যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ গালীব ও জেলা তাতিঁদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুন।
রংপুরে ‘ডিশ-ইন্টারনেট’ ব্যবসা দখল নিয়ে বেডরুমে গিয়ে স্ত্রীসন্তানসহ গুলি করে হত্যা হুমকির ঘটনায় জামিন পেয়েছেন বহিস্কৃত যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ গালীব ও জেলা তাতিঁদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে জামিন প্রদান করেন অতিঃ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ রাশেদ হোসাইন। পাঁচশ টাকার বন্ডে পিয়ার পর্যন্ত এ জামিন মঞ্জুর করা হয়।
এর আগে সোমবার রাতে “মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড” নামক ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা ও মোবাইল ফোনে কর্মকর্তার স্ত্রীসন্তানকে বেডরুমে গিয়ে গুলি করে হত্যা হুমকির অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। মামলার পরে র্যাব ১৩ ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বহিস্কৃত যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ গালীব ও জেলা তাতিঁদলের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কায়সার মিথুনকে গ্রেফতার করে।
মামলা সুত্রে জানা যায়, নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানের লাইন কেটে দেয়। এতে গ্রাহকরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন। এ ঘটনায় মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের পপ ম্যানেজার রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গত রোববার বিকেলে গালিব ও মনুসহ আনুমানিক ১৫-২০ জন প্রতিষ্ঠানের অফিসে ঢুকে স্টাফদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তামজিদুর রশিদ গালিবের নির্দেশে অন্য আসামিরা মারধর ও অফিসের ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামাদি ভাঙচুর করে। একই সঙ্গে কামাল কাছনা এলাকায় গালিবকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দিতে চাপ দেওয়া হয়। এ সময় আকিবুল রহমান মনু প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মাহাদী হাসান কাফিকে মোবাইলে হুমকি দিয়ে বলেন, “তুই আওয়ামী লীগের দালালি করছিস। আজকে বিকেলের মধ্যে যদি সমাধান না করিস তাহলে তোর বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব।”
পরে ইন্টারনেট অফিসে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর, ভাঙচুর ও বাসায় গিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর মহানগর কোতোয়ালি থানায় ‘ক্যাবল ওয়ান’ ও ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। মামলায় জেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়।
এদিকে, অভিযুক্ত দুই নেতাকে গত রোববার রাতেই বহিষ্কার করেছে যুবদল। সংগঠনটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি-আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি শাহজাহান আলী বলেন, মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড ও কেবল ওয়ান কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় গালিবকে র্যাব-১৩ গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, অফিসে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর, ভাঙচুর ও বাসায় গিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর কোতোয়ালি থানায় কেবল ওয়ান ও মায়া সাইবার ওয়াল্ডের দুই কর্মকর্তা আলাদা দুটি মামলা করেন।
মামলায় জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনুসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানের লাইন কেটে দেওয়া হয়। এতে গ্রাহকরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন। এ ঘটনায় মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের ‘পপ’ ম্যানেজার রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সংবাদ সম্মেলনের পর রোববার বিকালে গালিব ও মনুসহ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ জন প্রতিষ্ঠানের অফিসে ঢুকে কর্মীদের ওপর মারমুখী আচরণ চালায়। এ সময় গালিবের নির্দেশে অন্য আসামিরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ভাঙচুর করে। সোমবারের মধ্যে কামাল কাছনা এলাকায় গালিবকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দিতে চাপ দেয়।
এ সময় মনু প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মাহাদি হাসান কাফিকে মোবাইলে হুমকি দেন অভিযোগ করে এজাহারে বলা হয়, “তুই আওয়ামী লীগের দালালি করছিস। তোর বাসায় গিয়ে গুলি করে আসব। আজকে বিকালের মধ্যে যদি সমাধান না করিস তাহলে তোর বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব।
“পরে মনুসহ তাদের অনুসারীরা হুমকি দেন যে, অফিসের বাইরে গেলে কর্মীদের মারধর বা খুন-জখম করা হবে। ঘটনার পর তারা সেখান থেকে চলে যায়।”
এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এ দুই নেতাকে গত রোববার রাতেই বহিষ্কার করে যুবদল।
সংগঠনটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি-আদর্শ ও সংহতির পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এদিন দুপুরে ফেইসবুক লাইভে এসে হুমকির ঘটনার ভিডিও অংশের বিশেষ প্রকাশ করায় ঘটনাস্থলের প্রেক্ষাপট ও আলাপচারিতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভুল তথ্য পৌঁছেছে বলে দাবি করেন বহিষ্কার হওয়া যুবদল নেতা মনু।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কখনোই কোথাও কারও কাছে চাঁদা দাবি কিংবা কোনো ধরনের অন্যায় কাজের সঙ্গে যুক্ত হননি বলে দাবি করেন তিনি।
উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়ক, মহাসড়ক, রাস্তার দু’পাশ, নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড়ের ভাঙন এবং মাটির ক্ষয়রোধে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযোগী ঘাস ও উদ্ভিদভিত্তিক সবুজায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন মাটির ক্ষয় ও ভাঙন কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা যাবে।
তিনি বলেন, ভূমি রক্ষায় ব্যয় সাশ্রয়ী বিন্না ঘাস রোপণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। তাই বিন্না ঘাস রোপণের নীতিমালা প্রণয়নের সময় রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, সড়ক, বাঁধ ও নদীতীরবর্তী এলাকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় ভৌগোলিক ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে। ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, মাটির ধরন, পানি প্রবাহ, জলবায়ু ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় দেশের অবকাঠামো, নদী ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই পদ্ধতি হিসেবে ঘাস রোপণের সম্ভাবনা, কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া শোকের ছায়া ফেলেছে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায়।
নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। চাকরির সুবাদে পরিবার-পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণ সৈনিকের জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই পিয়াসের ঘর আলো করে এসেছিল একটি নবজাতক সন্তান। সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্য পৃথিবীতে আসা সেই সন্তান। পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই এবং কয়েকদিন আগে বাবা হওয়ার আনন্দে থাকা পিয়াসের নিথর দেহের অপেক্ষায় এখন স্বজনদের প্রহর গোনা।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতা রাসেলসহ তিনজনের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণের আংটি, হাতঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত রাসেল (৪৪) রূপগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি তাঁর ভাগিনা জসিম (৩৯) ও বন্ধু শামীম ভূঁইয়াকে (৪৯) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে গোলাকান্দাইলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে পৌঁছালে সাব্বির (২৩), কামরুল (৪৫), সোহান (২৩), ইয়ামিন (২৪), জিহাদ (২৪) ও রাব্বিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন।
অভিযোগে রাসেল দাবি করেন, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়। তাঁর ভাগিনা জসিমকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই ঘটনায় শামীম ভূঁইয়াও আহত হন।
রাসেলের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তাঁর হাত থেকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি ও ১৫ হাজার টাকা মূল্যের হাতঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া জসিমের কাছে থাকা ড্রেজার ব্যবসার ১ লাখ টাকা এবং শামীমের ব্যবহৃত প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় রাসেল রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, “হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
ছবি : সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের হোসেনপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাতের পর গ্যাসের রাইজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। আজ বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে আল মাহমুদ এভিনিউয়ে মন্ত্রীর বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বৃষ্টির সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাত হয়। এতে গেটের পাশে থাকা ডাবল চেইন গ্যাসলাইনের রাইজারে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়।
আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে বাসভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. শফিকুল ইসলাম দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় কন্ট্রোল রুমে খবর দেন। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় পাঁচ মিনিটের চেষ্টায় দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতের আঘাতে গ্যাসের রাইজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় বাসভবন ও আশপাশের প্রায় দুই লাখ টাকার সম্পদ অক্ষত অবস্থায় রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এতে সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
প্রতীকী ছবি
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছাগলে শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে কুলছুমা (৩০) নামে এক নারীর শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। গুরুতর আহত কুলছুমা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগীর বাবা মো. জামসেদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আব্দুল গনি কুলছুমাকে বিয়ে করেন। গনির আগের সংসারের ছেলে সাইফুলের একটি ছাগল কয়েকদিন আগে কুলছুমার রোপণ করা একটি শিমগাছ খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে কুলছুমা প্রতিবাদ করলে সাইফুল ও তার বোনদের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে কুলছুমার শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে দেয় সাইফুল ও তার বোনেরা। এতে তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি কৌশলে পুলিশ বা স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তারা গোপনে চিকিৎসা করানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ৫ হাজার টাকা দেয় এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যেতে বলে। তবে প্রতিশ্রুত টাকা না দেওয়া এবং কুলছুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে নাজমা ও আকলিমা নামে দুই অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় পারভেজ মো. আবুল কালাম নামে একজনকে যাব্বজ্জীবন দিয়েছে আদালত।
বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১ এর বিচারক আবু হানিফ এ রায় প্রদান করেন।
সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ইফতেখার মাহমুদ জানিয়েছেন, '২০২৫ সালের ১৫ জুলাই রাতে চকরিয়া থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর বাড়িতে হানা দেয় পারভেজরা। এসময় সবকিছু লুটে নেয়ার পর স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে।
দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পারভেজকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১০ বছরের কারাদন্ড দেন।
সট:- ইফতেখার মাহমুদ এপিপি, কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১।
এদিকে, আদালতের রায়ে সস্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ। একই সঙ্গে মামলার বাদীর প্রত্যাশা অন্যকোন পরিবারে যেন এমন জুলুম না হয়।