• প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫৯ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া (১৯) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর গ্রামের সেবু সরকার ও আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে গত ৩০ জুনও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।


স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগের পর সেবু সরকার বাড়ির প্রায় ১৫০ জন লোক গত তিন মাস ধরে এলাকা ছেড়ে নরসিংদীতে অবস্থান করছিলেন। রোববার তারা এলাকায় ফিরে এলে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। এর জের ধরে সোমবার গভীর রাতে সংঘর্ষ শুরু হয়।


সেবু সরকারের নাতি মোক্তার হোসেন সরকার অভিযোগ করেন, তাদের বংশের প্রায় দেড়শ লোক তিন মাস ধরে এলাকা ছাড়া ছিলেন। এলাকায় ফেরার পর আজগর আলী সরকার বাড়ির লোকজনের নেতৃত্বে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, গরু নিয়ে যাওয়া ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।


তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আজগর আলী সরকার বাড়ির নেতা সাদেক মেম্বার। তিনি বলেন, ‘পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। আমরা লুটপাট করিনি।’


সংঘর্ষে আহতদের বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক জুয়েল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত স্বাধীন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।


নিহত জুয়েল মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামের ছেন্টু মিয়ার ছেলে।


বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার লিটন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘জুয়েল মিয়াকে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।’


বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, পাঁচটি তাজা ককটেল ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:০৯ পিএম

“জীবনকে গড়ে তুলতে হলে নিজেকে চোখ মেলে স্বপ্ন দেখতে হবে। যে স্বপ্ন হবে দেশের জন্য এবং দশের জন্য। যে স্বপ্ন নিজেকে যেমন সমৃদ্ধ করবে, ঠিক তেমনি নিজের সমাজের তরুণদের সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলবে। একা ভালো থাকা যেমনি সুখের নয়, তেমনি সমাজের প্রতিটি মানুষকে সাথে নিয়ে ভালো থাকাটাই আসল সুখ। তাই বর্তমান প্রজন্মের জীবনমান উন্নয়নে তরুণ উদ্যোক্তাদের দক্ষতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।”


পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এবং সংগ্রাম কর্তৃক বাস্তবায়িত ও আয়োজিত (Recovery and Advancement of Informal Sector Employment (RAISE) প্রকল্পের কমিউনিটি আউটরিচ সভায় ১৬টি ট্রেডে শিক্ষানবিশ নির্বাচনের লক্ষ্যে আগত তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিকেএসএফ’র রেইস প্রকল্পের উপ প্রকল্প সমন্বয়কারী এস এম খালেদ মাহফুজ এসব কথা বলেন।


তিনি আরও বলেন- “অর্থনৈতিকভাবে নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সকলের সম্মিলিত সহযোগীতা দরকার। আর সকলের সহযোগিতাই পরবে একজন দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি করতে। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ উদ্যেক্তা সৃষ্টি করতে সহায়তা করতে পারে।


সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সংগ্রাম প্রধান কার্যালয়ের হল রুমে আয়োজিত এ আউটরিচ সভায় বরিশাল বিভাগ’র অন্যতম এনজিও সংগ্রাম (সংগঠিত গ্রামোন্নয়ন কর্মসূচি) এর নির্বাহী পরিচালক চৌধূরী মুনীর হোসেন’র সভাপতিত্বে ও প্রকল্পটির কো-অর্ডিনেটর মুনরিুজ্জামান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সংগ্রাম’র প্রতিষ্ঠাতা চৌধূরী মোহাম্মদ মাসুম, সংগ্রাম কার্যনির্বাহী পরিষদ’র সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, বরগুনা প্রেসক্লাব’র সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান, বরগুনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)’র অধ্যক্ষ এস এম সুলতান মাহমুদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বরগুনা’র উপপরিচালক মোঃ জাকির হোসেন প্রমূখ। 


এসময় বরগুনা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত তরুণ ও তরুণীদের ট্রেড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচন করা হবে শিক্ষাণবিশ উদ্যোক্তা। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, কর্মসংস্থান তৈরি ও স্বল্প ইন্টারেস্টে ব্যবস্থা করা হবে লোন। যে অর্থ দিয়ে বাস্তবে রূপ নিবে জাগ্রত সেই স্বপ্নগুলো।

সর্বশেষ সব খবর

মুকবুল হোসেন

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৯ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নিখোঁজের প্রায় এক সপ্তাহ পর তিতাস নদী থেকে মুকবুল হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।


রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার মিরপুর এলাকায় নদীর পানির তলদেশ থেকে নৌকার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করেন নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দলের সদস্যরা।


নিহত মুকবুল হোসেন উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের পাঠামারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তিতাস নদীতে বালু উত্তোলনের একটি ড্রেজার ব্যবসার অংশীদার ছিলেন।


পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার পর ড্রেজার থেকে নিখোঁজ হন মুকবুল হোসেন। এরপর স্বজন ও স্থানীয়রা নদী ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি জানিয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।


এদিকে একই এলাকায় রুবেল মিয়া নামে আরও একজন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে শনিবার রাত ১০টার দিকে তাঁকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অসুস্থ অবস্থায় রুবেল মিয়াকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তাঁর চিকিৎসা দেওয়া হয়।


মুকবুল হোসেনের সন্ধান না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দল রোববার সকাল ৮টা থেকে মিরপুর এলাকায় তিতাস নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।


প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানোর পর দুপুর দেড়টার দিকে নদীর পানির তলদেশে নৌকার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মুকবুল হোসেনের মরদেহের সন্ধান পান ডুবুরিরা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।


নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের লিডার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে ডুবুরি আশিক মাহমুদ ও দেলোয়ার হোসাইন উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।


মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, মিরপুর এলাকায় তিতাস নদীতে একজনের মরদেহ থাকতে পারে—মডেল থানার কাছ থেকে এমন তথ্য পেয়ে সকাল ৮টা থেকে তল্লাশি শুরু করা হয়। দুপুর দেড়টার দিকে পানির তলদেশে নৌকার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। পরে সেটি উদ্ধার করা হয়েছে।


বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আবু সাঈদ বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৬ পিএম

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার অনিক সরদারের বিরুদ্ধে চুরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে তাকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে রাখার একটি ঘটনার পর তার ছোট মেয়ে তুবা বিনতে বাবাকে খাবার খাওয়াচ্ছে—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই অনিকের পরিবারকে সহায়তা ও সহানুভূতি জানাতে অনেক মানুষ তাদের বাড়িতে ভিড় করছেন বলে জানা গেছে।


পরিবারটির দাবি, অনিকের বিরুদ্ধে আগে তাকে ‘ছিচকে চোর’ ও ‘মাদকসেবী’ বলে গালমন্দ করার অভিযোগ থাকলেও ভাইরাল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বর্তমানে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন মানুষ এগিয়ে আসছেন।


রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা অনিকের বাড়িতে যান। এ সময় অনিকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরিবারটি নতুন করে স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন দেখছে বলে জানা গেছে।


অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস জানান, তিনি এইচএসসি পাস করেছেন। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে তুবা বিনতের বয়স ৯ বছর এবং ছোট মেয়ে তুরিন ইসলাম তুনার বয়স ৩ বছর। সংসারে আয়ের নির্দিষ্ট কোনো পথ না থাকায় পরিবারটি আর্থিক সংকটে রয়েছে বলে জানান তিনি।


জান্নাতুলের ভাষ্য, তার স্বামী অনিক স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। সন্তানদের মানুষ করতে স্বামীর কর্মসংস্থান কিংবা নিজের জন্য একটি চাকরির প্রয়োজন বলেও তিনি জানান।


অনিক বলেন, তিনি ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চান। কেউ তার জন্য আয়-রোজগারের একটি পথ তৈরি করে দিলে নিজেকে পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।


উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, বাবার প্রতি মেয়ের ভালোবাসার দৃশ্য মানুষ দেখেছে। অনিক স্বাভাবিক জীবনে ফিরলে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


এর আগে ২৬ মার্চ শনিবার ভোররাতে বামরাইল এলাকায় চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় জনতা অনিককে আটক করে হাত-পা বেঁধে মারধর করেন। পরে শনিবার সকালে মেয়ে তুবা বাবার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মুখে খাবার তুলে দিলে এই দৃশ্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

সর্বশেষ সব খবর

চশমা ছাড়াই কোরআন পড়েন ১২৩ বছরের আব্বাস

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:২২ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার আব্বাস প্রামাণিক বয়সের ভারে এখন আর আগের মতো চলাফেরা করতে পারেন না। তবে স্মৃতিতে এখনো ধরে রেখেছেন দীর্ঘ জীবনের বহু অধ্যায়। তার পরিবার জানায়, আব্বাস প্রামাণিকের বয়স ১২৩ বছর। এ বয়সেও তিনি চশমা ছাড়াই কোরআন পড়তে পারেন। পরিবারের সদস্যদের মতে, সাদামাটা জীবনযাপন, নিয়মিত ধর্মচর্চা ও দীর্ঘদিনের সংযমী অভ্যাসই তার জীবনের বড় বৈশিষ্ট্য।


নাতি শফিকুল বলেন, তার দাদা অত্যন্ত ধার্মিক ও সৎ মানুষ। জীবনে কারও সঙ্গে অন্যায় করেননি। সহজ-সরল জীবনযাপন করেই কাটিয়েছেন সময়। তবে বয়সের কারণে এখন প্রতিদিনের কাজেও অন্যের সহায়তা প্রয়োজন হয়। 


আরেক নাতি বেলাল হোসেন জানান, আব্বাস প্রামাণিকের ছেলেময়েরা সবাই আলাদা সংসারে ব্যস্ত। ফলে তাকে দেখাশোনার জন্য নির্দিষ্ট কেউ সবসময় পাশে থাকতে পারেন না। নাতিরাই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তার যতœ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আব্বাস যে ঘরে থাকেন সেটিও বেশ ভাঙাচোরা। এ বয়সে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ও চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হলেও তা সবসময় নিশ্চিত করা যায় না।


মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, তার বয়স যখন পাঁচ বছর, তখনই মা মারা যান। এরপর বাবার কাছেই বড় হয়েছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে সৎ, পরিশ্রমী ও সংযমী জীবনযাপন করতে দেখেছেন।


আলিমা বলেন, কোথাও যেতে হলে তার বাবা বেশিরভাগ সময় হেঁটেই যেতেন। গাড়িতে ওঠার অভ্যাস খুব কম ছিল। এত বয়সেও তিনি চশমা ছাড়া কোরআন পড়তে পারেন, এটাই পরিবারের সদস্যদের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে আব্বাস প্রামাণিক মূলত নাতিদের সঙ্গেই থাকেন। সুযোগ পেলেই তিনি বাবাকে দেখতে যান এবং তার পছন্দের খাবার নিয়ে যান। 


গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, আব্বাস প্রামাণিক উপজেলার প্রবীণ ব্যক্তিদের একজন। বয়সের কারণে তার চলাফেরা সীমিত। তার যাতায়াত সহজ করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, খুবজিপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসনও বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করে আসছে।


এক জীবনে কত ঋতু পেরোয়, কত মানুষ আসে-যায়, কত স্মৃতি জমা হয় তারই এক নীরব সাক্ষী আব্বাস প্রামাণিক। সময় তার শরীরকে ধীর করেছে, কিন্তু এখনো চশমা ছাড়া কোরআনের অক্ষর পড়তে পারা যেন বয়সের ভারের মধ্যেও জীবনের এক আশ্চর্য আলোকরেখা।

সর্বশেষ সব খবর

পলাতক ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে বাদশা

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৬ এএম

আদালতে হাজিরা শেষে হাজতিদের নিয়ে কারাগারের পথে ফিরছিল পুলিশ। গন্তব্য কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১। পথে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় নাওজোড় হাইওয়ে থানার সামনে হঠাৎ বাথরুমে যাওয়ার কথা জানান এক হাজতি। পুলিশ তাকে বাথরুমে নিয়ে যায়। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি। রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পলাতক ওই হাজতির নাম রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে বাদশা (৩০)। এ ঘটনার পর তাকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন টিম।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কারাগারের উদ্দেশে ফেরার পথে গাড়িটি কোনাবাড়ির বাইমাইল এলাকার নাওজোড় হাইওয়ে থানার সামনে পৌঁছালে বাথরুমে যাওয়ার কথা জানান রাজা। পরে তাকে বাথরুমে নেওয়া হয়। সেই সুযোগটিই কাজে লাগান তিনি। পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন রাজা। মুহূর্তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। শুরু হয় তাকে খোঁজার তোড়জোড়।


পলাতক রাজা ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের ব্লক-এ, ১১৭ নম্বর বাসার মোতালেবের ছেলে। ‘পিচ্চি রাজা’ ওরফে ‘বাদশা’ নামেও পরিচিত তিনি। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কাশিমপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন। 


এ ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় তাকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন। 


কারা সূত্র জানায়, আদালতে হাজিরা শেষে কারাগারে ফেরার পথে পুলিশের হেফাজত থেকে ওই হাজতি পালিয়ে গেছেন। তাকে আবারও গ্রেপ্তারে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন টিম জোরালো অভিযান চালাচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ এএম

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার পাঁচকাহনীয়া (ভূগলী) জলমহল দখলের চেষ্টা, বৈধ ইজারাদারদের মাছ আহরণে বাধা, চাঁদা দাবি, মারধর ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জলমহলের ইজারাদার, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।


রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার বড়িবাড়ী ফেরিঘাট এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় বক্তারা জলমহল নিয়ে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


মানববন্ধনে ইজারাদার ও মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করেন, সরকারি বিধিবিধান মেনে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকায় পাঁচকাহনীয়া জলমহলটি ইজারা নেওয়া হয়েছে। মাছ চাষ ও আহরণের জন্য সেখানে প্রায় অর্ধকোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে ইজারা পাওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের বাধা ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে তাদের দাবি।


ইজারাদার মো. ফরহাদ অভিযোগ করে বলেন, জলমহল ইজারা পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন তাকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে জলমহল ছেড়ে দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


বড়িবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মাখন ও বিএনপি নেতা সামিউল হাসান রাব্বী অভিযোগ করেন, বৈধভাবে ইজারা নেওয়ার পরও জলমহলে জেলেদের নামতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ইজারাদারদের লোকজনকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি জলমহলে থাকা একটি নৌকা ভাঙচুর করে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন তারা।


তাদের দাবি, এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জলমহলকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান তারা।


ইটনা কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর শেখ বলেন, জলমহলে পাহারারত কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।


অভিযোগ অস্বীকার আমিনুল ইসলাম রতনের


তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন। তিনি ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর কিংবা নৌকা ছিনতাইয়ের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।


আমিনুল ইসলাম রতন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা কোনো একটি অভিযোগও প্রমাণিত হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।


ইজারাদারদের সংগঠনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, তিনি কোনো আইন বা আদালতের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি; স্থানীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্যের ভিত্তিতেই তিনি এ বিষয়ে অবস্থান নিয়েছেন।


প্রশাসন বলছে তদন্ত করে ব্যবস্থা


ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই বৈধ ইজারাদারকে জলমহল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইজারাদাররা জলমহলে কাজ করতে গিয়ে কোনো বাধার সম্মুখীন হলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে, জলমহল দখলের চেষ্টা ও চাঁদা দাবিসহ অভিযোগগুলোর বিষয়ে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


জলমহল নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সর্বশেষ সব খবর