প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তার বাবা-মায়ের থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রংপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আবু সাঈদকে গণঅভ্যুত্থানের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা দূর করতে সরকার কাজ করছে। আবু সাঈদের আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতার জন্যও অনুপ্রেরণা। তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নামিয়েছিল, তা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
আবু সাঈদের বাড়ি ও কবরস্থানের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আবু সাঈদ গণঅভ্যুত্থানের বীর। আমরা আবু সাঈদকে ছড়িয়ে দিতে চাই। এক কোটি টাকার এই উন্নয়নকাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, স্বাস্থ্য কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান ও খেলাধুলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। কৃষকদের ভূমিহীন, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিবেচনা করে কার্ড দেওয়া হবে। এজন্য তদবিরের প্রয়োজন নেই ।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাসের প্রথম সপ্তাহে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালুর চিন্তা করছে সরকার। এর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে তেল-গ্যাসের বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য সরকার দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সাময়িক অসুবিধার কথা জানিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিরোধীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লংমার্চ করে কখনো সমস্যার সমাধান হবে না। আপনাদের কোনো সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলুন।’ একই সঙ্গে সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া রংপুর স্টেডিয়ামকে শহীদ আবু সাঈদের নামে করার আগ্রহের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম ইতোমধ্যে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
মেঘনা থানা, কুমিল্লা
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের নলচর গ্রামের বিএনপির দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৩০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক রবিউল্লাহ রবি সরকার ও বিএনপি নেতা আব্দুল বারেকের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। মঙ্গলবার ভোরে বারেক বাহিনীর লোকজন রবি সরকারের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রবি সরকারের লোকজন পাল্টা হামলা চালাতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে মেঘনা থানা ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ভোরে নলচর গ্রামের রবিউল্লাহ রবি ও বারেক প্রধানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয়পক্ষই ইট পাথর নিক্ষেপ করেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
মাত্র এক টাকার একটি বড়ি। দেখতে ছোট, গোলাকার। বাজার থেকে কিনে তাতে দেওয়া হয় লাল বা গোলাপি রঙের প্রলেপ। এরপর সেই বড়িই পরিচিত হয়ে ওঠে ‘ইয়াবা’ হিসেবে। দামও লাফ দিয়ে বেড়ে যায়—প্রতি পিস ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। তবে এটি কোনো ইয়াবা নয়। সস্তা ওষুধে রং করে ইয়াবার আদলে তৈরি করে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। অজানা ওষুধ সেবনে মাদকাসক্তদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর আইডি বাগানপাড়া রেললাইন এলাকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় বিভিন্ন ধরনের মাদক কেনাবেচা হয়। মাদকসেবীদের আনাগোনাও চোখে পড়ে।
এ ছাড়া নগরীর চন্দ্রিমা থানার বারো রাস্তা, বুধপাড়া, কোট ঢালান, গুড়িপাড়া, রাজশাহী নিউমার্কেট এলাকা, হরিপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় কৌশলে ইয়াবা এবং ইয়াবার আদলে ওষুধ বিক্রির চক্র গড়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্থানে চক্রগুলো প্রকৃত মাদকের পাশাপাশি ইয়াবার আদলে তৈরি রং করা মায়াবড়ি (জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি) ও ডুরালাক্স ট্যাবলেট (কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ) বিক্রি করছে। বিশেষ করে কম দামে মাদক পাওয়ার আশায় আসা অনেক তরুণ মাদকসেবী সেখানে ছুটে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ইয়াবার আদলে এসব রং করা ট্যাবলেট মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করা হয়। ট্যাবলেটের গায়ে লাল বা গোলাপি রঙের মার্কার বা সাইনপেনের কালি লাগিয়ে ইয়াবার মতো চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে প্রকৃত ইয়াবা বলে মাদকসেবীদের কাছে তা বিক্রি করা হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণ ও কোষ্ঠকাঠিন্যের এসব ওষুধেও মজেছেন মাদকসেবীরা।
নগরীর আইডি বাগানপাড়ায় গিয়ে রাফিউল ইসলাম নামে এক মাদকসেবীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ঘন ঘন অভিযানের ফলে অনেকে ইয়াবা বিক্রি করছে না। একজনের কাছ থেকে দুই পিস ‘মাল’ (ইয়াবা) নিয়েছিলেন ২৮০ টাকা পিস হিসেবে। পরে খাওয়ার সময় দেখেন, সেগুলো ওষুধ। কারণ, ওই ওষুধ খাওয়ার পর তার পায়খানার বেগ অনেক বেড়ে গিয়েছিল।
সামসুল ইসলাম নামে আরেকজনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ‘এটা ইয়াবার মতো রূপ দেওয়া হয়। কিন্তু এটা মায়া বড়ি রং করে বিক্রি হচ্ছে।’
এদিকে চিকিৎসকদের মতে, মায়াপিল (মায়াবড়ি) কোনো মাদক নয়; এটি একটি যৌগিক মুখে খাওয়ার জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি। মায়াপিলের প্রতি সাদা ট্যাবলেটে রয়েছে ইথিনাইল এস্ট্রাডিওল ০.০৩ মিলিগ্রাম ও লেভোনরজেস্ট্রেল ০.১৫ মিলিগ্রাম। আর বাদামি ট্যাবলেটে রয়েছে ফেরাস ফিউমারেট ৭৫ মিলিগ্রাম। অর্থাৎ ২৮টি বড়ির প্যাকেটে ২১টি হরমোনযুক্ত ও ৭টি আয়রন ট্যাবলেট থাকে।
মায়াপিলের প্রধান কাজ গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা। হরমোনের মাধ্যমে এটি মূলত ডিম্বস্ফোটন বন্ধ বা দমন করে এবং জরায়ুমুখের শ্লেষ্মায় পরিবর্তন এনে শুক্রাণুর প্রবেশ কঠিন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যেও মুখে খাওয়ার গর্ভনিরোধক বড়িকে গর্ভধারণ প্রতিরোধের স্বীকৃত পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এই ওষুধটি নারীর বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়, এখন সেটিই মাদকসেবীদের ইয়াবা বলে খাওয়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, ডুরালাক্স ৫ মিলিগ্রাম সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ওষুধ। এর কার্যকর উপাদান বিসাকোডিল। এটি একটি স্টিমুল্যান্ট ল্যাক্সেটিভ বা রেচক, যা মূলত কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। কিছু চিকিৎসা পরীক্ষা বা কোলনের পরীক্ষার আগে অন্ত্র পরিষ্কার করতেও বিসাকোডিল ব্যবহার করা হয়।
ডুরালাক্সের অতিরিক্ত বা দীর্ঘদিনের ব্যবহার বিপজ্জনক হতে পারে। অতিরিক্ত সেবনে ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা এবং শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি অতিরিক্ত ব্যবহারে পটাশিয়ামের মাত্রাও কমে যেতে পারে। আর এই ওষুধটি কোনো কারণ ছাড়া ইয়াবা হিসেবে মাদকসেবীরা গ্রহণ করছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শংকর কে বিশ্বাস জানান, ‘ইয়াবা একটি মাদকদ্রব্য। কিন্তু ডুরালাক্স ও মায়াবড়ি মাদক নয়। কিন্তু তারপরও এসব রং মিশিয়ে খেলে বা রোগ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে খেলে শরীরে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
অপরাধ বিশ্লেষক সুব্রত কুমার পালের মতে, সস্তা ওষুধ রং করে ইয়াবার আদলে বাজারজাত করার ঘটনা মাদক ব্যবসার নতুন ও উদ্বেগজনক কৌশল। প্রকৃত মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান জোরদার হলে কিছু অসাধু চক্র বিকল্প পদ্ধতিতে মাদকসেবীদের চাহিদা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।
এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র (উপ-পুলিশ কমিশনার) গাজিউর রহমান জানান, ‘শুধু ইয়াবা নয়, সব ধরনের মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগর পুলিশ মাদক বিক্রির আস্তানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং সেসব জায়গা থেকে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তবে মায়া বড়ি ও ডুরালাক্স ইয়াবার আদলে বিক্রি করার বিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, ‘ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। মাদককারবারিদের ওষুধ রং করে বিক্রি করা নতুন কৌশল হতে পারে। সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে মাদকের বিষয়ে তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ্ব হার্ট দিবস পালন
"হ্রদস্পন্দনের কোন মুহূর্তেই যেন হারিয়ে না যায়", হৃদয়কে ভালোবাসুন হৃদরোগ প্রতিরোধ করুন এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ব হার্ট দিবস পালিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেলছ হাসপাতালে আয়োজনে উক্ত দিবস পালিত হয়েছে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বক্তব্য দেন,২৫০শয্যার জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: ফিরোজ জামান জুয়েল, সহকারী পরিচালক ডা: জয়ন্ত কুমার সাহা, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মনজুরুল ইসলাম ফুয়াদ।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: রেজাউল করিম শিপলু, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা: অনুপম ঝাঁ সহ অন্যান্যরা।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতসহ ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপনির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম প্রাথিতা যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থীদের বৈধ ঘোষণা করেন।
বৈধ প্রার্থীরা হলেন, বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ১১ দলীয় ঐক্য-সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম, খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুল আলীম নিজামী, বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, পাঁচটি রাজনৈতিক দলের ছয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছিলেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সকল প্রার্থীকেই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনী অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকটি দলের প্রার্থী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলে মিলে প্রচেষ্টা থাকবে সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দেয়ার।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন জমাদানের শেষ দিন ছিল ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা। আজ ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলো। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৮ অক্টোবর। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সংসদ সদস্য মন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন তৎকালিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশিন।
নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী ২৫টি অভিযান চালিয়ে ৬৭ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। পরে তাদের মধ্যে ৬২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনের মধ্যে একজনকে ১৫১ ধারায়, একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার এবং তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে, সোমবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার বিভিন্ন থানায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানা, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ মডেল থানা, সেনবাগ, চাটখিল ও চরজব্বর থানায় আটক কিশোরদের মধ্যে যথাক্রমে ৭, ৭, ১৩, ১১, ১১ ও ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোনাইমুড়ী থানায় একজনকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার, একজনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার এবং দুজনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া কবিরহাট থানায় তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা রোধে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কসবা থানার দায়েরকৃত মামলা ও আসামী গ্রেফতার নিয়ে আদালত অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা তলব করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার বিচারিক স্বচ্ছতা নিরপেক্ষতা এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি জগনের আস্থা রক্ষার্থে উচ্চ পদস্থ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা দ্বারা তদন্ত আবশ্যক বলে আদালত মনে করেন।
জানা যায়, কসবা জি.আর ৩৯৩/২৬ নং মামলায় বিল্লাল হোসেন প্রকাশ কসাই মনির ও সুজন মিয়া নামে আসামীরা জেল হাজতে আটক রয়েছে। এর-ই মধ্যে তাদেরকে ংযড়ি অৎৎবংঃ দরখাস্ত গুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়।
এদিকে মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায় আসামী মনির, সুজন মিয়া ও মোঃ রুমন ভূইয়াকে গ্রেফতারের পর নিকট আত্মীয় হিসাবে তাদের সকলের পিতাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু ১৫/৯/২৬ইং আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালতের তারা নিবেদন করেন যে, তাদের পিতা ইতিমধ্যে মৃত্যু বরণ করেছে। বিষয়টি আদালতের নিকট সন্দেহজক প্রতিমান হয় এবং গ্রেফতারী পরোয়ানা স্মারক যথাযথ লিপিবদ্ধ না করায় তদন্ত কর্মকর্তা কাজী ছানোয়ার হোসেনকে আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নিদের্শ প্রদান করা হয়। এর প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করে এবং একই দিনে গ্রেফতারকৃত আসামী মনির, সুজন মিয়া ও রুমন ভূইয়াদের সংশোধনকৃত গ্রেফতারী স্বারক পুনরায় দাখিল করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিলকৃত ব্যাখায় উল্লেখ করেন যে, গ্রেফতারের পর আসামীরা এজাহারে বর্ণিত নাম ও ঠিকানা প্রদান করলেও তাদের পিতামৃত বা মৃত্যু বরণ করেছে সে বিষয়ে কোন তথ্য প্রদান করেনি। এখানে উল্লেখ থাকে য, জৌদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৪৬ এ ৪৬(অ) ধারায় বিধানমতে আসামী গ্রেফতারের পরপরই গ্রেফতারের স্মারক (গবসড়ৎধহফঁস ড়ভ অৎৎবংঃ) যথাযথ ভাবে পুরণ করতে হবে। শুধু তাই নহে উক্ত স্মারকের ১৩নং কলামে বর্ণিত বিধানমতে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবার/আত্মীয়/নিকটজন/ প্রতিবেশীকে জানানো হয়েছে কিনা(হ্যা/না) তা সঠিক ভাবে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ অত্র মামলায় ৩ আসামীর মৃত পিতাদেরকে আসামী গ্রেফতারের বিষয় জানানো হয়েছে মর্মে নথিতে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করে সংশোধনকৃত গ্রেফতারী স্মারক পুনরায় দাখিল করে।
সেখানে তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্যাখ্যায় উল্লেখ্য করেন যে, আসামীরা নাম ও ঠিকানা প্রদান করলেও তাদের পিতা মৃত বা মৃত্যু বরণ করেছে সে বিষয়ে কোন তথ্য প্রদান করেনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার গুরুতর ও অস্বাভাবিক ক্রটি নথিপত্রে দৃশ্যমান হওয়ায় এজাহারের সত্যতা ও পুলিশের গ্রেফতার প্রক্রিয়া সর্ম্পকে আদালতের মনে বস্তুনিষ্ট সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
মামলার নথি থেকে আরো জানা যায়, যে, তালতলা চৌরাস্তা পয়েন্টটি দীর্ঘদিন ধরে ভারত সীমান্তবর্তী অবৈধ পণ্য ও মাদকের বড় চালান পরিবহনের কৌশলগত রুট হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত হিসাবে অভিযুক্ত বাদশাহ জুয়েল এবং কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদের পরোক্ষ যোগ সাজশে পুর্বতন সিন্ডিকেডের অংশীদারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সরিয়ে দিয়ে ওই রুটের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই সাজানো মামলা তৈরী করা হয়েছে।
এই অবস্থায় বিচারিক স্বচ্ছতা নিরপেক্ষতা এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগনের আস্থা রক্ষার্থে উচ্চ পদস্থ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা দ্বারা তদন্ত আবশ্যক বলে আদালত মনে করেন।
আদালতের আদেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার নিচে নন এমন একজন দক্ষ ও নিরপেক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগের কথা বলা হয়।
বিষয়টি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্বরাস্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, ডিআইজি চট্টগ্রাম রেঞ্জকে প্রেরন করা হয়েছে। একই সাথে পুলিশ সুপার ব্রাহ্মণবাড়িয়া অফিসার ইনচার্জ কসবা থানা,এস আই/(নিরস্ত্র) কাজী ছানোয়ার হোসেনকে অবগত করা হয়েছে।
এব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আব্দুর রউফ এর মোবাইল ০১৩২০-১১৪৯০০ এ যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেনি। কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ এর মোবাইল-০১৩২০-১১৫১৩৭ এ যোগাযোগ করে জানতে চাইলে তিনি কিছু জানেনা বলে জানান। তবে মামলা নম্বর হোয়াটএ্যাপে পাঠানো কথা বলে ফোন রেখে দেন। মামলার তদন্তকারী অফিসার এর ফোন নং-০১৭১৮-৬৪২৮৮৩ যোগাযোগ করে বক্তব্যে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি আদালতকে ব্যাখ্যা দিয়েছি এবং বিষয়টি মামলার বাদী পুরণ করার কথা, এটি তার বিষয় নয়। আমি ওসি স্যারের সাথে মিটিং এ রয়েছি বলে ফোন রেখে দেন।