• প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:০২ এএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:০২ এএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৭:০২ এএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, ‌‘এই দেশ আমাদের প্রিয় দেশ। আল্লাহ তায়ালা এমন একটি সুবজ শ্যামল দেশে আমাদেরকে জন্ম  দিয়েছেন, যেখানে মাটি আমাদের উর্বর, মানুষ আমাদের পরিশ্রমী, পানিতে আছে সম্পদ, মাটির নিচে সম্পদ। এত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও দুই দুইবার স্বাধীনতা ১৯৪৭ এবং ১৯৭১। 


কিন্তু এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায়, দীর্ঘ ৭৭ বছরে বাংলাদেশ একটা জায়গায় এসে দাঁড়াতে পারলো না। দুনিয়ার বুকে সম্মানিত একটা জায়গা করে নেয়ার কথা ছিলো এটা এখন আর নেই। আমাদের দেশের পাসপোর্টের ভ্যালু খুব দুর্বল। অনেক জায়গায় দেশের পরিচয় দিতে অনেকে লজ্জাবোধ করেন। এর জন্য দায়ী আমাদের অসৎ নেতৃত্ব। 


যারা জনগণকে ধোকা দিয়ে তাদের ধারণা অনুযায়ী বোকা বানিয়ে জনগণের কপাল খামছে খায়। এরাই বাংলাদেশকে ৫৪ বছরে এগুতে দেয়নি। ময়মনসিংহ একটি কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছে তার সাক্ষী আপনারা। এই রকম একটি কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কৃষিতে বিপ্লব হয়ে চেহারা পাল্টে যাওয়ার কথা। 


আমি জানি এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণার জন্য যে পরিমাণ বাজেট ও পার্যান্ত জনবল সরবরাহ করা দরকার তা করা হয় না। তারপরও এই বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশকে অনেক কিছু দিয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার ক্ষেত্রে কাছাকাছিও কিছু দিতে পারে নাই। 


আমরা ঘোষণা দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ আগামী ১৩ তারিখ থেকে যদি নতুন বাংলাদেশ আল্লাহর ইচ্ছা এবং আপনাদের মায়াবী হাতের ভোটের মাধ্যমে ইনসাফের পক্ষে যদি রায় আসে, আল্লাহ যদি ১১ দলকে দেশবাসীর সেবা করার তৌফিক দেন তাহলে এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের মধ্যে একটি শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হবে ইনশাআল্লাহ।’ 


আজ মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।


ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর ও সদর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে মহানগর সেক্রেটারী অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় নির্বাচনী জনসভায় ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, ‘জাতি গড়তে হলে ভালো শিক্ষা আমাদের লাগবে। সেই শিক্ষাকে পঙ্গু বানিয়ে রাখা হয়েছে। প্রথমত বাজেটে শিক্ষাকে অবহেলা করা হয়। দ্বিতীয়ত দলীয় আনুগত্য দেখিয়ে অসৎ লোকদের হাতে যা বাজেট আছে তা তুলে দেয়া হয়। একদিকে বাজে অপর্যাপ্ত অন্যদিকে যা বাজেট থাকে সেটা খেয়েদেয়ে শেষ করে ফেলে। 


সারা বাংলাদেশের একই চেহারা। এখানকার যারা আছেন তারা হয়তো দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, আর আসছেন বলেইতো আমরা পাচ্ছি। অপর্যাপ্ত বাজেট থাকা সত্ত্বেও আমরা পাচ্ছি। এই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গোটা ময়মনসিংহে কৃষি বিপ্লব ঘটবে ইনশাআল্লাহ। কৃষিকে ওই পুরানা ধাচেঁ আর আমরা দেখতে চাই না। কৃষি এবং কৃষক এই দুটোকে শিল্প এবং শিল্পীতে পরিণত করবো ইনশাআল্লাহ।’


তিনি আরো বলেন, ‘কোন মামু খালুকে ছাড় দিবো না। দেশের টাকা চুরি করে বিদেশে গিয়ে রাজার হালতে বসবাস করতে দিবো না। আমরা ঘুম হারাম করে দিবো। ওদের শুধু সম্পদ নয় এই চোরদেরকেও দেশে ফিরিয়ে আনা হবে ইনশাআল্লাহ। এনে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। 


আশ্চর্যের বিষয় এই জাতি একটি মুরগির চুরির অপরাধে একজনকে ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলে এগুলো আমরা সমর্থন করি না। এই ছোট চোরদের না ধরে বড় চোরদেরকে ধরেন। এদেরকে এই যে মানুষগুলো পেটের ক্ষুধার তারণায় অপরাধ করে ফেলে তাদের অপরাধ করার দরকার হবে না। 


আগের ২৩ বছর পরের ৫৪ বছর এই ৭৭ বছর আমরা দেখেছি। আমাদের যুবক-যুবতীরা, তরুণ-তরুণীরা সেই পুরোনো রাজনীতি আর চায় না। এমনকি শিশুরাও চায় না, আমাদের মা-বোনেরাও চায় না। এবারের নির্বাচন কোন সাধারণ নির্বাচন নয়। এবারে নির্বাচন জাতির কিসমত উপযুক্ত রাস্তার উপর দাঁড় করিয়ে দেয়ার নির্বাচন। 


এই নির্বাচনে দুটি মূল্যবান ভোট। প্রথম ভোট হবে গণভোটে হ্যাঁ। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। আমরা নিজেরা হ্যাঁ ভোট দিবো আর সারা ময়মনসিংহবাসীকে হ্যাঁ ভোটে নিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ। কেউ কেউ প্রথম দিকে না ভোটের দিকে ক্যাম্পেইন করেছেন।


জনগণের উত্তাল তরঙ্গ দেখতে পেয়েছে। জনগণ পুরানা পঁচা রাজনীতি আর চায় না, পরিবার ব্যক্তিগোষ্ঠীতান্ত্রিক রাজনীতি চায় না। দলীয় সরকার দেখতে চায় না। জনগণ জনগণের সরকার দেখতে চায়। অনেকেই এখন আস্তে আস্তে বলতে শুরু করেছে আমরাও হ্যাঁ। ঠ্যালার নাম বাবাজি। জনগণের ঠ্যালা এটি ভীষণ শক্তিশালী ঠ্যালা। এটা সাগরের উত্তাল ঢেউকে থামিয়ে দেয়। 


যাদেরকে ভোট দিলে বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে তাদেরকে ভোট দিবেন? যারা ৫ আগস্টের পর থেকে জনগণের জানমাল খাওয়ার জন্য চাঁদা বাণিজ্য শুরু করেছে তাদেরকে ভোট দিবেন? যারা মামলা বাণিজ্য করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে তাদেরকে দিবেন? 


যারা ঋণ খেলাপীদেরকে নিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলছে ওদেরকে দিবেন? এদেশে পরিক্ষিত পরিচিত যারা ন্যায়ের পক্ষে মদিনার আদলে ইনসাফ কায়েমের পক্ষে যারা থাকবেন এবার বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা তাদের পক্ষে থাকবেন ইনশাআল্লাহ। তাই গণজোয়ার শুধু ময়মনসিংহে না সারা বাংলাদেশের একই চিত্র। 


যুবকরা ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে আমরা আর ধান্দাবাজি ধাপ্পাবাজির রাজনীতির সাথে নাই। আমরা কোন কার্ড এবং বেকার ভাতার সাথেও নাই। আমরা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চাই।’

 

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি ও মুক্তাগাছা-৫  আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম ভূঁইয়া।

 

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিশের ময়মনসিংহ জেলা শাখার আমীর মাওলানা নজরুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের ঈশ্বরগঞ্জ-৮ আসনের প্রার্থী আওরঙ্গজেব বেলাল, ১১ দলীয় জোটের ভালুকা-১১ আসনের প্রার্থী ডাঃ জাহিদুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের ফুলপুর-তারাকান্দ-২ আসনের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ, 


১১ দলীয় জোটের নেজামে ইসলাম ময়মনসিংহ জেলার সভাপতি মাওলানা আজিজুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের নান্দাইল-৯ আসনের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, ১১ দলীয় জোটের নেত্রকোণা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুড়ী) আসনের প্রার্থী আল-হেলাল তালুকদার, ১১ দলীয় জোটের গৌরীপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু তাহের খান, ১১ দলীয় জোটের ফুলবাড়িয়া-৬ আসনের প্রার্থী কামরুল হাসান মিলন, ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রশিবিবের সভাপতি ডাঃ ফাউজান আব্দুর রহমান, 


১১ দলীয় জোটের গফরগাঁও-১০ আসনের প্রার্থী ইসমাইল হোসেন সোহেল, ১১ দলীয় জোটের হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা তাজুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের গৌরীপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু তাহের খান, ১১ দলীয় জোটের ত্রিশাল-৭ আসনের প্রার্থী আসাদুজ্জামান সোহেল, ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমীর ও ময়মনসিংহ অঞ্চল টিম সদস্য মোঃ আবদুল করিম, 


সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ, সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুর রশীদ ফরাজী, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আনোয়ার হাসান সুজন, মাহবুবুল হাসান শামীম,  বায়তুলমাল সম্পাদক গোলাম মহসীন খান, কর্মপরিষদ সদস্য হায়দার করিম, আব্দুল আজিজ, খন্দকার আবু হানিফ, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারী সহ মহানগর ও জেলা জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪১ পিএম

তীব্র স্রোতে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ভিড়তে না পেরে কয়েক কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে গেছে রো-রো ফেরি ‘হামিদুর রহমান’। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ফেরিতে থাকা যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা। ভেসে যাওয়া ফেরিটিতে ৮টি যাত্রীবাহী বাস, ৪টি ট্রাক ও ৩টি প্রাইভেটকার রয়েছে। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


তিনি জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা রো-রো ফেরি ‘হামিদুর রহমান’ মাঝ নদী পার হলে তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ফেরিটি স্রোতে নিচের দিকে যেতে থাকলে সেখানেই নোঙর করা হয়। এরপর রুটে চলাচলকারী অপর রো-রো ফেরি ‘খানজাহান আলী’ গিয়ে ফেরিটিকে উদ্ধার করে।


তীব্র স্রোতের কারণে মাঝে মধ্যে এ রকম ভাটির দিকে ফেরি ভেসে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৭ পিএম

কক্সবাজার সদর উপজেলার হাজীপাড়ায় চট্টগ্রাম কোর্টে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা শহিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯০ হাজার পিস ইয়াবা এবং নগদ ৩৬ লাখ ২০ হাজার ৮৫০ টাকাসহ তার শ্যালক মোমেন মেহেদী আশিক, স্ত্রী সাদিয়া ফারহানা এবং এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


গ্রেফতারকৃত আসামিরা টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের বাসিন্দা, তারা ইয়াবাপাচারের উদ্দেশ্যে কক্সবাজার তার বোন জামাই এসআই শহিদুল্লার বাড়িতে মাদক সহ অবস্থান করে।


ভোর ৬টা থেকে কক্সবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোমেন মন্ডলের নেতৃত্বে সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজীপাড়ায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে মাদক ও টাকা উদ্ধার এবং গ্রেফতার করা হয়।


পরবর্তীতে তাদেরকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন।

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০০ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০০ এএম


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০০ পিএম

দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে সুগার মিল ট্রেনিং কমপ্লেক্সের সামনে বৃক্ষরোপন, মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আখচাষীদের সাথে মতবিনিময়, চিনিকল এরিয়ার আখ ক্ষেত পরিদর্শন ও চাষীপ্লটে আখরোপন করেছেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো: শামছুজ্জামান (সুরুজ)।


৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের সরকারি সফরে এসে এসব কর্মসুচিতে অংশ নেন তিনি। এসময় তাঁর সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফআইসি সচিব মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান।


জানা যায়, ক্রমাগত লোকসানে থাকা সুগার মিলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে ধারাবাহিকভাবে করপোরেশনের আওতাধীন মিলগুলো পরিদর্শন করছেন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো: শামছুজ্জামান সুরুজ। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দিনের সরকারি সফরে ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছেন তিনি।




সফরের প্রথম দিন ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে তিনি ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের গেস্ট হাউজে পৌঁছালে তাঁকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস্ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর এবং জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো: আবু রায়হান। 


এসময় মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) সাইফুল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) নুরুল আমিন, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সুভাষ চন্দ্র সিংহ,  ডিজিএম (সম্প্রসারন) মো: তাজিরুল ইসলাম, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মো: হাসানুজ্জামান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি ও ঠাচিক শ্রমিক ইউনিয়নরে সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ খাঁন রতন সহ মিলের উর্ধতন কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


সফরের দ্বিতীয় দিনে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের অধিগ্রহনকৃত জমিতে নির্মানাধীন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ও চিলারং ইউনিয়নের ২জন আখচাষীর প্লটে আখরোপন করেন ও আখচাষীদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। এর আগে তিনি ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের কারখানা বিভাগ সহ অন্যান্য দপ্তর পরিদর্শন করেন।


মিল পরিদর্শনকালে তিনি মিলের দূর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করেন এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন।


তাঁর এ সফর ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস্ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: হুমায়ন কবীর।

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৬ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৬ এএম


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৬ পিএম

দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর পৃথক পাঁচটি বিশেষ অভিযানে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর ও পীরগঞ্জ সীমান্ত এবং দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট, ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব অভিযানে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় একটি মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, সিমকার্ড ও ব্লুটুথ ইয়ারবাডও জব্দ করা হয়।


বিজিবির দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গোবিন্দপুর বিওপির একটি দল ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩৪৫/১-আর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বোটডাঙ্গী ঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ২৬টি ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি মোটরসাইকেল, একটি মোবাইল ফোন, দুটি সিমকার্ড ও একটি ব্লুটুথ ইয়ারবাডসহ মো. শামীম আকতার (২৬) নামে একজনকে আটক করা হয়।


আটক শামীম আকতার ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মো. আব্দুল লতিফের ছেলে। পরে তাকে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য মালামালসহ হরিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।


একই দিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে চাপসার বিওপির পৃথক অভিযানে হরিপুর উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩৪৭/৬-এস থেকে প্রায় ৯০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভাতুরিয়া এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া রাত ৮টা ২০ মিনিটে চান্দুরিয়া বিওপির অভিযানে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩৩৭/৪-এস থেকে প্রায় এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চান্দুরিয়া এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ২৭টি ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।


পরে রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে দিনাজপুর বিওপির আরেকটি অভিযানে পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩৪০/৩-এস থেকে প্রায় ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দস্তমপুর এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ৫৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে বিজিবি।


সবশেষে ৭ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে এনায়েতপুর বিওপির অভিযানে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩২২/৩-এস থেকে প্রায় এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কইকুরি এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ৪০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়।


বিজিবি জানায়, এসব অভিযানে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ১ লাখ ৯০ হাজার ৩০০ টাকা।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত ও কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক, মানব ও অস্ত্র পাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৩ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আজ এই এলাকার মানুষের জন্য আনন্দের দিন। কারণ, এখন থেকে এই এলাকার মানুষ উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন এবং এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটবে। তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই এলাকার মানুষ সেই সুযোগ গ্রহণ করবেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকার অর্থেই একটি সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলবেন এটাই আমার প্রত্যাশা।’ তিনি৭ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল সোয়া ১১ টায় সদর উপজেলার জামালপুর এলাকার আমতলী রেল ঘুন্টির ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে মহেশালী (ভাতার মারি ফার্মে) প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিস্তর স্থাপন করে উপরোক্ত কথা বলেন। 


এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেন এবং পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। আমি আশা করি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাইন ও অবকাঠামোর নকশা তৈরি হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু হবে।’রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর অবশেষে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো। এর মধ্য দিয়ে জেলায় উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। 


দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যাতে বজায় থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতির সফর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শহরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল ও যাতায়াতের পথেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা।


ঠাকুরগাঁও শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মহেশালী এলাকায় প্রায় ৮৬ একর জমিতে নির্মিত হতে যাচ্ছে এই বিদ্যাপীঠ। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বোর্ড থেকে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ কোটি ১২ লাখ টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয় ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে।


ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালযয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. ইসরাফিল শাহিন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যরা । 


উল্লেখ্য, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এ জেলায় দীর্ঘদিনের উচ্চশিক্ষার দাবির বাস্তবায়ন শুরু হলো। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য জেলায় যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং এ অঞ্চলে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সবাই।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৪৯ পিএম

নাটোরের লালপুরে মহিষের খামারিদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সড়কের ওপর জমছে গোবর ও বর্জ্য। এতে একদিকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিলমাড়ীয়া বাজার থেকে কামারের মোড়, কামারের মোড় থেকে মোহরকয়া বাজার ও মোহরকয়া পশ্চিমপাড়া এবং বিলমাড়ীয়া থেকে ভেল্লাবাড়ীয়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ওপর মহিষ পালন ও খামারের বর্জ্য ফেলার কারণে চলাচলের পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।


বিশেষ করে কামারের মোড় থেকে মোহরকয়া বাজার ও পশ্চিমপাড়া অভিমুখী সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দ, কাদা-পানি ও দুর্গন্ধে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। এর সঙ্গে স্থানীয় খামারগুলোর গোবর, আবর্জনা ও বর্জ্যপানি সড়কের ওপর পড়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বছরজুড়েই সড়কটির বিভিন্ন অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকে।


সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামীণ এ সড়কের বিস্তীর্ণ অংশে জমে আছে নোংরা পানি ও প্যাচপ্যাচে কাদা। কোথাও কোথাও চাকার দেবে যাওয়া গর্ত ও গভীর খাদ তৈরি হয়েছে। এসব গর্ত ও কাদা-পানি পার হয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী, বয়োবৃদ্ধ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় যানবাহনের চালকেরা। সামান্য বৃষ্টি হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের দুই পাশে কয়েকজন প্রভাবশালী ও স্থানীয় বাসিন্দার মহিষের খামার রয়েছে। খামারের গোবর, আবর্জনা ও বর্জ্যপানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় তা রাস্তার ওপর চলে আসে। এতে সড়কজুড়ে গোবর ও কাদার মিশ্রণ তৈরি হয় এবং আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র দুর্গন্ধ।


এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় মশার উপদ্রবসহ পরিবেশগত নানা সমস্যাও দেখা দিয়েছে বলে জানান তারা।


একই অবস্থা বিলমাড়ীয়া থেকে ভেল্লাবাড়ীয়া সড়কের বিভিন্ন অংশেও। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি মহিষের খামারের কারণে ওই সড়কে দূরপাল্লার যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না।


এ ছাড়া বিলমাড়ীয়া বাজার থেকে কামারের মোড় পর্যন্ত সড়কের কিছু অংশে সরকারি জায়গা দখল করে মহিষ পালন ও বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে তাদের দাবি।


স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইয়াকিন আলী বলেন, “মোহরকয়া গোরস্থান অভিমুখী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। বিশেষ করে গ্রামের মানুষ বিলমাড়ীয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ পড়তে এবং মোহরকয়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে লাশ নিয়ে যাতায়াত করেন। রাস্তার এই অবস্থার কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”


বিলমাড়ীয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের একাধিক মুসল্লি অভিযোগ করেন, মহিষের কারণে মসজিদে যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সড়কে থাকা গোবর ও মলমূত্র কাপড়ে লেগে যাওয়ায় ধর্মীয় দিক থেকেও তারা সমস্যায় পড়ছেন বলে জানান।


বিলমাড়ীয়া বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, “রাস্তা দখল করে মহিষ পালন করায় মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে না। দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”

মোহরকয়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল বলেন, “গোরস্থানে লাশ নিয়ে যেতে আমরা ভয় পাই। রাস্তা নোংরা, তার ওপর বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”


স্থানীয়দের অভিযোগ, মোহরকয়া কেন্দ্রীয় কবরস্থান, মোহরকয়া ডিগ্রি পাস ও অনার্স কলেজ, মোহরকয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বিলমাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বিলমাড়ীয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বিলমাড়ীয়া কলেজ, বিলমাড়ীয়া দাখিল মাদ্রাসা, বিলমাড়ীয়া দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসা, বিলমাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাথানবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দুটি ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষ এসব সড়ক ব্যবহার করেন।


এ অবস্থায় দ্রুত সড়ক সংস্কার, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সড়কের ওপর খামারের বর্জ্য ফেলা বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল। একই সঙ্গে সরকারি জায়গা দখল করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে তা উচ্ছেদেরও দাবি করেছেন তারা।