২৩ বছরে সিলেট জেলায় জলাশয় ও জলাভূমি কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং নগরায়ণ বেড়েছে ৩০০ শতাংশ। ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ন্যাচারে’-এ প্রকাশিত গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গত দুই দশকেরও বেশি সময়ে দ্রুত বদলেছে সিলেট।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহির উদ্দিন ও আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক এস এম নজমুল হক।
গবেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করছে না, বরং আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে। গবেষণা বলছে, সিলেটে গত ২৩ বছরে দ্রুত বদলে গেছে ভূমির ব্যবহার ও প্রাকৃতিক পরিবেশের চিত্র। একদিকে কমেছে নদী, খাল-বিল, জলাভূমি ও উন্মুক্ত পানি ধারণকারী এলাকা, অন্যদিকে বেড়েছে নগরায়ণ, কংক্রিটের স্থাপনা ও অবকাঠামো। গবেষণায় ২০০০, ২০০৫, ২০১০, ২০১৫, ২০২০ ও ২০২৩ সালের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে সিলেট জেলার ভূমি ব্যবহার ও ভূমি আচ্ছাদনের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে| গবেষণায় গুগল আর্থ ইঞ্জিন, ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইট ডেটা এবং র্যান্ডম ফরেস্ট ক্লাসিফায়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে সিলেটের ভূমিকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়- নগর এলাকা, খালি জমি, জলাশয় ও উদ্ভিদ আচ্ছাদন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিলেট জেলায় নগর এলাকা প্রায় ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে জলাশয় ও জলাভূমি কমেছে প্রায় ৭৭ শতাংশ। গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা ধ্বংস এবং অপরিকল্পিত নগর বিস্তারের ফলে সিলেটের মতো বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে ঝুঁকি আরো বাড়ছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে সিলেট জেলার মোট ভূমির ৩৪ দশমিক ২৫ শতাংশ ছিল জলাশয় ও পানিপূর্ণ এলাকা। ২০২৩ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশে। অর্থাৎ ২৩ বছরে সিলেট তার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জলাভূমি হারিয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সিলেটের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে জলাশয় কমে যাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ফলে বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধারণের সক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত প্লাবন ভূমিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্বনাথ উপজেলায় জলাশয় কমেছে সবচেয়ে বেশি। সেখানে পানিপূর্ণ এলাকা হ্রাসের হার প্রায় ৯০ শতাংশ। এছাড়া, বিয়ানীবাজার, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও সিলেট সদরেও জলাশয়ের বড় ধরনের সংকোচন দেখা গেছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০০০ সালের জলাশয়ের প্রায় ৭ শতাংশ এলাকা ২০২৩ সালের মধ্যে নগর এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়া ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জলাশয় খালি জমিতে পরিণত হয়েছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০০০ সালে সিলেট জেলার মোট ভূমির মাত্র ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ ছিল নগর এলাকা। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪৬ শতাংশে। বিশেষ করে সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, গোলাপগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় নগর বিস্তার সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, গ্রাম থেকে শহরমুখী মানুষের চাপ, নতুন আবাসন প্রকল্প, বহুতল ভবন, হোটেল, বিপণিবিতান ও সড়ক অবকাঠামো বৃদ্ধির কারণে এই পরিবর্তন ঘটেছে।
উপজেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলায় নগর এলাকা বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শতাংশ। সিলেট সদর উপজেলায় বেড়েছে প্রায় ২৪০ শতাংশ। ফেঞ্চুগঞ্জে নগরায়ণ বেড়েছে এক হাজার শতাংশের বেশি। ২০০০ সালে সিলেট সদরে নগর এলাকা ছিল প্রায় ২ হাজার ৩৮৫ হেক্টর। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১১১ হেক্টরে| একই সময়ে গোয়াইনঘাটে নগর এলাকা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৮৫৬ হেক্টর।
প্রকাশনায় ‘হটস্পট’ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেসব এলাকা শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে ভূমি ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বদলেছে| এতে দেখা যায়, বালাগঞ্জ, সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ভূমি রূপান্তর ঘটেছে।
বালাগঞ্জ উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এলাকাকে ভূমি পরিবর্তনের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব এলাকায় দ্রুত নগর বিস্তার, ভূমি উন্নয়ন ও মানবিক হস্তক্ষেপের কারণে পরিবেশগত পরিবর্তন বেশি ঘটেছে। অন্যদিকে কানাইঘাট, ˆজন্তাপুর ও জকিগঞ্জের কিছু এলাকায় তুলনামূলক কম পরিবর্তন হয়েছে। এসব এলাকাকে ‘কোল্ডস্পট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কানাইঘাটে সবচেয়ে বেশি স্থিতিশীল ভূমি পাওয়া গেছে। গবেষণায় ২০০৫ সালে উদ্ভিদ আচ্ছাদনের অস্বাভাবিক হ্রাস এবং খালি জমির ব্যাপক বৃদ্ধির বিষয়টিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, ২০০৪ সালের দীর্ঘস্থায়ী আগাম বন্যা সিলেট অঞ্চলের বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ও সবুজ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। এর ফলে বহু এলাকা সাময়িকভাবে খালি জমিতে পরিণত হয়। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৫ সালে খালি জমির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় মোট ভূমির ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশে। একই সময়ে উদ্ভিদ আচ্ছাদন কমে দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৩৮ শতাংশে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সিলেট ভৌগোলিক ভাবেই বন্যাপ্রবণ অঞ্চল। পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও নদীর প্রবাহের কারণে এখানে আকস্মিক বন্যা প্রায়ই দেখা যায়| তবে, সাম্প্রতিক নগরায়ণ ও জলাশয় ধ্বংস পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
গবেষকদের মতে, কংক্রিটের স্থাপনা ও অপরিবাহী ভূমি বাড়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত জমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংকুচিত হওয়ায় পানি নামতে পারছে না। এর ফলে নগর এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে।
এ বিষয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. জহির উদ্দিন জানান, সিলেটকে ভবিষ্যৎ দুর্যোগ ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে এখনই টেকসই নগর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি|। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং অনিয়ন্ত্রিত ভূমি ভরাট বন্ধে কঠোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
ঠাকুরগাঁওয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্যানিটেশন মার্কেটিং সিস্টেম (স্যানমার্কস) প্রকল্পের আওতায় জেলা পর্যায়ে স্যানমার্কস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ (৯ সেপ্টম্বর বুধবার) দুপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আয়োজনে তাদের নিজস্ব হলরূমে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, ঠাকুরগাঁও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবিব, বিশেষ অতিথি সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অফিসার মোঃ বাবুল আকতার, প্রকৌশলী দীপক রায়, সহকারী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকন এস্টিমেটর আব্দুল মালেক।
এছাড়াও স্থানীয় স্যানিটারি ল্যাট্রিন উৎপাদনকারী, স্যানিটেশন ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনগণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সভায় প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আহসান হাবিব বলেন তাঁর বক্তব্যে সেনমার্কস প্রকল্পের-এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি ল্যাট্রিন উৎপাদনকারীদের উত্থাপিত সমস্যা ও চাহিদাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ভবিষ্যতে স্যানিটেশন কার্যক্রমকে আরও টেকসই, কার্যকর ও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় স্যান মার্কস এর কার্যক্রমের মাধ্যমে স্যানিটেশন মার্কেট আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ল্যাট্রিন উৎপাদনকারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, মানসম্মত তথ্য ও সাশ্রয়ী স্যানিটেশন পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের চাহিদাভিত্তিক স্যানিটেশন সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া স্যানিটেশন কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, স্যানিটেশন ব্যবসায়ী, ল্যাট্রিন উৎপাদনকারী এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও নিয়মিত যোগাযোগ বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় নৌকায় অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ইয়াবা চোরাচালানের সময় প্রায় ৪২ কোটি টাকা মূল্যের আনুমানিক ১৪ লক্ষ পিস ইয়াবাসহ ০২ জনকে আটক করেছে ৬৪ বিজিবি।
বুধবার বিকেলে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ জহিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, আজ ৯ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) হ্নীলা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ সুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিনব কায়দায় নৌকার সাথে বেধে বস্তায় করে ইয়াবা নিয়ে যাওয়ার সময় ২ জন আসামীসহ এযাবত কালের সর্ববৃহৎ ইয়াবা চোরাচালান আনুমানিক ১৪ লক্ষ পিস ইয়াবা আটক করেছেন।
তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তিগত এবং জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ব্যাটালিয়নের সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে এবং চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পঞ্চগড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়।
এ উপলক্ষে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে জেলা মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। পরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা মহিলা দলের সভাপতি লায়লা আরজুমান্দ বানু মুক্তির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আদম সুফিসহ মহিলা দল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নারী সমাজকে সংগঠিত করার পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা দলীয় আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
আব্দুল মালেক নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
ময়মনসিংহের ভালুকায় নিখোঁজের তিনদিন পর একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে আব্দুল মালেক (৫৫) নামে এক কৃষকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গতিয়ার বাজার এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল মালেক ওই এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন আব্দুল মালেক। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বাড়ির পাশে একটি তালগাছের নিচে পড়ে থাকা তাল কুড়াতে যাওয়ার কথা ছিল আব্দুল মালেকের। আজ বুধবার সকালে তার ছেলে সুজন বাড়ির আশপাশে বাবাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে ঝোপঝাড়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কাছে গিয়ে পানিতে তার বাবার মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের ভাতিজা মো. আকরাম বলেন, ‘আমার চাচা দুই দিন আগে তাল কুড়াতে গিয়েছিলেন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজছিলেন। সকালে তার ছেলে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।’
ভালুকা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইসমাইল বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়ক, মহাসড়ক, রাস্তার দু’পাশ, নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড়ের ভাঙন এবং মাটির ক্ষয়রোধে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযোগী ঘাস ও উদ্ভিদভিত্তিক সবুজায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন মাটির ক্ষয় ও ভাঙন কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা যাবে।
তিনি বলেন, ভূমি রক্ষায় ব্যয় সাশ্রয়ী বিন্না ঘাস রোপণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। তাই বিন্না ঘাস রোপণের নীতিমালা প্রণয়নের সময় রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, সড়ক, বাঁধ ও নদীতীরবর্তী এলাকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় ভৌগোলিক ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে। ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, মাটির ধরন, পানি প্রবাহ, জলবায়ু ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় দেশের অবকাঠামো, নদী ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই পদ্ধতি হিসেবে ঘাস রোপণের সম্ভাবনা, কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া শোকের ছায়া ফেলেছে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায়।
নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। চাকরির সুবাদে পরিবার-পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণ সৈনিকের জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই পিয়াসের ঘর আলো করে এসেছিল একটি নবজাতক সন্তান। সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্য পৃথিবীতে আসা সেই সন্তান। পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই এবং কয়েকদিন আগে বাবা হওয়ার আনন্দে থাকা পিয়াসের নিথর দেহের অপেক্ষায় এখন স্বজনদের প্রহর গোনা।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।