যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা আছে। তাঁর ‘খুব ভালো পছন্দের’এই তালিকায় আছে তিনটি নাম। গতকাল রোববার ট্রাম্প এ কথা বলেন।
ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসকনেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আগের দিন শনিবার সকালে ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
হামলায় ইরানে ৩৬ বছর ধরে নেতৃত্ব দেওয়া সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল দাবি করেন, ইরানে হামলায় দেশটি শীর্ষ পর্যায়ের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের গতকাল প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, হামলায় খামেনি ছাড়াও তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতি নিহত হয়েছেন।
ইরানের নিহত শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানি, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আবদুল রহিম মৌসাভি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ ও বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর।
গতকাল ট্রাম্প এ-ও বলেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে। তিনি এতে রাজি হয়েছেন।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নেতৃত্ব কে দিতে পারেন, সে ব্যাপারে তাঁর কাছে তিনটা খুব ভালো পছন্দের নাম আছে।
তবে ট্রাম্প নাম তিনটি প্রকাশ করেননি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এখনই নামগুলো প্রকাশ করব না। আগে কাজটা শেষ হোক।’
ইরানে এই হামলা দেশটির সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশে৵ বলে আগেই উল্লেখ করেন ট্রাম্প। সুনির্দিষ্ট হামলা চালিয়ে খামেনিসহ ইরানের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের হত্যার বিষয়টি সে ইঙ্গিতই দিচ্ছে।
তবে তা অতটাও সহজ হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
ছবি : সংগৃহীত
মানুষের শারীরিক ও আসল বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একই বছরে জন্ম নিয়েও দুই ব্যক্তির শরীরে বয়সের ছাপ একই গতিতে নাও আসতে পারে।
কারও কারও ক্ষেত্রে আবার আসল বয়সের চেয়ে শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে, যা ইঙ্গিত দেয় অসুস্থতার ঝুঁকির। এই শারীরিক বয়সের বিষয়টি পরিমাপ করা হয় রক্তচাপ, ফুসফুসের ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে।
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিনেমা দেখতে যাওয়া বা জাদুঘরে ঘুরতে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো শারীরিক বয়স প্রশ্নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, এটি বয়স্কদের মধ্যে কমিয়ে দিতে পারে বয়সের ছাপ পড়ার গতি। যুক্তরাজ্যে হওয়া এই গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বৃদ্ধ বয়সেও যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে ও জাদুঘরে ঘুরতে যান, আর যারা যান না– এই দুইয়ের শারীরিক বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
‘মেজারিং কালচারাল হ্যাবিটস এগেইনস্ট বায়োলজিক্যাল এজ’ শীর্ষক গবেষণায় গবেষকরা বলছেন, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা মানুষের শরীরের বয়স কম রাখতে সহায়তা করতে পারে। সব মিলিয়ে গবেষণায় এক হাজার ৮৯৯ জন অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ পুরুষ। এ ছাড়া ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চার হাজার দুইশ সাতটি জরিপ করা হয় এ গবেষণার স্বার্থে।
স্টাডি ফাইন্ডসের প্রতিবেদন বলছে, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিমাপ করতে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত দিন পরপর সিনেমা দেখতে যান, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারিতে যান, অথবা মঞ্চনাটক দেখেন। উত্তরে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘কখনও না’, কেউ বলেছেন, ‘মাসে দুইবার’। কেউ আবার জানিয়েছেন, মাসে দুইবারের চেয়েও বেশি।
সেসব উত্তরের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের শূন্য থেকে ১৫ পর্যন্ত নম্বর দেন। গড়ে অংশগ্রহণকারীরা ৪ দশমিক ৩ নম্বর করে পান। যারা কয়েক মাসের মধ্যে বেশ কয়েকবার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের নম্বর আসে গড়ে ৭ দশমিক ৩। অন্যদিকে যারা বছরে একবার বা তার চেয়েও কম জাদুঘরে বা সিনেমা দেখতে গেছেন, তারা পান গড়ে ২ দশমিক ৩ নম্বর। সবাইকে শারীরিক বয়সের ভিত্তিতেও বিচার করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবার আসল গড় বয়স ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ, শারীরিক বয়সের গড় ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে বা জাদুঘরে ঘুরতে যান, তাদের গড় শারীরিক বয়স তিন বছর কম এসেছে অন্যদের তুলনায়।
বিষয়টি কাকতালীয় কিনা, তা নির্ণয় করতে গবেষকরা পৃথক একটি বিশ্লেষণ করেন এক হাজার ৬৫২ জনের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। তাদের ঘুরতে যাওয়া ও শারীরিক বয়সের তথ্য চার বছর ধরে সংগ্রহ করা হয়। পরে দেখা যায়, যারা সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেছিলেন, তাদের শারীরিক বয়স অন্যদের তুলনায় ০ দশমিক ০৮৯ বছর কম এসেছে।
তবে এই গবেষণাটি শুধু যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষকরা জানান, ভিন্ন দেশ বা ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে এর ফলাফলে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া গবেষণাটির আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, এতে শুধু সিনেমা, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারির মতো ভেন্যুতে যাওয়ার বিষয়টি রেকর্ড করা হয়েছে, অন্য ধরনগুলোকে আমলে নেওয়া হয়নি। তবে খাওয়া ও ব্যায়ামের পাশপাশি ঘুরতে যাওয়ার বিষয়টিও যে বয়স্কদের ভালো ও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটি তুলে ধরেছে গবেষণাটি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া নতুন আলোচনা ব্যর্থ হলে ফের কঠোর হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৭ জুলাই) মিশিগানে যাওয়ার পথে এই হুমকি দেন তিনি।
এদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানের সঙ্গে ভালো ও গভীর আলোচনা চলছে। কিন্তু ইরান পাল্টা দাবি করেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চললেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
চলতি ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর জুনে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা হলেও, হরমুজ প্রণালিতে তেল ট্যাংকার হামলা ও সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে গত জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় এবং ১৩ জুলাই থেকে মার্কিন বাহিনী আবারও নতুন করে বিমান হামলা ও সামরিক পদক্ষেপ শুরু করে।
টানা ১৩ রাত হামলার পর গত শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান স্থগিত করে। টানা চার দিনের মতো সোমবারও (২৭ জুলাই) মার্কিন হামলা স্থগিত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধেই তিনি হামলা স্থগিত করেছেন।
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৭ সোমবার) হোয়াইট হাউজে এক বৈঠকে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোলাবারুদের মজুত ও অন্যান্য সম্ভাব্য নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে তার উদ্বেগ তুলে ধরেন। এ বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও উপস্থিতি ছিলেন। তারা দুজনই নতুন হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর ইরানে হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ হওয়ায় ইরানও পাল্টা হামলা স্থগিত রেখেছে। তেহরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতে রয়েছে। ওমানের সঙ্গে মিলে নৌযান চলাচলের নতুন ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই।
সূত্র: রয়টার্স
ভারতের জেন-জি। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই দেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্মে রূপ নিতে চলেছে জেন জি বা জেনারেশন জেডের তরুণ-তরুণীরা। ফলে আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব উপেক্ষা করা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনাটি এই বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে যে দেশের তরুণ সমাজকে সরকার এখন আর এড়িয়ে চলতে পারে না। নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনটি দ্রুত শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে এক বৃহত্তর জাতীয় আলোচনায় রূপ নেয়, যা প্রমাণ করে যে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত ভারতীয় যুবসমাজ কত দ্রুত জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
জনসংখ্যার পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সি জেন জি প্রজন্মের জনসংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটিতে পৌঁছাবে (প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ পুরুষ এবং ১৮ কোটি ২০ লাখ নারী)। এর মাধ্যমে তারা মিলেনিয়াল প্রজন্মকে পেছনে ফেলে ভারতের বৃহত্তম প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্মে পরিণত হবে। এই জনমিতিক পরিবর্তনের প্রভাব কেবল সংখ্যার পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়; জেন জি প্রজন্ম দেশের বৃহত্তম ছাত্র সমাজ, প্রথমবার ভোটদাতা ভোটার এবং কর্মজীবনের শুরুতে থাকা পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব করবে। ফলে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন ও সুশাসনের মতো ইস্যুগুলো রাজনৈতিক ময়দানে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।
ভারতের জনসংখ্যা ধীরে ধীরে বয়োবৃদ্ধ হওয়ার কারণে সামগ্রিক ভোটারদের মধ্যে তরুণদের অনুপাত কিছুটা কমলেও, জেন জি তাদের বিশাল সংখ্যা, অভূতপূর্ব ডিজিটাল সংযোগ এবং দ্রুত সংঘবদ্ধ হওয়ার ক্ষমতার কারণে অত্যন্ত প্রভাবশালী এক শক্তিতে পরিণত হচ্ছে। সামগ্রিক জনসংখ্যার রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিশুদের অনুপাত হ্রাসের পাশাপাশি বয়স্ক জনগোষ্ঠীর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভারত বয়সসীমার দিক থেকে প্রবীণ হওয়ার সাথে সাথে ঐতিহ্যগত জনমিতিক লভ্যাংশ ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসায় বর্তমান সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জেন জি এমন একসময়ে প্রাপ্তবয়স্ক শ্রেণীতে পা রাখছে যখন তারা দেশের বৃহত্তম ও রাজনৈতিকভাবে অন্যতম সচেতন প্রজন্মে পরিণত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে একটি সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আনবে।
সূত্র: এনডিটিভি।
ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ছবি: সংগৃহীত
সরকারের সঙ্গে হওয়া চুক্তি লঙ্ঘন করে আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ এনে কেন্দ্র সরকারকে ফের কঠোর আন্দোলনের আলটিমেটাম দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
সোমবার (২৭ জুলাই) আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রঙ্কা ও সৌরভ দাস এবং স্বতন্ত্র রাজ্যসভা সাংসদ ও সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিবল উপস্থিত থেকে এই উদ্বেগের কথা জানান।
একই সঙ্গে আন্দোলনের সময়কার ডিজিটাল প্রমাণ সুরক্ষিত রাখতে এবং আইনি সহায়তা দিতে ‘সাক্ষী’ নামের একটি নতুন ওয়েবসাইট ও অ্যাপ উন্মোচন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সৌরভ দাস জানান, ৩৬ দিনব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও ভবিষ্যতে সরকার আন্দোলনকারীদের লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা শুরু থেকেই আইনজীবী কপিল সিবলের আইনি পরামর্শ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, অতীতে বড় ধরনের অন্যান্য আন্দোলনেও দেখা গেছে যে আন্দোলনের গতি স্তিমিত হয়ে যাওয়ার পর এককভাবে ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়।
সিজেপির নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘সাক্ষী’র মাধ্যমে বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিও ক্রিপ্টোগ্রাফিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তির সাহায্যে টেম্পার-প্রুফ বা পরিবর্তন-রহিত প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করা যাবে, যাতে ফোন বাজেয়াপ্ত বা চ্যাট ডিলিট হওয়ার কারণে কোনো প্রমাণ হারিয়ে না যায়।
এদিকে আশুতোষ রঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উদ্দেশে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো দণ্ডমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার যে সরকারি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা পুরোপুরি লঙ্ঘিত হচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং কেবল বিহার ও পশ্চিমবঙ্গেই শত শত শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রঙ্কা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত এফআইআরগুলো প্রত্যাহার করা না হলে এবং আটককৃতদের মুক্তি না দিলে সিজেপি পুনরায় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। একই সাথে তিনি আগামীকালের মধ্যে আইনি মামলা সংক্রান্ত লিখিত চুক্তি এবং সরকারের সাথে নির্ধারিত টাইমলাইনগুলো প্রকাশ করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে নিট-ইউজি পরীক্ষার অনিয়ম ও সামগ্রিক সংস্কারের দাবিতে যন্তর মন্তরে ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল সিজেপি। কেন্দ্রের সাথে আলোচনার পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর প্রত্যাহার এবং পরীক্ষা সংস্কারের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে গত ২৫ জুলাই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
তবে চুক্তির বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে ধরপাকড় অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাটনার এসএসপি কার্তিকেয় কে শর্মা জানিয়েছেন, গত ২৫ জুলাই সহিংসতার ঘটনায় ৮৬ জন বিক্ষোভকারীকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে এবং ৬০ জনকে ব্যক্তিগত মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সিজেপির আইনি দল আটককৃতদের মুক্ত করতে এবং আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে আইনজীবীদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
হামলার পরের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
সৌদির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।
গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, সৌদির পূর্বাঞ্চল থেকে ইয়ানবু বন্দর পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ও পরিবহনের বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল পয়েন্ট লক্ষ্য করে এই ড্রোনগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদির বারবার লঙ্ঘনের জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
তবে এই হামলায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি। হুথিদের এই দাবির বিষয়ে সৌদির পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে সোমবার ভোরে সৌদি আরব জানায়, দেশটির তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরাকি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ড্রোন তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। এর আগে গত সপ্তাহে সৌদি আরবের দিকে সামুদ্রিক যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা দেয় হুথিরা।
সূত্র: আল-জাজিরা।
আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দুই কর্মকর্তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাজিল। আগামী সপ্তাহে সরকারি সফরে ব্রাজিল যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিল সরকারের আশঙ্কা ছিল, ওই দুই মার্কিন কর্মকর্তা আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে সন্দেহ ও বিতর্ক উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইলি এম. বার্নস এবং উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল স্যামসন ২০ জুলাই ভিসার আবেদন করেন। চার দিন পর, ২৪ জুলাই তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্তের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার মুখোমুখি হবেন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। ফ্লাভিওর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
গত মে মাসের শেষ দিকে ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার ভাই এদুয়ার্দো ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের দুটি বড় মাদক পাচারকারী সংগঠন-ফার্স্ট কমান্ড ক্যাপিটাল ও রেড কমান্ডকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করে। সে সময় এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট লুলা।
এরই মধ্যে শুক্রবার থেকে ব্রাজিলের রপ্তানি পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ওয়াশিংটনের দাবি, ব্রাজিলের কিছু বাণিজ্যনীতি বিদেশি ব্যবসার জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করছে। পাশাপাশি শ্রম অধিকার লঙ্ঘন ঠেকাতেও দেশটি কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে লুলা প্রশাসন এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, আসন্ন নির্বাচনে ফ্লাভিও বলসোনারোর পক্ষে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বার্নস ও স্যামসনের ২৭ থেকে ৩০ জুলাই ব্রাসিলিয়া সফরের পরিকল্পনা ছিল। সফরে তারা সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন মহলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এটি ছিল একটি নিয়মিত কূটনৈতিক সফর। কোনো গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই এবং এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো দীর্ঘদিন ধরে দেশটির ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন, যদিও এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অভ্যুত্থানচেষ্টার মামলায় বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সম্প্রতি তার ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোও একই অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করেছেন। তবে শনিবার সাও পাওলোতে লিবারেল পার্টি তাকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।