ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন অংশীজনদের সাথে সমন্বয়ে সভা
ডেঙ্গু বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় প্রকোপ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই কোন না কোন জেলায় মৃত্যুবরণ করছেন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তি। শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ; কেউই রেহাই পাচ্ছে না ডেঙ্গুর এই প্রকপতা থেকে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধিই হতে পারে একমাত্র ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম উপায়। একটুখানি সচেতনতা পারে একটি জীবনকে সুস্থ ও মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে ফিরিয়ে আনতে।
বরগুনায় ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং সংক্রমণ রোধে জেলা পর্যায়ের ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরিতে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনায় জেলার বিভিন্ন অংশীজনের সাথে একটি সমন্বয় সভা করা হয়েছে।
বরগুনা জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে ও ইউনিসেফ (UNICEF), বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন- জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস।
বরগুনা জেলা তথ্য অফিসার সেলিম মাহমুদ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর বরগুনা-খুলনা প্রতিনিধি আবদুল জলিল, প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারী দপ্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন যুব সংগঠনের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিভিন্ন উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর, এমপি। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি এসব উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন।উদ্বোধন করা উন্নয়নকাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ৬৭ নম্বর নিজ ভাণ্ডারিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এবং ৭৬ নম্বর দক্ষিণ ভাণ্ডারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ।
এ ছাড়া ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জাকির পেশকারের অফিস থেকে বেলায়েত হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত এবং পেশকার মসজিদ থেকে ইউনুসের বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।
একই ওয়ার্ডে বড় কানুয়া আলীর দোকান সংলগ্ন বিসিসিটিএফ সিসি রোড থেকে হাওলাদার বাড়ি-বেপারী বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজেরও উদ্বোধন করা হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. হাসিবুল হাসান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার, ভাণ্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সদস্য সচিব মাসুদ রানা পলাশ, সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বিপ্লব, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াসিম মান্নান উৎপল হাওলাদার, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শামীম হাওলাদার প্রমুখ।এছাড়াও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়ন কাজের জন্য ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হবে আর বাকী ৬৫ শতাংশ দিয়ে টাকা মাজারের দৈনদিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে। মঙ্গলবার রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। এর ফলে শাহজালাল মাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রায় দুই মাসের সিদ্ধান্তহীনতার অবসান হলো। মিটিং শেষে এসব তথ্য জানান এই কমিটির সদসম্য সচিব জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, এখন থেকে শাহজালাল মাজারের দানের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকা থেকে ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়কাজে জন্য সোনালী ব্যাংকের একাউন্টে জমা রাখা হবে। এই একাউন্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও মাজারের মতোয়াল্লির যৌথ সাক্ষরে পরিচালিত হবে। বাকী ৬৫ শতাংশ টাকা মাজারের দৈনদিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন নির্বাহ করা হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, টাকা গণনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মাজার কমিটির পক্ষে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন বা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন। এছাড়া একজন হিসাব রক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে।
মাজার পরিচালনায় একটি কমিটি গঠন করা হবে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটির সদস্য হবেন সাতজন। এর আহ্বায়ক হবেন জেলা প্রশাসক। কমিটিতে সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদের একজন করে প্রতিনিধি ও পুলিশ সুপার থাকবেন। আর মাজারের মতোয়াল্লি এই কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন। এছাড়া নিয়োগকৃত ম্যানেজার এই কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এই কমিটি মাজারের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের টাকা নিয়ে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগ ও এ নিয়ে বিতর্কের প্রেক্ষিতে গত ২৩ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এক মাসের মধ্যে কমিটি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর সুপারিশ দেবে বলে সেদিন জানানো হয়েছিল। তবে প্রায় আড়াই মাস পর এই কমিটি সিদ্ধান্তে পৌছে। এতোদিন কোন নীতিমালা ন না হওয়ায় বিদায়ী জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের উদ্যোগের পর থেকে মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা হচ্ছে এবং গণনার পর টাকা জেলা প্রশাসনের খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হচ্ছে। এতে মাজার পরিচালনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে জনোন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের খাদেমরা।
জানা যায়, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একপাক্ষিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ জুন বিকেলে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। দানবাক্স ও ডেগ সিলগালার পর জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের পক্ষে-বিপক্ষে সিলেটজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এক পক্ষের দাবি, মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে জেলা প্রশাসক কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন।
অন্যদিকে আরেক পক্ষের অভিযোগ, মাজারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার নামে তার সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো ছিল একতরফা ও জোরপূর্বক, যা মাজারকেন্দ্রিক প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। এর পরদিন তার উপস্থিতিতে দানবাক্স সিলগালার চার দিন পর জনসমক্ষে বাক্সের তালা খুলে টাকা গণনা করা হয়।
গত ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স থেকে নগদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর ১৮ দিন পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও স্বর্ণ-রূপাও পাওয়া যায়।
সর্বশেষ ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এ সময় দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায়। সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। এদিনও দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি সোনা-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া যায়।
মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। তিনি বলেছেন, মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সিংগাইর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুন্নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ, সড়ক নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় এমপি মঈনুল ইসলাম খান শান্ত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বক্তব্য দেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আলাউদ্দিন, সাবেক উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. সফিউদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কিশোর আহমেদ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল ছালেক, জেলা খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি মো. আশরাফ আলী, উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি মো. রতন মিয়া এবং সিংগাইর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি মো. রকিবুল হাসান বিশ্বাস।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে।
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকেরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সোনাইমুড়ীর ফয়েজিয়া এতিমখানায় এতিমদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দৈনিক আমাদের সময়ের সোনাইমুড়ী প্রতিনিধি ও দৈনিক নোয়াখালীর কথার স্টাফ রিপোর্টার গোলজার হানিফ এবং দৈনিক ভোরের চেতনার সোনাইমুড়ী উপজেলা প্রতিনিধি মনিরুজ্জামানের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের সপরিবারে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা করতে গেলে সোনাইমুড়ী থানার ওসি মো. কবির হোসেন মামলা না নিয়ে অভিযোগটি রেখে দিয়েছেন। গত চার দিনেও মামলা গ্রহণ না করে তদন্তের নামে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। উল্টো আহত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেই তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই চাঁদাবাজির অভিযোগ নেওয়া হয়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, ‘চড়ুইভাতি পার্টি সেন্টারে’ হামলার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও এখনো পুলিশ সংগ্রহ করেনি। পাশাপাশি এতিমদের সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিকেরা।
মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। তারা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ সময় বক্তব্য দেন নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বিষাদ, নোয়াখালী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন বাবু, নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন সোহাগ, এ আর আজাদ সোহেল, দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার নাসির উদ্দিন বাদল, এটিএন নিউজের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম জাহান, আরটিভি ও দৈনিক আগামীর সময়ের নোয়াখালী প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনি, এশিয়ান টিভির জেলা প্রতিনিধি মুজাহিদ ইসলাম সোহেল, সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি বেলাল হোসেন ভূঞা, সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন রাজ প্রমূখ।
নাটোরের লালপুরে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) লালপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মো. একরামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবীর হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রাজশাহীর সহকারি পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম।
এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড়, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহ-সভাপতি ডা. মো. তায়েজুল ইসলাম , মোহরকয়া ডিগ্রী অনার্স পাশ কলেজের সহকারী অধ্যাপক রাব্বুল আহমেদ সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা দুর্নীতি দমন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সুলতানুজ্জামান টিপু । বিতর্ক প্রতিযোগিতায় লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় বিজয়ী হয়।
পরে উভয় দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সততা ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মির্জা ফয়সল আমিন
শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে ভূল্লী কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভূল্লী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভূল্লী উপজেলা শাখার সভাপতি মনোরঞ্জন বর্মন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাফরুল্লাহ, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আঃ হামিদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের রংপুর বিভাগের সভাপতি মনোরঞ্জন সিং এবং বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার দত্ত।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী ভুট্টো, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. নাজিমুল ইসলাম লাল এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভূল্লী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়, বালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভায় ভূল্লী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৬৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরেন তারা। সভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ জন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, পূজামণ্ডপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তিনি শুনেছেন। তিনি তাঁর বড় ভাই বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষ থেকে সবাইকে আগাম শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।
তিনি বলেন, আপনারা বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক। সামনে শারদীয় দুর্গোৎসব অনেক আনন্দের মধ্য দিয়ে পালন করব, ইনশাআল্লাহ। আমি আপনাদের কাছে একটি ছোট্ট জিনিস চাই- আপনারা মনোবল ভাঙবেন না।
মির্জা ফয়সল আমিন আরও বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর আপনারা অনেক ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। তখন আমি আপনাদের সাহস দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার বাসা যে এলাকায়, সেই জায়গার নাম কালিবাড়ি। ছোটবেলায় দেখতাম, আমার বাসার সামনে একটি জবা ফুলের গাছ ছিল। আপনাদের সম্প্রদায়ের অনেকেই সেখান থেকে ফুল নিয়ে পূজা করতেন। তেমনি আপনাদের বাড়ির তুলসী পাতার রস খেয়ে আমার জ্বর ভালো হয়েছে।
তিনি বলেন, আমার শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেব না।’
আগামী ২৯ অক্টোবরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি উপস্থিতদের উদ্দেশে বলেন, যদি আমি আপনাদের হয়ে থাকি, তাহলে আগামী ২৯-১০-২০২৬ তারিখে প্রমাণ করে দেখাবেন।’
পরে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘সোনার ও স্বপ্নের বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সবাইকে আবারও শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।