• প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৩ পিএম

ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ভাঙচুর মামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং বর্তমানে কারাগারে আটক মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদের বিরুদ্ধে এবার নিজ এলাকায় কোটি কোটি টাকার ওয়াকফ এস্টেট ও সাধারণ মানুষের জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে।


আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে নোয়াখালী সদর উপজেলার সালেহপুর মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ ও মুসল্লিরা এই ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ঢাকা ও সারাদেশে নানা অপকর্মে বিতর্কিত মাওলানা শাহরিয়ার মাহমুদ নোয়াখালী সদরের দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামে অবস্থিত তিনটি প্রধান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কোটি কোটি টাকার ওয়াকফ সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছেন।


প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, দক্ষিণ সালেহপুর জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৫০৩), দারুল উলুম হামিদিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৭৫১) এবং দক্ষিণ সালেহপুর হামিদুলিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ওয়াকফ এস্টেট (ইসি নং-২২৪২৯)।


সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ এবং ওয়াকফ প্রশাসনের কোনো তোয়াক্কা না করে শাহরিয়ার মাহমুদ ওয়াকফ এস্টেট ও সাধারণ মানুষের সম্পত্তি দখল করে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি, টয়লেট ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। একইভাবে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে এবং অকার্যকর কমিটির দোহাই দিয়ে ভুয়া রশিদ বইয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ উত্তোলন ও সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা চালিয়ে আসছেন তিনি। সরকারি তদন্ত দল সরেজমিনে তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পেলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে এতদিন তার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, রাজধানী ঢাকায় আলোচিত ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিও’ ভাঙচুর ও হামলার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সম্প্রতি শাহরিয়ার মাহমুদ গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যাওয়ার পর এলাকার ভুক্তভোগী নিরীহ মানুষ ও মুসল্লিরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাই তাদের দাবি, শাহরিয়ার মাহমুদ বর্তমানে কারান্তরীণ থাকা অবস্থায়ই যেন তার এই দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব ও ভীতি প্রদর্শনের অবসান ঘটিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের বেহাত হওয়া জমি উদ্ধার এবং তাকে ভূমিদস্যুতার অপরাধেও যথাযথ আইনি আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয়।


উক্ত প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ সালেহপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা আবুল খায়ের, শাহাদাত হোসেন শিপন, মো.মানিক, মো.রুহুল আমিন, রায়হান খান নান্টুসহ বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের মুসল্লি ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।




  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৩ পিএম

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রকারী ও সুপারভাইজারদের ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।


আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) লালপুর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়রামপুর ইউনিয়ন ও লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন করেন।


লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, এসময় উপস্থিত ছিলেন বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শামসুল ইসলাম, লালপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবীর হোসেন, লালপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খন্দকার মাসুদ রানা, বাগাতিপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু। 


প্রশিক্ষণে ২জন সুপারভাইজার সহ ৩০ জন অংশগ্রহণ করেছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২১ পিএম

‘আমি তোর সাথে যাবোরে, ও সোনার বাজানরে। আমি আর কিছু চাই না।’ ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে এ আকুতিই জানাচ্ছিলেন অসুস্থ মুন্নি খাতুন। 


পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর ছেলে সাগর হোসেন। মাকে সঙ্গে রাখতে চান না তিনি। তাঁর সাফ কথা, মায়ের ভরণপোষণের খরচ দেবেন, কিন্তু তাঁকে নিজের সঙ্গে রাখা সম্ভব নয়।


পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার মা-ছেলের বিরোধ নিয়ে শুনানিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


শুনানিতে ইউএনও সেলিম আহমেদ ছেলেকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন; কিন্তু সাগর নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, মাকে তাঁর সঙ্গে থাকতে দিলে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না।


৫৫ বছর বয়সী মুন্নি খাতুনের সঙ্গে এ বিরোধ নিয়ে কিছু বলতে নারাজ সাগর (৩২)। তবে স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মা-ছেলের এ বিরোধের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও অভিমান। সাগরের বিয়ের পর থেকে তাঁর স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। পরে এ বিরোধে সাগরের বোনও মায়ের পক্ষ নিয়ে জড়ালে অশান্তি আরও বাড়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কয়েক দফা সমাধানের চেষ্টা করেও এ বিরোধ মেটেনি।


সাগর হোসেন সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম পুলিশ। তাঁর বাবা সিরাজুল ইসলাম অনেক আগেই মারা গেছেন। বোনের বিয়ে হয়েছে। মুন্নি খাতুন এখন ছেলের সঙ্গে স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়িতে থাকেন না, থাকেন মেয়ের বাড়িতে। মা ও ছেলে দুজনেরই কিছু জমিজমা রয়েছে। মুন্নি খাতুনের নিজের নামেও প্রায় ১০ লাখ টাকার জমি আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। তাঁরা বলছেন, মা-ছেলের এ বিরোধে মূলে আর্থিক অনটন নয়, বরং একসঙ্গে থাকা নিয়ে পারিবারিক টানাপোড়েন।


‘মায়ের প্রতি অভিমান থেকে এমন সিদ্ধান্ত’


নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, মা ও ছেলের বিরোধ মেটাতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন; কিন্তু দুই পক্ষেরই কিছু ভুল রয়েছে। ইউএনওর কার্যালয়ে শুনানির পর আজ শুক্রবারও তিনি সাগরের সঙ্গে কথা বলেছেন।


চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাগর তাঁকে জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকে তাঁর স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। এ নিয়ে বিরোধ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সাগরের বোন মায়ের পক্ষ নিয়ে ঝগড়ায় জড়ান। এসব ঘটনার জের ধরে মুন্নি খাতুন বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলে সাগরকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছিল। এর পর থেকে মায়ের ওপর তাঁর অভিমান আরও বেড়ে যায়।


হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মায়েরও কিছু ভুল থাকতে পারে; কিন্তু একমাত্র ছেলে হয়ে মাকে নিজের কাছে রাখতে না চাওয়াটা মেনে নেওয়া যায় না। আমি সাগরকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি, তাঁকে রাজি করিয়ে বিষয়টির সমাধান করতে পারব।’


সাগরের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘প্রয়োজনে মায়ের খরচ আমি দেব। কিন্তু আমার সঙ্গে রাখা সম্ভব না।’


‘সমস্যা আর্থিক নয়, মানসিক’


ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুন্নি খাতুন ও সাগরের মামা তাঁর কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে মুন্নি খাতুন জানান, ছেলে তাঁকে বাড়িতে রাখেন না, ভরণপোষণও দেন না। তিনি অসুস্থ, জীবনের বাকি সময় ছেলের সঙ্গে থাকতে চান। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাগরকে শুনানিতে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়।


ইউএনও বলেন, শুনানিতে সাগরকে মা-বাবার ভরণপোষণসংক্রান্ত আইন সম্পর্কে বোঝানো হয়েছে। মানবিক ও ধর্মীয় দিক থেকেও মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে বোঝানোর পরও সাগর মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে রাজি হননি। একপর্যায়ে জানান, তিনি মায়ের যাবতীয় খরচ দিতে রাজি, কিন্তু একই বাড়িতে থাকতে রাজি নন।


সেলিম আহমেদ বলেন, ‘আমার পর্যবেক্ষণে এটি মূলত আর্থিক সমস্যা নয়, মানসিক সমস্যা। মা ভরণপোষণের টাকা বা আর্থিক সুবিধাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাঁর একটাই চাওয়া, ছেলের সঙ্গে থাকবেন। অন্যদিকে ছেলে মায়ের খরচ দিতে রাজি, কিন্তু তাঁকে সঙ্গে রাখতে চান না। কেন তিনি (সাগর) এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা বারবার জানতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি কারণটি স্পষ্ট করে বলেননি।’


ইউএনও আরও বলেন, মুন্নি খাতুন একাধিক সরকারি ভাতা ও সহায়তা পান। আর্থিক অসচ্ছলতা থাকলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা যেত। কিন্তু এখানে মায়ের চাওয়া ছেলের সঙ্গে থাকা। শুনানি শেষে সাগর মাকে জড়িয়ে ধরে অশ্রুসিক্তও হয়েছিলেন। তাই মায়ের প্রতি তাঁর কোনো অনুভূতি নেই, এমনটা বলা যায় না। তবে মাকে সঙ্গে রাখতে না চাওয়ার পেছনে আরও কোনো ঘটনা আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।


আপাতত সাগরের ওপর আর চাপ না দিয়ে কিছুদিন পর মা-ছেলেকে আবারও শুনানিতে ডেকে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন ইউএনও।


কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৬ পিএম

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমন একাই জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যার পর ওই শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার সকাল সোয়া ১০টায় কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় অটোরিকশায় ওঠেন ওই শিক্ষার্থী। তাকে নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক অন্য স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ধানখেতে মাথা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যান সুমন।


পুলিশ জানায়, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে তিনি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন।


পুলিশ জানায়, অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে গাড়িটির মালিক হিসেবে লালমাই উপজেলার আবুল হাসেমকে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশার চালক সুমনের পরিচয় জানতে পারে পুলিশ।


পরে শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তার দেখানো মতে নগরের উপকণ্ঠের বাখরাবাদ এলাকা থেকে শিক্ষার্থীর মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে তার চলাচল সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যায়।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় ওই শিক্ষার্থী। তবে মুঠোফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে পুলিশ জানতে পারে, সেদিন তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।


৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন তিনি। পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা গেছে। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়। পরে তিনি সড়কের দিকে চলে গেলে আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।


মরদেহ উদ্ধারের পর ওই শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে তার মেয়ে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।


বগুড়ায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তির আলোচনা সভায় ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৮ পিএম

বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক আহত জুলাইযোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, এর ফলে অনেকে রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত চিকিৎসাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। 


শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়া মহানগরের টিটু মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে আহত ব্যক্তিদের শারীরিকভাবে আরও সক্ষম করে তোলা যেত। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যারা আহত ব্যক্তিদের গেজেটভুক্ত করেননি, তাদের এমন পদক্ষেপ নিন্দনীয়।


প্রতিমন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মাধ্যমে আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে কাজ চলছে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। বাদ পড়া ব্যক্তিদের পুনরায় আবেদনের জন্য সীমিত সময়ের জন্য সুযোগ দেওয়া হবে।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি উজ্জল হোসেন জোবায়েল। আরও বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক, বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল হক নির্ঝর, জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল তুহিন এবং বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান প্রমুখ।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫০ পিএম

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে ঝাটিকা অভিযানে হানিট্রাম্প, মাদক, সন্ত্রাসী সহ সকল অপর্কমের মুল হোতা জাহেদুল ইসলাম ওরফে লাল ভাই (২৭) কে আটক করেছে থানা পুলিশ। 


আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান এর নেতৃত্বে সকল অফিসার ফোর্স এর ঐকান্তিক চেষ্টায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কালীকাপুর গ্রামের নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আশা হয়। পরে তাকে ১৪৩/১৮৬/২২৪/৩৫৩/১১৪/১৮৯/৩০৭/৩৩২ এর ধারায় জিজ্ঞাসা বাদ শেষে শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় আদালতের মাধ্যেমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। 


এ ঘটনায় আটোয়ারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, তাকে অনেকদিন থেকেই আমরা খুজতেছি পাচ্ছি না। আজকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় র্ফোস নিয়ে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। সে আটোয়ারীতে হানিট্রাম্প, মাদক, সন্ত্রাসী সহ সকল অপর্কমের মুল হোতা হিসেবে চিহ্নিত। আমরা পঞ্চগড় জেলা পুলিশ সুপার এর সার্বিক দিক নির্দেশনায় তাকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৫ পিএম

‘প্রোটিন, যা শক্তি জোগায় এবং সুরক্ষা করে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভোলার লালমোহনে বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘ডিমে পুষ্টি, ডিমে শক্তি, ডিমে আছে রোগমুক্তি’—স্লোগানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে।


র‍্যালি শেষে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মোঃ  হারুন অর রশীদ। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খান এন্টারপ্রাইজ ও খান মৎস্য খামারের মালিক বাহালুল কবির খান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আরোশ এন্টারপ্রাইজের খায়রুল হাসান  কাঞ্চন, চেয়ারম্যান এগ্রো ফিশারিজ অ্যান্ড পোলট্রি খামারের মো. রাসেল, লালমোহন ডিম ঘরের মো. জসিম, উপজেলার বিভিন্ন খামারি এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তরের টেকনিশিয়ান ফয়জুল্লাহ, বিপ্লব কুমার দত্ত ও টিকাদানকারী এনায়েতসহ অনেকে।


আলোচনা সভায় ডিমের পুষ্টিগুণ, মানবদেহে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ এবং সুস্থ জীবনযাপনে ডিমের ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।