আক্কাস খান (৫৫)
ঝালকাঠির নলছিটিতে হামলার হাত থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের পিটুনিতে নিহত হয়েছেন বাবা। উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে গতকাল রবিবার বিকেলে হামলায় বাবা আক্কাস খান (৫৫) ও ছেলে জসিম খান (৩২) আহত হয়। গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে আক্কাস খানকে ঢাকা নেওয়ার পথে রাত রাড়ে ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ আজ সোমবার সকালে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গোবিন্দপুর গ্রামের আক্কাস খানের ছেলে জসিম খানের সঙ্গে প্রতিবেশী সজল খানের বিরোধ চলছিল। এতে রবিবার বিকেলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়ের পরিবার। এসময় বাড়ির সামনের রাস্তায় জসিমকে একা পেয়ে সজল খান, তাঁর বাবা সেলিম খান ভাই শফিক খান লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। জসিমের চিৎকার শুনে তাঁর বাবা আক্কাস খান বাঁচাতে গেলে দু’জনকেই কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে প্রতিপক্ষরা। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। ঢাকায় নেওয়ার পথে আক্কাস খানের মৃত্যু হয়। ছেলে জসিম খানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মাথায় গুরুতর আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় আক্কাস খানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পালিয়েছে, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
টাঙ্গাইলে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার নিয়ে মতবিনিময়
নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে টাঙ্গাইলে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘নারীপক্ষ’ শহরের হবিবুর রহমান প্লাজার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে ওই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
নারীপক্ষের ‘স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারীর কর্মসংস্থান প্রসার’ প্রকল্পের আওতায় ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক অধিকার : জেন্ডার-সংবেদনশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই মতবিনিময় সভায় নারীর অর্থনৈতিক অধিকার, কর্মসংস্থান, সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া, উদ্যোক্তা হিসেবে নারীর বিকাশ এবং সমাজে নারীর প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মতবিনিময় সভায় ‘স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারীর কর্মসংস্থান প্রসার’ প্রকল্পের পরিচালক রওশনারা আক্তার প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, টাঙ্গাইল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘আরপিডিও’র নির্বাহী পরিচালক রওশানা লিলি, স্থানীয় সম্পৃক্ততায় নারী কর্মজীবী সংস্থার সহ-ব্যবস্থাপক লিপি লিলিয়ান রোজারিও প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু নারীদের উন্নয়নের বিষয় নয়, এটি একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নারীদের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের অধিকার ও সম্ভাবনাকে গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।
তারা আরও জোর দিয়ে বলেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নারীকে কেবল ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন না করে, সমাজে তাদের সাফল্য, সম্ভাবনা, নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক অবদানকেও সমান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন। সভায় স্থানীয় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয় দখল ও পাল্টা দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিরোধের জের ধরে জেলা বাস মিনিবাস সমিতির কাছে পৃথক তিনটি প্রস্তাবিত কমিটি জমা পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা কমিটি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব নিয়ে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু রাজ এবং দপ্তর সম্পাদক আ. সামাদ ওরফে ছালামের পক্ষের মধ্যে বিরোধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। বাবু রাজের পক্ষের অভিযোগ, দপ্তর সম্পাদক ছালাম তার লোকজন নিয়ে সমিতির প্রধান কার্যালয়টি অবৈধভাবে জবরদখল করেছেন। দখলকারীরা কার্যালয় থেকে সাধারণ সম্পাদকের নামফলক সরিয়ে ফেলেছে এবং তার ব্যক্তিগত আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দিয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ছালামের পক্ষ দাবি করেছে, তারা কোনো কার্যালয় দখল করেননি। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বাবু রাজ নিয়মিত কার্যালয়ে আসেন না বলে তার ব্যক্তিগত আসবাবপত্রগুলো সরিয়ে রাখা হয়েছে মাত্র।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাসুম হাসনাইন বাবু রাজ তাঁর মালিকানাধীন গাড়ি মধুপুর উপজেলা বিএনপির নেতা প্রিন্সের নামে এফিডেভিট করে দিয়ে সমিতির সদস্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি প্রিন্সকে বাদ দিয়ে মুকুল সিদ্দিকীকে সদস্যপদ দেন। এ নিয়েই মূলত সমিতির সদস্যদের মধ্যে মতদ্বৈততার শুরু হয়।
এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে টাঙ্গাইল জেলা বাস মিনিবাস সমিতির কাছে পৃথক তিনটি প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে-
প্রথম প্রস্তাব: মুকুল সিদ্দিকী (সভাপতি) ও মাসুম হাসনাইন বাবু রাজ (সাধারণ সম্পাদক)।
দ্বিতীয় প্রস্তাব: আ. সামাদ ওরফে ছালাম (সভাপতি) ও ফরহাদ হোসেন (সাধারণ সম্পাদক)।
তৃতীয় প্রস্তাব: মাসুম হাসনাইন বাবু রাজ (সভাপতি) ও ফরহাদ হোসেন (সাধারণ সম্পাদক)।
কার্যালয় দখল এবং তিনটি পৃথক কমিটি জমার ঘটনায় সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা কমিটির হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক আল-আমিন সহ সাধারণ মালিকরা জানান, বর্তমান কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন খান আওয়ামীলীগ সমর্থিত হওয়ায় নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সমিতির মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান জেলা কমিটিই করতে পারবে।
তবে তাদের দাবি, সমিতিকে রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত রেখে শুধুমাত্র মালিক-ব্যবসায়ীদের দিয়ে কমিটি করে দেওয়া হোক। জেলা কমিটির সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানাবে।
মধুপুর উপজেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন জানান, ২৮জন বাস মিনিবাসের মালিক নিয়ে ২০২২ সালে সমিতির মধুপুর শাখা গঠন করা হয়। মালিকরা সাধারণত সন্ধ্যার পর সমিতির কার্যালয়ে আসেন। বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক আ. সামাদ ওরফে ছালামের গ্রুপের লোকজন দুপুরের দিকে কার্যালয়টি দখলে নেয়- এটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। তবে এখানকার মালিকরা সবাই জেলা কমিটির সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কমিটির সদস্য সচিব নিলুফার ইয়াসমিন খান জানান, মধুপুর সমিতির বিরোধের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তিনটি পৃথক প্রস্তাবিত কমিটি তারা হাতে পেয়েছেন। তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেবেন।
টাঙ্গাইল জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান খান জানান, সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত সংঘাত এড়াতে তারা উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সুশৃঙ্খল একক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রেলস্টেশনে বুকিং সহকারীদের মানববন্ধন
রাজশাহী রেল স্টেশনে চীফ কসার্শিয়াল ম্যানেজার আহসানউল্লাহ ভূঁইয়া ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিরাপদ কর্মস্থলের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন টাঙ্গাইল রেলওয়ে স্টেশনের সকল বুকিং সহকারীরা। আজ সোমবার দুপুরে রেল স্টেশন প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল স্টেশনের প্রধান বুকিং সহকারী রেজাউল করিম, সহকারী স্টেশন মাস্টার নাজমুল ইসলাম, বুকিং সহকারী গ্রেড ২ আশরাফুল ইসলাম ও তারেক রহমান প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনানুক ব্যবস্থা করার জন্য জোর দাবি জানান।
মেয়াদোত্তীর্ণ ফিডল বাজারজাতের কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারীরা
মুরগিকে দ্রুত বড় করার আশায় ফিড কিনেছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের খামারিরা। কিন্তু সেই ফিড খাওয়ানোর পর মুরগির প্রত্যাশিত ওজন না বাড়া, অসুস্থ হয়ে পড়া এবং মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৩২ জন খামারি ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন তারা।
খামারিদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি গুদাম থেকে ৮২ বস্তা মুরগির ফিড জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ঠাকুরগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা ফিড সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালান্দর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
খামারিদের অভিযোগ, সদর উপজেলার দক্ষিণ সালান্দরে রাম বাবুর সারের গুদামের পাশে একটি ভাড়া বাসায় ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের নামে মুরগির ফিড সংরক্ষণ ও বিক্রি করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে ফিড কিনে মুরগি পালন করে আসছিলেন তারা।
তবে সম্প্রতি ওই ফিড খাওয়ানোর পর মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। অনেক মুরগি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অনেক মুরগি মারা গেছে বলেও দাবি খামারিদের। এতে একের পর এক খামারি লোকসানের মুখে পড়েছেন।
সদর উপজেলার শিবগঞ্জ এলাকার খামারি আলী ইমরান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুরগির খামার করছেন। ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ফিড খাওয়ানোর পর ৩২ দিন পার হলেও মুরগির আশানুরূপ ওজন হয়নি। এতে তার প্রায় ৮৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। তার দাবি, তার মতো আরও ৩০ থেকে ৩২ জন খামারি ওই ফিড ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বেগুনবাড়ী রাজাপুকুর বাজার এলাকার খামারি মো. আলী হোসেন বলেন, ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ফিড খাওয়ানোর পর তার খামারের প্রায় ৮০০ মুরগি মারা গেছে। এতে তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নতুন উদ্যোক্তা রফিক রাজা বলেন, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে চাকরির চেষ্টা করেও না পেয়ে তিনি বয়লার মুরগির খামার শুরু করেন। এম.আর. ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্ম থেকে ফিড নিয়ে মুরগিকে খাওয়ানোর পর মুরগি অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে অনেক মুরগি মারা যায়। এতে তার প্রায় তিন লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে শুরুতেই যদি ফিড কোম্পানির কারণে এভাবে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়, তাহলে আমরা কীভাবে টিকে থাকব? তাহলে এই দেশে কি করে খাবো?”
আরেক খামারি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ফিডের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খামারিদের আরও অভিযোগ, ফিডের বস্তায় উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ থাকলেও বস্তায় মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ উল্লেখ করা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানির কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলেও দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।
খামারিরা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর কোম্পানির ম্যানেজার কয়েকটি খামার পরিদর্শন করেন এবং সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ট্রাস্ট কনট্রাক ফার্মের ঠাকুরগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক মো. জসিম খান। তার দাবি, ফিডের মান নিয়ে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়।
খামারিদের অভিযোগের পর রোববার বিকেলে দক্ষিণ সালান্দরের ওই গুদামে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশাদুল হক অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে গুদাম থেকে ৮২ বস্তা মুরগির ফিড জব্দ করা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক মো. জসিম উদ্দিনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশাদুল হক বলেন, জব্দ করা ফিডগুলো সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ফিডের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা ক্ষতিপূরণ চাইলে আইনগতভাবে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন।
এদিকে সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ফিডের উৎপাদন ও মেয়াদ সংক্রান্ত নথি যথাযথভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। ফলে প্রাথমিকভাবে জব্দ করা ফিডের মান ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
খামারিদের দাবি, শুধু জরিমানা করেই বিষয়টি শেষ করা যাবে না। নিম্নমানের বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড বাজারজাতের কারণে যেসব খামারি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তদন্তের মাধ্যমে তাদের ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বা অনুপযুক্ত ফিড বাজারজাত করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
একদিকে মুরগির অস্বাভাবিক মৃত্যু ও ওজন না বাড়ার অভিযোগ, অন্যদিকে নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড বাজারজাতের অভিযোগ- সব মিলিয়ে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিরা।
ঘাটাইলে চার বছরে কাজ শেষ হয়নি ব্রিজের
*এলজিইডি কর্মকর্তারা জড়িত থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না স্থানীয়রা
* ১ বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৪ বছরেও শেষ হয়নি
* কাজ ফেলে রেখে উধাও ঠিকাদার
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া-পূর্বাসিন্দা সড়কে দেওপাড়া ইউনিয়নের খাকুরিয়ার ব্রিজের কাজ ১ বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ৪ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। ২০২১ সালের কাজটি শুরু হয়ে ২০২২ সালের ২০ মার্চ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান সম্পুর্ন কাজ শেষ না করে অজ্ঞাত কারণে ব্রিজের কাজ ফেলে রেখে উধাও হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ৪০ গ্রামের মানুষ।
জানা যায়, ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া-পূর্বাসিন্দা সড়কে দেওপাড়া ইউনিয়নের খাকুরিয়ার ব্রিজটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে একাংশ ভেঙে যায়। ব্রিজটি পুননির্মানের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দরপত্র আহ্বান করে। ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এসই সাদিয়া অ্যান্ড সামিয়া জয়েন্টভেঞ্চারে ২১ সালে ২১ সেপ্টেম্বর চার কোটি ২১ লাখ ১০ হাজার ৫৪৪ টাকা চুক্তিমূল্যে ২০২২সালের ২০ মার্চ কাজ শেষ করার নিমিত্তে কার্যাদেশ পায়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি কাজ না করে স্থানীয় জনৈক সাইফুল ইসলামকে কাজটি করার জন্য সাব-ঠিকাদার নিয়োগ করে। সাব-ঠিকাদার বিকল্প সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ না করে কাজ ফেলে ঠিকাদার উধাও হয়ে যায়।
এতে ভোগান্তিতে ধলাপাড়া সহ দেওপাড়া ইউনিয়নের সরাশাক, কালিকাপুর, কোচপাড়া, পাঞ্জারচালা, শিবেরপাড়া, বাদে আমজানী, আমজানি পশ্চিম পাড়া, তালতলা, দেওপাড়া,কালিয়ান, গান্দী, চাম্বলতলা, রহমত খার বাইদ, রানাদহ, চৈতার বাইদ, মলাজানী, যুগিয়াটেঙ্গর, কুমারপাড়া, গানজানা, মাকড়াই, মাকড়াই ভবানী, মালেংগা, চৌরাশা, কোচক্ষিরা, কাপাসিয়া, বারইপাড়া, ভোজদত্ত, হরিণাচালা, কান্দুলিয়াপাড়া, করিমের পাড়া, কাকুরিয়া, কালু কাছড়া, খামার কাছড়া, দেলুটিয়া, ভাগলের পাড়া, ভাবনদত্ত, ঘোড়া মারা, বানীভাসাসহ ৪০ গ্রামের মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, ২০২১ সালে ব্রিজের কাজ শুরু করে। চার বছর পেরিয়ে গেলেও এ ব্রিজের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সাইফুল ইসলামকে কাজটি করার জন্য সাব-ঠিকাদার নিয়োগ করে। তিনি সম্পুর্ন কাজ শেষ না করে ১ বছর কাজ ফেলে রেখে উধাও হয়ে যায়। ২০২৫ সালে ৯ এপ্রিল অসমাপ্ত ব্রিজের পাশে প্রায় ৪০ গ্রামের ভুক্তভোগীরা দ্রুত ব্রিজটির কাজ সম্পন্ন করা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। স্থানীয়দের দাবি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জড়িত থাকার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
ওই সড়কে চলাচলকারী সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক উজ্জল, শফিক, ভ্যান চালক তাওহিদুল, রাজ্জাক, মিনি ট্রাক চালক রশিদ, জহির উদ্দিন, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক আসাদুল, সুজন, নওশাদ সহ অনেকেই জানান, খাকুরিয়া ব্রিজটি ৪ বছর ধরে ফেলে রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ কাজ শেষ করার দাবি জানান তারা।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়ায় এলাকায় নির্মাণাধীন ৫২ মিটার খাকুরিয়া ব্রিজের বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শুধু রেলিং ও এপ্রোচ এর কাজ বাকী আছে। অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করা হবে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় সালেহ আহমেদ (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল করিম দোলন।
এর আগে, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বরলা উত্তরপাড়া এলাকার ভূঁইয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত সালেহ আহমেদ ওই এলাকার মৃত ছেরাজুল হকের ছেলে। তিনি পেশায় স-মিলের মিস্ত্রি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সালেহ আহমেদের গলায় আঘাত করে। এতে তার গলায় গুরুতর জখম হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। পরে সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
পরিবারের দাবি, রাতে একজন চোর ঘরে ঢুকে সালেহ আহমেদকে জবাইয়ের চেষ্টা করে। তবে ঘর থেকে কোনো মালামাল খোয়া যায়নি। এ কারণে ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরিফুল করিম দোলন আরও বলেন বলেন, আমি জেলা শহর মাইজদীতে ছিলাম। এখন আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।