ছবি : সংগৃহীত
মুখে মাস্ক পরা পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি। পরনে প্যান্ট ও টি-শার্ট। সবার হাতেই আগ্নেয়াস্ত্র। গলির ভেতরে লোকজনের সামনেই তাঁরা অস্ত্র নিয়ে ‘ধর, ধর’ বলে তাড়া করেন এক যুবককে। পালাতে থাকা যুবককে লক্ষ্য করে ছুড়তে থাকেন মুহুমুর্হু গুলি।
দৌড়ানোর একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পালাতে থাকা যুবক। তখন তাঁকে পা দিয়ে চেপে ধরেন অস্ত্র হাতে থাকা ব্যক্তিরা। এরপর হত্যা করেন মাথায় গুলি করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদে এভাবেই প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয় বোনের বাসায় বেড়াতে আসা যুবক হাসান রাজুকে। এ সময় মাস্ক পরা ওই সব ব্যক্তির ছোড়া গুলিতে আহত হয়েছে রেশমি আক্তার নামে ১২ বছরের এক শিশু। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে ঘটনার এ বিবরণ জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদের বাঁশবাড়িয়া বিহারি কলোনি এলাকায়। হাসান রাজুকে গুলি করার ঘটনা কলোনির বাসিন্দাদের সামনে ঘটলেও কেউ ভয়ে এগিয়ে আসতে পারেননি। চট্টগ্রাম নগরের মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়কের রৌফাবাদ থেকে আধা কিলোমিটার পশ্চিমে শহীদ মিনার এলাকার পাশে বাঁশবাড়িয়া বিহারি কলোনি। সরু গলি দিয়ে কলোনিটির ৮০০ গজ ভেতরে গিয়ে অস্ত্রধারীরা হাসান রাজুকে হত্যা করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন ফরিদা আক্তার। তিনি বলেন, ‘ধর, ধর চিৎকার শুনে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে দেখি পাঁচ থেকে ছয়জন মাস্ক পরা অস্ত্রধারী ব্যক্তি রাজুকে তাড়া করছে। কিছুক্ষণ পর টুসটাস শব্দ। হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে রাজু। এরপর তাকে পা দিয়ে চেপে ধরে একের পর এক গুলি করা হয়।’
ফরিদা আক্তার আরও বলেন, ‘গলির দুই পাশে বাসা। গুলির শব্দে সব বাসা থেকে লোকজন বের হয়েছে। তবে মাস্ক পরা ব্যক্তিদের হাতে অস্ত্র থাকায় কেউ এগিয়ে যেতে সাহস করেনি। রাজুকে গুলি করে অস্ত্রধারীরা দ্রুত চলে যায়। তারা যাওয়ার পর দেখে গুলিতে আহত হয়ে এক শিশুও গলিতে পড়ে আছে। তার চোখে আঘাত লেগেছে। শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’
গতকাল রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে অন্তত পাঁচজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা হয়। গলির ভেতরে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনায় তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তাঁরা জানান, এভাবে গলির ভেতরে বাইরের কেউ এসে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যার সাহস করবেন, সেটি তাঁদের কল্পনায়ও ছিল না। এ ঘটনার পর থেকে কলোনির বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন।
রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গলির একটি অংশে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। আশপাশে উৎসুক লোকজনের ভিড়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে যাচ্ছে।
নিহত রাজুর বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর এলাকায়। কয়েক দিন আগে তিনি বোনের বাসায় বেড়াতে আসেন। তাঁর বোন রুমা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, নিহত রাজু পেশায় দিনমজুর। তাঁর সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না বলে জানান রুমা আক্তার।
ঘটনাস্থলে আসা পুলিশ কর্মকর্তারা গতকাল রাতে বলেন, ‘এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ভুক্তভোগীর অবস্থান জেনে প্রশিক্ষিত শুটাররা কলোনির ভেতরে গিয়ে লোকজনের সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যায় জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।’
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল রাউজানের কদলপুর এলাকায় নাসির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত নাসিরের মেয়ে লাভলী আক্তার হাসান রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। নাসির প্রবাসফেরত ও যুবদলের কর্মী ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি।
পুলিশ জানায়, রাউজানের নাসির খুনের বদলা নিতে পরিকল্পিতভাবে রাজুকে খুন করা হতে পারে। পলাতক সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। কারণ, নিহত নাসির রায়হানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
নগর ও রাউজানের অন্তত ১৪টি খুনের ঘটনায় রায়হানের নাম উঠে এসেছে। কিন্তু পুলিশ তাঁকে এখনো ধরতে পারছে না। রায়হান বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
নিহত রাজুর মা সখিনা বেগম রাতে বলেন, গত মাসের ১৪ তারিখ একটি কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন হাসান রাজু। মেয়ের মুখে বাবা ডাক তাঁর শোনা হলো না। সখিনা বেগম আরও বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। যারা আমার ছেলেকে মেরেছে, আমি তাদের শাস্তি চাই।’
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয়ের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক দপ্তরি কাম প্রহরীর বিরুদ্ধে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বিশাল আকৃতির শুকনো আমের গাছ টেন্ডার বা নিলাম ছাড়াই কেটে ফেলায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ রোববার(২৬ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে থাকা বিশালাকার গাছটি শ্রমিক লাগিয়ে কেটে ফেলেন ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী আব্দুল লতিফ। তাকে সহযোগিতা করেন স্থানীয় আরোও কয়েকজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মৌখিক নির্দেশে দপ্তরি কাম প্রহরী আব্দুল লতিফ এই গাছটি কেটেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সম্পদ বা গাছ অপসারণের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি।
গাছ কাটার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। গাছ কাটার কোনো মৌখিক নির্দেশও আমি দেইনি।
এবিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের গাছ কাটার বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। আপনারা নিউজ করেন সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, টেন্ডার ছাড়া সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাছ কাটার কোনো বিধান নেই। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাধারণ নাগরিকদের ওপর কোনো ধরনের অতিরিক্ত কর বা ট্যাক্স না বাড়িয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য মোট ৫,১০২ কোটি ৩৫ লাখ ৮ হাজার টাকার একটি জনকল্যাণমুখী ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই, ২০২৬) আয়োজিত বাজেট উপস্থাপন ও সংবাদ সম্মেলনে এই বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করা হয়। নতুন এই বাজেটে সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২,৪৮০ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ধরা হয়েছে ২,৬২১ কোটি ৮৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয় যে, বর্তমান অর্থবছরে সাধারণ নাগরিকদের ওপর নতুন কোনো ট্যাক্স বা করের বোঝা বাড়ানো হয়নি। হোল্ডিং ট্যাক্স রি-অ্যাসসেসমেন্ট কার্যক্রম শেষে পূর্বের ন্যায় একই কর বহাল রাখা হয়েছে। নগরীর আধুনিকায়ন ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষে বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও ড্রেন নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্য খাতের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব অর্থায়ন ও সরকারি অনুদানে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ এবং মেরামতের জন্য প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া ডিপিপি প্রকল্পের আওতায় ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের অভ্যন্তরীণ রাস্তা, নর্মা ও ফুটপাত নির্মাণের কাজও বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করতে ৩৭টি নতুন যানবাহন ক্রয় এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি মশা তথা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসকরণ, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শিক্ষা ও খেলাধুলার মান উন্নয়নে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডে ৫৭টি খেলার মাঠ এবং ৮টি জোনে নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নগরবাসীর উদ্দেশ্যে জানানো হয় যে, একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও বাসযোগ্য আধুনিক নগরী গড়ে তুলতে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ অত্যন্ত জরুরি। শহরটিকে নিজেদের মনে করে সবাই মিলে পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এই বাজেট বাস্তবায়নে সকলের দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
আনন্দঘন পরিবেশে রোটারী ক্লাব অব গাজীপুর সেন্ট্রালের নবম চার্টার্ড ডে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুর শহরের প্রকৌশলী ভবনের হলরুম জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর, ডি৬৪ ও পিডিজি একেএম সামসুল হুদা।
ক্লাবের চার্টার্ড প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান কাজলের সভাপতিত্বে ও ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মোঃ আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা এডভোকেট আব্দুস সালাম, অ্যাসিস্ট্যান্ট কোঅর্ডিনেটর ডাক্তার আমিরুল ইসলাম, রিপসা টিম মেম্বার রোটারিয়ান জাহাঙ্গীর আলম, অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্ডিনেটর ও আইপিপি জাহাঙ্গীর কবির, পাষ্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান প্রকৌশলী শাহ মামুন সারোয়ার, পাষ্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান জাহাঙ্গীর আলম পিএইচএফ, পাষ্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান এরশাদ হোসেন, রোটারী ক্লাব অব গাজীপুরের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মনির হোসেন, রোটারী ক্লাব অব ভাওয়ালের প্রেসিডেন্ট মনিরুজ্জামান মুন্না, রোটারী ক্লাব ভাওয়াল হেরিটেজের প্রেসিডেন্ট গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কেক কাটা, কুইজ প্রতিযোগিতা, রেফেল ড্র, সার্ভিস প্রজেক্ট গ্রহণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পরে অসহায় দুটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ, দুইজনকে শিক্ষাবৃত্তি, একজন অটিস্টিক শিশুকে চিকিৎসা সহায়তা, আত্মকর্মসংস্থানের জন্য টেইলারিং কাজে আর্থিক সহযোগিতাসহ ৮টি প্রজেক্টের মাধ্যমে সহযোগিতা করা হয়। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জাতীয় সংগীতশিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।
বরগুনায় পরকীয়ার জের ধরে স্বামীকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী রাবেয়াকে অবরুদ্ধ করে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে এ ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্ত্রী রাবেয়া এবং তার মাকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বরগুনা-পুরাকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাতলা নামক এলাকায় সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন স্বজনরা।
নিহত ওই ব্যক্তি হলেন-আফাং শিকদার (৪৫)। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাতলা নামক এলাকার মৃত খবির শিকদারের ছেলে।
মানববন্ধনে উপস্থিত স্বজন ও স্থানীরা অভিযোগ করে বলেন, নিহত আফাং জীবিকার তাগিদে স্ত্রীকে রেখে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে ছিলেন। সেখানে কাজ করে বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর রাবেয়ার কাছে টাকা পাঠাতেন। তবে স্বামীর অনুপস্থিতিতে অন্য আরেক পুরুষের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তার স্ত্রী রাবেয়া। পরবর্তীতে আফাং দেশে ফিরলে বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়।
পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে, গত শনিবার (১৯ জুলাই) স্ত্রী রাবেয়া স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইঁদুর মারার বিষ খাইয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। ঘটনার পরদিন রোববার (২০ জুলাই) আফাং শিকদারকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) মৃত্যু হয় আফাং শিকদারের। পরবর্তীতে সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে শনিবার বিকেলে মরদেহ বরগুনা উদ্দেশ্যে নিয়ে এলে ক্ষিপ্ত হয় স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এসময় অভিযুক্ত স্ত্রী রাবেয়াকে অবরুদ্ধ করে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে বরগুনা-পুরাকাটা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন তারা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। পরে সাংসদ নিজেই আফাং শিকদারের জানাযার নামাজ পড়ান।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে। স্থানীয়দের দাবির সাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কৃষকের ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানা পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রাওতা গ্রামের একটি ফসলের মাঠ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সুশীল নাচোল উপজেলার রাজবাড়ীহাট টাওয়ারপাড়া গ্রামের মৃত শুকান্তের ছেলে।
পুলিশ জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরহাদ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কৃষকের বেশে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সুশীলও কৃষকের ছদ্মবেশে মাঠে কাজ করছিলেন। পরে তাকে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তার করা হয়।
নাচোল থানার এএসআই ফরহাদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পলাতক আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য তিনি লুঙ্গি পরে কৃষকের ছদ্মবেশে ফসলি মাঠে যান। আসামির কাছাকাছি পৌঁছালে সুশীল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, প্রায় তিন মাস আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম দায়রা জজ আদালত-(২) পলাতক আসামি সুশীলকে সাজা দেন। এর পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। অবশেষে শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকরের লক্ষ্যে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, ২০১৭ সালের একটি মাদক মামলায় চলতি বছর আদালত সুশীলকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেন। রায়ের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
তিনি আরও জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
লাইজু আক্তার
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে চলন্ত ফেরি থেকে মাঝপদ্মায় ঝাঁপ দেওয়া এক গৃহবধূকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ চার ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি শেষে ফরিদপুর জেলার কবিরপুর চরের তীর থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই রোমহর্ষক ঘটনার শিকার ওই নারীর নাম লাইজু আক্তার (৩৯)। তিনি ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদের বাসিন্দা মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী।
জানা যায়, শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ফেরি ‘কুমিল্লা’। ফেরিটি যখন মাঝনদীর লাল বয়া এলাকায় পৌঁছায়, তখন আকস্মিকভাবে লাইজু আক্তার ফেরির পেছনের অংশ থেকে নদীতে লাফিয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।
ফেরি ‘কুমিল্লা’র ভারপ্রাপ্ত মাস্টার আব্দুস ছাত্তার ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, ফেরিটি যথারীতি দৌলতদিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। মাঝনদীতে পৌঁছানোর পর সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে হঠাৎ খবর আসে যে, এক নারী যাত্রী ফেরির পেছনের দিক থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। খবর পাওয়া মাত্রই তিনি ফেরিটি থামিয়ে দেন এবং ঘুরিয়ে নিয়ে ওই এলাকায় সার্চলাইট জ্বালিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একই সাথে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও নৌ পুলিশকে অবহিত করা হয়। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ওই নারী ফেরিতে একাই ভ্রমণ করছিলেন।
এদিকে নদীতে প্রবল স্রোত থাকা সত্ত্বেও লাইজু আক্তার কচুরিপানার স্তূপকে আঁকড়ে ধরে ভাসতে থাকেন। এভাবে ভাসতে ভাসতে তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চরে এসে আটকে যান। স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন জানান, কচুরিপানার সাথে ভেসে চরে আটকে পড়া ওই নারীকে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে খবর দেন। এরপর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকমান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে নিরাপদ হেফাজতে রাখেন এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ নদীতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। রাত পৌনে ১২টার দিকে ফরিদপুরের কবিরপুর চরের ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেনের মাধ্যমে লাইজুর জীবিত উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
উদ্ধারকৃত নারী বর্তমানে লোকমানের বাড়িতে পুরোপুরি সুস্থ আছেন। তাকে উদ্ধার ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা এরই মধ্যেই রওনা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে মোবাইল ফোনে স্বজনদের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চরম উত্তেজিত হয়ে তিনি চলন্ত ফেরি থেকে উত্তাল পদ্মায় ঝাঁপ দেওয়ার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেন।