একটি বিদায় যে কতটা গৌরবের, কতটা ভালোবাসার এবং কতটা আবেগঘন হতে পারে, তার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত দেখল চুয়াডাঙ্গাবাসী। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী সিনিয়র শিক্ষক হাফিজুর রহমান দীর্ঘ ১৯ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে এক রাজকীয় ও অভূতপূর্ব বিদায় সংবর্ধনা পেলেন। তাঁর এই বিদায়লগ্নে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা চুয়াডাঙ্গার ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য মিছিল যে শিক্ষক দুই দশক ধরে অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনের প্রথম পাঠের আলো জ্বেলেছেন, তাঁর বিদায়ের ক্ষণটিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে কোনো কমতি রাখেনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদায়ের শেষ দিনে প্রিয় শিক্ষককে শুধু মুখের কথায় বিদায় জানানো হয়নি; বরং চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সরকারি গাড়িটিকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। সেই সুসজ্জিত গাড়িতে চড়ে, পাশে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে নিজের শেষ কর্মস্থল ত্যাগ করেন শিক্ষক হাফিজুর রহমান।
প্রিয় শিক্ষককে তাঁর নিজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তৈরি হয় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এক রাজকীয় শোভাযাত্রা। অশ্রুসিক্ত চোখে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ হেঁটে ও গাড়ির বহর নিয়ে এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ফুল আর ভালোবাসায় মোড়ানো এই বিদায়যাত্রা সাধারণ পথচারীদেরও গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
শিক্ষা অফিসারের অনন্য মানবিকতা শিক্ষকের প্রতি এই অসামান্য সম্মান প্রদর্শনের মূল কাণ্ডারি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনিসুর রহমান। তিনি নিজেই তাঁর ব্যবহৃত সরকারি গাড়ি দিয়ে বিদায়ী শিক্ষক ও তাঁর পরিবারকে সসম্মানে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে মহানুভবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এক প্রতিক্রিয়ায় জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আনিসুর রহমান বলেন, "একজন শিক্ষককে এভাবে সম্মান জানানো বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই ধরনের আয়োজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতাকে উজ্জ্বল ভাবে মেলে ধরে । এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষকদের প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল হতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।"
কর্মজীবনের সমাপ্তি, সম্পর্কের নয় টানা ১৯ বছর ধরে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করা শিক্ষক হাফিজুর রহমানের প্রাতিষ্ঠানিক কর্মজীবনের সমাপ্তি ঘটলেও, শিক্ষার্থীদের হৃদয় থেকে তাঁর স্থান যে কখনো মুছে যাবে না, এই বিদায় বেলাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। গাড়ি আর পায়ে হাঁটা পথের সেই এক কিলোমিটারের আবেগঘন পথচলা কেবল একটি বিদায়যাত্রা ছিল না; তা ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর চিরন্তন ভালোবাসা, গভীর শ্রদ্ধা আর অমলিন কৃতজ্ঞতার এক অনন্য মহাকাব্য।
সাংবাদিকদের সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর দেখতে দেখতে ১৬ বছরে পদার্পণ করেছে নাটোরের লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাব। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক চর্চা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং দুর্যোগকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে নিজেদের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে সংগঠনটি।
লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের যাত্রা শুরু হয় প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সাহীন ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলমের নেতৃত্বে। পরবর্তী সময়ে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল মোতালেব রায়হান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মো. মোয়াজ্জেম হোসেন। বর্তমানে সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন মো. সালাহ্ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ফারহানুর রহমান রবিন। বর্তমানে প্রেস ক্লাবটির সদস্য সংখ্যা ২৮ জন। উপদেষ্টা হিসেবে মোমিনপুর মাজার শরীফ দাখিল মাদ্রারাসার সুপার এএসএম মোকাররেবুর রহমান রয়েছেন। বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে পাশে থেকেই পরামর্শ সহযোগিতা করে থাকেন।
নির্বাচনেও ব্যতিক্রমী গণতান্ত্রিক চর্চা
লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো নেতৃত্ব নির্বাচনের পদ্ধতি। কোনো মনোনয়ন বা সমঝোতার পরিবর্তে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে একজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁর নেতৃত্বেই নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একই পদে পরপর দুইবার নির্বাচিত হলে তৃতীয়বার ওই পদে প্রার্থী হতে পারেন না। ফলে নেতৃত্বে পরিবর্তনের সুযোগ যেমন থাকে, তেমনি সংগঠনে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার পথও তৈরি হয়।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রেস ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রার্থীদের পোস্টার দেখা যায়। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের আশপাশও পোস্টার ও স্টিকারে ছেয়ে যায়। ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় লালপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন ও লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।
অনেকের কাছেই প্রেস ক্লাবের এই নির্বাচনকে ঘিরে আয়োজন জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনের আবহ তৈরি করে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আমন্ত্রণ জানানো হয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পল্লী বিদ্যুতের উপপরিচালক, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের।
প্রশাসনের সহযোগিতা, নির্বাচনে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি
লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের বিভিন্ন নির্বাচনে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সহযোগিতা করেছেন। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উম্মে বানীন দ্যুতি ও মো. মেহেদী হাসানের সহযোগিতার কথা সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মরণ হয়ে থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বও বিভিন্ন সময়ে পালন করেছেন প্রশাসন ও শিক্ষাঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। গত নির্বাচন কমিশনে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. সাদ শিবলী দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সাবেক সমবায় কর্মকর্তা মো. আদম আলী, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মৃত্তিকার সভাপতি মুনজুর রহমান মিঠু দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ পাপ্পুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উপস্থিত হয়েছেন।
শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়, মানুষের পাশেও
সাংবাদিকদের পেশাগত সংগঠন হলেও লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের কর্মকাণ্ড শুধু সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আসছে সংগঠনটি।
বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির সময় মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ, অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছের চারাও বিতরণ করা হয়। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ সৃষ্টি করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
১৬ বছরের পথচলায় নতুন প্রত্যাশা
একটি উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে ১৬ বছর ধরে পথচলা নিঃসন্দেহে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধ্যায়। এই সময়ে নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে, সদস্য বেড়েছে, বদলেছে সময় ও বাস্তবতা। কিন্তু সংগঠনের মূল চেতনা—সাংবাদিকদের ঐক্য, পেশাগত মর্যাদা এবং মানুষের পাশে থাকা—অটুট রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের এই পথচলায় গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব নির্বাচন যেমন সংগঠনের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত, তেমনি দুর্যোগ ও সামাজিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগও তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে।
সাংবাদিকতা শুধু খবর প্রকাশের কাজ নয়—সমাজের নানা অসংগতি তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের সংকট ও সম্ভাবনার কথাও সামনে আনা। সেই সাংবাদিকতার সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় ঘটিয়ে আগামী দিনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সদস্যদের।
১৬ বছরের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে লালপুর উপজেলা প্রেস ক্লাব—সাংবাদিকদের সংগঠন থেকে মানুষের আস্থার একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠার প্রত্যাশায়।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি ও পাঞ্জাবির একটি চালান জব্দ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভাণ্ডারিয়া-কাঁঠালিয়া সড়কের আমান উল্লাহ কলেজের সামনে অভিযান চালায় ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ। এ সময় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে আনা বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ও পাঞ্জাবি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা কাপড়ের আনুমানিক মূল্য ১৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানার কাকডাঙ্গা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ আলী শিকদারের ছেলে মো. বাকি বিল্লাহ সিকদার (৫৫), বরিশালের মুলাদী থানার গাছুয়া ইউনিয়নের চর কালেখা গ্রামের সেলিম বেপারীর ছেলে মো. শামীম বেপারী (৪৫) এবং শরীয়তপুরের ডামুডা থানার কুলকুড়ি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাচ্চু সরদারের ছেলে মো. সিয়াম সরদার (১৯)।
পুলিশ জানায়, চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে আটক তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ও উড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকটি পয়েন্টে গত ২ মাস থেকে ভাঙ্গছে নদীর পাড়। ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টি পরিবার ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছেন। তবে মাঝে মধ্যে ভাঙ্গন বেড়ে যাওয়ায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার পূর্ব কঞ্চিপাড়া, উত্তর উড়িয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় এখানকার বিভিন্ন জায়গায় নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। অনেকের বাড়ির কাছে ভাঙ্গন আসার চিত্রও দেখা গেছে।
এমন ভাঙ্গন আতঙ্কে নদীর পাড়ে বসে দুচোখে কান্না করতেছেন প্রায় ৯০ বছর বয়সী অবিজা বেওয়া। ক্যামেরা দেখতেই চলে আসেন এবং বলেন, হামার তো ভিটেমাটি চলি যাবান নাইকছে বাবা,এখন কুটি যায়া থাইকমো বাবা।
এমন হাজারো হাহাকার এখানকার বাসিন্দাদের,অনেকেই বলছেন, ১২ থেকে ১৫ বার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে এখানে এসে বসতি গড়েছি। এবার ভাঙ্গলে পরিবার নিয়ে পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় নাই।
স্থানীয় বাসিন্দা তাজু জানান, নদীর এলাকার মানুষের দুঃখ একটাই সেটা হলো ভাঙ্গন। ভাঙ্গা গড়ার খেলায় আমরা অনেক কিছুই হারাই। বর্তমানে যে ভাঙ্গন তা রোধ করার পাশাপাশি স্থায়ী তীর রক্ষা করা না গেলে খুব বেশি দিন দেখতে হবে না আমাদের নিশ্চিন্ন হতে।
ভাঙ্গন নিয়ে কথা হয় উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কামাল পাশা'র সাথে তিনি জানান, উত্তর উড়িয়া, পূর্ব কঞ্চিপাড়া,খোলাবাড়ীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। এই ভাঙ্গনের ফলে বসতভিটা সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে। অতিসত্বর জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙ্গন রোধ না করলে এই অঞ্চলটি অল্প সময়ের মধ্যে ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাবে। আমার ইউনিয়নের জনসাধারণের একটাই দাবি দ্রুত ভাঙ্গনরোধকল্পে পানি উন্নয়ন বোর্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। পাশাপাশি এখানে নদীর তীর রক্ষায় স্থায়ী কাজ করে অত্র এলাকায় মানুষের জীবনযাত্রার মান সুগম করতে মাননীয় পানিসম্পদ মন্ত্রী মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, এই জায়গা গুলোতে কাজ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের জন্য পত্র পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ করবো।
এস এম মেহেদী হাসান
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তে পেশাগত দক্ষতা, সাহসিকতা ও জনসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা পেয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম মেহেদী হাসান।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পদক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সময় সাহসিকতা ও বীরত্ব, সেবায় অনন্য অবদান, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত এবং উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ৯২ জন পুলিশ সদস্যকে চারটি শ্রেণিতে পুলিশ পদক দেওয়া হয়। গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-২ শাখা থেকে এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এস এম মেহেদী হাসান বর্তমানে জিএমপির টঙ্গী পশ্চিম থানায় উপপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জিএমপির বিভিন্ন থানা ও বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে তিনি ভূমিকা রাখেন। মেহেদী হাসানের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে টঙ্গীতে বস্তাবন্দী অবস্থায় মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা ক্লুলেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার। এ ছাড়া টঙ্গী থেকে নিখোঁজ ইমাম মাওলানা মহিবুল্লাহর নিখোঁজের রহস্য উদ্ঘাটনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। মাদকবিরোধী অভিযানেও তাঁর নেতৃত্বে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। টঙ্গীর হাজী মাদার বস্তি এলাকায় হেরোইন ও ইয়াবাসহ চিহ্নিত বেশ কয়েকজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে প্রশংসিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ একটি মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ হাজার পিছ ইয়াবা ও নগদ ৫৮ লাখ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ২ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেন তিনি।
তার নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে টঙ্গী পশ্চিম থানার কয়েকটি চিহ্নিত মাদকের আখড়া বর্তমানে ধ্বংস হয়ে গেছে পিপিএম-সেবা পদক পাওয়ার সাফল্য জানিয়ে এস আই এস এম মেহেদী হাসান বলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মহোদয়, সহকারী পুলিশ কমিশনার এবং টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মহোদয়ের নির্দেশনায় অতীতের ন্যায় আমার দায়িত্ব আরো সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাব। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে আরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করাই আমার দায়িত্ব।
পটুয়াখালীর মহিপুরে জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় সাক্ষী হওয়ায় বেল্লাল হাওলাদার (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী বশির হাওলাদারের বিরুদ্ধে। হামলায় বেল্লালের ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার ঘাড়ে পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে মহিপুর থানার ধুলারসার ইউনিয়নের বেতকাটা গ্রামের একটি খালে মাছ ছাড়ানোর সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন আহত বেল্লাল।
বেল্লাল হাওলাদার জানান, সকালে বাড়ির পাশের খালে জাল থেকে মাছ ছাড়ানোর সময় পেছন থেকে বারেক হাওলাদারের ছেলে বশির হাওলাদার দেশীয় অস্ত্র রামদা ও সাফল নিয়ে তার ওপর হামলা করেন। এ সময় ‘আল্লাহু আকবার’ বলে তার ঘাড়ে কোপ মারে। কোপের আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে বশির রামদা দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপায় ও আঘাত করেন। একপর্যায়ে তাকে মৃত্যু ভেবে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে অভিযুক্ত পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন বেল্লাল।
পরে বেল্লালকে খালের পাড়ে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এক যুবক ডাক-চিৎকার দিলে তার পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তার আঘাতের স্থানে চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
বেল্লালের বড় ভাই সোনা মিয়া বলেন, আমার ভাই কোনো রাজনীতি বা কোনো ঝামেলার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি শান্তশিষ্ট মানুষ। তার বাড়ির পাশে নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে অভিযুক্ত বশির হাওলাদারদের জমিজমা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে, কয়েকদিন আগে ওই মামলার তদন্তের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে আমার ছোট ভাই পুলিশের কাছে সাক্ষ্য দেন। এর জের ধরেই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে, আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বশির হাওলাদারের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায় । ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মো: শামীম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে কালীগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার জামশা ইউনিয়নের দক্ষিণ মাটিকাটা এলাকায় এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ মাটিকাটা গ্রামবাসী ও প্রবাসীদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দক্ষিণ মাটিকাটা নৌকা বাইচ-২০২৬’-এ সভাপতিত্ব করেন নটরডেম কলেজের প্রভাষক মো. ওমর আলী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন কবীর, সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের প্রোগ্রাম অফিসার শেখ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম শুভ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট আবু সায়েম, মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন ও মো. আমজাদ হোসেন, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কাজী ইয়াকুব হোসেন রাজাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নৌকা বাইচে মোট আটটি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় গোবিন্দল কসাইবাড়ির নৌকা চ্যাম্পিয়ন এবং জামশার মাসুদ রানা নৌকা রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন হাজারো দর্শনার্থী। প্রতিযোগিতা চলাকালে নদীতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।