সারজিস আলম
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, আমরা দেখছি এখানে জামায়াতের এমপি থাকলেও টেন্ডার হতে না হতে সরকারি প্রত্যেকটি অফিসে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের অত্যাচারে কর্মকর্তা কর্মচারী ঠিকমতো অফিস করতে পারেনা। ওখানে আবার কিছু কর্মকর্তা কর্মচারী নিজেকে সরকারি কর্মচারীর চেয়ে বিএনপির লোক হিসেবে পরিচয় দিতে ভালো লাগে। তারা তাদের সঙ্গে মিলে টেন্ডারবাজি ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করছে।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় এসব মন্তব্য করেন।
সারজিস আলম বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণভোটকে অবৈধ বললেও একই আদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে বৈধ বলা যায় না। যেই আদেশের বলে একই সঙ্গে গণভোট হলো এবং নির্বাচন হলো, সেই আদেশের নির্বাচন বৈধ হয়, তাহলে গণভোট কীভাবে অবৈধ হয়? এক মায়ের পেট থেকে দুই যমজ সন্তান এসেছে, এক যমজ সন্তান বৈধ আরেকটা অবৈধ এটা তো কোনোদিন হতে পারে না।
সারজিস আলম বলেন, এই গণভোট যদি অবৈধ হয় তাহলে আপনি সালাহউদ্দিন আহমদ অবৈধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জনাব তারেক রহমান অবৈধ প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি সরকার অবৈধ সরকার। কথা ভেবে-চিন্তে বলবেন। ৫০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, কিন্তু ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়ে এই গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অনিয়ম প্রতিহত করতে হবে। মনে রাখবেন জুলুম যদি শুরু হয় তার বিরুদ্ধে যদি প্রতিবাদ না করেন কথা না বলেন টেনে না ধরেন, সেটা এমন এক পর্যায়ে যাবে সেখান থেকে আর ফিরে আসার উপায় থাকবেনা। আমরা সালাউদ্দিন আহমেদকে মনে করাতে চাই যে তাকে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমরা মনে করাতে চাই তিনি জুলুমের শিকার হয়েছিলেন। আমরা আরও মনে করাতে চাই তারেক রহমানকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে দেশের বাহিরে পাঠানো হয়েছিল। আমরা মনে করাতে চাই তিনিও সতেরো বছর জুলুমের শিকার হয়েছেন। কিন্তু যে পঞ্চাশ পারসেন্ট মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় পাঠিয়েছে সে মানুষ সত্তর পারসেন্ট ভোট দিয়েছে গণভোটের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে ও সংস্কারের পক্ষে। যে আদেশের ফলে বিএনপি নির্বাচিত সরকার হয়েছে। যে আদেশের ফলে গণভোট হয়েছে সেটি নাকি অবৈধ।
আমরা জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ ও তারেক রহমানকে শুধু একটা কথা বলতে চাই, এক মায়ের যদি একসঙ্গে দুই জমজ সন্তান হয় এক সন্তান বৈধ আরেক সন্তান অবৈধ হতে পারেনা। যদি সংস্কার অবৈধ হয়, জুলাই সনদ যদি অসাংবিধানিক হয় তাহলে সালাউদ্দিন আহমেদ, তারেক রহমান বিএনপি সরকার সবকিছু অবৈধ। আপনারা যদি গণভোট বাস্তবায়ন না করেন তাহলে আগামীর বাংলাদেশে এই বিএনপির কবর রচিত হবে ইনশাল্লাহ।
সারজিস আলম আরও বলেন, বিএনপি সরকার কিছুদিন আগে আট হাজার কোটি টাকার একটা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এই প্রকল্প টা নিয়েছেন শুধুমাত্র বিএনপির এমপিদের জন্য। এখন বিএনপি সরকার ও তারেক রহমানের কাছে আমাদের প্রশ্ন বিএনপি যে বর্তমানে সরকারে আছে তারা কি শুধু ধানের শীর্ষের সরকার নাকি যেখানে শুধু বিএনপি জিতেছে তিনি সেখানের সরকার। নাকি তারা বাংলাদেশের সরকার এবং ৩০০ আসনের সরকার এই উত্তরটা তাদের দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা একটু প্রশাসনের দিকে নজর দিতে চাই। গনঅভ্যুত্থানের আগে দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলতো 'র' এর হেড কোয়ার্টার ভারতে ও ভারতের গোয়েন্দার সংস্কার আরেকটা হেড কোয়ার্টার আছে ক্যান্টনমেন্টে। বিএনপির সরকারকে বলতে চাই আমার এই সেনাবাহিনী আমার সার্বভৌমত্বের প্রতীক, শক্তির প্রতীক, ঐতিহ্যের প্রতীক সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের সবথেকে শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে৷
ব্যাংক খাত নিয়ে অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যেমন এস আলমের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল করেছিল, বিএনপিও একই পথে হাঁটছে। আমরা দেখছি তারা ব্যাংক দখলের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে এস আলমের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক দখল শুরু করেছে। বিএনপি ২০২৬ সালে ক্ষমতায় এসে একই বছর ইসলামী ব্যাংক দখলের পাঁয়তারা শুরু করেছে তাদের দলীয় নেতা আর এস আলমের বেয়াই ও শ্বশুরের মাধ্যমে।
তিনি আরও বলেন, গত পরশুদিন ইসলামী ব্যাংকে আরেকজনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরাসরি এস আলমকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি চক্ষুলজ্জার ভয়ে, তাই এস আলমের বেয়াইকে ফিরিয়ে এনেছে। অথচ এই এস আলম আওয়ামী লীগের সময়ে মানুষের প্রায় ৯৯ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। এখন ভাগ-বাটোয়ারার রাজনীতির কারণে তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে।
গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর, রাশেদ খাঁন এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকীর সমালোচনাও করেন সারজিস আলম।
তিনি বলেন, যাদের আমরা একসময় সংস্কারের পক্ষে কথা বলতে দেখেছি, আন্দোলনে দেখেছি, তারা আজ একটা প্রতিমন্ত্রীর লোভে বিবেক বিক্রি করে দিয়েছে। জোনায়েদ সাকি, যার মুখে প্রথম সংস্কারের কথা শুনেছি, তিনি একটা প্রতিমন্ত্রীর লোভে সংসদে গিয়ে এমন হারিয়ে গেছেন যে টর্চলাইট, হারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। তারেক রহমানের অবস্থা এতটাই বাজে হয়েছে, বিএনপির এতটাই খারাপ দিন এসেছে যে রাশেদ খাঁনের মতো একটা মিথ্যা প্রোপাগান্ডাবাজকে তিনি সহকারী বানিয়েছেন।
পঞ্চগড়ে ছাত্রলীগের এক নেতার জামিন প্রসঙ্গ তুলে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দেন সারজিস আলম।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রলীগের যে সভাপতি জুলাই আন্দোলনে আমার ভাইদের পিটিয়েছে, রক্তাক্ত করেছে, তার জামিন হয়ে যায়। পুলিশকে বলতে চাই, জেলা জজকে বলতে চাই, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বলতে চাই, হাইকোর্টের বিচারকদের বলতে চাই আপনাদের মধ্যে অনেকেই এখনো মনে মনে আওয়ামী লীগের দালাল।
আগামী অভ্যুত্থানে অফিসে বসে থাকা, কোর্টে বসে থাকা, থানায় বসে থাকা, প্রশাসনে বসে থাকা দালালদের বিরুদ্ধে সবার আগে অভ্যুত্থান হবে। প্রত্যেকের নামের তালিকা করা হবে। কোন ডিসি, কোন এসপি, কোন ওসি, কোন ইউএনও দেশের মানুষের আগে দলের দালালি করে, তাদের নাম পোস্টার করে দেয়ালে লাগিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে অনেকে পার পেয়ে গিয়েছে, আগামীতে আপনারা পার পাবেন না ইনশাআল্লাহ।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগ ছিল, এখন নেই। বিএনপি আজ আছে, আগামীতে নাও থাকতে পারে। কিন্তু জনগণ থাকবে, রাষ্ট্র থাকবে। তাই দলের দাস হিসেবে নয়, কোনো ব্যক্তির দালাল হিসেবে নয়, জনগণের জন্য কাজ করুন। জনগণই আপনাদের সম্মান রক্ষা করবে।
এসময়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক উত্তর অঞ্চলসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় পারভেজ মো. আবুল কালাম নামে একজনকে যাব্বজ্জীবন দিয়েছে আদালত।
বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১ এর বিচারক আবু হানিফ এ রায় প্রদান করেন।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ইফতেখার মাহমুদ জানিয়েছেন, '২০২৫ সালের ১৫ জুলাই রাতে চকরিয়া থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর বাড়িতে হানা দেয় পারভেজরা। এসময় সবকিছু লুটে নেয়ার পর স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পারভেজকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১০ বছরের কারাদন্ড দেন।
সট:- ইফতেখার মাহমুদ এপিপি, কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১।
এদিকে, আদালতের রায়ে সস্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ। একই সঙ্গে মামলার বাদীর প্রত্যাশা অন্যকোন পরিবারে যেন এমন জুলুম না হয়।
বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি, সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এবং কামারখন্দ উপজেলার বিশেষ প্রতিনিধির সমন্বয়ে 'ক' সার্কেলের একটি দল এই অভিযানটি পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বুধবার (০৯/০৯/২০২৬) কামারখন্দের ভদ্রঘাট পশ্চিম খান পাড়া এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় মোঃ শাকিল শেখ (৩২), পিতা: মোঃ মকবুল হোসেন শেখ নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২৮০০ (দুই হাজার আটশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১১,৩০০ (এগারো হাজার তিনশত) টাকা।
কামারখন্দ উপজেলায় এটি ছিল ডিএনসির চতুর্থ অভিযান। এই ঘটনায় সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কামারখন্দ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের এই ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মিয়ানমারে যাচ্ছে সার আসছে মাদক
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের জল ও স্থলপথে মাদকদ্রব্যের বিনিময়ে এবার শুরু হয়েছে ব্যাপকভাবে সার পাচার। সক্রিয় রয়েছে চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারের অধিকাংশ সার ডিলার এবং চোরাচালানী সিন্ডিকেট।
ইতিমধ্যে টেকনাফ,উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে সার পাচারের ঘটনা যেমন ঘটেছে, তেমনি ইয়াবা, খ্রীস্ট্রাল মেথ আসছে মিয়ানমার থেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন বাহিনীর কাছে গত একমাসে ২৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে প্রায় ২ শতাধিক পাচারকারী। এর মধ্যে রোহিঙ্গা রয়েছে ৯৩ জন ও এপিবিএন সদস্য ১ জন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা কর্মী আছেন ২১ জন, আর অন্যরা হচ্ছে সাধারণ পরিবহন শ্রমিক, মহিলা আছেন ১৮ জন। মামলা হয়েছে ৭২ টি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্য, জীবন রক্ষাকারী ঔষধ পাচারের পাশাপাশি আশংকাজনক ভাবে বেড়েছে সার পাচার।
মিয়ানমারে পাচারকালে বিজিবি ও কোস্টগার্ড বেশ কয়েক দফায় সার আটক করেছেন। নতুন করে সার পাচার হওয়ার খবরে সীমান্তের কৃষকসহ সচেতন মহলের মাঝে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে মিয়ানমারে সার পাচার অনেকটা বন্ধ ছিল। এমনকি ওই সময়ে সার পাচার ও আটকের ঘটনা ছিল বিরল। তবে সাম্প্রতিককালে নতুন করে সার পাচারের ঘটনায় কৃষি সংশ্লিষ্টদের মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। এদিকে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট এলাকায় সার পাচারে জড়িত চোরাকারবারীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমনের দাবী জানিয়েছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারে সরকার ও বিদ্রোহীদের মাঝে চলমান সংঘাতের কারণে রাখাইন রাজ্যে এক ধরণের সংকট চলছে। আরাকান আর্মি শাসিত ওই রাজ্যের কৃষকরা জমিতে সার প্রয়োগে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে পাচারে জড়িতদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারে ইউরিয়া সারের বেশ কদর রয়েছে। সেখানে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সার দ্বি-গুণ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩হাজার টাকা ধরে প্রতি বস্তা সার মিয়ানমারের চোরাকারবারীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন এখানকার চোরাকারবারীরা।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সে দেশে (মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে) সারের বস্তা দ্বি-গুণ বেশী দামে বিক্রির সুযোগে এ দেশীয় চোরকারবারীরা সার পাচারে তৎপর রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের হালিশহর, পতেঙ্গা, ভাটিয়ারী, কুতুবদিয়া ও মহেশখালী কেন্দ্রীক বড় বড় চোরাকারবারীরা বিভিন্ন সার ডিলারদের সাথে আতাঁত করে সাগরপথে জাহাজ বা ট্রলারে করে মিয়ানমারে সার পাচার করছেন। আবার স্থল পথের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে যাচ্ছে সারসহ অন্যান্য পণ্য।
সমুদ্রপথে সার পাচার করতে গিয়ে কোষ্টগার্ডের হাতে একাধিক চালান আটক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাগরপথে জাহাজে করে সার পাচারের ঘটনার পরপরই টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টের চোরাকারবারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। টেকনাফ-উখিয়ার সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারকালে বিজিবি সারসহ ইতিমেধ্য বেশ কয়েকজন পাচারকারীকে আটক করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৮সেপ্টেম্বর ভোরে টেকনাফের দমদমিয়া সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৫বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছেন বিজিবি। এর আগে ২সেপ্টেম্বর একই সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ৩৫ বস্তা সারসহ একটি হস্তচালিত নৌকা জব্দ করেন বিজিবি। গত ২০ আগষ্ট সাবরাং বিওপির জওয়ানেরা নাফনদীতে অভিযান চালিয়ে ৫৩ বস্তা সারসহ একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা আটক করেন। এদিকে ৬ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে ট্রাকে করে পরিবহনের সময় ৩০০ বস্তা সারের একটি বড় চালান জব্দ করেন মরিচ্যা বিজিবি। ৩ সেপ্টেম্বর ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৩৪ বিজিবির জওয়ানেরা ৮৮ বস্তা ইউরিয়া ও টিএসপি সার জব্দ করেন। ১৫ জুলাই রাতে পালংখালী সীমান্ত দিয়ে পচারকালে ১৩ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ৪ রোহিঙ্গাকে হাতে নাতে আটক করেন পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা। ১৩ জুলাই পালংখালী সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে ৬৪ বিজিবির অধীনস্থ পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা ১৩০ বস্তা সার আটক করেন। ৮ জুলাই পালংখালীর বিওপির জওয়ানেরা আনজুমানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইজিবাইকসহ ২২ বস্তা ইউরিয়া সার আটক করেন। ১ জুলাই পালংখালী বিওপির জওয়ানেরা ফারিরবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ এক পাচারকারীকে হাতে নাতে আটক করেন। এছাড়া চট্টগ্রামের হালিশহর, ভাটিয়ারী, পতেঙ্গা, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সীমান্ত দিয়ে জাহাজে করে মিয়ানমারে পাচারের সময় সারের বেশ কয়েকটি চালান আটক করেন কোস্টগার্ড।
টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির জানান, গত মাসে (আগষ্টে) উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্টিত হয়েছে। ওই সভায় সার পাচাররোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারী বৃদ্ধি, ডিলার পর্যায়ে মনিটরিং বাড়ানো, সারের বস্তার মুখ খোলা দেওয়া, ৫টার পরে সার বিক্রি না করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তিনি আরো জানান,সার পাচার শুন্যের কোটায় নিয়ে আসতে আমাদের প্রচেষ্ঠা অব্যাহত আছে এবং থাকবে। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্ঠা ও মনিটিরিংয়ের মাধ্যমে সার পাচার ঠেকানো সম্ভব জানিয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, দুয়েকদিনের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাবের সমন্বয়ে আরো একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে: কমান্ডার বিএন সাব্বির আলম সুজন জানান, সার পাচারসহ যাবতীয় চোরাচালান রোধে কোস্টগার্ড তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের এই মিডিয়া কর্মকর্তা।
কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (ডিডি) ডক্টর বিমল কুমার প্রমাণিক বলেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন সার পাচার ঠেকাতে বহুমূখী পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। কোন ডিলার সার পাচারে জড়িত প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে ৬৪বিজিবির অধিনায়ক লে: কর্ণেল জহিরুল ইসলাম জানান, সার এমন একটা জিনিষ যা পকেটে করে নেওয়া যায়না। কার কার সার প্রয়োজন সেটাও স্থানীয় লোকজন ভাল করেই জানেন। এছাড়া কৃষকসহ স্থানীয়রা সার পাচাররোধে বিজিবিসহ আইন শৃংখলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করতে পারেন জানিয়ে তিনি মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি সার বিতরণে স্বচ্ছতা ও জনসচেতনার উপর গুরুত্বারোপন করেন।
প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির
টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমের পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরেরর বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির।
প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সুমাইয়া মমিন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী শামসুন্নাহার স্বপ্না, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার তাহলিমা জান্নাত।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক মহব্বত হোসেন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল ও নাহার চাকলাদার।
প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির বলেন, সাংবাদিকরা লেখনির মাধ্যমে সমাজকে পথ দেখায়। সমাজের সকল প্রকার অসঙ্গতি তুলে ধরে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত আধুনিক টাঙ্গাইল গড়তে সাংবাদিক ভাইরা বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, গুজব সব সময় মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে, গুজব প্রতিহত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সবারই সোচ্চার হতে হবে।
পরে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের ইনডোর গেমসে বিজয়ী ও বিজিতদের মাঝে অতিথিরা পুরষ্কার তুলে দেন।
নোয়াখালী সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) কে আটক করে গণধোলাই দেওয়ার পর পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
গতকাল সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা জানাজানি হয়। আটক এমরান উপজেলার অম্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। ভুক্তভোগী শিশুটি একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়লে তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে তাকে বকাঝকা করেন। পরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে শিশুটি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোবারক হোসেন এমরানের বিরুদ্ধে গত প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মোবারক হোসেন এমরানকে আটক করেন। পরে তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সুধারাম থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাত সোয়া ৯টার দিকে চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষক নিজের বাসায় ওই ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ শিক্ষক তাকে সেখানে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহর এলাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক কিশোরীর কোমরে শিকল বেঁধে এক যুবক তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কিশোরীকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। তাকে বেশ কিছুটা পথ শিকল দিয়ে টেনে নেওয়া হয়। তবে ভিডিওতে ওই যুবকের চেহারা দেখা যায়নি।
গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে সিলেটের উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার সড়কে ওই কিশোরীকে শেকল বেঁধে টেনে নেওয়ার আগে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন তাকে আটক করেন। মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরির চেষ্টা করে ওই কিশোরী। এ সময় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে শেকল বেঁধে সড়কে হাঁটানো হয়। তবে কারা তাকে মারধর করেছেন বা শেকল বেঁধে সড়কে টেনে নিয়েছেন, তা জানা যায়নি।
এ বিষয়ে সিলেট শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন মঙ্গলবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসে। তার বয়স ১৫ থেকে ১৬ বছর হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, সে একটি দোকানের ক্যাশবাক্স চুরি করেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি। এমনকি কিশোরীকে থানায় নিয়ে আসার পরও স্থানীয়রা পুলিশকে কোনো সহযোগিতা করেননি। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
কিশোরীকে শেকল বেঁধে সড়কে ঘুরানো প্রসঙ্গে ওসি বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ এমন কাজ করে থাকলে তারা অন্যায় করেছেন।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৯ ধারা অনুযায়ী কোনো সাধারণ নাগরিক আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করতে পারেন। তবে তাকে অনতিবিলম্বে পুলিশ বা নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর করতে হবে।
তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিকে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়ার অধিকার সাধারণ নাগরিকের নেই। কোমরে শেকল বেঁধে জনসমক্ষে হাঁটানো কিংবা তার ওপর শারীরিক বা মানসিক চাপ প্রয়োগ আইনপরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ