শহরের ছিলিমপুরে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:১৫ এএম

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-৬ সদর আসনের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। 


তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বলছেন— বিএনপির ঘাঁটি বগুড়া, সামনে ভোটের মাধ্যমে দেখিয়ে দেন বগুড়া সত্যিকারে বিএনপির ঘাঁটি। এই ঘাঁটি রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের।


আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি শহরের ছিলিমপুর এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আরও বলেন, বগুড়ার সাতটি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী করতে আপনার পরিশ্রম করতে হবে। মানুষের কাছে যেতে হবে। আমি কেন থাকতে হবে— আপনারই বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে ভোট করবেন; এটা আপনাদের দায়িত্ব। ছোট ছোট গ্রুপ করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাবেন। মানুষকে বোঝাবেন— বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আবার আগের মতো বগুড়ার উন্নয়ন হবে, সারা দেশের উন্নয়ন হবে।


তিনি আরও বলেন, আপনাদের ম্যাডামের জন্য যেভাবে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিলেন, এই নির্বাচনেও ৭টি আসনে সেভাবে বিজয়ী করবেন।


তারেক রহমান বলেন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করবো। এক সাথে দেশের ও দেশের মানুষের উন্নয়ন করবো।


জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান, জেলা বিএনপি নেতা আলী আজগর তালুকদার হেনা, কে এম খায়রুল বাসার, সহিদুন নবী সালাম, হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, জিয়া অলি, মাফতুন আহমেদ রুবেল প্রমুখ ছিলেন।


হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিশ্বের মুসলমানরা আল্লাহ পাকের অলি মনে করতেন। তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, সৎ এবং সত্যবাদী।


এর পর সিরাজগঞ্জ যাওয়ার পথে তারেক রহমান বগুড়া-৭ আসনের শাহজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়ায় পথ সভায় বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি আসনের বিএনপির প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের জন্য ভোট চেয়ে বলেন, মিল্টনের মাধ্যমে আপনাদের এলাকার উন্নয়ন করা হবে। আপনাদের সামনে বেশি কথা বলতে পারছি না। আপনারা ঘরের মানুষ হয়ে যদি বেশি সময় নেন; তাহলে অন্য জেলার মানুষের জন্য কেমনে সময় পাবো।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পল্লী চিকিৎসক সমিতির নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ বিন শফিকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় সমিতির পক্ষ থেকে নবাগত ইউএনওকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।


আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয় রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির কর্মকর্তা বৃন্দ নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে এ সৌজন্য সাক্ষাত করেন। 


রূপগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ওমর শাহজাদা শাহাদাত, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম আজহার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ ওমর, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক সোহেল রানা, প্রচার সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, সহপ্রচার সম্পাদক তুষার আহমেদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আসমা আক্তার ঝুলি এবং চিকিৎসাবিষয়ক সম্পাদক ডালিম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সমিতির নির্বাহী সদস্য শাওন আহমেদ ও শামীম আহমেদসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সমিতির নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি রূপগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।


এ সময় সমিতির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তাঁরা জনস্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারবেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৯ পিএম

নাটোর-১, (লালপুর - বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, তিনি হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান কোন ভেদাভেদ না রেখে কেবলমাত্র সবাইকে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচিতি দেওয়ার জন্য এবং তাদের প্রত্যেকটি অধিকারকে সমুন্নত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।


আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নাটোরের লালপুরে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ৪৬টি মন্দিরে জিআর চালের ডিও প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


এ সময় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, আগামী বছর সারা বাংলাদেশের মন্দির গুলো এমন পর্যায়ে পৌঁছে যাবে আপনারা নিজেরাই স্বাবলম্বী হয়ে মন্দির পরিচালনা এবং নিজেদের পুজো অনেক চমৎকার ভাবে উদযাপন করতে পারেন সে ব্যবস্থা আমরা করবো। 


সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এই বাংলাদেশ এখন আর কেউ আপনাদের সংখ্যালঘু বলতে পারবে না, আমি এখন একটি মসজিদে যেমন অনুদান দেই সাথে সাথে একটি মন্দিরের জন্যও অনুদান দেই।


এ সময় অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু ও হামিদুর রহমান বাবু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ রঞ্জু, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫১ পিএম

নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে টেবিলে মাথা রেখে রাজিয়া সুলতানা নামক এক শিক্ষিকার ঘুমানোর অভিযোগ উঠেছে।


সম্প্রতি এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।




ঘটনাটি ঘটেছে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গতকাল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা একটি টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো অবস্থান করছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।


কয়েকজন সাংবাদিক বিদ্যালয়ে গেলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। তারা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মিনিট শ্রেণিকক্ষের সামনে অবস্থান করেন। এ সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের হৈচৈ ও চিৎকারের একপর্যায়ে শিক্ষিকার ঘুম ভাঙ্গে।


বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ক্লাস চলাকালে এভাবে ঘুমানো উচিত হয়নি। ক্লাস চলছিল, অথচ তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। শিক্ষার্থীরাও তখন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিল। তিনি দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলার সময় একজন শিক্ষকের এভাবে ঘুমিয়ে পড়া স্বাভাবিক বিষয় নয়।


ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিশুদের নিয়মিত পাঠদান ও সঠিক পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যাশায় তারা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠান। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ঘুমিয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।


এদিকে, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষিকা মমতা বেগম বলেন,এই শিক্ষিকা এর আগে যেখানে চাকুরী করতেন সেখানে একই কাজ করতে, বিভিন্ন শিক্ষক ও শিক্ষিকার সাথে ঝগড়া,তর্ক করতেন বলে জানিয়েছেন। বারবার শর্তক করার পরেও কোন ভাবে তিনি আমাদের কথা শুনতে রাজি না। তিনি আরো জানান জলঢাকা উপজেলার শিক্ষা অফিসার স্যার এর আগেও শর্তক করেছিলেন ১৪ দিনের কিন্তু ওনার কোন পরির্বতন নেই।


ক্লাস চলাকালে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়ে আর একজন শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাজিয়া সুলতানা সব সময় আমাদের তিন জন শিক্ষকের সাথে ঝগড়া ঝাটি করেন, স্কুলের কাছে বাসা কিছুক্ষণ পরপর ক্লাস না করে বাসায় যান, এই বিষয়ে বার বার বলার পরেও তিনি তার ইচ্ছা মতো চলেন।


এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ক্লাসে ঘুমানোর কোনো নিয়ম নেই। কোনো শিক্ষক অসুস্থ হলে তিনি ছুটি নিতে পারেন। ভালো না লাগলেও প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে ছুটি নেওয়া যায়। অথচ তিনি সেটা না করে ক্লাসে ঘুমিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌসি হ্যাপি বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের এই ধরনের আচরণকে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক পরিপন্থী হিসেবে দেখেন।বিষয়টি আমরা তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৯ পিএম

শারদীয় দুর্গোৎসবে আগামী ২০ অক্টোবর ধর্মসভা মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে কুশল বিনিময় করবেন তিনি। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী ও চট্টগ্রামে আরও দুটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন।


আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার মোঃ উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত সফরসূচিতে এ তথ্য জানানো হয়।  


এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকেও সফর সফল করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি অনুযায়ী একটি রাম গোবিন্দ মন্দির (রংপুর ধর্মসভা) পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। তবে তার পরিদর্শনের জন্য রাম গোবিন্দ মন্দির ছাড়াও শ্রী শ্রী করুণাময়ী কালীবাড়ী মন্দির ও গুপ্তপাড়া মন্দির প্রস্তুত করা হচ্ছে।


সফর সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে সেখান থেকে রওনা দেবেন। বেলা ১১টার দিকে তিনি রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি আবার সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে রাজশাহী এবং রাজশাহী থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।


প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এ্যাড. মাহফুজ উন-নবী চৌধুরী ডন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে এখানকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে সেই সা‌থে দলীয়ভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দেশের মধ্যে এটি একটি বিরল ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে যে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বাইরে শারদীয় উৎসবে পূজামণ্ডপ দেখতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আসছেন।


উল্লেখ্য; রংপুরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ একটি মিলনকেন্দ্র রাম গোবিন্দ মন্দির। এটি রংপুর ধর্মসভা মন্দির নামেও পরিচিত। এই মন্দির কেবল একটি উপাসনালয় নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, সভা-সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৯ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৯ এএম


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৯ পিএম

​নীলফামারীর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগুলোতে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির ব্যাপক প্রসারে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন বিচারপ্রার্থীরা। বিশেষ করে মাদক ও চুরির মতো অপরাধমূলক মামলায় এই পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসামিকে সাজা প্রদান করা হয়েছে।


​আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ দিনে সংক্ষিপ্ত বিচারের মাধ্যমে জেলাজুড়ে বিভিন্ন মামলায় অন্তত ৬০ জন আসামিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও সাজা দেওয়া হয়েছে। যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করায় এসব মামলার বিচার মাত্র এক দিনেই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের মামলা জট ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এখন পর্যন্ত জেলার সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতগুলোতে মোট ৫৯টি মামলা সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।


​চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. মার্জিয়া খাতুনের দিকনির্দেশনায় জেলার বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ কার্যক্রমে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এবং বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান, রায়হানুল হাসান চৌধুরী, মো. মাহমুদুল হাসান ও ফয়সাল আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।


​আইন সংশ্লিষ্টরা জানান, সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে স্বল্পতম সময়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও আইনগত দিক পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত রায় দেওয়া সম্ভব হয়। ফলে বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরে ভোগান্তির শিকার হওয়া বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে এসেছে।


​অনেকে মোবাইল কোর্টের সাথে সামারি ট্রায়ালের তুলনা করলেও দুটির মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মোবাইল কোর্টের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনের এখতিয়ার ও আসামির দোষ স্বীকারের ওপর নির্ভর করার বাধ্যবাধকতা থাকে। তবে সংক্ষিপ্ত বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার না করলেও পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও তা মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। ফলে এই পদ্ধতির আইনি গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।


​মাদক ও চুরির মতো সমাজে বহুল ঘটে যাওয়া অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধ প্রবণতা কমে আসে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়। তবে দ্রুত বিচারের পাশাপাশি আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের সার্বিক বিধান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন সচেতন মহল। 


নীলফামারীতে বিচারিক প্রক্রিয়ার এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকলে মামলা জট কমার পাশাপাশি জেলাজুড়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে একটি বড় সুফল আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৩ পিএম

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, হতাশা ও বিষণ্নতা মোকাবিলা এবং আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে প্রতিটি মেডিকেল কলেজে ‘স্টুডেন্ট সাপোর্ট সেন্টার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন। তবে এ উদ্যোগ এখনো অনুমোদন পায়নি।


গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভার কর্ণগোপে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিভাগ আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা, বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার চিন্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় পাঠ্যক্রমের অতিরিক্ত চাপ ও পড়ার বিষয়বস্তুর আধিক্যও মানসিক চাপের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। পাঠ্যক্রম পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।


তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি তিন দিনব্যাপী করা হয়েছে। এর একটি দিনে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা, সেমিনার ও পোস্টার উপস্থাপনার মতো কার্যক্রম রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি সহপাঠীদের মানসিক অবস্থার প্রতিও সচেতন হতে পারবেন।


প্রতিটি মেডিকেল কলেজে প্রস্তাবিত স্টুডেন্ট সাপোর্ট সেন্টারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ‘ফিজিক্যাল অ্যান্ড মেন্টাল ওয়েলবিং কমিটি’ রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে এবং মানসিক সমস্যায় পড়লে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেতে ভূমিকা রাখবে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।


মেডিকেল কলেজগুলোতে বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধের বিষয়ে অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন বলেন, এসব আচরণ বন্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কমিটি থাকলেও সমস্যা পুরোপুরি দূর হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষার্থী যেন সহপাঠীর মানসিক কষ্টের কারণ না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।


শিক্ষকদের ভূমিকার বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষ, ছোট দলে পাঠদান, ব্যবহারিক ক্লাস ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীকে আগের তুলনায় ভিন্ন আচরণ করতে দেখা গেলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা চাই না কোনো মেডিকেল কলেজের কোনো শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করুক। আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে যদি একজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যাও প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়, সেটিও হবে বড় সাফল্য।


শিক্ষার্থীদের নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি বন্ধু, জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ সহপাঠীদের প্রতি সহমর্মী হওয়ার আহ্বান জানান অধ্যাপক ডা. রুবিনা ইয়াসমিন।


ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাদিয়া খান। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মনোরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. রুবিনা হোসেন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাজনীন সুলতানা, নিউরোডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধিতা সুরক্ষা ট্রাস্ট বোর্ডের সাবেক চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের (বিএপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ওয়াজিওল আলম চৌধুরী, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার এবং সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মনোরোগ বিভাগের বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এএইচএম কাজী মোস্তফা কামাল।


এ ছাড়া বক্তব্য দেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপদেষ্টা ডা. মো. এনায়েত করিম, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মহবুবা সুলতানা এবং হাসপাতালের পরিচালক মেজর ডা. এ কে এম মাহবুবুল হক (অব.)।


এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজের পরিচালক মেজর (অব.) ডা. এ কে এম মাহবুবুল হক, মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. স্বপ্না ভট্টাচার্য, গাইনি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডা. রওশন আরা খানম, সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ডা. মো. আব্দুল মতিন।

সর্বশেষ সব খবর