নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাছের বারবিকিউ পার্টিতে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে তৈরি ‘ঝাক্কাস’ নামের একটি পানীয় সেবনের পর মোহাম্মদ সাকিব (২২) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজন নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান। এর আগে শনিবার বেলা ১১টার দিকে নোয়াখালী শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সামনে সাকিবের মৃত্যু হয়।
নিহত সাকিব উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের মুসলিম কলোনির মৃত এফরান মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা কলেজের পূর্ব পাশে খালপাড় এলাকায় এক প্রবাসী বন্ধু বিদেশ থেকে আসায় স্থানীয় বাসিন্দা মিলনের বাড়িতে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ মাছের বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন। পার্টিতে তারা মদের সাথে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামে একটি পানীয় তৈরি করে সেবন করেন। পরে রাতের খাবার ও আড্ডা শেষে তারা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান।
পরদিন শনিবার ভোর ৫টার দিকে সাকিবসহ পাঁচজন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাদের স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে সাকিব ও মো. টিপুর (২৫) শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেলা ১১টার দিকে তাদের নোয়াখালীর প্রাইম হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেডে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, অসুস্থ হয়ে পড়া সাইফুল ইসলাম পাখিকে (২২) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর তরুণ মো. টিপু (২৪), মনির হোসেন শান্ত (২৩) মোহাম্মদ রাসেলকে (২৩) নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর বেশি কিছু আমার জানা নেই।
সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান বলেন, একাধিক মাদকদ্রব্য মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ তৈরি করে পাঁচ যুবক তা পান করেন। এতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে তার বাড়িতে রয়েছে। সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
ভোলার লালমোহনের পেশাদার সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ‘‘লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটি”র পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে এ উপলক্ষে সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. জসিম জনির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহিদ দুলাল এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আমজাদ হোসেন খান, মাহমুদ হাসান লিটন, ইউসুফ আহমেদ, এম আর পারভেজ, ইয়াছিন সিরাজী, শাহ আব্দুল মোতালেব প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির ১১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্নাঙ্গ কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়। নবাগত কমিটির সদস্যরা হলেন: সভাপতি- মো. জসিম জনি, সিনিয়র সহ-সভাপতি- ইউসুফ আহমেদ, সহ-সভাপতি- মো. নাঈমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক- জাহিদ দুলাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- হাসান পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক- মাকসুদুর রহমান পারভেজ, অর্থ ও প্রচার সম্পাদক- শাহ আব্দুল মোতালেব, নির্বাহী সম্পাদক- মো. আমজাদ হোসেন খান, মাহমুদ হাসান লিটন, মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার, মাকসুদ উল্লাহ।
উল্লেখ, গত ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং উপস্থিত সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নির্মাণাধীন সড়কে কংক্রিট পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্রাকের ধাক্কায় মনিজা খাতুন (৮০) নামে এক বৃদ্ধা নারী নিহত হয়েছেন।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের হাবিবপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রহিম উদ্দিন জামে মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মনিজা খাতুন ওই এলাকার মৃত সায়েদুল হকের স্ত্রী।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকালে মনিজা খাতুন হাবিবপুর বাজার থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় গ্রাম্য সড়কে সংস্কারকাজের জন্য কংক্রিট পরিবহনে নিয়োজিত একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলফার পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা ট্রাকটি আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে অবহিত করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নুরুল হাকিম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৭০ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। তাদের মধ্যে ১৮ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ অভিযান চালানো হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে, ১০ জনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে এবং ছয়জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
থানাভিত্তিক অভিযানের মধ্যে হাতিয়া থানায় সর্বোচ্চ ৪৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে, ছয়জনকে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪১ জনকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বেগমগঞ্জ মডেল থানায় আটক ৩২ জনের মধ্যে চারজনকে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দিয়ে বাকি ২৮ জনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ছাড়া সোনাইমুড়ী থানায় আটক ১৮ জনের মধ্যে ছয়জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং ১২ জনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১৭ জন, কবিরহাট থানায় ৯ জন, চাটখিল থানায় ৬ জন, সুধারাম মডেল থানায় ৪ জন, সেনবাগ থানায় ৩ জন এবং চরজব্বর থানায় ৩২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আওর বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
পিবিআইয়ের জালে দুই কিশোর
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো.ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে তারা।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো.আতিক উল্লাহ'র আদালতে গ্রেপ্তার দুই কিশোর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
গ্রেপ্তার দুই কিশোর হলো আশ্রাফুল ইসলাম শ্রাবন (১৬) ও আকবর হোসেন ফাহিম (১৭)। তারা সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা গ্রামের বাসিন্দা। পিবিআই জানায়, তারা একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তুলে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও মব তৈরির মাধ্যমে অরাজকতা চালিয়ে আসছিল।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন রাত ১১টা থেকে ১২ জুন রাত ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলিয়া মাদ্রাসার পূর্ব পাশে এবং পরে নদোনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে ফয়েজ আহাম্মদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পূর্বশক্রতার জেরে মাদকসেবীর অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে তাকে লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে অভিযুক্ত কিশোরেরা ও তাদের সহযোগীরা। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তারা। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় ফয়েজকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সবুজ (২২), মনা (২৫) ও জামাল (২৬)সহ অজ্ঞাতনামা আসামিও রয়েছে। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয়। উপপরিদর্শক ফরিদ উদ্দিনকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
পিবিআই জানায়, এক মাসের বেশি সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নথিপত্র বিশ্লেষণ ও নিবিড় তদন্তের পাশাপাশি কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার ভোর পৌনে ৩টার দিকে শাকতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এজাহারবহির্ভূত ও তদন্তে উঠে আসা দুই কিশোরকে আইনি হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে রোববার বিকেল ৩টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হলে দুজনই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই দুই কিশোর নিজ এলাকা ও আশপাশের এলাকার কিশোরদের নিয়ে একটি দল গড়ে তুলেছিল। দলটি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি তৈরি এবং মব সৃজনের মাধ্যমে জনশান্তি বিঘ্নিত করে আসছিল। ঘটনার দিন মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ফয়েজের সঙ্গে তাদের ও সহযোগীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা ফয়েজকে লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে।
নোয়াখালী পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন ও পুনর্মিলনী’ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়। শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন ও পুনর্মিলনী’ অনুষ্টানে নানা কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে।
‘শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন ও পুনর্মিলনী কমিটি’র আহবায়ক এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী জানান এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুনর্মিলনী ও ম্যাগাজিন প্রকাশ’সহ গ্রহন করা হয়েছে নানা কর্মসূচি।
আশরাফ আলী আরো জানান, ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ২০২৬ সালে গৌরবময় শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। এলাকার স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবীদের উদ্যোগে ১৯২৬ সালে পুরাণ রাজাগঞ্জ বাজারে ‘একলিমিয়া এম.ই মাদ্রাসা’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। এর পরে ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি পুরাণ রাজাগঞ্জ থেকে বৈরাগী বাজারে স্থানান্তরিত করা হয়। আর শিক্ষার বিস্তারের ধারা বাহিকতায় ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি জুনিয়র স্কুলে উন্নীত হয়। ১৯৭৪ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক বিভাগের স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৭৬ সালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। ১৯৮৬ সালে চালু হয় বিজ্ঞান শাখা। ২০০৯ সালে শতভাগ পাসের গৌরব অর্জনের পাশাপাশি সিলেট শিক্ষা বোর্ডে দশম স্থান লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। এই দীর্ঘ পথচলা শুধু একটি বিদ্যালয়ের ইতিহাস নয়, বরং এলাকার শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সামাজিক অগ্রগতিরও ইতিহাস।
আশরাফ আলী আরোও জানান, শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে শতবর্ষ পূর্তি স্মারক ম্যাগাজিন প্রকাশ, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ডেটাবেজ তৈরি, বর্ণাঢ্য র্যালী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী।
আর প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের ১৬-১৭ জানুয়ারী শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলনীর মূল আয়োজন করার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের পর চুড়ান্ত তারিখ ও কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। তাই দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক, এলাকাবাসী এবং বিদ্যালয়ের শুভানুধ্যায়ীদের শতবর্ষের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আহব্বান জানানো হয়।
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহীর পুঠিয়ায় একটি স্কুলের জমির দাতা তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে গিয়ে এসব করেন। বিদ্যালয়টির নাম ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে গেলেও নিয়মিত পাঠদান চলছে। শনিবার হঠাৎ আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেন এবং মাঠে কলাগাছ লাগান। শিক্ষকদের কার্যালয়েও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি ব্যবহারেও সমস্যায় পড়েছেন।
২০১৫ সালে পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি গ্রামে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়। এখানে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের স্থাপনের অনুমতি রয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। পরে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ করা হয়। দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশনে উল্লেখ রয়েছে। বিদ্যালয়টি ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর পাঠদানের অনুমতি পায়।
বর্তমানে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণি চালুর কথা রয়েছে। এরপর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
দাতা সদস্য আজাদ আলীর ভাষ্য, সেখানে টেকনিক্যাল কলেজ করার কথা ছিল। তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার কথা থাকায় তিনি জমি দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি এবং তার ছেলের বউকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণে তিনি বিদ্যালয়ে তালা লাগিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে প্রতিষ্ঠানকে জমি দান করেছিলেন। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালুর অনুমতি দিয়েছিলেন। পরে স্থাপনা নির্মাণের পর প্রতিষ্ঠানের নামে জমি রেজিস্ট্রি করার সময় তিনি ভোকেশনাল শাখায় তার ছেলের এবং কলেজ শাখায় ছেলের বউয়ের চাকরি দাবি করেন।
প্রধান শিক্ষক বলেন, কমিটি তার দাবিতে সম্মতি দিয়েই জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়। আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজ শাখা চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলীর ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেওয়া হয়। চাকরিরত অবস্থায় তিনি ২০২২ সালে মারা যান।
এরপর আজাদ আলী তার ছেলের দ্বিতীয় বিয়ের পর পুত্রবধূকে মাধ্যমিক শাখায় কেরানি পদে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কমিটি তাতেও সম্মতি দেয়। পরে তিনি তার ছেলের জায়গায় অন্য একটি পদ দাবি করেন এবং কমিটি তাতেও সম্মত হয় বলে জানান প্রধান শিক্ষক। এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশন রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সেলিম রেজা আরও বলেন, এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আজাদ আলী রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি। মামলাটি বর্তমানে চলমান।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে এবং নিয়মিত পাঠদান চলে। গত মাসের ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। এভাবে বিদ্যালয় বন্ধ করা যায় না।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, আজাদ আলী জমি দান করেছেন এবং দলিলের মাধ্যমে জমিটি এখন স্কুলের নামে রয়েছে। এই দলিল শুধু আদালতের মাধ্যমে বাতিল করা সম্ভব। যতক্ষণ দলিল বহাল আছে, ততক্ষণ বিদ্যালয়ে তালা ঝোলানো বা গাছ লাগানোর সুযোগ নেই।
ইউএনও বলেন, জমি ফেরত নিতে হলে আদালতের রায় নিতে হবে। বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে কলাগাছ সরানো এবং তালা খোলার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।