সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৪২ পিএম

ছোট দেশ, অল্প জনসংখ্যা, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়েও বেশ দূরে। তবে এসব ছাড়িয়ে নবাগত দল কেপ ভার্দের পরিচয় বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অপরাজিত তারা। রুখে এসেছে স্পেন-উরুগুয়েকে। বিষয়টি মাথায় নিয়ে নামলেও কেপ ভার্দেকে হারাতে লিওনেল মেসিদের বেগ পেতে হয়েছে। 


শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে কেপ ভার্দের দুর্দান্ত প্রতিরোধ ভেঙে ৩-২ গোলে জিতেছে কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ফেবারিট দল হিসেবে ম্যাচের ২৯ লিড তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। গোল করেন দলের ত্রাতা লিওনেল মেসি। দলটির ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ বক্সে উঁচু করে ভালো এক বল বাড়ান। দারুণ দক্ষতায় তা ধরে দ্রুততার সাথে নিঁখুত শটে জালে পাঠান লিও। বিশ্বকাপ ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ২০ গোল করার কীর্তি গড়েন। চলতি টুর্নামেন্টে সর্বাধিক ৭ গোলের মালিক হন।


মেসির গোলের উচ্ছ্বাস নিয়ে আলবিসেলেস্তেরা প্রথমার্ধ শেষ করলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে সমতা ফেরে কেপ ভার্দে। আকাশি-সাদা রঙে ছাউয়া মায়ামি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে নিস্তব্ধতা আনেন দেরয় দুয়ার্তে। বক্সের কোণ থেকে দারুণ এক শট নিয়ে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন তিনি।


নির্ধারিত সময়ে সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচ দুই অর্ধে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়ায়। সেখানে শুরুতে গোল পেয়ে যায় লিওনেল স্কালোনির দল আর্জেন্টিনা। কর্ণার থেকে আসা কিকে আলতো মাথা ছোঁয়ান মিডফিল্ডার ম্যাক অ্যালিস্টার। সেখান থেকে বক্সে একটু পেছনে ফাঁকায় দাঁড়ানো ডিফেন্ডার লিয়ান্দ্রো মার্টিনেজ বল পান। তিনি সময় নিয়ে জোরের ওপর বাঁ পায়ের শট নিয়ে জালে বল পাঠান। ২-১ গোলে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা জোরালো হয়। 


কিন্তু নাহুয়েল মলিনা, ডি পলরা ওই লিডও ধরে রাখতে পারেননি। ম্যাচের ১০৩ মিনিটে আরেকটি দুর্দান্ত কামব্যাক দেখায় কেপ ভার্দে। সিডনি লোপেজ কাবরাল বক্সের সামান্য ভেতর থেকে কোণাকুণি জোরের ওপর শট নেন। গোলরক্ষক মার্টিনেজ লম্বা লাফ দিলেও বারের একেবারেই ওপরের পাশ ঘেষে জালে চলে যায়। যা ফেরানোর সাধ্য কোন গোলরক্ষকেরই ছিল না। সিডনি লোপেজের গোলটি টুর্নামেন্টের সেরার স্বীকৃতি পাওয়ার মতো।


ম্যাচ যখন ২-২ গোলের সমতায়; আলবিসেলেস্তে ভক্তদের মাথায় টাইব্রেকারে ফলাফল নির্ধারণের শঙ্কা তখনই নিজেদের পায়ে কুড়ালটা মারে কেপ ভার্দে। ম্যাচের ১১১ মিনিটে আত্মঘাতী গোল হজম করে। শেষ পর্যন্ত ওই গোলই কেপ ভার্দে হারলেও গোলের কৃতিত্ব অবশ্য ইনজুরি কাটিয়ে শুরুর একাদশে ফেরা আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার রোমেরোর। তার দেওয়া হেড দিক বদল করে চলে যায় কেপ ভার্দের জালে।


আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়েও অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ পেয়েছে। আগামী ৭ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট থেকে শেষ ষোলোয় জায়গা পাওয়া মোহামেদ সালাহ, ওমর মারমৌশের মিসরের ‍মুখোমুখি হবেন মেসি-ডি পলরা।




ব্রাজিল ফুটবল দল

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

ভারত সফরে যেতে পারে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল। কলকাতায় তারা প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন ব্রাজিল।


ম্যাচ আয়োজনে ভারতীয় সংগঠকদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ), এমন তথ্যও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।


সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ চলাকালেই ভারতীয় প্রতিনিধি ও সিবিএফের মধ্যে এই প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু হয়। মূলত বিশ্বকাপে ভারতীয় সমর্থকদের বিপুল উন্মাদনা নজর কেড়েছে ব্রাজিল কর্তৃপক্ষের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলেসাওদের নিয়ে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ার পরই সেখানে ম্যাচ খেলার আগ্রহ তৈরি হয় ব্রাজিলের।


ইএসপিএন ব্রাজিল তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, সূচি অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মধ্যবর্তী সময়ে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে ব্রাজিলের। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুটি ম্যাচ ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত।


২৫ সেপ্টেম্বর টাউনসভিলে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। এরপরই তৃতীয় ম্যাচটির জন্য ভারতকে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই ম্যাচের প্রতিপক্ষ এখনো ঠিক হয়নি। ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ও কাতারে ম্যাচটি আয়োজনের আলোচনা থাকলেও শুধু ভারতের সঙ্গেই আলোচনা এগোচ্ছে।


ম্যাচটি কলকাতায় আয়োজিত হলে তা শহরটির সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যুক্ত করবে। এর আগে ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেনসে খেলে গিয়েছিলেন তিনবার বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে।


২০২৬ বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের অভিযান শেষ হয়েছে চরম হতাশায়। নকআউট পর্বের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয় সেলেসাওরা। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপে এটাই ব্রাজিলের দ্রুততম বিদায়।


টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিনি চারটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করলেও দলকে বাঁচাতে পারেননি। অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখা ব্রাজিলকে তাই মাঠ ছাড়তে হয়েছে হতাশায়। প্রীতি ম্যাচ দিয়ে সেই ব্যর্থতা ভুলে নতুন করে শুরুর পরিকল্পনা করছে সেলেসাওরা।


ইয়ুর্গেন ক্লপ

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ এএম

হতাশাজনক বিশ্বকাপ অভিযানের পর জার্মানি জাতীয় দলকে পুরনো বিধ্বংসী রূপে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভার তুলে দেওয়া হলো ইয়ুর্গেন ক্লপের কাঁধে। চার বছরের চুক্তিতে স্বদেশি এই অভিজ্ঞ ট্যাকটিশিয়ানকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিল দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)। শুক্রবার এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে সংস্থাটি তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করল।


বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও লিভারপুলের সাবেক কোচ ক্লপ স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ইউলিয়ান নাগেলসমানের। সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে জার্মানির বিদায়ের পর দায়িত্ব ছাড়েন নাগেলসমান। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিস্ময়করভাবে বিদায় নেওয়ার পর এবারও ব্যর্থতার সেই ধারা বজায় থেকেছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।


দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত ক্লপ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জাতীয় ফুটবল দলের মতো খুব কম বিষয়ই আমাদের জার্মানদের এক সুতোয় বাঁধতে পারে। আর এই দিকটিই আমার কাছে দায়িত্বটিকে এতটা বিশেষ করে তুলেছে।’


এতদিন রেড বুলের ‘গ্লোবাল হেড অফ সকার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই তারকা কোচ যোগ করেন, ‘বিগত দেড় বছরে রেড বুলে যে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা আমার হয়েছে এবং (ডিএফবির সঙ্গে) এই চুক্তিটি সম্ভব করতে তারা যে উদারতা দেখিয়েছে, তার জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। এখন আমি জার্মান ফুটবলের এই বিশেষ দায়িত্বটির দিকে তাকিয়ে আছি, যা আমরা বিনয় ও ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করব। এমন একটি দল গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য, যারা একে অপরের জন্য লড়বে, ফুটবলকে উপভোগ করবে এবং যার পেছনে আমাদের দেশের মানুষ পূর্ণ আস্থা নিয়ে দাঁড়াতে পারবে।’


নতুন দায়িত্বে ক্লপের সহকারী হিসেবে কাজ করবেন পিটার ক্রাভিৎজ, পেপ লিন্ডারস ও জার্মানির সাবেক খেলোয়াড় স্ভেন বেন্ডার। এছাড়া, ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ও সাবেক ডিফেন্ডার পার মার্টেসাকারকে স্পোর্টস ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ডিএফবি। আন্দ্রেয়াস রেটিগের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তি সই করেছেন তিনি।


জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বার্নড নয়েনডর্ফ জানান, শুরু থেকেই ফেডারেশনের প্রথম পছন্দ ছিলেন ক্লপ, ‘আমাদের অত্যন্ত নিবিড় আলোচনা হয়েছে। প্রথম থেকেই ক্লপই ছিলেন আমাদের জন্য আদর্শ সমাধান। ডিএফবির সবাই আমরা একমত ছিলাম যে, তিনিই সেই ব্যক্তি যার সঙ্গে আমাদের কথা বলা উচিত। ক্লপের সঙ্গে আলোচনার পর আমাদের এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে যে, সঠিক সময়ে সঠিক মানুষটিকেই আমরা পেয়েছি।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:২৬ এএম

বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি স্পেন ও আর্জেন্টিনা আবারও মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন আর্জেন্টিনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মার্টিন আরেভালো।


ফিনালিসিমা হলো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন (উয়েফা ইউরো বিজয়ী) ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন (কোপা আমেরিকা বিজয়ী) দলের মধ্যকার আন্তঃমহাদেশীয় শিরোপা লড়াই। 


সর্বশেষ ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা।


মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে স্পেন ও আর্জেন্টিনার এই ম্যাচটি কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আয়োজনের কথা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ম্যাচটি স্থগিত করা হয়। পরে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাবেউ স্টেডিয়াম কিংবা দুই দেশের হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ম্যাচ আয়োজনের বিকল্প প্রস্তাব এলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।


তবে মার্টিন আরেভালোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ম্যাচটি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আয়োজনের বিষয়ে নতুন করে অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাতার সরকার ইতোমধ্যে ম্যাচটি আয়োজনের স্বত্ব পেয়েছে।


যদিও এ বিষয়ে এখনো উয়েফা কিংবা কনমেবলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।


উল্লেখ্য, ফিনালিসিমা স্থগিত হওয়ায় ভাগ্যের পরিহাসে দুই দল ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেই মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে স্পেন। ম্যাচে এর কিছুক্ষণ আগে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে শেষ সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।


বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই হারের পর সম্ভাব্য ফিনালিসিমা ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য প্রতিশোধের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে স্পেন চাইবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করতে।


সূত্র: ওয়ার্ল্ড সকার টক 


সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ২২ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ এএম

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল? কেন লিওনেল মেসি ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার সময় সতীর্থদের সবকিছু ভুলে যেতে বলেছিলেন? সামাজিক মাধ্যমে ভেসে বেড়ানো একটি ভিডিওতে মেসির বলা কথায় এসব প্রশ্নের উদ্রেক করছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে। যা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের শঙ্কা ড্রেসিংরুমে অবশ্যই কিছু একটা হয়েছিল। যার প্রভাব মাঠে পড়েছিল বলেই তাদের বিশ্বাস। না হলে পুরো টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা দলটি ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের পোস্টে একটি শটও নিতে পারবে না? আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমগুলো এ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। 


টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার সময় সতীর্থদের বলছেন, ‘সবাই শান্ত হও। আসল বিষয় হলো আমাদের শান্ত থাকতে হবে।’ এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। আলোড়ন তুলেছে মেসির পরের কথাগুলো, ‘এসো সবকিছু ভুলে যাই। আমরা শুধু খেলি। চলো শুধু খেলায় মন দিই।’ ভিডিওতে দেখা গেছে, ড্রেসিংরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মেসি কথাগুলো বলার সময় তাঁর সতীর্থরা সবাই শান্ত ছিল। প্রশ্নটা এখানেই, মেসি কী ভুলে যেতে বলছিলেন তখন?


৩৯ বছর বয়সী এ ফুটবলার কী ইঙ্গিত করেছিলেন, তা স্পষ্ট না হলেও ফাইনালের আগে সমালোচনার মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা দল। প্রতিপক্ষ স্পেন তাদের বিরুদ্ধে রেফারির কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ তোলে। এসব নিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রেসিডেন্ট ক্লডিও তাপিয়া এবং কনমেবল প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো ডমিঙ্গেজ মেসি-মার্তিনেজদের কিছু বলেছেন কিনা, তা নিয়ে একটা শঙ্কা রয়েছে।


আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ফাইনাল শুরুর আগে এ দুজনকে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।


আর ফাইনালের আগে স্পেনের ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে বলেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে রেফারিং নিয়ে এমন কিছু ঘটনা দেখেছি, যা সত্যিই বিস্মিত করেছে। কিছু ঘটনায় কোনো শাস্তিই দেওয়া হয়নি, বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে। তারা প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। ফুটবলে, বিশেষ করে এত বড় প্রতিযোগিতায় এসব কখনও অনুমোদন করা উচিত নয়। কারণ, এতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং হতাশা তৈরি হয়।’ 


নিউইয়র্কের ফাইনালে ১-০ গোলে জিতে ১৬ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেস জয়সূচক গোলটি করেন। ফাইনালে রেফারিং নিয়ে তেমন বিতর্ক না হলেও শেষ বাঁশির পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ বাধে। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্তে নেমেছে ফিফা।  

 


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৫২ এএম

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ জয়ের পর বিশ্বজুড়ে উদযাপনের কোনো কমতি রাখেননি স্পেনের ভক্তরা। নানা স্লোগানে, গানে ও পতাকা হাতে তারা নেমে আসেন রাস্তায়। তবে এই উদযাপনের মধ্যেও তারা ভুলে যাননি ফিলিস্তিনকে। বিশ্বের বহু স্থানে তাদের হাতে স্পেনের পতাকার পাশাপাশি ছিল ফিলিস্তিনের পতাকাও। অনেকে উদযাপনের মধ্যেই স্লোগান দেন– ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’। একবারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে শুরু করে ব্রাসেলস, বার্সেলোনার মতো ইউরোপীয় শহরগুলোতেও স্পেন ভক্তদের উদযাপনে দেখা গেছে ফিলিস্তিনের উপস্থিতি। 


অন্যদিকে আরব বিশ্ব তো স্পেনের সমর্থনে গলা মিলিয়েছেই। যে ফিলিস্তিন ও ফিলিস্তিনিদের নিয়ে এত জোর আলোচনা, গতকাল তাদের চোখও ছিল পর্দায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় তারাও দেখেছেন স্পেনের বিজয়; উল্লাসে ও উদযাপনে ফেটে পড়েন তারাও।


নিউইয়র্ক

স্পেনের বিজয়ের পর দলটির ভক্তরা চলে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের রাস্তায়। এ সময় তাদের হাতে দেখা যায় ফিলিস্তিনের পতাকা। তারা উদযাপনের ফাঁকেই স্লোগান দিতে শুরু করেন ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’। এরই মধ্যে ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক মাধ্যমে। বহু মানুষ সাধুবাদ জানাতে ভোলেননি তাদের।


বিশ্বের বহু নিরপেক্ষ ব্যক্তি ও মানবাধিকার সমর্থকের জন্য স্পেন ভিন্ন অর্থ বহন করছে। তাদের কাছে এটি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্পেনের ফিলিস্তিনকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি নজর কেড়েছে তাদের। আর এ কারণেই এই উন্মাদনা।


ব্রাসেলস

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের রাস্তায়ও নেমে এসেছিলেন ভক্তরা। আনাদোলু এজেন্সির এক ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের রাস্তার মোড়ে জড়ো হয়েছেন বহু ভক্ত। আর ওই মোড়ে থাকা এক ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনি বড় পতাকা নাড়ছেন এক তরুণ।


শুধু ওই এক স্থানে নয়; ব্রাসেলসের আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় স্পেনের জয় উদযাপনের ফাঁকে উড়তে দেখা গেছে ফিলিস্তিনের পতাকা। কাউকে দেখা গেছে জয়ের আনন্দে চিৎকার করতে করতেই সে পতাকা নাড়তে। কাউকে আবার দেখা যায় স্পেন ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে লোহার সীমানার ওপর উঠে যেতে। শুধু পুরুষ নয়, নারীদের হাতেও ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা।


বার্সেলোনা

স্পেনের ভেতরেও বিজয় উদযাপনে ফিলিস্তিনের পতাকার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরটিতে হাজারো মানুষের ভিড়ে এক প্ল্যাটফর্মের ওপর দাঁড়ানো একগুচ্ছ তরুণকে দেখা যায় ফিলিস্তিনি ও স্পেনের পতাকা নেড়ে সবাইকে দেখাতে, যেন ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য নজির স্থাপন করছে তারা।


প্রসঙ্গত, এর আগে স্পেনের তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল লা লিগায় বার্সেলোনার জয়ের পর উদযাপন চলাকালে ফিলিস্তিনের পতাকা নেড়ে আলোচনায় এসেছিলেন।   


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:২২ এএম

আগামী মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলে ফিরেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন। সর্বশেষ অ্যাশেজে চোটের কারণে এই তিন অভিজ্ঞ বোলার নিয়মিত খেলতে পারেননি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার সময় অ্যাকিলিসে চোট পেয়ে পুরো অ্যাশেজ মিস করেন হ্যাজলউড। অ্যাডিলেডে তৃতীয় টেস্টে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় অস্ত্রোপচার করাতে হয় লায়নকে।


কামিন্স খেলেছিলেন শুধু অ্যাডিলেড টেস্টে। সেটিই ছিল পিঠের নিচের অংশের চোট কাটিয়ে তাঁর প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ ধরে রাখা নিশ্চিত হওয়ায় পরের দুই টেস্টেও তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়।


কামিন্স ও হ্যাজলউড খেলতে পারেননি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও। যদিও দুজনই মাঠে ফেরেন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর শুরু হওয়া আইপিএলে। কামিন্সরা ফেরায় দল থেকে বাদ পড়েছেন মাইকেল নেসার ও ব্রেন্ডন ডগেট।


কামিন্স ও হ্যাজলউডের পেস বোলিং বিভাগে আরও আছেন মিচেল স্টার্ক ও স্কট বোল্যান্ড। এ ছাড়া পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বো ওয়েবস্টারও একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে থাকবেন।


টপ অর্ডারে কোনো পরিবর্তন আনেনি অস্ট্রেলিয়া। অ্যাশেজে অভিষিক্তি জেক ওয়েদারাল্ডের ওপরই আস্থা রেখেছে দল। তাঁরই ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করার কথা। ছন্দে না থাকলেও মারনাস লাবুশেনকে দলে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া।


আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে এই দুই টেস্ট হবে ডারউইন (১৩-১৭ আগস্ট) ও ম্যাকাইয়ে (২২-২৬ আগস্ট)। বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আট ম্যাচে সাত জয় নিয়ে তাদের পয়েন্ট ৮৭.৫০।