স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে ইউএনও এবং ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা’য় কথা বলেন। ছবি: বাসস

  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২১ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে শুধু ঘোষণা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকেননি। ইতোমধ্যে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনের ছাদে সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে ১ হাজার ইউনিট নিজে ব্যবহার করেছেন এবং জাতীয় গ্রিডে ১২শ’ ইউনিট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।


তিনি বলেন, গত তিন দিনে এই পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সমবায় ভবন থেকে শুরু করে সকল জাতীয় ভবনের ছাদ ব্যবহার করে নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সরকারকে সৌর বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যবসা হিসেবে দেখার কথাও বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।

 

আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে দেশের সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা’য় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।


দুর্গাপূজা সামনে রেখে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলার ঝুঁকির বাপারে মাঠপর্যায়ে ইউএনওদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া যাবে না।


এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে ইউএনওদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সরকার।’


প্রতিমন্ত্রী ইউএনওদের উদ্দেশে বলেন, এলাকার গরিব মানুষ ইউএনওর কাছে হাত পাতে। প্রত্যেক ইউএনওর জন্য ঐচ্ছিক ফান্ড দেওয়া জরুরি। এতে গরিবদের তাৎক্ষণিক ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া যায়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই অর্থের জোগান না দিতে পারলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় রাজস্ব আয় থেকে বরাদ্দ দেওয়ার আয়োজন করবে। বিদ্যুতের নেট মিটারিং পদ্ধতি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে বসে ফয়সালা করার কথাও বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে ইউএনওদের তত্ত্বাবধানে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম মুয়াজ্জিন কার্ড, খাল খননসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ সরাসরি তদারকি করছেন। প্রতিবছর ডিসি সম্মেলনের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বার্ষিক সম্মেলন হলে সরাসরি উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব।


বিএনপি সরকার জনগণের সরকার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম । তিনি বলেন, স্বৈরাচার আমলে সরকারের নির্দেশনা মানতে গিয়ে অনেক কর্মকর্তাই নিজেদের চাকরি হারিয়েছেন; কিন্তু বিএনপি সরকার কাউকে বলবে না— দিনের ভোট রাতে করতে, ডামি নির্বাচন করতে।


তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। মিরপুরের ঘটনায় উত্তরের কমিটি বাতিল করা হয়েছে, সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়, এমপির ব্যক্তিগত দায় সরকার নেবে না। এছাড়া নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।




পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৮ পিএম

পবিত্র মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশের কোনো আপস নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তায় সৌদি আরবকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত বিনিয়োগ। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার শ্রমবাজার। দেশটিতে দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে আগ্রহী বাংলাদেশ।


তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হবে বিশ্বাস ও আস্থা। বাংলাদেশ অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না, বরং বিনিয়োগের অংশীদার হতে চায়। দেশে বিনিয়োগের জন্য স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে ঢাকা।


শান্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকলে মক্কায় যোগ দেয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তিনি। এদিকে, আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সফরে বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪০ পিএম

ঢাকা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে শুরুর আগমুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।


এদিকে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সাতমসজিদ সড়ক অবরোধ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক জাহিদুল করিম বলেন, তাঁরা বলেছেন শুরুর আগমুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত করায় তাঁরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।


জাহিদুল করিম আরও জানান, বেলা সোয়া ১১টার দিকে সাতমসজিদ সড়ক ও সাড়ে ১১টার দিকে মানিক মিয়া সড়কে তিনি এ অবরোধ দেখেন।


রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গালর্স কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, শুরুর মিনিটখানেক আগে পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তাঁরা শুনেছেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তাঁর বাড়ি সিলেট।


আরেকজন বলেন, প্রশ্নপত্র দেওয়ার সময় শিক্ষকেরা বললেন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে তাই বাতিল।


পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে।


যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-৫) মো. মাজহারুল হক বেলা সোয়া একটার দিকে বলেন, ‘পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হবে।’


আজ বেলা ১১টায় অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।


২৪২টি পদের এ পরীক্ষায় রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। তবে পরীক্ষার আগের রাতে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে স্ট্যাটাসও দেন।


যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশাসন উইংয়ের পরিচালক ডি এম আতিকুর রহমান বলেন, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখার পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের মিল পাওয়া গেছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুরোটা তো দেয়নি, যতটুকু দিয়েছে মিল পাওয়া গেছে।’


  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ এএম
  • আপডেট : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৯ পিএম


শুভ মহালয়া

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ এএম

প্রচলিত নিয়মে দুর্গাপূজা মূলত মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে উদযাপিত হয়। তবে পঞ্জিকার বিশেষ গণনা ও তিথির মারপ্যাঁচে এ বছর শারদীয় দুর্গাপূজা এক দিন বেড়ে চলবে ছয় দিন ধরে। মহাসপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় পূজার দিনসংখ্যা বাড়ার এমন ঘটনা বিরল। 


এর ওপর এবার সরকারি ছুটিও বেড়েছে এক দিন। শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে উৎসবের আমেজ। সাড়ম্বরে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। সারাদেশের মণ্ডপ, মন্দিরে নির্মীয়মাণ প্রতিমায় মাটির প্রলেপের ওপর রঙের শেষ আঁচড় চলছে। প্যান্ডেল আর সাজসজ্জার কাজও এগিয়েছে অনেকটাই। 


হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবের সূচনা ঘটবে আগামী ১৬ অক্টোবর, চলবে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। এর আগে আজ শনিবার দুর্গাদেবীর আবাহন তথা মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীর আরাধনা।

 

মহালয়ার সাত দিন পর আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে সন্ধ্যায় দশভুজা দেবী দুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আর ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব। 


বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন থাকছে, যা গতবার ছিল ২৬১টি। রাস্তার মধ্যে পূজা আয়োজনের অনুমতি না মেলায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা ৩টি কমেছে। 


আজ দেবীকে মর্ত্যালোকে আমন্ত্রণ


শুভ মহালয়া আজ। দেবীর আরাধনা সূচিত হয় মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমে। চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে মর্ত্যালোকে আমন্ত্রণ জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। মূলত দুর্গাপূজার ক্ষণ গণনাও শুরু হবে আজ থেকে। 


হিন্দু ধর্মমতে, মহালয়ায় দেব-দেবীকুল দুর্গাপূজার জন্য নিজেদের জাগ্রত করেন। এদিন অতি প্রত্যুষে মন্দিরে মন্দিরে চণ্ডীপাঠের মধ্যদিয়ে দেবীকে আবাহন করা হয়। ভক্তরা গঙ্গাতীরে তাদের মৃত আত্মীয়-পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার সদ্গতি প্রার্থনা করে তর্পণ করেন। 


সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস সরকার ও প্রশাসনের 


সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গাপূজাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও বৈঠক করে নিরাপত্তার কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। ঢাকাসহ সারাদেশে আজ ভোরে মহালয়ার অনুষ্ঠান শুরু থেকে  দুর্গাপূজার ছয় দিনই কঠোর নিরাপত্তা দেওয়া হবে। 


বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সরকার, প্রশাসন এবং দেশবাসীর সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা শেষ করতে পারব।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৬ পিএম

মানসিক অসুস্থতাকে ঘিরে থাকা ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল ১০ অক্টোবর (শনিবার) ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘দৃশ্যত স্বাস্থ্যবান অথবা নীরোগ থাকাটাই স্বাস্থ্য নয়, বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার নামই স্বাস্থ্য।


সুতরাং, কোনোভাবেই মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।


বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।


কাউকে তার মানসিক সমস্যার জন্য অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন না করে তার কথা শুনতে হবে, পাশে দাঁড়াতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার পথ সহজ করতে হবে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Lived experiences heard: real voices, real change’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, যারা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করছেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা এবং সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করাই প্রকৃত পরিবর্তনের পূর্বশর্ত।


বাণীতে প্রধানমন্ত্রী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, প্রান্তিক মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা, টেলি-কাউন্সেলিং সম্প্রসারণ, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সরকারি হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে।


পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য, শিশু-কিশোরদের সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তরিকতার সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে মানুষের কথা শুনুন, সহমর্মিতার সঙ্গে পাশে দাঁড়ান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকুন।’


একটি কল্যাণমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সরকার, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বোধ করবে না, সহায়তা চাইতে কেউ লজ্জিত হবে না কিংবা নিজেকে একা বা অবহেলিত মনে করবে না।’


বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও বিশ্বের সব মানুষের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন এবং বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬-এর সাফল্য কামনা করেন। 


সূত্র: বাসস


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:২৮ পিএম

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে একজন, চট্টগ্রামে একজন ও সিলেটে বিভাগে একজন রয়েছে। এ সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৪৯ জন। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ দুই হাজার ৮৯৩ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৯৭ জনে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গে ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৭০৫ জন।



  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম
  • আপডেট : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৩ পিএম

আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঢাকার দুটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া দুই মাসের মধ্যে ৩২টি রুটের ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করা হবে। পুরো ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে ছয় মাসের মধ্যে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।


বাস রুট রেশনালাইজেশনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বাস মালিক সমিতিকে।


নতুন এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলবে। গাড়ির ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি তারাই নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া কাউন্টারভিত্তিক যাত্রীসেবা, ই-টিকিটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিংয়েরও পরিকল্পনা রয়েছে।


সভায় ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে ৯৮টি সচল রয়েছে। এসব রুটে ৬৬টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাস চলছে। এগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে ৩২টি রুট করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিটিসিএ।


ডিটিসিএ জানায়, এক রুটে একাধিক কোম্পানি ও ব্যক্তি মালিকানার বাস চলায় যাত্রী তোলার অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। ফিটনেসবিহীন ও পুরোনো বাসগুলো যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে। প্রতিটি রুটে একটি কোম্পানি থাকলে এ ধরনের প্রতিযোগিতা কমবে এবং শৃঙ্খলা ফিরবে।


সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি বাস কোম্পানিগুলোর মালিক ও সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা এবং ফিটনেস ও আইন মানার বিষয়ে অপারেটরদের দায়িত্বের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।


তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, দুই মাসের মধ্যে প্রস্তাবিত ৩২টি রুটে বাস চলাচল শুরু করা সম্ভব। আর ছয় মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত ফ্র্যাঞ্চাইজি সেবা চালু হতে পারে। তবে সভার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুই মাসের মধ্যে ৩২টি রুটের ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ধারণ করতে হবে।


যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বাস মালিকদের দুই মাসের মধ্যে সব বাসের মেরামত, বডিবিল্ডিং ও রং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


ঢাকায় চালানোর জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ইলেকট্রিক বাস কিনছে। প্রাথমিকভাবে এগুলো চালাতে আটটি রুটের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিআরটিসি ও বাস মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে ডিটিসিএ রুট নির্ধারণ করবে।