মির্জা ফখরুলের সহযোগিতায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ

এলজিইডির আওতায় অনুমোদন মিলেছে ১৪০কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:১৭ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে। বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দিকনির্দেশনায় প্রথম ধাপে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সরকারের রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (আরসিআইপি)-এর আওতায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এ প্রকল্পকে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম বড় উন্নয়ন উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর এনএইচডব্লিউ–খোচাবাড়ী জিসি হয়ে নারগুন ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়ক, গোবিন্দনগর সমবায় মার্কেট–মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়ক, রুহিয়া সিনেমা হল ১১ মাইল এনএইচডব্লিউ –দেবীপুর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস সড়ক, ঠাকুরগাঁও–আটোয়ারী আরএন্ডএইচ  (রুহিয়া)–রামনাথহাট জিসি সড়ক, রামনাথ জিসি–লাহিড়ী জিসি সড়ক, বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ –সাবদালহাট সড়ক, পল্লী বিদ্যুৎহাট–রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক প্রশস্ত করা হবে।


এছাড়াও আধার দিঘিহাট –আমজানখোর ইউনিয়ন পরিষদ অফিস (স্কুলহাট) হয়ে উদয়পুর রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সড়ক, মিরডাঙ্গীহাট–যাদুরাণী জিসি সড়ক, হরিপুর হেডকোয়ার্টার–ধীরগঞ্জ জিসি সড়ক এবং পীরগঞ্জ–ফকিরগঞ্জহাট হয়ে হাজীপুর-সেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ সড়ক অংশ প্রশস্ত করা হবে।


স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি একাধিক উন্নয়ন সভায় বলেছেন, "ঠাকুরগাঁওয়ের একটি রাস্তাও কাঁচা থাকবে না।"তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।


এলজিইডি ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস বলেন, "মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি সড়ক আধুনিক মানদণ্ডে প্রশস্ত করা হবে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এলজিইডি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।"


নারগুন ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল হান্নান বলেন, বর্ষা মৌসুমে এই সড়কে ট্রাক-ভ্যান চলাচল করতে অনেক সমস্যা হয়। রাস্তা প্রশস্ত হলে ধান, গম ও আলুসহ কৃষিপণ্য সহজে বাজারে নিতে পারব। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচও কমবে।


গোবিন্দনগর সমবায় মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. শাহিনুর রহমান বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। প্রশস্তকরণ শেষ হলে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন বাড়বে, তেমনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও অনেক কমে যাবে।


স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মতে, জেলায় একসঙ্গে এতগুলো সড়ক প্রশস্তকরণের উদ্যোগ শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্থানীয়দের  আশা, প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘোষিত ঠাকুরগাঁওয়ের একটি রাস্তাও কাঁচা থাকবে না—এই অঙ্গীকার বাস্তব রূপ পেতে শুরু করবে।



শ্যামনগরে নারীকে ঘিরে অপপ্রচার ও হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি

সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়ানো, শারীরিক নির্যাতন ও লুটপাটের অভিযোগ তুললেন চম্পা মল্লিক


  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১৪ পিএম

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চম্পা মল্লিক (৩৫) নামে এক নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।


শনিবার শ্যামনগর উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


সংবাদ সম্মেলনে চম্পা মল্লিক অভিযোগ করেন, গত ৬ আগস্ট থেকে তাকে জড়িয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিত্তিহীন, কুরুচিপূর্ণ তথ্য ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা তার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সত্যতা যাচাই না করে এসব প্রচার করা হচ্ছে, যা আমার ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও মানসিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।”


তিনি আরও জানান, স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলায় বর্তমানে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে দুটি মামলা চলমান রয়েছে, যার একটি ইতোমধ্যে তার পক্ষে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং অন্যটি বিচারাধীন। তার অভিযোগ, চলমান মামলার প্রেক্ষাপটে তাকে ফাঁসাতে তার স্বামী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।


ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে চম্পা মল্লিক বলেন, গত সোমবার একটি প্রশিক্ষণ সভা শেষে বাড়ি ফেরার সময় এক পরিচিত যুবকের সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। পরে ওই যুবক তার বাড়িতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করায়। এরপর আরও ১২-১৪ জন এসে ওই যুবককে মারধর করে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।


তিনি অভিযোগ করেন, একই সময়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, সিগারেটের আগুন দিয়ে পোড়ানোর চেষ্টা করা হয় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালানো হয়। পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং তার মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা, এনজিও কার্যক্রমের অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। হামলাকারীরা তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে বলেও তিনি জানান।


চম্পা মল্লিক আরও বলেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলাকারীরা ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করে বিকৃতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা হলেন—সাইফুল ইসলাম, নজু, ওবায়দুল্লাহ গাইন ও রবিউল ইসলাম (বাবু)।


তিনি জানান, ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং সাক্ষীরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি শ্যামনগর থানা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি সত্যতা যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বানও জানান তিনি।


চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল। ফাইল ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০০ পিএম

চলছে বর্ষা মৌসুম। নদী, খাল ও বিল পানিতে টইটম্বুর। বৈশাখ মাস থেকেই টানা বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় তখন থেকেই চারদিকে পানিতে থইথই অবস্থা। কিন্তু এত পানি থাকলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দেশীয় প্রজাতির মাছ। নিষিদ্ধ রিং, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহারে দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছের ভান্ডার। শুধু মাছই নয়, খালের উপকারী ব্যাঙ, পোকামাকড় ও অন্যান্য জলজ প্রাণীও বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং হুমকির মুখে পড়েছে জলজ বাস্তুতন্ত্র। মাদারীপুরে শিবচর উপজেলার বিভিন্ন নদী, খাল ও বিলে এসব নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার চোখে পড়লেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।


১৯৫০ সালের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী চায়না দুয়ারি জাল দেশে নিষিদ্ধ। সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে এই জাল। প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করলেও জনবল ও লজিস্টিক সংকটের কারণে অবৈধ ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন নদী, খাল ও বিলের অগভীর অংশে অর্ধেক পানিতে ডুবিয়ে এবং অর্ধেক পাড়ে রেখে চায়না দুয়ারি জাল পেতে মাছ ধরা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব জাল দিনের পর দিন পানিতে ফেলে রাখা হচ্ছে। সব উপজেলার প্রায় সব নদী-খাল-বিলে হাওরেই দেশীয় মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারেও উঠছে না আগের মতো দেশীয় সুস্বাদু মাছ। মাছের পাশাপাশি পুরো জলজ পরিবেশই মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।


জানা যায়, আগে নতুন পানি এলেই নদী-খাল-বিলে শোল, গজার, টেংরা, পাবদা, কৈ, বোয়াল, আইড়, মাগুর, শিং, পুঁটি, বাইম, চিংড়ি, বাইলা ও নানিসহ নানা দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন সেই মাছের দেখা খুব কমই মেলে। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে শুধু বড় মাছ নয়, ছোট পোনা, ডিমওয়ালা মা-মাছ, এমনকি মাছের ডিমও নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে। চায়না দুয়ারি জাল লম্বায় সাধারণত ৩০ থেকে ৮০ ফুট এবং উচ্চতায় প্রায় এক থেকে দেড় ফুট হয়ে থাকে। লোহার রিং দিয়ে তৈরি কাঠামোর চারপাশে খুব সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল লাগানো থাকে। আকার ও মানভেদে একটি জালের দাম দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার হাজার টাকা।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, চায়না দুয়ারি জাল একটানা পানিতে রেখে মাসের পর মাস মাছ ধরা যায়। দামও তুলনামূলক কম। বিভিন্ন দোকানে সহজেই পাওয়া যায়। অন্যদিকে দেশীয় জাল দীর্ঘদিন পানিতে রাখলে নষ্ট হয়ে যায়। তাই অনেকেই চায়না দুয়ারি জাল ব্যবহার করেন।


শিবচর উপজেলার বাসিন্দা কাউসার আহম্মেদ বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মৎস্য অফিস থাকলেও তাদের কার্যক্রম চোখে পড়ে না। উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে বলেই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে না। এছাড়া মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও কার্যকর কোনো পরিকল্পনা দেখা যায় না।


শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় আমরা সারাবছরই চায়না দুয়ারি জালসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ জালগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। পাশাপাশি মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চলছে।



সহজে বেশি মাছ ধরার লোভে বাড়ছে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার!


চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এর ব্যবহার থেকে পুরোপুরি সরে আসছেন না অনেক জেলে। কম সময়ে তুলনামূলক বেশি মাছ পাওয়া এবং জাল ব্যবহারে অতিরিক্ত শ্রমের প্রয়োজন না হওয়ায় এর প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পানিতে পেতে রাখার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মাছ আটকে থাকায় জেলেদের কাছে এটি সহজ শিকারের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জেলে বলেন, চায়না দুয়ারি জালের ক্ষতিকর দিক অনেকেই জানেন। কিন্তু এতে কম পরিশ্রমে বেশি মাছ ধরা যায় এবং প্রয়োজন হলে সহজেই গভীর পানিতে লুকিয়ে রাখা সম্ভব তাই অনেকে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এটি ব্যবহার করেন।


পাঁচ্চর মাছ ব্যবসায়ী সুমন হাওলাদার বলেন, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে স্থানীয় জলাশয়ের মাছের মজুত দ্রুত কমে যাবে। একই সঙ্গে এসব জালে বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণী আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি আরও বাড়ানো দরকার।


স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিষিদ্ধ এসব জালের জন্য বাজারেও আগের মতো দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না। পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতি হারিয়ে যেতে পারে। এর প্রভাব শুধু মৎস্যসম্পদের ওপর নয়, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপরও পড়বে।


শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ


পরিবেশকর্মীদের মতে, নিষিদ্ধ জাল বন্ধে শুধু অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া কঠিন। একই সঙ্গে এসব জালের উৎপাদন ও বিপণন নিয়ন্ত্রণ, জেলেদের বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি এবং মাছের প্রজনন মৌসুমে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন।

 

শিবচর উপজেলার ড. নুরুল আমিন ডিগ্রি কলেজে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক রাজু আহমেদ বলেন, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি, রিং ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়গুলোর জন্য ভয়াবহ পরিবেশগত সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। যার ফলে প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটছে,জলজ জীববৈচিত্র্য হ্রাস হচ্ছে। দেশীয় মাছ ও জলজ সম্পদ রক্ষা করার জন্য মাছের প্রজনন মৌসুমে কার্যকর সংরক্ষণ, অভয়াশ্রম বাড়ানো এবং নদ-নদী,খাল ও বিলের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করাও সমানভাবে জরুরি।


তিনি আরও বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় দেশীয় বহু প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে এবং নদ-নদীর স্বাভাবিক পরিবেশও অস্তিত্বের সংকটে পড়বে।


শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, নিষিদ্ধ জালের বিক্রি ও ব্যবহার ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি মাছের ডিম ও পোনা যাতে ধ্বংস না হয়, সেজন্য আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। জনবল ও লজিস্টিক-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলেও অভিযান ও তদারকি আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


কবিরহাট থানা

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৩ পিএম

নোয়াখালীর কবিরহাটে পুকুরে শাক ধুতে গিয়ে পানিতে ডুবে কুলসুম আক্তার লাকী (৩৯) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।


শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বড় রামদেবপুর গ্রামের আমিন উল্যাহ টেন্ডল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


নিহত কুলসুম আক্তার লাকী একই বাড়ির তাহেরের মেয়ে। তিনি তিন সন্তানের জননী ছিলেন।


স্থানীয়রা জানান, স্বামী বেচু ও তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন কুলসুম। সকালে প্রতিদিনের মতো দুপুরের রান্নার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে শাক ধোয়ার জন্য পুকুরঘাটে যান তিনি। একপর্যায়ে ঘাট থেকে পানিতে পড়ে ডুবে যান। পরে স্বজনরা পুকুরে তার মরদেহ ভাসতে দেখতে উদ্ধার করেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, কুলসুম মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন।


কবিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমদাদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২১ পিএম

গাজীপুর মহানগরীর হাড়িনাল উত্তরপাড়ায় ২৫টি পরিবারের চলাচলের রাস্তা  বন্ধের অপচেষ্টা, চাঁদা দাবি, হামলা ও ছিনতাইয়ের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজীপুর সাংবাদিক পরিবার কল্যাণ পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।


​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ঠিকাদার মনসুর আহমেদ লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, নাছির উদ্দিন বিপ্লব, খাইরুল ইসলাম ও আজিজুল হাকিমের নেতৃত্বে একটি চক্র এলাকার ২৫টি পরিবার ও মুসল্লিদের যাতায়াতের রাস্তা দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। রাস্তাটি ব্যবহারের বিনিময়ে অভিযুক্তরা ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।


​তিনি জানান, গত ২৮ জুলাই অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জোরপূর্বক রাস্তায় প্রাচীর নির্মাণ শুরু করে। বাধা দিলে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় মনসুর আহমেদ,  বৃদ্ধ হেদায়েত উল্লাহ ও রোকেয়া মফিজ  গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা মসজিদ নির্মাণের ৭০ হাজার টাকাসহ নগদ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়।


​এ ঘটনায় গাজীপুর সদর মেট্রো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, রাস্তাটি দখলমুক্ত এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আবেদন জানানো হয়।

ব্যবসা মন্দা, আশুলিয়ায় ছুটির মধ্যেই ৫৬৫ শ্রমিক ছাঁটাই

কারখানার ফটকে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে নোটিশ


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৮ পিএম

সাভারের আশুলিয়ায় ৫ আগস্ট উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির মধ্যেই এ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার ৫৬৫ জন শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে ব্যবসায়িক মন্দার কথা। বৃহস্পতিবার কারখানার প্রধান ফটকে প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগ থেকে স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বিভিন্ন সেকশনের মোট ৫৬৫ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের কথা জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, আজ শনিবার (৮ আগস্ট) থেকে এসব শ্রমিকের ছাঁটাই কার্যকর হবে।


নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ্যালায়েন্স নিট কম্পোজিট লিমিটেডে কর্মরত সব শ্রমিক, কর্মচারী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে বর্তমানে কারখানায় মারাত্মক ব্যবসায়িক মন্দা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ও আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়া এবং পর্যাপ্ত কাজের স্বল্পতার কারণে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় কারখানার অস্তিত্ব রক্ষা ও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত শ্রমিক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ধারা ২০ অনুযায়ী সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কারখানার মোট ৫৬৫ জন শ্রমিককে ৮ আগস্ট  থেকে ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। 


নোটিশে বলা হয়েছে, ছাঁটাই করা শ্রমিকদের চাকরির মেয়াদকাল অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ মেনে তাদের যাবতীয় আইনগত পাওনা ও সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আইনে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি শ্রম আইনের ধারা ২১ অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে কারখানার কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেলে বা পুনরায় নতুন শ্রমিক নিয়োগের প্রয়োজন হলে ছাঁটাই করা এসব শ্রমিককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।  


শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মূলত পর্যাপ্ত কার্যাদেশ না থাকা ও গ্যাস-সংকটের কারণে সৃষ্ট ব্যবসায়িক মন্দার কারণে কারখানাটি কিছু শ্রমিক ছাঁটাই করেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।


কারখানাটির ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম থাকা সুইং সেকশনের অপারেটর মো. জিয়ারুল হক বলেন, ৫ আগস্ট উপলক্ষে কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় টানা তিন দিনের ছুটিতে তিনি গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে এসেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে তিনি ছাঁটাইয়ের নোটিশ পান।


বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন সমকালকে জানান, ব্যবসায়িক মন্দা মালিকপক্ষের একটি বাহানা মাত্র। এভাবে ছুটির মধ্যে হঠাৎ করে একযোগে এত শ্রমিক ছাঁটাই করা অমানবিক। তারা অবিলম্বে এই নোটিশ প্রত্যাহার করে ছাঁটাই করা সব শ্রমিককে কাজে পুনর্বহালের দাবি জানান।

টাঙ্গাইলের মহিষমারা কলেজে খুন্তি-কোদালে তরুণদের নতুন বিপ্লব!

ডিজিটাল স্ক্রিন ছেড়ে ফসলের মাঠে শিক্ষার্থীরা


  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:১৫ এএম

বর্তমান প্রজন্মে বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়ে ও শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার এবং স্ক্রিন টাইমের ফলে মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে অনলাইন ক্লাসের পর থেকেই নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ চরম মোবাইল আসক্তিতে পড়েছে।


সারা দেশের শিক্ষার্থীরা যখন এমন ডিজিটাল ডিভাইসের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, ঠিক তখনই এর সম্পূর্ণ বিপরীত ও ব্যতিক্রমী এক চিত্র দেখা গেছে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা কলেজে। সেখানকার শিক্ষার্থীরা মোবাইল ছেড়ে হাতে তুলে নিয়েছে খুন্তি, কোদাল, কাস্তেসহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি। তারা ফসলি মাঠে নেমে হাতে-কলমে শিখছে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের নানা কৌশল।



খোঁজ নিয়ে জানা যায়- ব্যতিক্রমী এই জীবনমুখী শিক্ষা কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে মধুপুর উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার মহিষমারা গ্রামে। ২০১৩ সালে গ্রামেরই এক আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১৩৫ শতাংশ জমির ওপর এই ‘মহিষমারা কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। টাঙ্গাইল শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং মধুপুর উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এই মহিষমারা গ্রাম। অঞ্চলটি মূলত কৃষিনির্ভর এবং মধুপুরের বিখ্যাত আনারস চাষের অন্যতম প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র কৃষক। অর্থাভাব ও দূরত্বের কারণে স্কুল শেষ করার পর অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের কলেজে পড়ালেখার খরচ চালাতে পারতেন না। এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষার আলো ছড়াতে এবং উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করতেই কৃষক ছানোয়ার হোসেন এই কলেজটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই কলেজে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ডিজিটাল আসক্তি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঠপর্যায়ে উৎপাদনমুখী ও বাস্তবমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার এই উদ্যোগটি এখন সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। 


সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কার্যক্রম একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করছে, অন্যদিকে তেমনি দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলছে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, টাঙ্গাইলের মধুপর উপজেলা সদর থেকেই পাকা সড়ক। অজপাড়াগাঁ পেড়িয়ে সোজা গারো বাজার। যাওয়ার পথে বিল সবুজ ধান ক্ষেতের অবারিত দিগন্ত। যেন চোখ জুড়ানো। গারো বাজারের পাশের বৃহত্তর গ্রামটির নাম মহিষমারা। মহিষমারা গ্রামের শুরুতেই কলেজটির অবস্থান। কলেজে প্রবেশ করে দেখা যায়, দুটি শ্রেণিতে ক্লাস চলছে। আর উৎপাদনমুখী শিক্ষা কর্ণারে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী কাজ করছেন।


কলেজটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছানোয়ার হোসেন তাদের সবজি বীজ বোনার আগে মাটি তৈরি ব্যবস্থাপনা শেখাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা তার নির্দেশনাতে মাটি তৈরির কাজ করছেন। 


জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রাপ্ত আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, ১৯৯২ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর তিনি সিলেটের একটি স্কুলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ বছর চাকরি করে ফিরে আসেন গ্রামে। গ্রামের স্কুলে দুই বছর প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু কৃষির আকর্ষণে তিনি সেই চাকরিও ছেড়ে দেন। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আনারস, কলা, হলুদ, ভুট্টা, মাল্টা, ড্রাগন, পেয়ারা, কফিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন। 


তিনি জানান, তার গ্রাম মহিষমারা এলাকার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কলেজ নেই। দরিদ্র কৃষক পরিবার তাদের সন্তানদের দূরে ছাত্রাবাসে রেখে পড়াতে পারে না। তাই সিদ্ধান্ত নেন, নিজ এলাকায় একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করবেন।


আদর্শ কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, তার বাবার ৯৫ শতাংশ জমি আর তার নিজের ৪০ শতাংশ মিলে ১৩৫ শতাংশের উপর ২০১৩ সালে মহিষমারা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিগত ২০২২ সালে কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে এই কলেজে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য ১৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। সরকারের শিক্ষা বিভাগ থেকে একটি পাকা ভবনও এই কলেজে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।


কলেজের শিক্ষক ও এলাকাবাসী জানায়, ২০১৮ সালে কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য উৎপাদনমুখী শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। এ জন্য কলেজের পূর্ব দিকে ৪০ শতাংশ জায়গায় একটি কর্ণার গড়ে তোলা হয়। শিক্ষার্থীদের ছানোয়ার হোসেন পড়াশোনার ফাঁকে হাতে-কলমে বিষমুক্ত নিরাপদ ফসল উৎপাদন শেখান। সেখানে বিভিন্ন মৌসুমের সবজি, ফল, মসলার চারা তৈরিও শেখানো হয়। এখানে চাষবাস শিখে শিক্ষার্থীরা তাদের বাড়িতেও সবজি বাগান করতে পারেন।


কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা কলেজের এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে কীটনাশকমুক্ত সবজি আবাদ শিখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তারা বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করছেন। এ কারণে তাদের পিতা-মাতা অনেক খুশি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বড় হয়ে কৃষি অফিসার হবে।


কলেজের প্রভাষক শহিদুল ইসলাম জানান, কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে কৃষিতে উৎপাদনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। কলেজে ক্লাসের বিরতিতে এবং ছুটির পর বিভিন্ন গ্রুপ করে শিক্ষার্থীদের কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে এ কাজে অংশ নেয়। 


মহিষমারা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক হানান, কলেজের শিক্ষকরা অনেক পরিশ্রমী। পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষা শিক্ষার্থীদের একদিকে মোবাইল ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক থেকে যেমন রেহাই পাচ্ছে। অন্যদিকে বাড়িতেও মা-বাবাকে কৃষি কাজে সহযোগিতা করার মনোভাব সৃষ্টি তৈরি হচ্ছে।


কলেজের সভাপতি ও মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষকদের আন্তরিকতার ফলেই প্রান্তিক পর্যায়ের একটি কলেজ এত অল্প সময়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন শেষ করলেই যে চাকরি পাবে এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই এসব শিক্ষার্থীরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনমুখী শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে পারে তাহলে কৃষিনির্ভর এ দেশে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।