• প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২৯ পিএম

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় বেদখলকৃত সরকারী খাস জায়গা উদ্ধারে মাঠে নেমেছে ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার ১ নং বীরতারা ইউনিয়নে ৯৪ শতাংশ ও ২ নং বানিয়াজান ইউনিয়নের অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে ৭৭ শতাংশ দুই ইউনিয়নে মোট ১৭১ শতাংশ জমি উদ্ধার করা করেছে উপজেলা প্রশাসন।


উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ বছর যাবৎ ধনবাড়ী উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের বানিয়াজান বাসস্ট্যান্ড ও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বানিয়াজান মৌজার বিআর এস ২৫৪৪ দাগের ১ নং খতিয়ানে ৭ অবৈধ দখলদারী ধনবাড়ী-বাজিতপুর সড়কের রাস্তার জমি দখল করে দোকান নির্মাণ ও কৃষকের ক্ষেতের ধান সহ অন্যান্য জিনিসপত্র আনা নেওয়ার রাস্তা বেদখল কৃত মোট ৭৭ শতাংশ জমি সরকারের স্বার্থ উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান করে দখল মুক্ত করা হয়। বানিয়াজানের সিদ্দিকুর রহমান (সিদ্দিক), শামীম, উজ্জল সহ মোট ৭ জন অবৈধ দখলদারী স্থানীয় সরকারী খাস জায়গা বেদখল করে নিজের দখলে নিয়েছিলো। সেই বেদখল কৃত ৭৭ শতাংশ জমি উদ্ধার দখলমুক্ত করে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়েছে ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন। 


সম্প্রতি ধনবাড়ী উপজেলা প্রাশসন আয়োজিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ধনবাড়ী উপজেলায় বেদখল কৃত জমি উদ্ধারের দাবী জানান ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান আলী সহ সচেতন নাগরিকবৃন্দ। আলোচনার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছেন ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি বানিয়াজান সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক এর দখলে থাকা ৭৭ শতাংশ জমি উদ্ধারে অভিযানে নামে ধনবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি দিল আফরোজ। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মোট ৭৭ শতাংশ জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়। দীর্ঘ বছর ওই অঞ্চলের কৃষকদের ক্ষেতের ধান ও খড় আনা নেয়ার কাজে ব্যবহৃত রাস্তাটি অবৈধ দখলকারী সিদ্দিকের হাত থেকে উদ্ধার করায় খুশি এলাকাবাসী।


বানিয়াজান এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান ও স্বপন মিয়া সহ এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘ বছর পরে অবৈধ দখল কারীদের হাত থেকে প্রশাসন জমি গুলো উদ্ধার করায় খুশি সকলেই। তবে, যাতে এই উদ্ধারকৃত ভূমি আবারো বেদখল না হয়ে যায় সে বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার দাবী করেন তারা।


অন্যদিকে, সোমবার(২৭জুলাই) উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বীরতারা ইউনিয়নের রাজার হাট এলাকার বীরতারা মৌজার ১নং খতিয়ানের ৯৫৮ দাগের ৯৪ শতাংশ ভূমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়।




ধনবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি দিল আফরোজ জানান, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে সরকারী খাস জায়গা অবৈধ দখলদারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে সংরক্ষনে বীরতারা ও বানিয়াজানে খাস জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে। নিয়মিত সরকারী খাস জায়গা উদ্ধারে অভিযান অব্যহত থাকবে।


ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ নূরজাহান আক্তার সাথী জানান, ধনবাড়ী উপজেলায় সরকারী খাস জায়গা অবৈধ দখলদারীদের হাত থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।




থাই চেরি ফুলের চারাগাছ হস্তান্তর করছেন বৃক্ষপ্রেমী তাল বেলাল

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৫৩ পিএম

নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ঠ আধুনিক জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে রোপণের জন্য একগুচ্ছ থাই চেরি ফুলের চারাগাছ দিয়েছেন নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার পরিচলক দেশবরেন্য বিশিষ্ট বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল। 


আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে হাসপাতাল চত্বরে চারাগুলো গ্রহণ করেন ওই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু জর গাফ্ফার।


এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসাদুজ্জামান খান চৌধুরী, সদস্য আব্দুল কাইউম, সজিব হোসেন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। 


ডা. আবু জার গাফফার বলেন, “হাসপাতালের মতো একটি জনাকীর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের দৃষ্টিনন্দন ফুলের গাছ রোপণ রোগীদের মানসিক প্রশান্তি দেবে। পরিবেশ রক্ষায় ও হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ মনোরম করতে এই সবুজ উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।” 


বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে সুশোভিত করতে এবং এখানে আগত সেবাপ্রার্থীদের মনে কিছুটা স্বস্তি দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”


উল্লেখ্য, বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল পরিবেশ রক্ষায় একজন নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তিনি সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের দু'পাশের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অসংখ্য তাল বীজ রোপণ করে দেশজুড়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। মহাসড়কের পাশে তাঁর রোপণ করা সেই তালগাছগুলো এখন দৃশ্যমান ও পরিবেশের শোভা বাড়াচ্ছে। এই অসাধারণ কীর্তির জন্য তিনি এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীদের কাছে ‘তাল বেলাল’ নামে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এর পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি নিয়মিত ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ রোপণ করে আসছেন।


বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে দুই যুবকের মৃত্যু

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৪৪ পিএম

নওগাঁর পোরশায় ডোবার পানি সেঁচে মাছ ধরার জন্য মোটর পাম্পে সংযোগ দেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন, উপজেলার মশিদপুর ইউনিয়নের কাতকইল বিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল আজিজ (২৭) ও শফিউদ্দিনের ছেলে মাহবুর রহমান (২৮)। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার চাকলা মাঠের একটি ডোবায় এ দূর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয়রা জানান, ওই দুই যুবক ছাতোয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে আবু রায়হানের বিদ্যুৎচালিত সেঁচ পাম্প থেকে বিদ্যুতের লাইন নেয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয়রা জানতে পেরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছাঁয়া নেমে আসে। 


পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়েই তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। 


গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৪৫ পিএম

সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কমানোর পাশাপাশি শিক্ষিত বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে ১৬ সপ্তাহব্যাপী গ্রাফিক্স ডিজাইন ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)। 


আজ বুধবার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মাছখুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি কক্ষে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি)’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খ. আখলাকুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন, প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক, বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।




প্রশিক্ষণের উদ্বোধনের আগে বিদ্যালয়ের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সীমান্তবর্তী দরিদ্র, শিক্ষিত ও বেকার যুবক-যুবতীদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে বিজিবির এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এ কর্মসূচি কার্যকর হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


১৬ সপ্তাহব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কম্পিউটার পরিচিতি, কম্পিউটার পরিচালনা, ইন্টারনেট ব্যবহার, অফিস অ্যাপ্লিকেশন (ওয়ার্ড, এক্সেল ও পাওয়ারপয়েন্ট), গ্রাফিক্স ডিজাইন এবং ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করবেন বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।


নতুন গ্যাস কূপ খনন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০৫ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বড় চারিগাঁও এলাকায় নতুন একটি গ্যাস কূপের খনন কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। 


নির্ধারিত সময়ের খনন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হলে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


গত মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) নতুন কূপটির খনন কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে। আজ বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে পুরোদমে চলছে খনন কার্যক্রম। প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্প’।




বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে কূপটি মাটির নিচে ১ হাজার ৫৫০ মিটার পর্যন্ত খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৬১ মিটার এবং ১ হাজার ৪৫০ মিটার গভীরতায় দুটি পৃথক জোনে প্রাকৃতিক গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি (MWD) মেথড ব্যবহার করে খননকাজ পরিচালিত হচ্ছে।


সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন প্রকল্পের ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান বাসসকে জানান, ৪৫ দিনের মধ্যে খনন কাজ এবং পরবর্তী ১৫ দিনের ডিএসটি টেস্ট শেষে কূপটিতে মজুত গ্যাসের পরিমাণ জানা যাবে। মঙ্গলবার খনন কাজ শুরু হয়েছে এবং এটি একনাগাড়ে চলবে। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫৫০ মিটার পর্যন্ত খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


বাপেক্স জানায়, নোয়াখালীর এ অঞ্চল তথা বেগমগঞ্জে ১৯৭৬ সালে প্রথম গ্যাস কূপের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে ১৯৭৮ সালে দ্বিতীয় কূপের সন্ধান মিললে দুটি কূপেই ড্রিলিং করা হলেও সেখানে কোনো গ্যাস পাওয়া যায়নি। এরপর ২০১৩ সালে তৃতীয় কূপের সন্ধান পাওয়া গেলে ড্রিলিং শেষে সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়। ২০১৮ সালে ওই কূপে ওয়ার্কওভার সম্পন্ন করার পর বর্তমানে প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।


এ ছাড়া নোয়াখালীতে ‘সুন্দলপুর-১’, ‘সুন্দলপুর-২’ ও ‘সুন্দলপুর-৩’ নামে তিনটি গ্যাস কূপ খনন করেছে বাপেক্স। এর মধ্যে সুন্দলপুর-১ ও সুন্দলপুর-৩ থেকে বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। 


তবে সুন্দলপুর-২ থেকে এখনো জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সুন্দলপুর-৩ কূপে ওয়ার্কওভার শেষ হলে সেখান থেকেও পুনরায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে।


সূত্র: বাসস

মহাদেবপুর ইউএনওকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নোটিশ

আদালতের বৈধ আদেশ প্রতিপালন না করায় কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না?


মহাদেবপুর ইউএনও মানজুরা মুশাররফ

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের মামলায় রায়ের আদেশ কার্যকর না করায় আদালত অবমাননার দায়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট-২ এর বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ক্ষমতাপ্রাপ্ত) মো: মোনাদিন হক গত ২৩ জুলাই প্রকাশ্য আদালতে এ আদেশ দেন। বিজ্ঞ বিচারক মহাদেবপুর ইউএনওকে দেয়া এ আদেশ সংক্রান্ত পত্রে গত ২৭ জুলাই স্বাক্ষর করেন। ইউএনওকে আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন তিনি।


এরআগে গত ২৩ মে বিজ্ঞ বিচারক আদালতের রায়ে নালিশী জমির দখল ফরিয়াদি বরাবর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বুঝে দিয়ে আদালতের রায় কার্যকর করার এবং তা আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন মহাদেবপুর ইউএনওকে। ৭ জুন আদালতের এই আদেশপত্র পাবার পর গত দেড় মাসেও তা কার্যকর না করার অভিযোগ করা হয়েছে মহাদেবপুর ইউএনওর বিরুদ্ধে।


বিজ্ঞ বিচারক তাঁর আদেশে উল্লেখ করেন,“ফরিয়াদির দরখাস্ত ও দরখাস্তের সহিত দাখিলকৃত সি.আর ১৬৭/২০২৫ (মহাঃ) নং মামলার রায়ের জাবেদা পর্যালোচনায় করা হলো। উক্ত রায়ের আদেশে দেখা যায় যে, উক্ত আদেশে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ২০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা মোতাবেক ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নালিশী তফশিল বর্ণিত জেলা-নওগাঁ, উপজেলা-মহাদেবপুর, মৌজা-দোহাগী, আর.এস খতিয়ান নং-৩৩৫, প্রস্তাবিত খতিয়ান নং-১৫৯২, দাগ-৫২০ এর দক্ষিন পূর্বাংশে ০.০২২৫ একর জমির দখল অত্র মামলার ফরিয়াদি মোছাঃ বুলবুলি চৌধুরী, পিতা-মোঃ হারুন অর রশিদ, জং-মোঃ রানা চৌধুরী, সাং-দোহালী, পোঃ দরিয়াপুর, থানা-মহাদেবপুর, জেলা-নওগাঁ বরাবর অদেশের তারিখ হতে ১৫ (পনেরো) কর্মদিবসের মধ্যে বুঝিয়ে দিয়ে অত্র আদালতকে অবগত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মহাদেবপুর, নওগাঁকে নির্দেশ করা হয়েছিল। ফরিয়াদি তার দরখাস্তে অভিযোগ করেছেন যে, তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মহাদেবপুর, নওগাঁকে বারবার অনুরোধ করেও নালিশী সম্পত্তির দখল বুঝে পাননি। এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মহাদেবপুর, নওগাঁকে আদেশের ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে আদালতের আদেশ প্রতিপালনপূর্বক অবগত করতে বলা হলেও অদ্যাবধি তিনি কে অবগত করেননি যা আদালত অবমাননার সামিল। এমতাবস্থায়, আদালতের বৈধ আদেশ প্রতিপালন না করায় কেন আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার একটি লিখিত ব্যাখ্যা আগামি ১০/০৮/২০২৬ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে দাখিলের জন্য উপজেল নির্বহী অফিসার, মহাদেবপুর, নওগাঁকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।”


মামলা সূত্রে প্রকাশ, বুলবুলি চৌধুরি দোহালী গ্রামের ভবেন্দ্রনাথের ছেলে মিন্টু কুমার মন্ডলের বিরুদ্ধে গতবছর ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, ফরিয়াদি বুলবুলি চৌধুরি নালিশী জমি আসামী মিন্টু কুমার মন্ডলের কাছ থেকে গত ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর রেজিস্ট্রি দলিলযোগে কিনে নিজ নামে খারিজ করে খাজনা পরিশোধ করেন। কিন্তু মিন্টু বিক্রি করা জমি বুলবুলিকে বুঝে দেননি। এনিয়ে গ্রাম্য শালিসেও সে জমির দখল বুঝে দিতে অস্বীকার করে এবং ধারালো হাসুয়া দিয়ে ফরিয়াদিকে হত্যার হুমকি দেয়।


বিজ্ঞ বিচারক মামলাটির তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মহাদেবপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। প্রতিবেদন পাবার পর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত ২৩ মে রায় দেন। রায়ে আসামী মিন্টু কুমার মন্ডলের ছয় মাস সশ্রম কারাদন্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। একই সাথে নালিশী তপশীল বণিত সম্পত্তির দখল ফরিয়াদি বরাবর আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বুঝে দিয়ে আদালতকে অবগত করার জন্য মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দেন।


জানতে চাইলে মোবাইলফোনে বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে মহাদেবপুর ইউএনও মানজুরা মুশাররফ আদালতের পত্র পাবার কথা নিশ্চিত করে জানান, জবাব প্রস্তুত করা আছে। সময়মত আদালতে দাখিল করা হবে।





স্টেডিয়ামের সামনে ময়লার ভাগার বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৪০ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গী ৫৭ নং ওয়ার্ডের স্টেডিয়ামের সামনে ময়লার ভাগার স্থাপন ও এর কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫৭ নং ওয়ার্ড শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। 


পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ি, সুস্থ-সুন্দর গাজীপুর গড়ি এই স্লোগানকে সামনে রেখে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্টেডিয়ামের মতো জনবহুল ও ক্রীড়া এলাকার সামনে ময়লার ভাগার থাকায় এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অবিলম্বে আধুনিক ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তারা। 


বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ডাঃ হাফিজুর রহমান-এর প্রধান উপস্থিতিতে মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ৫৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী আঃ রহমান, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সহ-সম্পাদক আবুল হোসেন এবং মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বারী চৌধুরী।


​এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ৫৭ নং ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর এবি এম সাইফুল্লাহ ও সেক্রেটারি মাসুদ আলম। ৫৫ নং ওয়ার্ডের আমীর মোক্তার হোসেন মুন্সীর সাবলীল সঞ্চালনায় মানববন্ধনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী অংশ নেন। বক্তারা অবিলম্বে স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ময়লার ভাগার অপসারণ করে পরিবেশসম্মত ও আধুনিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জোরালো দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।