নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:১০ এএম

নীলফামারী-৪ আসনে বিএনপি নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে আনন্দ মিছিল হয়েছে। নির্বাচনী বৈতরণী যাত্রায় হাজার নেতা-কর্মীদের ঢল নামে।


আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা  দলে দলে স্টেডিয়াম মাঠে অংশগ্রহণ করেন। এতে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ মহিলা দলের বিপুলসংখ্যক নেত্রী ও কর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। 


পরে একটি বিরাট মিছিলের বহর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী নেতা- কর্মীরা দলীয়  নির্বাচনী প্রতীক সম্বলিত ব্যানার- ফেস্টুন বহন করেন। 


মিছিলটি শুরুর আগে দুপুর ৩টায় স্টেডিয়াম মাঠে নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার বলেন, সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির নেতৃত্বে আমরা সকলে আজ একত্রীত হয়েছি। 


বিএনপি ৭১ এর শক্তি। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি, বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি। ১২ তারিখে ইনশাআল্লাহ ধানের শীষের জয় হবে। 


এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেত্রী বিলকিস ইসলাম স্বপ্না, সৈয়দপুর  রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, সৈয়দপুর  রাজনৈতিক জেলা বিএনপির  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার রহমান, সহ-সভাপতি এ্যাড. ওবাইদুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ বিএনপির  সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম তাজুল ইসলাম ডালিম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইবনে সাঈদ সুজন প্রমুখ।



ভাইরাল ভিডিও ইস্যুতে প্রতিমন্ত্রী

শিক্ষিকার গান গাওয়াকে অন্যায় মনে করি না


ববি হাজ্জাজ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:৫৭ পিএম

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষিকার ভিডিও প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটা কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না। গতকাল রোববার বিকেলে সিলেট বিভাগের শিক্ষাকর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 


শিক্ষিকার ভিডিও প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, আমি ভিডিওটি দেখিনি। কয়েকজন আমাকে বলেছেন, একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। সেখানে অশ্লীলতা নেই। গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটা কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না। 


তিনি বলেন, আমরা পুরোপুরিভাবে ক্লাস ফোর ও ফাইভে কালচারাল এডুকেশন নিয়ে আসছি। কালচারাল এডুকেশনের ভেতরে গান-নাটক, কবিতা, কেরাতসহ সবকিছু থাকবে।


সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের রিল ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে সরকারি যে নির্দেশনা রয়েছে তা লঙ্ঘন হয়েছে কি না-সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানালেও তা হচ্ছে না। 


আজ সোমবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ জানিয়েছেন সেখানে অপরাধের কোনো বিষয় নেই। প্রতিমন্ত্রীও বিষয়টি জেনেছেন। সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না।


গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বিউটি পাল নিজের ফেসবুক আইডি থেকে কয়েক সেকেন্ডের ওই রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিও তে দেখা যায়, বাংলা গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ এই গানের সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শাড়ি পরে হাঁটছেন ওই শিক্ষিকা।  শুরুর দিকে ভিডিওটি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা হলেও পরবর্তীতে শিক্ষিকার পক্ষে অবস্থান নেন শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

মুখ থুবরে পড়েছে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ

ছয় বছরে তিন পিলারে আটকে আছে সেতু নির্মাণ


যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথের কাজ দীর্ঘদিন ধরে মুখ থুবরে পরে রয়েছে

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:২১ পিএম

 ভোগান্তিতে লাখো মানুষ   ঠিকাদারদের দ্বন্দ্বই মূল কারণ   মূল ঠিকাদার আত্মগোপণে


ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতা, কাজে গাফলতি ও প্রতারণার কারণে টাঙ্গাইলের নিউ ধলেশ্বরী নদীর উপর কালিহাতী উপজেলার জোকারচরে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে মুখ থুবরে পরে রয়েছে। সামান্য একটু কাজ করেই প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে ঠিকাদার। ছয় বছরে মাত্র তিনটি পিলারে আটকে আছে সেতু নির্মাণ। এতে দুটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মুখ থুবরে পড়েছে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ।

 

টাঙ্গাইল এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমে চরাঞ্চলের মাহমুদ নগরের গোল চত্ত্বর থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হয়েছে। জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যে জোকারচরে ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মাণে এলজিইডি ৩৪ কোটি ১৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৬৪ মিটার পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করে। হায়দার কন্সট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড, অবনী এন্টারপ্রাইজ ও সৈয়দ মজিবুর রহমান নামক তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয়েন্টভেঞ্চারে সেতু নির্মাণের কাজ পায়। ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তাদের কার্যাদেশ (ওয়ার্কঅর্ডার) দেওয়া হয়। 


সরেজমিনে দেখা যায়- জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর বামতীরে দুইটি ও ডানতীরে একটি পিলার নির্মাণ করেই মূল ঠিকাদার মো. হেকমত আলী এলজিইডি থেকে ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৩ টাকা বিল উঠিয়ে নিয়েছেন। এলাকাবাসী জানায়, একেক সময় একেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সাইটে আসে, মাপ-ঝোক করে, ইট-রড আনে আবার চলে যায়। তারা জানেইনা সেতু নির্মাণের মূল ঠিকাদার কে? 




ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এলজিইডির চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা। কিন্ত অংশিদারদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি, মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় দেড় বছরে তারা কাজই শুরু করেনি। কার্যাদেশ পাওয়ার দেড় বছর পর জয়েন্টভেঞ্চারের এক অংশিদার সৈয়দ মজিবুর রহমান সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ২০২১ সালে এপ্রিল তিনি ওই সেতুতে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। 


হঠাৎ করে অপর এক অংশিদার অবনী এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী হেকমত আলী সেই কাজ বন্ধ করে দেয় এমন অভিযোগ করেন সৈয়দ মুজিবুর রহমান। এসব ঘটনায় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। সৈয়দ মুজিবুর রহমান টাকা ফেরত চেয়ে প্রশাসনসহ বিভিন্নস্থানে চিঠি দেন। তাদের মধ্যে মামলা পাল্টা মামলা হয়। মো. হেকমত আলী অপর দুই ঠিকাদার হায়দার ও সৈয়দ মজিবুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে গাজিপুরের এক ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের কাছে কাজটি বিক্রি করে দেন। 


জয়েন্টভেঞ্চারের অংশিদার সৈয়দ মজিবুর রহমান বলেন, দুই অংশিদার হেকমত ও হায়দার কাজ করবেন না বলে আমাকে স্ট্যাম্পে লিখে দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করার দায়িত্ব দেয়। ২০২১ সালে এপ্রিল মাসে আমি সেখানে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করি। হঠাৎ করে এক অংশিদার হেকমত সন্ত্রাসী বাহিনী এনে আমার কাজ বন্ধ করে দেয়। সেতুর নির্মাণ সে করবে বলে জানায়।

 

গাজিপুরের ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, হেকমত আলী তার সাথে প্রতারণা করছেন। তিনি পাইলিং সহ ওই সেতু নির্মাণে দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকা হেকমতকে দিয়েছেন। জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলেঙ্গা রিসোর্টে আটকিয়ে সব চুক্তিপত্র ফেরত নেন। তার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তিনি কোনো টাকা ফেরত পাননি।


এদিকে হেকমত সেতুর তিনটি পিলার নির্মাণ করেই ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৩ টাকা বিল উঠিয়ে নেন। ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পর হেকমত আলী আত্মগোপণে চলে যান। বন্ধ হয়ে যায় অতিগুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণ কাজ।


এদিকে জনগণের যাতায়াতে ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে এলজিইডি কর্র্তৃপক্ষ চলতি বছরের ৯ মার্চ জোকারচরে ওই সেতুর নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়- ৩৪ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৯ টাকা। নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী-এলহোজ জয়েনভেঞ্চার(জেভি)। তাদের আগামী ২২ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। 


জোকারচর গ্রামের ইউনুস শেখ, বিদ্যুত মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, মাসুদ রানা জানান, সেতুটি মূলত যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথের সেতুবন্ধন। সেতুটি নির্মিত হলে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ তৈরি হবে। টাঙ্গাইল শহর সহ পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সহজেই এই সেতু দিয়ে উত্তরাঞ্চলে যেতে পারবে। এতে প্রতি ঈদে মহাসড়কে যানজটও হবেনা। বিকল্প পথ দিয়ে এলেঙ্গা যেতে পারবে। জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। 


টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানার পারভীন জানান, ঠিকাদারদের একে অপরের মধ্যে মিল না থাকা ও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ হয়নি। তবে তারা যতটুকু কাজ করেছিল তার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারও নির্বাচন করা হয়েছে। এবার নির্দিষ্ট সময়েই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩৭ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩৭ এএম


কামরাঙ্গিরচর ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩৭ পিএম

বুড়িগঙ্গার তীর ঘেষে কামরাঙ্গিরচর। ঘিঞ্জি বসতি আর ক্রমাগত লোকসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। রাজধানীর নিম্ন আয়ের লোকের বসবাস এই অবহেলিত জনপথ কামরাঙ্গিরচরে। বাড়ী ভাড়া কম, সুপেয় পানির সহজলভ্যতা সেই সাথে অলিগলিতে গড়ে ওঠা কুটির শিল্পে কর্মসংস্থান সর্বোপরি রাজধানীর কোল ঘেঁষে যার অবস্থান, সেই কামরাঙ্গিরচরে লোকসংখ্যা বাড়ছে অস্বাভাবিকগতিতে। 


বর্তমানে লোক সংখ্যা প্রায় ১৮ লক্ষ। এই ১৮ লক্ষ মানুষের চিকিৎসার জন্য রয়েছে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট একমাত্র সরকারী হাসপাতাল। ১০১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপনের নিমিত্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় সম্মতি এখন দোটানায় পড়ে আছে।


প্রকল্প প্রণয়ন এবং পদ সৃজনের প্রস্তাব প্রেরণসহ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের স্মারক নং-৪৫ (সংক্ষেপে) তারিখ : ৬/৭২০২৬ইং তারিখের স্মারক মোতাবেক স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে একটি তালিকা প্রণয়ণ করা হয়েছে।


আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, এই তালিকায় দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে পিছিয়ে পড়া ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা অধ্যুষিত ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এই কামরাঙ্গিরচর হাসপাতালের নামটি স্থান পায়নি।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,কামরাঙ্গিরচরে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট একমাত্র সরকারী হাসপাতালে ডাক্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নেই কোন কোয়ার্টার। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অপ্রতুলতাসহ নানা অসুবিধা সত্বেও হাসপাতালটির বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ তাহমিনা হাছানের সুদক্ষ পরিচালনায় এলাকার মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অতীতে যখন এখানে চিকিৎসা হতো না, মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল এই হাসপাতালটির উপর থেকে। 


বর্তমান তত্বাবধায়ক যোগদানের পর রোগী সেবা বৃদ্ধি পেয়েছে। আস্থা বেড়েছে, চিকিৎসকের ভালো ব্যবহার এবং সূচিকিৎসার কারণে।


কামরাঙ্গীরচর একটি জনবহুল এলাকা। এখানে বসবাসরত ১৮ লক্ষ লোকের বেশিরভাগ মানুষই দরিদ্র। কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যা হাসপাতালটি অত্র এলাকার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল। এই হাসপাতালে বহিঃবিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৭০০-৮০০ জন রোগী সেবা গ্রহণ করেন। 


কিন্তু হাসপাতালে জনবল ঘাটতি আছে। স্বল্প জনবল দিয়ে এই বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে সেবা দেওয়া খুবই কষ্টকর। হাসপাতালটির জন্মলগ্ন থেকে কিছু পদ সৃজন করা হয়নি। 


দেশের অন্যান্য ৩১ শয্যা হাসপাতালের তুলনায় অত্র হাসপাতালে বেশ কিছু পদ কম সৃজন হয়। যেমন এখানে মিডওয়াইফ পদ নেই। বিগত ৬ মাসে অত্র হাসপাতালে ৬৭টি নরমাল ডেলিভারী হয়েছে। মিডওয়াইফ থাকলে আরও বেশি নরমাল ডেলিভারীসহ গর্ভবতী ও প্রসূতী মায়েদের সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। তাছাড়া কিছু অতি জরুরী পদ যেমন-পরিসংখ্যানবিদ, স্টোর কিপার, এসএসিএমও ইত্যাদি পদও অত্র প্রতিষ্ঠানে সৃজন হয় নাই। 


তাই জনস্বার্থে এবং হাসপাতালের যাবতীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সিনিয়র স্টাফ নার্স ১৮জন, মিডওয়াইফ ৪জন, স্টোর কিপার ১জন, পরিসংখ্যানবিদ ১জন, উপসহকারী মেডিকেল অফিসার ১জন, ফার্মাসিস্ট ১জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবঃ) ১জন পদায়ন খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:২২ পিএম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি পরিত্যক্ত একনলা এলজি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।


সোমবার (২৭ জুলাই) ভোরে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের পালপাড়া হাজীবাড়ি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।


পুলিশ জানায়, সোনাইমুড়ী থানার একটি মামলার আসামি মাইন উদ্দিন মামুনকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের পালপাড়া হাজীবাড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তার বাড়ির উত্তর পাশে অবস্থিত একটি ভাঙা লাকড়ির ঘর থেকে একটি একনলা এলজি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড কার্তুজ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানে আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।


নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজের উৎস এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:০০ পিএম

পরীক্ষা ছাড়াই গোপনে দুটি পদে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোপালঝাড় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। চাকরির কথা বলে অর্থ লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি। তবে নিয়োগের বিষয়টিকে বানোয়াট দাবি করে প্রধান শিক্ষকের পাল্টা অভিযোগ, স্কুলের ওয়েবসাইট হ্যাক করে জালিয়াতির মাধ্যমে এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যদিও শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, খোদ প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব আইডি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করেই নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতার বিলের ফাইল সরকারি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।


১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী গোপালঝাড় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৬ জন শিক্ষক ও ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে বিদ্যালয়টির খালি থাকা অফিস সহায়ক ও নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগের জন্য পরপর তিনবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযোগ রয়েছে, কোনোবারই নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন করা হয়নি। সম্প্রতি পরীক্ষা ছাড়াই চুপিসারে অফিস সহায়ক পদে জাহিদুল ইসলাম এবং নৈশ প্রহরী পদে পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতির ভাতিজা সবুজ ইসলামকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।


মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন নতুন নিয়োগ পাওয়া অফিস সহায়ক জাহিদুল ইসলাম। তবে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ পাওয়া সবুজ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো সারা দেননি। এদিকে, গোপনে সম্পন্ন করা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির অন্য সদস্যদের। 


ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বজলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কমিটির সদস্য হিসেবে আছি। আগের নিয়োগগুলোর কথা জানতাম। কিন্তু এই দুটি পদে নিয়োগের ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না, আমার কোনো স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি। আমাকে বলা হয়েছিল আপাতত কোনো নিয়োগ হবে না, পরবর্তী নতুন কমিটি আসলে তাদের মাধ্যমে হবে। পরে শুনলাম ব্যাকডেটে নাকি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সদস্যের স্বাক্ষর ছাড়া কীভাবে এই ব্যাকডেটে নিয়োগ দেওয়া হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়।


ভুক্তিভোগী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চক্রের প্রথম শিকার হন গোপালঝাড় গ্রামের বাসিন্দা মো. আলমগীর। অফিস সহায়ক পদে চাকরির আশায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির হাতে কয়েক দফায় ৮ লাখ টাকা তুলে দেন তিনি। পরবর্তীতে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই গোপনে অন্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হলে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে।


ভুক্তভোগী মো. আলমগীর বলেন, আমি অফিস সহায়ক পদে চাকরির জন্য জমি জমা বিক্রি করে এবং ধার-দেনা করে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির হাতে টাকা তুলে দিয়েছিলাম। আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছিল চাকরি আমারই হবে। এমনকি আবেদনের সুবিধার জন্য প্রধান শিক্ষক জালিয়াতি করে আমার ভোটার আইডি কার্ডে বয়সও কমিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে জানতে পারি, আমার চেয়েও বেশি টাকার বিনিময়ে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই গোপনে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চাকরির নামে আমার সাথে চরম প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে শিক্ষা অফিস সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার মেলেনি। 


চাকরিপ্রত্যাশীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান। তার দাবি, আট লাখ নয়, চাকরির কথা বলে আলমগীরের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক ও আমি আড়াই লাখ টাকা নিয়েছিলাম। তবে পরবর্তীতে যাদেরকে নতুনভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আলমগীরকে পাওনা টাকা লাভসহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এই টাকার ভাগ শিক্ষা অফিসসহ নিয়োগ সংশ্লিষ্টদেরও দিতে হয়েছে।


তবে নিয়োগ ও লেনদেনের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হামিদুর রহমান। তাঁর দাবি, নিয়োগ দেওয়া হয়নি। স্কুলের ওয়েবসাইট হ্যাক করে একটি চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে এসব তথ্য ছড়াচ্ছে।


প্রধান শিক্ষকের এই দাবিকে পুরোপুরি অসত্য বলে নাকচ করে দিয়েছেন শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা। জলঢাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা(অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফ-উজ-জামান সরকার জানান, প্রধান শিক্ষকের দাবি সম্পূর্ণ বানোয়াট। তিনি নিজেই অফিসে এসে ওই দুই পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের বিল পাঠানোর সুপারিশ করেছিলেন। 


এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমানও বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব অনলাইন আইডি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করেই বেতন-ভাতার বিলের আবেদন পাঠানো হয়েছে। তাই এই নিয়োগ অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগের নামে এমন জালিয়াতি ও অর্থ লেনদেনের ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।


এ এবি এম আব্দুল কাদের

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৩২ পিএম

নওগাঁয় শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দিয়ে ২৯ বছর ধরে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে এ এবি এম আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর পক্ষে এক ব্যক্তি মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল কাদের নওগাঁ সদর উপজেলার চকপ্রসাদ ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। জাল সনদে চাকরি করার পাশাপাশি তিনি এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘন করে মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। 


অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ বি এম আব্দুল কাদের ১৯৯৭ সালে চকপ্রসাদ ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ইবতেদায়ি শাখায় সহকারী মৌলভী পদে যোগদান করেন। কিছু দিন পর ওই মাদ্রাসায় আলিম শাখা খুলে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই বছর ৩ জুলাই মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি রেজল্যুশন করে তাঁকে বিধি বহির্ভূতভাবে আলিম শাখায় আরবি প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করে। 


সদর উপজেলার মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সভাপতি কাজী রফিকুল ইসলাম ২০২৪ সালে আব্দুল কাদেরের দাখিল ও আলিম মাদ্রাসার সনদ যাচাইয়ের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাঠান। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ওই বছর ২৮ অক্টোবর চিঠি দিয়ে জানায় আব্দুল কাদেরের দাখিল ও আলিম সনদ দুটি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড থেকে ইস্যু করা নয়। তাঁর সনদে উল্লিখিত রোল ও নিবন্ধন নম্বরের সনদ ইমান ফকর উদ্দীন নামের এক ব্যক্তির নামে ইস্যু করা।


অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শিক্ষকতার পাশাপাশি এক দশকের বেশি সময় ধরে আব্দুল কাদের নওগাঁ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 


অভিযোগের বিষয়ে জানতে এ বি এম আব্দুল কাদেরের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘জাল সনদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মাদ্রাসা বোর্ডের নামে ভুয়া চিঠি দেখিয়ে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। সনদের বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। এসব বিষয়ে আমি তদন্ত কমিটি ও আদালতের কাছেই জবাব দেব।’

নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকতা করলে কাজী হওয়া যাবে না এ ধরনের কোনো সুস্পষ্ট বিধি নাই।’


জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা মিললে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বিষয় : নওগাঁ