• প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৩ এএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ২৮ মাস বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে তার আপন চাচা নীরব হোসেনকে (১৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বলধরা ইউনিয়নের তেলিখোলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নীরব ওই এলাকার ফরশেদ আলীর ছেলে।


পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে শিশুটির বাবা কাজে চলে যান। এ সময় শিশুটির মা ও ছোট মেয়ে বাড়িতে ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে নীরব শিশুটিকে তার দাদার বাড়িতে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।


পরে শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে তার মা সেখানে গেলে নীরবকে ঘর থেকে বের হতে দেখেন। শিশুটির অস্বাভাবিক আচরণ দেখে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান তিনি।

পরে শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য তাকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠান। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় মামলা করেছেন।


সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১২ পিএম

ফুলেল শুভেচ্ছা, আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে ময়মনসিংহের ভালুকা সরকারি কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করা হয়েছে। নতুন শিক্ষাজীবনে পা রাখা শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে কলেজের হলরুমে আয়োজন করা হয় ‘নবীন বরণ’ অনুষ্ঠান।


অনুষ্ঠানের শুরুতেই নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন অতিথি ও শিক্ষকরা। পরে শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাজীবনের সাফল্য, সমৃদ্ধি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন অতিথিরা।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। ভালুকা সরকারি কলেজের অধ্যাপক আ ন ম শাহাদাৎ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন, গফরগাঁও সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (অব.) আমির হোসেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ এবং ভালুকা উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবর রহমান মজু, গোলজার হোসেন, ভালুকা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু, ভালুকা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রোহাদ মিয়াসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।


বক্তারা নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, একাদশ শ্রেণিতে পদার্পণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনে উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় শুরু হলো। এ সময়কে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা, সময়ের সঠিক ব্যবহার ও শৃঙ্খলাবোধের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। একই সঙ্গে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেমের চর্চার মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান তারা।


তারা বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়; জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে একজন শিক্ষার্থীকে সমাজ ও দেশের জন্য যোগ্য করে তোলা। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে গেলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব।


বক্তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর সাফল্য কেবল তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়। শিক্ষাজীবন শেষে পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে অবদান রাখার মধ্য দিয়েই সেই সাফল্যের পূর্ণতা আসে। তাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলি বিকশিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।


নবীন শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, ফুলেল শুভেচ্ছা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতায় পুরো কলেজজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। শুভেচ্ছা, প্রত্যাশা ও নতুন স্বপ্নকে সঙ্গী করে এদিন ভালুকা সরকারি কলেজে শুরু হয় নবীন শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাজীবনের পথচলা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০২ এএম

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয়  বিএনপির কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমাবেশ ও বিক্ষোভ  মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সদর উপজেলা শাখা। গতকাল বৃহস্পতিবার  (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে খন্ড খন্ড মিছিল  জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়। পরে  জেলা পরিষদ প্রাঙ্গন থেকে এক বিশাল  মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব প্রাঙ্গনে সমাবেশে মিলিত হয়। 


উক্ত সমাবেশে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডঃ তারিকুল ইসলাম খাঁন রুমার সভাপতিত্বে এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি। অন্যন্যার মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাবেক পিপি এডঃ সফিকুল ইসলাম,  সহ-সভাপতি  এবিএম মমিনুল হক, সহ সভাপতি এডঃ গোলাম সারোয়ার খোকন, এডঃ আনিছুর রহমান মঞ্জু, আসাদুজ্জামান শাহীন, যুবদল সভাপতি শামীম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান   সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন। মিছিল ও সমাবেশে জেলা বিএনপি, সদর উপজেলা বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, ছাত্রদল ও অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন। 


প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি বলেন,যখনই দেশের মানুষ শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে, ঠিক তখনই একটি মহল পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। আপনাদের সামনে সেই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সন্ত্রাসীদের যেখানে পাওয়া  যাবে সেখানেই প্রতিহত করার আহবান জানান।


ইতিহাস সাক্ষী, কোনো দেশের উন্নয়নকে স্তব্ধ করতে হলে তার অভ্যন্তরীণ শান্তি ও স্থায়িত্বের ওপর আঘাত হানাই ষড়যন্ত্রকারীদের প্রথম কৌশল। সন্ত্রাস এবং অস্থিতিশলতার একমাত্র লক্ষ্য হলো জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গুত্ব করা এবং বিশ্ব দরবারে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতান্ত্রিক অধিকারে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। 


তিনি আরও বলেন, আওয়ামীলীগ নির্বাচনের নামে প্রহসন করে ১৭টি বছর দেশের সাধারণ মানুষের গলায় টিপে ধরে রেখেছে। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও কিছু কুলাঙ্গার এখন দেশের ভেতরে বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে নৈরাজ্য ও সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা তাদেরকে ধরে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে সোর্পদ করবো। যারা আজ নিরীহ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদে আগুন দিচ্ছে, কিংবা উস্কানিমূলক অপপ্রচার চালিয়ে সমাজে বিভেদ তৈরি করছে তারা কোনো দলের বা দেশের বন্ধু হতে পারে না। তারা এ দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু। ক্ষমতার লোভ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য যারা গোটা দেশকে অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আজ আমাদের সবাইকে একতাবদ্ধ হতে  হবে এবং প্রতিহত করতে হবে। 


সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং আপসহীন। আমরা এই বাংলার মাটিতে আর কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য করব না। কোনো বুলেটের ভয়, কোনো বোমার আতঙ্ক কিংবা কোনো অপপ্রচার এ দেশের মানুষকে তার অগ্রযাত্রার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। সমাবেশ ও মিছিলে সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ বক্তব্যে রাখেন।

সর্বশেষ সব খবর

বিএনপি-এনসিপির সংঘর্ষ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৩ পিএম

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বক্তব্যকে ঘিরে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন। এ সময় হান্নান মাসউদ হাতিয়া সরকারি দ্বীপ কলেজে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।



প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সম্প্রতি জাতীয় সংসদ অধিবেশন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক ও কর্মী সমাবেশে আবদুল হান্নান মাসউদ বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে কথা বলেন। বিএনপি নেতাদের দাবি, তার এসব বক্তব্যে বিএনপি সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। 




এর জেরে বৃহস্পতিবার হান্নান মাসউদের সভায় যোগদানকে ঘিরে আগে থেকেই তৎপর ছিলেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবদুল হান্নান মাসউদ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা পরিষদ ভবনের ফটকে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরেন।




 এ সময় তার সঙ্গে থাকা এনসিপির নেতাকর্মী এবং ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হান্নান মাসউদ নিজেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় তাকে সভাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সভা চলাকালে বাইরে এনসিপি কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের আবার বাগ-বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে হান্নান মাসউদ সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে এসে আবার তর্কে জড়ান। 




একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারি শুরু হয়। এতে উপজেলা যুবশক্তির সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম এবং ছাত্রদল নেতা আকরাম, সাকিব, সাখাওয়াত হোসেন, আজাদসহ অন্তত আটজন আহত হন। পরবর্তী সময়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সংসদ সদস্যকে তার বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়।


হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, “সংসদ সদস্য সভার দিকে যাওয়ার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও কথা-কাটাকাটি হয়। আমরা দ্রুত পরিবেশ শান্ত করি।”


হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, “দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে ফটকে উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় সংসদ সদস্যকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।”


এনসিপির উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক শামসুদ্দিন তিবরিজ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। বিনা কারণে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।


হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল হায়দার চৌধুরী বলেন, “এমপি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে বিএনপিকে জড়িয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তার এ আচরণ ও উগ্রতার কারণেই ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এখানে দলের কোনো নির্দেশনা ছিল না।”


এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, তিনি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে যাওয়ার পথে বিএনপির লোকজন হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। এ সময় তাদের একটি ঘুষি তার ঘাড়ে লাগে বলে অভিযোগ করেন হান্নান মাসউদ।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ পিএম

‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’-বিতর্কিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লারকে (৫৫) কারণ দর্শানোর কারণ দর্শনোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।


​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন স্বাক্ষরিত শোকাজ চিঠি ওই ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়।


এতে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তাকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আজ ​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ইউএনও দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


​প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শোকাজ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ২ নম্বর যদুনন্দী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে ‘অস্ত্র বানান, মার্ডার হলে আমি দেখব’ ধরনের উসকানিমূলক কথা বলতে দেখা গেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে।


যা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ৩৪ (৪) (খ) ধারা অনুযায়ী পরিষদ বা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ এবং অসদাচরণের শামিল। আইন অনুযায়ী কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, চিঠিতে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।


​ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে। যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর বাজারে নিজ সমর্থকদের উদ্দেশে একটি বক্তব্য দেন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। বক্তব্যের ১০ মিনিট ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।


​ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘যেকোনো কিছু করতে হলে আমাদের না জানিয়ে করলে তার দায়ভার আপনাদের। কিন্তু আমাদের নেতৃত্বে কিছু হলে- দুইটা মার্ডার হোক বা পাঁচটা, সেই দায়ভার আমাদের। আপনারা একতাবদ্ধ হয়ে থাকেন। যার যার অস্ত্র বানাতে হবে, আমাদের হুকুম ২৪ ঘণ্টা আপনাদের সঙ্গে থাকবে।’


​তিনি আরও বলেন, উজিরপুরবাসী যদি অন্তত ২০ মিনিট ঠেকিয়ে রাখতে পারেন, তবে পাশের ২০টি গ্রাম থেকে যত লোক লাগে আমি পাঠাব।


​এদিকে বক্তব্যটির বিষয়ে অবস্থান জানতে গত বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


​তবে এর আগে নোটিশ পাওয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ভিডিওতে তার বক্তব্য যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তা সঠিক নয়। সেটি মূলত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক একটি সভা ছিল এবং বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজারের সঙ্গে চলমান বিরোধ মিটিয়ে স্থানীয়দের শান্ত থাকার নির্দেশই তিনি দিয়েছিলেন।


​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সালথার যদুনন্দী ও বোয়ালমারীর পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের সীমানাবর্তী ময়েনদিয়া বাজার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এর জেরে অতীতেও বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।


ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ২২ বছর প্রবাসে থাকার পর ২০২০ সালে দেশে ফেরেন এবং ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:০৪ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই লাঠিপেটা করে গণধোলাই দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ নির্দেশ দেন। 


এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ডার্বি নাসীর নামে পরিচিত এই পাটওয়ারী কিছুদিন ধরে অযাচিত বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। 


তিনি বলছেন, তাদের তিন দাবি মেনে নিলে নাকি ঢাকা শহরে আর কোনো ককটেল ফুটবে না। এ ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা। 


তিনি বলেন, শুধু নাসীরুদ্দীনই নয়, এনসিপির নেতারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা রাজনীতির পরিবেশকে নষ্ট করছে। তাদের প্রতিহত করতে না পারলে দিন দিন তাদের আস্ফালন বেড়ে যাবে। তাদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই লাঠিপেটা করে গণধোলাই দিতে হবে।


এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, কিছুদিন ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ অন্যরাও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জড়িয়ে যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা শিষ্টাচারবহির্ভূত। এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার পরে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলসহ আমাদের নেতাকর্মীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। 


এনসিপি নেতাদের সাবধান করে বিএনপির এ নেতা বলেন, যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় তাদেরই বহন করতে হবে।


এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিল শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেন যে, তাদের তিন দাবি মেনে নেওয়া হলে ঢাকা শহরে আর ককটেল ফুটবে না। এই বক্তব্যের পরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫০ পিএম

চট্টগ্রামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে ঘুষের টাকাসহ গ্রেপ্তার পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের দুই কর্মচারী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। 


পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ গতকাল বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, দলিল নিবন্ধন(রেজিস্ট্রি) করার সময় সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশেই তাঁরা ঘুষ নিয়েছেন।


গত মঙ্গলবার এক আইনজীবীর দেওয়া অভিযোগ পেয়ে পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। এ সময় ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


গতকাল ফারুক ইসলাম ও রূপণ দাশকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা বলেন, ‘সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশেই আমরা ঘুষ নিয়েছি।’


জবানবন্দিতে ফারুক ইসলাম বলেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে ঘুষের দুই লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তাঁর কাছে পাঠানো হচ্ছিল। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে দুদকের একটি দল এসে তাঁদের কার্যালয়ে হাজির হয়। তারা ঘুষের দুই লাখ টাকা, সাবরেজিস্ট্রারসহ তাঁদের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।


উমেদার রূপণ দাশ তাঁর জবানবন্দিতে বলেন, ১৫ বছর ধরে তিনি কর্মরত। দুদক যে দলিলটি নিবন্ধনে ঘুষ নেওয়ার অপরাধে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে, সেটির সরকারি ফি ১৫ হাজার টাকা। তাঁরা বাড়তি দুই লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে নিয়েছেন। প্রথমে তাঁরা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন। পরে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশনে গেলে নেওয়ার কথা ছিল। দলিল দাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় বাসায় কমিশন যাওয়ার কথা ছিল। দলিলটিতে কোনো ত্রুটি ছিল না। এরপরও তারা ঘুষ হিসেবে বাড়তি দুই লাখ টাকা নিয়েছেন সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে।


দুদক জানায়, এক আইনজীবী তাঁর মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য নগরের আদালত ভবনে অবস্থিত পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান। দলিল দুটিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রাখা হয়। পরে ওই আইনজীবী দুদকের ‘হটলাইন ১০৬’ নম্বরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর মঙ্গলবার বিকেলে তিনি ঘুষের টাকা দিতে যান। এ সময় অভিযান চালিয়ে ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে দুদক। পরে এই ঘটনায় মামলা হয়। পরদিন গতকাল গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে হাজির করা হলে দুজন জবানবন্দি দেন।


দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) রেজাউল করিম বলেন, তিনজনের মধ্যে সাবরেজিস্ট্রার ছাড়া বাকি দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তাঁরা দলিল নিবন্ধনে সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি দেওয়ার সাবরেজিস্ট্রারসহ তিনজনকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন মহানগর দায়রা জজ আদালত।


ঘুষ নিয়ে দলিল নিবন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার রেজাউল করিম বকসু বলেন, ঘুষ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ রকম হতে পারে না।


ঘুষের টাকাসহ দুজনকে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. আল আমিন। তিনি বলেন, ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার দুজন ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘুষ লেনদেনের পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করতে দুদকের তদন্ত অব্যাহত আছে।

সর্বশেষ সব খবর