রংপুরের
পীরগঞ্জে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৪ দিন পর
একটি ভোটকেন্দ্র থেকে ছয়টি ব্যালট পেপার ও দুটি সিল
উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে দুটি
ধানের শীষ প্রতীকের। বাকি চারটির মধ্যে দুটি ‘হ্যাঁ’ এবং দুটি ‘না’ ভোটের।
সোমবার
(১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের হাসার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে সিলমারা এসব ব্যালট উদ্ধার করা হয়। বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পপি খাতুন।
প্রায়
২ ঘন্টা অবরুদ্ধ
থাকার পর সীলযুক্ত ব্যালট
ও সিল উদ্ধারে লিখিত দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এ সময় পুলিশ
প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপি
নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় ইউএনওকে স্কুল ঘর থেকে বের
করে গাড়িতে উঠানোর সময় উত্তেজিত জনতা কর্তৃক ইউএনও'র গাড়ি ভাঙচুরের
ঘটনা ঘটে।
সোমবার
ছুটি কাটিয়ে হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ গুটিকয়েক শিক্ষার্থী স্কুলে আসেন। বেলা ১১টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির জুনায়েদ ও পঞ্চম শ্রেণির
নবীউল তাদের ক্লাসরুমে পড়ে থাকা কাগজ পরিষ্কার করতে থাকে। এক সময় ক্লাসরুমে
থাকা আলমিরাতে পড়ে থাকা সিলমারা ৬টি ব্যালট পেপার দেখতে পায়।
পরে
শিক্ষার্থীরা বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদকে জানালে অন্য শিক্ষকরাও জেনে যায়। ধীরে ধীরে এ খবরটি এলাকায়
ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ ধানের শীষের কর্মী ও সমর্থকরা স্কুল
মাঠে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ঝাড়ু হাতে নারীরাও অবস্থান নেন।
খবর
পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং
কর্মকর্তা পপি খাতুন, উপজেলা নির্বাচন অফিসার আজিজুর রহমান, অফিসার ইনচার্জ সোহেল রানাসহ পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুদ্ধ জনতা ইউএনওকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
বিষয়টি
জানতে পেয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুন্নবী পলাশ সহ উপজেলা নেতৃবৃন্দ
উপস্থিত ঘটনাস্থলে আসেন। তারা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে থাকে। উত্তেজিত জনতার দাবির মুখে ইউএনও সেখানে ব্যালট পেপার উদ্ধারের লিখিত দেয়। প্রায় ২ ঘন্টা ধরে
ইউএনও অবরুদ্ধ থাকার পর পরিস্থিতি কিছুটা
শান্ত হয়।
পরে
বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশ প্রশাসনের
সহযোগিতায় অবরুদ্ধ ইউএনওকে বাহিরে বের করে গাড়িতে উঠানোর সময় উত্তেজিত জনতা ইউএনও'র গাড়ি ভাঙচুর
করে।
এ
বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুন জানান, আমি প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের ডেকেছি, সেখানে বিস্তারিত জানাবো।
পীরগঞ্জ
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রিজাইডিং
কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা শাহ আব্দুর রউফ কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. রাহিদুজ্জামান বলেন, সকল এজেন্টের সামনে বাক্স দেখিয়ে ভোট শুরু করি এবং সিল গালা আমরা সবার সামনেই করি। সবার সম্মতিক্রমে ব্যালট বাক্স ওপেন করি। ব্যালট গণনা করেই রেজাল্ট সিট রেডি করে তাদের হাতে দেই। ব্যালট বাক্সের বাইরে আলাদা ব্যালট পাওয়া গেলে আমাদের করার কিছু নাই।
প্রসঙ্গত,
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত নুরুল আমীন এক লাখ ২০
হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ১৭
হাজার ৭০৩ ভোট। ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে পুনরায় গণনার দাবিতে গত তিনদিন ধরে
বিক্ষোভ করছেন বিএনপির নেতাকর্মীসহ সমর্থকরা।
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলা চাকলা ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক নাবালিকা মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার প্রেক্ষিতে ঘটনার প্রধান আসামি মো. আখিনুরকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আখিনুর পঞ্চগড় সদর থানার চাকলা ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার মো. বুলেটের ছেলে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত কিশোর একই মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে আখিনুর দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে গত ৭ মে রাতে বাড়ির সবার অনুপস্থিতির সুযোগে আখিনুর ওই নাবালিকাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পঞ্চগড় লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে ওই কিশোরী ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ওই কিশোরী আখিনুরের সঙ্গে জোরপূর্বক মেলামেশার বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নিতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা রুজু করা হয়েছে এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে জানিয়ে স্থানীয় একজন মফিজার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অসম প্রেমের গল্প শুনেছি কিন্তু এত ন্যাক্কারজনক ঘটনা এর আগে কখনো শুনিনি। এই ঘটনাটি আমাদের স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মনোবৃত্তিতে বাজে প্রভাব ফেলার আগেই সঠিক বিচার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
এদিকে মামলার বাদী শাহীনুর ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, আমার বাবা ১৫ বছর ধরে নিখোঁজ, মা প্রতিবন্ধী (বোবা) এই অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একই এলাকার বুলেট ইসলামের ছেলে আখিনুর এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষার পর উপায়ান্তর না পেয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। এখন প্রতিনিয়ত হাটে বাজারে ওই ছেলের পরিবারের লোকজন আমাকে মামলাসহ দেখে নেবে বলে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
আটককৃত আখিনুরের চাচা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, আমার ভাতিজা এমনটা করেছে বিশ্বাস করি না। তবুও মামলা না করে এলাকার লোকজনসহ বিষয়টি নিয়ে বসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা বসেনি।
আটককৃত আখিনুরের প্রকৃত বয়স সম্পর্কে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমার ভাতিজাকে এর আগে ২ বছর হাফেজি পরিয়ে পরে মাদ্রাসায় ভর্তি করি। এখন সে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার জন্ম ২০১২ সালের চব্বিশ ফেব্রুয়ারি। সেই অনুপাতে ১৪ বছর ৭ মাস প্রায়। কিন্তু মামলার এজাহারে তাকে ১৯ বছর দেখানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওই মেয়ের স্বভাব চরিত্র ভালো নয় এটা এই এলাকার সবাই জানে।
মাদ্রাসাটির সুপার হাবিবুর কালবেলাকে জানান, আখিনুর তাদের মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। কিছুদিন আগে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগে তাকে মাদ্রাসায় আসতে নিষেধ করেছিলাম। এরপর সে মাদ্রাসায় অনেকদিন আসেনি। ভিকটিম কিশোরী তাদের মাদ্রাসার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলেও তিনি জানান।
পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকলেছুর রহমান বলেন, মামলা পাওয়ার পরে ওই কিশোরীর জবানবন্দি শুনেছি। পরে মামলার প্রধান আসামিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ‘ইসলামী’ দল বলা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।
তার দাবি, ‘‘জামায়াত তাদের লোগো থেকে ‘আকিমুদদ্বীন’ কথাটি উঠিয়ে ফেলেছে। এতে ওখানে ইসলাম কথাটি আর থাকে না। তাই তাদেরকে ইসলামী দল বলাও যায় না।’’
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের ফজলুল উলম মাদ্রাসায় কর্মী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসলামী আন্দোলনের আমির এসব কথা বলেন।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের উদ্ধৃতি টেনে চরমোনাই পীর বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী দলের লোগো থেকে আকিমুদদ্বীন কথাটি উঠিয়ে ফেলেছে। এতে ওখানে ইসলাম কথাটি আর থাকে না। গত নির্বাচনের ইশতেহারে জামায়াত যে ইসলাম অনুযায়ী দেশ চালাবে, এ কথা কোথাও বলেনি। পাশাপাশি জামায়াতের আমির সে সময় বলেছিলেন, তারা শরিয়া অনুযায়ী দেশ চালাবেন না, প্রচলিত আইনে চালাবেন। সব মিলিয়ে বলা চলে জামায়াত আর ইসলামী দল নয়। তাদেরকে ইসলামী দল বলাও যায় না।’
১১ দলের লংমার্চ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন চরমোনাই পীর। তিনি বলেন, ‘‘জামায়াতে ইসলামী বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন দাবিতে লংমার্চ করেছে। সেখান থেকে ফিরে সংসদে দলের আমির বলেছেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যা বর্তমান সরকারের সৃষ্ট নয়’, তাহলে এতো তেল গ্যাস পুড়িয়ে লংমার্চ কেন করলেন? এমন দ্বিমুখি আচরণ কেন।’’
একই সাথে ক্ষমতাসীন দল বিএনপিকে নিয়েও অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির। তার দাবি, বিএনপি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে। ‘নির্বাচনের আগে ওয়াদা করেছিল ক্ষমতায় গেলে শরিয়াবিরোধী কোনো আইন করবেন না। কিন্তু সে ওয়াদা রাখছেন না। সংসদে তারা এরই মধ্যে শরিয়াবিরোধী আইন অনুমোদন দিয়েছে’—যোগ করেন মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম।
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, ‘তারা (সরকার) শরিয়াবিরোধী আইন থেকে ফিরে না আসলে আমরা প্রতিবাদে নামতে বাধ্য হব।’
মশা নিধনে গাসিকের কর্মসূচি।
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় আমেরিকান প্রযুক্তির লার্ভিসাইড (ব্যাসিলাস থুরিনজিয়েনসিস ইসরায়েলেনসিস) স্প্রে ব্যবহার শুরু করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন (গাসিক)।
ডেঙ্গু থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে প্রথমবারের মত পরিবেশবান্ধব ও অধিক কার্যকর নতুন কীটনাশক প্রয়োগ কার্যক্রম সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার।
পরবর্তী মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মত কীটনাশক প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এসময় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন, সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মাদ রহমত উল্লাহ, সহকারী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব-যান্ত্রিক) আমজাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায়, প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকারের নির্দেশে ব্রাজিল থেকে আনা বিশেষায়িত আধুনিক হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের সাহায্যে লার্ভা ধ্বংস কার খুবই সহজ।
এসব মেশিন শক্তিশালী ইঞ্জিনচালিত প্রফেশনাল গ্রেড স্প্রে মেশিন, যার মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকরভাবে লার্ভিসাইড বা কীটনাশক ছিটানো সম্ভব। প্রতিটি মেশিনে ১৩ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাঙ্ক এবং শক্তিশালী স্প্রে ব্যবস্থা রয়েছে, যার সাহায্যে প্রায় ২ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত ওষুধ ছিটানো যায়। এতে অ্যান্টি-ভাইব্রেশন প্রযুক্তি ও আরামদায়ক কাঁধের বেল্ট থাকায় দীর্ঘসময় কাজ করলেও অপারেটরদের জন্য ব্যবহার সহজ হয়।
সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মাদ রহমত উল্লাহ বলেন, এ ওষুধ (পাউডার) প্রথমে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানিতে মিশিয়ে ফগার মেশিন দিয়ে নালায় স্প্রে করা হয়। লার্ভিসাইড এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- এটি মানব দেহ ও পরিবেশের কোন ক্ষতি করে না; এটি কেবল মশার লার্ভা ধ্বংস করে এবং মশার বংশবিস্তার রোধে কাজ করতে বা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অত্যান্ত কার্যকর।
আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন জানান, যেখানে মশার প্রজননকেন্দ্র বা লার্ভা বেশি সেখানে আগে লার্ভিসাইড স্প্রে প্রয়োগ করা হবে। আপাতত ডেঙ্গুর ৯টি ডেঞ্জার জোন হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডের এ পরিচালনা করা হবে। বিটিআই স্প্রে করার মাধ্যমে পুরো সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মশার যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী।
তিনি নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোথাও যাতে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করেন।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে সালমা খাতুন বলেন, এ মুহূর্তে মশার উপদ্রব বেড়েছে ,তাই প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ও কার্যকর পরীক্ষিত ওষুধটা ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। এ ওষুধ একবার ছিটালে ১৫ দিন ওই জায়গা নিরাপদ থাকে। তবে আমাদের ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। বিটিআই ব্যবহারে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু পুরো শহরে এ ওষুধ ছিটাতে পারলে ভালো রেজাল্ট পাব।
স্থানীয়রা আশা করছেন, নতুন মশা মারার ওষুধ কার্যকর হবে এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া থেকে এলাকাবাসী রক্ষা পাবেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে টাকা ও দোকানের খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নয় বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তিনদিন পর থানায় মামলা হলেও মামলার তিনদিন পরও অভিযুক্ত আব্দুল খালেককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভূমিহীন সমিতি ও সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে শিশুটির বাবা রুবেল বক্তব্য দেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ধনবাড়ী পৌর এলাকার বান্দ্রা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। পাশের বর্ণিচন্দ্রবাড়ী গ্রামের ওই শিশুকে টাকা ও দোকানের খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় একটি পুকুরপাড়ে ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর বিষয়টি নিয়ে সালিশের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির বাবা রুবেল ও তার স্বজন দেলোয়ার হোসেনের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে যথাযথভাবে কথা না বলেই সালিশের আয়োজন করা হয়। এতে আইনি প্রক্রিয়ায় যেতে দেরি হয়।
পরে উপজেলা বিএনপির প্রথম সারির এক নেতাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতা করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনার তিনদিন পর শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধনবাড়ী থানায় মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, মামলা হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। রোববার ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা ও জবানবন্দি রেকর্ডসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুস সালাম সিদ্দিক বলেন, “মীমাংসার নামে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। বিষয়টি আগে পুলিশকে জানানো হয়নি বলে মামলা করতে দেরি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, মামলার আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে মামলা করার পর শিশুটির বাবাকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে পুরো পরিবার উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
মঙ্গলবারের মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিজেরা করি'র ঢাকা বিভাগীয় সমন্বয়ক ফজলুল হক, ধনবাড়ী কলেজের সাবেক জিএস মামুনুর রশীদ টিয়া, ভূমিহীন সমিতির সভাপতি কছিম উদ্দিন, সিপিবি ধনবাড়ী কমিটির সভাপতি আইয়ুব আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জুপিটার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর শরাফত আলী, ভূমিহীন নেত্রী জমিলা বেগম, ভূমিহীন নেতা আব্দুল বাছেদ এবং ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা রুবেল।
বক্তারা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি শিশুটির পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামিসহ ওয়ারেন্টভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গ্রেপ্তার পাঁচজনকে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়গঞ্জ থানার পাঙ্গাশি ইউনিয়নের কালিঞ্জা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারামারির ঘটনায় দায়ের করা নিয়মিত হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. হেদায়েতুল্লাহ ওরফে হেতু (৫০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার কোনাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কালিঞ্জা গ্রামের মৃত ফরহাদ তালুকদারের ছেলে।
অন্যদিকে, রায়গঞ্জ থানা এলাকায় পৃথক ওয়ারেন্ট অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আরও চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—শ্রী শাওন চন্দ্র তেলি (২৫), পিতা শ্রীযুক্ত কৃষ্ণ চন্দ্র তেলি, সাং ক্ষীরতলা দোহার; মো. শাহ জামাল, পিতা মৃত আবু সাইদ শেখ, সাং ধানগড়া; মো. আফাল, পিতা ফজল, সাং ক্ষুদ্র বাশুরিয়া এবং মো. রফিকুল শেখ (৪৩), পিতা মৃত ইদ্রিস আলী, সাং পশ্চিম লক্ষীকোলা।
রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, রায়গঞ্জ থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার পাঁচজনকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে চালান মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন এবং সেবাপ্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিউনিটি অ্যাকশন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় হাসপাতালের ডাক্তারসহ জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাব, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, অপরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকেরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঝালকাঠি শহরের পুরাতন কলেজ এলাকার হরি মন্দির প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)–এর সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহযোগী সংগঠন অ্যাক্টিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি) এ সভার আয়োজন করে।
সভায় সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় নাগরিকেরা সরাসরি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা, অভিযোগ, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় হাসপাতালের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে ডাক্তারসহ জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, পর্যাপ্ত শৌচাগারের অভাব, সেবাপ্রদানকারীদের জনবান্ধব আচরণের ঘাটতি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, তথ্যপ্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা, রোগ নিরীক্ষার সমস্যা, নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশের ঘাটতি, দায়িত্ব পালনে ঘাটতি, অপরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা সমস্যার কথা উঠে আসে।
সেবাগ্রহীতাদের এসব প্রশ্ন, অভিযোগ ও মতামতের জবাব দেন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. টি.এম.মেহেদী হাসান (সানী)।
তিনি সেবাগ্রহীতাদের বক্তব্যের মাধ্যমে হাসপাতালের ইতিবাচক দিক ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পাশাপাশি চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। হাসপাতালের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ছাড়া জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন আরএমও।
সভার শুরুতে এসিজির সদস্যরা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে কমিউনিটি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে চিহ্নিত উন্নয়নযোগ্য বিষয়গুলোর তালিকা তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করতে কোন কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রয়োজন এবং কী কী সমস্যা রয়েছে, সে বিষয়েও সেবাগ্রহীতা ও অংশগ্রহণকারীদের মতামত ও পরামর্শ নেওয়া হয়।
অ্যাক্টিভ সিটিজেন্স গ্রুপের (এসিজি) সদস্য মো. আরিফুর রহমান (রায়হান) সভাটি সঞ্চালনা করেন। এতে ব্যবসায়ী, গৃহিণী, শ্রমিক, দিনমজুর, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং টিআইবির কর্মীবৃন্দ অংশ নেন।
সভা আয়োজনে সহযোগিতা করেন টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সহযোগী সংগঠন ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ।