মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোকঃ রাষ্ট্রপতি

ঠাকুরগাঁওয়য়ে খুব শিগগিরই বিমান বন্দর চালু করে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৯ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঠাকুরগাঁওয়য়ে খুব শিগগিরই বিমান বন্দর চালু করে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা গড়ে তোলা হবে।


তিনি আরোও বলেন, বিমানবন্দর আপনারা চাইছিলেন, আমি রাজি হয়েছি আপনাদের কথায়। বিমানবন্দর হলে আমাদের সাধারণ মানুষ খুব একটা উপকৃত হবে তা নয়, কিন্তু যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন তাদের জন্য সহজ হবে। কিন্তু বিমানবন্দরটাকে যদি চালু করতে হয়, ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে আমাদের এখানে কলকারখানা বাড়াতে হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে কলকারখানা, ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি একদম নেই। মানুষের কাজ নেই। এই কাজের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সরকারে আসার পরপরই আমরা এখানে অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলাম, তিনি পুরো জায়গাটা দেখেছেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীও এসেছিলেন, তিনিও সব ঘুরে দেখেছেন। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য কিছু বিনিয়োগকারীকে এখানে নিয়ে আসতে সক্ষম হব।


আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 


রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছিলেন। তিনি আপনাদের সামনে কতগুলো কথা দিয়েছিলেন। আমরা যে দাবিগুলো রেখেছিলাম, তার মধ্যে ছিল আমাদের একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হয়ে গেছে, ভাইস চ্যান্সেলর বসে আছেন, সামনে এখন শিক্ষক নেবে। জমির টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। কালকে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। সেখানে আপনাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া, উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারবে। এখানে মেডিকেল কলেজের কথা বলেছিলাম, আমাদের মনে আছে। আপনাদের মেডিকেল কলেজ হয়েছে, জায়গাও ঠিক হয়ে গেছে, আগামী বছর থেকে ইনশাআল্লাহ ছাত্রভর্তি শুরু হবে। আমাদের ভূল্লী ও রুহিয়ার দুইটা আলাদা উপজেলা করার দাবি ছিল আপনাদের, দুটোই হয়ে গেছে, ইউএনও যোগ দিয়েছেন এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে।

 

চীনের সঙ্গে সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, আমরা এখানে চীনের রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে এসেছিলাম। এই স্টেডিয়ামে তিনি প্রায় ছয় হাজার শিশুকে স্কুলব্যাগ দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে দশজন ছাত্র ও পাঁচজন শিক্ষককে চীনে ঘুরিয়ে দেখিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এখানে কলকারখানা তৈরির জন্য চীন থেকেও বিশেষজ্ঞরা আসবেন।


রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ খুব নির্ঝঞ্ঝাট। এখানে মামলা-মোকদ্দমা সবচেয়ে কম হয় এবং সবাই নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে চায়। আমরা এই অবস্থাটা রাখতে চাই। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে বলব, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু কখনো সংঘাতে জড়াবেন না। অতীতে আমরা দেখেছি, ঠাকুরগাঁওয়ে আমাদের গণতন্ত্রকামী মানুষদের ওপর কী অকথ্য নির্যাতন হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শত শত-হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় আমাদের শ্রমিক-কৃষকদের অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সেই সময়টা পার হয়ে এসেছি।


তিনি আরও বলেন, প্রিয় ঠাকুরগাঁওবাসী, আমি সেসব কথা বলে আপনাদের ভারাক্রান্ত করতে চাই না। আমরা অনেক ত্যাগ ও রক্তপাতের বিনিময়ে আজ এখানে এসেছি। কিছুক্ষণ আগে দেখলেন, কয়েকজন মহিলা এসে সহযোগিতা নিয়ে গেলেন, তাদের সকলেরই সন্তান এই সংগ্রামে নিহত হয়েছে। এ রকম মৃত্যু, এই রক্তপাত আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই না যেখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়। আমরা দেখতে চাই সবাই একসঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার নিয়ে বসবাস করুক।


মঞ্চে উপস্থিত অন্য দুই রাজনৈতিক নেতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আজ দুলু সাহেব আছেন, তার জেলা লালমনিরহাট, তিনি সেখানে চমৎকার একটা পরিবেশ তৈরি করেছেন। আমাদের পাশের জেলার মন্ত্রী ফরহাদ আজাদ সাহেবও আছেন, তিনিও পঞ্চগড়কে একটি আলোকিত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। আমার অনুরোধ থাকবে, কোনো হানাহানি নয়, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই আমরা রাজনীতি করব। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সহিষ্ণুতা।


মন্ত্রী থাকাকালে নেওয়া উদ্যোগের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, তখন এই এলাকায় মাদরাসা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭২ কোটি টাকার সহযোগিতা করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে একটি স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি হবে, উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে, জেলায় আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি ইনশাআল্লাহ আমরা চালু করতে সক্ষম হবো। বরেন্দ্র মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সের মাধ্যমে আমরা এখানে কৃষির উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছি। গোবিন্দপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক নতুন করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে।


প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই পত্রিকায় দেখেছেন, মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১০ হাজার লোক নেওয়া হবে, তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে লোকজন একেবারে বিনা খরচে যেতে পারবে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফ সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁও থেকেই এটা শুরু করবেন। তবে আমার একটা অনুরোধ, নিজের পায়ে নিজে না দাঁড়ালে কেউ দাঁড়াতে পারে না। শুধু চাকরি আর ঠিকাদারির পেছনে দৌড়াবেন না, নিজেরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার চেষ্টা করুন।


তরুণ সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও, মাদককে বর্জন করো। লালমনিরহাটের মতো আমাদের ঠাকুরগাঁওকেও একটি মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করার জন্য কাজ শুরু করো। আমি জেলা প্রশাসককে বলেছি, অন্য সংসদ সদস্যদেরও বলব এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে। ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ, আপনারা একতাবদ্ধ হয়ে আরও বেশি বিনিয়োগ কীভাবে করা যায়, সেই চেষ্টা শুরু করুন। আমি যেখানেই থাকি, আপনাদের সর্বতোভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা অবশ্যই করব।


সর্বসাধারণের জন্য বলেছেন মনে করবেন না যে আমি আপনাদের কাছ থেকে দূরে চলে গেছি। আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, আপনাদের সঙ্গেই থাকবো।


রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার জন্ম এখানে, আমার শৈশব কেটেছে এখানে, আমার স্কুলজীবন এখানে। আমার শিক্ষকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা আমাকে মানুষ করেছেন। আমি রুস্তম আলী স্যার ও খান ইউসুফ স্যারকে ভুলতে পারি না, তারা আমাকে গড়ে তুলেছেন, চলতে শিখিয়েছেন, সততা ও নেতৃত্ব শিখিয়েছেন। এই জিনিসগুলো আমি কখনো ভুলতে পারবো না। আসুন এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমাদের সকলের মধ্যে ঐক্য থাকবে, ভালোবাসা থাকবে। ৫ আগস্টের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটা ছোট্ট বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, আমরা অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তপাতের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটা সুযোগ পেয়েছি। আসুন, আমরা সংঘাত নয়, প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমরা সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।


রাষ্ট্রপতি বলেন, আজ আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তা আমি কখনোই শোধ করতে পারবো না। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করি যে, তিনি আমাকে আজ এমন একটা জায়গায় নিয়ে এসেছেন, যেখানে আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে পারব। আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে সেই তৌফিক দেন, যাতে জীবনের বিনিময়ে হলেও আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কাজ করে যেতে পারি।


শেষে ঠাকুরগাঁওবাসীর শান্তি, সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে তিনি বলেন, ‘মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক।’




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২৬ এএম

সড়কে ‘শৃঙ্খলা ফেরানোর’ চেষ্টার অংশ হিসেবে ই-রিকশা নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দিয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।


ডিএসসিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ই-রিকশার নিবন্ধনে মঙ্গলবার থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।


সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ অনুসরণ করে এ নিবন্ধন পরিচালিত হচ্ছে।আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র


নিবন্ধনের আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। 

নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে আবেদনপত্রের সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ, নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট।

ডিএসসিসির ঘোষণা অনুযায়ী, আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা ও কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক।


এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ ও ই-রিক্সার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন। ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; সব মানদণ্ডে উত্তীর্ণ বাহনকেই সনদ দেওয়া হবে।


ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ)। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৪ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ) উদ্ধার করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।


৪২ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বাশালগাঁও বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।


উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালানিদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত টহল ও নজরদারীর পাশাপাশি অপরাধী চক্রের গতিবিধি এবং তাদের ব্যবহৃত কৌশল শনাক্তে কাজ করছে। সীমান্তের যেকোনো স্থানে সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, বিজিবির লক্ষ্য শুধু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্রের তৎপরতা বন্ধ করাও। এ লক্ষ্যে সীমান্তজুড়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছেন।

নেপথ্যের কারণ এডিসিকে অপসারণ না করা

সাতক্ষীরায় আইনজীবীদের পুনরায় কঠোর হুঁশিয়ারি


সভার আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ পিএম

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন কুমার বিশ্বাস কর্তৃক সাধারণ আইনজীবীদের লাঞ্ছিত ও পেশাগত দায়িত্বে অবজ্ঞা করার অভিযোগ তুলে দ্রুত অপসারণ ও ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির দুই নম্বর বিল্ডিংয়ের নিচ তালায় জরুরি তলবী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ ২রা নভেম্বর সোমবার  দুপুরে এ সভার আয়োজন করে আইনজীবীরা।


অনুষ্ঠানে অ্যাড. শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র বল্লভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির বর্তমান সদস্য সচিব হালহাজ অ্যাড. মোঃ নুরুল আমিন।


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন— মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সাতক্ষীরার  দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসনের সচিব সহ দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা শাখা থেকে সকল সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে ইতিমধ্যে এডিসি রিপন বিশ্বাসের ঘুষ-দুর্নীতি সহ সাবেক ছাত্রলীগ ক্যাডার থাকার তথ্য জানানো হয়েছে। তাছাড়া ইতিপূর্বে সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির ১০ আইনজীবীকে হুমকি প্রদান সহ  এডিএম কোর্টে থাকাকালিন তিন তিনবার কোর্ট বর্জনও করার অভিযোগ রয়েছে।


তাছাড়াও সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. আকরাম আলীকে টাই ধরে চড় ও কিল-ঘুসির মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়েও তিনি বহাল তবিয়তে কর্মরত কিভাবে থাকেন তা নিয়ে আমরা রীতিমতো অবাক হচ্ছি। ঐ ঘটনায় মিমাংসার জন্য সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির  সদস্য সচিব অ্যাড. নুরুল আমিন তার সাথে সাক্ষাৎ করলে তাকেও রুমে এক ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন এডিসি রিপন বিশ্বাস।


একজন ছাত্রলীগ ক্যাডার হয়েও তিনি এতো ক্ষমতা কোথা থেকে পান এবং তা আইনজীবীদের সঙ্গে প্রয়োগ করেন তা নিয়ে রীতিমত আমরা বিস্মিত। তার এসকল অভিযোগে ইতিপর্বে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে ৪৮ ঘন্টা আল্টিমেটাম দিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের পর আবারো আজ অপসারণের দাবিতে জরুরী ভিত্তিতে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। তাকে দ্রুত অপসারণ করা না হলে অনতিবিলম্বে আমরা লাগাতার কর্মসূচি পালন করবো বলে সকলের সম্মতি প্রদান সহ কঠোর হুঁশিয়ারি দেন উপস্থিত আইনজীবীরা।


এ সময় অনুষ্ঠানে অ্যাড. গোবিন্দ চন্দ্র, অ্যাড. নুরুল আমিন, অ্যাড. শাহরিয়ার আসিফ, অ্যাড. সোহরাব হোসেন সুজন, অ্যাড. স্বপন কুমার মন্ডল, অ্যাড. ইসলাম খোকন, অ্যাড. হিরা সহ প্রায় ২০০শ আইনজীবী এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৭ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ এএম


চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া।

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৭ পিএম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১০নং হবিরবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া। এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তাঁদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন ভাবনা জানার পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি তুলে ধরছেন তিনি।


হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময় সহযোগিতা করে থাকেন তিনি। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করছেন জিয়া। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এলাকার নাগরিকসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সমস্যার বিষয়ে তাঁদের মতামত জানার চেষ্টা করছেন তিনি।


শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হবিরবাড়ী ইউনিয়নে উন্নয়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি নাগরিকসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পাঞ্চলের উপযোগী সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশার ক্ষেত্রেও নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, এলাকার সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সহজে যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি জনপ্রতিনিধিকে জানাতে পারেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে তাঁদের মতামত প্রতিফলিত হয় এমন একটি জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রত্যাশিত।


সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে চান তিনি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।


হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “হবিরবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ নির্বাচিত করলে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং সাধ্যমতো সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া।”


তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নকে শুধু রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।


স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন জিয়াউর রহমান জিয়া। তাঁর এই গণসংযোগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক তৎপরতারই অংশ। তবে দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।


এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনে যিনিই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন, তিনি যেন দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেন এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নাগরিকসেবা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।


  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫২ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ৩ টা ৪৫ ঘটিকায় দিকে এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে,বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন।এ সময় তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।পরে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে ও জামায়াত নেতা খাজা আহামেদের ক্যাডার বলে জানা গেছে।


ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী,মোটরসাইকেলটি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের।


এ বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।


দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ করছে।ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৯ পিএম

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অবদান স্মরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা সিলেটে উচ্চশিক্ষা ও কৃষিশিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।




রিজভী বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় এম. সাইফুর রহমানের অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কৃষির উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সমন্বিত কৃষিনীতি থাকলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হবে। কৃষি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি।


তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নে উৎপাদন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষকের জীবনমানকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের পতিত জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনতে হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।


তিনি আরও বলেন, উর্বর কৃষিজমি রক্ষা করা জরুরি। উন্নয়ন পরিকল্পনায় পতিত বা কম উৎপাদন শীল জমি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।


কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে রিজভী বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে প্রকৃত কৃষকেরা সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।



এর আগে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন করা হয়। কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজনও ছিল। পরে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার।


বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।


এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদারসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।


প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের মূল ভিত্তি। কৃষির আধুনিকায়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।


তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।