ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬, সময় : ১১:৪০ এএম

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের বিভিন্ন স্থানে সাদা কাপড়ে কালো আরবি হরফে ‘কালিমা’ লেখা পতাকা ঝুলতে দেখা গেছে। এ নিয়ে নানা মহলে চলছে নানা আলোচনা। শনিবার লিংক রোডের চাষাঢ়া থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে কালিমা খচিত পতাকা দেখা গেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাঁদমারি এলাকায় ট্যাক্সি স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার ডিভাইডারের অংশে বাঁশ দিয়ে কালিমা লেখা পতাকা ওড়ানো হয়েছে। 


এ ছাড়া শিবু মার্কেট এলাকায় ওভারপাসে বৈদ্যুতিক পিলারে উড়ছে সাদা পতাকা। এসব পতাকায় কালো কালিতে আরবি হরফে ইসলাম ধর্মের কালিমা লেখা রয়েছে। তাছাড়া সড়কের পাশে বিভিন্ন বাড়ির ছাদেও একই ধরনের পতাকা উড়তে দেখা গেছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে রাতের বেলা কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্ররা এসব পতাকা সড়কে স্থাপন করেছে। তবে, কী উদ্দেশে এসব পতাকা সড়কের পাশে স্থাপন করা হয়েছে তা বলতে পারেননি কেউ। সড়কের পাশের দোকানি আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, কয়েকদিন ধরে এই পতাকা সড়কে দেখছি। আগে কখনো এসব পতাকা দেখিনি। শুনেছি মাদ্রাসার ছাত্ররা রাতের বেলা এই পতাকা লাগিয়েছে। 


অটোরিকশাচালক জালাল মিয়া বলেন, আগে কখনো আরবি লেখার পতাকা দেখিনি। কিছুদিন ধরে এই ধরনের পতাকা সড়কে দেখছি। তবে কারা এই পতাকা স্থাপন করেছে তা জানা নেই।


এদিকে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডে এসব পতাকা লাগানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলতে শোনা যায়, এই সড়কটির শিবু মার্কেট, জালকুড়ি ও ভূঁইগড় এলাকায় আমরা এ ধরনের পতাকা লাগিয়েছি। ওই মাদ্রাসা ছাত্র আরও বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও কালিমা খচিত কিছু পতাকা লাগানো হয়েছিল। 


কিন্তু সেগুলো সরিয়ে ফেলায় প্রতিবাদ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সড়কে আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছি। নারায়ণগঞ্জে প্রায় ১৫০০ পতাকা লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভিডিওতে কথা বলা ওই ছাত্রের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।


এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, এটা কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের পতাকা নয়। কোনও নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর লোকজন করেনি। মূলত আবেগ থেকে কিছু মুসলমান ছেলে এটা করছে। এতে দোষের কিছু নেই।


আগে কখনও এ ধরনের পতাকা উড়তে দেখা যায়নি, তাহলে হঠাৎ কেন কালিমা খচিত পতাকা উড়ছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা উড়ানো হয়েছে। এতে করে অনেক মুসলিম আবেগতাড়িত হয়ে কালিমা খচিত পতাকা উড়িয়েছে। আমার জানামতে, এর বাইরে কোনও ধরনের উদ্দেশ্য বা কারণ নেই।


নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসাইন বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। কী বলছেন মুফতি হারুন ইজহার এদিকে ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন মুফতি হারুন ইজহার। ‘আল কুরআনের দারস’ নামের ফেসবুক পেজে শনিবার (২৭ জুন) রাতে ভিডিও বক্তব্যে তিনি পরিচিত উগ্রবাদী সংগঠনের পতাকার নকশার বাইরে ভিন্ন ধাঁচে কালেমা খচিত পতাকা টানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।


তরুণদের সমালোচনা করে ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেন, ‘আমরা বলছিলাম– যেখানে যেখানে বিদেশি কুফফারদের পতাকা আছে, বিকল্প হিসেবে সেখানে আপনারা কালেমা খচিত পতাকার মাধ্যমে কাউন্টার করবেন। পরে দেখলাম, হোন্ডা নিয়ে শোডাউন, মিছিল শুরু হয়েছে। তো এই ফ্যান্টাসির ব্যাপারে আমার বক্তব্য- ভাই, এত যে আপনারা অতি উৎসাহ দেখাচ্ছেন, আপনারা কি ওই রকম আমলদার? পতাকা ও হোন্ডা নিয়ে শোডাউনে যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, সেই উৎসাহ-উদ্দীপনায় আপনি কি কিয়ামুল লাইল (তাহাজ্জুদ) পড়েছেন? মাওলানা সাহেব, উত্তরগুলো খারাপ লাগবে আপনাদের।’


কখন এ ধরনের কাজ করা যায়, তাও তুলে ধরেন তিনি, ‘এগুলো মাঝে মাঝে করা যায়, কোনো বিশেষ উপলক্ষে। কোনো মেহমান আসতেছে, ইসলামের বিজয়ের কোনো বিষয় বা প্রতিবাদস্বরূপ– রাসুলুল্লাহকে (সা.) গালি দিয়েছে অথবা কোনো অন্যায়-জুলুম করেছে কোনো কর্তৃপক্ষ, তখন। জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বড় বিষয়ে, সাময়িকভাবে একদিন কোনো এক সময় এদের প্রতিবাদস্বরূপ শোডাউন করতে পারেন তাওহীদের পক্ষে। কিন্তু একেবারে যদি অতিউৎসাহী হয়ে যান, অতি ফ্যান্টাসি এবং ব্যবসা করেন, এটা ঠিক না।’


হারুন ইজহার বলেন, ‘এটিকে সীমিত পর্যায়ে রাখুন। পতাকা দিয়ে একটি অপসংস্কৃতিকে মোকাবেলা করার জন্য যতটুকু দরকার, অতটুকু। দেখা যাচ্ছে, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা কিচ্ছু নেই। কিন্তু হাজার হাজার কালেমা পতাকা লাগায় রাখছেন আপনি। এই যে শূন্যস্থানে আপনি কালেমা পতাকা লাগায় রাখলেন, কী হবে? পতাকা উড়তেছে পতপত করে, কিন্তু এলাকার লোক জোহরের নামাজ পড়তেছে না। তো লাভ কী হইছে? সাহাবায়ে কেরাম কি ফ্যান্টাসি করেছেন? সাহাবায়ে কেরাম এলাকার লোকদের মুসল্লি বানিয়েছেন। এজন্য অতি আবেগ এখানে ঠিক না।’


এর আগে গত ১৩ জুন ‘আল কুরআনের দারস’ নামের ফেসবুক পেজে ‘বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদেশি পতাকার পরিবর্তে কালেমার পতাকা টানানোর আহ্বান’ ক্যাপশনে পোস্ট করা ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেছিলেন, ‘আপনারা সব জায়গায় কালেমার পতাকা লাগায়ে দেবেন। এখন যদি এটা জঙ্গিবাদ হয়ে থাকে, তাহলে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল– এগুলোর সব পতাকা নামাতে হবে। এগুলো যেখানে থাকবে, কালেমার পতাকাও থাকবে আমাদের।’


ওই ভিডিওতে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘এই যে আর্জেন্টিনা, তারপরে... এই যে আপনার বদমায়েশি শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের তরুণরা কালেমার পতাকা শুরু করেছে।’


ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যে হারুন ইজহারের এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন স্থানে সাদা এবং কালো পতাকা লাগানো শুরু হয়। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, স্থাপনা, অলিগলি ছেয়ে যায়। এমনকি পতাকা হাতে শোডাউন ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা হতে থাকে।


নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এসব পতাকার সঙ্গে আল কায়েদা, আইএসআইএস, তালেবান, হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠনের পতাকার নকশার মিল রয়েছে বলে জানান। তাঁরা সংগঠিত এই পতাকা কর্মসূচিকে নিজেদের অবস্থান পোক্ত এবং দেশের সরকারব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র হিসেবেও বর্ণনা করেন। এর পেছনে গোয়েন্দা ব্যর্থতাকেও দায়ী করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।


বিষয়টি সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এলে নড়েচড়ে বসে সরকার। ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা টানানোর পেছনে কারা, তা সন্ধান করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোন সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য কী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের সময়ে কেন করা হলো, তা গোয়েন্দারা মাঠে নেমে খতিয়ে দেখছেন।


শুক্রবার পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিষয়টি নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। এরপর শনিবার বিকেলে ডিএমপি কার্যালয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক হয়।


এ ব্যাপারে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, সাদা-কালো পতাকার বিষয়ে পলিসি মেকিং লেভেল থেকে শুরু করে সবাই সজাগ। বৃহস্পতিবার আলাপের পর শুক্রবার থেকে মাঠে কাজ হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে জড়িতদের অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেককে নজরদারিতেও রাখা হয়েছে।


ইঙ্গিতপূর্ণ সাদা-কালো পতাকা টানানোর পেছনে কারা, তা সন্ধান করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কোন সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে, তাদের উদ্দেশ্য কী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের সময়ে কেন করা হলো, তা গোয়েন্দারা মাঠে নেমে খতিয়ে দেখছেন। তিনি আরও বলেন, মানুষের আবেগ ব্যবহার করে কাজগুলো হচ্ছে। তারা সফল হলে সরকার বিপদে পড়বে। আর সুবিধা নেবে আওয়ামী লীগ। এজন্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে।


শনিবারের ভিডিওতে হারুন ইজহার বলেন, ‘পতাকা হচ্ছে খেলাধুলার প্রতীক। আপনি বলবেন– না, আমি আর্জেন্টিনিয়ান, ব্রাজিলিয়ান, জার্মান, ফরাসি– এসব রাষ্ট্রের সংস্কৃতিকে সম্মান করতেছি না। এদের জাতীয়তাকেও সম্মান করছি না। আমি জাস্ট বিনোদন করতেছি। খেলা তো বিনোদন। বিনোদন যদি আর্ট হয়ে যায়, বিনোদন যদি শিল্প (ইন্ডাস্ট্রি) হয়ে যায়, আমি গত সপ্তাহে বলছিলাম– তখন সেটা জায়েজ থাকবে না। তো সব দিক থেকে বিদেশি পতাকা তোলা নাজায়েজ।’


প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘চলমান পতাকা নিয়ে আমার দুই সপ্তাহের তিক্ত অভিজ্ঞতা। আমি হজ থেকে আসা দুই সপ্তাহ হয়ে গেছে। আমি প্রথম জুমাতে বলছিলাম– আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা আরও বিভিন্ন কুফফার রাষ্ট্রের পতাকা উঠতেছে। পতাকা জিনিসটা কী? পতাকা সম্মানের জিনিস কিনা? এটা একটা সম্মান, ইজ্জত, অহংকার এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক, ঠিক কিনা? প্রত্যেক দেশের পতাকা তার রাষ্ট্রীয় বা জাতীয় গর্বের প্রতীক। সুতরাং যখন এ রকম একটা পতাকা উঠাব, তখন ওই জাতিকে সম্মান করা হলো, ঠিক কিনা? কোনো কুফফার রাষ্ট্র, তাদের জাতি বা তাদের সংস্কৃতিকে সম্মান করা জায়েজ আছে কি?’


এ ছাড়া গত শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে আল কুরআনের দারস পেজে দেওয়া পোস্টে হারুন ইজহার বলেন, ‘তরুণদের উদ্দেশে বলতে চাই– তাদের মধ্যে কাজের চেয়ে ফ্যান্টাসিটা বেশি। কৌশলগত কিছু স্ট্র্যাটেজিক কনসার্নের বিষয় আছে। এটা একটু বোঝার চেষ্টা করবেন। কালেমার পতাকা বললেই তালেবান, আল কায়েদা, আইএস চলে আসে সামনে। তো কালেমা মানে কি আইএস নাকি, কালেমা মানে কি আল কায়েদা, কালেমা মানে কি তালেবান?’


তিনি বলেন, ‘তো এইটা আবার হওয়ার কারণ আছে, আমাদের যুবকরা যে পতাকার ডিজাইনটা ব্যবহার করে, যেহেতু তালেবান একটা বিশাল শক্তি এখন বিশ্বের, অনলাইনের কারণে আরও বিভিন্ন জিহাদি সংগঠনগুলোর পতাকা পরিচিত হয়ে গেছে, ডিজাইন করতে গেলেই ওই ডিজাইনগুলো চলে আসে।’


‘কালিমার পতাকা সম্পর্কে শায়েখ হারুন ইজহার হাফিযাহুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা’ ক্যাপশনে এই ভিডিওর সময়কাল সম্পর্কে জুমাবার ১৯ জুন লেখা। এতে হারুন ইজহার তরুণদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘এখন বর্তমান পতাকার বিষয় আসছে বিশ্বকাপ ফুটবলকে নিয়ে। বিশ্বকাপ ফুটবলের যে পতাকা উঠছে তা বর্ণাঢ্য, তো আপনে কালেমার বর্ণাঢ্য পতাকা করেন। আপনাকে কেন তালেবানদের ডিজাইনেই পতাকা করতে হবে? একটা পতাকাও তো দেখলাম না, বাংলাদেশে সবুজের উপরে সাদা লেখা, দেখলাম না। সবুজ পতাকা করলে সমস্যা কী?’



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১০ এএম

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা  হয়েছে। এ মামলায় মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 


বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


গ্রেফতার জাহাঙ্গীর উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামের আক্কেল  আলী হাওলাদারের ছেলে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ১৮ জুলাই তিনি তার মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। 


এজাহারে বলা হয়,  ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে জাহাঙ্গীর পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বসতঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে জাহাঙ্গীর তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ভুক্তভোগীর ১০ মাস বয়সী শিশুর গায়ে অভিযুক্তের পা লাগলে শিশুটি কান্না শুরু করে। পরে চার বছর বয়সী অপর সন্তানও জেগে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় জাহাঙ্গীর শিশুটির মুখ চেপে ধরেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জাহাঙ্গীর ঘরের পেছন দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।


ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার স্বামী ও স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে অভিযুক্ত ও তার স্বজনদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।


রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে। দুপুরে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


সর্বশেষ সব খবর

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে মহাদেবপুরে শোভাযাত্রা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০৪ এএম

"প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।


এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন।


উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খুরশিদুল ইসলাম, সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু আজাদ হোসেন মুরাদ প্রমুখ। 


শোভাযাত্রায় অন্যদের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন।


বক্তব্য দানকালে ইউএনও উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল গেটের সামনে ও বিভিন্ন জনসমাবেশস্থলে প্রকাশ্যে ধূমপানকারিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।



সর্বশেষ সব খবর

শিক্ষকের পিটুনির শিকার শিক্ষার্থীদের একাংশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ এএম

নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিশুশিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অভিভাবকেরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে পার পাবার চেষ্টা করছেন। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সম্পর্কে ব্যঙ্গ করার জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম।


অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেবার জন্য কোন শিক্ষক ছিলেন না। এসময় এক শিক্ষার্থী ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ বলে গান গাওয়া শুরু করেন। গানের শব্দে শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে একখন্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের এলাপাথারি পিটাতে থাকেন। এতে ওই শ্রেণির ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী আহন হন।


শিশুরা বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। 


চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘সালাম স্যার আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করেন। দল হেরে যাওয়ায় আমরা কয়েকজন মিলে ক্লাসে গান গাইছিলাম ব্যঙ্গ করে। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে ইচ্ছেমতো মারধর করেন।’


আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ এইটা বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।’


স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’


জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।’


জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ এএম

গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ খুনের প্রধান আসামী স্বামী সাইফুল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে স্ত্রী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। 


বিকেলে গাজীপুর পিবিআই কার্য়ালয়ে পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার স্বামী মো: সাইফুল ইসলাম (৩৮) জামালপুরের ইসলামপুর থানার বেনুয়ারচর এলাকার বাসিন্দা।


গাজীপুর পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মহানগরের বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় সনাক্ত করে। নিহত শান্তা বেগম (৩৩) নাটোর সদরের চরলক্ষীকোল এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিহতের পিতা বাসন থানায় মামলা করেন।


তিনি বলেন, বাসন থানা পুলিশ একদিন মামলাটি তদন্ত করে। মামলাটি পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ২৩ জুলাই পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটি স্ব-উদ্দোগে গ্রহণ করে। এদিকে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পিবিআই গাজীপুর জেলার টিম প্রথম থেকেই ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় সকাল সাড়ে ৭ দিকে ফায়দাবাদ এলাকার ট্রান্সমিটার মোড় থেকে হত্যাকান্ডের জড়িত আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে নিহত শান্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।


পুলিশ সুপার আরো বলেন, সাইফুল আগে একটি বিয়ে করেছিল। সেই সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরে গাজীপুরে গার্মেন্টসে চাকুরি করাবস্থায় শান্তার সাথে সম্পর্ক হয় এবং পরে তারা বিয়ে করে। বিয়ের এক বছর পরে জানতে পারে শান্তার পর্বে আরো দুইটি বিয়ে হয়েছিল। শান্তার প্রথম স্বামী জুয়েল এবং দ্বিতীয় স্বামী সবুজের ঘরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এছাড়াও সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন কারনে শান্তাকে সন্দেহ করতে থাকে শান্তার যে অন্য কারো সাথেও বিবাহ বহির্ভত সম্পর্ক থাকতে পারে। এ বিষয়গুলি জানতে পেরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয় এবং এক পর্যায়ে শান্তা আসামী সাইফুলকে ডিভোর্স দেয়। এরপর আবার আসামীকে একদিন শান্তা ফোন দিয়ে গাজীপরে আসতে বললে আসামী গাজীপুরে এসে শান্তাকে আবার বিয়ে করার পর প্রায় ২/৩ মাস তাদের ভালো চলে। কিন্তু এরপরেও সাইফলের মনে শান্তার প্রতি সন্দেহ থেকেই যায়। এর জেরে ঝগড়া ঝাটি করে সাইফল তার খালুর বাড়ীতে চলে যায়। 


গত ২১ জুলাই সকাল শান্তা সাইফুলকে ফোন করে গাজীপুর চৌরাস্তায় আসতে বলে। এসময় সাইফুল শান্তাকে বাসা থেকে ফল কাটার ছুরি নিয়ে আসতে বলে। পরে তারা গাজীপুর চৌরাস্তায় একাটি হোটেলে খাওয়া দাওয়া ওই আবাসিক হোটেলে রুমে অবস্থান কালীন সময় পুরনো কথাবার্তা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এসময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল শান্তার আনা ছুরি দিয়ে শান্তার গলায় ও বুকে আরো আঘাত করে মোবাইল ও আইডি কার্ড নিয়ে পালিয়ে যায়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ এএম

গাজীপুরে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় পিতার যাবজ্জীন সশ্রম কারাদন্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল, গাজীপুর মহানগরের বিচারক মো. আবুবক্কর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম এবং আসামি পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকারসহ অন্যান্য আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।


রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম জানান, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার পুরাতন দোহারো খুলুমবাড়ি এলাকার স্থানীয় রিপন হোসেনের স্ত্রী মোসা. জোসনা বেগম (৩৯) এবং মেয়ে (১৫)কে নিয়ে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুরের বরিশালের টেক এলাকায় বসবাস করতেন। গত বছরের ২৬ মার্চ রাত ১০টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পরেন। পরে ওই রাতেই ভিকটিমের পিতা মো. রিপন হোসেন জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় ভিকটিমের মা জোসনা বেগম পিতাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ পাষণ্ড পিতাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। পরে কাশিমপুর থানার এস আই রোকন মিয়া তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন। পরে আদালত গত ১১ মে চার্জ গঠন করেন এবং সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। চার্জ গঠনের দুই মাসের মধ্যে বিজ্ঞ বিচারক এ মামলায় রায় ঘোষণা করেন। 


আসামী পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকার বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যে কয়জন সাক্ষীর সাক্ষা গ্রহণ করেছেন আমি তাদেরকে যথেষ্ট জেরা করেছি। তাদের একজনের সাথে আরেক জনের সাক্ষয় অনেক অমিল রয়েছে। তারপরেরও বিজ্ঞ বিচারক যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। লিগ্যাল এ্যাড কতৃক নিযুক্ত বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমি এ রায়ে সংক্ষুব্ধ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ এএম

গোপালদী বাজারের থাই অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায়ী রক্তদাতা, মানবিক সংগঠক জহিরুল ইসলামের ওপর বর্বরোচিত ও নৃশংস হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো গোপালদী পৌরসভা। 


হামলায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে গোপালদী পৌরসভার ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দী পশ্চিম পাড়া কবরস্থান সংলগ্ন খেলার মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি গোপালদী বাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গলি প্রদক্ষিণ করে বাসস্ট্যান্ড দিয়ে শেষ হয়। এ সময় অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে মিছিলে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ।


মানববন্দনে বক্তব্য রাখেন বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন,রনি খন্দকার,মিয়া চাঁন,আমিন মিয়া,জামাল মিয়া। 


এ সময় বক্তারা বলেন, গত ২১ জুন সন্ধ্যায় চাঁদার দাবিতে গোপালদী বাজার বালুর মাঠে ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,ফারুক,আলমগীর সহ কয়েকজন ব্যবসায়ীদের উপর হামলা করে একই এলাকার মাদককারবারী আক্তার হোসেন,কামাল হোসেন,বিল্লাল হোসেন,জুবায়ের,সুজন,সোহাগ,সিয়াম,ফাহিমসহ আন্তত ৭/৮জন সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। 


এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত হন ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম,ফারুক,আলমগীর হোসেন। হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও ঘটনার ১ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামী গ্রেফতার হয়নি। 


পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত ব্যবসায়ীরা। দ্রুতই আসামীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আল্টিমেটাম দিয়ে ব্যবসায়ীরা বৃহৎ আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন।

সর্বশেষ সব খবর