্যাহত রেখেছে।”


ইরানে এবারের মার্কিন অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘এপিক ফিউরি বা মহাতাণ্ডব’। ইসরায়েল নাম দিয়েছে ‘রোরিং লায়ন বা গর্জনরত সিংহ’।


‘হামলা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র’


খামেনির বিদায়ের পর যা আশা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা এখনও দেখা যায়নি ইরানে, অর্থাৎ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানিরা এখনো রাস্তায় নামেনি। চারদিকে যখন শোকের মাতম আর বিশৃঙ্খলা ঘনিয়ে উঠছে, ঠিক তখনই তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দ থেকে নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছেন প্রবীণ এক ঝানু রাজনীতিবিদ আলি লারিজানি।


গত রোববার তিনি জানিয়েছেন, দেশে একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠন করা হবে। এই ঘোষণা দিয়ে তিনি যেন বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি না থাকলেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো স্থিতিশীল আছে।


খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে বিবেচিত লারিজানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।


এ অবস্থায় মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে প্রবেশে করেছে যুদ্ধ। সিএনএন লিখেছে, ইরানে হামলা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সবথেকে বড় হামলা এখনো চালানো হয়নি।


সিএনএন সঞ্চালক জেক ট্যাপারকে তিনি বলেন, “আমরা তাদের ওপর চরম আঘাত হানছি। মনে হয় খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অভিযান। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী আছে আমাদের। আমরা সেটি ব্যবহার করছি।”


ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখনো তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত শুরুই করিনি। বড় ঢেউটি এখনো আসেনি। সেটি আসছে খুব শিগগিরই।” মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে ইরানের আক্রমণকে ‘বড় বিস্ময়’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।


তিনি বলেন, “আমরা অবাক হয়েছি। আমরা তাদের (আরব দেশগুলোকে) বলেছিলাম, ‘আমরা এটি সামলে নেব’। কিন্তু এখন তারা লড়াই করতে চাইছে। তারা বেশ আগ্রাসীভাবেই লড়াই করছে। তাদের ভূমিকা খুব সামান্যই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন তারা এতে যুক্ত হওয়ার জন্য জোরাজুরি করছে।”


সিএনএন বলছে, ইরানের নেতৃত্বের যারা এখনো টিকে আছেন, তারাও ‘আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা উসকে দিতে সংকল্পবদ্ধ।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিণতি কী হতে পারে?


• বিমান অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্রের লক্ষ্যস্থলগুলোতে ধ্বংসাত্মক হামলা করলে এটি জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও প্রতিবাদের জোয়ার সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলা ক্ষমতা কেন্দ্রের ওপর চাপ তৈরি করবে এবং একটি নতুন ইরান মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিতে সক্ষম হতে পারে।


• ইরানের বাকি নেতৃত্ব নতুন শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে যে যেন দেশটি আর আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে কার্যকরভাবে দাঁড়াতে না পারে।


• খারাপ যা ঘটতে পারে, তা হল- ইরানের পরিস্থিতি লিবিয়ার মতো হতে পারে। বছরের পর বছর ধরে চলা কতৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর নেতৃত্ব শূন্যতা তৈরি হতে পারে। গোষ্ঠীগত লড়াই বা গৃহযুদ্ধ লেগে যেতে পারে, যা ছড়িয়ে পড়তে পারে অঞ্চলজুড়ে, উদ্বাস্তু সংকট তৈরি হতে পারে এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ উগ্রপন্থিদের হাতে চলে যেতে পারে।


গত সোমবার রয়টার্সের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে ঢুকছে শত শত ইরানি।


সে দিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসবিদ ও বৈশ্বিক নীতি বিশারদ ম্যাক্স বুট কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস সম্মেলনে বলেছেন, “ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তা অযৌক্তিক এবং অবৈধ। তবে এর মানে এই নয় যে এটি ব্যর্থ হবে।” তিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সমালোচনা করেন।


তবে ইরানের সামরিক বাহিনী এখনো সক্রিয় থাকায় দেশটির শাসক গোষ্ঠীকে উৎখাত করাটা ‘কঠিন’ মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড পেট্রাউস।


কারণ হিসেবে সংস্থার সাবেক এ পরিচালক বলেন, “সমস্যা হলো, কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বেশ কঠিন, যদি সেখানে লাখ লাখ সদস্যের সশস্ত্র ও সংগঠিত বাহিনী মাঠে উপস্থিত থাকে।” ট্রাম্প বলেছিলেন ইরানে তিনি স্থলবাহিনী মোতায়েন করবেন না।


এ অবস্থায় ইরানে সরকার পরিবর্তন না হলেও এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হয় বেশ কিছু লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে মনে করেন ডেভিড পেট্রাউস।


তবে সোমবার নিউ ইয়র্ক পোস্ট পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, “ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানো নিয়ে আমার কোনো জড়তা নেই। অন্য প্রেসিডেন্টরা যেমন বলেন, স্থলভাগে কোনও সেনা মোতায়েন করা হবে না। আমি তা বলি না। আমি বলি, সম্ভবত তাদের (স্থলসেনা) প্রয়োজন নেই অথবা যদি প্রয়োজন হয় (তবে পাঠানো হবে)।”


কী চলছে ইরানে


বিবিসি লিখেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ইরানের সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, তাতে ১৯৮৯ সাল থেকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া আলি খামেনি নিহত হয়েছেন।


ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফ দাবি করেছে, খামেনির সঙ্গে নিহত হয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান, সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ এবং ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রধানের মতো শীর্ষস্থানীয় কয়েক ডজন কর্মকর্তা।


মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট।


সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৫৩টি শহর আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৫০৪টি স্থান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। আর নথিভুক্ত হামলার সংখ্যা ১০৩৯-এ পৌঁছেছে।


খামেনির মৃত্যুতে সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪০ দিনের শোক পালনের জন্য দেশের সব সরকারি এবং সাধারণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে। সরকার শোককাঠিন্যকে “জাতির একত্রিত ক্ষতি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।


বিবিসি লিখেছে, সোমবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে যে তারা ওমান উপসাগরে ইরানের ১১টি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, ওই এলাকায় ইরানের আর কোনো জাহাজ নেই।


ইরানের পাল্টা হামলা


ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েল, কুয়েত, আরব আমিরাতেও মৃত্যুর খবর এসেছে। নিহতদের মধ্যে মার্কিন সেনাও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি দেশে মার্কিন স্থাপনা ইরানের হামলার লক্ষ্যস্থল।


মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ড্রোন হামলা হয়েছে। এর পর সৌদি আরবের বিভিন্ন মিশনে তাদের সব ধরনের সেবা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।


কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দূতাবাস এক্স পোস্টে বলেছে, “আমরা সব ধরনের নিয়মিত এবং জরুরি কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেছি।”


এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির’ কারণ দেখিয়ে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বাণিজ্যিক মাধ্যমে দেশত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিল।


বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড সদর দপ্তর ইরানের হামলায় ধ্বংস হওয়ার খবর এসেছে।


গত সোমবার অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলায় তাদের দুটি ডেটা সেন্টার অঞ্চলে ‘সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত’ হয়েছে।


গতকাল মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান আশপাশের যেসব শহরকে পাল্টা হামলার নিশানা বানিয়েছে, দোহা সে তালিকার একটি।


আল জাজিরা লিখেছে, এর আগে সোমবার কাতারের বিমান বাহিনী তাদের আকাশসীমায় দুটি ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে এবং কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করে।


সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির মুসাফাহ এলাকায় একটি জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনালে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ওমান, জর্ডান ও ইরাকেও মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। ইরানের সমর্থনে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা করছে। ইসরায়েল পাল্টা লেবাননের বৈরুতে হামলা করেছে।


জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরাইনি জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, “যদি কোনো প্রতিবেশী দেশের কোনো ঘাঁটি অন্য কোনো দেশে হামলা বা আক্রমণ চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সেই ঘাঁটি ইরানের জন্য একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।”


বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব?


উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চলার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।


ইরানের হামলার কারণে কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে, যে কারণে সোমবার ইউরোপে গ্যাসের দাম হঠাৎ করেই ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়।


আল জাজিরা জানিয়েছে, দিনের শুরুতেই দাম ২৫ শতাংশ বেশি ছিল। কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধের খবরের পর সেই ঊর্ধ্বগতি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।


ইরানের ড্রোন হামলা জেরে সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগার আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী এ তথ্য দিয়েছেন। সেদিন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়।


বিবিসি লিখেছে, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্বের তেল-গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয় এই প্রণালী হয়ে।


সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সোমবার প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলারে উঠেছে।


আসলে কী চায় যুক্তরাষ্ট্র?


ইরানে কেন যুক্তরাষ্ট্র হামলা করেছে? ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে কী এ বিষয়ে স্পষ্ট কারণ রয়েছে?


হামলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা একেক সময় একেক যুক্তি দিচ্ছেন। ফলে এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী, এ বিষয়ে যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিভ্রান্তি থাকে, তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।


সিএনএন লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা বদলানো। ইরানিদের ‘স্বাধীনতা’ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেছেন তিনি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংসের অঙ্গীকার করেছেন তিনি, যদিও এর আগে ১২ দিনের হামলায় তাদের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করেছিলেন।


প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার জোর দিয়েই বলেছেন, ইরানি সন্ত্রাসী বা ইরাকে মার্কিন দখলদারিত্বের সময় ইরান সমর্থিত মিলিয়াশিয়াদের হাতে আমেরিকানদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া প্রয়োজন।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার যুক্তি হাজির করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগাম হামলা চালিয়েছে কারণ তারা জানতেন ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা করছে এবং তাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাল্টা হামলার শিকার হতে পারে।


ট্রাম্প প্রশাসনের এ ধরনের বক্তব্যে বোঝা যায়, কী কারণে যুদ্ধে জড়িয়েছেন সেটি তারা জানে না। ফলে ইতোমধ্যে তাদের এই সামরিক অভিযান সমস্যায় পড়ে থাকতে পারে।


ডেমোক্রেটিক সেনেটর জিন সাহিন সোমবার সিএনএনকে বলেন, “সত্যি কোনো স্পষ্ট কৌশল নেই এবং প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আমাদের শোনা দরকার তিনি কী চান।”


“সফল হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রকৃত মোড় ঘোরানোর সুযোগ হতে পারে। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কীভাবে ঘটবে, তা মোটেও স্পষ্ট নয়,” বলেন তিনি।


ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই অস্পষ্টতা যেন অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং তার কৌশলেরই একটি অংশ। যুদ্ধে লক্ষ্য অনিশ্চিত রেখে তিনি রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করতে চান, যাতে যখন চাইবেন তখনই বিজয় ঘোষণা করতে পারেন।


তিনি যেন ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন- বৃহৎ পরিসরের স্থলযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা ও অচলাবস্থার ঝুঁকি তৈরি করে।


কিন্তু আকাশ হামলার মাধ্যমে কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও অনুগত শাসক বসানোর একমাত্র নজির চিন্তা করা কী সম্ভব? যদিও ট্রাম্প বলেছেন, কিছু সমালোচকের কথায় তিনি বিরক্ত নন, যারা বলছেন-ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে গেলে তার নিজের ক্ষমতায় থাকা নিয়ে তারা সন্দিহান।


সিএনএন লিখেছে, ট্রাম্প ইতোমধ্যেই যুদ্ধে লক্ষ্য সীমিত করে এনেছেন বলে মনে করা হয়েছে।


গত সোমবার তিনি বলেছেন, তাদের পরিকল্পনা হল ইরানে নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূর্চি ও ভবিষ্যৎ পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্খা ধ্বংস করা। মনে হচ্ছে তিনি এবং হেগসেথ দুজনই আগে থেকেই ব্যর্থতার অজুহাত তৈরি করে রাখছেন, যাতে ইরানের বর্তমান পুনর্গঠিত হলে সে দেশের জনগণের ঘাড়েই দোষ চাপানো যায়, ‘তোমরাই তো সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছ’।


হেগসেথ বলেছেন, “আমি মনে করি ইরানিদের প্রতি প্রেসিডেন্টের বার্তা স্পষ্ট। ইরানের জনগণ: এটা তোমাদের সময়।”


কিছু বিশ্লেষক ভেনিজুয়েলায় মাদুরাকে উৎখাত প্রসঙ্গ টেনেছেন। মাদুরাকে ধরে আনার পর ভেনিজুয়েলায় অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু বহু দশক ধরে চেষ্টা করেও ইরানে মধ্যপন্থি কোনো নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে।


এমনকি খামেনিকে হত্যা করার পর এখনও এমন কোনো নেতা খুঁজে পায়নি তারা। যে অজুহাতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র, সেই অভিযোগকে নাকচ করে দিল আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।


সংস্থাটির প্রধান, মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এনবিসি নিউজকে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইরানের কোনো সমন্বিত কর্মসূচির প্রমাণ তারা পাননি। ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য কোনো সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত কর্মসূচির আলামত শনাক্ত হয়নি।


‘শিগগিরই আগ্রহ হারাবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র’


আল জাজিরা লিখেছে, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও কৌশলগত পর্বে এগিয়ে থাকতে পারেন—যদিও এই ‘জয়’ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে মূলত তাদের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থের ঐক্যের কারণে।


তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু পরস্পরের প্রতি পুরোপুরি আস্থাশীল নন। উভয় পক্ষের সহযোগিতার ক্ষেত্রটি মূলত তাৎক্ষণিক স্বার্থে সীমাবদ্ধ—দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ঐক্যের ভিত্তি স্পষ্ট নয়।


মনোযোগ সরে গেলে, দুজনই এক অনিশ্চিত যুদ্ধের মুখোমুখি হবেন। ট্রাম্প দ্রুত অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার চাপ অনুভব করতে পারেন, যেখানে নেতানিয়াহু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার কৌশল নিতে পারেন।


দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন ও রাজনৈতিক ধৈর্য ট্রাম্পের নেই—এমন অভিযোগ উঠছে। তিনি স্থলবাহিনী মোতায়েন করতে পারবেন না বলেই বারবার ইরানিদের ‘সহায়তা করা’ বা তারা নিজেদের দেশ নিয়ন্ত্রণে নিলে ‘পাশে থাকার’ বার্তা দিচ্ছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ শুরুর অভিযোগ, সম্ভাব্য মার্কিন হতাহতের ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ছেন।


বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের এই ‘অস্বস্তিকর’ জোটটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠলেও স্বল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত তাদের অর্জন ‘বড় মূল্য দিয়ে সীমিত সাফল্য লাভ’ হয়ে থাকতে পারে।


কতদিন চলবে এ যুদ্ধ?


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচিত করবে যে বিশেষজ্ঞ পরিষদ, তার এক সদস্য বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ‘দীর্ঘায়িত’ হবে না।


আলি মোআলেমি বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের সময় ‘ব্যক্তিগত পছন্দ’ বা রাজনৈতিক ও দলীয় গোষ্ঠীর প্রাধান্য যে বিবেচ্য হবে না, সেই বিষয়ে শপথ নিয়েছেন বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা। তিনি বলেন, “বিপ্লবের শহীদ নেতার মতোই একজনকে নির্বাচিত করবে বিশেষজ্ঞ পরিষদ।”


মিডল ইস্ট মনিটর লিখেছে, ইসলামি ঐতিহ্যে, বিশেষ করে শিয়া ইতিহাসচেতনায়, শহীদ হওয়া পরাজয়ের প্রতীক নয়। বরং এটি ‘স্রষ্টার সঙ্গে অঙ্গীকারের প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্যের’ প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।


খামেনির মৃত্যু ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি ‘সাম্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদের’ বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে সংগ্রাম করে গেছেন।


খামেনির মৃত্যু ইরানে গভীর জাতীয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর পরপরই ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রতিশোধ নেওয়া এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা ঘোষণা করেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ড আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। খামেনির এই ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ একটি মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


যে ঘটনাকে তার বিরোধীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হিসেবে ভেবেছিল, সেটিই উল্টো ব্যাপক জনসমাবেশ ও সংগঠনের শক্তিশালী প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে কি না, সে আলোচনাও সামনে এসেছে।


গত শনিবার ট্রাম্পের এক বক্তব্যের বরাতে বিবিসি লিখেছে, ইরানের ওপর হামলা ‘সপ্তাহজুড়ে বা যতদিন প্রয়োজন অব্যাহত থাকবে’। তবে পরে তিনি আরও দীর্ঘ সময়সীমার ইঙ্গিত দেন।


গত রোববার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ একই গতিতে অভিযান চালিয়ে যেতে পারে।


গত সোমবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, “শুরু থেকেই আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের কথা বলেছি, তবে আমাদের সক্ষমতা এর চেয়েও অনেক দীর্ঘ সময় ধরে চালানোর।”


এই যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি সিএনএনকে বলেছেন, “প্রায় এক মাস। আমি চাই না এটি খুব দীর্ঘ হোক। আমি সবসময় ভেবেছি এটা চার সপ্তাহ চলবে।”


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ শেষ হতে ‘কিছুটা সময় লাগলেও তা বছরের পর বছর চলবে না’।


নেতানিয়াহু অবশ্য এই সংঘাতকে আগের দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধগুলোর মতো দেখতে নারাজ, জানিয়েছে রয়টার্স।


ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে সোমবার তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম এটি দ্রুত ও চূড়ান্ত হতে পারে। এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু এটি বছরের পর বছর ধরে চলবে না। এটি কোনো অন্তহীন যুদ্ধ নয়।”



সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১২ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে গত জুলাইয়ের পর এই প্রথম অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আজ বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১০০ ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে যায়। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ায় তেলের দাম এই মাইলফলক পেরিয়ে গেল। পরে অবশ্য তেলের দাম কিছুটা কমে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। খবর দ্য গার্ডিয়ান


ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক নৌযানে হামলার চেষ্টা করার পর দেশটির একাধিক তেলবাহী জাহাজ ‘ধ্বংস’ করার কথা জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর আগে ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের চারটি শহরে হামলা চালায়। এতে ৭০ জনের বেশি আহত হন। সেই সঙ্গে কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।


আগস্টের শুরু থেকে তেলের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। ছয় মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ স্থায়ীভাবে থামবে—এমন সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ছয় মাস ধরে তেলের দাম ওঠানামা করেছে। ওই প্রণালিতে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সরবরাহ–সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল।


ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন প্রথম দফায় হামলা শুরু করল, তখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে দাম বেড়ে ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।


সংঘাতের মধ্যে এপ্রিলে তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে উঠেছিল। পরবর্তীকালে ওই অঞ্চলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলে দাম কমে আসে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর আবার সংঘাত শুরু হয়। এতে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করে।


সংঘাতের প্রভাব পড়েছে গ্যাসের বাজারেও। চলতি মাসে যুক্তরাজ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।


জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছর সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদেরা আশা করছেন, বছরের শেষ নাগাদ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ অন্তত একবার সুদের হার বাড়াতে পারে।


বিষয়টি হলো, ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধির সঙ্গে তেলের বাজারের পরোক্ষ সম্পর্ক আছে। সুদহার বাড়লে ঋণের খরচ বেড়ে যায়। ফলে বিনিয়োগ ও ভোগ কমে যায়; প্রভাব পড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে। জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় দামে প্রভাব পড়ে।


আবার সুদহার বাড়লে ডলার শক্তিশালী হতে পারে। ফলে আমদানিকারকেরা তেল কিনতে গিয়ে চাপে পড়েন। তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলে ফেড আবার সুদহার বাড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে চাহিদা কমে যেতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

এলিজা আজাদ রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১২ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হলেন আরেক বাংলাদেশি এলিজা আজাদ রহমান। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম কোনো বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হলেন।


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলকক্ষে আয়োজিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।


এলিজা আজাদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও কাজের পরিধি আরও বাড়ল।


অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এলিজা আজাদের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলামের মেয়ে।


দুই দশকের বেশি সময় আগে এলিজা আজাদ শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।


এলিজা আজাদ বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না। তিনি চান, নারীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও এগিয়ে আসুক।


এই যাত্রায় স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানালেন এলিজা আজাদ। তিনি বলেন, তা ছাড়া বাংলাদেশি ও স্থানীয় বহু সাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থন তিনি পেয়েছেন। তারা তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।


এলিজা আজাদ ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটি। সিডনির ডেনহ্যাম কোর্টের বাসিন্দা বোরহান খান লিমন বলেন, এলিজা আজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকারে তার এই অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে, সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন।


এর আগে, বাংলাদেশি সুমন সাহা সিডনির কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল ও মাসুদ খলিল ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। আরেক বাংলাদেশি মাসুদ চৌধুরী বর্তমানে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৬ পিএম

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্যজুড়ে আকাশপথে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) লন্ডনের হিথ্রোসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে বাতিল হয়েছে ১ হাজারের বেশি ফ্লাইট। একই সঙ্গে বিলম্বিত হয়েছে আরও শত শত ফ্লাইট। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।


সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ব্রিটেনের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (ন্যাটস) জানিয়েছে, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমে সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। সমস্যা সমাধানে প্রকৌশলীরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, লন্ডনের হিথ্রোসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়া করা অন্তত এক হাজার ফ্লাইট ইতোমধ্যেই বাতিল হয়েছে।


ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইজিজেট, কেএলএম ও লুফথানসাসহ বেশ কয়েকটি বড় বিমান সংস্থার ফ্লাইটও এ সমস্যায় পড়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে একাধিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়। এতে যুক্তরাজ্যজুড়ে যাত্রীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন।


যদিও ফ্লাইট চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং ব্রিটেনের আকাশসীমাও খোলা রয়েছে, তবু বহু ফ্লাইট বিলম্বেরও মুখে পড়েছে। পরে ন্যাটস জানায়, তারা সমস্যার সমাধান করেছে এবং তাদের সিস্টেম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।


মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে ন্যাটস জানায়, ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমের সমস্যা ঠিক করা হয়েছে। তবে তারপরও ১৫টি ব্রিটিশ বিমানবন্দরসহ আরও বিভিন্ন জায়গায় ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ব অব্যাহত ছিল। বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের বড় জট কাটাতে বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দরগুলো কাজ করছে।


এর আগে শুরুতে ন্যাটস জানিয়েছিল, তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমেই সমস্যার সূত্র পাওয়া গেছে। স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।


রয়টার্সের উদ্ধৃত ন্যাটসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সমস্যাটি আমাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমেই ছিল। আমাদের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে আছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন’। এতে আরও বলা হয়, ‘ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত আছে এবং আকাশসীমা খোলা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।’


ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর হিথ্রো জানিয়েছে, তারা সমস্যা সমাধানে ন্যাটসের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইটের অবতরণ ও উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। এর ফলে দ্রুতই বড় ধরনের বিলম্ব ও ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটে।


ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, হিথ্রোতে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং ৩৬৭টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। গ্যাটউইক বিমানবন্দরে প্রায় ২৫০টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়, যা বিমানবন্দরটির মোট ফ্লাইটের প্রায় ৩১ শতাংশ। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সমস্যায় পড়া বিমানবন্দরগুলোতে প্রায় ৩০০টি ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যেই ন্যাটসের সিস্টেম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।


একপর্যায়ে লন্ডনের বাইরের বিমানবন্দরগুলোও এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়। এডিনবার্গ বিমানবন্দর যাত্রীদের সতর্ক করে জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তাদের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডাবলিন বিমানবন্দর জানায়, ব্রিটেন থেকে আসা ও ব্রিটেনে যাওয়ার ফ্লাইটও বিঘ্নিত হচ্ছে। লুটন, বার্মিংহাম, অ্যাবারডিন ও গ্লাসগো বিমানবন্দরেও বিলম্ব বা ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যায়।


বিমান সংস্থাগুলোকেও তাদের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হয়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানায়, ন্যাটসের সমস্যার কারণে তাদের ফ্লাইট চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। রয়টার্সের উদ্ধৃত এক বিবৃতিতে বিমান সংস্থাটি বলেছে, ‘এটি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমাদের কর্মীরা যত দ্রুত সম্ভব যাত্রীদের গন্তব্যে পাঠানোর চেষ্টা করছেন এবং এ বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’


এয়ার ইন্ডিয়াও জানায়, ন্যাটসের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যুক্তরাজ্যগামী ও যুক্তরাজ্য থেকে ছেড়ে যাওয়া তাদের ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক্সে দেয়া এক পোস্টে বিমান সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী একাধিক ফ্লাইটের গতিপথ পরিবর্তন, বিলম্ব বা বাতিল করতে হয়েছে। বিমান ও ক্রুদের অবস্থান নির্ধারিত জায়গায় না থাকায় তাদের অন্য কিছু ফ্লাইটেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানায় এয়ার ইন্ডিয়া।


ইজিজেট জানিয়েছে, এ সমস্যার কারণে ইউরোপজুড়ে ফ্লাইট চলাচলে বিলম্ব হচ্ছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ৯৬টি, ইজিজেটের ৯২টি, কেএলএমের ২০টি, লুফথানসার ১২টি এবং সুইসের ১১টি ফ্লাইট ছিল।


ব্রিটেনের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় এর আগেও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ২০২৪ সালে দেশটির বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছিল, আগের বছর ফ্লাইট পরিকল্পনা প্রক্রিয়াকরণে ত্রুটির পর ন্যাটসকে জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। ওই ঘটনায় ব্রিটেনজুড়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল।


বিমান সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আগের ওই সমস্যায় অর্থ ফেরত ও ক্ষতিপূরণ দিতে তাদের ১০ কোটি পাউন্ডের বেশি খরচ হয়েছিল। গত বছরের জুলাইয়েও রাডার-সংক্রান্ত একটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হিথ্রোসহ লন্ডনের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে চার ঘণ্টার বেশি সময় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।


বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর এর জবাবে এসব জাহাজে হামলা চালায় আইআরজিসির নৌবাহিনী।


এসময় আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক (ডিডিজি-১১৯) এবং ইউএসএস জন পল জোন্স (ডিডিজি-৫৩)-কে লক্ষ্যবস্তু করে।


আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মার্কিন সন্ত্রাসী সেনাবাহিনীর আগ্রাসন ও শত্রুতার জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।


এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির একটি নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা আরও ১০টি নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে আইআরজিসি। এসব জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি ও সহযোগিতায় ওই এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগ করেছে তারা।


আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের শক্তিশালী ও কর্তৃত্বপূর্ণ নজরদারি এবং ব্যবস্থাপনার অধীনে রয়েছে।


এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। বুধবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে উঠেছে।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত এক সপ্তাহে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে সর্বশেষ ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।


সূত্র : আলজাজিরা


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৬ এএম

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক মানুষবিহীন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের যে আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি বিকল হয়েছিল, সেটি পুরোনো মডেলের এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা গোপন সরঞ্জাম ছিল না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আইআরজিসির বরাতে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোরে গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানুষবিহীন ও ‘স্মার্ট’ সাবমেরিন আটক করেছে আইআরজিসির নৌবাহিনী।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, আটক করা ডুবোজাহাজটি পানির নিচে ব্যবহারের জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এটি ২০২৫ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে যুক্ত করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছে ইরান। শিগগির আটক করা সাবমেরিনটির ছবি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষবিহীন এই ডুবোজাহাজের সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে পানির নিচে অনুসন্ধান ও নজরদারি, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, মাইন শনাক্তকরণ এবং সাবমেরিন কেবল ও পাইপলাইন পরিদর্শন।

তবে ইরানের দাবির পরপরই আল-জাজিরার কাছে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, এক দিনেরও বেশি সময় আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি আন্ডারওয়াটার ড্রোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ে।

মার্কিন ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, ড্রোনটি চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য আঞ্চলিক জলসীমায় জরিপ চালাচ্ছিল। এটি ছিল পুরোনো মডেলের একটি ড্রোন। এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা ছিল না এবং কোনো গোপন সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ বজায় রেখেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৩ এএম

গত আগস্টের শেষের দিকে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট একটি নতুন আইন পাস করেছে। তড়িঘড়ি করে পাসকৃত এই আইনের মাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পদের ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে সংবিধানের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে সামরিক বাহিনীর কমান্ড কাঠামো পুনর্গঠনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এই আইনের মাধ্যমে তা আরও এক ধাপ এগোল।


গত ২০ আগস্ট দেশটির জাতীয় পরিষদ ‘ডিফেন্স ফোর্সেস অব পাকিস্তান অ্যাক্ট, ২০২৪’ এবং ‘ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১০’-এর একটি সংশোধনী অনুমোদন করে। এই দুটি আইন যৌথভাবে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) পদের আইনি কাঠামো নিশ্চিত করেছে। গত বছরের ২৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই পদ তৈরি করা হয়।


বিল দুটি জাতীয় পরিষদের মূল কার্যসূচিতে ছিল না। তবু সেদিন সকালে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেয়ার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তা পাস হয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বরে ২৭তম সংবিধান সংশোধনীও একইভাবে সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় পাস করা হয়েছিল।


২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের চার দিনের সংঘাতের ঠিক এক বছর পর এই আইনি পরিবর্তনগুলো আনা হলো। বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৭৬ সালে তিন বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) মধ্যে সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে ‘চেয়ারম্যান অব দ্য জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ (সিজেসিএসসি) পদ তৈরির পর এটিই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর উচ্চতর কমান্ড কাঠামোর সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন।


পুরোনো সিজেসিএসসি পদটি এখন বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে ‘ডিফেন্স ফোর্সেস হেডকোয়ার্টার্স’ (ডিএফএইচকিউ), যার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সিডিএফ। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, একই সঙ্গে সেনাপ্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।


এই পরিবর্তনের পেছনে মূল যুক্তি কী এবং নতুন সদর দপ্তরে নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এ বিষয়ে সামরিক বাহিনীর তথ্য শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) কাছে লিখিত প্রশ্ন পাঠালেও কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা কোনও জবাব পায়নি।


পাকিস্তানের সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন এই কাঠামোতে দেশটির সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধান ও সিডিএফ আসিম মুনিরের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানের গুরুত্ব অনেকাংশে কমে গেছে। এ ছাড়া সামরিক বাহিনী সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সিভিল প্রশাসনের ভূমিকাও বহুলাংশে খর্ব হবে।


বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাওয়ালপিন্ডিভিত্তিক একজন অবসরপ্রাপ্ত থ্রি-স্টার জেনারেল এই ব্যবস্থাকে একটি বিধিবদ্ধ ‘চেইন অব কমান্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এখন থেকে চেইন অব কমান্ড হবে—প্রধানমন্ত্রী, তারপর সিডিএফ ও তার নতুন সদরদপ্তর, এরপর সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রধানগণ এবং সবশেষে মাঠপর্যায়ের ফরমেশনগুলো।


তবে অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতে, আদেশ প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকলে কেবল প্রশাসনিক কর্তৃত্বের বিশেষ অর্থ থাকে না। অবসরপ্রাপ্ত থ্রি-স্টার জেনারেল ও সাবেক প্রতিরক্ষা সচিব নাঈম খালিদ লোধি বলেন, ‘কমান্ডার যদি পুরস্কার বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে না পারেন, তবে সেই কমান্ড কার্যকর হয় না। ডিফেন্স ফোর্সেসের কমান্ডার এখন একজন প্রকৃত কমান্ডার এবং এই আইনের মাধ্যমে তা যথাযথভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে রূপ পেয়েছে।’


লোধি আল জাজিরাকে জানান, আগের ব্যবস্থায় ‘নৌ বা বিমানবাহিনীর বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আইনি সুযোগ প্রধান কর্মকর্তার ছিল না। তিনি কেবল সেনাবাহিনীর ভেতরে ব্যবস্থা নিতে পারতেন, কিন্তু এখন এটি সর্বাত্মক রূপ নিয়েছে।’


সিডিএফ ও তার দপ্তরকে দেয়া নতুন এই ক্ষমতা তিন বাহিনীর মধ্যকার ভারসাম্য নষ্ট করছে কি না—তা নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।


নতুন আইনের অধীনে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের’ (এনএসসি) প্রধান পদের কর্মকর্তাকে অবশ্যই সেনাবাহিনী থেকে আসতে হবে। সিডিএফ-এর সুপারিশেই নিযুক্ত হবেন তিনি।


২০২৬ সালের জুলাইয়ে জেনারেল সৈয়দ আমের রেজাকে প্রথম সিএনএসসি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। পূর্বে চিফ অব জেনারেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্বরত এই কর্মকর্তাকে লেফট্যানেন্ট জেনারেল থেকে পদোন্নতি দিয়ে এ পদে বসানো হয়। নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা আর এই পদে বসতে পারবেন না।


সামরিক বাহিনীর সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই পরিবর্তন নৌ ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে। ইসলামাবাদভিত্তিক এই কর্মকর্তা আল জাজিরাকে বলেন, ‘যেহেতু তিন বাহিনীর সব জ্যেষ্ঠ পদের পদোন্নতি ও নিয়োগ এখন সিডিএফ অনুমোদন করবেন, তাই এটি কালক্রমে অন্য দুটি বাহিনীর স্বতন্ত্র সত্তাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।’ অন্য বাহিনীর কারও মাধ্যমে নিজস্ব পদোন্নতি নির্ধারিত হলে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


অবসরপ্রাপ্ত ভাইস অ্যাডমিরাল আহমেদ সাঈদের মতে, এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি নৌবাহিনীর জন্য।


এই আইনি পরিবর্তনের ফলে সামরিক বাহিনীর ওপর বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পাচ্ছে কি না—তা নিয়েই সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমান আইনজীবী কর্নেল ইনাম রহিম বলেন, নতুন আইনটি নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে তা সামরিক বাহিনীর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


তিনি জানান, আগে কোনও কর্মকর্তাকে বরখাস্ত বা অবসর দিতে হলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার কাছে সামারি পাঠাতে হতো। এখন সেই ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে সিডিএফ-এর একক এখতিয়ারে।


রহিম আল জাজিরাকে বলেন, ‘তাকে আর কোথাও কোনো ফাইল পাঠাতে হবে না। তিনি কেবল একটি চিঠি ইস্যু করবেন, আর সেই কর্মকর্তা বরখাস্ত বা অবসরে চলে যাবেন।’


ইসলামাবাদভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক যুক্তি দেন, নতুন এই আইনটি সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও কমান্ড থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে’—যা গত বছরের সংবিধান সংশোধনীতেও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।


তিনি বলেন, ‘সিডিএফ-কে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর অপারেশনাল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ প্রদান করে রাজনৈতিক সরকার মূলত ২৪৩ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করছে।’


আসিম মুনির সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই তিনি নিজের ক্ষমতাকে সুসংহত করার চেষ্টায় লেগেছিলেন। এই আইনের মাধ্যমে তার সেই মিশন পূর্ণতা পেল বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানে এখন প্রধানমন্ত্রীর পরেই সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে দেখা হয় তাকে।


এমনকি ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যখন দৌড়ঝাঁপ করছিলেন–তখন তার পাশে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার নন, বরং বেশিরভাগ সময়ই সেখানে দেখা গেছে আসিম মুনিরকে। কূটনৈতিক সার্কেলে তার এমন উপস্থিতি প্রমাণ করে, সিডিএফ-এর হাত আসলে কতদূর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।


আর তিন বাহিনীর ওপর এক অর্থে তার সর্বময় ক্ষমতা পেয়ে যাওয়ার পর নৌ ও বিমানবাহিনীতে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে বলেও ধারণা বিশ্লেষকদের। সামরিক ক্ষমতাকে এভাবে কেন্দ্রীভূত করা হলে ভবিষ্যতে তা তিন বাহিনীর স্বতন্ত্র সক্ষমতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অতি সিডিএফ নির্ভরতা বাহিনীগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে নেতৃত্বশূন্য করতে পারে, যা হবে ধ্বংসেরই নামান্তর।

সর্বশেষ সব খবর