গাইবান্ধায় উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

নতুন বাংলাদেশ গড়তে হ্যা ভোট দিন

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:০২ এএম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুল উপদেষ্টা বলেন, আমরা এমন একটা বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো বৈষম্য, অবিচার, অনিয়ম-দুর্নীতি থাকবে না। আমরা চাই আপনারা গণভোটে হ্যা ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে সহায়তা করবেন।


আমরা আগামীতে বাংলাদেশের পরিবর্তন চাই। এজন্য জাতীয় নির্বাচনের দিন আমরা গণভোটের আয়োজন করেছি। নতুন বাংলাদেশ গড়তে এই প্রথমবারের মত প্রবাসী ভাইয়েরা পোষ্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।


তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে। আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠন হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।


তিনি বলেন, সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল হতে ডেপুটি স্পীকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাসহ তফসিলে বর্ণিত যে ৩০টি বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। 


একজন প্রধানমন্ত্রী যেন ১০ বছরের বেশী সময় ক্ষমতায় না থাকে, প্রধানমন্ত্রী ১০ বছরের বেশী সময় ক্ষমতায় থাকলে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে থাকেন, যা গত ১৫ বছরে আপনারা দেখেছেন।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণভোটের প্রচার কার্যক্রম নিয়ে আজ সোমবার বিকেলে গাইবান্ধা ইনডোর স্টেডিয়ামে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।


মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক  মুশফিকুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুন, সহকারি কমিশনার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট সুকান্ত কুন্ডু, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।


মতবিনিময় সভায় বক্তব্য চলাকালে স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের কী অবস্থা ও মামলার অভিযোগপত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে তাদের তোপের মুখে আইন উপদেষ্টা বক্তব্য অসমাপ্ত রেখে চলে যান। এ সময় ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা।




  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ পিএম

আসন্ন পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র হওয়ার দৌড়ে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন পটুয়াখালী পৌর বিএনপি ও দি-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন।


মোঃ কামাল হোসেন ১৯৮০ সালে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক হওয়ার মধ্যে দিয়ে তার রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৮৪-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।এরপর ১৯৯০ এবং ১৯৯৩ সালে তিনি পর পর দুই বার কাউন্সিলের মাধ্যমে পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি (২০২১-২০২২) সাল সততার সাথে পটুয়াখালী পৌর বিএনপির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।এছাড়াও তিনি একোয়ারস্টেট নূরানী মাদ্রাসার সভাপতি,চরপাড়া জামে মসজিদ এর সাধারণ সম্পাদক ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি।


তার পিতা আলহাজ্ব মোঃ আবদুর রশিদ চুন্নু মিয়া যিনি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক ২ বারের আহবায়ক।তার বড় ভাই মুহাম্মদ মুনির হোসেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক।


২০০৬-২০২৪ এর ৫ আগস্ট এর আগ পর্যন্ত তিনি ও তার পরিবার দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দীর্ঘ সতেরো বছর আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি অসংখ্য বার আওয়ামীলীগ এর সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।তাকে একাধিক মিথ্যা মামলার আসামী হতে হয়েছে এবং এই মিথ্যা মামলায় তাকে অনেক হয়রানি হতে হয়েছে। একাধিকবার তার বাসা, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে।২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে তিনি উত্তরার আজমপুরে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।


মোঃ কামাল হোসেন খুবই সৎ এবং দয়াবান ও একজন মানুষ। তিনি সবসময়ই গরিব-দুঃখী মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন।দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর রাজনীতিতে তিনি নিজের এক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন।


জেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মতে, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং কর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে মোঃ কামাল হোসেন নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।তারা মনে করেন আসন্ন পৌর নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে দলটির সবচেয়ে যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী।


স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক ঐতিহ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও গভীর জনসম্পৃক্ততার কারণে মোঃ কামাল হোসেন আসন্ন পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।


আসন্ন পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মোঃ কামাল হোসেন দৈনিক নওরোজকে জানান, তিনি পটুয়াখালীকে একটি মাদকমুক্ত,সন্ত্রাসমুক্ত,আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পৌরসভা হিসেবে গড়তে চান।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৩ পিএম

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ প্রকৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল উদ্যোক্তা পরিবারের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২৬ জুলাই রবিবার  অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্য ও উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।


আয়োজকরা জানান, টাঙ্গাইল উদ্যোক্তা পরিবার শুধু উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিবেশ সুরক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একটি গাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, বরং নির্মল বাতাস, পরিবেশের ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি করে গাছ লাগানো এবং গাছের পরিচর্যা করা।


টাঙ্গাইল উদ্যোক্তা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক, সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তারা সবাইকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


টাঙ্গাইল উদ্যোক্তা পরিবার—উদ্যোক্তা উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতায়ও অঙ্গীকারবদ্ধ।


এসময় উপস্থিত ছিলেন,মোঃ আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের,মোঃ রফিকুল ইসলাম,রোখসানা পারভীন,উর্মি আক্তার পরী,খাইরুন্নেসা সেতু,সামসুন্নাহার সালমা,লাকি খান,মাজেদা আক্তার,আরো অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১২ পিএম

ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নুর নবী হোসেন (৩০) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে অভিযুক্ত মো. শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল চাকুটিও উদ্ধার করা হয়েছে।



পুলিশ জানায়, নিহত নুর নবী হোসেনের বাবার নাম আব্দুর রব এবং মায়ের নাম আঞ্জু বেগম। তার গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মনসাদ বাড়ী এলাকায়। নদীভাঙনের পর পরিবারটি ঢাকায় বসবাস শুরু করলেও নুর নবী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান অবস্থায় বসবাস করতেন। পরে দাগনভূঞা উপজেলার মৃত বেলাল হোসেনের মেয়ে বিবি ফাতেমার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি বিয়ে করেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বোতল কুড়িয়ে বিক্রি এবং বিভিন্ন ধরনের দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রাতে তারা মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচেই ঘুমাতেন।



পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (২৬ জুলাই) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নুর নবী ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় একই স্থানে বসবাসকারী শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেন বিবি ফাতেমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। এতে নুর নবীর ঘুম ভেঙে গেলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও পরে মারামারি শুরু হয়।


একপর্যায়ে নুর নবী অভিযুক্তকে ঘুষি মারলে শাহ পরান তার সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে নুর নবীর পেটের দুই পাশে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।


স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে ফেনী পৌরসভার হাজারী রোড এলাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ২৬ জুলাই সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি সোমবার (২৭ জুলাই) ফেনী মডেল থানার মামলা নম্বর-৫৫ হিসেবে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় রুজু করা হয়।


মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপার ফেনীর সার্বিক নির্দেশনায়, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) এবং দাগনভূঞা থানা পুলিশের সহায়তায় ফেনী মডেল থানার একটি দল অভিযান চালায়। পরে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দাগনভূঞা থানা এলাকা থেকে পলাতক শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে একটি পরিত্যক্ত গর্ত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল চাকু উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে।


স্ত্রী হত্যার দায়ে ঘাতক স্বামী ফরহাদ হোসেনকে আটক করা হয়

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৫৪ পিএম

নওগাঁর ধামইরহাটে পারিবারিক কলহের জের ধরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যা করলো পাষন্ড স্বামী। স্থানীয়রা ঘাতক স্বামীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। নিহত স্ত্রী মনিরা বেগম (২৬) উপজেলার উমার ইউনিয়নের অমরপুর গ্রামের মাসুদ হোসেনের মেয়ে, আর ঘাতক স্বামী জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আটুল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন। সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এ হত্যাকান্ড ঘটে।


নিহতের বোন মহসিনা বেগম বলেন, তার বোন মনিরা ও দুলাভাই ফরহাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। ফরহাদ ঢাকায় গিয়ে রিক্সা চালান, আর মনিরা বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার ভোরে ফরহাদ মনিরার বাবার বাড়িতে আসেন। সকালে মনিরা ও মহসিনা দুই বোন চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে ফরহাদ গিয়ে মনিরার সাথে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে ফরহাদ ধারালো ছুরি দিয়ে মনিরার বুকে ও পেটের বাম পাশে এলাপাথারি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। এসময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাকে আটক করেন। স্থানীয়রা মারাত্মক আহত মনিরাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।


ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।




ভাইরাল ভিডিও ইস্যুতে প্রতিমন্ত্রী

শিক্ষিকার গান গাওয়াকে অন্যায় মনে করি না


ববি হাজ্জাজ

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:৫৭ পিএম

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষিকার ভিডিও প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটা কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না। গতকাল রোববার বিকেলে সিলেট বিভাগের শিক্ষাকর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 


শিক্ষিকার ভিডিও প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, আমি ভিডিওটি দেখিনি। কয়েকজন আমাকে বলেছেন, একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। সেখানে অশ্লীলতা নেই। গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটা কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না। 


তিনি বলেন, আমরা পুরোপুরিভাবে ক্লাস ফোর ও ফাইভে কালচারাল এডুকেশন নিয়ে আসছি। কালচারাল এডুকেশনের ভেতরে গান-নাটক, কবিতা, কেরাতসহ সবকিছু থাকবে।


সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রাণী পালের রিল ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সেখানে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে সরকারি যে নির্দেশনা রয়েছে তা লঙ্ঘন হয়েছে কি না-সে বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানালেও তা হচ্ছে না। 


আজ সোমবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ জানিয়েছেন সেখানে অপরাধের কোনো বিষয় নেই। প্রতিমন্ত্রীও বিষয়টি জেনেছেন। সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে না।


গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বিউটি পাল নিজের ফেসবুক আইডি থেকে কয়েক সেকেন্ডের ওই রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিও তে দেখা যায়, বাংলা গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ এই গানের সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শাড়ি পরে হাঁটছেন ওই শিক্ষিকা।  শুরুর দিকে ভিডিওটি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা হলেও পরবর্তীতে শিক্ষিকার পক্ষে অবস্থান নেন শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

মুখ থুবরে পড়েছে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ

ছয় বছরে তিন পিলারে আটকে আছে সেতু নির্মাণ


যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথের কাজ দীর্ঘদিন ধরে মুখ থুবরে পরে রয়েছে

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:২১ পিএম

 ভোগান্তিতে লাখো মানুষ   ঠিকাদারদের দ্বন্দ্বই মূল কারণ   মূল ঠিকাদার আত্মগোপণে


ঠিকাদারের দায়িত্বহীনতা, কাজে গাফলতি ও প্রতারণার কারণে টাঙ্গাইলের নিউ ধলেশ্বরী নদীর উপর কালিহাতী উপজেলার জোকারচরে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে মুখ থুবরে পরে রয়েছে। সামান্য একটু কাজ করেই প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে ঠিকাদার। ছয় বছরে মাত্র তিনটি পিলারে আটকে আছে সেতু নির্মাণ। এতে দুটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মুখ থুবরে পড়েছে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ।

 

টাঙ্গাইল এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পশ্চিমে চরাঞ্চলের মাহমুদ নগরের গোল চত্ত্বর থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তে মহাসড়ক পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হয়েছে। জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মিত হলে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যে জোকারচরে ধলেশ্বরী নদীর উপর সেতু নির্মাণে এলজিইডি ৩৪ কোটি ১৪ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৬৪ মিটার পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করে। হায়দার কন্সট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড, অবনী এন্টারপ্রাইজ ও সৈয়দ মজিবুর রহমান নামক তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জয়েন্টভেঞ্চারে সেতু নির্মাণের কাজ পায়। ২০২০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তাদের কার্যাদেশ (ওয়ার্কঅর্ডার) দেওয়া হয়। 


সরেজমিনে দেখা যায়- জোকারচরে নিউ ধলেশ্বরী নদীর বামতীরে দুইটি ও ডানতীরে একটি পিলার নির্মাণ করেই মূল ঠিকাদার মো. হেকমত আলী এলজিইডি থেকে ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৩ টাকা বিল উঠিয়ে নিয়েছেন। এলাকাবাসী জানায়, একেক সময় একেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সাইটে আসে, মাপ-ঝোক করে, ইট-রড আনে আবার চলে যায়। তারা জানেইনা সেতু নির্মাণের মূল ঠিকাদার কে? 




ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এলজিইডির চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা। কিন্ত অংশিদারদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি, মতপার্থক্য ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় দেড় বছরে তারা কাজই শুরু করেনি। কার্যাদেশ পাওয়ার দেড় বছর পর জয়েন্টভেঞ্চারের এক অংশিদার সৈয়দ মজিবুর রহমান সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ২০২১ সালে এপ্রিল তিনি ওই সেতুতে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। 


হঠাৎ করে অপর এক অংশিদার অবনী এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী হেকমত আলী সেই কাজ বন্ধ করে দেয় এমন অভিযোগ করেন সৈয়দ মুজিবুর রহমান। এসব ঘটনায় সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে। সৈয়দ মুজিবুর রহমান টাকা ফেরত চেয়ে প্রশাসনসহ বিভিন্নস্থানে চিঠি দেন। তাদের মধ্যে মামলা পাল্টা মামলা হয়। মো. হেকমত আলী অপর দুই ঠিকাদার হায়দার ও সৈয়দ মজিবুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে গাজিপুরের এক ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের কাছে কাজটি বিক্রি করে দেন। 


জয়েন্টভেঞ্চারের অংশিদার সৈয়দ মজিবুর রহমান বলেন, দুই অংশিদার হেকমত ও হায়দার কাজ করবেন না বলে আমাকে স্ট্যাম্পে লিখে দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করার দায়িত্ব দেয়। ২০২১ সালে এপ্রিল মাসে আমি সেখানে তিন কোটি টাকা বিনিয়োগ করি। হঠাৎ করে এক অংশিদার হেকমত সন্ত্রাসী বাহিনী এনে আমার কাজ বন্ধ করে দেয়। সেতুর নির্মাণ সে করবে বলে জানায়।

 

গাজিপুরের ঠিকাদার রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, হেকমত আলী তার সাথে প্রতারণা করছেন। তিনি পাইলিং সহ ওই সেতু নির্মাণে দুই কোটি ৫৮ লাখ টাকা হেকমতকে দিয়েছেন। জাল স্বাক্ষরের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি এর প্রতিবাদ করলে তাকে এলেঙ্গা রিসোর্টে আটকিয়ে সব চুক্তিপত্র ফেরত নেন। তার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তিনি কোনো টাকা ফেরত পাননি।


এদিকে হেকমত সেতুর তিনটি পিলার নির্মাণ করেই ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৩ টাকা বিল উঠিয়ে নেন। ৫ আগষ্ট সরকার পরিবর্তনের পর হেকমত আলী আত্মগোপণে চলে যান। বন্ধ হয়ে যায় অতিগুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণ কাজ।


এদিকে জনগণের যাতায়াতে ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে এলজিইডি কর্র্তৃপক্ষ চলতি বছরের ৯ মার্চ জোকারচরে ওই সেতুর নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয়- ৩৪ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৯ টাকা। নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী-এলহোজ জয়েনভেঞ্চার(জেভি)। তাদের আগামী ২২ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। 


জোকারচর গ্রামের ইউনুস শেখ, বিদ্যুত মিয়া, জাহাঙ্গীর হোসেন, মাসুদ রানা জানান, সেতুটি মূলত যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথের সেতুবন্ধন। সেতুটি নির্মিত হলে যমুনা সেতু-ঢাকা মহাসড়কের বিকল্প পথ তৈরি হবে। টাঙ্গাইল শহর সহ পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সহজেই এই সেতু দিয়ে উত্তরাঞ্চলে যেতে পারবে। এতে প্রতি ঈদে মহাসড়কে যানজটও হবেনা। বিকল্প পথ দিয়ে এলেঙ্গা যেতে পারবে। জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করার করার দাবি জানিয়েছেন তারা। 


টাঙ্গাইল এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানার পারভীন জানান, ঠিকাদারদের একে অপরের মধ্যে মিল না থাকা ও তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ হয়নি। তবে তারা যতটুকু কাজ করেছিল তার বিল পরিশোধ করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদারও নির্বাচন করা হয়েছে। এবার নির্দিষ্ট সময়েই সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।