কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দরবার শরিফে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় গণপিটুনিতে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দু'জন।
গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে দৌলতপুর থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
স্থানীয়রা জানান, শামীম নিজেকে ‘কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী’র অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার বেলা একটার দিকে শতাধিক মানুষ দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরে শামীমের দরবার শরিফ ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে তারা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও একাধিক কক্ষে আগুন দেয়। এ সময় দরবারের ভেতরে থাকা শামীম ও তার দুই অনুসারী পিটুনির শিকার হন। বেলা ৩টার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে শামীমের মৃত্যু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন জানান, বেলা ৩টার দিকে আহত অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে শামীমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা তিনটা ২০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, ‘শামীম দীর্ঘদিন ধরে নানা বিতর্কিত কাজ করছিলেন। কিন্তু এবার পবিত্র কোরআন নিয়ে মন্তব্য করায় এলাকাবাসী ফুঁসে ওঠে।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘৫-৬ বছর ধরে তার কর্মকাণ্ডে আমরা বিরক্ত ছিলাম। তার আজব সব কর্মকাণ্ড নিয়ে আগেও প্রতিবাদ হয়েছে।’
শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, 'শামীম বেশ কয়েক বছর ধরে ওই দরবার পরিচালনা করে আসছিলেন। তার কর্মকাণ্ডে এলাকার অনেকে অসন্তুষ্ট ছিল।' তবে কারা হামলা চালিয়েছেন সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
পুলিশ জানায়, বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত কয়েকশ' মানুষ দরবার শরিফ এলাকা ঘিরে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে জানিয়ে ওসি বলেন, 'দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
নোয়াখালী জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ১১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, রোববার দিনব্যাপী জেলার বিভিন্ন থানা ও বিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে মোট ১৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। গ্রেপ্তার ২১ জনের মধ্যে ২ জন মাদক ব্যবসায়ী ও ১৯ জন মাদকসেবী রয়েছেন। বেগমগঞ্জ মডেল থানার পৃথক অভিযানে ১১২ পিস ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ছয়জনকে সাজা দেওয়া হয়। সেনবাগ থানায় মাদকসেবনের দায়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সোনাইমুড়ী থানায় ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলা করা হয়। কবিরহাট থানায় আরও ২ গ্রাম গাঁজাসহ একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মোবাইল কোর্ট তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
নোয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, মাদক ব্যবসা, সরবরাহ, বহন ও সেবনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সৌদি আরবের তায়েফ শহরে মো. কামরুল জামান (৩৭) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারী এক সৌদি তরুণও নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত কামরুল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর গ্রামের কাজী বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি দুই ছেলের জনক ছিলেন। রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে তায়েফের হাওয়াইয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) আবু নাসের চৌধুরী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কামরুল সুপার মার্কেটের ডিউটি শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ এক সৌদি তরুণ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রাণ বাঁচাতে কামরুল দৌড়ে কর্মস্থল সুপার মার্কেটের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে কর্মরত আরও দুই কর্মী আতঙ্কে পালিয়ে যান। পরে ওই হামলাকারী মার্কেটের ভেতরে ঢুকে কামরুলকে পরপর তিন রাউন্ড গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর হামলাকারী নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন।
ইউপি সদস্য আবু নাসের চৌধুরী আরও বলেন, কামরুলের বাবা পেশায় কৃষক। জীবিকার তাগিদে প্রায় আড়াই বছর আগে সৌদি আরবে যান কামরুল। রোববার বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। কামরুলের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে কী কারণে ওই সৌদি তরুণ কামরুলকে গুলি করে হত্যা করেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে (ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভূল্লি উপজেলা) অনুষ্ঠিতব্য উপ-নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রবিবার (৩০ আগষ্ট) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক দায়িত্বশীল সমাবেশে দলের পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারি সেক্রেটারী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি দেলাওয়ার হোসেনক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল হালিম আরো বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রধান পদ্ধতি হলো নির্বাচন। যেহেতু জামায়াত দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠার লড়াই সংগ্রাম করছে। তাই আমরা সকল প্রকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে আলোকে ১১ দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজলুম ছাত্রনেতা ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতিসন্তান দেলাওয়ার হোসেনকে জামায়াতের পক্ষে ১১ দলের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করছি। আমরা আশাকরি জনগণ যদি সঠিকভাবে তাদের ভোট দিতে পারে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে আমাদের প্রার্থী জয়লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।
জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারি পরিচালক অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন। জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ এর সঞ্চালনায়, সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, ঠাকুরগাঁওয়ের সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হাকিম, দিনাজপুরের সাবেক জেলা আমীর মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারীর সাবেক জেলা আমীর আব্দুর রশিদ, পঞ্চগড় জেলা আমীর ইকবাল হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর। এসময় বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা, ও ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায়, আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। উক্ত জাতীয় নির্বাচনেও জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করেছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। শীঘ্রই এ আসনে নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
সেবার আলোয় গড়ব সমাজ এই স্লোগানকে সামনে রেখে পথচলা শুরু করা সামাজিক সংগঠন ‘আলোকিত গাজীপুর’-এর নিজস্ব কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১.০০ ঘটিকায় টঙ্গী পূর্ব থানার সামনে অবস্থিত কার্যালয়ে এ উপলক্ষে এক জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। কোরআন তিলাওয়াত করেন মরকুন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব, বিশিষ্ট ওয়ায়েজ হাফেজ মাওলানা মুফতী তানভীর আল মাহমুদী। তিলাওয়াত শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সংগঠনের সভাপতি মোঃ মোস্তাকিম খান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, গাজীপুর মহানগরের অন্যতম নেতা সরকার শাহনূর ইসলাম রনি। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন পিনাকল স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা বিভাগ-এর সভাপতি ডাঃ মাহবুব আলম মাহফুজ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক কলিমুল্লাহ ইকবাল।
‘আলোকিত গাজীপুর’-এর সহ-সভাপতি মোঃ নুরুজ্জামান শেখ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা মোঃ মাসুম রানা। অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী শিকদার, প্রচার সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন, অর্থ সম্পাদক রাসেল আহমেদ, নির্বাহী সদস্য মো: হানিফ হোসেন ও পাপেল মিয়া।
এছাড়াও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে সাংবাদিক সুজন সারোয়ার, আল-আমীন হোসেন এবং মোস্তফা মিয়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের বক্তারা সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং সমাজের কল্যাণে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তারা বলেন, অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং সমাজ থেকে সব ধরনের অন্ধকার দূর করতে এই সংগঠন অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আলোকিত গাজীপুর’-এর নতুন কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক অভিযানে ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে টঙ্গী পশ্চিম থানায় পাঁচজন এবং টঙ্গী পূর্ব থানায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানোর সময় টঙ্গী পূর্ব থানার ভেতরে অপেক্ষমাণ স্বজন ও সমর্থকদের কয়েকজনকে প্রকাশ্যে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় জননেত্রী শেখ হাসিনা’ স্লোগান দিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
গতকাল রোববার (৩০ আগস্ট) টঙ্গী পশ্চিম থানায় পাঁচজন এবং টঙ্গী পূর্ব থানায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের গাড়িতে তোলার সময় দেওয়া এসব স্লোগান নিয়ে থানার অভ্যন্তরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন।
তাদের কয়েকজনের দাবি, পরে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি ও সংশ্লিষ্ট সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) গণমাধ্যমকর্মীদের মোবাইল ফোন থেকে ওই স্লোগানের ভিডিও মুছে দিতে বলেন এবং কয়েকটি ভিডিও মুছে দেওয়া হয়। তবে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
টঙ্গী পশ্চিম থানায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- বড় দেওরা এলাকার মন্ডল মার্কেটের বাসিন্দা মো. ফারুক (২৮), শেরপুরের ঝিনাইগাতী এলাকার আলামিন (৩১), নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার সাকিবুল হোসেন ওরফে শাকিব (১৯), ঢাকার দোহার এলাকার শিহাব (২৭) এবং নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ এলাকার মিনহাজ মাসুম (২৮)।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফারুক ছাত্রলীগের সদস্য, আলামিন ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য, সাকিবুল হোসেন ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং মিনহাজ মাসুম গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। গ্রেপ্তার শিহাবের কোনো পদবির তথ্য দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, টঙ্গী পূর্ব থানার মরকুন মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মতিনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুল আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করছে। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংগৃহীত ছবি
খুলনার পাইকগাছায় এক ভোজ আয়োজনে রান্নার সময় গরুর মাংসের রং বদলে সবুজ হওয়ার ঘটনার ‘সম্ভাব্য’ কারণ বর্ণনা করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
ল্যাব পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফলের বরাতে সংস্থাটি বলছে, রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে আসার কারণে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক (এক ধরনের আয়রন ও প্রোটিনযুক্ত উপাদান, যা পেশিকোষে অক্সিজেন জমা রাখে এবং এর জন্য মাংসের লাল বা গোলাপি রঙের দেখায়) পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তরের কারণে মাংস সবুজ রঙ ধারণ করেছে।
গত ২৭ অগাস্টের ল্যবরেটরি পরীক্ষার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিএফএসএ। সেখানে বলা হয়, “নমুনায় কোনো ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা পিগমেন্ট উৎপাদনকারী সিউডোমোনাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মাংসে কোনো পচনশীল দুর্গন্ধ বা আঠালো ভাবও ছিল না। যা নিশ্চিত করে, এই রঙ পরিবর্তন কোনো ব্যাক্টেরিয়াঘটিত বা পচনের কারণে ঘটেনি।”
ল্যাবরেটরি থেকে পাওয়া পরীক্ষা ও বিশ্লেষণ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিএফএসএর খাদ্য বিশ্লেষণ শাখার প্রতিবেদন বলছে, “স্পেক্ট্রোফোটোমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, ফ্রিজে দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে রান্নার সময় উচ্চ তাপের সংস্পর্শে আসার কারণে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তর বা গাঠনিক পরিবর্তনের কারণে সবুজ রঙ ধারণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বিএফএসএর খুলনা জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, “আজকেই (রোববার) এ প্রতিবেদন আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে এই নমুনা মাংসগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে। আমাদের কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে মাংসগুলো সবুজ হওয়ার সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।”
এর আগে গত ২২ জুলাই কুলনার পাইকগাছা পৌরসভার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা কর্মস্থলে একসঙ্গে ভোজের আয়োজন করেন। সেজন্য বাজার থেকে গরুর মাংস কিনে আনেন তারা। তবে রান্নার সময় গরুর মাংসের রং বদলে সবুজ হয়ে যেতে শুরু করে।
এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে স্থানীয় থানায় হাজির হন রান্নার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
বেকারির কর্মচারীদের ভাষ্য, তেল-মশলা দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে রান্না শুরুর কিছুক্ষণ পরই মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে নীলচে-সবুজ হতে থাকে। যতই নাড়াচাড়া করা হচ্ছিল, পরিবর্তিত রং ততই গাঢ় হচ্ছিল। বিষয়টি দেখে তারা চুলা থেকে কড়াই নামিয়ে অন্যদের ডাকেন।
পরে রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে প্রথমে যান তারা মাংস বিক্রেতার দোকানে। তিনিও এ ঘটনা দেখে বিস্মিত হন। পরে তারা মাংসসহ কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখান তাদের থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে কড়াইসহ তারা থানায় যান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবুজ মাংসের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি নিয়ে দেশব্যাপী শুরু হয় আলোচনা। এর প্রেক্ষিতে মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার কারণ জানতে পরীক্ষার জন্য নমুনা ২৬ জুলাই বিএফএসএর ল্যাবে পাঠানো হয়।