• প্রকাশ : বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৪:৪৭ এএম

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা শেষ। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে দীর্ঘ প্রচারণা শেষ হয়। এবার শুরু হিসেব নিকেশ। দীর্ঘ প্রচারণা শেষে এবার হিসেবে বসছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। সিলেট জেলার মোট ছয়টি আসন রয়েছে। বিএনপি নেতাদের দাবি, সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে এগিয়ে আছেন তাদের প্রার্থীরা। 


তবে জামায়াতের নেতাদের দাবি, কেবল সিলেট-২ আসন ছাড়া আর কোথাও এগিয়ে নেই বিএনপি। একটিতে এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। আর বাকীগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে সব আসনে নীরব ভোট বেশি। তারাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই রাজনৈতিক নেতারা তাদের জয়-পরাজয়ের হিসাব কষছেন।


প্রচার প্রচারণায় ভোটের মাঠ অনেকাংশেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থক ও তাদের নেতা-কর্মীদের দখলে ছিল। এই দুই দলের প্রার্থীরাই ৫ অগাস্ট পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনসংযোগ, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে ভালো অবস্থানে রয়েছেন দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।


সিলেট -১ঃ ‘মিথ ও মর্যাদার’ লড়াই


সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিকে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে সবসময় ‘মর্যাদার’ মনে করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জয়লাভ করেন, সেই দলই সরকার গঠন করে- এটা মিথে পরিণত হয়েছে।


এই আসনে আট প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে থাকলেও মূল লড়াই হবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের হাবিবুর রহমানের মধ্যে। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া খন্দকার মুক্তাদির দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে প্রচারে থাকায় এগিয়ে থাকলেও ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে হাবিবুর রহমানও লড়াইয়ের আলোচনায় রয়েছেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আবদুল মালিক সিলেট বিএনপি প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। 


তিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হন। তার কনিষ্ঠ ছেলে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ২০১৮ সালেও বিএনপির হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন।


এদিকে, বিএনপির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমির হাবিবুর রহমান। তাকে নিয়ে দলে কোনো কোন্দল নেই, নেই কোনো অসন্তোষ। ইসলামী ছাত্রশিবির দিয়ে রাজনীতির পথ চলা শুরু হাবিবুরের। ১৯৮২ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তিনি সিলেট জেলা শাখার আমির থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। 


এর আগে হাবিবুর রহমান সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- সিপিবির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শামীম মিয়া (আ্যাপেল), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), বাসদ-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্তি দাস (কাঁচি)।


সিলেট-২ঃ ‘ইলিয়াস-স্মৃতিতে নির্ভার’ লুনা


বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনের এক সময় সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বিএনপির রাজনীতিতে আসেন। এবার তিনি ধানের শীষ নিয়ে লড়াই করছেন। তার সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয় ভোটারদের ধারণা।


তারা মনে করেন, ইলিয়াস আলীর কারণে এখানে ব্যাপক জনপ্রিয় তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি ভোটের প্রচারে ইলিয়াস আলীর সময়ে হওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন। এদিকে, এই আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। এ নিয়ে দুই নেতার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।অবশেষে হুমায়ুন কবিরকে দলের যুগ্ম মহাসচিব (পররাষ্ট্র) হিসেবে মনোনীত করায় লুনা ‘ঝামেলা মুক্ত’ হন বলে মনে করেন সমর্থকরা।এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন-গণফোরামের মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল)।


সিলেট-৩ঃ  জোটের সুবিধা-অসুবিধা


ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ মালিক। তার সঙ্গে মূল লড়াইয়ে থাকবেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু। এ আসনে মুসলেহ উদ্দিন রাজু তার বাবা ইসলামি পণ্ডিত মাওলানা নুরুদ্দিন গহরপুরীর পরিচয়ে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। তবে বিএনপি শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পারলে ফল এম এ মালিকের পক্ষে যেতে পারে। 


তবে মালিকের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ দলের ঐক্য। আর এই আসনে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম এ সালাম দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন; তারাও ধানের শীষকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছেন। তবে তাদের অনুসারীরা শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেন তার উপরই নির্ভর করবে রাজুর ভাগ্য। এ ছাড়া এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিপক্ষে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ। জোটের সিদ্ধান্তে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।


ভোটাররা বলছেন, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী লোকমান আহমদ থাকলে নির্বাচনি লড়াই হত হাড্ডাহাড্ডি। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। তবে মূল লড়াইয়ে থাকবেন রিকশা প্রতীকের মুসলেহ উদ্দিন রাজু। এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনওয়ারুল হক (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা (ফুটবল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইনুল বাকর (কম্পিউটার)।


সিলেট-৪ঃ ‘মেয়র-চেয়ারম্যানের’ লড়াই


কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এখানে ধানের শীষের প্রার্থী। আর জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন জয়নাল আবেদীন। আরিফ ও জয়নালের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। আরিফুল হক সিলেট-১ আসনে মনোনয়র প্রত্যাশী ছিলেন। আর জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন আরিফুল হককে ‘বহিরাগত’ বলে প্রচার চালান।  


তবে সিলেট-৪ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েচেনন আরিফুল। এদিকে, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান। এলাকায় তার শক্তিশালী অবস্থান রয়েছেন। এই আসন থেকে জামায়াত কখনও নির্বাচিত হতে পারেনি। 


আর নির্বাচনের ‘ম্যাজিক ম্যান’ হিসেবে আরিফুলের খ্যাতি রয়েছে। তার সমর্থকদের ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয়, বহিরাগত কোনো বিষয় নয়। এখানে উন্নয়নই মূল লক্ষ্য।এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (ট্রাক)।


সিলেট-৫ঃ ‘ফুলতলী হুজুর ফ্যাক্টর’


দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মামুনুর রশিদ; যিনি সাধারণ মানুষের কাছে ‘চাকসু মামুন’ নামে পরিচিত। ভোটের মাঠে তার ‘ফুটবল’ হিসাব পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন কর্মী-সমর্থকরা। দলের শৃঙ্খলা না মানায় এরই মধ্যে তাকে সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহসভাপতি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার সঙ্গে কাজ করছেন এমন আরও কয়েক নেতা বহিষ্কার হয়েছেন।


বিএনপি এই আসনটি তার জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে। তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে লড়ছেন। ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপি জোট থেকে এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষে এখানে প্রার্থী হয়েছেন খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুল হাসান। তিনি দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে লড়ছেন।তাদের সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে এসেছেন আরেক আলোচিত রাজনীতিক ‘চাকসু মামুন’। 


তার গুরুত্ব অনুধাবন করে জেলা বিএনপির নেতারা ঘন ঘন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট সফর করছেন। জোট প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন। সবশেষ এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন ‘ফুলতলী হুজুর’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল লতিফ চৌধুরীর ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী। ভোটারদের অভিমত, এই আসনে ‘ফুলতলী হুজুরের’ ব্যাপক সমর্থক রয়েছেন। অতীতের নির্বাচনে দেখা গেছে, ফুলতলী হুজুরের সংগঠন ‘আনজুমানে আল ইসলাহের’ ভোট যেদিকে গেছে সেদিকেই ভোটের বাতাস তৈরি হয়েছে। 


এই ‘ভোট ব্যাংক’ সবসময় জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখে। ভোটারদের ধারণা, ‘ফুলতলী মসলকের’ একটা বড় ভোট ‘চাকসু মামুনের’ বাক্সে যেতে পারে। সেটা হয়ত মামুনের ব্যক্তি ইমেজ, দলীয় একাংশের সমর্থনের সঙ্গে বাড়তি শক্তি দেবে। এ আসনে চারবার আওয়ামী লীগ, তিনবার জাতীয় পার্টি, বিএনপি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একবার করে এবং দুবার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।


সিলেট-৬ঃ 


ত্রিমূখী লড়াইয়ের আভাস গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া এই আসনে নিজস্ব ‘ভোট ব্যাংক’ রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মাওলানা ফখরুল ইসলামের। তিনি লড়াইয়ের ময়দানে জোরেশোরে ছুটছেন। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, এখানে বিএনপির মূল সমস্যা দলীয় বিভক্তি। 


২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ফয়সল আহমদ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আদিবা হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বিশেষ করে ফয়সল আহমদ চৌধুরী বিএনপির বিকল্প প্রার্থী ছিলেন। পরে দলের চূড়ান্ত টিকেট পান এমরান আহমদ চৌধুরী। ভোটের মাঠে এরা কেউ হয়ত প্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহী’ হননি। আর জামায়াতে ইসলামীর দুই উপজেলাতেই শক্ত ভিত্তি রয়েছে। 


দলে কোনো কোন্দল নেই, সেটি সেলিম উদ্দিনকে সুবিধা দিচ্ছে।তবে কেউ কেউ এই আসনের এলাকাভিত্তিক ভোটের প্রভাবকে একেবারে নাকচ করে দিতে চান না। কারণ, জামায়াতের সেলিম উদ্দিন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী ফখরুল ইসলামের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলাতে। এটা কাজে লাগলে বিএনপির প্রার্থী গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ভালো অবস্থানে থাকবেন বলেও মনে করছেন তার নেতাকর্মীরা। 


নেতারা যা বলছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীরা এক হয়ে কাজ করছেন। আমাদের নির্বাচনি এলাকায় কিছু ছোটখাটো সমস্যা ছিল, সেটা আমরা সমাধান করেছি। যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, সিলেটের সব আসনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। আশা করছি, সবকটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাবেন।জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর শাখার আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমরা দেখতেছি, মানুষজন একটা পরিবর্তন চাচ্ছে, পুরাতন বন্দোবস্ত আর চাচ্ছে না। বিশেষ করে সমাজের তরুণ ভোটারদের একটা বড় আকাঙ্ক্ষা হল পুরাতন বন্দোবস্ত যেন আর ফিরে না আসে।”




  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৯ পিএম

নোয়াখালী সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) কে আটক করে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।


গতকাল সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা জানাজানি হয়। আটক এমরান উপজেলার অম্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটি একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।


পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়লে তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে তাকে বকাঝকা করেন। পরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে শিশুটি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন এমরানের বিরুদ্ধে গত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোবারক হোসেন এমরানকে আটক করেন। পরে তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সুধারাম থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাত সোয়া ৯টার দিকে চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।


সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষক নিজের বাসায় ওই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ শিক্ষক তাকে সেখানে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ পিএম

সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে এক যুবক তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। তাকে বেশ কিছুটা পথ শিকল দিয়ে টেনে নেওয়া হয়। তবে ভিডিওতে ওই যুবকের চেহারা দেখা যায়নি।


গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সিলেটের উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে ওই কিশোরীকে শেকল বেঁধে টেনে নেওয়ার আগে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন তাকে আটক করেন। মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরির চেষ্টা করে ওই কিশোরী। এ সময় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে শেকল বেঁধে সড়কে হাঁটানো হয়। তবে কারা তাকে মারধর করেছেন বা শেকল বেঁধে সড়কে টেনে নিয়েছেন, তা জানা যায়নি।


এ বিষয়ে সিলেট শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসে। তার বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছর হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, সে একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরি করেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি। এমনকি কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসার পরও স্থানীয়রা পুলিশকে কোনো সহযোগিতা করেননি। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।


কিশোরীকে শেকল বেঁধে সড়কে ঘুরানো প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ এমন কাজ করে থাকলে তারা অন্যায় করেছেন।


এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করতে পারেন। তবে তাকে অনতিবিলম্বে পুলিশ বা নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে।


তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিকে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়ার অধিকার সাধারণ নাগরিকের নেই। কোমরে শেকল বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটানো কিংবা তার ওপর শারীরিক বা মানসিক চাপ প্রয়োগ আইনপরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ


  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫৭ পিএম

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টঙ্গী জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। বর্তমানে হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ১০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন।


সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়লেও চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে স্বাভাবিকভাবেই। চিকিৎসক ও নার্সরা নিয়মিত রোগীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগী বলেন, “রোগীর চাপ অনেক বেশি। তবে ডাক্তার ও নার্সরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছি। হাসপাতালের সেবায় আমরা সন্তুষ্ট।”


টঙ্গী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. নিশাত আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিশেষ নজরদারি করছে। নতুন রোগী ভর্তি হওয়ার পর দ্রুত প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও যাতে কেউ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


সচেতন মহলের মতে, ডেঙ্গুর প্রকোপ কমাতে শুধু হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৩ পিএম

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলা চাকলা ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক নাবালিকা মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার প্রেক্ষিতে ঘটনার প্রধান আসামি মো. আখিনুরকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


গ্রেপ্তার আখিনুর পঞ্চগড় সদর থানার চাকলা ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার মো. বুলেটের ছেলে।


মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত কিশোর একই মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে আখিনুর দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে গত ৭ মে রাতে বাড়ির সবার অনুপস্থিতির সুযোগে আখিনুর ওই নাবালিকাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠে।


সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পঞ্চগড় লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে ওই কিশোরী ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ওই কিশোরী আখিনুরের সঙ্গে জোরপূর্বক মেলামেশার বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নিতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।


পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


ঘটনাটি এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে জানিয়ে স্থানীয় একজন মফিজার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অসম প্রেমের গল্প শুনেছি কিন্তু এত ন্যাক্কারজনক ঘটনা এর আগে কখনো শুনিনি। এই ঘটনাটি আমাদের স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মনোবৃত্তিতে বাজে প্রভাব ফেলার আগেই সঠিক বিচার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।


এদিকে মামলার বাদী শাহীনুর ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, আমার বাবা ১৫ বছর ধরে নিখোঁজ, মা প্রতিবন্ধী (বোবা) এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একই এলাকার বুলেট ইসলামের ছেলে আখিনুর এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার পর উপায়ান্তর না পেয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এখন প্রতিনিয়ত হাটে বাজারে ওই ছেলের পরিবারের লোকজন আমাকে মামলাসহ দেখে নেবে বলে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।


আটককৃত আখিনুরের চাচা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, আমার ভাতিজা এমনটা করেছে বিশ্বাস করি না। তবুও মামলা না করে এলাকার লোকজনসহ বিষয়টি নিয়ে বসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা বসেনি।


আটককৃত আখিনুরের প্রকৃত বয়স সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমার ভাতিজাকে এর আগে ২ বছর হাফেজি পরিয়ে পরে মাদ্রাসায় ভর্তি করি। এখন সে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার জন্ম ২০১২ সালের চব্বিশ ফেব্রুয়ারি। সেই অনুপাতে ১৪ বছর ৭ মাস প্রায়। কিন্তু মামলার এজাহারে তাকে ১৯ বছর দেখানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই মেয়ের স্বভাব চরিত্র ভালো নয় এটা এই এলাকার সবাই জানে।


মাদ্রাসাটির সুপার হাবিবুর কালবেলাকে জানান, আখিনুর তাদের মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। কিছুদিন আগে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগে তাকে মাদ্রাসায় আসতে নিষেধ করেছিলাম। এরপর সে মাদ্রাসায় অনেকদিন আসেনি। ভিকটিম কিশোরী তাদের মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলেও তিনি জানান।


পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকলেছুর রহমান বলেন, মামলা পাওয়ার পরে ওই কিশোরীর জবানবন্দি শুনেছি। পরে মামলার প্রধান আসামিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:১১ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘ইসলামী’ দল বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।


তার দাবি, ‘‘জামায়াত তাদের লোগো থেকে ‘আকিমুদদ্বীন’ কথাটি উঠিয়ে ফেলেছে। এতে ওখানে ইসলাম কথাটি আর থাকে না। তাই তাদেরকে ইসলামী দল বলাও যায় না।’’


মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলম মাদ্রাসায় কর্মী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসলামী আন্দোলনের আমির এসব কথা বলেন।


সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে চরমোনাই পীর বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী দলের লোগো থেকে আকিমুদদ্বীন কথাটি উঠিয়ে ফেলেছে। এতে ওখানে ইসলাম কথাটি আর থাকে না। গত নির্বাচনের ইশতেহারে জামায়াত যে ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালাবে, এ কথা কোথাও বলেনি। পাশাপাশি জামায়াতের আমির সে সময় বলেছিলেন, তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ চালাবেন না, প্রচলিত আইনে চালাবেন। সব মিলিয়ে বলা চলে জামায়াত আর ইসলামী দল নয়। তাদেরকে ইসলামী দল বলাও যায় না।’


১১ দলের লংমার্চ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, ‘‘জামায়াতে ইসলামী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন দাবিতে লংমার্চ করেছে। সেখান থেকে ফিরে সংসদে দলের আমির বলেছেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যা বর্তমান সরকারের সৃষ্ট নয়’, তাহলে এতো তেল গ্যাস পুড়িয়ে লংমার্চ কেন করলেন? এমন দ্বিমুখি আচরণ কেন।’’


একই সাথে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে নিয়েও অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তার দাবি, বিএনপি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। ‘নির্বাচনের আগে ওয়াদা করেছিল ক্ষমতায় গেলে শরিয়াবিরোধী কোনো আইন করবেন না। কিন্তু সে ওয়াদা রাখছেন না। সংসদে তারা এরই মধ্যে শরিয়াবিরোধী আইন অনুমোদন দিয়েছে’—যোগ করেন মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম।


তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, ‘তারা (সরকার) শরিয়াবিরোধী আইন থেকে ফিরে না আসলে আমরা প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হব।’


মশা নিধনে গাসিকের কর্মসূচি।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ পিএম

ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় আমেরিকান প্রযুক্তির লার্ভিসাইড (ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস ইসরায়েলেনসিস) স্প্রে ব্যবহার শুরু করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক)।


ডেঙ্গু থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্রথমবারের মত পরিবেশবান্ধব ও অধিক কার্যকর নতুন কীটনাশক প্রয়োগ কার্যক্রম সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার।


পরবর্তী মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মত কীটনাশক প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এসময় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন, সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মাদ রহমত উল্লাহ, সহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব-যান্ত্রিক) আমজাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। 


সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের নির্দেশে ব্রাজিল থেকে আনা বিশেষায়িত আধুনিক হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের সাহায্যে লার্ভা ধ্বংস কার খুবই সহজ। 


এসব মেশিন শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত প্রফেশনাল গ্রেড স্প্রে মেশিন, যার মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকরভাবে লার্ভিসাইড বা কীটনাশক ছিটানো সম্ভব। প্রতিটি মেশিনে ১৩ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্ক এবং শক্তিশালী স্প্রে ব্যবস্থা রয়েছে, যার সাহায্যে প্রায় ২ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত ওষুধ ছিটানো যায়। এতে অ্যান্টি-ভাইব্রেশন প্রযুক্তি ও আরামদায়ক কাঁধের বেল্ট থাকায় দীর্ঘসময় কাজ করলেও অপারেটরদের জন্য ব্যবহার সহজ হয়।


সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মাদ রহমত উল্লাহ বলেন, এ ওষুধ (পাউডার) প্রথমে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে ফগার মেশিন দিয়ে নালায় স্প্রে করা হয়। লার্ভিসাইড এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- এটি মানব দেহ ও পরিবেশের কোন ক্ষতি করে না; এটি কেবল মশার লার্ভা ধ্বংস করে এবং মশার বংশবিস্তার রোধে কাজ করতে বা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অত্যান্ত কার্যকর। 


আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন জানান, যেখানে মশার প্রজননকেন্দ্র বা লার্ভা বেশি সেখানে আগে লার্ভিসাইড স্প্রে প্রয়োগ করা হবে। আপাতত ডেঙ্গুর ৯টি ডেঞ্জার জোন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডের এ পরিচালনা করা হবে। বিটিআই স্প্রে করার মাধ্যমে পুরো সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মশার যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী।


তিনি নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোথাও যাতে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করেন। 


আরেক প্রশ্নের উত্তরে সালমা খাতুন বলেন, এ মুহূর্তে মশার উপদ্রব বেড়েছে ,তাই প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে  বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও কার্যকর পরীক্ষিত ওষুধটা ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। এ ওষুধ একবার ছিটালে ১৫ দিন ওই জায়গা নিরাপদ থাকে। তবে আমাদের ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। বিটিআই ব্যবহারে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু পুরো শহরে এ ওষুধ ছিটাতে পারলে ভালো রেজাল্ট পাব।


স্থানীয়রা আশা করছেন, নতুন মশা মারার ওষুধ কার্যকর হবে এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া থেকে এলাকাবাসী রক্ষা পাবেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।