সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৮:২২ এএম

নরসিংদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে তরুণীকে পরিকল্পিত হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল হুতা নূর মোহাম্মদ নূরা। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।


ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মাধবদী থানায় সাংবাদিকদের সাথে প্রেস ব্রিফিং করেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। এসময় তিনি জানান, এ ঘটনায় নয় জনের নাম উল্লেখ করে নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।


ডিআইজি রেজাউল করিম বলেন, ইতোমধ্যেই মোট পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সাবেক মেম্বার আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান, ধর্ষক নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, এবাদুল্লাহ ও হোসেন বাজার এলাকার গাফফার। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ধর্ষণের সাথে জড়িত দুইজন এবং সালিশকারী তিনজনসহ মোট পাঁচ জন রয়েছে।


তিনি আরও বলেন, বাকিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সমেয়র মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলেও আশ্বস্ত করছি। কোনো অপরাধীরাই রেহাই পাবে না।


ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন বলেন, কিশোরীকে নৃশংস ও নিষ্ঠুরভাবে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানার পর পরই নরসিংদীর পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছি। যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে এ ধরনের ঘটনা সমাজে আর না ঘটে।


তিনি আরও বলেন, ধর্ষণকারীদের পক্ষে যাতে কেউ কোনো সহানুভূতি না দেখায় এবং নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পিপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যারা এ নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড এবং ধর্ষণের সাথে জড়িত তাদের কোনো ধরনের আইনি সহায়তা না দেওয়া হয়। যাতে অপরাধীরা বুঝতে পারে, অপরাধ করলে আইনি সহায়তা পাবে না, তখন ভয়ে সমাজে অপরাধও কমে যাবে।


খায়রুল কবির আরও বলেন, আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। যারা সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে অবশ্যই তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। কে কোন দল করে, কে কোন দলের, কোন মতের, সেটা দেখার বিষয় না। অপরাধীদের কোনো দল নেই, তারা অপরাধী, অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের ব্যাপারে জিরু টলারেন্স। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।


এদিকে নিহত আমেনার লাশের ময়নাতদন্ত নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবিরের নেতৃত্বে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। লাশ এখনো মর্গে রয়েছে।


নিহতের মা ফাহিমা বেগম জানান, কোথায় লাশ দাফন করা হবে, তা অনিশ্চিত। নিহত আমেনার মা ফাহিমা বেগম, সৎ পিতা আশরাফ মিয়া ও ভাই সিফাত এখনও মাধবদী থানা হেফাজতে রয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৮ পিএম

পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতা রাসেলসহ তিনজনের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণের আংটি, হাতঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।


আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।


আহত রাসেল (৪৪) রূপগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি তাঁর ভাগিনা জসিম (৩৯) ও বন্ধু শামীম ভূঁইয়াকে (৪৯) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে গোলাকান্দাইলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। 


বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে পৌঁছালে সাব্বির (২৩), কামরুল (৪৫), সোহান (২৩), ইয়ামিন (২৪), জিহাদ (২৪) ও রাব্বিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন।




অভিযোগে রাসেল দাবি করেন, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়। তাঁর ভাগিনা জসিমকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই ঘটনায় শামীম ভূঁইয়াও আহত হন।


রাসেলের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তাঁর হাত থেকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি ও ১৫ হাজার টাকা মূল্যের হাতঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া জসিমের কাছে থাকা ড্রেজার ব্যবসার ১ লাখ টাকা এবং শামীমের ব্যবহৃত প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে  রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় রাসেল রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, “হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪১ পিএম

সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের হোসেনপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাতের পর গ্যাসের রাইজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। 


ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। আজ বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে আল মাহমুদ এভিনিউয়ে মন্ত্রীর বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বৃষ্টির সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাত হয়। এতে গেটের পাশে থাকা ডাবল চেইন গ্যাসলাইনের রাইজারে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়।


আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে বাসভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. শফিকুল ইসলাম দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় কন্ট্রোল রুমে খবর দেন। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় পাঁচ মিনিটের চেষ্টায় দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।


সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতের আঘাতে গ্যাসের রাইজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় বাসভবন ও আশপাশের প্রায় দুই লাখ টাকার সম্পদ অক্ষত অবস্থায় রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এতে সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৫ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছাগলে শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে কুলছুমা (৩০) নামে এক নারীর শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। গুরুতর আহত কুলছুমা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগীর বাবা মো. জামসেদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আব্দুল গনি কুলছুমাকে বিয়ে করেন। গনির আগের সংসারের ছেলে সাইফুলের একটি ছাগল কয়েকদিন আগে কুলছুমার রোপণ করা একটি শিমগাছ খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে কুলছুমা প্রতিবাদ করলে সাইফুল ও তার বোনদের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে কুলছুমার শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে দেয় সাইফুল ও তার বোনেরা। এতে তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।


ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি কৌশলে পুলিশ বা স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তারা গোপনে চিকিৎসা করানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ৫ হাজার টাকা দেয় এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যেতে বলে। তবে প্রতিশ্রুত টাকা না দেওয়া এবং কুলছুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।


চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে নাজমা ও আকলিমা নামে দুই অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ পিএম

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় পারভেজ মো. আবুল কালাম নামে একজনকে যাব্বজ্জীবন দিয়েছে আদালত।


বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১ এর বিচারক আবু হানিফ এ রায় প্রদান করেন। 


সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ইফতেখার মাহমুদ জানিয়েছেন, '২০২৫ সালের ১৫ জুলাই রাতে চকরিয়া থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর বাড়িতে হানা দেয় পারভেজরা। এসময় সবকিছু লুটে নেয়ার পর স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। 


দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পারভেজকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১০ বছরের কারাদন্ড দেন। 


সট:- ইফতেখার মাহমুদ এপিপি, কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১।


এদিকে, আদালতের রায়ে সস্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ। একই সঙ্গে মামলার বাদীর প্রত্যাশা অন্যকোন পরিবারে যেন এমন জুলুম না হয়।

সর্বশেষ সব খবর

বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ পিএম

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।


ডিএনসি, সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এবং কামারখন্দ উপজেলার বিশেষ প্রতিনিধির সমন্বয়ে 'ক' সার্কেলের একটি দল এই অভিযানটি পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বুধবার (০৯/০৯/২০২৬) কামারখন্দের ভদ্রঘাট পশ্চিম খান পাড়া এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।


অভিযানের সময় মোঃ শাকিল শেখ (৩২), পিতা: মোঃ মকবুল হোসেন শেখ নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২৮০০ (দুই হাজার আটশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১১,৩০০ (এগারো হাজার তিনশত) টাকা।


কামারখন্দ উপজেলায় এটি ছিল ডিএনসির চতুর্থ অভিযান। এই ঘটনায় সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কামারখন্দ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

মিয়ানমারে যাচ্ছে সার আসছে মাদক

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৯ পিএম

বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের জল ও স্থলপথে মাদকদ্রব্যের বিনিময়ে এবার শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে সার পাচার। সক্রিয় রয়েছে চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের অধিকাংশ সার ডিলার এবং চোরাচালানী সিন্ডিকেট।


ইতিমধ্যে টেকনাফ,উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ির  বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে সার পাচারের ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি ইয়াবা, খ্রীস্ট্রাল মেথ  আসছে মিয়ানমার থেকে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন বাহিনীর কাছে গত একমাসে ২৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ২ শতাধিক পাচারকারী। এর মধ্যে রোহিঙ্গা রয়েছে ৯৩ জন ও এপিবিএন সদস্য ১ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা কর্মী আছেন ২১ জন, আর অন্যরা হচ্ছে সাধারণ পরিবহন শ্রমিক, মহিলা আছেন ১৮ জন। মামলা হয়েছে ৭২ টি।


তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্য, জীবন রক্ষাকারী ঔষধ পাচারের পাশাপাশি আশংকাজনক ভাবে বেড়েছে সার পাচার।


মিয়ানমারে পাচারকালে বিজিবি ও কোস্টগার্ড বেশ কয়েক দফায় সার আটক করেছেন। নতুন করে সার পাচার হওয়ার খবরে সীমান্তের কৃষকসহ সচেতন মহলের মাঝে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে মিয়ানমারে সার পাচার অনেকটা বন্ধ ছিল। এমনকি ওই সময়ে সার পাচার ও আটকের ঘটনা ছিল বিরল। তবে সাম্প্রতিককালে নতুন করে সার পাচারের ঘটনায় কৃষি সংশ্লিষ্টদের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। এদিকে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট এলাকায় সার পাচারে জড়িত চোরাকারবারীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমনের দাবী জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারে সরকার ও বিদ্রোহীদের মাঝে চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যে এক ধরণের সংকট চলছে। আরাকান আর্মি শাসিত ওই রাজ্যের কৃষকরা জমিতে সার প্রয়োগে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে পাচারে জড়িতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারে ইউরিয়া সারের বেশ কদর রয়েছে। সেখানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার দ্বি-গুণ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩হাজার টাকা ধরে প্রতি বস্তা সার মিয়ানমারের চোরাকারবারীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন এখানকার চোরাকারবারীরা। 


কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সে দেশে (মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে) সারের বস্তা দ্বি-গুণ বেশী দামে বিক্রির সুযোগে এ দেশীয় চোরকারবারীরা সার পাচারে তৎপর রয়েছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হালিশহর, পতেঙ্গা, ভাটিয়ারী, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী কেন্দ্রীক বড় বড় চোরাকারবারীরা বিভিন্ন সার ডিলারদের সাথে আতাঁত করে সাগরপথে জাহাজ বা ট্রলারে করে মিয়ানমারে সার পাচার করছেন। আবার স্থল পথের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে যাচ্ছে সারসহ অন্যান্য পণ্য।


সমুদ্রপথে সার পাচার করতে গিয়ে কোষ্টগার্ডের হাতে একাধিক চালান আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাগরপথে জাহাজে করে সার পাচারের ঘটনার পরপরই টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টের চোরাকারবারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারকালে বিজিবি সারসহ ইতিমেধ্য বেশ কয়েকজন পাচারকারীকে আটক করেছেন।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৮সেপ্টেম্বর ভোরে টেকনাফের দমদমিয়া সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৫বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছেন বিজিবি। এর আগে ২সেপ্টেম্বর একই সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ বস্তা সারসহ একটি হস্তচালিত নৌকা জব্দ করেন বিজিবি। গত ২০ আগষ্ট সাবরাং বিওপির জওয়ানেরা নাফনদীতে অভিযান চালিয়ে ৫৩ বস্তা সারসহ একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা আটক করেন। এদিকে ৬ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে করে পরিবহনের সময় ৩০০ বস্তা সারের একটি বড় চালান জব্দ করেন মরিচ্যা বিজিবি। ৩ সেপ্টেম্বর ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৩৪ বিজিবির জওয়ানেরা ৮৮ বস্তা ইউরিয়া ও টিএসপি সার জব্দ করেন। ১৫ জুলাই রাতে পালংখালী সীমান্ত দিয়ে পচারকালে ১৩ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ৪ রোহিঙ্গাকে হাতে নাতে আটক করেন পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা। ১৩ জুলাই পালংখালী সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৬৪ বিজিবির অধীনস্থ পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা ১৩০ বস্তা সার আটক করেন। ৮ জুলাই পালংখালীর বিওপির জওয়ানেরা আনজুমানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইজিবাইকসহ ২২ বস্তা ইউরিয়া সার আটক করেন। ১ জুলাই পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা ফারিরবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ এক পাচারকারীকে হাতে নাতে আটক করেন। এছাড়া চট্টগ্রামের হালিশহর, ভাটিয়ারী, পতেঙ্গা, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সীমান্ত দিয়ে জাহাজে করে মিয়ানমারে পাচারের সময় সারের বেশ কয়েকটি চালান আটক করেন কোস্টগার্ড।


টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির জানান, গত মাসে (আগষ্টে) উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্টিত হয়েছে। ওই সভায় সার পাচাররোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারী বৃদ্ধি, ডিলার পর্যায়ে মনিটরিং বাড়ানো, সারের বস্তার মুখ খোলা দেওয়া, ৫টার পরে সার বিক্রি না করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 


তিনি আরো জানান,সার পাচার শুন্যের কোটায় নিয়ে আসতে আমাদের প্রচেষ্ঠা অব্যাহত আছে এবং থাকবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্ঠা ও মনিটিরিংয়ের মাধ্যমে সার পাচার ঠেকানো সম্ভব জানিয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, দুয়েকদিনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র‌্যাবের সমন্বয়ে আরো একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে: কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন জানান, সার পাচারসহ যাবতীয় চোরাচালান রোধে কোস্টগার্ড তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের এই মিডিয়া কর্মকর্তা। 


কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (ডিডি) ডক্টর বিমল কুমার প্রমাণিক বলেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন সার পাচার ঠেকাতে বহুমূখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। কোন ডিলার সার পাচারে জড়িত প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে ৬৪বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্ণেল জহিরুল ইসলাম জানান, সার এমন একটা জিনিষ যা পকেটে করে নেওয়া যায়না। কার কার সার প্রয়োজন সেটাও স্থানীয় লোকজন ভাল করেই জানেন। এছাড়া কৃষকসহ স্থানীয়রা সার পাচাররোধে বিজিবিসহ আইন শৃংখলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করতে পারেন জানিয়ে তিনি মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি সার বিতরণে স্বচ্ছতা ও জনসচেতনার উপর গুরুত্বারোপন করেন।

সর্বশেষ সব খবর