ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার চাপ ও হস্তক্ষেপের কারণে সুষ্ঠুভাবে ভিজিএফ বিতরণ করতে না পেরে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল। এ ঘটনায় তার কান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত বুধবার গভীর রাতে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত জনতার সামনে চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল হাউমাউ করে কাঁদছেন এবং ভিজিএফ বিতরণে বাধার কথা তুলে ধরছেন।
সূত্রে জানায়, সাপমারা ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত ২ হাজার ৭৮৮টি ভিজিএফ স্লিপের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের বণ্টন অনুযায়ী ২০ শতাংশ অর্থাৎ ৫৫৮টি স্লিপ বিএনপির জন্য রাখা হয়। বাকি ২ হাজার ২৩০টি স্লিপ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। এতে প্রত্যেক সদস্যকে ২০০টি করে স্লিপ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সাপমারা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন চৌধুরী দলীয় অংশ নেওয়ার পরও চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বরাদ্দে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি চেয়ারম্যানের থেকে ২০০ এবং প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে ২০টি করে স্লিপ জোরপূর্বক নেন। পাশাপাশি ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য সুমি আক্তার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদা বেগম এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আজাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০০টি করে স্লিপ দাবি করেন।
এতে বিপাকে পড়েন সংশ্লিষ্ট সদস্যরা। কারণ তারা আগেই উপকারভোগীদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে চাল দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সংরক্ষিত নারী সদস্য সুমি আক্তার বলেন, “দলীয় বরাদ্দ নেওয়ার পরও আমাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে জোর করে স্লিপ নেওয়া হয়েছে। পরে আবার অতিরিক্ত স্লিপ দাবি করা হয়। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসনকে জানালে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হন।”
তিনি অভিযোগ করেন, ৩০-৪০ জন সমর্থক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে এসে সারোয়ার হোসেন চৌধুরী চাল বিতরণ বন্ধ করে দেন এবং চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের একটি কক্ষে আটকে রেখে হুমকি-ধামকি দেন।
সংরক্ষিত নারী সদস্য ফরিদা বেগম বলেন, “আমার কাছে ২০০ জন মানুষের তালিকা ও এনআইডি ছিলো। কিন্তু সারোয়ার আমাকে ৯০ টি স্লিপ বিতরণের কথা বলে এবং ৩০ টির চাল তুলে নিতে বলেন। অবশিষ্ট ৮০টি স্লিপ চেয়ে চাপ দিতে থাকেন। তার পরেও আমি কোনো স্লিপ দিইনি।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তালেব মন্ডল বলেন, “বিএনপি ৫৫৮টি স্লিপ নেওয়ার পরও সারোয়ার আমার কাছ থেকে ২০০টি এবং প্রতিটি মেম্বারের কাছ থেকে ২০টি করে স্লিপ জোর করে নিয়েছেন। আমরা ভয়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। এরপরও আরও তিন সদস্যের থেকে ৩০০ স্লিপ দাবি করা হয়। না দেওয়ায় চাল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পরিষদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়।”
আমি সুষ্ঠু ভাবে চাল বিতরণ করতে পারিনি। পরে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি।
বিষয়গুলো জানাজানি হলে পরে প্রশাসন ও কিছু রাজনৈতিক নেতার সহযোগিতায় চাল বিরতণ করি কিন্তু শেষ করতে পারিনি। আজও ১৪২ বস্তা চাল বিতরণ করতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, “সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোনো স্লিপ নেইনি বা কাউকে হুমকিও দিইনি। চেয়ারম্যান তার লোকজন দিয়ে ফেসবুকে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন।”
তিনি দাবি করেন, মন্ত্রী আসার সুযোগে চেয়ারম্যান কয়েকজন দালালকে নিয়ে চাল বিতরণ শুরু করেন। এছাড়া মহিলা সদস্য সুমি নিজের ওয়ার্ড বাদ দিয়ে যারা বিক্রি করতে পারবে তাদের প্রত্যেককে ৫/৬টি করে ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৬১টি এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬টি স্লিপ দিয়েছে। বিষয়গুলো ধরা পড়লে তিনি ভুল স্বীকারও করেছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ ব্যাপারে একাধিক বার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, যদি এমনটা হয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সাথে চাল বিতরনের ব্যবস্থা করছি।
১০৪ বছর বয়সে আসামির আত্মসমর্পণ, পেলেন না জামিন।
দুই যুগ আগে কিশোরগঞ্জে একটি দোকানে ডাকাতির সময় দুইজনকে হত্যার মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া নুর মোহাম্মদ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তার আইনজীবীর দাবি, বর্তমানে তার বয়স ১০৪ বছর। আত্মসমর্পণের পর আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন নুর মোহাম্মদ। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নুর মোহাম্মদ অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদনও নাকচ করেন। তার আইনজীবী আদালতে জানান, তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না, নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয় এবং জটিল রোগে ভুগছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুইজনকে হত্যা করা হয়। পরে দোকানের সিন্দুক থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা এবং ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা। এ ঘটনায় দোকান মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচারপ্রক্রিয়ায় ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে নুর মোহাম্মদসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া নামে এক আসামি মারা যান। পরে ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে উচ্চ আদালত বিভিন্ন আসামির সাজা বহাল ও পরিবর্তন করেন। নুর মোহাম্মদের ক্ষেত্রে ১০ বছরের কারাদণ্ড নির্ধারিত হয়।
দীর্ঘ সময় পর এবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের সুযোগ চেয়েছেন। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফয়সাল আহমেদ আদালতে বলেন, নুর মোহাম্মদের বয়স ১০৪ বছর এবং তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত অসুস্থ। স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন জানিয়ে আপিলের শর্তে তার জামিন প্রার্থনা করেন তিনি। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি।
ফলে দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি হত্যা-ডাকাতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নুর মোহাম্মদকে শেষ পর্যন্ত কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিলের আইনি সুযোগ গ্রহণ করবেন।
চেক প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মামুন হোসাইন বাবলু জমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর বুধবার রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে র্যাবের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চেক প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই বাবলু জমাদ্দার দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য কাউখালী থানা-পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তির সহায়তা নেয়। একপর্যায়ে তাঁর অবস্থান ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় শনাক্ত করা হয়। পরে র্যাবের সহযোগিতায় সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।এদিকে, ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর কাউখালী থানায় দায়ের করা একটি নাশকতা মামলাতেও মামুন হোসাইন বাবলু জমাদ্দার এজাহারভুক্ত আসামি। ওই মামলায় তাঁকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁকে ওই মামলাতেও গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, চেক প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকা বাবলু জমাদ্দারের অবস্থান প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। এরপর র্যাবের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।মামুন হোসাইন বাবলু জমাদ্দার কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ছিলেন।
কাউখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আনোয়ার হোসেন মামুন হোসাইন বাবলু জমাদ্দারের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুস সবুর সাদ্দামের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ৩ নম্বর ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন চেয়ারম্যান নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুস সবুর সাদ্দাম।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারণায় নামেন তিনি। এ সময় দফাদারপাড়া,সাদিপুর বাজার, বাহিরমাদি, সদরঘাট থেকে গোয়ালবাড়ি,চরসাদীপুর,ইসলামপুর,কেরানীপাড়া,
সিরাজনগর টোলপাড়া,কামারপাড়া,দারোগার মোড়,আবেদের ঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ভোট প্রার্থনা ও লিফলেট বিতরণ করেন।
প্রচারণাকালে আব্দুস সবুর সাদ্দাম বলেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে প্রথম কাজ,ফিলিপ নগর ইউনিয়নের জনগনের জননিরাপত্তা প্রদান করা,ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবেন।একই সঙ্গে সরকারি বরাদ্দ ও জনগণের জন্য নির্ধারিত সব সুযোগ-সুবিধা স্বচ্ছতার সঙ্গে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুই বিসিআইসি সার ডিলারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি এবং সারের পরিমাণের সঙ্গে বিক্রিত সারের অসঙ্গতির অভিযোগে গাইবান্ধা সদর উপজেলার দুই বিসিআইসি সার ডিলারকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সার বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম না মানার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুই ডিলারের কাছ থেকে মোট ৪২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- মেসার্স আতাউর রহমান, যাকে ৩০ হাজার টাকা, এবং মেসার্স সাইদার রহমান ট্রেডার্স, যাকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের কাছে সার বিক্রির সময় যথাযথভাবে ক্যাশমেমো প্রদান না করা এবং ক্যাশমেমোতে উল্লেখিত সারের পরিমাণের সঙ্গে প্রকৃত বিক্রয়কৃত সারের পরিমাণের অসঙ্গতি পাওয়া যায়। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সার বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং কৃত্রিম সংকট বা অনিয়ম প্রতিরোধে সার ব্যবসায়ীদের সরকারি বিধিবিধান মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এক বিশেষ বিবৃতিতে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম জানান, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। দিনের একটি সময় উপজেলার প্রায় সব খানেই সার মনিটরিং করছি। কৃষকরা যাতে হয়রানি না হয় এবং সময়মতো সার পায় সেই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস
মায়ের মৃত্যুতে কারাবন্দী সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে । আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এই আদেশ দেন। এর আগে প্যারোলে মুক্তির জন্য চিন্ময়ের পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়।
আজ সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) মারা যান।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাঁর প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।’
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। আদেশটি হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
ছবি : সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে রাতের আঁধারে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে চার ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছেন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। এতে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারসহ (এএসপি) অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সদরে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মালিগাঁও ও সাগরদীঘি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত ১০টায় টর্চলাইটের আলো জ্বালিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় এএসপিসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মালিগাঁও ও সাগরদীঘি গ্রামের লোকজনের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), সরাইল থানার ওসিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এদিকে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার মাস্টারের নেতৃত্বে বিএনপির একটি অংশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইকযোগে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষকে সংঘর্ষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। তারাও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
রাত ১০টার দিকে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যরা টহল ও নজরদারি জোরদার করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ জানান, সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সরাইল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ওপরও হামলা হয়েছে। আমাদের সার্কেল স্যার আহত হয়েছেন। তিনি পায়ে ইটের আঘাত পেয়েছেন। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।