ছবি: ফাইল ফটো

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৬ পিএম

নদ-নদীর পানি বেড়ে রংপুরসহ উত্তরের চার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। বৃহস্পতিবার এমন তথ্য জানিয়েছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।


পাউবো জানিয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় মধ্যে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ০৩ দিন দেশের অভ্যন্তরে উত্তরাঞ্চল, উত্তরপূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।


গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে; অপরদিকে যমুনা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী ০৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে ও পরবর্তী ০২ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে; অপরদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী ০৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।


এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে, যা আগামী ৩ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় ভিস্তা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে; অপরদিকে ধরলা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। তিস্তা নদীর পানি সমতল আগামী ০৩ দিন বৃদ্ধি পেতে পারে; অপরদিকে ধরলা ও দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতল আগামী ০৩ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।


আগামী ২৪-৭২ ঘন্টায় ভিস্তা নদী নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায়  প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সামরিকভাবে প্লাবিত হতে পারে।




  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একই তারিখের একই দলিল নম্বর ও একই স্ট্যাম্প নম্বর ব্যবহার করে জমির দলিল সৃজন এবং এর ভিত্তিতে ভুয়া নামজারি খতিয়ান খোলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২৮ জুলাই নামজারি খতিয়ান বাতিল ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সাদাত হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম।  


অভিযোগে আব্দুর রহিম উল্লেখ করেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরের মৃত মকবুল আহমদের ছেলে রফিক উল্যাহ ২৮ অক্টোবর ১৯৯৯ তারিখে ছাপ কবলা দলিল নম্বর-১০৮৪৪ মূলে মোক্তার হোসেন ও ছাবির হোসেনের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে মালিক হন।


তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, একই দলিল নম্বর ১০৮৪৪ ও একই স্ট্যাম্প নম্বর ৯০৬৩৮৫০ ব্যবহার করে একই তারিখে মোহাম্মদ সোলেমানের কাছ থেকে আরেকটি ছাপ কবলা দলিল সৃজন করা হয়েছে। অভিযোগে এটিকে জাল, ভুয়া ও প্রকৃত অবস্থার বিপরীত দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই দলিলের ভিত্তিতে জমাখারিজ খতিয়ান নম্বর-২০২৬-১০০৩০০০ নিজ নামে সৃজন করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারণা, জাল দলিল তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগ এনে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৭১/১০৯ ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ করা হয়েছে।


আব্দুর রহিম অভিযোগে করে বলেন একলাশপুর ইউনিয়নের তশিলদার দেলোয়ার হোসেন, একই অফিসের কম্পিউটার অপারেটর জনি ও পিয়ন হারুনের যোগসাজশে দলিরের বিক্রেতার কলামে টেম্পারিং করা হয়। পরে তার প্রতিবেদনের আলোকে ওই জাল জমাখারিজ খতিয়ান সৃজন করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে নামজারি খতিয়ানটি বাতিল এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।


বিবাদী রফিক উল্যার ছেলে জাহিদ হোসেন রাব্বি মুন্সি বলেন, “আমরা আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি নামজারি করার জন্য আবেদন করেছি। আমরা এ বিষয়ে রায় পেয়েছি। আমরা রায় পাওয়ার আগে থেকেই বাদী ওই জায়গার দখলে ছিল। এরপর বাদী জায়গাটি ক্রয় করার জন্য আমাদের সঙ্গে বায়না চুক্তি করেন। যখন আমরা জায়গাটি নামজারি করি, তখন বাদী আবার এর বিরুদ্ধে আবার লিখিত অভিযোগ করেন।”


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে একলাশপুর ইউনিয়নের তশিলদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাদীর অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগকারীকে তার দলিল নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। তিনি এখনো আসেননি। আসলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে।  

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সাদাত হোসেন বলেন, তশিলদারকে এ ঘটনায় দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হবে।  



ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম জমা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৬ পিএম

শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও ১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন তিন নেতা। তারা হলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও জিএস ওবায়দুল্লাহ মাসুদ।


গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেন মির্জা ফয়সল আমীন। এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


মির্জা ফয়সল আমীন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। এর আগে মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর তার পক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী।


এদিকে জেলা বিএনপির সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী এবং ওবায়দুল্লাহ মাসুদও দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর তা জমা দিয়েছেন।


সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেলা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।


অন্যদিকে ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও জিএস। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর তিনি জেলা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। বর্তমানে তিনিও জেলা বিএনপির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।


তিন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়াকে ঘিরে ঠাকুরগাঁও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের তৃণমূল পর্যায়েও এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব নিকাশ। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন কে পাচ্ছেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।


মির্জা ফয়সল আমীন দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০১৫ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। পরে ২০১৭ সালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রায় আট বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন।


রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান মির্জা ফয়সল আমীনের বাবা মরহুম মির্জা রুহুল আমীন ছিলেন আইনজীবী, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। তার চাচা মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ। বড় ভাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।


আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও ১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এখন বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকেরা।


এসআই মামুন উর রশিদ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৮ পিএম

চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ডোপ টেস্টের আওতায় আসার খবর পেয়ে ফাঁড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। 



পুলিশ বলছে, তাকে খুঁজে বের করে ফাঁড়িতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম মামুন উর-রশিদ। তিনি নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।



জানা গেছে, নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে বর্তমানে ১৮ জন পুলিশ সদস্য কর্মরত। তাদের মধ্যে এসআই মামুন উর-রশিদের আচরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় তাকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়। ডোপ টেস্টের বিষয়টি জানার পর গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি ফাঁড়ি থেকে চলে যান। এরপর থেকে তার অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি।



সূত্র বলছে, এসআই মামুন উর-রশিদ নিয়মিত মাদক সেবন করতেন- এমন তথ্যও পুলিশের কাছে রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে এখনো কোনো ডোপ টেস্টের ফল পাওয়া যায়নি।



পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি জানার পর চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশে এসআই মামুন উর-রশিদকে খুঁজে বের করতে তার বাসায় পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিনই তার বাসায় পুলিশ সদস্যরা গেছেন বলে জানিয়েছে ফাঁড়ি কর্তৃপক্ষ।



পুলিশের একটি সূত্রের ভাষ্য, ফাঁড়িতে কর্মরত সদস্যদের মধ্যে যাঁদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হবে, তাদের পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবেই এসআই মামুন উর-রশিদের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।


কাঞ্চন সেতু থেকে শীতলক্ষ্যায় ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে অনুসন্ধান চালাচ্ছে ডুবুরি দল

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩০ এএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত কাঞ্চন সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এক অজ্ঞাত নারী নিখোঁজ হয়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ নারীর পরিচয়ও জানা যায়নি। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।




ইছাপুরা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইকরামুল হক জানান, দুপুর দেড়টার দিকে কাঞ্চন সেতুর ওপর থেকে অজ্ঞাত ওই নারী শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপ দেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।




স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে নৌপুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও নিখোঁজ নারীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।



এদিকে নদী থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাগটির ভেতর কাপড় ও কিছু প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হবে।


হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

নোয়াখালীর হাতিয়ার জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এক সপ্তাহে তিন দফায় ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর কারণ খুঁজে বের করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বুধবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন। 



তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানসী রানি সরকারকে প্রধান করে কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও হাতিয়া থানার ওসি। সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।



জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে পড়ার পেছনে ‘ম্যাস হিস্টিরিয়া’ কাজ করতে পারে। তবে এটিই চূড়ান্ত কারণ নয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তদন্ত কমিটি কাজ করবে। সোমবার নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া এক শিক্ষার্থীর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলেও অসুস্থতার অন্য কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। 




সর্বশেষ বুধবার দুপুরে বিদ্যালয়ের নয় শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে বিকেলের দিকে আরও তিন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।  এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর একই বিদ্যালয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর আরও ২১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। সর্বশেষ বুধবার ১৩ জন অসুস্থ হওয়ায় এক সপ্তাহে মোট ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে।



তবে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার কারণ নিয়ে কৃষি বিভাগের পর্যবেক্ষণে ভিন্ন তথ্যও উঠে এসেছে। ৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনার পর কৃষি বিভাগের তদন্তে বলা হয়, বিদ্যালয়ের পাশের জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের গন্ধে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারে। একই বিদ্যালয়ে বারবার এমন ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রকৃত কারণ কী উঠে আসে, সেটিই দেখার বিষয়।


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৬ এএম

সিলেটের বিশ্বনাথে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মজিদ বকুলকে তার নিজ বসতঘরে ঢুকে মারধর এবং ঘরের মালামাল লুট ও ভাংচুরের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৭০ নেতাকর্মীকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মজিদ বকুল বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।



ঘটনার ৫ দিন পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি শামীমকে প্রধান অভিযুক্ত করে থানায় দায়ের করার মামলায় ২০ জনকে এজাহারনামীয় অভিযুক্ত ও আরোও ৪০-৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন গ্রেপ্তার নেই বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। 



ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বদরুল আলম, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব ওরফে হাবিব মিয়া, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বিশ্বনাথ উপজেলা শাখার সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রুকন, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মামুন, সহ সভাপতি কয়েছ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমদ, রেজাউল ইসলাম রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সালমান আহমেদ, প্রচার সম্পাদক পারভেজ আহমদ, যুবলীগ নেতা রাজন আহমদ অপু, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এনামুল হক বিজয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আশিক আলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা রফিক আলী, এবং ওয়াজিবুল মিয়া, হেলাল, আইদিদ আহমেদ, আবু আহমেদ তালহা, নাইম আহমদ, আব্দুল হক কুতুব।



থানায় ছাত্রদল নেতা বকুলের দায়ের করা লিখিত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাদী পৌর শহরের টিএনটি রোডস্থ নিজ বাসায় অবস্থানকালে মামলার প্রধান অভিযুক্ত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শামীম আহমদ ওরফে চাক্কু শামীমের নেতৃত্বে সমূহ অভিযুক্তরা রামদা, দা, চাইনিজ কুড়াল, লোহাড় রড়, জিআই পাইপ, লাঠি-সোঠা’সহ দেশীং অস্ত্রে-সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদীর বসতঘরে অনাধিকার প্রবেশ করে তার (বাদী)’র উপর হামলা করেন। হামলায় তিনি গুরুত্বর আহত হন। হামলার সময় অভিযুক্তরা বাদীর বসতঘরে থাকা আলমিরা ভেঙে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় এবং প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র ভাংচুর করেছে বলে মামলার বাদী পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল মজিদ বকুল তার লিখিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।




মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) গাজী মো. মাহবুবুর রহমান জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, জকিগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে জকিগঞ্জ থানায় পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে। 




মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট উপজেলা সদরের পল্লীশ্রী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল থেকে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে পুরো উপজেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার রাতে তানভীর আহমদ নামে এক কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে জকিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুজন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী ও তার ভাই আজহার চৌধুরীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।




এ ছাড়া আরও ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পরিকল্পিত ভাবে বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল ও ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক তানভীর আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।