ময়মনসিংহের ভালুকায় রবেন্দ্র ঋষি (৪৩) নামের এক সেলুন ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার জামিরদিয়া এলাকার নোমান কম্পোজিট মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট চত্বরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত রবেন্দ্র ঋষি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের রঞ্জিত ঋষির ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া তরিফ মুন্সী মোড় এলাকায় কাশেমের বাড়িতে ভাড়া থেকে সেলুন ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে।
নিহতের স্ত্রী সূচিত্রার অভিযোগ, সাদ্দাম নেশার আসক্তিতে প্রায়ই তাঁর স্বামীর কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নিতেন। তাছাড়া সেলুনে চুল কাটিয়ে নিয়মিত টাকা দিতেন না। সম্প্রতি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং সেলুনে চুল কাটা নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর আগেও সাদ্দাম তাঁর স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। ওই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে তাঁর দাবি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় হঠাৎ সেলুনে প্রবেশ করে রবেন্দ্র ঋষিকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন সাদ্দাম। প্রাণ বাঁচাতে রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে সাদ্দামের নিজের বাবার দোকানে আশ্রয় নেন রবেন্দ্র। কিন্তু সেখানেও তাঁকে পুনরায় ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে পাশের একটি বাড়ির উঠানে পালানোর চেষ্টা করলে সেখানেও তাঁকে আবারও আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযান চালিয়ে ঘাতক সাদ্দাম হোসেনকে হবিরবাড়ী ন্যাশনাল পলিমার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
সিলেটের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ ও জনসংখ্যার চাপে অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি সেবার সক্ষমতা বাড়াতে সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ নির্ধারিত ১৫ মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
তিনি বলেছেন, এ প্রকল্পের সঙ্গে একটি বিস্তৃত জনপদের নিরাপত্তা জড়িত। তাই নির্মাণকাজে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার পাশাপাশি সেবার মান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। মঙ্গলবার সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিক সেবার মান উন্নত করা সময়ের দাবি। সিলেটের সঙ্গে দেশের বাইরের বহু মানুষের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির বাস্তবতায় এ অঞ্চলে অগ্নিনিরাপত্তাসহ জরুরি নাগরিক সেবাকে আরও আধুনিক, কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অবকাঠামো ও সক্ষমতা বাড়ানো গেলে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সহজ হবে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বাহিনীর সদস্যরা শ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টায় সাধারণ মানুষ বিপদের সময় নিরাপত্তা ও স্বস্তি পায়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। জননিরাপত্তায় তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, জরুরি সেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের জন্য সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করা প্রয়োজন। সেবাগ্রহীতারা যাতে সহজে কাঙ্ক্ষিত সেবা পান এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ বন্ধ হয়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা গেলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সেবার মান এবং জনআস্থা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ।
এ সময় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীতে পতিতাবৃত্তি নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবকের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ২
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় পতিতাবৃত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় শ্যামল শর্মা (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, সোমবার রাতে উপজেলার নীলাহাটি শ্মশানঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্যামল শর্মা উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের শুসেন শীলের ছেলে। গ্রেপ্তাররা হলেন- রাজশাহী জেলার রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত রমজান আলীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৩০) এবং ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের শালমারা শেওটগাড়ী এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে আব্দুর রশীদ (৪৫)। স্থানীয়দের দাবি, পতিতাবৃত্তি পরিচালনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন নারীকে ওই এলাকায় নিয়ে আসা হতো। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
নিহতের ভাই কৃষ্ণ শর্মা জানান, মঙ্গলবার রাতে শ্যামল ও হাফিজ নামে দুই ব্যক্তি তার বড় ভাই শ্যামল শর্মাকে ফোন করে নীলাহাটি শ্মশানঘাটে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর কয়েকজনের সঙ্গে তার ভাইয়ের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আব্দুর রশীদ, শ্যামল, হাফিজসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। কৃষ্ণ শর্মা আরও জানান, মারধরের পর তার ভাই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে শাহজাহান নামে এক ব্যক্তির মোবাইল থেকে বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ভাইয়ের নাভির নিচে রক্তক্ষরণ দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে নীলফামারী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে নিহতের ভাই কৃষ্ণ শর্মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করছেন। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে আহতরা
খুলনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি এলাকায় তিনজনকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। তাঁদের মধ্যে দুজন বিএনপির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক নেতা। অন্যজন জাপান টোব্যাকো কোম্পানির কর্মী।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বটিয়াঘাটা উপজেলার চক্রখালী বাজারে যুবদলের সাবেক নেতা অহিদুল ইসলাম বাদলকে গুলি করা হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে একই উপজেলার বড় কড়িয়ায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা সোহেল শেখকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় জাপান টোব্যাকোর কর্মী সালমান হাওলাদারকে গুলি করে তাঁর ল্যাপটপের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পৃথক তিনটি ঘটনায় দুর্বৃত্তরা গুলি চালালেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। একের পর এক গুলির ঘটনায় খুলনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যুবদল নেতাকর্মীরা জানান, আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষে গ্রামে ফিরছিলেন অহিদুল ইসলাম বাদল। জলমা ইউনিয়নের চক্রখালী বাজারে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
গুলিবিদ্ধ অহিদুল ইসলাম বাদল জলমা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি বটিয়াঘাটার তেঁতুলতলা গ্রামের আলতাফ হাওলাদারের ছেলে।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে বটিয়াঘাটা উপজেলার বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেলে বসে ছিলেন আমিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল শেখ। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে তাঁর ডান হাত ও পেটের ডান পাশে গুরুতর জখম হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। সোহেল শেখ বড় কড়িয়া গ্রামের গনি শেখের ছেলে।
খুলনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
এদিকে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কে গুলিবিদ্ধ হন সালমান হাওলাদার। তাঁর সহকর্মীরা জানান, কোম্পানির কার্যালয় থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেলে উঠছিলেন সালমান। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর পেটের ডান পাশে গুলি লাগে। পরে তাঁর কাছে থাকা ল্যাপটপের ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
সহকর্মীরা জানান, প্রতিদিন ওই সময়ে কর্মচারীরা টাকার ব্যাগ নিয়ে ব্যাংকে যেতেন। তবে মঙ্গলবার ওই ব্যাগের পরিবর্তে ল্যাপটপ নিয়ে বের হয়েছিলেন সালমান। ছিনতাইকারীরা তাঁকে গুলি করে ব্যাগটি নিয়ে গেছে।
গুলিবিদ্ধ সালমান হাওলাদারের বয়স ২৩ বছর। তিনি জাপান টোব্যাকো কোম্পানিতে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। তাঁর বাসা নিরালা আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর সড়কের সবুজবাগ এলাকায়। তাঁর বাবার নাম জাহাঙ্গীর হাওলাদার। খুলনা থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পাঁচ দিনে গুলিতে নিহত ২, আহত ৬
প্রসঙ্গত, গত পাঁচ দিনে খুলনায় দুজনকে গুলি করে হত্যা এবং ছয়জনকে গুলি করে আহত করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১০ মাসে খুলনায় গুলি, কুপিয়ে বা অন্য উপায়ে ৭১ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬৯টি।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অস্ত্র ও মাদক কারবার, চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ, পূর্বশত্রুতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরোধ কাজ করেছে।
রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫-এর চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি সই হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় ১১ দশমিক ৫০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ ও আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া, দুটি মেট্রোরেলের ডিপোর বিভিন্ন স্থাপনাও নির্মাণ করা হবে।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাতায়াতের সময় কমানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
তিনি নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি, নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে পরিবেশগত প্রভাব, প্রকল্প এলাকার বাসিন্দাদের কল্যাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।চুক্তি অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-১-এর ডিপো নির্মাণের জন্য সিপি-০২ প্যাকেজে ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ৪৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।
এমআরটি লাইন-১-এর সিপি-০৭ প্যাকেজের আওতায়, পাতাল থেকে উড়াল পথে ওঠার স্থান থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি জোয়ার সাহারা, বোয়ালিয়া ও মস্তুল—এই তিনটি উড়াল স্টেশন নির্মিত হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।
এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের ডিপো নির্মাণের সিপি-০২ প্যাকেজে প্রশাসনিক ভবন, স্ট্যাবলিং ইয়ার্ড, গুদাম ও ওয়ার্কশপ শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এ কাজের চুক্তি হয়েছে ‘সিপিসি-হানিল জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।
অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত মোট ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া হেমায়েতপুর, বালিয়াপুর, বিলামালিয়া, আমিন বাজার ও ভাটারা—এই পাঁচটি উড়াল স্টেশন নির্মিত হবে। এ কাজের চুক্তিও হয়েছে ‘সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জয়েন্ট ভেঞ্চার’-এর সঙ্গে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ জানিয়েছে, চারটি প্যাকেজের নির্মাণকাজের মাধ্যমে রাজধানীর গণপরিবহন অবকাঠামো সম্প্রসারণে অগ্রগতি হবে। একই সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান যাতায়াতের চাহিদা মোকাবিলা, যানজট কমানো এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাওগাতুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (ভারপ্রাপ্ত সচিব) কবির আহমদ। এ ছাড়া জাপান দূতাবাস, জাইকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
গাইবান্ধায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সূর্যোদয়ের সাথে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে দিনের কর্মসূচির সূচনা করা হয়, পরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ও দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত এবং জাতীয় ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
এরপর দুপুরে পৌরপার্কে জেলা যুবদলের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. মঈনুল হাসান সাদিক।
জেলা যুবদলের সভাপতি রাগিব হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ভুট্টুর সঞ্চলনায় আলোচনা সভা প্রধান বক্তা ছিলেন, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুল।
বিশেষ বক্তা ছিলেন, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম লিপন, সিনিয়র যুগ্ন- সাধারণ সম্পাদক আহমেদ সেকেতুর রব অনিক। এছাড়া জেলা যুবদল সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, যুবদলের ৪৮ বছরের ইতিহাস ও ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বক্তারা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভা শেষে ব্যানার-ফেস্টুনসহ একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপন নিয়ে আগের সিদ্ধান্ত সংশোধন করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা দ্বীপটিতে ভ্রমণের পাশাপাশি রাতেও থাকতে পারবেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ বিষয়ে সংশোধিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান বলেন, ‘নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি–মার্চে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে থাকা নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, সেখানে সংশোধন করা হয়েছে। এখন পুরো সময়ই পর্যটকেরা দ্বীপে থাকতে পারবেন।’
এর আগে, গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়। সেই সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রোববার মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে গত বছরের ২২ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা বহাল রাখা হয়েছিল।
সেই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় সেন্ট মার্টিনে যেতে পারবেন। একই দিন ফিরে আসতে হবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দ্বীপে রাতযাপনের সুযোগ থাকবে। ফলে এবার পর্যটকদের যাতায়াতের সময়সীমা বাড়লেও রাতযাপনের ক্ষেত্রে গত বছরের নিয়মই বহাল থাকছে বলে ধারণা তৈরি হয়। এটা নিয়ে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও জাহাজমালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে একটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর রাতযাপনের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। এবার সে বিষয়ে সংশোধিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগের মতোই কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
এবার দ্বীপে পর্যটক যাওয়ার দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে সাড়ে ৩ হাজার করা হয়েছে। প্রত্যেক পর্যটককে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে ১০০ টাকা।
এবারও সেন্ট মার্টিনে যেতে পর্যটকদের ট্রাভেল পাস নিতে হবে।